ইউজার লগইন
ব্লগ
ফুটপাথ
প্রথমত , ক্ষমা চেয়ে নিই , বেশ কিছুদিন বাদে ব্লগে আসার মার্জনীয় অপরাধের জন্য । দ্বিতীয়ত , এই উছিলায় ব্লগার বন্ধুদের সামনে পেশ করি এক বিশেষণহীন বস্তু (কবিতা ট্যাগ দিলাম , ভুল হল বোধ হয়) যাতে চোখ বোলালেও ক্ষতি নেই ।বস্তুটি নিম্মরূপ :
ভাবুকের
কামুকের
পাথুরের
শরীরী তেজী বুকের
গত বাঁধা রক্তের
আবেগী উষ্ণতা ,
রাতজাগা ঝিঝিদের
প্রহরী কুকুরদের
ধূর্ত শৃগালদের
বেমালুম নীরবতা ,
হৃদয়ের হিমালয় গলে
নেমে আসে ঐ
স্বগত কল্লোলে -
সকলে মিলেমিশে করে হৈ চৈ -
শীতের ফ্যাকাশে রাত ,
নাক ডাকা রাজপথ ,
কম্পমান ফুটপাখ
এবং
কুয়াশার শরীরী উত্তাপে উত্তপ্ত
মোমের মত
গলে পড়া শত শত
শতভাগ ফুটপাথ মানব !
আত্মমগ্ন কথামালা-১
নিয়মিত অসামজিক হয়ে উঠি। শিরায় শিরায় ছুটে চলা রক্তে আবার নতুন করে ছড়িয়ে যাইতেছে অসামাজিকতার আমেজ। পৌনঃপুনিক দিনযাপন কইরা চলি। সকাল দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত। যে কাজগুলা না করলেই না সেগুলা নিয়েই বিজি। অফিস-বাসা-অফিস। একই রুট, একই লাইটপোস্ট, একই চেহারা। এই বৃত্ত থিকা বেরইতে ইচ্ছা করতেছে বড় বেশী কইরা। সময়টাই মনে হইতেছে হঠাৎ প্যাঁচ খাইয়া গেছে। মাথার ভিত্রে লেখা-টেখা কিলবিল করতেছে। এয়ার টাইট কৌটার মত আটকায়া রাইখা দিতেছি। বাতাসের অভাবে অভাবে একদিন ঠিকই মইরা যাইবো। আমি সেই মইরা শুটকি লাগা লেখা গুলারে দেইখা বিভৎস আনন্দ পামু। আহ! ভাবতেই কেমন মজা লাগতেছে। কি জানি?
কার কদর বেশি?
আমরা কেউ আসল গুণীর কদর করিনা। যার যা প্রাপ্য তাকে না দিয়ে অন্যকে দিয়ে দিই। যেমন আমরা ফুলের কদর করে তাকে নিয়ে কবিতা লিখি প্রিয় মানুষটিকে উপহার দিই। যে গাছে ফুলটি ফুটে তাকে নিয়ে কবিতা লিখিনা উপহার দিইনা প্রিয় মানুষকে। অথচ গাছ না থাকলে ফুল কি আমরা জানতাম না। আর ফুল না ফুটলে আমরা ফল পেতাম না। আবার আমরা রাতের আকাশে পুর্ণিমার চাঁদকে নিয়ে কবিতা লিখি এবং গান গাই তুলনা করি প্রিয় মানুষের মুখের সঙ্গে। কিন্তু যে সুর্যের আলোয় চাঁদ এমন সুন্দর হয় সে সূর্যকে নিয়ে কি আমরা তেমন করে কবিতা লিখি বা গান গাই? উত্তর একটাই তা হলো না। অথচ চাঁদের সৌন্দর্যের জন্য সূর্য়ের অবদান বেশি।
৮০% কবি ও গীতিকার ডাহা মিথ্যাবাদি
৮০% কবি ও গীতিকার ডাহা মিথ্যাবাদি। কারণ তাদের কবিতা ও গানে সত্যের চেয়ে মিথ্যা কথাই বেশি থাকে। যেমন তারা বলে চাইলে আমি তোমার জন্য আকাশের চাঁদ এনে দিতে পারি। আরো পারি তোমাকে আমার হৃদয়টা বের করে দিতে। শীল্পীর কণ্ঠে শুনি আঙ্গুল কাটিয়া কলম বানাইয়া নয়নের জলে কইরা কালি, কলিজা চিড়িয়া লিখন লিখিয়া পাঠাতাম শ্যাম বন্ধুর বাড়ি। আজ পর্যন্ত কি কেউ কাউকে চাঁদ এনে দিতে পেড়েছে? আপনারাই বলুন আঙ্গুল কেটে ফেলে সে কিভাবে লিখবে? নয়নের জলে চিঠি লিখলে কি সে লেখা পড়া যাবে? আর কলিজা চিড়লে তো তার বেঁচে থাকার কথাইনা তাহলে লিখন লিখিয়া কিভাবে প্রাণ বন্ধুর বাড়ি পাঠাবে? মরা মানুষ কি কোনো কিছু করতে পারে? স্বাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী। লাউ কাউকে কখনো বৈরাগী বানিয়েছে কেউ দেখেছেন?
ত্রিমোহনী
১.
বিধিবন্ধের পিদিম পেয়ালা
প্রজাপতি আর ধুয়া
হৃদ তরঙ্গে কাটছে সাতার
মীন ও মহুয়া
২.
এসো তবে বিভা আগুন জ্বালাই পথে
আমরা হবো জীবের থেকে জড়
এই সমাজের কৃতদাশ নই আমি
ভালোবাসা জেনো এমনই তীব্রতর।
৩.
তীক্ষè তিরে বিদ্ধ পৃষ্ঠদেশ
টকটকে লাল পদ্মের মত খুন
বুক জুড়ে আজ স্বপ্নের অবশেষ
সামনে আবার অন্য এক অর্জুন....
(c)MNI, 16.01.12}
(বন্ধুরা আজ আমার মনটা খুব খারাপ। কেউ আমাকে একটা সুসংবাদ শোনাতে পারো?}
একটি সুইসাইড নোট এবং কিছু অভিযোগ
প্রিয় শাদল,
কেমন আছো তুমি? কি করছো এখন? খুব ব্যস্ত হয়ে অফিসের কাজ করছো নাকি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছো? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। কয়েকদিন তোমাকে না দেখলেই আমার মধ্যে যে কী ভীষণ এক অস্থিরতা তৈরী হয় তা তো তুমি জানোনা। তোমার কাছে আমার দরকার ফুরিয়ে যেতে পারে, আমি একটা ঝামেলায় পরিণত হতে পারি কিন্তু আমার কাছে তুমি সবসময়ই দামী, অমূল্য। সারাদিন, রাত তোমার কথা ভেবে আমার আর কিছুই করা হয়ে উঠেনা। অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে শাদল, কি করি বলতো?
টাইফুনের গতিতে কাটিয়ে দেয়া সময়
কোন কোনো লোক কয় তাদের নাকি সময় কাটে না। আমি তো দেখি আমার সময় খালি শার্প ব্লেডের মতো কাটতেছেই মসৃনভাবে। এই গত ১ মাস যে কত ব্যস্ততায় গেলো টেরই পাইলাম না। ভাইয়া-ভাবি আসলো দেশে কিন্তু এতো অল্প সময়ের জন্য যে বুঝতেই পারলাম না।তবে ভাইয়া-ভাবীর আগমনে মন মেজাজ খুব ভালো ছিলো,তাদের মেয়েকে দেখতে পারা,বাড়িতে যাওয়া সব মিলিয়ে দিন গুলো ছিলো গত বছরের সেরা দিন গুলোর অন্যতম। তারপর ক্রমাগত পিছাইতে থাকা ডি ইউ এর ইএমবিএ পরীক্ষা ৬ তারিখে আনলো। কীভাবে জানি চান্স পেয়ে গেলাম। চান্স টান্স পেয়ে মন মেজাজ ভালো। বাপ মাও খুশি কিন্তু দিন গুলো যে চলে গেলো বুঝলামই না। ব্লগে নিয়মিত হবার কথা ছিলো তাও পারলাম না।তবে সামনে অফুরন্ত সময় এমবিএর উসিলায় আরও কিছু দিন বেকার থাকার মজা ভাবের সহীত নেয়া যাবে। এই কথা ভাবতেই শান্তি পাইতেছি। কিন্তু আপসুস হলো সামু ব্লগের এককালের স্টার নাদান সাহেব বিয়া করলো এই ব্যাস্ততার উসিলায় যোগাযোগ করতে পার
নরকের কীট
একদা কি করে জানি
কিছু নরকের কীট
মর্ত্যে নেমে এলো !
পৃথিবীর সবচে উর্বর
মাটিতে করলো ঘর ।
তারপর---------
দিন মাস বছর—
কেটে গেল বহুদিন !
অতঃপর একদিন
বিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে
ওদের দেহে
অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গজালো
অবিকল মানুষের !
এবং
ওরা মিশে গেল মনূষ্য সমাজে !
কিন্তু-----------
মানুষ হলোনা !
নরকের যাবতীয় দূষণ
রয়ে গেল ওদের শিরায় ।
পৃ্থিবীর কোমল আলো-জলে
পরিশুদ্ধ হলোনা একটুও !
মননে শতভাগ ওরা
থেকে গেল নরকের কীট,
যদিও ওদের দাবি
ওরা নাকি রাজনীতিবিদ !
সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার নারীর পাওয়া উচিত
ভীষণ খারাপ লাগে যখন দেখি কোনো নারী গাড়িতে প্রচন্ড ভীরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ পুরম্নষরা সিটে দিব্যি বসে থাকে। আমরা ইচ্ছে করলে তাদেরর জন্য নিজের সিট ছেড়ে দাঁড়াতে পারি। এটা করা উচিত বলে মনে করি। কারণ নারী মায়ের জাত। সব ৰেত্রে সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার তার পাওয়া উচিত। কিন্তু আমরা তাদেরকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছি। শুধু সম অধিকারের দোহাই দিয়ে। আমি মনে করি কোনো গাড়িতেই নারীর জন্য নির্দিষ্ট সিট রাখা উচিত না। লিখে রাখা উচিত নারি যাত্রী আসলে পুরষরা সিট ছেড়ে দিবেন। কতকিছুর জন্য মানুষ আন্দোলন করে অথচ এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনা। কতর্ৃপৰেরও সেদিকে নজর নেই।
কথোপকথন
- তুমি আমার পথ রোধ করে দাঁড়িয়ে আছো আমার চলার পথে। নদীর বুকে জেগে উঠা বালুচর কে বলে নদী ডেকে।
বালুচর নীরব থাকে ।
- আমাকে যেতে দাও মোহনায় । পদে পদে আটকে দিওনা আমায়। দেখো , সমুদ্র আমার অপেক্ষায় কেমন আছড়ে পড়ছে মোহনায় । আকুতি করে নদীর জল ।
দীর্ঘসময় নীরব থেকে বালুচর বলে উঠে -
- চেয়ে দেখ তোমার কষ্টের পলিমাটি ধারন করে করে আজ আমি বালুচর হয়েছি । আর আমাকেই আজ ভুলে যেতে চাইছো তুমি !!! তোমাকে তো আমি আটকে রাখিনি । আমাকে মুক্তি দাও , তুমি যাও তোমার ঠিকানায়। দেখ , আজ আমার বুকে জমেছে কষ্টের ঘাস, শরীরের বাসা বেঁধেছে অনিশ্চিয়তার সোনালী ডানার চিল । তবু নীরবে সব সয়ে যাই আমি ভালোবেসে ।
অভিমানী নদী একদিন তার চলার পথ বদলে ফেলে। বালুচরখানি কে পাশ কাটিয়ে ছুটে চলে আবার মোহনায় মিলবে বলে ।
ভয়ংকর ভূত পিচ্চি হান্নু (বাচ্চাদের পড়া নিষেধ)
যে মেয়েটার সাথে আমার প্রেম ছিলো তার সাথে সকাল-দুপুর-বিকাল-সন্ধ্যা-রাত-গভীর রাত ফোনে গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর করেছি আট বছর। পরিমিত ব্যয়ে গভীর রাতে যখন আমরা দু'জন অপ্রয়োজনীয় আলাপ করতাম তখন প্রায়ই মেয়েটা কথার মাঝে বলতো - ভয় করছে। নিঝুম রাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে, একা অন্ধকার রুমে মেয়েটার ভয় পাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম সে যেন আরো ভয় পায়, শেষে তার ভয় বাড়াবার জন্য তাকে ভূতের গল্প শোনাতাম। এমনই কপাল, আমার ভয়ংকর ভয়ংকর সব ভূতের শুনে সে মজা পেত। এমনকি মাঝে মাঝে ভয় না পেলেও দুষ্টুমি মাখা আদুরে গলায় বলতো - অনেক ভয় লাগছে, ভুতের গল্প শোনাও।
সে ছিলো আট বছর আগের কথা, এখন সে আমার সাথে একই রুমে থাকে তবুও প্রায়ই ভুতের গল্প শোনার বায়না করে, আমি ঠিক করেছি গল্পগুলো লিখে রাখবো এবং সে রাতদুপুরে ভুতের গল্প শোনার আব্দার করলে ব্লগ খুলে তাকে বসিয়ে দিবো।
আলসেমি'র লিরিক
এক.
আমার ঘুমেও আলসেমী, চুমুতেও;
হাটতে হাটতে মনে হয়
রাস্তাগুলো না থাকলেই ভালো ছিলো
তবে যোগাযোগ কমে যেতো আমার এবং
আমাদের।
দুই.
আসলে অলস আমি
বিছানাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি
বিছানায় শুয়ে শুয়ে নিজেকে অলস ভাবতে।
বিছানারে ভালোবাসা সবচে সহজ
কেবল শরীরটাকে পেতে দিতে হয়...
তিন.
উপন্যাস লিখিনি কখনো;
আলসেমি। বয়সেরা আলসেমি রূপে
লুকিয়ে রয়েছে আমার কুষ্ঠি জুড়ে...
আলসেমিটাকে বাদ দিলে,
আমায় নবীন বলে ভাবতে পারো
চিরনবীন...মৃত্যুহীন!
‘আই লাভ ইউ ইনফিনিটি
শওগাত আলী সাগর
একটা অস্বস্থিকর থমথমে অবস্থা পুরো ঘরটায়। আমি সোফায় একপাশে বসে ‘ওয়ারবেবিস’ এ নিমগ্ন হবার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুতেই যেন মগ্ন হতে পারছি না। বারবার মনোযোগ ছুটে যাচ্ছে। অথচ বইয়ের কাহিনীটা আজ দুপুরেও অক্টোপাসের মতো চেপে ধরেছিলো। সোফার অপরপ্রান্তে একটা পাজল বই নিয়ে পাতা উল্টাচ্ছে বর্ণমালা। আমি যতোটা সম্ভব চেহারাটাকে গম্ভীর রেখে আড়চোখে সেদিকে তাকাই। না। বর্ণরও যে খুব মনোযোগ আছে সেরকম মনে হচ্ছে না। সেও কেবল বইয়ের পাতা উল্টিয়ে যাচ্ছে। পাশের ঘরে সেরীন কম্পিউটারে মগ্ন।
ছেড়ে দেয়া মানে হেরে যাওয়া নয়
ছেড়ে দেয়া মানে হেরে যাওয়া নয়
ফিরে আসা মানে পরাজয় নয়
চোখে যা দেখি
সবসময়, সত্যি কি তা হয়?
স্বপ্ন দেখা মানে ভালো ঘুম নয়
মনের যন্ত্রনা মনে ঠিকি বয়
পথ চলায় কাউকে
ভালো লাগলেই, কি প্রেম হয়?
একা থাকা মানে কিন্তু একাকীত্ব নয়
হৃদয়ের মাঝখানটি হয়তো পলিময়
নিজের সাথে থাকে
অস্তিত্ব, লোকে কেন একলা কয়?
আকাশজোড়া মেঘ মানে মন খারাপ নয়
নবধারা জলে কিসের আবার ভয়
বৃষ্টি ভেজা মন
পুড়িয়ে, উড়ে কি যায় অনুতাপের ক্ষয়?
ভুলে থাকা মানে ভুলে যাওয়া নয়
কিছু কিছু ক্ষত জীবনভর রয়
প্রতিদিনের অভ্যাসে
পরাজিত, সব গ্লানি কি হৃদয়ে সয়?
তানবীরা
১৩/১/২০১২