ইউজার লগইন
ব্লগ
ব্লগীং মানেই 'মুক্ত কথা'..তবে যে এত বাক রুদ্ধের আভাস !
২০০৬ থেকে ব্লগীংয়ের শুরু করেছিলাম। বাংলাদেশে ব্লগীংয়ের জয়যাত্রাও ঐ সেই সময় থেকেই বা কিঞ্চিৎ পূর্বে ২০০৫ এর ডিসেম্বরই ধরি যদি। ..তারপর অনেক বছর পেরিয়েছে ..আজ বাংলাদেশে ব্লগীংয়ের জয়জয়কার। ...
ব্লগীং তাই মাথা ব্যাথার কারন হয়ে উঠেছে অনেকের , বিশেষ করে নতুনের প্রতি ভয় যাদের । কবিতার একটা লাইন মনে পড়ে যায় ...'..ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা/আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা'
বিখ্যাত এ কাব্য চরণ দুটি খুব মিলে যাচ্ছে।....ব্লগীং বিকল্প মিডিয়া হয়ে উঠেছে, এটা নবীন প্রবীন সকলের মূলত সেই অর্থে কাঁচাদের। এটা প্রথগত মিডিয়া নয়, এটা সীমায় রুদ্ধ নয় ,তাই তো এটা ব্লগীয়। না হলে তো নিউজ মিডিয়া হয়ে যেত।
আমরা বন্ধু স্মৃতিগাঁথা - ১

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম ব্লগে ফেরার কথা, সময় এবং সুযোগ এক হয়ে উঠছিলোনা কোন ভাবেই। এরপর যখন সময় হলো, কিভাবে ফেরা যায় তা ঠিক করতে করতে আরো বেশ কিছু দিন। শেষমেষ ঠিক করলাম, আমরা বন্ধু এই গ্রুপে কিভাবে আমার আগমন এবং এরপর এতগুলো বছর, এতগুলো মানুষকে চেনা, তাদের সাথে আড্ডা দেয়া, মাঝে মাঝে বিভিন্ন বড় ভাইদের বিরক্ত করা, এভাবেই পেরিয়ে গেল ৬টি বছর আমার এই গ্রুপে এসব ক্যাচাল নিয়েই ফিরি। বর্তমানে যা ব্লগ হিসেবে বেশ সুপরিচিত।
আত্মমগ্ন কথামালা-৫
সারাদিন খুব ভালো কেটেছে। আজকেই প্রথম আমার নয়া সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা নিয়ে হাটাহাটি করছি। মন মেজাজ ভালই ছিলো।
কিন্তু কিছুক্ষণ, ধরা যাক ৪৫ মিনিট, আগে পর্যন্তও মন খুবই ভালো ছিলো। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেলো। কিছু ছোটখাট ব্যাপারে মাঝে মাঝে আমার মন খুব বেশী খারাপ হয়ে যায়। যেমন হয়তো লাইটের কাছে একটা পোকা বসে আছে তার বসে থাকার ভঙ্গীটা বিষণ্ণ মনে হয় বা কোন কবিতার একটা শব্দ পড়ে সেই শব্দটাকে দুঃখী দুঃখী লাগে কিংবা কোনো গল্প পড়ে বুকের ভেতর থেকে কান্নার মতো কিছু একটা উঠে আসতে চায়। হঠাৎ করেই ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক করার সময় একটা লিংক শেয়ার পেলাম, সেখানে একটা গল্প অপেক্ষা করছিলো। সেই গল্পটা পড়লাম আর মনের ভেতর কিছু একটা হয়ে গেলো...
কয়দিন এরকম থাকে কে জানে?
তোমার জন্য কবিতা
তুমি যখন কবিতা লিখতে বললে,
শব্দগুলো নিজেরাই কবিতা হয়ে উঠলো ।
তুমি যখন ফুল হয়ে গেলে-
সৌরভগুলো সব তোমার হয়ে গেল ।
এ ফেরোমোন ডাকছে আমায়;
শেষ বিকেলে পথ হারানো হরিণীর মত।
শুধু তোমার জন্যই শাদা গাংচিলের ডানায় আনন্দ ভাসাই
আর ওমে খুজে নিই
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার ঘ্রান।
শুধু তোমার জন্যই
ভালোবাসি- না বলে ভালবাসাই হয়ে যাই ।
চুমু না চুমুক
ওষ্ঠে অধর লেপ্টে একটা চুমু দিতে গিয়েই
জিহ্বায় একটা লাগল দারুন ছ্যাঁকা ,
মুখটা হঠাত্ সরিয়ে নিতে গিয়েই
খেলাম একটা বিষম ভ্যাবাচেকা ।
সেই ওষ্ঠ বিমুখ ছিল বোধয় নিজেকে রাঙিয়ে ,
উষ্ণ ছোঁয়ার আবেগ বুকে নিয়ে
আমায় ডেকে ডেকে শেষে
অবহেলার রেশে
অভিমানে ফিরিয়ে তো দেবেনা !
তখন ওসব কিছুই মাথায় নেই
ওষ্ঠাধরে জুড়ে গেছে ডানা ।
উড়ে উড়ে নেশায় কেমন বুঁদ
চোখের পাতায় সপ্ন নীল হলুদ ।
হঠাত্ দুচোখ মেলে ধরি যেই
টগবগিয়ে উঠছে দেখি ধোঁয়া ।
ওষ্ঠে অধর ছুঁইয়ে দিতেই ছ্যাঁকা
বাপ রে বাপ !
ওষ্ঠ নয় , সে গরম চায়ের কাপ !
আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন "ম্যুরাল"

নানান বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আমরা বন্ধু ব্লগের ২০১১-এ আসা বিভিন্ন পোস্ট থেকে বাছাই করা কিছু লেখা নিয়ে আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন "ম্যুরাল"। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানান ঘটনা নিয়ে যেমন একটা পুরো জীবনের চিত্র দেখা যায়, তেমনি ব্লগের বিভিন্ন স্বাদ ও গন্ধের লেখা নিয়ে ব্লগের একটা সামগ্রিক চিত্র সবার কাছে তুলে ধরবার প্রয়াস হলো "ম্যুরাল"।
"ম্যুরাল" এ সংযোজিত হয়েছে নানা সময়ে ব্লগারদের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতিতে পরিপূর্ণ মুক্তগদ্য, শক্তিশালী কিছু তরুণ গল্পকারের গল্প। এছাড়াও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দুটি লেখা থাকছে, যেগুলোর কারণে এই সংকলনটা ঋদ্ধ হয়েছে।
আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন ১ : ম্যুরাল
দ্বৈত-অদ্বৈত
চমৎকার টকটকে লাল তুমি লেলিহান
খুব ভালো আবার জ্বলছো বুকে ধিরে ধিরে
অলিন্দ থেকে অলিন্দে, স্মৃতিকোষ থেকে স্মৃতি কোষে বিস্তৃতি
প্রিয় শত্রুর মত কেমন গ্রাস করছো পাঁজর।
যে হৃদপিন্ড ঘুমায়নি বহুকাল
কি স্নেহে তার শরীরে বুলাচ্ছো হাত
খুব সুন্দর লেলিহান.....
এসো তোমার পাতাবাহার ঠোঁট দিয়ে চুমু খাও তবে
আর আমি প্রশান্ত পরখে ইঞ্জিনটাকে শোনাই
ঘুমপাড়ানি স্বউৎসাহ কবিতা
খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো গান।
২। ইদানিং রাস্তা দাপিয়ে বেড়ায় একটা নির্ভেজাল কুত্তা
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ও মানুষকে কখনো কাটেনি।
ছয় আঙ্গুলের জীবন কত যন্ত্রণার, যদি জানতো কুত্তাটা
তবে কি আর আমাকে কাটতো?
তখন হয়তো কোন মানুষকেই.....
{(c)MNI, 27.01.12}
হৈ চৈয়েচ্ছার সুলুক সন্ধানে
একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে...।
আধুনিক বাংলা গানের কিছু কিছু লাইন আসলেই রগরগে একদম। এটা অবশ্য আমার নিজের কথা না। ভাষার চলমান বিবর্তন আজ এ কথার জন্ম দিয়েছে। গানটি যখন লেখা হয়েছিলো তখন হয়তো ব্যপারটা এমন (!) ছিলো না কিংবা কোনোদিন এমন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিলো না। তাই সে সময় গীতিকার নিশ্চিন্তমনে লিখে চলে গিয়েছেন। আর শালীনতামুক্ত বঙ্গভাষীর দল আজ শব্দগুলোকে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। ওস্তাদ তুলে নাও।
শুরুতে একটা কৌতুক বলি। হাসি না আসলেও ঠা ঠা করে হাসতে হবে এই হচ্ছে কৌতুক পড়ার শর্ত।
ভবিষ্যতের সমাজ কাঠামো
জীবের স্বাভাবিক প্রেষণা নিজের "জেনেটিক কোড" পুনরুৎপাদন, কাঙ্খিত সঙ্গীর সাথে বলিষ্ট পরবর্তী প্রজন্ম পুনরুৎপাদনের নিশ্চয়তায় জীব সহিংস হতে পারে, কৌশলী হতে পারে, নির্মম হতে পারে, বিভিন্ন ছলা-কলায় সঙ্গীকে আকর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে, ময়ুরের পেখম মেলা, পায়রার গলার পালক ফুলিয়ে বাকবাকুম আর কোকিলের সুমধুর সঙ্গীত সবই সেই পুনরুৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রকাশমাত্র।
অংক
যেদিন একটা অংক কষতে পারবে
সেদিন বুঝবো আসল মুন্সিয়ানা।
যোগ, গুণ ভাগের দুনিয়ায়
শিখেছো খালি বিয়োগ হতে
ধারাপাতের ধারা বর্ণনায় এমনই আনাড়ি তুমি
বরাবরই ভুল উত্তরে দিয়েছো দাগ।
জীবনের পাটিগণিত যখন এসে দাঁড়িয়েছে সম্মুখে
তৈলাক্ত বাঁশ পিছল থেকে পিছল হয়েছে কেবল
বাদরটা হিমশিম খেয়েছে , তবু
উচ্চতা, সময় দৈর্ঘ্য মাপতে পারেনি কোনোদিন।
শুধু চক্ষু সীমায় ধু ধু সাদা খাতা
তিন রেখার আড়ালে হয়েছো ত্রিভুজ।
শোন হে অনাহুত,
মানব অংক কি এতই সহজ যে
চাইলেই বিয়োগের পদ ছেড়ে
যোগ ভাগের ভাগ্যে গুণ বসিয়ে
হাসতে হাসতে দিয়ে দেবে উত্তর?
বোধিসত্ত্ব
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
রেললাইনে শরীর ফেলে রাখতে গিয়ে ভুল ক্রমে চড়েছি রেলগাড়িতে
তারপর কেবলি ফেলে আসা জংশনের মায়া জাগে; চোখে লেগে থাকে
পতাকার লাল রঙ, সিগনালের সবুজ বাতি।
উৎস বিন্দু থেকে বহুদূর চলে এলে পেছনে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই
সেখানে তখন তুলির ব্রিসল টেনে অগণন রঙ চাপা হয়ে গেছে...
ক্যানভাসের শূন্যতা বলে কিছু নেই; জেন সন্ন্যাসে তারে
শব্দহীনতার শব্দ নামে ডাকা হয়।
সময়ের ফাঁদ
এটাও এক ধরণের গল্প বলার চেষ্টা, চিত্রনাট্য তৈরির সময় এইসব দৃশ্যগুলো মাথায় ছিলো, সেই অলিখিত চিত্রনাট্যের অন্য একটা অংশের নেপথ্যে ---
অহেতুক অ্যাবস্ট্রাক্ট (দুই)
যতোক্ষণ বাসায় থাকি ততোক্ষণ টেনশন থাকে। দুইজন রুগ্ন মানুষ, যেকোনো সময় তাদের অসুস্থতা বাড়তে পারে। তাদের ডাক্তার দেখানো-হাসপাতালে নেওয়া-নিয়মিত আপডেট রাখা, এর কোনোটাতেই আমি খুব অভ্যস্ত মানুষ না। বাপ আর মা দুইজন আমার চরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বইলা তারা আমার আচরণরে স্বাভাবিক মানলেও আশেপাশে এমনসব লোকজন জড়ো হইতেছে যারা সারাক্ষণ শিক্ষামূলক বয়ান শুনাইয়া চলে। এমনিতেই খুবেকটা সামাজিক মানুষ বইলা আমার গ্রহণযোগ্যতা নাই, দিনে দিনে আরো আসামাজিক হইতে থাকি।
আমার সব ঝাকানাকা বন্ধুরা, আর সেই সব দিন
আমি ইদানিং দুইটি খেলায় ভিষণ আসক্ত হয়ে পড়েছি একটা হলো ফারম্ভিল আরেকটা লেখালেখি খেলা। ফারম্ভিল খেলার মজাই আলাদা, চকলেট গাছ-চানাচুর গাছ, লাল গরু দেয় চকলেট মিল্ক, গোলাপী গরু স্ট্রবেরী মিল্ক, হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া সে এক এলাহি কারবার। আর লেখালেখি খেলাটা আরও মজা, সারাদিন যা যা দেখি সব মনেমনে খালি লেখি আর পোস্ট দেই, বাসায় এসে লেখার টেবিলে বসলে তাদের আর খুজেঁ পাই না। নতুন বছরে তাই ভাবলাম বিসমিল্লাহ করে একটা ইটা রেখে যাই (এটা লিখতে শুরু করে ছিলাম ১ তারিখে, আমার আলসেমির জন্য দেরিতে পোস্ট দিলাম)।