ইউজার লগইন
ব্লগ
৫ ডিসেম্বর ১৯৭১
এদিনে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর অধিকাংশ বিমান। ভারতীয় জঙ্গি বিমানগুলো সারাদিন ধরে অবাধে আকাশে উড়ে পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়, অকেজো করে দেয় বিমান বন্দরগুলো। ভারতীয় বিমান বাহিনীর হিসাব মতে, ১২ ঘণ্টায় ২৩২ বারে তেজগাঁও এবং কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটিতে ৫০ টনের মত বোমা ফেলা হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর কনভয়ের ওপর ভারতীয় জঙ্গি বিমান আক্রমণ চালায়। এতে পাক-বাহিনীর ৯০টি গাড়ি ধ্বংস হয়। এছাড়াও পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য বোঝাই কয়েকটি লঞ্চ এবং স্টিমার ধ্বংস হয়। বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ডের সফল আক্রমণে ধ্বংস হয় পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘গাজী’। সাবমেরিনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতে পাকিস্তান ধার হিসাবে নিয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরাজয়ে এটি একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দেয়।
শিরোনাম জানি না
কত কথা মনের মাঝে ঘুরপাক খায়। কত কথা বলতে ইচ্ছা করে। কত কিছু বুঝতে ইচ্ছা করে। কতকিছু করতে ইচ্ছা করে।
মাঝেমাঝে মনে হয় আমি যদি মফস্বলের একটা ছেলে না হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে হয়ে জন্মাতাম, আমার জীবনটা কেমন হত? হিসাব মেলে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে কেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কীভাবে জীবনযাপন করে সেটাই তো আমি কোনওদিন বুঝতে পারব না। সেই জীবন অবশ্যই আর দশজনের জীবন না!
আবার যদি বেশ অবস্থাসম্পন্ন ভদ্র-সভ্য-স্বাভাবিক বাড়ির ছেলে না হয়ে আমি যদি কোন একটা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হতাম। এমন যদি হতো আমার বাবা-মাকে কোন দিন কাছে থেকে দেখি নি। এমন যদি হত জীবনে কখনো কাউকে মা বলে ডাকতেই পারি নি, জানিও না মা কাকে বলে; তখন আমার জীবনটা কেমন হত? এমন যদি হত যে বাবা জন্মের পর পর ফেলে দিয়ে চলে গেছে কোথাও, বা আমার জন্ম যদি কোন বেশ্যামায়ের পেটে হতো?
শেষ ডাক
জীবনবোধের তিক্ত পাঁচন
গিলতে না চায় মন গহ্বর
সময় তোড়ে পাষাণ ভেঙে
গড়তে না চায় দেহ ভাস্বর ।
কী লাভ তাতে পূর্ণিমা রাতে
চাঁদখানি যদি দেখায় ভীষণ ,
অমাবস্যায় যদিনা ঘুচায়
আঁধার - নেইকো তার প্রয়োজন !
কেবলই জেনেছি ফুলে মৌমাছি
সানন্দে করে মধু লুন্ঠণ ,
ছিলোনা স্মরণে গোপনে কেমনে
যুগে যুগে ঘটে পরাগায়ন ।
সুঘ্রাণ বাতাসে যদি ভেসে আসে
খুঁজিনাই সে যে কোন বনফুল ,
নানান কর্মে ব্যস্ততা মাঝে
করে সে যদিও হৃদয় আকুল ।
রাতদুপুরে স্বর্গীয় সুরে
শ্যামের বাঁশিতে ডেকেছে আমায় ,
আমি ঘুম ঘোরে অলসতা ভরে
স্বপ্নে দেখি সে ফিরে চলে যায় ।
ঘুম ভাঙে যবে বনে কলরবে
শত ফুল কাঁদে আমায় ডেকে ,
সেথা যেতে গিয়ে পিছু উঁকি দিয়ে
ভুলি বাগানের দুটো ফুল দেখে ।
এমনি কত কী ডাকে দিবানিশি
কারে সাড়া দিই ভেবে পাইনাক ,
যাতে নেই সুধা তাতে পাই ক্ষুধা
মিছে অমৃত আমি চাইনাক !
অথচ যখন ডাকছে মরণ
সময়ের কাঁটা
সময়ের কাঁটা চলেছে অবিরত
সকলের অগোচরে
নিঃশেষ হয় ধীরে ধীরে
জীবনের আয়োজন যত ।
দুঃখসুখের অদ্ভুত সুরে সুরে
হারায় এ প্রাণ দূর তেপান্তরে
হারানো দিনের আকুল আর্তনাদে
সাড়া দিয়ে তাই সবাই মর্মাহত ।
যায় দিন যায় কত স্মৃতি পিছু ফেলে
নতুন আশার সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বেলে
নবীনকে বরে , যায় পুরাতনে ভুলে
বড় নিষ্ঠুর স্বার্থপরের মত ।
বাঁচার তাগিদে ব্যস্ত যে যার কাজে ,
আকাঙ্ক্ষার আকাশে মেঘের মাঝে
ফুরোলো জীবন তাই শঙ্কিত চিত্ত -
(তবু) সময়ের কাঁটা চলেছে অবিরত ।
লিখিনি তোমায় নিয়ে
লিখিনি তোমায় নিয়ে কবিতা কভু,
রচিনি গানের কলি আঁকিনি ছবি ।
হৃদয়ের একান্ত গোপন পরতে
যত কথা যত ব্যথা ঘুম পারিয়েছি ।
কত যে স্বপ্ন মোর তোমায় ঘিরে,
ও সব তোমায় আজো কহিনি সখী !
মনের মুকুরে নিতি ফোটে যে ছবিরা,
রঙ তুলিকায় আজো নিইনি আঁকি ।
তবু ও তোমায় নিয়ে মনো লতিকায়,
অহোরহো কত যে ফোটাই কুসুম ।
লাজুক কামনা রাঙা পিয়াসী অধর,
পেলব ও ঠোঁটে তব আঁকে নিতি চুম !
যদিও কিছুই আজো হয়নি বলা,
তবু তোমারই পথেই এ পথ চলা ।
৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
এদিন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের পথে মুক্তিযোদ্ধাদের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চল মুক্ত হতে থাকে। এদিনে, ৪ নম্বর সেক্টর কমান্ডার লে: কর্নেল সি আর দত্ত এবং জেড ফোর্সের মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে সিলেটের কানাইঘাট দখলের পর এলাকায় শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেন। ৩ নং সেক্টরের মুক্তিবাহিনী শমশের নগর বিমান বন্দর এবং আখাউড়া রেল স্টেশন দখল করে। ৮ নং সেক্টরের মুক্তিবাহিনী মেহেরপুর দখল করে যশোরের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। ১১ নং সেক্টরে যৌথ বাহিনী বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়ে পাকিদের শক্ত ঘাটি কামালপুর বিওপি দখল করে। পাকবাহিনী দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়া রেল স্টেশন দখলে রাখার সর্বাত্মক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর সাবমেরিন পিএনএস গাজী বিশাখাপত্তম বন্দরের কাছে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ভারতীয় বিমান এবং নৌবাহিনীর জঙ্গি বিমা
একটি প্রেমের কবিতা এবং সামান্য হাবিজাবি
কবিতা লিখি। নিজের ইচ্ছেমতো । মাঝে মাঝে মানুষদের শুনাই । কেউ বলে ভালো । কেউ বলে ডিকশনারি ফুটা কইরা কবিতা লিকশে রে। যারা বড় কবি এইরকম মন্তব্যে তাদের কিছু আসে যায় না । আমি ক্ষুদ্র কবি । আমার ব্যাপক আসে যায় । মনে হয় এ যাবত লেখা সবকটা কবিতা পুড়িয়ে ফেলি ।
আমাদের অতি পরিচিত আর অতি আপন এক বুড়ো আছে না ? চিনতছেন না ? আরে ওই যে মুখ ভরতি জঙ্গল যে লোকটার ! আমি যখন ভয়ানক কাব্য হতাশায় ভুগি, তখন সে মনের ভেতরে এসে বিড়বিড় করতে থাকে -
কত লিখেছি কতদিন,
মনে মনে বলেছি - খুব ভালো ।
আজ পরম শত্রুর নামে
পারতেম যদি সেগুলো চালাতে
গল্পের পেছনের গল্প
দেশে থাকতে বিটিভির একটা ডকু-বিজ্ঞাপনের দেখেছিলাম বারান্দায় অস্থির ভাবে পায়চারি করছেন আবুল খায়ের। ঘরের ভেতর থেকে হঠাৎ করে ভেসে আসলো সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর কান্না। দরজা খুলে দাই এসে বল্লো মেয়ে হয়েছে। আবুল খায়ের সংগে থাকা নাতিকে নিয়ে মোনাজাত করছেন। দৃশ্যটার মাঝে অন্যরকম এক পরিতৃপ্তি আছে। সিনেমা বা নাটকে আমরা প্রায়শই দেখি সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে কোলে নিয়ে পিতার মুখ, চারপাশে হাসি মাখা একগাদা মুখ। দূর্ভাগ্য এর কোনোটাই আমার ভাগ্যে লেখা ছিলো না । দু ছেলের জন্ম নেবার সময় মোনাজাত করবার মতো দাদা পায়নি আমার ছেলেরা, পাশে পায়নি একদল স্বজনের হাসিমাখা মুখ। পাশে ছিলাম শুধুই এই মানুষটি, কান্নারত আমার বউ আর মাতৃরুপী ধাত্রী।
ফেসবুকে বউ এর লেখা নোটখানা তুলে দিলাম
গ্যাস উত্তোলন: স্থানীয় চাহিদাও মেটানো উচিত
কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার অধিবাসীরা গ্যাসের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভ করেছে। এই থানার অন্তর্গত সালদা নদীতে যে গ্যাস পাওয়া গেছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই গ্যাস কসবা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সরবরাহ করার। পত্রিকার খবর অনুসারে, সালদা গ্যাস ফিল্ডের তিন নম্বর কূপ থেকে ২২ নভেম্বর থেকে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে যা মূলত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মেটানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল-সমাবেশ-মানবন্ধনসহ নানা ধরনের প্রতিবাদ করেছে। অবশ্য পাইপলাইনে কোনোমতেই গ্যাস না দেওয়ার হুমকিধামকিও দেয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। কসবাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদা মিটিয়ে তবেই কেবল বাকি গ্যাস দেশের অন্যত্র সরবরাহ করা য
আমার সিসিমপুর (৩)
১। গতকল বিকালে আমি আমার বোনের বাসায় যাচ্ছিলাম। ভাইয়া আমাকে বলল আসার সময় আরভিনকে নিয়ে এসো। আজকে ওদের রাতে বাইরে খেতে নিয়ে যাবো। তো আমি আসার সময় নিয়ে আসলাম আরভিনকে।
সন্ধ্যায় আরভিন, তাহিয়া খেলছে। নিজেদের মতো গল্প করছে।
আরভিনঃ তাহিয়া, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও?
তাহিয়াঃ আমি!!! আমি বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। তুমি কি হতে চাও আরভিন?
আরভিনঃ আমি? হিরো!! একটা হিরো হতে চাই।
তুমি কি হতে চাও তোম্মা?
আমিঃ আমি তো বড় হয়েই গেছি আব্বু। কিন্তু কিছুই হতে পারি নি।
আরভিনঃ কেন তোম্মা?
আমিঃ ছোটবেলায় যে আমি লক্ষী হয়ে পড়াশুনা করিনি। তাই আমি বড় হয়ে কিছুই হতে পারিনি।
আরভিনঃ তাহলে কি তুমি ফকির তোম্মা?
আমিঃ
হ্যাঁ বাবা আমি ফকির। দেখোনা বাইরে যাওয়ার সময় আমাকে দিদু, দাদানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেতে হয়?
দুইজনঃ ওহ। আচ্ছা। 
৩ ডিসেম্বর '৭১
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম নতুন মাত্রা পায়। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। মিত্রবাহিনীর সাথে সম্মিলিতভাবে সম্মুখযুদ্ধে এগিয়ে যায় বীর বাঙ্গালী। এদিনেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সার্থক হামলায় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও চট্টগ্রামের ফুয়েল পাম্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ সময় একের পর এক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করে পাকিস্তানি সেনাদের ফাঁদে পড়া ইঁদুরের মতো কোণঠাসা করে তোলে।
আবোল তাবোল- ৬
# # # # #
অনেক দিন পর, খুব মন ভাল একটা দিন গেল আজ। গতকাল এক্সাম শেষ হয়ে গেছে। এটা একটা বড় কারণ। আজ থেকে আবারও ছুটি, বছরখানেকের জন্য স্বস্তি। কোথাও ঘুরে আসতে পারলে ভাল ছিল, আপাতত সময় সুযোগ হবে বলে মনে হচ্ছে না।
কোনো কিছু পাওয়ার আগে পর্যন্তই বেশি থাকে তার আবেদন ,আর পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আর সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে তা হারিয়ে ফেলার শঙ্কা। কি বিচিত্র এই মানব মন!
কাল সারারাত জেগে থাকায় আজ ফজরের নামায জামাতেই পড়তে পারছি। তার তার ধারাবাহিকতায়ই হয়তো দিনের বাকি চার ওয়াক্তও কিভাবে কিভাবে জানি জামাতের সাথে পড়া হয়ে গেছে। বেশ অনেক দিন পর, এইক্ষেত্রেও। এটাও একটা কারণ বটে।
রঞ্জনা আমি আর আসবো না
অঞ্জন দত্তের ভক্ত কে কে? আমি হাত তুললাম। গান শুনতে তো ভালই লাগে, গান দেখতেও ভাল লাগে। বৃষ্টির এই গানটার তুলনা কোন গানটির সংগে দেবো?
আমি বৃষ্টি দেখেছি
বৃষ্টির ছবি একেছি
আমি রোদে পুড়ে
ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি
এই অঞ্জন দত্তের আরো পরিচয় আছে। অঞ্জন দত্ত অভিনয় করেন। সেই যে মৃনাল সেনের খারিজের অঞ্জন দত্ত। আবার অপর্না সেনের যুগান্ততেও ছিলেন তিনি। অভিনয় ভাল করেন না এটা বলা যাবে না।
অঞ্জন দত্ত সিনেমা পরিচালনাও করেন। অবশ্য পরিচালক অঞ্জন দত্ত আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে তা বলা যাবে না। খুব বেশি মনোযোগ দিয়ে দেখেছি তাও না। কাল দেখলাম। ছবির নাম-রঞ্জনা আমি আর আসবো না

বোতাম আঁটানো বুকপকেটে
আপদের বেড়াজাল ছিন্ন ভিন্ন ,
ওরা এগোয় আরেক ধাপ ।
বিষাদের নিলীমায় আকাশে ভেসে বেড়ায়
দু'একটা হতবাক রোদপোড়া গাংচিল ।
আধারও ভেসে বেড়ায় ,
পিছু পিছু তেড়ে আসে
বারে বারে হিংস্র ছায়ার মতন।
দিকবিদিক কত ছড়ানো হতাশাগুলো
ঠাঁই পায় চিরতরে
বোতাম আঁটানো এই বুক পকেটে ।
