ইউজার লগইন
ব্লগ
আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন "ম্যুরাল"

নানান বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আমরা বন্ধু ব্লগের ২০১১-এ আসা বিভিন্ন পোস্ট থেকে বাছাই করা কিছু লেখা নিয়ে আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন "ম্যুরাল"। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানান ঘটনা নিয়ে যেমন একটা পুরো জীবনের চিত্র দেখা যায়, তেমনি ব্লগের বিভিন্ন স্বাদ ও গন্ধের লেখা নিয়ে ব্লগের একটা সামগ্রিক চিত্র সবার কাছে তুলে ধরবার প্রয়াস হলো "ম্যুরাল"।
"ম্যুরাল" এ সংযোজিত হয়েছে নানা সময়ে ব্লগারদের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতিতে পরিপূর্ণ মুক্তগদ্য, শক্তিশালী কিছু তরুণ গল্পকারের গল্প। এছাড়াও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দুটি লেখা থাকছে, যেগুলোর কারণে এই সংকলনটা ঋদ্ধ হয়েছে।
আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন ১ : ম্যুরাল
দ্বৈত-অদ্বৈত
চমৎকার টকটকে লাল তুমি লেলিহান
খুব ভালো আবার জ্বলছো বুকে ধিরে ধিরে
অলিন্দ থেকে অলিন্দে, স্মৃতিকোষ থেকে স্মৃতি কোষে বিস্তৃতি
প্রিয় শত্রুর মত কেমন গ্রাস করছো পাঁজর।
যে হৃদপিন্ড ঘুমায়নি বহুকাল
কি স্নেহে তার শরীরে বুলাচ্ছো হাত
খুব সুন্দর লেলিহান.....
এসো তোমার পাতাবাহার ঠোঁট দিয়ে চুমু খাও তবে
আর আমি প্রশান্ত পরখে ইঞ্জিনটাকে শোনাই
ঘুমপাড়ানি স্বউৎসাহ কবিতা
খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো গান।
২। ইদানিং রাস্তা দাপিয়ে বেড়ায় একটা নির্ভেজাল কুত্তা
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ও মানুষকে কখনো কাটেনি।
ছয় আঙ্গুলের জীবন কত যন্ত্রণার, যদি জানতো কুত্তাটা
তবে কি আর আমাকে কাটতো?
তখন হয়তো কোন মানুষকেই.....
{(c)MNI, 27.01.12}
হৈ চৈয়েচ্ছার সুলুক সন্ধানে
একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে...।
আধুনিক বাংলা গানের কিছু কিছু লাইন আসলেই রগরগে একদম। এটা অবশ্য আমার নিজের কথা না। ভাষার চলমান বিবর্তন আজ এ কথার জন্ম দিয়েছে। গানটি যখন লেখা হয়েছিলো তখন হয়তো ব্যপারটা এমন (!) ছিলো না কিংবা কোনোদিন এমন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিলো না। তাই সে সময় গীতিকার নিশ্চিন্তমনে লিখে চলে গিয়েছেন। আর শালীনতামুক্ত বঙ্গভাষীর দল আজ শব্দগুলোকে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। ওস্তাদ তুলে নাও।
শুরুতে একটা কৌতুক বলি। হাসি না আসলেও ঠা ঠা করে হাসতে হবে এই হচ্ছে কৌতুক পড়ার শর্ত।
ভবিষ্যতের সমাজ কাঠামো
জীবের স্বাভাবিক প্রেষণা নিজের "জেনেটিক কোড" পুনরুৎপাদন, কাঙ্খিত সঙ্গীর সাথে বলিষ্ট পরবর্তী প্রজন্ম পুনরুৎপাদনের নিশ্চয়তায় জীব সহিংস হতে পারে, কৌশলী হতে পারে, নির্মম হতে পারে, বিভিন্ন ছলা-কলায় সঙ্গীকে আকর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে, ময়ুরের পেখম মেলা, পায়রার গলার পালক ফুলিয়ে বাকবাকুম আর কোকিলের সুমধুর সঙ্গীত সবই সেই পুনরুৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রকাশমাত্র।
অংক
যেদিন একটা অংক কষতে পারবে
সেদিন বুঝবো আসল মুন্সিয়ানা।
যোগ, গুণ ভাগের দুনিয়ায়
শিখেছো খালি বিয়োগ হতে
ধারাপাতের ধারা বর্ণনায় এমনই আনাড়ি তুমি
বরাবরই ভুল উত্তরে দিয়েছো দাগ।
জীবনের পাটিগণিত যখন এসে দাঁড়িয়েছে সম্মুখে
তৈলাক্ত বাঁশ পিছল থেকে পিছল হয়েছে কেবল
বাদরটা হিমশিম খেয়েছে , তবু
উচ্চতা, সময় দৈর্ঘ্য মাপতে পারেনি কোনোদিন।
শুধু চক্ষু সীমায় ধু ধু সাদা খাতা
তিন রেখার আড়ালে হয়েছো ত্রিভুজ।
শোন হে অনাহুত,
মানব অংক কি এতই সহজ যে
চাইলেই বিয়োগের পদ ছেড়ে
যোগ ভাগের ভাগ্যে গুণ বসিয়ে
হাসতে হাসতে দিয়ে দেবে উত্তর?
বোধিসত্ত্ব
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
রেললাইনে শরীর ফেলে রাখতে গিয়ে ভুল ক্রমে চড়েছি রেলগাড়িতে
তারপর কেবলি ফেলে আসা জংশনের মায়া জাগে; চোখে লেগে থাকে
পতাকার লাল রঙ, সিগনালের সবুজ বাতি।
উৎস বিন্দু থেকে বহুদূর চলে এলে পেছনে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই
সেখানে তখন তুলির ব্রিসল টেনে অগণন রঙ চাপা হয়ে গেছে...
ক্যানভাসের শূন্যতা বলে কিছু নেই; জেন সন্ন্যাসে তারে
শব্দহীনতার শব্দ নামে ডাকা হয়।
সময়ের ফাঁদ
এটাও এক ধরণের গল্প বলার চেষ্টা, চিত্রনাট্য তৈরির সময় এইসব দৃশ্যগুলো মাথায় ছিলো, সেই অলিখিত চিত্রনাট্যের অন্য একটা অংশের নেপথ্যে ---
অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (দুই)
যতোক্ষণ বাসায় থাকি ততোক্ষণ টেনশন থাকে। দুইজন রুগ্ন মানুষ, যেকোনো সময় তাদের অসুস্থতা বাড়তে পারে। তাদের ডাক্তার দেখানো-হাসপাতালে নেওয়া-নিয়মিত আপডেট রাখা, এর কোনোটাতেই আমি খুব অভ্যস্ত মানুষ না। বাপ আর মা দুইজন আমার চরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বইলা তারা আমার আচরণরে স্বাভাবিক মানলেও আশেপাশে এমনসব লোকজন জড়ো হইতেছে যারা সারাক্ষণ শিক্ষামূলক বয়ান শুনাইয়া চলে। এমনিতেই খুবেকটা সামাজিক মানুষ বইলা আমার গ্রহণযোগ্যতা নাই, দিনে দিনে আরো আসামাজিক হইতে থাকি।
আমার সব ঝাকানাকা বন্ধুরা, আর সেই সব দিন
আমি ইদানিং দুইটি খেলায় ভিষণ আসক্ত হয়ে পড়েছি একটা হলো ফারম্ভিল আরেকটা লেখালেখি খেলা। ফারম্ভিল খেলার মজাই আলাদা, চকলেট গাছ-চানাচুর গাছ, লাল গরু দেয় চকলেট মিল্ক, গোলাপী গরু স্ট্রবেরী মিল্ক, হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া সে এক এলাহি কারবার। আর লেখালেখি খেলাটা আরও মজা, সারাদিন যা যা দেখি সব মনেমনে খালি লেখি আর পোস্ট দেই, বাসায় এসে লেখার টেবিলে বসলে তাদের আর খুজেঁ পাই না। নতুন বছরে তাই ভাবলাম বিসমিল্লাহ করে একটা ইটা রেখে যাই (এটা লিখতে শুরু করে ছিলাম ১ তারিখে, আমার আলসেমির জন্য দেরিতে পোস্ট দিলাম)।
মাতৃভূমি
- - - - - - - -
- - - - -
- - -
- -
-
-
.
. .
. . . .
. . . . . .
. . . . . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . . . . . . . .
কাজলা মেঘের আঁচল তলে
হাজার নদীর শুদ্ধ জলে
সিক্ত করে করুন ডাঙা ,
সে আমারই মাতৃভূমি ।
ছায়াঘেরা শ্যামল গহন
জুরায় তনু শীতল পবন
পাখপাখালীর কলগুঞ্জন
কোখায় গেলে পাবে তুমি !
রক্তে ভেজা পবিত্র মাটি ,
তারই উপর গতর খাটি
কৃষাণ ফলায় সোনার আঁটি
শ্রদ্ধায় বারে বারে নমি ।
আকুল করে এই বাংলার
স্নেহে ভরা শত উপাচার
মরণেও তাতে পাই যেন ঠাঁই
মাতৃভূমির চরণ চুমি । ।
১১/০৩/০৭
(অন্য কোখাও)
অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (এক)
বেশ ক্লীশে শুনাইলেও আমি আসলে বিলীয়মান মানুষে পরিণত হইছি। যতোক্ষণ নিজের সত্ত্বায় আছি ততোক্ষণ আমি আর বাকিটা সময় আমি জেনব্রত পালনের নামে আসলে স্মৃতি মোছামুছির তাগীদে থাকি। যার কোনো ভিত্তি নাই। জেনরাও পারে নাই সমর্পনের ধারণারে মুইছা ফেলতে। তারা মনহীন স্তরের নামে বাস্তবিক ধর্মের বা ঈশ্বরের বা গৌতম বুদ্ধের কাছে যাইতে চায়। ইহজাগতিকতার সকল দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাইয়া তারা অপার্থিব কোনো স্তরের খোঁজাখুঁজি করে। তাতেই তাদের প্রেম। তবে পার্থিব ধারণার বিষয়ে তাদের অনাগ্রহের সূচনা হয় অপার্থিবরে পাইবার বাসনা থেইকাই। কিন্তু যদি ঈশ্বর কিম্বা ধর্ম অথবা গৌতম বুদ্ধ যদি পার্থিব হয়! তাইলে এই বিষয় জেন ধারণা কি বলে?
উরি বাবা!! দেখে যা!! ভাষা, তার ভাষা
দিনে দিনে মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে যত স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে ততই তারা অন্যদিকে মনোযোগ দেবার সুযোগ পাচ্ছে। এর একটি ভালো উদাহরণ হচ্ছে ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে মানুষের সচেতনতা। গত কয়েক দশকে ফোকলোর সোসাইটির ধারণা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই সোসাইটির উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি দেশের ভাষা, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যিক কর্ম বিশেষ করে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আন্চলিক সাহিত্য কে সংগ্রহ করা । ইংরেজী ভাষার বিরোধিতা করছি তা নয়, তবে বর্তমান বিশ্বে ইংরেজী একটি আগ্রাসনের সৃষ্টি করেছে। যেমন স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে আমরা দেখতে পাচ্ছি কেমন করে হিন্দির সাথে ইংরেজী অবলীলায়, অগোচরে মিশে যাচ্ছে। যে কোন শিক্ষিত ভারতীয় কথা বলার ফাকে ফাকে একই বাক্যে অথবা আলাদা ভাবে হিন্দি ও ইংরেজী মিলিয়ে কথা বলছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও এই ধারাটি দেখা যাচ্ছে এবং এটা সম্ভবত জনপ্রিয়ও হচ্ছে। হয়তো এটাই স্মার্টনেস।শুধু তাই নয় আমাদের আন্চলিক ভাষাগুলো আরো বেশী বিপদের সম্মুখীন। যেমন এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিলেটীরা শুদ্ব বাংলা ও সিলেটী মিলিয়ে জগাখিচুড়ি ভাষায় কথা বলেন।
...ইতি, আব্বু। [শুরুরও অনেক আগে]
অনেকদিন ধরেই ভাবছি। আমার মনের ভেতরে চুপটি করে বসে থাকা আমার শিশুকন্যাটা, যার নাম আরো দু'বছর আগেই রেখেছি শুদ্ধ শুচিস্মিতা, তাকে উদ্দেশ্যে অনেকগুলো চিঠি লিখে রাখবো ব্লগে। যার ভিতর দিয়ে সে তার বাবাকে জানতে পারবে। তার মা কে চিনতে পারবে। তার জন্য বাবার আবেগ কেমন ছিলো, তাকে ঘিরে তার বাবার স্বপ্নগুলো কেমন ছিলো, কিভাবে সেই স্বপ্নগুলোর বিবর্তন হ'লো। সব... সব... কিছু জানিয়ে রাখবো ওকে অকপটে। ও যেদিন বারো'তে পা দেবে, সেদিন ওকে ব্লগে বসতে বলবো। পড়তে বলবো ওকে লেখা বাবার লেখা চিঠিগুলো।
ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৩)
(এই পোস্টটা হয়তো লিখতাম না কখনো। রায়েহাত শুভ নামের পছন্দের মানুষটার সাথে বেশ কয়েকদিন দেখা না হইলেও তার অনুরোধটা হঠাৎ মনে পড়লো...তারেই উৎসর্গ করলাম এই শহরে আমার জন্মবিষয়ক পাঁচালী)