ইউজার লগইন
ব্লগ
রাতজাগা পাখি
আজ সকালে হিম কুয়াশার প্রাচীর ভেঙে
এক চিলতে রোদ্দুর হেসেছিলো আমাদের বারান্দায়;
আজ সকালে আকাশটা ভেসেছিলো আবার- আলোর বন্যায়,
আর আমি সেই ভোরের নৈসর্গিক আলোয় স্নান শেষে দেখি-
তোমার মুখে ছায়া ফেলেছে লোভী সূর্য, ওর বুকের নিরেট
আলোর রেখা কপাল-গাল ছুঁয়ে নেমে এসেছিলো তোমার ঠোঁটে,
অকস্মাৎ এক অচেনা পোর্টেট হয়ে উঠেছিলে তুমি।
আজ সকালে একমুঠো সোনালি রোদ্দুর উঁকি দিয়েছিলো
আমাদের জানালায়, কাঁচের শার্শিতে জমে থাকা শিশিরগুলো
সব উবে গিয়েছিলো তখন, আমাদের বুকের মাঝে জমাট বাঁধা
অভিমানগুলো মুছে দিতে সে হেসেছিলো আরেকবার,
সে কি জানতো অভিমানী তোমাকে ছুঁয়ে দিয়েছিলো বিরহী রাত?
তোমাকে নিমেষেই মানবী করে তুলেছিলো আরেকবার।
কাল রাতে একমুঠো স্বপ্ন ভিড়েছিলো আমাদের উঠোনে,
কাল রাতে অপার্থিব এক আলোয় ভরে গিয়েছিলো আমাদের ঘর,
রিনিঝিনি কাঁকনের সুরে স্বপ্নেরা পাখা মেলেছিলো নীল চাঁদোয়ায়,
এমনও দিনে তারে বলা যায়...
শেষ বিকেলে বসেছিলাম বারান্দায়। শিল্পী অজয় চক্রবর্তীর গানের কিছু কথা মনে গুনগুন করে বাজছিলো, সেইসাথে ভাবছিলাম আজ কোথাও বেড়াতে যাব। এই চমৎকার মেঘ-আদুরে বিকেলে আমার একমাত্র কন্যাটিকে নিয়ে ঘুরে আসবো তার কোন অচীনলোক থেকে। কিন্তু তুমি তা হতে দিলে না। একেবারে বিনা নোটিশে তুমি এসে সবকিছু ভণ্ডুল করে দিলে। এটা কি ঠিক হল?
চারিদিক থেকে যখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসলো, তখুনি ঝড়ের বেগে তুমি এলে। ঘন কাল কেশরগুচ্ছ ছড়িয়ে, প্রবল ঘুর্ণিতে আমায় ভাসিয়ে নিলে। আমার এই ছোট্ট করিডোরটুকু, যেখানে বসে আমি বর্ণিল মেঘেদের আনাগোনা দেখছিলাম, সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে বলেছিলে,
-চল আমার সাথে।
আমি তোমায় শুধালাম- হে দুরন্ত যৌবনা আমাকে তুমি কোথায় নিয়ে যাবে?
-কোথায় আবার! এমন দিনে কি ঘরে থাকা যায়! চল আমার সাথে- দূরে, অন্য ভূবনে; তোমার অতি চেনা জগতে।
ভন্ড ভালবাসা ২
ভন্ড ভালবাসা ২য় খন্ড
কযেকদিন আগে এটার প্রথম পর্ব লিখেছিলাম শেষ কি সেটা বাকি ছিল।আজ সেটা লিখছি ।মানুষের মন যদি ভাল থাকে দুনিয়া রঙ্গীন মনে হয় সব ভাল লাগে আর যদি কেউ তার মন ভাঙ্গে তাহলে সে জীবিত লাশ ছাড়া আর কিছুই না।
সুখে থেকো শাদা ফুল
১.
আমাদের ক্যাম্পাসে যে ছোট্ট স্পোর্টস সেন্টারটা আছে, সেটা আর কার কাছে কেমন লাগে জানি না কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগে না। একটা ৮০০ মিটারের ট্র্যাক, তার একপাশে বাস্কেটবল আরেকপাশে ভলিবল গ্রাউন্ড, মাঝখানে বিশাল সবুজ মাঠ, ফুটবল আর রাগবি খেলার জন্য ব্যবহার হয় সাধারণত, মাঠের পাশে ইনডোর ফ্যাসিলিটি, সেখানে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত দুইটা জিমনেশিয়াম, সালসা-ব্যালে ইত্যাদি শেখার জন্য একটা ডান্সরুম, কিক-বক্সিংসহ যাবতীয় ইনডোর হাতাহাতি শেখার জন্য একটা রিংরুম আর বেশ কয়েকটা চেঞ্জ রুম।
সরকারী কর্মকর্তা নাকি রাজনৈতিক নেতা? সাথে কিছু নয়ন চ্যার্টাজি
বর্তমান র্যার মহাপরিচালক বেনজীরআহমেদ সহ পুলিশ প্রধানের বক্তব্যগুলো সরকারী কর্মকর্তার বক্তব্য না হয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবে জনগণের সামনে হাজির হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক সেনা কর্মকতারদের রাজনীতি করার ইতিহাস আছে। কিন্তু অবসর গ্রহণের আগে ওনাদের বক্তব্য এতো বেশি রাজনৈতিক বক্তব্য হয়ে উঠছে যে তাতে যে কোন সাধারণ মানুষ প্রশাসনের উপর আস্থা হারাতে বাধ্য। বিগত দিনে বিএনপির পেট্রোল বোমার আন্দোলনের সময় মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ থেকে আমরা রাজনৈতিক বক্তব্য শুনেছিলাম। বিএপির আন্দোলন কে আন্দোলন বলা যায় কিনা, এ বিষয়ে র্যাবের পোশাক পরে কী মন্তব্য করা যায়?
আমাদের দ্বিধা
যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখি, জনপরিসরে বিজ্ঞানের উপস্থিতি কতটুকু? রাষ্ট্রের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে কিংবা বেসরকারী উদ্যোগে বিজ্ঞানচর্চা কতটুকু উৎসাহিত হচ্ছে? প্রযুক্তি প্রায়োগিক ক্ষেত্র, প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা কোনোভাবেই বিজ্ঞানমনস্কতার নিদর্শন নয়- এই তথ্যটা প্রথমে মনে রাখতে হবে। শত সহস্র যন্ত্র কিংবা যন্ত্রাংশের মাধ্যমে প্রযুক্তি যেভাবে প্রতিনিয়ত জনপরিসরে উপস্থিত থাকে, সমাজের কোথাও কি বিজ্ঞানের এমন সদম্ভ উপস্থিতি আছে?
জার্নাল ৩৩
১. পবিত্র ধর্মগ্রন্থে আছে, “সৃষ্টিকর্তা সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” দেশ চলছে মদিনা সনদ অনুযায়ী। সেই সূত্রানুসারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজি, কমিশনার সবাই ব্লগারদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সীমা লঙ্ঘন করলে একেবারে খোঁয়াড়ে পুরে দেবে, হুঁহ। ধর্মগ্রন্থে কার্টুন আঁকা নিষেধ, লেখালেখি নিষেধ, কিন্তু কোপাকোপি নিষেধ নয়। তাই তারা লেখার বদলে লেখা নয়, কার্টুনের মোকাবেলায় কার্টুন নয়, চাপাতির পর চাপাতি চালাবে। তাদেরকে পুলিশ ধরবে না, মন্ত্রী বকবে না, ধর্ম গ্রন্থে কোপাকোপি যেহেতু আইনসিদ্ধ তাই তারা আইনত সীমা লঙ্ঘন করছে না। তারা লাইনেই আছে।
উইথ গড অন আওয়ার সাইড!
বব ডিলানের অতি বিখ্যাত একটা গান। অনেকেই শুনে থাকবেন আশাকরি। গানটায় বলা হচ্ছে বিভিন্ন সময় গডের নাম ভাঙ্গিয়ে পৃথিবীতে মানুষ ধ্বংস করছে, লুটপাট করছে- প্রান ও প্রকৃতি। নানান সময়ে উসিলা একটাই, ঈশ্বরের নাম করে। ঈশ্বর আমাদের পক্ষে থাকবে এই কারনে কতজনকে আমাদের ঘৃণা করতে হয়। কত যুদ্ধ করতে হয়। বব ডিলান গানটার শেষে বলছে হয়তো দোযখে যাবো আমি, যাবার আগে আমি বলতে চাই গড যেন এবার মুখ ফিরে তাকায়। আর কোন যুদ্ধ যেন না হয়, আর যেন কোনো মানুষ না মারা হয় গডের নাম ভাঙ্গিয়ে। এবার গড আমাদের পক্ষেই যেন থাকে। গানটা আশাবাদের গান। আমারও আশাবাদ থাকে। কিন্তু আশাবাদী হবার মতো কিছুই নাই। সংযমের মাসে সংযম করে ৭০ গুন সওয়াব পাবার বিরতির- পরে আরেকজন ব্লগার খুন। আমি নিলয়কে চিনি না। কোনোদিন দেখছি বলেও মনে পড়ে না। বেচেঁ থাকতেই আমি নিলয়ের লেখা কোনোদিন পড়ি নাই, তাই ঘাতকদের ডজনখানেক কোপে নৃশংস খুনের পরে উনার লেখা পড়ার কোনো ইচ্ছে
উদর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে
এক সাংবাদিকের মুখে শুখে শুনলাম ৭১ সালে নরওয়েতে অনেক পাকিস্তানী আশ্রয় পায়। সে সময় নরওয়েতে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যাচ্ছিল। অন্যদিকে তাদের অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন ছিল। ৭১এর যুদ্ধ ও পাকিস্তান সেনা বাহিনীর অত্যাচার বর্ণনা করে নিজেদের পশ্চিম পাকিস্তানের আটঁকে পড়া বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের অনেকে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। নরওয়ের সরকারও তাদের নিয়ে আসে। এছাড়াও এই দেশটি মধ্যপ্রাশ্চ্য ও এশিয়া থেকে সাগরে ঝাপিয়ে পড়া মানুষগুলোকেও অতীতে আশ্রয় দিয়েছে। মজার বিষয় হল গত বছর নরওয়েতে ধর্ষকদের তালিকায় এই বান্দাদের অবস্থান সবচেয়ে উপরে।
ডটকম সাংবাদিকতা
মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মত সম্প্রচারের স্বাধীনতা কতটা পীড়াদায়ক হতে পারে ক্যামেরাম্যান সাথে নিয়ে মাইক্রোফোন হাতে সংবাদ ধাওয়া করা স্যাটেলাইট টিভির বাংলাদেশী সাংবাদিকদের দেখে উপলব্ধি করতে পারি। মুন্নী সাহার আপনার অনুভুতি!!! প্রশ্নটাও বাকী সবার অমানবিক, অশোভন আচরণের তুলনায় অনেক বেশী সহনীয়, অনেক বেশী শোভন। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কল্যানে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল কাঁপিয়ে সংবাদ উদ্ধারে যাওয়া সাংবাদিকদের বোধ-বুদ্ধি-বিবেচনাহীনতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডটকমসংবাদপত্র বিস্ফোরণ। পকেটে সাড়ে তিন হাজার টাকা থাকলেই একটা গণমাধ্যম খুলে ফেলা যায়, ১৬ ফুট ১২ ফুট ব্যানার আর নীলক্ষেত থেকে ৫০০ রঙ্গীন ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে নেওয়ার পর যেকেউ মহাসাংবাদিক হয়ে যেকোনো ব্যাক্তিকে হয়রানি করতে পারে। আমাদের বর্তমান সাংবাদিকতা মোটা দাগে জনহয়রানি।
একা একা বৃষ্টিতে ভেজার গল্প
১.
রাত্র বাজে তিনটা। প্রায় ঘন্টা দেড়েক বিছানা-বালিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর, এই খানিক আগে ক্ষ্যান্ত দিয়েছি। হবে না আজ রাতে আর। ভাবলাম এরকম ভিন্ন একটা সময়ে কিছু লেখার চেষ্টা করলে সেটা কেমন দাঁড়ায় দেখা যাক।
২.
ঢাকা শহরে আমার সবচেয়ে প্রিয় রাস্তা ছিল গুলশান-২ নম্বর থেকে কূটনৈতিক পাড়ার দিকে চলে যাওয়া শুনশান রাস্তাটা। অফিস যাওয়ার পথে ওই রাস্তাটাই সাধারণত ব্যবহার করতাম। একটা চায়ের দোকান ছিল, রাস্তার মাঝামাঝি পর্যায়ে। ওরকম বড়লোকী এলাকায় ছোট্ট চায়ের টঙ দেখলে কার না চা পানের ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমি যেদিনই ওই রাস্তাটা দিয়ে অফিসে যেতাম, সেদিনই ওখানে একটা টি-ব্রেক নিতাম।
বিষণ্ণ বাউন্ডুলে ওরফে বর্ণকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা
ফেসবুকে দেখেছিলাম নোটিফিকেশন গতকাল। ভেবেছিলাম কেউ না কেউ পোষ্ট দিবে। যখন দেখলাম কেউ দিলো না, দেয়ার সম্ভাবনাও আপাতত দেখছি নাই তাই আমি লিখতে বসলাম। ব্লগ লিখতে আমার আর ভালো লাগে না। নিজের হাতের লেখার অবস্থাও যে দশার, এই ব্লগে লেখা দেয়ার অবস্থাও তাই। বছর তিনেক আগে আমার এক মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব ছিল, নামকরা ব্লগার। সামুর লোকেরা নাম বলার সাথে সাথেই চিনবেন। সে ঢাকা ভার্সিটি নিয়ে এত অহংকার ছিল, কোন এক কারনে আমার হাতের লেখা দেখে বলেছিলো, 'শান্ত দা আপনার হাতের লেখার অবস্থা এই কেন?
বিষয়- ধর্মের ভিত্তিতে হল বরাদ্ধ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হলে (একাত্তর হল) সকল ধর্মের ছেলেরা সিট পাবে এমন একটি সংবাদ দেখি। এই প্রসঙ্গে অনেকে আনন্দিত সেই সাথে ধর্মের ভিত্তিতে হল প্রদান করা উচিত কী অনুচিত না নিয়ে অনেকে মতামত দিয়েছেন। অমুসলিম ছেলেদের জন্য জগন্নাথ হল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মের ভিত্তিতে হল আলাদা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি চোখে লাগে। তবে বাস্তবতার কারণে ধর্মের ভিত্তিতে হল বরাদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যাচ্ছে না! একাত্তর হলের বিষয়ে সবার সাথে আমিও আনন্দিত। তবে বাস্তবতার কারণে অমুসলিমদের জন্য আলাদা হল এখনো জরুরী। কেন জরুরী তা আলোচনা করা জরুরী।
আত্নার কাটা-কুটি
আমার বাবা খুব সাধারণ একজন মানুষ। অনেক কিছু শিখেছি আমি আমার বাবার কাছ থেকে। বাবাকে নিয়ে কখনো গল্প করা হয় নি। এখন একটা কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে সৎ থাকা, নির্ভেজাল থাকা আর অহংকার না করার শিক্ষা পেয়ে পেয়ে বড় হয়েছি। আমি তাই জোর গলায় বলতে পারি আমার বাবাকে কখনো অসৎ কোনো কাজ করতে দেখিনি। বাবারও দোষ আছে, তবে দোষ-গুণের পাল্লায় আমি ভালোকেই বেশী চিনেছি। আমি বাবাকে আদর্শ মানি, অনেক কারণেই মানি। বাবাকে আমি অনেকটা ভেতর থেকে দেখতে পারি, পড়তে পারি।
সাম্প্রতিক ভাবনা
স্টিফেন হকিং বলেছেন ঈশ্বর নেই-
হকিং বললেন ঈশ্বর নেই- কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকায় এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো।