ইউজার লগইন
ব্লগ
অহনার অজানা যাত্রা (নয়)
সরকারী এজেন্সি থেকে বাড়িভাড়া নেয়া যতো সোজা হবে ভেবেছিলো অহনা, দেখা গেলো ব্যাপারটা ততো সোজা আসলে না। সরকারের বাড়ি ভাড়া যেহেতু সরকারের ধারনা ন্যায্য, সেটা পাওয়ার জন্য লাইনও অনেক লম্বা। আর ওলন্দাজ অর্থনীতি আর সমাজনীতির মূল মন্ত্র হলো দুর্বলকে রক্ষা করো, আর সেটা করবে কারা, সবলরা। যাদের ট্যাক্সেবল বেতন গড়পড়তা বেতনের চেয়ে অনেক বেশি তারা কখনোই সরকারের বাড়ি ভাড়া নেয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বেতনের উল্লেখ করাই আছে, কতো টাকা বেতন অব্ধি লোক বাড়ি ভাড়ার আবেদন করতে পারবেন এবং কে কোন ধরনের বাড়ির জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেখা যায়, একজন নিম্ন আয়ের টার্কিশ কিংবা মরোক্কান ভদ্রলোক যার পাঁচখানা সন্তান আছে, সে আরামসে সরকারের কাছ থেকে একটা ছয় বেডরুমের বাসা নিয়ে আছে। আর একজন মাঝারি কিংবা উচ্চ আয়ের ডাচ ভদ্রলোক যার দুটি বাচ্চা, তিন রুমের একটা ছোট বাসায় আছে। মজার ব্যাপার হলো, তার যেহেতু পাঁচটি বাচ্চা, তার খরচ বেশ
রান্ধা কামেল ও অন্যান্য পেচ্ছাপেচ্ছি
১
মিশর দেশে একসময় লোকজন যাইতো পিরামিড, নীল নদ আর স্ফিঙস দেখতে... সেটাই জানতাম।
কিন্তু মাসুম ভাই মিশর ঘুরে এসে জানালেন ওসব কিছুই না... মিশরে যেতে হবে রানধা কামেলকে দেখতে।
আমাদের যাদের পোড়া কপাল, তাদের তো আর মিশরে গিয়ে "সশরীরে" রানধা কামেল দেখার ভাগ্য নাই, তাই বিকল্প পথই ভরসা..
ছোটবেলায় একটা ছড়া পড়েছিলাম- এক যে বোকা শেয়ালে, মুরগী এঁকে দেয়ালে, চাটতে থাকে আপন খেয়ালে [ভুলে গেছি, মূল ভাবটা শুধু মনে আছে]। আমরাও সেইভাবেই রানধা কামেলকে দেখি। [তবে চাটি না কিন্তু
]
গল্প: ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে, তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে
ঢাকা ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, দুইতলা। বেটি ফ্রাইডেনের দ্য ফেমিনিন মিসটিক বইটার মধ্যে নাক, চোখ, কান, মন সব ডুবিয়ে হারিয়ে গেছে তিতলি। মেয়েটার আর ক'দিন পরে সিক্সথ্ সিমেস্টার ফাইনাল। পড়াশোনার ভীষণ চাপ, দেখলেই বোঝা যায়। ওকে একটু দুর থেকে দেখতে দারুণ লাগছে! চেয়ারের ওপর দুই পা তুলে আশপাশের, টেবিল, মোটা ডিকশনারি, জানালার কাঁচ, বাইরের কুয়াশা, পুরো পরিবেশটাকে কেমন জমিয়ে নিয়ে বসে পড়ছে মেয়েটা।
নাম করণ এবং কিছু..
প্রথমেই বলে নেয়া ভালো, এই লেখা অবশ্যই নিজস্ব ধারণা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা অত্যন্ত অনভিজ্ঞ লেখা। কেউ দয়া করে মন খারাপ করবেন না।
কারণ কে যে কখন কোন কারণে মন খারাপ করে বসে সেটা বড়ই চিন্তার বিষয়। যেমন আমার এক বান্ধবী আমার উপর মহাখাপ্পা হয়ে আছে। কারণটি বড়ই যুক্তিহীণ। অন্তত আমার কাছে। আমার বান্ধবীটির ছোট্ট একটি কন্যা হয়েছে, নাম ইরিন। নামটি খুব সুন্দর, কোন সন্দেহ নেই। শুধু আমার দুষ্টুমি করার প্রবণতা না থাকলেই হতো। দুষ্টুমি মিশ্রিত কথোপকথনটি ছিল এরকম.
- বাহ দোস্ত মেয়েটা আল্লাহর রহমতে তো অনেক সুন্দর হয়েছে। তা নাম ইরিন রাখলি যে?
- কেন নামটা কি সুন্দর না? (বান্ধবীর কণ্ঠে তখন ইতিমধ্যে তপ্তভাব আরকি!)
- অনেক সুন্দর নাম। ধর তোর দ্বিতীয় মেয়ে হলে কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই নাম রাখতে পারবি “মৌসুমী”..
হিস্টোরী অফ ভায়োলেন্স...
এক.
শিশুরা মিথ্যা কথা বলে কেন?
"মিথ্যা বলা মহা পাপ" এই সত্যটা আমরা সবাই মানি। আমরা বড়রা কেন মিথ্যা বলছি সেটা আমরাই ভালো জানি। কিন্তু আমরা কি জানি আমাদের শিশু সন্তানরা কেন মিথ্যা কথা বলে? ওদেরতো মিথ্যা বলার দরকার নেই। আমরা বড়, আর তাই ছোটদের মিথ্যা কথা সহজে ধরে ফেলি। ধরে ফেলি বলে মনে করি আমরা না জানি কতো বড় মাইন্ড রিডার হয়ে গেছি। কিন্তু আসলে যে আমাদের জন্যই আমাদের শিশু সন্তানেরা মিথ্যা কথা বলে, সেটা কি আমরা জানি?
অবান্তর ভাবনা
[সতর্কতাঃ ০২ জানুয়ারি (রবিবার), ২০১১ ১১:০২ অপরাহ্ন আমার ব্লগে প্রকাশিত, 'আমরা বন্ধু' ব্লগের প্রথম পাতায় দেওয়া যাবেনা ] ।
এখন আর কেউ ফোন করেনা আমাকে । যখন আমার ব্যাস্ততা ছিল অঢেল, ধীরে-সুস্থে খাওয়া বা গোসল করবার মত সময়ও যখন আমার ছিল না, তখন টেলিফোনের রিংটোন আমাকে সর্বদা তাড়া করে ফিরতো । এখন আমার ব্যাস্ততা নাই, নাই এমন কোন কাজ, যা যথাসময়ে না-করলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা আছে । দিনের পর দিন চলে যায়, আমার মোবাইল পড়ে থাকে অলস, নিথর, বোবা হয়ে। রিংটোন শুনবার আশায় আমার কর্ণযুগল সদাজাগ্রত থাকলেও তাদের হতাশ হতে হয় অহরহ ।
ভেতর-বাহির ( পঞ্চদশ পর্ব) /// ধূমপান বাতিল হলো মদের ভাগাড়ে...
অনেকদিন পরে ভেতর আর বাহির আবার কথা বলতে শুরু করেছে আমার। ভেতর আর বাহিরে ঘটনার ঘনঘটা প্রতুল।
উৎসাহ পেলে চলতে থাকবে ভেতর -বাহির রেল গাড়ী পুনরায়।
ঘুম পায়
ইঁচড়ে পাকা বয়সে আমার এক গুরুবন্ধু বলতো,- 'মানুষের জীবনে তিনটা মাত্র মৌলিক বিষয়, বাকী সব ফালতু। তিনটা হলো, আহার, নিদ্রা, ত্যাগ। বুঝলি'?
আমরা গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বলেছি, 'হুম বুঝেছি'।
বললো, 'কি বুঝলি বল।'
কি মুসিবত! আহার নিদ্রা না বোঝার কি আছে? তবে ত্যাগ নিয়ে আসলেই সন্দেহ ছিল। কারণ বাবা মা পরিবারকে ত্যাগ করাটাও যদি মৌলিকত্বে পড়ে আমি তাতে নেই। মিনমিন করে বললাম, 'ত্যাগ বাদে সব পারবো। পরিবার ত্যাগ করে থাকা সম্ভব না।'
গর্দভ!!! ধমকে উঠলো সে। 'হাঁদারাম এই ত্যাগ সেই ত্যাগ নয়। ভদ্রভাষায় বলেছি। এটা তোর প্রাত্যাহিক ত্যাগের বিষয়, প্রকৃতির ডাক।'
.
এরকম গুরুকে মান্য না করে যাবে কোন গর্দভ?
.
আজকের কথা সেই তিন মৌলিকত্বের একটা নিয়ে। ঘুম।
.
সবিনয় নিবেদন
আমি ভূতের গলি থেকে বুদ্ধদেব গুহের ভূত বলছি.......
হ্যালো হ্যালো.......আহারে কেউ কোথাও নেই...হ্যালো
প্ল্যান করেছিলাম, গভীর রাতে ঢাকায় ঢুকবো। তাতে কিছুটা হলেও ট্রাফিক জ্যাম এড়ানো যাবে। কিন্তু বিধিবাম। ৫ ঘন্টার লম্বা জার্নি করে রাত ১০ উত্তরায় এসে ছোট্ট যাত্রা বিরতি নিয়ে-১০:৩০ টায় রওনা হলাম, এলিফেন্ট রোড এর উদ্দেশে। ১:৩০ ঘন্টা লাগলো।
আমার বাসা থেকে আজিজ পায়ে হাঁটা পথ। সব ঠেঙ্গিয়ে যেহেতু আজিজের কাছে এসেছি, সেহেতু আজিজে তো একবার যাবই। আর আজিজে যাব ভাবতেই, আজিজের আড্ডার কথা মনে হল, আড্ডাটা দেব কার সঙ্গে? আড্ডা তো আর ভুতের সঙ্গে দেয়া যাবেনা, ভূতের সঙ্গে আড্ডা দিলে তো ভুতের গলিতেই যেতাম। মনে পড়লো আমার বন্ধুদের কথা। "আমরা বন্ধু"দের কথা।
এলোমেলো প্রেমের গল্প
তখন থেকে টেবিলের ওপর মোবাইলটা নেচে যাচ্ছে। হ্যা বেজে যাচ্ছে না নেচে যাচ্ছে। তিতলি বই খুলে বসে আছে বটে টেবিলে কিন্তু সেকি পড়ছে নাকি মোবাইলকে দেখছে বোঝা যাচ্ছে না। আনমনা প্রচন্ড শুধু সেইটুকুই বোঝা যাচ্ছে। তিতলি ভীষন রেগে আছে সায়ানের ওপর। সায়ান বিকেল থেকে সামান্য বিরতি দিয়ে দিয়ে ফোন করেই যাচ্ছে করেই যাচ্ছে, কিন্তু তিতলি কিছুতেই ফোন ধরছে না। বাসায় যেনো কারো কানে না যায়, মোবাইলটাকে ভ্রাইব্রেশনে দিয়ে রেখেছে তিতলি। বিকেল থেকে কতো এসএমএস, কতো কাঁকুতি মিনতি সায়ানের, ফোনটা একবার তোল জান। না তিতলি তুলবেই না, গতো দুই দিন ধরে কি কম কষ্ট পেয়েছে সে যে এখুনি সায়ানের ফোন ধরতে হবে? সায়ানের সব সময় কাজের দোহাই, সে খুব ব্যস্ত। আর তিতলি? তিতলির কি সায়ানের ফোনের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। গতো দুদিন সারাক্ষণ মোবাইল চেক করেছে, নাই কোন ম্যাসেজ, নাই কোন মিসড কল। কাজ থাকলে কি তিতলিকে ভুলে যেতে হবে?
গল্প: কিন্তু পূরণের জন্য মনোনীত হয়ে গিয়েছিল পুরোনো একটা ইচ্ছে
মজার বিষয় হচ্ছে, আমি সবসময় স্বপ্ন দেখেছি, বিদেশে গিয়ে পড়া-শুনা বা দোকানের কাজ বা অন্য যেকোন কিছু করে দেখতে হবে, দেশের বাইরে জীবনটা কেমন; কিন্তু কপালে কখনোই সে সুযোগ জুটলো না।
অথচ তুমি সবসময় চাইতে রুটে ফিরে যেতে, সুযোগ হলে গ্রামে একটা স্থায়ী জীবন গড়ে নিতে, সেই তুমি কি না চলে গেলে সুদূর বিদেশে। আর আমি আটকে থাকলাম আমাদের এই দুইরুমের ফ্ল্যটে। স্বপ্নের এই বাসাটায়।
পৃথিবীটা যে খুবই আজব একটা জায়গা সে কথা কে না জানে? তাও আমি দেখি, ওস্তাদ সবসময় এটা আমাকে জানানোর নানান তরিকা খুঁজে খুঁজে বের করার পেছনে একটা ভালো রকম সময় খাটান।
যে কারণে ছোটকাল থেকে এরকম নানাবিধ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি বার বার জেনেছি, এই পৃথিবী এক আজব জায়গা। বা বলা যায়, আসলে আমাদের নিয়তিই হচ্ছে এমন অবিশ্বাস্য একটা জায়গায় জীবন কাটানো।
রোমান্টিক পতন......
এক
সময়টা তখন একেবারে খারাপ চলছিলো না, ছোট্ট মেয়ে আর বউটাকে নিয়ে গৎবাধা নিয়মে জীবনটা চালিয়ে নিচ্ছিলাম, যেমন সবাই নেয় আর কি। সকলে ল্যাবে যাওয়া, দুপুরে পারলে খেতে আসা, নইলে একেবারে বিকেলে এসে পারিবারিক আবহে চা-নাস্তায় সময় পার। মাঝে মাঝে হাটতে যাওয়া নদীর পাড়ে, নইলে কারও বাসায়। আর উইকেন্ডে বাজার করা সপরিবারে। একটা সুখী পরিবারের সব গৎবাধা উপাদান নিয়েই সুখী আর কি!
কিন্তু সমস্যাটা বাধালো বাদল, আর তার কথিত অতুলনীয়া বউ নীলিমা।
আমার একবছর পর একি ইউনিতে পিএইচডি করতে আসা বাদল। দেখতে শুনতে এভারেজ, কথা-বার্তাতেও। তবে একমাত্র বিশেষত্ব হলো তার প্রতি তিনটি কথার কমপক্ষে একটা দেশে রেখে আসা তার বউ কেন্দ্রিক।
পাতা ঝরার গল্প
তোমাকে পাতা ঝরার গল্প বলি ......
হেমন্তের ঘাসের বুকে ঢলে পড়ে যে বিবর্ণ পাতারা
তাদের শেষ ইচ্ছের কথা বলি তোমায় ।
কোন কালে কোন এক অনার্য বীজের সাধ হয়েছিল মাথা তুলে দাঁড়ানোর
এ ভূ-খন্ডের বুক চিরে
অনুর্বর জলাভূমির কাছে করজোড় করে চেয়েছিল একফোঁটা মাটি
তারপর, সেই মাটির বুকে যুগ যুগ ধরে
রোপিত হয়েছে বীজের শরীর ।
সে বীজ শুনেছে বহু আত্মার ক্রন্দন ।
অজস্র ঘুনপোকার হাহাকার পেরিয়ে
সে বীজ পৌঁছেছে উদ্ধত যৌবনে ।
তার নিটোল শরীরে জমেছে ধীরে ধীরে
সময়ের মেদ ।
তার চোখের পাতায় ঝরে পড়েছে নতুন সূর্যের সোনালী কণা ।
সে বীজ স্বপ্ন বোনে ,
স্বপ্নরা সবুজ পাতা হয়ে তির তির করে কাঁপতে থাকে অচেনা বাতাসে।
কেউ কখনো দেখেনি সে স্বপ্নের রঙ;
কেউ দেখেনা কখনো ।
কেউ জানেনা যে, সেই স্বপ্নরাই অবশেষে ঝরে পড়ে অবিমিশ্র বেদনার ভারে ।
যে জীবন সময়ের পরে রেখাপাত টানে , সময়কে বন্দী করে
ছেলের গায়ে হলুদে গাইবার মতো একটা গান...
ছেলের গায়ে হলুদে গাইবার মতো একটা গান বানিয়েছি আমি। বন্ধুরা শুনবেন নাকি? গানটি এখানে আছে। আমি দেখতে পাচ্ছি আপনারা পঁচা ডিম, আলু ছুঁড়ার জন্য তৈরী। পালাই রে বাবা।
বন্ধুরা আর পঁচা ডিম মাইরেন না, আমার আরেকটা গান আছে, সেইটাও একটু শুইনেন এখান থেকে। আমি বরং অফ্ যাই পুরা শীতটা...