ইউজার লগইন
ব্লগ
দুটি লিমেরিক
জীবন চিত্র
রঙের সাথে রঙের লাগিয়ে ক্যানভাসে ভাসে জীবন
সব রঙেতেই সাদার খেলায় ফুটে উঠছে ছবির মন
এক ফ্রেমেতে ভাবনা কত
লুকিয়ে আকাশ অবিরত
আঁকছে মানুষ হাজার বার্তা রোজ পথের অনুরণন ।
মেঘ তুই
আমার উঠোন ভিজিয়ে দিয়ে যাস কোথা তুই মেঘ
প্রেমের কদম ফুলেও যে তোর আঁচলভরা আবেগ
এ পাড়া আর ও পাড়াতে
যাস ছুটে তুই সই পাতাতে
আমার বুকে কান্নাতে ও মেঘ দে ঝরিয়ে সব উদ্বেগ ।
-০-০-০-
ইভানের ছেলেবেলাঃ একটি বিশুদ্ধ কবিতা
মধ্য রাশিয়ার একটি সূর্যালোকিত দিন।
কোন একটা পাখির অদ্ভুত ডাক শোনা যাচ্ছে।
সোনালী চুলের একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে পাইন গাছে ঝুলে থাকা প্রকাণ্ড মাকড়সা জালের সামনে! উজ্জ্বল সূর্যকিরণে ছেলেটি আশ্চর্য তীক্ষ্ণ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে মাকড়শার জালের দিকে। সহসাই ছেলেটি দৃষ্টিসীমা থেকে আড়াল হয় কয়েক মুহূর্তের জন্যে। আমাদের দৃষ্টি পাইন গাছের উপরের দিকে উঠতে উঠতে একখানে এসে থেমে যায়, আর ছেলেটি পুনরায় দৃশ্যমান হয় বেশ খানিকটা দূরে।
১৯৭১ : কতটুকু ভেতরে, কতটুকু বাইরে?
এ. কে. খোন্দকার '১৯৭১ : ভেতরে বাইরে' লিখে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিতর্কের বড় একটি অংশে রয়েছে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে। এ. কে. খোন্দকার দাবি করছেন বঙ্গবন্ধু ভাষণের শেষে জয় বাংলার পর জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। এ তত্ত্ব খোন্দকার সাহেবই প্রথম তোলেননি, এর আগেও তোলা হয়েছিলো। বিশেষ করে কবি শামসুর রাহমানের নাম এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'কালের ধুলোয় লেখা' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় দৈনিক জনকণ্ঠে। পরে সেটা বইয়ের আকারও পায়। এই বইয়ে শামসুর রাহমান উল্লেখ করেছেন ভাষণে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক জয় পাকিস্তান বলার বিষয়টি। কী একটা বিতর্কের জের ধরে তা আমি সাপ্তাহিক ২০০০-এ লিখেছিলাম। ২০০০-এর সম্পাদক তখন শাহাদত চৌধুরী।
ইটস অ্যা হার্ড রেইন গোন আ ফল!
বব ডিলানের অতি বিখ্যাত একটা গান। তবে গানটা আমার ভালো লাগে জোয়ান বায়েজের কন্ঠেই। অসাধারন এক কম্বিনেশন ছিল, বব ডিলানের কালজয়ী কবিতা যা গানের সুরে এক ঝাঝালো প্রতিবাদে লেখার প্রতিভা আর জোয়ান বায়েজের কন্ঠের জাদু সব মিলিয়ে এক অনবদ্য সময় ছিল তখন। একদিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিভীষিকা আরেকদিক শহুরে আমেরিকান তরুনদের প্রতিবাদী সব গান সাথে ফোক রিভাইবাল ও হিপ্পী হবার নেশা। এই গানটাও ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ বিশিষ্ট গান। শুধু পশ্চিমেও না,আমাদের এখানেও এক অসাধারণ সময় ছিল ষাটের দশক। বিক্ষোভ- বিপ্লব- প্রেমিক- শিল্পী সবার জন্যই ও সবকিছুর জন্যই শ্রেষ্ঠ এক সময়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ইস জন্ম যদি হতো দেশ বিভাগের সময়। পুরো ষাটের দশক জুড়ে থাকতাম তরুন। কিছুতে অংশ না নিলেও চোখ দিয়ে দেখতাম সেই সময়কে, অনুভব করতাম সেই দশককে। কি ভালোই হতো। এতদিনে হয়তো কবরে চলে যেতাম, দেখতাম না এই ফেসবুক টুইটারের তথাকথিত সামাজিক
মিলাদ ও শিরনি
ছোটতে গ্রামের পরিবেশে আমার বেড়ে উঠা। আমার শৈশব কৈশোরের সময় গুলি কেটেছে গ্রামীণ মুক্ত আলো বাতাস আর সবুজের সংস্পর্শে।কত মজা কত হাসি আনন্দ আর স্মৃতি মিশে আছে গ্রামীণ পথে ঘাটে। গ্রামের সমবয়সী বন্ধু বা একটু বড় বন্ধুদের নিয়ে ফুটবল, ডাংগুলি, মার্বেল, সাতার সহ কত খেলা খেলেছি। একসাথে আবার হেঁটেছি স্কুলের পথে। সেই আনন্দময় জীবনের একটি ঘটনা বা এখনো ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে আজ আমার স্মৃতিচারণ বা জাবর কাটাও বলতে পারেন।
সভ্যতা Vs বর্বরতা
মেয়েটার নাম পরী। দেখতে সুন্দর বলে তার মা খুব শখ করে এই নাম রেখেছিলেন। কিন্তু গরীব ঘরে জন্মানো মেয়েদের রূপ থাকতে নেই। এই রূপই তার কাল হয়ে দাড়াঁলো। দিনের পর দিন অভাবের তাড়ণায় ভুগতে থাকা হতভাগ্য এই পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিল মেয়েকে ঢাকায় কাজে পাঠাবে। তার বাবা গ্রামের এক প্রতিবেশী মহিলার সাথে কথা বললেন পরীকে ঢাকায় কাজ খুঁজে দেয়ার ব্যপারে। এই মহিলা নাকি এর আগে আরো অনেক মেয়েকে ঢাকায় কাজ দিয়েছে। সেই মেয়েদের পাঠানো টাকাতে গ্রামে তাদের পরিবার এখন ভালভাবে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারছে। পরী ঢাকায় যাবে শুনে মহিলা খুব খুশী হয়ে বললো, ও যে মেয়ে তাতে ও আরো অনেক বেশী টাকা পাঠাতে পারবে। পরীর বাবা এই কথা শুনে খুশী হয়ে বাড়ি ফিরলো।
ইদানিংকালের ভারতীয় সিনেমা নিয়ে অযথা পোষ্ট!
অনেক দিন সিনেমা নিয়ে কিছুই লেখা হয় না। হলে গিয়েও দেখাও হয় না। দেখেছিলাম শেষ, অনন্ত জলিলের মোষ্ট ওয়েলকাম টু। দেখে এত মেজাজ খারাপ হয়েছিল তা নিয়ে আর লেখতে ইচ্ছে করে নাই। চার বন্ধু মিলে সিনেমা দেখার উসিলায় চলে গেছে ১৫০০ টাকা। এই দুঃখে গত মাসে আমরা তেমন বাইরে খেতেও যাই নি। জীবনে প্রতিজ্ঞা করছি, জলিলের সিনেমা আর দেখবো না। সে হাসতে হাসতে মেরে ফেলাক তাও না। যে সিনেমায় চারটা গান জলিল আকাশে বাতাসে ফুলের বাগানে গ্রামে গঞ্জের বিয়ের সিডির মতো ব্যাকগ্রাঊন্ডে ভেসে বেড়ায় তা দেখার আমার ইচ্ছে নাই। অনেক হয়েছে ছাগলের সিনেমা টাকা দিয়ে দেখা আর না। মাহী বাপ্পীর সিনেমা 'হানিমুন' ইচ্ছে করেই দেখি নাই। নামটাই পছন্দ না, তেমন পছন্দ না পোষ্টার টাও। সানিয়াত ভাইয়ার 'অল্প অল্প প্রেমের গল্প' দেখবো সামনেই। টাইমিং মিলছে না। আমি একা একা সিনেমা দেখতে পারি না। সিনেমা নিয়ে বন্ধু বান্ধবরে দু চারটা ডায়লগ না দিলে আর সিনেমা দেখার মজ
পার্ট ওয়ান!!
"মামুন, এই মামুন!"
মামুনের কোন সাড়া শব্দ নেই। মামানি আবার ডাক দেয়,
"ওই নবাবজাদা! তুমি কি বাপের রাজত্ব পাইছো এইখানে। এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাও!"
মামানি মামুনের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরের দরজা বন্ধ। এই ঘরের দরজা তিনি কোনদিন বন্ধ দেখেননি, আজ প্রথম দেখছেন। এতেই তার মনে সন্দেহ জাগছে। এই মাঘ মাসের তীব্র শীতের মধ্যেও তিনি এতক্ষণ হল এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মত শিশির পড়ছে। গত সপ্তাহেই ইন্ডিয়া থেকে আনা গায়ের শালটা ভিজে একাকার। তারপরও তিনি মামুনের ঘরের সামনে থেকে নড়ছেন না। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তিনি বিরক্ত হয়ে দরজায় ধাক্কা দেয়া শুরু করলেন। মামুন তবু দরজা খুলছেনা। এই শীতে এতক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না, তিনি ঘরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যাওয়ার আগে মামুনের ঘরের দরজার কাছে মুখ লাগিয়ে হুমকি দিয়ে আসলেন,
অলস চেতনার আস্ফালন
কষ্ট হচ্ছে
মাথায়, বুকে, পায়, ভাবনায়
ইচ্ছে করছে না
লিখতে, পড়তে, বলতে, ভাবতে।
নষ্ট হচ্ছে
আমার ঘর, বিছানা, বালিশ, সময়
জামা কাপড়, স্যান্ডেল।
ভেঙে পড়ছে
আমার শরীর, মন, পথ ঘাট
বই, খাতা, কী বোর্ড, সিগারেটের আগুন, স্পাইনাল কর্ড।
নিঃশ্বাস ছাড়া আজ আমি পারব না কিছু দিতে কিংবা নিতে
এক জোড়া লাল চোখ ছাড়া আর কিছুই এখন নেই আমার।
we all live in a yellow submarine!
শরীরটা ভালো না নিয়ম করেই। ব্যাকপেইনে প্রচন্ড যন্ত্রনায় আছি আর তার সাথে আছে এসিডিটি। তবে তাতে আমার খুব একটা সমস্যা নাই। শরীর ভালো মন্দ যা খুশী থাকুক, আমার চলে যাচ্ছে দিন সব সময়ের মতো। খালি ডেইলি বেসিসে ব্লগ লেখা হচ্ছে না, এই যা। সময়ের স্বল্পতা না, এমনিতেই কেন জানি লেখা হচ্ছে না। প্রতিদিন রাতে নিয়ম করে বসি কিন্তু লেখা আর হয় না। এই ফেসবুক এই ইউটিউব এই নিউজ সাইট এইসব করে করেই দুটো তিনটা বাজাই। মাথাভর্তি খালি তথ্য গিজগিজ করে ঢুকাই, কিন্তু বেলা শেষে কিছুই মনে থাকে না। যে স্মরনশক্তি নিয়ে আমার অহমবোধের শেষ নেই তাই কেমন জানি মার খেয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। কাল জেমসের সাথে লাকী আখন্দের গান নিয়ে কথা হচ্ছিলো। কিছুতেই মনে আসছিল না 'আগে যদি জানিতাম' এই সামান্য তিনটে শব্দের কথা। বাসায় এসে মনে পড়লো, নিজেকে নিজেই গালি দিলাম, ধুরো এইটা একটা কথা হলো?
সোনালী চুলের পুতুল
চলন্ত বাসের জানালার কাঁচের উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। বৃষ্টির ছাটে জানালার এপাড়েও ঘোলাটে হয়ে আছে। তানিয়া বারবার হাত দিয়ে কাঁচ পরিষ্কার করে তাকিয়ে আছে চলন্ত দৃশ্যের দিকে। গ্রাম জলা গাছপালা পুকুর ঘরবাড়ি সব দ্রুত বেগে পেছনে পড়ে যাচ্ছে, সেই সাথে তানিয়া তার বাড়িকে ফেলে আসছে অনেক দূরে। আসার সময় ছোট ভাইবোন দুটি বারবার তাঁকে জড়িয়ে ধরছিল আর বাবা মা দুজনেই নিরবে কাঁদছিল।
ছবি ব্লগ: হঠাৎ বান্দরবনে একদিন :)
ইটকাঠ ঘেরা এই পাথরের শহরেতে হৃদয়ের কারবার? লোকসান বারবার। বাট... আমরাতো হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল... তাহলে? উপায় একটাই... আমরা সবুজে বাঁচি... সবুজে থাকি... সবুজ করি আমাদের এই মন... চির সবুজ এই দেশের সবুজ গালিচায় গড়াগড়ি করে সবুজ হয়ে আবার কর্মোদ্দিপনার সংগ্রহ নিয়ে ফেরা।
হুটহাট আয়োজন ছাড়া আসলে কিছু হয় না... তারপরেও ঋহানের কথা মাথায় রেখে কিছুটা হিসাব নিকাশ... রবিবার জন্মাষ্টমীর ছুটি হওয়াতে প্রায় ৩ দিনের একটা লম্বা অবসর। অনেক দিন ঢাকার বাইরে বের হওয়া হয় না... কিছুটা হাঁসফাঁস ছিলোই
... এমন সুযোগ কি কখনো হাতছাড়া করা যায়? এবারের ট্রিপ বান্দরবন এবং তার আশপাশ...
ব্যাঙ লাফ /পানিঝুপ্পি (Skimming Stones)
ব্যাঙ লাফ /পানিঝুপ্পি (Skimming Stones)

আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটি খেলা যা আমরা ছোট কালে গ্রামের পুকুরে, বিলে বা নদীতে অনেকেই খেলেছি বা খেলে থাকতে পারি। বন্ধু বান্দব নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে আর নিজেদের দক্ষতা প্রমানের প্রচেষ্টা থাকে এই খেলায়। খেলাটাকে স্থান ভেদে অনেকে একে চিনে থাকে বা বলে থাকে ব্যাঙ লাফ /পানিঝুপ্পি । আর ইংরেজিতে এর গাল ভরা নাম skimming stones। এটি একটি জলক্রীড়া বা পানি ছাড়া এই খেলা সম্ভব হয় না।
এই খেলায় খেলোয়াড় সংখ্যার কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। এই খেলা যেমন একা একা খেলা যায় নিজের মনের আনন্দের জন্য তেমনি ৫/৭ জন হলে সব্বাই মিলে করা যায় আনন্দ ও প্রতিযোগিতা।
মনখারাপের দিনলিপি
আমরা কেউ না কেউ খুন হয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন। যেন বা খুন হয়ে যাবার জন্যই আমরা জন্ম নিয়েছি। খুন হতে পারাই আমাদের যোগ্যতা। আমাদের অনতিক্রম্য নিয়তি!