ইউজার লগইন
ব্লগ
দিনকাল
কেউ বাম, কেউ ডান, কেউবা আবার চিনাবাদাম
তবু কেন ঠোঁটের আগায় প্রাণটার আজ বিধিবাম
মাছে মাংসে ফরমালিন রোগীর ফলে বিষ
গণের কথা না ভাবলেও তাদের নীতিই ফিট।
কেউ বলে শহীদ জিয়া কেউ দেয় মুজিবীয় সালাম
ভাবখানা ধরে বলে দেশের তারা কেনা গোলাম।
একাত্তরের খুনি বাঁচাতে দেশ করে দেয় কেউ অচল
আমজনতা যুদ্ধ করে, আয়ের চাকা রাখতে সচল
ধর্ম নিয়ে ধর্ষ করে পার পেয়ে যায় সকল
ধর্ম পোষাক গায়ে দিলেই অপরাধী সফল।
কী যে হল দেশটার ভাই ঘুমাতে পারে না হরিদাশ পাল
ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ, তরমুজেতে রঙ লাল।
ভেজাল মোরা খেয়েই যাচ্ছি বেড়ে যাচ্ছে ডাক্তারের বিল
একটু খানি বিষ্টি হলেই নগর মোদের চলনবিল।
নিত্য নতুন যানজটের দ্বিগুন সময় দিচ্ছি দাম
হাইওয়েতে মার্সিডিজ ঠেলাগাড়ির নতুন নাম।
ট্রেনে বগি ফাঁকা নেই তবুও তো লোকশান
হপ্তাখানেক আগে এলে তবেই পাবে টিকেটখান।
কত মানুষ মিডেল ইস্টে যায় আসে দিনে রাতে
বলাকাটার গলা কাটা ছাড়ে বিমান বড্ড লেটে।
একটুসখানি ফ্লাইওভার উড়ার আগে ধ্বসে পড়ে
বেকারী মালিক রাস্তা বানায় বড়সর ঘুষের জোরে।
বাড়িওয়ালা নয় তো ভাই নব্য নতুন ইয়াহিয়া
পরীক্ষার নাই শেষ( শনিবার থেকে জুনাঈদের পরীক্ষা। ও আপনাদের সকলের দোয়া চেয়েছে)
পরীক্ষার হল
নেই কোলাহল
কাগজের খসখস
কলমের ঠকঠক
মনের আছে বল
পরীক্ষার হল।
কারো হাত খাতায়
কারো হাত মাথায়
কারো লেখা ভালো
কারো লেখা মন্দ
কারও লেখা ধীরে
কারো লেখা জোরে
তবু লিখতেই হবে
লেখা নেই বন্দ।
টিচারের তেজ
খাতার পেজ
পরীক্ষার হলে নাই
কোনো কিছুর শেষ
ঘণ্টা যখন পড়ে যায়
সবার লেখা থেমে যায়
খাতায় তো থাকবেই ভুলের লেশ
জীবনে তো নাই পরীক্ষার শেষ
১৩/০৬/২০১৩ খ্রীঃ
মরুময় এই শহরে রোদে পোড়া দিন রাত্রী!
আমি সিগারেট খাই না একেবারেই। কিন্তু এই গরমে আমার খুব সিগারেট খেতে ইচ্ছা করে। মনে চায় মনের সুখে বেনসন টানি। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না, তার সম্ভাবনাও নাই। কারন এতোদিন খাই নি এই বুড়ো বয়সে সিগারেট টানার কোনো মানেই হয় না। সামান্য চা খাই তাতেই দাতের অবস্থা বারোটা। ভাইয়া দেশে এসেই বলে শান্ত চা খাওয়া কমা নয়তো চা খাওয়ার পর কুলি করে নে"। আমি তো বুঝাতে পারি না যে আগের চেয়ে অনেক কম চা খাই। সেই দুরন্ত ভার্সিটির দিন গুলোতে দিনে বারো তেরো কাপ চা খাইতাম। এখন চা খাই চার থেকে পাচ কাপ। তবে আমার চা খাওয়ার জন্য নান্নুর চায়ের দোকানে কাপটা একটু বড়। তাই পাবলিক ভাবে ঐ কাপে আমি সমানে শুধু চা খাই। কিন্তু এক কাপ চা খেতে যেয়ে যে আধা ঘন্টা লাগাই তা দোকানদার ছাড়া আর কেউ বুঝে না। আবার চা না খেলেও বিপদ। আমাদের ওয়ার্ডের যে আওয়ামীলীগ সভাপতি তিনি হাসতে হাসতে বলবেন শান্ত মামা আগের মতো চা খান না কেন? কোনো টেনশনে আছেন নাকি?
অনেকেই সমস্যায় পরছে ফুলফ্রেম আর ক্রপ বডি নিয়ে। আসলে বিষয়টা কি?
SLRএর সময় কালে কিন্তু এরম ফুল/হাফ (ক্রপ) বলতে কিছু ছিল না... ক্যাচাল্ডা লাগছে DSLR আসার পরে। এর লাইগ্গা সেই আমলের লুকগো এইসপ ক্যাচালে মাথা ঘামাইতে হয় নাই... মনোযুগ দিয়া খালি ফটুক তুলছে। তয় তাগোরে দুকানে যাইয়া এক্টা ফ্লিম কিন্তে হইতো আর বহুত হিসাপ নিকাশ কৈরা সবকিছু ভালোমত খিয়াল কৈরা ৩৬ খান ফটুক তুলতে পারতো
... কারণ ফ্লিম ক্যামেরার ক্যাপাসিটি সিল ৩৬টা ছবির
যখন DSLR মার্কেটে আইলো ... ঝামেলাটা বাধলো তখন... DSLRএ কোন ফ্লিম নাই... তার বদলে বসানো হইলো সেন্সর... সেন্সরকে ব্যাপক দায়িত্ব দিয়া বানানো হইলো। ক্যামেরার ভিত্রেই ছবিটারে প্রসেস কইরা ডিসপ্লেতে দেখানোরমত এক্টা বিশাল দায়িত্ব পাইয়া বসলে এই সেন্সর ভাইজানে। ফটুক তোলার লগে লগেই ছবি জমা রাখার জন্য মেমোরী/কার্ডের ব্যবস্থাও হইলো। তো এই সেন্সরের সাইজটা আসলো SLR এর ফ্লিমের স্ন্যাপের মাপে ;)। এইখানে একটা মজার বিষয় আছে... এই ফ্লিম ক্যামেরার প্রত্যেকটা স্ন্যাপ/ছবির জন্য যেই জায়গা... সেইটার মাপ হইলো 24mm x 36mm যেটাকে ৩৫মিমি ফ্লিম বলা হয়। আর ফুলফ্রেমের সেন্সরের সাইজও ২৪ x ৩৬
... ৩৫ মিমি।
সেদিন বাঁধভাঙা চোখের জল খুঁজে পেয়েছিল ভালবাসার আশ্রয়

শহরের ছোট্ট একটি এলাকা। আধুনিকায়নের ছোঁয়া তখনো লাগেনি তেমন। সারা মহল্লায় কয়েকটি একতলা বিল্ডিং, কিছু টিনশেড সেমিপাকা বাড়ি আর বাদ বাকী সব বাঁশের বেড়ার ঘর উপরে টিন কিংবা চাটাইয়ের ছাউনি। চলাফেরার রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই কাঁচা আর বাড়িগুলোর ফাঁকে ফাঁকে বেশ কিছু খোলা মাঠ আর নিচু জমি। মোটকথা শহরের মধ্যেই কিছুটা গ্রামীণ পরিবেশের আবহ।
আমি আস্তিক আমি নাস্তিক আমি মানুষ
আমরা বন্ধু ,তোমার জন্য
আজ আমি ধন্য আজ আমি গর্বিত
তব সদস্য পদ লাভে আমি নই বিজিত।
আজ আমি জয়ী, আমি ত্রিকাল দর্শী
মম কন্ঠ আজ ছায়ানট আমি উর্বশী।
আমি আস্তিক আমি নাস্তিক আমি মানুষ
করি না কারো কিছুতে আঘাত, নই তো অমানুষ
আমি নেচে যাই গেয়ে যাই ছুঁটে চলি দূর্বার
দীপ্ত কন্ঠে সিনা টান করে বলি, আমি ব্লগার।
আমি সব্যসাচী আমি ভার্সেটাইল আমি অমিত বিশ্বাস
আমি টোকাই আমি শান্ত আমি অকিঞ্চনের বৃথা আস।
আমি তানবীরা, আমি রাসেল জেলের শেকল ভাঙ্গার গান।
আমি চিন্তক,কুহেলিকা,ও হাজরাও নিভৃত স্বপ্নচারীর প্রাণ।
আমি আজান দিয়ে নামাজ পরি, মন্দিরে বাজাই ঘণ্টা
গীর্জা প্যাগোডা যথারিতি যাই বৌদ্ধ হলে বলনা কোনটা।
আমি মানি না কোন কিছু দেশের বিপক্ষে যদি যায়।
আমি দূর্বার আমি করি চুরমার আমি ডরি না কোন কিছুতে যদিও মৃত্যু এসে যায়।
তাই আমি আনন্দে আজ গেয়ে যাই,
মোর ঘূম ঘোরে এলে মনোহর
নমঃ নমঃ নমঃ নমঃ
শ্রাবন ও মেঘে নাচে নটবর
রম ঝম ছম ছম রম ঝম,
আ, আ...... (নজরুল)
২৯ জ্যৈষ্ঠ,১৪২০
১২/০৬/২০১৩ খ্রীঃ
বিবর্তনবাদ
এখন আমি উলঙ্গ নই ৷
প্রজাপতি কিংবা ঘাসফড়িং আমার ইচ্ছের
আকাশও নই ৷ ঘুড়ি আর নাটায়ের জীবন
প্রিয়তমা নদীটির আত্মার স্রোতধারায়
এখন আমি প্রকৃতির স্তন থেকে পাঠ
করি কবিতার রক্তমথ
সমুদ্রের
ভেতরে জেগে উঠা প্রতিটি দুঃস্বপ্নকে খুন
করে ফিরে আসি আমার ভূগোলে
আমার আমিকে মেলে ধরি ডালপালার মতো ৷
এখন আমি সুলেখা রে খুঁজে ফিরি ওয়ারীর
ছায়া বৃক্ষের মৌনতায় ৷৷
দুই মাথা ওয়ালা পাখি
আমার ছেলে গতকাল আমাকে একটা গল্প নেট থেকে খুজে দেবার জন্য বলল, কারন গল্পটা ওর বইতে নেই কিন্তু সিলেবাসে আছে। গল্পটা লিখতে হবে ইংরেজীতে। আমি বাংলায় গল্পটা জানি কিন্তু ইংরেজীতে লিখতে হবে তাই ভাবলাম দেখি নেটে সার্জ করে যদি পাওয়া যায়, তবে প্রিন্ট করে দিলেই হবে। কিন্তু অনেক সার্চ করেও গল্পটা পেলাম না। কিন্তু একটা গল্প পেয়েছি যা আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না। আর ছেলের গল্পটা আমাকেই লেখে দিতে হবে। সেটাও সবার সাথে একদিনের জন্য শেয়ার করব যদি কোন সংশোধন থাকে বিনা সংকোচে করে দিবেন। আমি ইংরেজীতে লেখা কোন পোষ্ট ব্লগে দিতে চাই না। তবু একদিনের জন্য দিব, কারন আমি, আমরা বন্ধু একটি পরিবার এখানে ছোট বড় কিছু নেই। কিন্তু ছেলের স্কুলের স্যারদের কাছে ভুল ধরা খেতে আমার পাহাড়সম আপত্তি আছে।
গল্পটা হল
দুই মাথা ওয়ালা পাখি।
বাজেট, সিনেমা-এই সব আর কি
১.
বাজেট আসলে একটাই চিন্তু কিভাবে এবার রিপোর্ট করবো। কিভাবে সাজাবো পাতাগুলো। রিপোর্টের ধরণ কি হবে। প্রথম পৃষ্ঠায় কি কি থাকবে।
একসময় বাজেট রিপোর্ট মানেই ছিল কতগুলো সংখ্যা তুলে দেওয়া। ছবি দিতাম ব্রিফকেস হাতে অর্থমন্ত্রী। বাজেটে সংক্ষিপ্তসার বইটায় কিছু আয়-ব্যয়ের চার্ট থাকতো, সেগুলো হুবহু ব্যবহার করতাম।
অথচ অন্য দেশগুলো বাজেটের পরিসংখ্যান উল্লেখই করে না বলা যায়। কারণ সংখ্যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। বরং বাজেটে দর্শন আর মানুষ কি পেলো সেটাই মূল।
এবার বাজেটের জন্য অন্য দেশের পত্রিকাগুলো দেখছিলাম। মজা লাগলো টাইমস অফ ইন্ডিয়া দেখে। ভারতীয়দের জীবনে সিনেমা তাদের জীবন যাপনের অংশ। ওদের বাজেট ইলাস্ট্রেশনটা এরকম:

অ্যাং লির লাইফ অফ পাই-এর ঘটনাস্থল ভারত। আর এটিই ছিল এবারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। এই সিনেমার একটা দৃশ্যকে ফিউশন করে বাজেটের মূল ছবি করেছে পত্রিকাটি। দেখে মজাই লাগলো।
২.
সৃষ্টিকর্তা কি ছোটোলোক? (পর্ব-১)
সব ধর্মেই বলা হয়ে থাকে সৃষ্টিকর্তা সর্ব শক্তিমান। তিনি কি কোনো জীব?
না তিনি কোনো জীব নন।
তিনি কি মানুষ?
জীবই যদি না হয়, তাহলে মানুষ তো নয়ই।
তিনি কোনো জীব নয়, মানুষ নয়। তাহলে আমরা ‘তাকে’ ‘তিনি’ বলে সম্বোধন করি কেন? আর সৃষ্টিকর্তা শব্দটাই তো ঠিক নেই। কর্তা হলো কোনো ব্যক্তি যিনি কর্তৃত্ব করেন। সৃষ্টিকর্তার মানে দাঁড়ায়, কোনো ’ব্যক্তি’ যিনি সৃষ্টির ওপর কর্তৃত্ব করেন।
সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে আমরা বলতে পারি সর্ব শক্তিমান কোনো ‘জিনিস’ বা ‘কিছু’।
এবং এখানেই আমাদের থেমে যেতে হবে। ওই ‘জিনিস’ সম্পর্কে আর কিছু বলা যাবে না। কারন সর্ব শক্তিমান কেনো ‘জিনিস’ বা ‘কিছু’ সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। মানুষ সর্ব শক্তিমান নয়। আর ওখানেই না থেমে যদি ওই 'জিনিস' সম্পর্কে আর কিছু বলা হয়, সেটা মানবিক পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়।
পরাধিনতা থেকে মুক্তি চাই
এই ব্লগের সুন্দর মনের মানুষগুলির লেখাগুলি পড়লে মনে হয় সবাই কম বেশি বিরক্ত দেশের অবস্থায়। খুব ভাল লাগে এই সচেতন মনোভাবে। এমন মনোভাব যদি দেশের বাকি মানুষগুলির হত তাহলে মনে হয় এত অন্যায় অবিচার দেশে হতে পারতো না।
কে যেন এই ব্লগে লিখেছিল " দেশের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আর স্রষ্টা দেশ স্বাধীন করে যখন নিজেই একনায়ক হয়ে গেলেন তখন মানুষ সেটা পছন্দ করে নাই, আর তাই দেশের মানুষের হাতেই দেশ স্বাধীনের অল্পদিন পরেই উনি মারা যান। তেমনি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান পরবর্তিতে রাজাকারের পক্ষ নিলে তার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদানও ম্লান হয়ে গেল, আর ওনাকেও প্রান দিতে হল অল্পদিনেই।"
এরশাদ ক্ষমতায় আসার আগে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল, কিন্তু ক্ষমতায় এসে সব ভুলে গেলো। ২০০৮ এর সেনা শাসিত তত্তাবধায়ক সরকার যখন ক্ষমতা নিয়েছিল দেশের মানুষ হাঁফ ছেড়ে খুশিতে আত্মহারা হয়েছিল। ওরা সুযোগ পেয়েছিল ভাল কাজ করে দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিতে, যদিও নির্বাচিত ছিল না। শুরুটা ভালই ছিল, কিন্তু অল্পদিন পরেই ওদের মনেও সেই চিরাচরিত লোভ বাসা বাঁধলো আর সেজন্য ওদেরও ধিক্কার নিয়ে বিদায় হতে হল।
শাদ্দাদের ভূস্বর্গ এবং আরাফাত শান্তর রোদে পুড়া (পর্ব-২)
ইরাম আদ জাতিরই একটি গোত্রের নাম।তাদের রাজত্ব ছিল। তারা বড় বড় ইমারতরাজি নির্মাণ করত। সেসব ইমারতের জান্নাতসম বৈশিষ্ঠ হচ্ছে – তারা তাতে ও অর্ধেক স্বর্ণ আর অর্ধেক রৌপ্যর গাছ বানিয়ে সবুজ যমররদের পাতা সেসব গাছে লাগাত। এসব গাছের ডালপালা সমূহ ছিল লাল ইয়াকুদ পাথরের। রকমারি ফলফলারি এসব গাছে লাগানো হয়েছিল। শাদ্দাদের কল্পিত জান্নাতের মেঝে মাটির পরিবর্তে মেশক আম্বর ও জাফরান দ্বারা ভরে দেওয়া হয়। এর প্রাঙ্গণে নুড়ি পাথরের পরিবর্তে মতি ও অন্যান্য পাথর বিছিয়ে দেয়া হয়। এতে দুধ, মদ্য ও মধুর নহর প্রবাহিত করা হয়। সে তার কল্পিত ভূস্বর্গের দরজায় চার চারটি বিস্তৃত মাঠ তৈরী করে। সে মাঠে ফল ফলারির গাছ লাগান হয়। প্রতিটি মাঠে স্বর্ণ রৌপ্যের নির্মিত লাখ লাখ কুরসী পাতা হয়। প্রতি কুরসীতে হাজার দস্তরখান ও প্রতি দস্তরখানে রকমারি নে,মত রাখা ছিল।
গ্রীষ্মের দাবদাহে ফাল্গুনের গদ্য
১.
এদেশের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী হবার মানুষ কম। যে কয়েকজন আশাবাদী মানুষ আছে তারা কতোটা অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করেন, বলা মুশকিল। এখানে কেউ নিরংকুশ ভালো নেই। কেউ আর্থিক, কেউ মানসিক, কেউ শারিরীক, কেউ পারিবারিক, কেউ বৈষয়িক, কেউ সামাজিক, কেউ নৈতিক সমস্যায় আক্রান্ত। 'আমি ভালো আছি' - এই কথাটা জোর দিয়ে বলার মতো মানুষের সংখ্যা হাতের আঙুলেই গোনা যাবে হয়তো। আমি অন্ততঃ সেরকম মানুষের দেখা পাইনি আজো। আশেপাশে সমস্যাক্রান্ত ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে থেকেও কেউ যদি বলে 'আমি ভালো আছি', তাহলে সে চরম স্বার্থপর মানুষ। আর এতটা স্বার্থপর ভালো থাকাকে মেনে নেয়া যায় না। তাই 'আমি ভালো আছি' কথাটা কেবল মুহুর্তের উচ্চারণ এবং ওই ভালো থাকা অল্প কিছু সময়ের আপেক্ষিক মাত্রা।
২.
যদি লিখতে চাও
যদি লিখতে চাও লিখো,
উদয়াস্ত রবির বিচ্ছুরিত তৃনসম রবির কথা,
তাকে ছুঁতে গেলে জ্বলে যাব
তাই বেশী চাওয়ার আশা বৃথা।
নয়ত লেখো ঝাকড়া চুলের বাবরি দোলানো
বিদ্রোহী কবির বিদ্রোহের কথা,
নয়ত তার ললাটে জ্বলা রুদ্র ভগবানের কথা।
তুমি লিখো অনিদার, কেঊ কথা না রাখার ব্যথার কথা
আবার পাওয়ার আনন্দে পাপ না করার অঙ্গীকারের কথা।
তুমি লিখো দ্বিজেন্দ্রলালের
ওমা তোমার চরণ দু’টি বক্ষে আমার ধরি।
এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি।
তুমি লিখো হুমায়ুন ত্রয়ের হুরমত উপাখ্যান
লালনের লালিত হৃদয় বিদীর্ণ সকল গান
অথবা আব্দুল করিমের অসংখ্য গানের সাথে
স্মৃতিকাতরতার সুন্দর দিনগুলোর কথা।
তুমি লিখ, তোমার লাডলা লাডলির চলন ক্ষনে
পিছ থেকে দেখা তোমার মনের অনুভুতির কথা।
তুমি লিখো পদ্মা মেঘনা যমুনার কথা
তুমি লিখো হিমালয় হতে বঙ্গোপসাগর তক
সকল প্রকৃতির কথা।
লিখো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের বিরক্তকারি
হাজারও বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের কথা।
তুমি লিখ নিশাচর সেই রমণীর কথা
যাকে আমারা ঘৃনা করি
কিন্তু রবির অন্তর্ধানে তাকেই খুঁজে ফিরি।
তুমি লিখো রানা প্লাজা, স্পেকট্রাম, বেনিন ও পিলখানায়
বাজেট বক্তৃতা কে শোনে কে পড়ে আর কে বোঝে?
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা কে কে শোনেন। এ বিষয়ে কোনো গবেষণা নেই। তাই বলা যাবে না সঠিক উত্তরটি। তবে নিশ্চিত করেই অনুমান করা যায়, সংখ্যাটি খুবই কম। সরকারি দলের সাংসদদের বাধ্য হয়েই শুনতে হয়। অর্থনীতির সাংবাদিকদের শুনতে হয় রিপোর্ট করার জন্য। চেম্বার নেতারা শোনেন। আর শোনেন অর্থনীতিবিদেরা। এর বাইরে কারা টেলিভিশনের সামনে বসে বাজেট বক্তৃতা শোনেন, বলা মুশকিল।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শোনা আসলে কষ্টকর। অতি দীর্ঘ বক্তৃতা। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতা শোনা আসলেই সম্ভব না। এই দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতা পড়াটা সম্ভবত আরও বেশি কষ্টকর। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে যে অনেক কষ্ট করে বক্তৃতাটি পড়তে হয়েছে, তা অনেকেই টেলিভিশনে দেখেছেন।
এবারের বাজেট বক্তৃতাটি ছিল ১৮৫ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে ১১৯ পৃষ্ঠাই বক্তৃতা, বাকি পৃষ্ঠায় আছে পরিশিষ্ট। এবারের (২০১৩-১৪) বাজেট বক্তৃতায় অনুচ্ছেদ ছিল ২৫৩টি। তবে অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতার রেকর্ড অবশ্য ২০১১-১২ অর্থবছরে। ওই বাজেট বক্তৃতাই ছিল ১৪৮ পৃষ্ঠার, আর তাতে অনুচ্ছেদ ছিল ৩৫৬টি।