ইউজার লগইন
ব্লগ
কেউনা
একটি ৩*৩ রুবিক্স কিউব। পুরোটাই অবিন্যস্ত। যদি সাজাতে পারো তবেই পেয়ে যাবে জন্মদিনের উপহার। প্রতিটি তলেই তোমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দেয়া।
একটি নীলাভ পাঞ্জাবি। এটাকে যেমন জিন্সের সাথে মানাবে, তেমনি মানাবে সাধারন পায়জামার সাথে। পরলে পরীর মতো লাগবে।
একগুচ্ছ লাল গোলাপ। যা সুন্দরের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়। হাতে নিয়ে তোমায় মনেহবে স্বর্গের অপ্সরী।
কুপার্সের ব্ল্যাকফরেস্ট কেক। স্বাদে সৌন্দর্যে অতুলনীয়। তাতে একটি মোমবাতি জ্বালানো থাকবে। এক ফুঁ তে নিভে যাবে , আর তখনই প্লাস্টিকের ছুরিটা তাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেবে। একটুকরো মুখে তুলে খাইয়ে দেবে অতি আপন একজন কেউনা।
কেউনা রা সবসময়ই কেউনা হয়েই থাকে। তাদের স্বাবেক প্রেমিকারা তাদের বুকে মাথা রেখে বলে , যদি কক্ষনো চলে যাই তবে ভেবনা ভালোবাসিনি। আর তারা তা মেনে নেয়। বন্ধুরা অনেক চাহিদার সময়ে দেবার মতো সময় করে উঠতে পারে না। প্রচন্ড কষ্টের সময়ে অনিচ্ছাকৃত ভাবে অনুপস্থিত থাকে। ঠিক যেমন অনুপস্থিত থাকে প্রচন্ড ভালোবাসার প্রেমিকা। ঠিক যেমন অনিচ্ছাকৃত ভাবে ছেড়ে চলে যায়।
টুটুল ভাই, লিনা আপু ও আহমদ মোস্তফা কামাল ভাই এর জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ’১৩ লাভ। (পর্ব-২)
আমার লেখার প্রথম সমজদার হইলো আমার ক্লাসের বন্ধুরা। ছাত্র জীবনে যা লেখতাম তা কিছু বন্ধুর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন কমন ই-মেইলের কল্যাণে সাড়া দুনিয়াতে রুয়েটের সকল বন্ধু, বড় ও ছোট ভাইয়েরা ছাড়াও আরও কয়েকটি গ্রুপ মেইল ও ব্লগের বন্ধুরা পড়ে।আমি বাহরাইনে অবস্থান কালীন কিছু লেখা ইংরেজীতে লিখি। তার কারন দুটি, প্রথমত তখন সেখানে কি বোর্ডে বাংলা ফন্ট না থাকা এবং আমি বাংলা টাইপে পারদর্শী না হওয়া, দ্বিতীয়ত ইউ এস নেভীর ভিতর আরবী ও ইংরেজী ছাড়া অন্য ভাষায় লেখা নিষিদ্ধ হওয়া। যদিও হিন্দি বাংলাসহ যে কোন ভাষায় কথা বলা যেত। আমার রুমমেট ও একই কম্পানির সহকর্মীদের মাধ্যমে কিছুটা পরিচিতি পেলে, আমার ইন্ডিয়ান, ফিলিপিনো, পাকিস্তানি, বাহরাইনই কলিগ ও কয়েকজন আমেরিকান বন্ধু আমার লেখা পড়ত। আর লেখায় উৎসাহ দেবার জন্য ছিল বাংলাদেশ স্কুলের সন্মানিত সভাপতি ও আল আহলী ব্যাংকে কর্মরত জনাব শাফখাত আনোয়ার, ভাবি আর আমার বাংগালী সহকর্মীরা। দুই তিনটা অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃতি করার পর একটা পরিচিতি চলে আসে। অন্য দেশের অবস্থা জানিনা তবে বাহরাইনে ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬সে মার্চ, ২১ সে ফেব্রুয়ারী ঈদে মিলাদুন্নবী, শবে
সিগারেট সমাচার
এ বছরের গরমকাল কেমন জানি ফাজলামি করতেসে আমার সাথে খুব। ২ দিন ফাটা ফাটি গরম পড়ে আবার তাপমাত্রা নেমে যায় ধুম করে, দিনের বেলায় অনেক গরম আর রাতের বেলায় রিতিমত লেপ গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। এত বছরের বইদেশ জীবনে এমন অবস্থা আর দেখি নাই। জুন মাস এলেই গরম হয়ে যায় সব কিছু, সব কিছুই পাখনা মেলে বের হয় আড়াল থেকে, নারী পুরুষ সবাই শরীর দেখানোর প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয় যেন, তাতে আমার কোন ই আপত্তি নাই। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া এমন একটা ভাব নিয়া দেখে যাই।
বখে যাওয়া দিনলিপি
বহু বছর পর আজ বাবুর সাথে কথা হল। ভালই আছে জানলাম। শেষবার যখন দেখা হয়েছিল বড় নড়বড়ে অবস্থার ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল ও। চাকরী বাকরি নেই, ওদিকে চৈতীর বাবা-মার বিশাল চাহিদা। শেষ পর্যন্ত এক যুগের সম্পর্কটা ছিন্ন হল। আকণ্ঠ ডুবে যেতে দেখলাম ওকে ….. ক্ষোভ, দুঃখ, নেশার মধ্যে। তখন আমরা বন্ধুরা বিস্তৃত মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছি। দূর থেকে আরও দূরে ক্রমান্বয়ে সরে সরে যাচ্ছি। হাত বাড়ালেও পরস্পরের নাগাল মেলে না। আর তাই ওকে ডুবে যেতে দেখলাম, ডুবে যেতে দিলাম।
ক্ষত চিরস্থায়ী হয় না। গভীরতার মাপকাঠিতে ক্ষতচিহ্নের গুরুত্ব বাড়ে হয়ত, তবে রক্তক্ষরণ চিরদিনই থেমে যায়। এটাই বেঁচে থাকার নিয়ম। ওর ক্ষতটাও শুকিয়ে গেছে জানলাম। কবিতার সাথে ভাব হয়েছে। মাস দুই পর বিয়ে করে ফেলবে। শুনে ভাল লাগলো। আত্মগ্লানি থেকে খানিকটা মুক্তি পেলাম।
বাবু ভাল আছে।
বিবাহ নিয়া কথাবার্তা
লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বললেন, বিয়ে করার পরপরই আমি জানতে পেরেছি, সুখ কী জিনিস। কিন্তু তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে…!
কত দেরি? নিজের কথা বলার আগে কবিগুরুর কথাই না হয় বলি। কবিগুরু বলে কথা-
রবি ঠাকুর প্রিয়নাথ সেনকে নিজের বিয়ের নেমন্তন্ন জানিয়ে যে চিঠি লিখেছিলেন তার মাথায় লেখা ছিল – ‘আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়’।
ছেলেটি বলেছিল মেয়েটির জন্য সে নরক পযর্ন্ত যেতে রাজি। ঈশ্বর তার কথা শুনেছে। তাদের বিয়ে শেষ পর্যন্ত হয়েছে।
তাহলে কি বিয়ের কিছুই ভাল নেই? আছে। আছে। একটা গ্রিক মতবাদ বলি-
যদি ভাল স্ত্রী পাও, তা হলে তোমার নিজের লাভ।
কারন তখন তুমি সুখী হতে পারবে।
কিন্তু যদি খারাপ স্ত্রী পাও তা হলে দেশের লাভ, কারন তখন
তুমি দার্শনিক হতে পারবে।
এবার বিয়ে নিয়ে একটা সিনেমার কথা বলি। রাজেশ খান্না আমার বরাবরই পছন্দ। শর্মিলা ঠাকুরও। এই দুইজনের চমৎকার একটা সিনেমা আছে। আবিস্কার। তুমুল প্রেমের পর বিয়ে করেছিল ওরা দুজন। তারপর কিছুটা সময় গেছে। এখন বিয়ের দিনটার কথাও মনে পড়ে না। সেই তুমুল প্রেম তাহলে কই গেলো?
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩।।
আমি জীবনে কোনোদিন কোনো সাহিত্য পুরষ্কারে যাই নাই তেমন। শেষ গিয়েছিলাম মনে হয় বাংলার পাঠশালা এক পাতি বাম পাঠচক্র বেইসড সংগঠনের আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্য পদকে। অনুষ্ঠানটা খুব সাদাসিদে ভাবে আর সি মজুমদার মিলনায়তনে হয়েছিলো। খুব বেশী কথা মনে নাই সেই অনুষ্ঠানের। তবে কাল যে আয়োজনে গেলাম তাতেও আমার যাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিলো না। কারন আমি সেরকম কেউ না যে কেউ দাওয়াত দিবে। আর চারিদিক কোনো সময় ফলো করা হয় না যে খোজ করে যাবো। তাই এই অনুষ্ঠানে যাবার প্রধান কারন আহমদ মোস্তফা কামাল ভাইয়ের পুরস্কার প্রাপ্তির অনুষ্ঠান বলেই। নয়তো কতো কিছুই তো হয় এই ভাবে কি আর জরুরী ভেবে যাওয়া হয়। আর অনেকদিন এবির লোকজনের সাথে ফেসবুক মোবাইল বাদে যোগাযোগ নাই। তাই ভাবলাম যে কয়জনই আসুক আড্ডা তো হবে!
বিদেশে পলাতক যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের বিচার প্রসঙ্গে ICSF এর ভিডিও সেমিনার
২২ জুন ২০১৩
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
========
২২ জুন ২০১৩ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এর আয়োজনে একটি ভিডিও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। “এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল জুরিসডিকশন অফ দ্য আইসিটি: ব্রিঙ্গিং অ্যালেজড ওয়ার ক্রিমিনালস ব্যাক হোম” শিরোনামের এই সেমিনারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়ার ক্রাইমস ফাইলস প্রামাণ্যচিত্রের প্রযোজক এবং সেন্টার ফর সেক্যুলার স্পেস এর গীতা সেহগাল, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বাউল, এবং এডভোকেট সাইফুল ইসলাম তারেক, সন্ত্রাস এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক জনাব জামাল হাসান। আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এক্সট্রাডিশন (extradition) বিষয়ে তার গবেষণা পেশ করেন ।

বিজ্ঞাপন বার্তা
দেশের টিভি চ্যানেল দেখি আমি খুব। আর মজার ব্যাপার হল এইসব চ্যানেল এ মুল অনুষ্ঠানের প্রতি আমার আগ্রহ খুব কম। মানে আগ্রহ কমে গেছে কারন গতানুগতিক জিনিস হয় যেন ভাড়া করা মানুষ নিয়ে এসে কারো গুন গান শোনানো টক শো নামক অনুষ্ঠাণ গুলিতে, গানের অনুষ্ঠান গুলিতেও খুব কম পাই কাউকে যার গান ঘন্টা ধরে শুনতে ইচ্ছা করে আর খবরে তো দেখার কিছুই নাই কারণ ওখানে থাকে শুধুই সূয়োরানী আর দূয়ো রানীর কিসসা কাহিনী আর বক্তিমা , দেখলেই মনে হয় বলে উঠি " আ জাইগা ", কারন আমার খালি মনে হয় আমি যেন বাংলা সিনেমা দেখছি ।
অনেকদিন আগের কথা, তখন বাংলা সিনেমায় রানী সরকার নামের একজন ভদ্রমহিলা অভিনয় করতেন যিনি বেশিরভাগ ছবিতেই সৎ মা, চাচী কিংবা মোড়লের হিংসুক বউ এই ধরনের চরিত্রে, ওনার অভিনয় এতই নিখুত হত যে মনেই হত না সিনেমা দেখছি , যেন বাস্তবে কিছু দেখছি আর ইচ্ছা করত ওনাকে ধরে ওখানেই পিটাই, এতটাই বাস্তব সম্মত অভিনয় ছিল।
অস্থির অস্বস্তিকর দিনকাল!
ইদানিং চায়ের দোকানের উপর থেকে আমার মন গেছে উঠে কিছুই আর ভালো লাগে না আর। এভাবে যে কখনো প্রিয় চায়ের দোকান থেকে মন উঠে যাবে তা ভাবতেই পারি নাই। মন উঠে যাবার কোনো কারন নাই। এমনি এমনি মনে হলো ঢের হয়েছে চা খাওয়া আর চাবাজ আড্ডা এখন একটু অন্য কিছু করা যাক। আরেকটা বড় কারন হলো দেখলাম সবাই নিজের জগত লইয়া চিন্তিত আর পেরেশান। আমি সব পেরেশানি ভুলে চায়ের দোকানে পড়ে থাকি তাদের সেই অবকাশ টুকুও নাই। আর পুলক কোর্টে যাওয়া শুরু করছে, আদনান যায় অফিসে তাহলে ঠেকে গেলাম নাকি আমি!
দূর আকাশের তারা

ল্যাব এইড হসপিটালের আইসিইউ’র সামনে অনেক মানুষের জটলা। ছোট শিশুদের একটা দল কাঁচের জানালার বাইরে থেকে ভিতরটা দেখছে। রুমের ডান দিকের কর্নারের বেডে শুয়ে আছে আট বছরের শিশু রোদেলা। নিথর হয়ে পড়ে আছে, চোখে পলক পড়ছে না। ছোট শিশু, ব্যাথায় মুখমন্ডল নীল হয়ে আছে। শিশুদের দলটির একজন একজন করে দেখছে আর চোখ মুছতে মুছতে ফিরে আসছে। সবাই রোদেলার ক্লাসের বন্ধু। একটু দূরে সিঁড়ির কাছে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে অহনা। চোখ দুটো ফোলা, দেখেই বুঝা যায় দু’চোখ সারাক্ষণই অশ্রুর বন্যায় ভাসছে। তাকে সান্তনা দিচ্ছে সবাই। কিছুই বলছে না অহনা, নির্বাক; ফ্যাল ফ্যাল করে শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া মুখে যেন কোন ভাষা নেই। আজ এক সপ্তাহ হল রোদেলা ল্যাব এইডের আইসিইউ’তে পড়ে আছে। একের পর এক লোকজন আসছে আর চোখ মুছতে মুছতে ফিরে যাচ্ছে। ব্যাপারটা সবার কাছেই অপ্রত্যাশিত, কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না মাত্র কয়েক দিনে অবস্থা এতোটা খারাপ হতে পারে।
বিকল্প ভাবনা যেখানে ব্রাত্যদের ভাবনা
ফেব্রুয়ারী থেকে জুন, দেশ যেন দু-দুটো বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে গেল। ফেব্রুয়ারীতে হঠাতই ফুঁসে উঠল প্রথমে তরুণরা- মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবীতে। তার সাথে সায় দিল দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা সহ হাজার হাজার মানুষ। দেশ-বিদেশের অসংখ্য বাঙ্গালীরা চাইল-এদেশের মাটিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে হবে। তাল মেলালেন প্রধাণ মন্ত্রী সহ অনেক রাজনীতিবিদ। মনে হচ্ছিল, মানুষ জেগে উঠেছে। জেগে উঠেছে একটা ঘুমিয়ে থাকা সময়। কিন্তু রাজনীতির ফাঁদে পড়ে হেরে গেল তারুণ্য, হেরে গেল অসাম্প্রদায়িকতা। দেশের ভেতর আরেকটা বিল্পব শুরু হল- আস্তিক এবং নাস্তিক এর। দলে দলে মানুষ প্রমাণ দিতে শুরু করল-“আমরা আস্তিক”। চালু হল নতুন কথা- ব্লগার মানেই নাস্তিক। কিম্বা অমুক নাস্তিক অথবা তমুক আস্তিক। ধর্ম রক্ষায় এগিয়ে এল ঢেউয়ের মত মানুষ। অনেককেই পাওয়া গেল ইসলামের হেফাজত করতে। দেশের বাঘা বাঘা সংস্কৃতমনা মানুষও বার বার বলতে শুরু করলেন, তাঁরা মুসলমান। তাঁদের জীবন-যাপন পদ্ধতি ধর্ম দিয়ে মোড়া। শুরু হল দ্বিতীয় বিপ্লব – রাস্ট্রীয় বিধান জারি হল, ধর্মের বিপক্ষে গেলেই-তাকে দেখে নেওয়া হবে। বিভিন্ন জায়গায় নজির পাওয়া গেল সাম্প্রদায়িকতার।
আমি ও আমার বিশ্বাস
এখন আর কোন খবরেই মনের ভিতর আগের মত সেই ফুরা ফুরা ভাব আসেনা। আগে যেমন যেকোন ছোট খাট ভাল খবর শুনলেই মনের ভিতর শিহরন জাগতো, এখন চারিদিকে এত বেশি অন্যায় অবিচার আর কাঠ খোট্টা মনোভাব দেখে সত্যি খবর ও বিশ্বাস হতে চায়না, আমার কি দোষ!
দেশের পত্র পত্রিকায় যদি দেখি কেউ খুব অসুস্থ হয়ে সাহায্য চেয়ে একেবারে ব্যাঙ্ক একাউন্ট নাম্বার ও একাধিক মোবাইল নাম্বার দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় , দেখে আগে মনে হত আহারে সত্যি ই মনে হয় মানুষটা অনেক অসহায়, আর এখন মনে হয় এটা নিশ্চয় ই ফাও পয়সা কামানোর কোন ফন্দি। কে জানে হয়তো সত্যি কেউ অসুস্থ আর নিরুপায় হয়ে এমন বিজ্ঞাপন দিয়েছে কিন্তু যেহেতু এমন বিজ্ঞাপন ভন্ডরাও দিয়ে থাকে তাই মানুষ আর আজকাল কোনটাই বিশ্বাস করেনা। আর বিশ্বাস হবেই বা কেমন করে?
অন্যজগত
গুমোট দিনে একটুখানি বাতাস
পাওয়ার আশা,
আবেগঢালা নিত্যনতুন আলাপ-ছবির
বাসা,
খবর দেওয়া খবর
নেওয়া ঠাট্টা হাসির লহর
একটু চেনা আর অচেনায় ছোট্ট কথার
বহর,
অস্থিরতা অপ্রাপ্তিদের একটু
দূরে ঠেলে
এক জগতে বেশ সয়ে যায়
আরেকটাতে পেলে-
সেই জগতেও লোভ-কামনা, ক্রোধের
ছড়াছড়ি
আবেগ নিয়ে ব্যবসা এবং কারোর
হাতে ছড়ি,
নিয়ন্ত্রনের লালচে চোখে শব্দ
ছোঁড়া বারণ
আর জগতের শতেক ঢিলে ঢেউ
তোলাটাই কারণ,
বাক্স খুলে অশান্তি আর কুমন্ত্রনার
ডাক,
কী প্রয়োজন? একটা জগত, থাক না!
বেঁচে থাক!
একটা জগত- গড়ার আগেই, হয়ত
ভাঙ্গার পথে,
হাজার হাজার জগত হবে হাজার
হাজার মতে!!
পদব্রজে চন্দ্র ভ্রমণ
ইহকাল ধরে চন্দ্রে যাত্রা করিবার রাস্তা খুঁজিয়া বেড়াইতেছি। উহু, ভাগ্যদেবীর কোনরকম কৃপাদৃষ্টি এই অভাগার দিকে পড়ে নাই। আমার অদ্যকালের সমস্ত সাধনাই সাড় হইল। কোন রূপ সুফল কিম্বা কুফলের পাপড়ি হৃদয় মেলিয়া সাড়া দিলনা। ইহা কি হইল? ভগ্নহৃদয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। বাল্যকাল হইতেই চন্দ্র অভিসারের বিরাট দৈত্যাকার স্বপ্ন লালন করিয়া লালিত হইয়াছি। আমার এই দৈত্যাকার স্বপ্ন বুঝি এই বার মুখ থুবড়াইয়া পড়িয়া দন্ত মুখ এক করিয়া ফেলিল। স্বপ্নের দৈত্যের দন্ত মুখ যথাস্থলে রাখিবার লক্ষে অন্য কসরৎ অবলম্বন আবশ্যক। অন্যমনস্কে ফুলার রোড পদতলে পেষণ করিতেছি। কিন্তক পদ বাবাজীদের যেন আর কথা শুনিবার জো নাই। সেই পূর্বান্ন লগ্ন হইতে হাটিয়া বেড়াইতেছে উহারা। যেন সামনে আগাইতে লজ্জা পাইতেছে। কোন মহৎ উপায় অবলম্বন করা কিঞ্চিৎ জরুরি। কি করা যায়? হঠাৎ রিকশার টুং টাং শব্দ যেন আমার দেহ মনকে আন্দোলিত করিয়া ফেলিল। উহার এক রাশ সুখানুভতি আমাকে ঝঁকিয়া ধরিল। চকিতেই মাথায় খেলিয়া গেল, হায় হায়… চন্দ্রের সাথে মর্ত্যের যদি ডাইরেক্ট কানেকশান রাস্তা তৈয়ার করা যায়! কি আনন্দ, কি আনন্দ! আমার দুনিয়া বসন্ত বাতাসে পরিপূর্ণ হইয়া গেল। আহা, মধু, মধু!