ইউজার লগইন
ব্লগ
তসলিমা নাসরিনের মেয়েলীপনা
আমাদের দেশের সংস্কারপন্থী মানুষেরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা অন্য মেয়েদের বিশেষ করে তাদের তুলনায় আপাত আধুনিক বা অগ্রসর মেয়েদের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে। কেমন করে কাপড় পরে, ওড়না কেন গলায় দেয় বুকে না, চুল কেন রঙ করে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিংবা কারো ডিভোর্স হয়ে গেলে কেন মেয়েটি তারপরও হাসিখুশী থাকে, সাজগোঁজ করে অফিসে যায় সবই তাদের আলোচনার কিংবা সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, কোন মেয়ে যখন একটা আনওয়ান্টেড রিলেশানশীপ থেকে মুক্তি পায় তখন তার কী আনন্দ হওয়া অস্বাভাবিক?
নীরব রাতের ভাবনা
জামালপুরে একটা জিনিসই আমার ভালো লাগে খুব। তা হলো এমন নিশুতি রাত। পিনপতন নিঃস্তব্ধ একা একা একেকটা মুহূর্ত। খুব আনন্দ লাগে এমন রাত গুলোতে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতে। হালকা বাতাস আসে, জানলার পর্দা সরে যায়, ঘুটঘুটে অন্ধকার, শেয়ালের ডাক, খারাপ লাগে না, মনে হয় এই বেশ ভালো আছি। যদিও রোজার দিনে একটু অসুবিধা, রাত দুটা থেকেই হুজুররা মসজিদে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়। এখানে অনেকে রাতে রান্না করে খায়, সেই সুবিধার্থে।আমার বিরক্ত লাগে, কিন্তু কিছু করার নাই। হুজুররা বারবার অনুরোধ করে ঘুম থেকে জাগুন, সেহরী খান। এমন একটা ভাব যেন মসজিদ সবাইকে খাওয়াচ্ছে। সময়ের শেষের দিকে শুরু হয় নতুন জিনিস, আহবান জানায়, জলদি খান, এখনি খান, আর মাত্র ১০ মিনিটে না খেলে রোজা রাখতে পারবেন না। হুজুরেরা জানে না যে সেহরী না খেলেও রোজা হয়। সেহরীতে দু বেলার খাবার এক সাথে খাওয়া কোনো ইসলামিক কালচারের অংশ নয়। তবে দেখতে দেখতে রোজাই শেষ।
হ্যাপি বার্থ ডে, মাই ডিয়ার তাতাপু!
অনেকদিন ব্লগ লেখি না। অনেকদিন মানে দু মাস। দুমাসে আমি পোষ্ট সংখ্যা ৩৩০ থেকে হয়তো ৩৫০-৩৬০ লিখে ফেলতে পারতাম। কিন্তু লিখতে ভালো লাগে না আর, লেখার সময় থাকলেও অন্য কাজ করে ভুলে যাই লেখার কথা। আজও যে খুব লিখতে ইচ্ছে করছে বলে লিখছি এমন নয়। লিখছি, পোষ্ট দিবো কারন আজ তানবীরা আপুর জন্মদিন। এই খবর খুব বেশী মানুষ জানার কথা না, আমিও জানতাম না- যদি দু বছর আগে বাসায় হুট করে গিয়ে দেখি কেক কাটা চলছে, তার চাক্ষুষ সাক্ষী না হতাম। এরপর এই দিনটার কথা মনেই রাখা যায়। আমার স্মৃতি শক্তি ভালোই, কোনো কিছু মনে রাখতে চাইলেই তা পারি। আগে আরো পারতাম এখন তা বয়সের কারনে কমেছে। আমি বই মার্ক করে পড়তাম না কখনো, কারন যা মনে রাখতে চাই তা সব না পারলেও বেশীর ভাগই মনে রাখতে পারি। তাই তানবীরা আপার জন্মদিন ২ বছর আগের সেই উপস্থিতির উসিলায় স্মৃতি থেকে মুছে যাই নি। তাই লেখার উপরে চরম অনীহা থাকার পরেও লিখছি কারন জন্মদিনটা তানবীরা আপুর
*শর্ত প্রযোজ্য.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
তুমি ছুঁয়ে দিলেই,
বৃষ্টি।
নাতিশীতোষ্ণ শিহরনে,
এলোমেলো মনে;
রাস্তা ভুল।
আলো আধারির মিশেলে,
নীল নির্জনে;
অজানা সুখের ঘ্রান।
তুমি ছুঁয়ে দিলেই -
রোদ্দুর মনে মেখে,
শেষ বিকেলের আলোয়;
ছায়াময় পথচলা।
মেঘ মেঘ সন্ধ্যার,
হঠাৎ নীরবতা -
আর নিনির্মেষ চুমুকের;
আধ্-কাপ চা-ই থাকুক সাক্ষি।
অগোছালো এলোচুলই,
ভালো মানায়;
আঙুলের ফাঁকে।
ঘোরলাগা জোছনায়,
দিন আর রাত কি?
ভুল ভালোবাসায়,
তুমি ছুঁয়ে দিলেই;
মিলে যাবে অপার্থিব হাহাকার।
অবাক দ্বীর্ঘশ্বাসে,
আলতো হাসিতে;
বুক ভরে দিবে মহাকাল।
বেখেয়ালে,
শুধু একবার;
তুমি ছুঁয়ে দিলেই..।। *
#অযথাই
আমার শুরু এখানে
অদ্ভুতুড়ে মুক্তবাস
-------------------
মাথা বন বন করছে কিছুই যেন চিন্তা করতে পারছিনা।
কিছুতেই কিছু মনে আসতে চাইছেনা,
ঘৃণার সকল স্তর পার করে এসে শুধু করছি হাপিত্যেশ,
মনে করে হাতড়ে খুঁজে ফিরছি এ আমার কোন দেশ।
আমার গর্ব, আমার অহংকারের একি সর্বনাশ-
পারছিনা বেরোতে, পারছিনা কিছুই, শুধু ধুঁকে ধুঁকে বসবাস!
মানি নাকো অনিয়ম, মানবিনা বলেছেন বড় কর্তা,
না না কেউ হারেনি, হেরেছি আমরা, হেরেছে আমার সত্তা-
অপমানে আঘাতে মহান মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা।
--মহান মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান এর স্মরণে
আরও কবিতা
Federico García Lorca যখন Madrigals নামের একটা কবিতা লিখেছিলেন, তখন নিশ্চয়ই আমি সেই রেস্তোরাঁর কাজ করতাম, লরকা যেখানে আসতো মাঝে সাঁঝে। আজ সেই কবিতাটা হাতে পেয়ে এক ধরণের অনুবাদকের ভূমিকা পালন করলাম।
ছিন্ন পদ্য
১
তোমার কথারা
সুরেলা ঢেউয়ের মত
আমার প্রাণে।
চুম্বনেরা
উড়ন্ত পাখির মত
আমার ঠোঁটে।
তোমার শরীর
বিকেলের ঝর্ণার মত
আমার খয়েরী চোখে।
২
আমি আবদ্ধ
তোমার বৃত্তে।
অপশক্তির মত
দুঃস্বপ্নের আংটি
আমার আঙুলে।
প্রিয়তমা!
এখনও ডুবে যাইনি,
ভেসেও উঠিনি।
( অনুবাদ করা হলে কবিতার আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না । )
ফাও খাওয়া!
"ফাও খাওয়া" এই শব্দটির সাথে প্রথম পরিচয় হয় ভার্সিটিতে এসে। রাজনৈতিক দলের পাণ্ডারা ফাও খেয়ে থাকেন। সবাই ফাও খায় না তবে অসংখ্য পাতি নেতারা ফাও খেয়ে থাকে। নেতা হয়ে যাওয়ার পর নিজে ফাও না খেলেও নিজের গ্রুপ বা দলের নবাগত মাস্তানদের ফাও খাওয়ার সুযোগ করে দেন। দুই দিন আগে তিতুমীর কলেজের ছেলেরা ফাও খাবারের জের ধরে দোকান মালিকদের সাথে মারামারি করে অতঃপর তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩০টি গাড়ি ভাংচুর করে নিজেদের মাথা ঠাণ্ডা করে। শুধু তিতুমীর নয় রাজনৈতিক দলের নেতারা বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন কাজ করে থাকে। ঢাকা কলেজের সামনে, নীলক্ষেতের মারামারি বেশির ভাগ সময় এই ফাও খাওয়াকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তাই ছাত্র লীগ ফাও খাচ্ছে! বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ছাত্র দল ফাও খেয়েছিল। এটা আমাদের দেশে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গান গুলো মোর
আমার বাবা ছিলেন পল্লী গীতির স্রোতা, আর শুনতেন পুরুনো দিনের হিন্দি বা উর্দু ছবির গান (সাদা কালো যুগের)। কবি গান, বাউলদের গান, যাত্রা, নাটক, সিনেমার প্রতি ছিল তার দুর্নিবার আকর্ষণ।।।। অন্য দিকে আমার ছোট মামা ছিল পশ্চিম বাংলার নতুন- পুরনো আধুনিক গানের । ভক্ত। বাংলাদেশের আব্দুল জব্বার ছিল তার প্রিয় শিল্পী। আমার মামা র ও যে মামা ছিল একজন, যে প্রায় তার বয়সী বা তার চেয়ে কিছু বড়, সে ও ছিল গানের পোকা। তাদের মাথায় উঠলো তারা গান শিখবে। গ্রামে তো আর ওস্তাদ নেই। কোথা থেকে যেন একটা হারমনিয়াম কিনে নিয়ে এলো। এখন এই হারমোনিয়াম নিয়ে তারা কোথায় রাখবে? আমার মামার নানারা হলেন মোল্লা বাড়ির মানুষ। মোল্লা বাড়ির ছেলে গান বাজনা করে বেড়াবে। তার সাথে আবার ভাগনাকে নষ্ট করবে।!
সিঙ্গারা, বেলা বিস্কুট আর ভূনা কালো গোশতের গপ্পো
কোনো একটা সময় চট্টগ্রাম শহরের পাশাপাশি দুটি পার্বত্য জেলায় কাজ করতাম। হাটহাজারি, নাজির হাট, দিঘি নালা, মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি, লিচু বাগান, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গামাটি... এসব এলাকায় ছিলো আমার কাজ। সে এক সময় ছিলো। পাহাড়ে তখন শান্তিবাহিনীর রাজত্ব। তাদেরকে দমানোর জন্য ছিলো সেনাবাহিনী। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ছিলো না। তারপরও চাকরীর প্রয়োজনে আমাকে সপ্তাহে একবার পাহাড়ে রাত্রিযাপন করতে হতো। সারা রাত ভয়ে থাকতাম। ঠিকমত ঘুম হতো না। তবু যেতে হতো সে এলাকায়। চাকর বলে কথা।
বোঝাপড়া
মহাকালের সময়ের ভাণ্ডার থেকে
পুড়ে পুড়ে ছাই হচ্ছে প্রতি ক্ষণ-
পৃথিবী আজও অভেদ্য রহস্য
তাই অপদার্থের বাক্স খুলে বসলাম আবার
নেড়ে চেড়ে দেখতে গেলাম মধ্যরাতের হরমোন;
ক্ষয় হতে থাকুক দুর্বল রক্ত কণা
মন্ত্র বিফলে গেছে
অবধারিতভাবে শরীরের পতনের দিকে হেঁটে যাচ্ছি
মিছেমিছি ভুল জীবন যাপন করে কাজ নেই অন্তত আমার
ইগনোরেন্স–দ্যাই নেম ইজ বাংলাদেশ
বাংলাদেশিদের ফেসবু্কিং করতে সবসময় একটা হুজুগের দরকার হয়। কখনো ক্রিকেট, কখনো ব্লগার নাস্তিক, কখনো ভারত কিংবা কখনো পাকিস্তান নইলে রমজান উপলক্ষ্যে ইমানদার প্রোফাইল ফটো। কিছু না কিছু চাই মাঠ গরম রাখতে। এখন হিট যাচ্ছে, ‘সমকামিতা’। এ্যামেরিকায় সমলিঙ্গের মানুষদের একসাথে বসবাসের অধিকার আইনত বৈধ বলে আদালত রায় দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশের অনুভূতিপ্রবণ মানুষদের কোমল মনে আবার হেঁচকি উঠে গেছে। ফেসবুকে প্রায় স্ট্যাটাস আর পোস্ট দেখছি, “সমকামিতা, মানি না, মানবো না”। জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, ভাই আপনারে জিঙ্গাইসে কে? আপনার মতামত চাইছে কে? আপনে মানার কে? আপনে এ্যামেরিকার আদালতের থেইক্ক্যা বেশি বুঝেন? আপনাকে মানতে হবেই তাই কে বলছে?
একটা সাধারণ, কোনো কিছুতে মন না বসা দিনের গল্প
তাতানো গরম পড়েছে ইউরোপে এবার। তাপমাত্রার কাঁটা সেই যে একবার ৩০ এর উপরে উঠে গেল, তারপর থেকে আর নামার কোনো আগ্রহই যেন ওটার নেই। সিটি সেন্টারে একটা বিশাল থার্মোমিটার আছে। রাস্তার পাশে ভাস্কর্যের বদলে এ শহরে দেখা যায় আতিকায় থার্মোমিটার! সেদিন ব্যাংকে যাওয়ার পথে খানিকক্ষণ আলাপ-চারিতা চালানোর চেষ্টা করেছিলাম ওটার সাথে।
-হেই মিস্টার পারদভর্তি শিশি, খবর কি তোমার? ৩০-এর ঘর থেকে নিচে নামবা কবে?
-সেটার আমি কি জানি? মানুষ-জন গাছপালা সব কেটে সাফ করে ফেলছে, আমি চাইলেই কি আর ৩০-এর ঘর থেকে নেমে আসতে পারি?
-হুম, সেটাও ঠিক। আমার অবশ্য ৩০-এর ঘরের তাপমাত্রায় সমস্যা ছিল না কিন্তু এই শীতের দেশে কোথাও কোনো সিলিং ফ্যান বা এয়ারকুলার নাই, সেইটাই যতো সমস্যা।
-ছোট দেখে একটা টেবিল ফ্যান কিনে নাও।
ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু
ঘুমাতে আমি বেশ পছন্দ করি। যখন-তখন যেখানে- সেখানে চাইলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারি। সে ঘুমের স্থায়িত্ব ৫ মিনিট থেকে শুরু করে ৫ ঘন্টাও হতে পারে। এ নিয়ে ঘর থেকে বাইরে আমি হলাম গিয়ে সবার ঈর্ষার পাত্র। তবে যতউ ঘুমাই না কেনো, আমার ঘুম অনেক পাতলা। একবার আস্তে করে ডাকলেই ঘুম থেকে উঠে যেতে পারি। কেবলমাত্র ঘুমের কারণে কোনোদিন আমি বাস-ট্রেন বা প্লেন মিস করিনি। সেটা যতই সকাল বা মধ্যরাতে হোক না কেনো।
সমস্যাটা শুরু হলো মাস দুয়েক ধরে। সকাল ১০/১১ টায় বাসা থেকে বের হই। জীবিকার প্রয়োজনে। কখনো দুপুরে ফিরি। কখনো ফিরি না। রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে ৯/১০ টা বেজে যায়। ১১ টা নাগাদ খাওয়া-দাওয়া সেরে আড্ডা দেয়া বা টিভি দেখা চলে। শেষ হয় ১ টা দেড় টায়। তারপর শুয়ে পড়ি। ঘুম আর কাছে ঘেঁষে না। এপাশ ওপাশ করি। একসময় ক্লান্ত হয়েই বোধ করি ঘুমিয়ে পড়ি।
আরও অন্ধকার
অফুরন্ত কলম আর কাগজ আমার ঘরে -
তবু ভালো কিছু লেখাটা দুঃসাধ্য কাজ
লিখতে চাইলে
মুহুর্তেই অমাবস্যার মত হতাশায়
নুয়ে পড়ে বলপেন
স্থবির হয়ে যায় আঙুল
শুধু তা-ই নয়
এ এক চতুর চক্রান্ত;
ওরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
ডেকে আনছে আরও অন্তহীন অন্ধকার
এখানে নদী নয়, প্রেম নয়, সুখ নয় ;
চোখে মুখে মগজের ড্রেনে
জীবনের অজান্তে
বয়ে বেড়াচ্ছে অসুখের কালো
স্নিগ্ধ-সুন্দরের সবটা মেখে গুলে খেয়েছে ওরা
ওদের মাই পাছার সমারোহে
নিঃশ্বাস ফেলে নিশ্চয়ই বুঝেছিলাম -
পৃথিবীর বিষণ্ণ গরীব মানুষেরা সবচেয়ে ভালো।
প্রিয় বাংলাদেশ
তুমি ভালো নেই, তাই না?