ইউজার লগইন
ব্লগ
কুল যায়, পাশে বসে কাঁদে কালের সতী
কুল যায়, পাশে বসে কাঁদে কালের সতী
-আবু মকসুদ
বনাঞ্চলে গিয়ে হতাশই হয়েছি। দেখি, বদলে গেছে মানচিত্র। শ্যাওলা- মাঠের সুষমা কেড়েছে, বোবামুখ ডালপালা আকাশের নীলে উঁকি দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু পৌঁছাতে পারছেনা ঈশানের লক্ষ্যে। প্রকৃত বৃক্ষের আকাল বড় বেশী। পাতাতেও আজকাল বিঁধে থাকে ধূসর কাঁটাচামচ। মরণজয়ী মন্ত্রের দিন পেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই , তাই বক্তাদের নীতিবাক্যগুলি আর মননে প্রভাব ফেলে না। মাটিবর্তী মাঠ ছেড়ে, ধানজমির আদি গন্ধ ভুলে ঘোমটার আড়ালে অহরহই পৌঁছি লোকালয়ে। পূর্বপুরুষের কঙ্কাল রোদবৃষ্টি পাহারা দেয়। তাদের ঋণ আদিমতার রাতগন্ধে পুনরায় নিমন্ত্রণ পাঠায়। অনির্বাণ পিলসুজে, ফুলেফলেবীজে অনন্ত হাঁটার শেষে বহে ধারাস্নান।
কম্পিউটারাইজড জ্যোতিষিদর্শন এবং আমাদের “সোল-হিলিং”
কম্পিউটারাইজড জ্যোতিষি দর্শনের শানে নুজুল দেখার জন্য মৌসুমের ব্লগটি দেখুন।
তোমারেই করিয়াছি জীবনেরও ধ্রুবতারা
প্রায় পোস্টেই তো কুটিকালের কথা লিখি, তাই ভাবলাম আজকের পোস্টে আরেকটু লেস-কুটিকালের কথা লিখি। ইন্টারনেটের সাথে পরিচয় ২০০১ সালের শুরুর দিকে। এরপর ইন্টারনেটই জান-প্রাণ-সাকিব-আল-হাসান হয়া গেল। যদিও সাইবার ক্যাফের স্লো স্পীড আর আকাশচুম্বি রেইটের কারণে ইন্টারনেটের প্রপার ব্যাভার টা করা হয়া উঠে নাই তেমনটা। তারপরো এইসব টানাটানির মাঝে সাইবার ক্যাফেতে ইন্টারনেটিং করি। টাই পরার দরকার? ঠিক আছে গিট্টু কেমনে দিতে হয় তা কোন ওয়েবসাইট থেকেই শিখে আসি। শার্ট কিনব? আচ্ছা বিভিন্ন জাতের কলার সম্পর্কে নেটে একটা স্টাডি কইরা ফেলি তার আগে।
এভাবেই টেনেটুনে চলতে চলতে বছরের পর বছর পার হয়া গেল। আস্তে আস্তে ভালো ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটিতে একসেস পাইলাম ২০০৭ এর দিকে। এহেন সব খুজাখুজির মাঝখানে শখ হইল ডলি পার্টন রে নিয়া একটু জানার। এই জানার ইন্স্পায়রেশন কই থিকা পাইছি সেই আলাপ আর না করি।
দিনের অভিজ্ঞতা
সকাল ৮:১৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান(প্রাক্তন ভাসানি) নভোথিয়েটারের গেটে দাঁড়িয়ে আছি,
সাড়ে ৮টায় মহাকাশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ শিক্ষার উপযোগিতা নামের একটা সেমিনার শুরু হওয়ার কথা, দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে আমারও সেখানে অংশগ্রহন করবার কথা। গেটের সামনে শীতের রোদ্দুর উপভোগ করছে কয়েকজন পুলিশ এবং কয়েকজন মানুষ, যাদের কাউকে দেখেই মনে হচ্ছে না এরা সেমিনার উপলক্ষে এখানে এসেছেন।
ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি, উদ্যোক্তা বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, উদ্যোক্তাদের কাউকেই দেখছি না, অবশ্য আমি উদ্যোক্তাদের কাউকেই চিনি না। আমার ধারণা ছিলো এরা সবাই বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে উপস্থিত হয় বিশাল কাফেলা নিয়ে।
এ জার্নি বাই বাস ফ্রম মহাখালি
নামটাই যার খালি, তায় সেইটা যদি হয় আবার “মহা”, তাহলে অবস্থা কিরকম হবে সেটা তো সহজেই অনুমেয়! না পাওয়া যায় বাস, না আসতে চায় কোন সি.এন.জি.। গরীবের সি.এন.জি রিকসা ছিলো শেষ ভরসা, বিদ্যুতবিভাগের ঔদার্য্যে রাস্তাভাঙ্গার অযুহাত, ভাড়া আকাশ ছোঁয়া। মানুষ পয়সা খরচ করে সিনেমা দেখতে যায় “আকাশছোঁয়া ভালোবাসা”, আর আমরা ভাড়ার ঊর্ধমুখিতায় উত্তপ্ত রিকসাচালকের কাছে পাত্তাই পাই না নিয়মিত ভাড়ার কথা বলে! ঝাড়ি খেয়ে মুখ উদাস করে ইতি- উতি তাকাই পাশে দাঁড়ানো কোন তরুণী দেখে ফেললো না তো আমার দৈন্যদশা! আমাদেরও অবশ্য সেরকম মাহেন্দ্রক্ষণ আসে, যখন কোন তরুণীকেও কোন এক রিকসাচালক মুখের উপর না করে দেয়। আমরা আড়ে-ঠাড়ে তাকাই আর আরেকদিকে মুখ ঘুরিয়ে মুচকি হাসি!
প্রেম : যার যেমন ভাবনা
প্রেম হৈলো :
তিন ক্লাসে পড়ার সময় ক্লাসমেট জোছনারে একখান চিঠি লেখা এবং সেই চিঠি শার্টের বুক পকেটে রাইখা দেয়া। এট্টু পর পর হাত দিয়া দেখা, সেই চিঠি ঠিকঠাক আছে কিনা। তারপর বড় ভাইয়ের হাতে ধরা খাওয়া এবং শারীরিকভাবে মাইর খাওয়া...
দশ ক্লাসে পড়ার সময় আট ক্লাসের মেয়ে মিল্কী'র কাছ থেইকা গল্পের বই পড়তে আইন্না তার মধ্যে একখান রোমান্টিক চিঠি দিয়া বইটা তারে ফেরত দেয়া। সেই চিঠি পাইয়া বান্ধবীর লগে শেয়ার করা এবং মাসখানেক বাদে সেই বান্ধবী ইন আর মিল্কী আউট...
শখৎ মামার চোখে কেন শসা দেয় না
যদ্যপি আমার গুরু
শুঁড়ি বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু
শ্রী নিত্যানন্দ রায়।
তারপরেও গুরুর ইদানিং কালের কার্যকলাপ কেমন যেন! চিন্তায় ফেলে দেয়। কিছুদিন আগেও যে কাজে তাকে নিয়ে চিন্তাও করা যেতনা বর্তমানে একটার পর একটা সে কাজ করে আমাদের ভাবনায় ফেলে দিচ্ছেন।
মাসুম ভাইয়ের এহেন পরিবর্তন নিয়া আমরা টাস্কিত। যারা গত বছর উনার পিকনিকের পারফরমেন্স সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন, এবছর অনুরূপ পারমেন্স না দেখে হতাশ হয়েছেন। কারণ কী এ পরিবর্তনের?
উনি আগে কখনো কোনো ছেলের সাথে কোলাকুলির ধারে কাছে যেতেননা। রাসেলরা দুই একবার ট্রাই করলে বলতেন, দুরে গিয়া মর। কিন্তু কি আশ্চর্য্য! সেদিন দেখলাম মীরকে বুকে নিতে চাচ্ছেন।
অপেক্ষা
অ্যশ-ট্রে'টা এতো ভরে উঠেছে যে আর একটা ফিল্টারও ও'র ভেতর গুঁজে দেয়া যাচ্ছে না। এটা একদিনে হয় নি, দিনে দিনে হয়েছে। তিল তিল করে জমতে জমতে আজ ও উপচে পড়া শুরু করেছে। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি।
হাঁড়কাপুনি শীত কয়টা দিন খুব কাবু করে রেখেছিলো। ব্লগ ছাড়া আর কোথাও যেন একবিন্দু উষ্ণতা নেই। আসলে এমন শীতের সঙ্গে পরিচয় নেই তো, যে কারণে প্রথম ধাক্কায় বলা যায়; সব্বাই বেশ কাবু হয়ে পড়েছিলাম।
আমি ১০-১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করে নিতে পারি। এই তাপমাত্রায় শীতের আমেজটা বেশ পাওয়া যায়। এ সময়ে পড়ার জন্য কালো জ্যকেট আমার খুব পছন্দ। ছেলেদের মনে হয় সবারই একটা কালো জ্যকেট থাকে। মেয়েদের যেমন সবারই একটা লাল শাড়ি।
তিউনিশিয়া, মন আমুর!
নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করছিলো। নয় বছর সংগ্রাম শেষে খুনি স্বৈরাচার এরশাদররে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করছিলো এই দেশেরই ছাত্র-জনতা। তথ্য দুইটা আজকাল মাঝে সাঝে আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যদি সরকারের সাথে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয় আজকে আমার মনে হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়া পক্ষ-বিপক্ষের তর্ক শুরু হইবো বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে। হরতালে বা অসহযোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতোটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, দেশের শিল্প-কলকারখানা কতোটা হুমকীর সম্মুখিন হইবো সেই বিষয়ে তথ্য উপাত্ত এখন মানুষের মাথায় মাথায় খেলা করে। প্রতিবাদের ভাষা কতোটা সভ্য-ভব্য হওয়ার প্রয়োজন আছে সেই বিষয় নিয়াও বিতর্ক শুরু হওনের সম্ভাবনা তৈরী হয় এমন সব সময়ে।
কত হাজার মরলে পরে মানবে তুমি শেষে?
অদ্ভুতুড়ে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাংলাদেশে, টিআইবি জরিপে রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রদান সংস্থাগুলোর ভেতরে যখন পুলিশ প্রশাসনকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত অবহিত করা হলো, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করে জরিপে অংশগ্রহনকারীদের তালিকা চেয়ে বসলেন- সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তখনও নিজস্ব স্বর্গের অন্ধকারে একটানা মন্ত্র জপছিলেন " দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশঃ উন্নতি হচ্ছে।"
কতিপয় প্রশ্ন, সংজ্ঞা কি সম্ভব?
মীরের পোস্টে হুদা ভাইয়ের একটা কমেন্টসে আইসা দেখলাম নায়িকার মিথ্যা কথা হুদা ভাইয়ের ভালোলাগে নাই। স্বাভাবিক কারো কাছে কোন বিষয় ভালো লাগতে নাই পারে। তো এইটা বলার কি হইলো? আরে ঘটনা সেইটা না... তখন জয়ীতার সাথে ম্যাসেঞ্জারের বকর বকর করতে ছিলাম। দেশ-কাল-পাত্র শেষে জয়ীতা কৈল ..
জয়ী: ওই... প্রেম কি?
আমি: ক্যান এই শীতে আবার তোমার কি হইলো? বসন্ততো ম্যালা দুর? লাইক আম্রিকা 
জয়ী: না হুদা ভাই কইলো তিতলি মিথ্যা বলছে... প্রেমে কি মিথ্যা বলা যায়?
আমি: সেটা নির্ভর করে সিচুয়েশেনের উপর। যখন যেটা ডিমান্ড করে।
জয়ী: আরে তুমি তো জানো না ... প্রেমে পড়লে তো দুনিয়ার মিছা কথা কইতে হয়। নাইলতো ঘোড়ার আন্ডার প্রেম হয় না।
আমি: তাও ঠিক... তাইলে তো আগে বোঝা দর্কার প্রেম কি?
প্রেম কি?
রাজশাহীঃ ক্লান্তির শেষে স্বর্গ ও রাসেল আশরাফ
ঠিক কি কারণে আমি রাজশাহীকে এতো ভালোবাসি তা বলতে পারবনা, কারণ ছাড়া যে ভালোবাসা তা মধুরতম। রাজশাহীর নিজের কোন কিছুতেই পূর্ণতা নেই হয়ত কিন্তু এখানে জন্মে, এর গলি পথে হেঁটে আমার যে পূর্ণতা আছে তার তুলনায় স্বর্গও কিছু কম হয়ে যায় । এখান থেকে আকাশ দেখে চোখ জুড়ায়, পদ্মার খাঁ খাঁ করা বালুতট সংগ্রামী করে, সরু গলি পথ হৃদ স্পন্দন ধরে রাখে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে লিটনের চা আর ভেসে আসা রোড ফুডের সুগন্ধে আমার জীবন যেমন কেটেছে তা আমি আর কখনই ফিরে পাবোনা হয়তো। ফিরে পাবনা এগুলো থেকে পাওয়া আনন্দ আর ঐ খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর আদর।
গল্প: কার ছবি নেই
১.
বাংলাদেশ ব্যংক কলোনী হাই স্কুলটা আগ্রাবাদের ব্যংক কলোনীর ভেতরে অবস্থিত। জায়গাটা পনেরো-ষোলো বছর আগে যেরকম ছিলো, স্বাভাবিকভাবেই এখন আর সেরকম নাই। কলোনী-গেটের মুখে ইদানীং লাইব্রেরী'টা চোখে পড়লো। এইখান থেকে ১৩ টাকা দিয়ে চাচা চৌধুরী কেনা হতো। কমিকগুলোর নতুন পাতা ওল্টানোর অনুভূতিটা মনে পড়ে গেল। কখনো কখনো একটা কমিক কিনেই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে ফেলা হতো। আবার কখনো 'পড়ে ফেললেই শেষ হয়ে যাবে' ভেবে ইচ্ছে করে দেরী করা হতো। অনেকদিন পর সায়ানের সে কথাগুলো মনে পড়ে গেল, তিতলিকে নিয়ে এখানে এসে।