ইউজার লগইন
ব্লগ
আমাদের ছাতা অনুভুতিতে আঘাত!
ছাতা আমাদের ঐতিহ্য। আবহমান কাল ধরেই আমরা দেখে আসছি একজন সৎ ব্যাক্তি তার ছাতাখানি বোগল দাবা করে দরিদ্র জীবনের বিভিন্ন চড়াই উতরাই পার হচ্ছেন, দুয়ারে দুয়ারে উষ্ঠা লাত্থে খাচ্ছেন। বাংলা সিনেমার গরীব বাবা সবসময় বাড়ি থেকে বের হবার সময় ছাতা হাতে নিতে ভুলেননা। বাংলা সিনেমার সৎ কেরানীর চরিত্রটিকে যখন কোন প্রাইভেটকার বা ট্রাক এসে নির্দয় ভাবে চাপা দেয় তখন সবার আগে ছাতাটিকে দেখা যায় আকাশ পানে ছুড়ে দিতে।
আবার ছাতা হচ্ছে বাঙালীর সন্মানের একছত্র প্রতিক। বিভিন্ন জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে হাটা ছিল চরম বেয়াদবী ও অন্যায়। এই ক্ষেত্রে নায়কের বাবা যখন জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে বেখেয়ালে ছাতা মাথায় দিয়ে হেটে যান তখন তাকে পেয়াদা দিয়ে ধরে এনে চাবুকের আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত করা হয়। বেয়াদব কত্তোবড় সাহস, ছাতা মাথায় দিয়ে জমিদারের ইজ্জত মারিস।
স্যারপোকাদের আপ্যায়নে কেটে যাওয়া ব্যস্ত রাতের পরেও ইচ্ছে করে একটু সকাল দেখতে
ঘুম ভাঙার বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন মস্তিষ্কটাকে কোনও রকম চাপ দেওয়া উচিত না। ঘুম ভাঙার পরও চোখ অনেকক্ষণ বন্ধ থাকতে চায়। অনেকসময়ে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে, তাই চোখ বন্ধ করে রেখে স্বপ্নের দৃশ্যে ফিরে যেতে মন চায়; ঘড়ীর দিকে তাকিয়ে সময় দেখতে ইচ্ছা করে না। পেপার পত্রিকায় গুম খুনের হেডলাইন বা সন্তান হারানো মায়ের ছবির দিকে চোখ রাখতে ইচ্ছা করে না। এ রকম সময়ে চোখ বন্ধ করে রেখে সুন্দর ভাবনায় মাথাটাকে আপ্লূত করে রাখা উচিত। সেই সাথে সুরেলা সঙ্গীত শুনতে পারলে আরও ভালো লাগে।
শরৎ
১
কাশবনে ঢেউ খেল যায়
বুকের ভেতর বলে যায়
ওই এলো ওই এলো রে
আবার শরৎ এলো রে ।
২
পেঁজা মেঘের নাও ভেসে
যায় চলে যায় দূর দেশে
খুশির স্বপ্ন ভাসায় ভেলা
শিউলি ঝরে ভোরবেলা ।
৩
শাপলা ফোটে পুকুরে
হাল্কা রোদের দুপুরে
উচ্ছ্বাসে রঙ মাখছে
আগমনী সুর গাইছে ।
I Like Trains
Close to life once again. I had to think every night-why these lights are on everywhere, because I don't like electric lights unless when its needed. But tonight it's a big moon on the sky and I can see everything in that light. I'm lying on a train, along with others. The train will take us to Islampur, a place up in the north. Now I think I did the right thing this weekend.
Me and Autonu just learned that its quite a thing to lay on the rooftop of the train, its bumpy. The train leans left and right and we have to be careful with ourselves. I can hear the jhik jhik and feel the body of the train. Its like riding on a big eel fish that flys in the sky. Thats how we can find the moon and the stars close to our bodies.
ফিলথি
জনাব এ কে খন্দকারের বইটির ব্যাপারে বলছি ! বইটিতে লেখা “জয় পাকিস্তান” বা “জিয়ে পাকিস্তান” নিয়ে পার্লামেন্টে সাংসদদের অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া, ক্ষিপ্ততা, অশোভন উক্তি, বিশ্রি গালাগাল মাননীয় সাংসদদের নীচ মানসিকতার কথাই শুধু জানান দেয় যা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয় । ব্যাপারটাতো সামান্যই, এত সামান্য যে এটাকে ফিলথি বা ফালতু হিসেবে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়াই হতো বুদ্ধিমানের কাজ । তাজকন্যা শারমিন আহমদের বইটির ব্যাপারে তাই করা হয়েছিল । ফলে বইটি নিয়ে তেমন হৈচৈ হয়নি । অথচ ওটাতেও আওয়ামীদের জন্য ব্যাপক আপত্তিকর মাল মসলা ছিল !
দুটি লিমেরিক
জীবন চিত্র
রঙের সাথে রঙের লাগিয়ে ক্যানভাসে ভাসে জীবন
সব রঙেতেই সাদার খেলায় ফুটে উঠছে ছবির মন
এক ফ্রেমেতে ভাবনা কত
লুকিয়ে আকাশ অবিরত
আঁকছে মানুষ হাজার বার্তা রোজ পথের অনুরণন ।
মেঘ তুই
আমার উঠোন ভিজিয়ে দিয়ে যাস কোথা তুই মেঘ
প্রেমের কদম ফুলেও যে তোর আঁচলভরা আবেগ
এ পাড়া আর ও পাড়াতে
যাস ছুটে তুই সই পাতাতে
আমার বুকে কান্নাতে ও মেঘ দে ঝরিয়ে সব উদ্বেগ ।
-০-০-০-
ইভানের ছেলেবেলাঃ একটি বিশুদ্ধ কবিতা
মধ্য রাশিয়ার একটি সূর্যালোকিত দিন।
কোন একটা পাখির অদ্ভুত ডাক শোনা যাচ্ছে।
সোনালী চুলের একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে পাইন গাছে ঝুলে থাকা প্রকাণ্ড মাকড়সা জালের সামনে! উজ্জ্বল সূর্যকিরণে ছেলেটি আশ্চর্য তীক্ষ্ণ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে মাকড়শার জালের দিকে। সহসাই ছেলেটি দৃষ্টিসীমা থেকে আড়াল হয় কয়েক মুহূর্তের জন্যে। আমাদের দৃষ্টি পাইন গাছের উপরের দিকে উঠতে উঠতে একখানে এসে থেমে যায়, আর ছেলেটি পুনরায় দৃশ্যমান হয় বেশ খানিকটা দূরে।
১৯৭১ : কতটুকু ভেতরে, কতটুকু বাইরে?
এ. কে. খোন্দকার '১৯৭১ : ভেতরে বাইরে' লিখে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিতর্কের বড় একটি অংশে রয়েছে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে। এ. কে. খোন্দকার দাবি করছেন বঙ্গবন্ধু ভাষণের শেষে জয় বাংলার পর জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। এ তত্ত্ব খোন্দকার সাহেবই প্রথম তোলেননি, এর আগেও তোলা হয়েছিলো। বিশেষ করে কবি শামসুর রাহমানের নাম এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'কালের ধুলোয় লেখা' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় দৈনিক জনকণ্ঠে। পরে সেটা বইয়ের আকারও পায়। এই বইয়ে শামসুর রাহমান উল্লেখ করেছেন ভাষণে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক জয় পাকিস্তান বলার বিষয়টি। কী একটা বিতর্কের জের ধরে তা আমি সাপ্তাহিক ২০০০-এ লিখেছিলাম। ২০০০-এর সম্পাদক তখন শাহাদত চৌধুরী।
ইটস অ্যা হার্ড রেইন গোন আ ফল!
বব ডিলানের অতি বিখ্যাত একটা গান। তবে গানটা আমার ভালো লাগে জোয়ান বায়েজের কন্ঠেই। অসাধারন এক কম্বিনেশন ছিল, বব ডিলানের কালজয়ী কবিতা যা গানের সুরে এক ঝাঝালো প্রতিবাদে লেখার প্রতিভা আর জোয়ান বায়েজের কন্ঠের জাদু সব মিলিয়ে এক অনবদ্য সময় ছিল তখন। একদিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিভীষিকা আরেকদিক শহুরে আমেরিকান তরুনদের প্রতিবাদী সব গান সাথে ফোক রিভাইবাল ও হিপ্পী হবার নেশা। এই গানটাও ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ বিশিষ্ট গান। শুধু পশ্চিমেও না,আমাদের এখানেও এক অসাধারণ সময় ছিল ষাটের দশক। বিক্ষোভ- বিপ্লব- প্রেমিক- শিল্পী সবার জন্যই ও সবকিছুর জন্যই শ্রেষ্ঠ এক সময়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ইস জন্ম যদি হতো দেশ বিভাগের সময়। পুরো ষাটের দশক জুড়ে থাকতাম তরুন। কিছুতে অংশ না নিলেও চোখ দিয়ে দেখতাম সেই সময়কে, অনুভব করতাম সেই দশককে। কি ভালোই হতো। এতদিনে হয়তো কবরে চলে যেতাম, দেখতাম না এই ফেসবুক টুইটারের তথাকথিত সামাজিক
মিলাদ ও শিরনি
ছোটতে গ্রামের পরিবেশে আমার বেড়ে উঠা। আমার শৈশব কৈশোরের সময় গুলি কেটেছে গ্রামীণ মুক্ত আলো বাতাস আর সবুজের সংস্পর্শে।কত মজা কত হাসি আনন্দ আর স্মৃতি মিশে আছে গ্রামীণ পথে ঘাটে। গ্রামের সমবয়সী বন্ধু বা একটু বড় বন্ধুদের নিয়ে ফুটবল, ডাংগুলি, মার্বেল, সাতার সহ কত খেলা খেলেছি। একসাথে আবার হেঁটেছি স্কুলের পথে। সেই আনন্দময় জীবনের একটি ঘটনা বা এখনো ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে আজ আমার স্মৃতিচারণ বা জাবর কাটাও বলতে পারেন।
সভ্যতা Vs বর্বরতা
মেয়েটার নাম পরী। দেখতে সুন্দর বলে তার মা খুব শখ করে এই নাম রেখেছিলেন। কিন্তু গরীব ঘরে জন্মানো মেয়েদের রূপ থাকতে নেই। এই রূপই তার কাল হয়ে দাড়াঁলো। দিনের পর দিন অভাবের তাড়ণায় ভুগতে থাকা হতভাগ্য এই পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিল মেয়েকে ঢাকায় কাজে পাঠাবে। তার বাবা গ্রামের এক প্রতিবেশী মহিলার সাথে কথা বললেন পরীকে ঢাকায় কাজ খুঁজে দেয়ার ব্যপারে। এই মহিলা নাকি এর আগে আরো অনেক মেয়েকে ঢাকায় কাজ দিয়েছে। সেই মেয়েদের পাঠানো টাকাতে গ্রামে তাদের পরিবার এখন ভালভাবে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারছে। পরী ঢাকায় যাবে শুনে মহিলা খুব খুশী হয়ে বললো, ও যে মেয়ে তাতে ও আরো অনেক বেশী টাকা পাঠাতে পারবে। পরীর বাবা এই কথা শুনে খুশী হয়ে বাড়ি ফিরলো।
ইদানিংকালের ভারতীয় সিনেমা নিয়ে অযথা পোষ্ট!
অনেক দিন সিনেমা নিয়ে কিছুই লেখা হয় না। হলে গিয়েও দেখাও হয় না। দেখেছিলাম শেষ, অনন্ত জলিলের মোষ্ট ওয়েলকাম টু। দেখে এত মেজাজ খারাপ হয়েছিল তা নিয়ে আর লেখতে ইচ্ছে করে নাই। চার বন্ধু মিলে সিনেমা দেখার উসিলায় চলে গেছে ১৫০০ টাকা। এই দুঃখে গত মাসে আমরা তেমন বাইরে খেতেও যাই নি। জীবনে প্রতিজ্ঞা করছি, জলিলের সিনেমা আর দেখবো না। সে হাসতে হাসতে মেরে ফেলাক তাও না। যে সিনেমায় চারটা গান জলিল আকাশে বাতাসে ফুলের বাগানে গ্রামে গঞ্জের বিয়ের সিডির মতো ব্যাকগ্রাঊন্ডে ভেসে বেড়ায় তা দেখার আমার ইচ্ছে নাই। অনেক হয়েছে ছাগলের সিনেমা টাকা দিয়ে দেখা আর না। মাহী বাপ্পীর সিনেমা 'হানিমুন' ইচ্ছে করেই দেখি নাই। নামটাই পছন্দ না, তেমন পছন্দ না পোষ্টার টাও। সানিয়াত ভাইয়ার 'অল্প অল্প প্রেমের গল্প' দেখবো সামনেই। টাইমিং মিলছে না। আমি একা একা সিনেমা দেখতে পারি না। সিনেমা নিয়ে বন্ধু বান্ধবরে দু চারটা ডায়লগ না দিলে আর সিনেমা দেখার মজ
পার্ট ওয়ান!!
"মামুন, এই মামুন!"
মামুনের কোন সাড়া শব্দ নেই। মামানি আবার ডাক দেয়,
"ওই নবাবজাদা! তুমি কি বাপের রাজত্ব পাইছো এইখানে। এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাও!"
মামানি মামুনের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরের দরজা বন্ধ। এই ঘরের দরজা তিনি কোনদিন বন্ধ দেখেননি, আজ প্রথম দেখছেন। এতেই তার মনে সন্দেহ জাগছে। এই মাঘ মাসের তীব্র শীতের মধ্যেও তিনি এতক্ষণ হল এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মত শিশির পড়ছে। গত সপ্তাহেই ইন্ডিয়া থেকে আনা গায়ের শালটা ভিজে একাকার। তারপরও তিনি মামুনের ঘরের সামনে থেকে নড়ছেন না। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তিনি বিরক্ত হয়ে দরজায় ধাক্কা দেয়া শুরু করলেন। মামুন তবু দরজা খুলছেনা। এই শীতে এতক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না, তিনি ঘরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যাওয়ার আগে মামুনের ঘরের দরজার কাছে মুখ লাগিয়ে হুমকি দিয়ে আসলেন,
অলস চেতনার আস্ফালন
কষ্ট হচ্ছে
মাথায়, বুকে, পায়, ভাবনায়
ইচ্ছে করছে না
লিখতে, পড়তে, বলতে, ভাবতে।
নষ্ট হচ্ছে
আমার ঘর, বিছানা, বালিশ, সময়
জামা কাপড়, স্যান্ডেল।
ভেঙে পড়ছে
আমার শরীর, মন, পথ ঘাট
বই, খাতা, কী বোর্ড, সিগারেটের আগুন, স্পাইনাল কর্ড।
নিঃশ্বাস ছাড়া আজ আমি পারব না কিছু দিতে কিংবা নিতে
এক জোড়া লাল চোখ ছাড়া আর কিছুই এখন নেই আমার।