ইউজার লগইন
ব্লগ
যদি বলো
যদি বলো, তুমি চাঁদ হবে......
আমি প্রতিরাত বিনীদ্র কাটাবো।
তোমার জোৎস্না আলোয় স্নান করার জন্য।
তুমি যদি বলো; তুমি স্নিগ্ধ বিকেলের সেই শান্ত বাতাস,
আমি দু'হাত বাড়িয়ে নিজেকে ছড়িয়ে দেবো..
সেই শান্ত বাতাসে গা ভাসাবো।
যদি বলো- তুমি ঐ রং ছড়ানো গোধুলি..
আমি সন্ধ্যার শীতল চাদর হয়ে
তোমায় জড়াবো।
তুমি যদি এসে আমার সামনে দাড়াও; বলো-
আমি তোমার ছায়া হব...
আমি সত্যি বলছি ....।
তোমার মাঝে বিলীন হব।।
জীবন,স্বপ্ন, এবং আমি
জীবনের 18 টি বছর কেটে গেছে বড়
রকমের কোনো ধাক্কা ছাড়াই।
তবে জীবন সংগ্রাম যতটা সহজ
ভেবেছিলাম ততটা সহজ কিন্তু নয়, জীবনের
একটা পর্যায়ে এসে সবাই
বুঝতে পারে যেমনটা আমি পারছি। আশা-
নিরাশা নিয়ে জীবন
সেইটা জানি কিন্তু স্বপ্নের মৃত্যু
কিভাবে মেনে নেওয়া যায়?
যখন খুব ছোটো ছিলাম মায়ের হাত
ধরে স্কুলে গিয়েছি। গ্রামের একটা স্কুল,
সেখানে আমিই ছিলাম দ্যা বস।
কালক্রমে যখন মায়ের বদলির সুবাদে অন্য
যায়গায় গেলাম তখন সবে মাত্র ক্লাস
থ্রিতে পড়ি আমি! নতুন জায়গা তাই
মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছিলো, তারপরও
বছর দুয়েকের মধ্যে সেখানেও রাজত্ব
করেছি। সপ্তম শ্রেনীতে আবার আরেকবার
শিফট করতে হলো।
সেখানে মানিয়ে নেওয়টাও অবশ্য কষ্টের
কিছু ছিলো না। প্রথম থেকে দশম
শ্রেণী ভিন্ন ভিন্ন
পরিবেশে পড়াশুনা করলেও একটা জিনিস
কমন ছিলো, সব জায়গায় পূরণ হয়েছে সকল
স্বপ্ন। কলেজ
লাইফটা ছিলো সবচেয়ে এনজয়েবেল।
নামটা না হয় শেষেই জানাব (প্রথম পর্ব)
নামটা না হয় শেষেই জানাব (প্রথম পর্ব)
গত তিন দিন থেকে পিঠের ডান পাশে ব্যথা।খুব বেশী না হলেও মাঝে মাঝে এক্টু অসহ্য লাগে। মেজাজও কেমন জানি এক্টু খিট খিটে হয়ে গেছে। যখন তখন যাকে তাকে বকা দিচ্ছি। আর রাতে শুলে নানান রকম দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কে ভীর করে।
এ ব্যাথাটা আমার আরও একবার হয়েছিল। অত দুশ্চিন্তা হয়নি। তখন আমার স্ত্রীর এক সময়ের কলিক,এখন অনেক গুলো বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে নাম করা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। আমার স্ত্রীকে যে কত শ্রদ্ধা করেন,তা লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার স্ত্রী ফোন করে দিলে আমি এক বিকেলে ক্লিনিকে উনার সাথে দেখা করতে যাই। আমার স্ত্রীর পিড়াপিড়িতে ডায়াবেটিস থেকে আরম্ভ করে যত রকম টেষ্ট করতে হয় সবই করা হল। তেমনন কোন সমষ্যা নেই। খাবার অনিয়ম ও ভাজা পোড়া খেয়ে গ্যাস বাধিয়েছি তারই জন্য এ ব্যাথা।
বৃদ্ধাশ্রম
আজকাল লিলির সাথে সম্পর্কটা আমার
ভালো যাচ্ছে না ।
লিলি আমার বিয়ে করা বউ ।
দেখতে অসম্ভব সুন্দরী সে , আধুনিকা ,
স্মার্ট আর অত্যন্ত
রুচিশীল এই
মেয়েটাকে ভার্সিটি লাইফের প্রথম
থেকেই
আমি পছন্দ করতাম ।
আমেরিকা থেকে পি এইচ ডি করে আসার
পর নামকরা এক
ভার্সিটিতে আমি লেকচারার
হিসেবে জয়েন করি ।
তার কিছুদিন পরেই লিলির সাথে আমার
বিয়ে হয় ।
এবার লিলির সাথে আমার সম্পর্কের
অবনতির
কারণটা ক্লিয়ার করছি ।
আমার বাবার বয়স প্রায় ৬৫ বছর। মা অনেক
আগেই
মারা গিয়েছেন । আমার
বাবা আলঝেইমার্স নামের এক কঠিন
রোগে আক্রান্ত । এই রোগে আক্রান্ত
হলে মানুষের
হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা ।
সে কাউকে চিনতে পারেনা, ঠিকমত
কথা বলতে পারেনা, সবকিছু
ভুলে যায়।
বাবার সেবা যাতে ঠিকমত করা হয় এ জন্য
আমি এক
মহিলা পরিচারিকাকে ঠিক
করেছিলাম। একবার গুরুত্বপূর্ণ এক
সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য
আমাকে কয়েকদিন
নিশি সহচর
রাতের খাবার খেয়ে মেস
বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরলাম..
বাসা থেকে কিছুটা দুরে একটা ছোট্ট
চা দোকান আছে ।
প্রায় সময় রাতের বেলা ওখানেই
আড্ডা দেই..
ঐ দোকানের চা টা অসাধারণ!!!
চা খেতে খেতে সিগারেট
খাওয়াটা আমার অভ্যাস।
দোকানীর কাছে অনেক
টাকা বাকি পরে আছে..
টাকার জন্য খালি ঘ্যান ঘ্যান করে
হঠাৎ গলিতে কয়েকটা কুকুরের চিৎকার
শোনতে পেয়ে বা দিকে তাকালাম.....
একটা পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে বড়
রাস্তায়!
দুজন পুলিশকে দেখলাম এদিকেই আসছে..
সিগারেট টা ফেলে দিয়ে চায়ের
কাপে শেষ চুমুক দিলাম ।
পুলিশ দুজন
কাছে এসে দোকানিকে জিগেস করল--
কালু কসাইয়ের বাসা কোনটা??
দোকানি হাত
দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে দিল ।
পুলিশ দুজন চলে গেছে..
ইতিমধ্যেই আমি ঘামতে শুরু করেছিলাম!!
সারাদিন কত অপরাধই করেছি..
আর অপরাধী পুলিশ দেখলেতো ভয় ই
পাবে । গত সপ্তাহে এই চা দোকানের
সামনে রফিক নামে এক সি এন
জি ড্রাইভারকে পিটিয়েছিলাম,
পরিনতি
এখানে পোকামাকড়েরা বাসা বাঁধে,
একসময়।
শরীরের
পরতে পরতে লেগে থাকা মার্সিডিজের
অহংকার। দ্বিতল বাড়ির
প্যাঁচানো সিঁড়িতে লুকায়িত
বৈভবের অমৃত। শান
বাঁধানো ঘাটে পড়ে থাকা ধূমায়িত
চায়ের আফিম। শত শত ঘামের বিন্দুর
গড়ে তোলা
সমুদ্রের উত্তরীয়। নামে না কখনও কাঁধ
বেয়ে একবিন্দুও।
ধবধবে সাদা সারসের বুকের উপর
চেপে থাকা
মানুষসকল হেঁটে যায়। বাতাসে তখন
পারফিউমের
গন্ধ। কেউ কেউ নাক চেপে ধরে, বিষাক্ত
রক্তের
বোটকা গন্ধ ভেসে আসে। কেউ কেউ
বুঝতে পারে, কেউ কেউ পারেনা।
একদিন সব মিলিয়ে যায়। দাম্ভিকতার
মুখোশ বাতাসে
ভেসে যায়।
খসে পড়ে রক্তে ভেজা অভিশপ্ত উত্তরীয়।
সাদা
কাফনে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে। কেউ কেউ
দেখে, কেউ কেউ দেখে না।
এখানে পোকামাকড়ের ঘর বসতি হয়,
একসময়।
জীবন পথের যাত্রী
সেই ট্রেন, সেই ঝিকঝিক....
কোন এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে আবার
উঠে পড়েছিলাম নাম না জানা কোন এক
বগিতে..
কত মানুষ! কেউ বসে বসে ঝিমোয়, কেউ বা
সুযোগের অপেক্ষায় দাড়িয়ে সটান, মুখে
খিস্তি ফুটে অবিরাম। কান্নারত
বাচ্চা কোলে
মা চাদর বিছিয়ে পাটাতনে বসে আছে,
তাকিয়ে আছে
অনাগত ভবিষ্যতের দিকে নির্ণিমেষ।
কোন এক ধনীর দুলাল কানে হেডফোন
লাগিয়ে
মেটাল গান শুনছে, দূর থেকেও
ঝাকড়া চুলের
দুলানো দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। কোন এক
ভিখারীর
স্পষ্ট ভরাট গলার মোহমীয় গান
ভেসে আসছে কানে।
এই ট্রেন, ট্রেনে চেপে থাকা উঁচুনিচু
যাত্রীসকল
এরা সবাই স্বভাবতই প্রগাঢ় নিগূঢ় অর্থ বহন
করে।
এরা সবাই জীবন পথের যাত্রী,
এগিয়ে চলে এক
অনিশ্চিত ভবিষ্যত পানে।
↓↓ বৃষ্টিবিলাস ↓↓
শুক্র বার, সময় সকাল ১০ টা। আদ্রিতা পড়ার
টেবিলে, কিন্তু কিছুতেই কনসেন্ট্রেশন
টা পড়ার দিকে রাখতে পারছে না। এর
কারন হচ্ছে জানালা দিয়ে গানের শব্দ
আসছে।
"".. সারাটা পথ জুড়ে আমি একা
হেটে যাই আকাশ তারার পানে চেয়ে
নীল জোছনায় স্মৃতিরও ভীড়ে...""
এই টাইপ একটা গান। এত জোরে কেউ গান
বাজায়। মেজাজ টা প্রচন্ড রকমের খারাপ
হচ্ছে তার। আগের বাসাটাই
ভালো ছিলো। এই রকম কোন
সমস্যা ছিলো না এই বাসাটায় আজ প্রায়
এক মাস। সেই প্রথম দিন থেকেই এই প্রবলেম
টা হচ্ছে। প্রতিদিন দুই টাইম পাশের
বাসার কে জানি প্রচন্ড জোরে গান
বাজায়। আসলে তার রুম টা তাদের বাসার
একটা কর্ণারে। বেলকনি আছে। পাশের
বাসার যে রুমে গান বাজে সেটা তার
রুমের সোজা। অদ্ভুত ব্যাপার
হলো সে আজো ঐ
রুমে কে থাকে বা কে এত জোরে গান
বাজায় সেই ব্যক্তি টাকে দেখার
সৌভাগ্য তার হয় নি। যদি হত
তবে আচ্ছা মত বকে দেয়া যেত।
রাজনৈতিক স্বপ্ন
তড়িঘড়ি করেই
ঘুমটা ভাঙলো শিহাবের। অনেক মজার
একটা সপ্ন দেখতেছিল সে।
একটা মেয়ে তার দিকে কেমন নিশ্চুপ
চোখে তাকিয়ে ছিল।
মেয়েটাকে মনের ছোট্ট
কুঠিরে নিমিষেই স্থান দিয়ে দেয়
সে! চেয়েছিল ওর সাথে কথা বলবে।
যেই ওর কাছে যাবে ঠিক তখনই
মোবাইলের ভাইব্রেশন ঠের
পেলো সে। কয়েক হাজার বার আভিশাপ
দিয়ে ঘুম ঘুম চোখে দেখে মোবাইলের
স্ক্রিনে তার বন্ধু ঈশানের নাম।
- হ্যালো।
- দোস্ত। তু
ই কই? ঘুমাইতাছস নাকি?
- নারে। আমি ধানক্ষেতে তিমি মাছ
ধরতেছি।
- আরে, ফাইজলামি করিস না তো।
ভালো কইরা কথা বল।
- আরে দোস্ত। আমি ঘুমাইতেছিলাম।
ভালো একটা সপ্ন দেখতেছিলাম।
মেয়েটার কাছাকাছি যাইতেছিলাম
খালি আর তুই বদ আমার সপ্নটার মধ্যে বাম
হাত ঢুকাইয়া দিলি। বল, কি হইছে?
- দোস্ত। ৯ টা কাজে।
জলদি ক্যাম্পাসে আয়। ১১টার সময়
ক্যাম্পাসে আজকে ধরীত্রির অষ্টম আশ্চর্য
দেখবি। মিসাইছ না কিন্তু।
মাই লিটল ম্যাজিশিয়ান ও পিএসসি সার্টিফিকেট
আমার ছোট্ট মেয়েটির নাম জারা সুপ্রীতি। এখনো চোখের সামনে দেখতে পাই ওর জন্মদিন বা জন্মমুহূর্ত। দেখি ওর টলমলে পায়ে প্রথম হাঁটার দৃশ্য। প্রথম প্রথম কথার অস্ফুট উচ্চারণ, পুরো একটি শব্দ বলতে পারত না ও, প্রত্যেক শব্দের প্রথম অক্ষর উচ্চারণ করে নিজের মনের কথা বোঝাতে পেরেছে এমন ভঙ্গি করে সবার দিকে তাকিয়ে বোদ্ধার মতো ওর ঝাকড়া চুলের মাথা দোলাত। যেমন কোককে বলত “কো” বা পাপাকে “পা”, তেমনি বোনকে দিদি বলা শেখানোর চেষ্টায় সে শুধু “দি” বলে নিজের দায়িত্ব শেষ করত। এখন ও পূর্ণাঙ্গ শব্দ উচ্চারণ করলেও বোনকে সেই আগের মতোই “ দি” বলে ডাকে।
জারা এই বছর পিএসসি পরীক্ষা দেবে। লম্বায় সে আমাকে ছুঁয়ে ফেলেছে। আমি ওকে বুকে জড়িয়ে যখন বলি, কেমন লম্বা হয়ে যাচ্ছিস বলতো?
জারা বলে, ভালো তো, তোমাকে আর মাথা নিচু করে কথা বলতে হবে না। মাথা উঁচু করে কথা বলবে এখন থেকে।
আমি রাতের আকাশ শীতের বাতাস তোমার চুলের গন্ধ
আমাদের পুরানো বাড়িটা একতলা ছিল। চারদিকে দেয়াল এবং উপরে টিনের চালা দেয়া বাড়িটার প্যাটার্ন ছিল বাংলোর মতো। চারদিকে বাগানে ঘেরা বাড়িটার নামও ছিল “বাগান বাড়ি”। এমন কোন গাছ নেই যা সেই বাগানে ছিলনা। ফুল-ফল থেকে শুরু করে নানারকম পাতাবাহার, শাক-সবজি এমনকি ঔষধি গাছ পর্যন্ত বাতাসে দুলে দুলে তার অস্তিত্ব জানান দিত। গেটের উপর ছিল একটা মাধবীলতার গাছ। সেটা তার ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে পুরো গেটটাকে ঢেকে রাখতো। প্রতিটা ঋতুই বাড়িটাতে আলাদাভাবে ধরা দিত। যখন খুব গরম পড়তো, একটা গাছেরও পাতা নড়তোনা। সজনে গাছ আর নিম গাছটা ছিল পাশাপাশি। আমরা এই গাছ দুটোর নিচে মাদুর বিছিয়ে, হ্যারিকেন জ্বালিয়ে, হাত পাখায় বাতাস করতাম আর শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা দেখতাম। যখন বর্ষা নামতো, ঝমঝম বৃষ্টিতে ভেঙ্গে যেতো আমাদের টিনের চালা। সে কি শো শো বাতাসের শব্দ!
কেউ চায় না দলছুট শূন্য হোক, এই বাস্তব সব্বাই আঁকড়ে থাক!
খোশমেজাজেই ছিলাম। মামা নেই বাসায়, নেটের স্পিড নেই, ওলোর প্যাকেজ নাই, পকেটে টাকা নাই, তাই টিভি ভরসা। কিন্তু সবকিছুকে স্পয়েল করে দিতে ফেসবুকের কোনো বিকল্প নাই। সেখান থেকেই জানলাম, খুলনা নেভী স্কুলের সন্ধ্যা ম্যাডাম মারা গেছেন। মনটা উদাস হলো। টাইম ট্রাভেলে চলে গেলাম সতেরো- আঠারো বছর আগের দুপুর গুলোয়। ক্লাস ফোরের পরিবেশ পরিচিতি সমাজের মতো নিরীহ বিষয়কে আমাদের জন্য দুর্বোধ্য করে তুলতেন তিনি। লাইন বাই লাইন পড়া ধরতেন, এবং পড়া না পারলে শাস্তি বেঞ্চের উপরে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকো। সে এক কঠিন সময়, ম্যাডাম খাতায় কত কি ঠিক লিখেও নাম্বার দিতেন ৬৫-৬৬, কাউকে বা করাতেন ফেইল। আমাদের প্রথম স্থানের অধিকারী বর্তমানে ফ্লোরিডার এক ভার্সিটির টিচার শাহারিয়ারের নোট পাবার জন্য সবার তখন কি আকুলতা!
না লেখার মতো লেখা
অনেক দিন ধরেই লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু লেখা হচ্ছে না। প্রায় ঘন্টাখানেক সময় লাগিয়ে একটা কিছু লিখেছিলাম, লেখাটা শেষ হওয়ার আগেই উবে গেলো, ব্যাকস্পেস, ফ্রন্টপেজ সব কিছু ঘুরে দেখলাম এক ঘন্টার মানসিক পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত বৃথা গেলো। ল্যাপটপে যারা দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে লিখতে পারে তারা ভীষণ দক্ষ মানুষ, আমার মোটা মোটা আঙ্গুল তার থ্যাবড়ানো তালুতে কষে থাপ্পর দেওয়া যায় হয়তো কিন্তু ল্যাপটপের কোমল স্পর্শ্বকাতর পরিসরে দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে কিছু লেখা সম্ভব না। ল্যাপটপে লেখাটা অনেকটা অফিসটাইমে ভুল করে ভীড় লেডিস বাসে বিশাল ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে উঠে পরার মতো, একটা অঘটন ঘটবেই- সেই অঘটনের সময় গুণে সময় কাটানো।
সম্পর্ক
আজকে অফিসে যখন প্রচণ্ড ব্যস্ততায় খাওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছিলাম না ঠিক তখন তিথির ফোন এলো। এতদিন বাদে হঠাত করে ও কি মনে করে ফোন করলো চিন্তা করতে করতেই ফোনটা ধরে বুঝতে পারলাম যে মেয়েটা কাঁদছে। হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো,
- আপু, সামির না বিয়ে করে ফেলেছে।
- মানে কি?
- হুম, সত্যিই সামির গতকাল বিয়ে করেছে। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
ক্ষয়ে যায় চোখ রঙপেন্সিল হয়ে, বুকে জমে অভিমান!
বরবারের মতো এবারও শিরোনামের সাথে লেখার কোনো মিল নাই। এইটা একটা গানের লাইন। গানটা আমার অসম্ভব প্রিয়। এই গানের আরেক লাইনও আমার একবার পোষ্টের শিরোনাম হয়েছিল- অলিখিত সব স্বপ্নগুলো ভেঙ্গেচুড়ে খানখান। গুগলে সার্চ দিয়ে জানলাম তা গত বছরের জুলাই মাসের। আমি আমার পোষ্ট কখনোই আর ফিরে ফিরে দেখি না। কিছু মনে আসলে গুগল করি, পেয়ে যাই। আর আমার লেখা ঘুরে ফিরে তো সব একই টাইপের। তাই নিজের লেখা দেখে বিগলিত হবার কিছু নাই। আহমদ ছফা প্রথম লেখা ছাপিয়েছিল, ইসলামী একাডেমির পত্রিকায়- সাথে পেয়েছিলেন ৩০ টাকা নগদ। তিনি পাঁচ ছয়বার ডাবলডেকার বাসে সারা শহর ঘুরেছিলেন। নিজের লেখা ছাপানো ও নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখার এই থ্রিল আমরা সারাজীবনেও পাবো না। কত ব্লগ- পেপারেই না আমাদের লেখা ছাপা হয়, আমাদের কোনো উচ্ছাস থাকে না । শুধু মনে হয় বালের এক লেখা তাও ছাপিয়ে দিলো এরা, ফ্রি লেখা কি আর পায় না!