ইউজার লগইন
ব্লগ
পাকি গন্ধী গান...অনেকেই হবে বদনাম
১. তুই চিরকাল এড়িয়ে গেলি জীবনের সহজ দাবী
আমাকে রাখলি দূরে
নিজেও খেলি অনন্ত অস্থিরতায় খাবি
২.জানি তুমি বলবে জীবন মানে
এটা সেটা অনেক কিছুর জয়
আমার কাছে পুরোটাই অব্যর্থ ক্ষয়
৩. নিজেকে আদরে মায়ায় আজ রেখেছিলাম ভীষণ যতনে
কেমন করে ভাবো আসতে দেব তোমায় আমার একক ভুবনে
যতই করাঘাত করো দখিন দুয়ারে প্রতিক্ষণে
৪ বিয়াল্লিশবছর দেখেছি তোদের দুর্বলের ক্ষমা সুন্দর চোখে
পেছন থেকে ছোরা মারতি না যদি সাহস থাকতো বুকে
৫. পাকিস্তানী আর্মি আর রাজাকাররা করেছে যাদের ধর্ষণ
তাঁদের নাম বীরাঙ্গনা অথবা শহীদ বোন
পাক আর্মির প্রতি যার ভালোবাসা
পুরো একাত্তর জামশেদের নেশা
তাকে কি নামে ডাকি?
"ম" বর্গীয় শব্দের সাথে বাঁধা তার একজীবনের রাখি
৬. তুমি যখন সত্যের পথে তোমার হাজার বদনাম
যখন ভুল করছো শুধরে দেবে না
করবে প্রশংসার জপনাম
এরাই আসল শত্রু
অতএব সাধু সাবধান
৭. আমার কোন নাম ছিল না
দল ছিল না, মঞ্চ ছিল না
নই আমি টক শো কাঁপানো আন্দালিব
আমার কণ্ঠে জয় বাংলা
বুকে আমার শেখ মুজিব
৮. লুতুপুতু প্রেমের ছন্দ হয়ে যায় বন্ধ
তুমি পসরা সাজালে
তোমার প্রতি মুগ্ধতা সোনার বাংলা
রাখবো কেন আড়ালে!
সুপার সানডে!
রবিবার আমার খুব প্রিয়। কারন আগে যখন বাসায় থাকতাম রবি বারে ভালো মন্দ হিন্দি বাংলা সিনেমা টিভিতে দেখে দুপুর রাত কাটতো। চ্যানেল চেঞ্জের উপরে থেকে সব ছবিই টুকটাক দেখা যেতো। অখাদ্য হিন্দী ছবির এতো স্টার এতো ডিরেক্টর প্রডিউসারের নাম আমার সেই সুত্রেই জানা। আর সেই জানার আগ্রহে উস্কে দিছে পুলক। পুলক আর আমি এতো বেশি হিন্দি-তামিল-তেলেগু- বাংলা সিনেমা নিয়ে খোজ খবর রাখছি তা যেখানেই বলতাম সবাই অবাক হতো। তাই রবিবার ছিলো একান্তই টিভি দেখার দিন। টিভিতে কত আজাইরা মুভি যে হজম করছি একেকটা শনি রবিবার তা ভাবলে এখন চিন্তায় পড়ে যাই। কত আজাইরা ছিলাম আগে কত ছেলে মানুষ। আমার এই সারাদিন সারারাত টিভি দেখায় সব চাইতে বিরক্ত ছিলো আম্মু। বলতো আল্লাহর ওয়াস্তে আর কতো দেখবি তুই, সুলতানা তো ফেইল। এখন প্রশ্ন করবেন সুলতানা কে? সুলতানা আন্টি হলো আমাদের পাশের বাসায় থাকতো চিটাগাংয়ে। দিন রাতে ২৪ ঘন্টাই উনি টিভিতে হয় হিন্দি সিনেমা নয়তো সিরিয়াল দেখতো। যাই করুক বাসায় হোক রান্না নয়তো ঘুম সব সময় উচ্চ সাউন্ডে টিভি অন। আমার তখন ইন্টারমিডিয়েট এক্সাম তখন আমার পড়তে আর কতো ভালো লাগে!
বিপ্লবের ভেতর-বাহির ১
১৯৭২ সালের একদিন। ডিঙ্গি নৌকায় করে কামরাঙ্গির চরের পাশ দিয়ে বুড়িগঙ্গা পাড় হয়ে তারপর যেতে হয় জিঞ্জিরায়। সেখানেই ছোট্ট একটা বাড়ি। এই পার্টির নিজস্ব গোপন শেল্টার। এই শেল্টারে থাকেন চার জন। কমরেড আসাদ, কমরেড মুক্তা, কমরেড শিখা এবং কমরেড টিটো। ভুল হলো, আরো এক সদস্য আছে। সাত-আট মাসের এক শিশু, নাম বাবু। কমরেড মুক্তার ছেলে। সেও জন্মগত ভাবে বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই পাঁচ জনের সঙ্গে থাকতে চলে এলেন কমরেড আরিফ, তাঁর স্ত্রী রানু এবং দেড় বছরের পুত্র শান্তনু। বিপ্লব করতে এরাও ঘর ছেড়ে গোপন আস্তানায় চলে এসেছেন। কমরেড টিটু তাদের নিয়ে এলো এই শেল্টারে।
ওরা সবাই পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য। তাদের নেতা সিরাজ সিকদার। সশস্ত্র বিপ্লব তাদের লক্ষ্য, স্বপ্ন শোষানমুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠা। সেই ইতিহাস কমবেশি অনেকেই জানেন। তবে আমাদের আজকের গল্পটি কমরেড মুক্তার। বলে রাখা ভাল, সবগুলোই রাজনৈতিক নাম, ছদ্মনাম। আসল পরিচয় গোপন রাখা পার্টির নির্দেশ। কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচয় জানার বিষয়টিও ছিল পার্টির সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত।
আরো একটি গফ
আমার আসলে নিজের কোনো প্রতিভা নেই। আশেপাশে ঘটনা যা দেখি, অন্যের মুখে শোনা গল্প, লিখি ধার করে। যাকে বলে ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ অথবা আমাদের গ্রামের ভাষায় বলতে হয় ‘মামুর ক্ষেতের ক্ষীরা দিয়া শাহীদারি’।
আজকেও আমি হাজির সেই টাইপ ক্ষীরা নিয়ে। আর আজকের গল্পে মামুর ক্ষেতটা হল আমার বড় ভাই, দুলাল ভাই, ওনার মুখেই শুনেছিলাম গল্পটা।
গ্রামের এক সাধারণ চাষী, তারচেয়েও সাদামাটা তার মেয়ে মর্জিনা। দেখতে শুনতে মোটামুটি সেই কিশোরী। পুকুর ঘাটে চোখে চোখে কথা হয়ে, মন দেয়া নেয়া হলো পাশের বাড়ির কুতুব মিয়ার সাথে। কিন্তু প্রেম তেমন গভীর হওয়ার সুযোগ হলো না। তার আগেই বাবা মা মর্জিনার বিয়ে দিয়ে দিলো পাশের গ্রামের আবুল মিয়ার সাথে।
বিয়ে হয়ে স্বামীর সংসারে আসে মর্জিনা। কিন্তু বাপের বাড়ির সেই কুতুব ভাইয়ের কথা সে আর ভুলতে পারে না। গৃহস্থালীর কাজের ফাঁকে, নতুন জায়গার নানান হাঙ্গামায় কিংবা অবসরে ঘুরে ফিরে শুধু মনে পড়ে কুতুব ভাইয়ের কথা। হাট-বাজারের দিনে কুতুব ভাই বাবা-মার চোখ ফাঁকি দিয়ে তেঁতুল-বরইয়ের আচার, কদমা-বাতাসা কত কিছুই না এনে দিতো মর্জিনাকে।
স্যাটডে স্যাটারডে!
পোষ্টটা লেখার মোটেও নিয়ত ছিলো না। তাও সাড়ে নয়টায় কিছু অংশ অনিচ্ছাতেই লিখছিলাম। কিন্তু কারেন্ট চলে গেলো মনে মনে শুকুরাল হামদুলিল্লাহ জানালাম। যাক পোস্টটা আর লিখতে হলো না। ঘন্টা খানেক পর কারেন্ট আসলো, ভাত খেলাম দেখি ফেসবুকে সময় কাটে না তাই লিখেই ফেলি। আর যাই লিখি তাই দেখি মানুষ পড়ে এ বড়ই আজব জায়গা ব্লগ। তার সাথে এবিতে পোষ্ট দেয় না কেউ। খালি আমি এই মশার কামড়, কারেন্ট যাওয়ার ঝক্কি, স্লো পিসির তান্ডবের ভিতরেও লিখে যাচ্ছি। ল্যাপটপের আশা এখনো ছাড়ি নাই কিন্তু সবাই আমার সাথে সহমত জানালো কিন্তু চেষ্টা তদবির করলো না। আপসোসের জিন্দেগী। কি আর করা এই জন্যই মুরুব্বীরা বলেছেন নিজের বুদ্ধিতে ফকির হওয়া ভালো। বুয়ার রান্না আজ অতি জঘন্য হইছে। তেল লবনের সাগরে তিনি ভাসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কি কুদরত তাও পেট উপচিয়ে খেলাম। মুরুব্বীরা এই জন্য আরো বলে খিদে লাগলে নাকি বাঘে ধান খায়। তবে বাঘ কখনো সত্যি ধান খায় কিনা তা আমার জানা নাই। তবে খিদের জ্বালায় অস্থির মন আমার এখন সব খায়। আমার ব্লগের ভাইয়েরা ও ভগ্নীরা সব সময় বলে আমার যত্ন নিজের রাখতে। কিন্তু এই রান্না খায়া আর কোন যত্ন কাজে দিবে?
টুকটুক ঠোকর
১. মুঠোফোনে কাব্য লিখে মুগ্ধ করি কাকে!
দেখলে তুমি হাসবে (ইসা) বেলা
রূপোলী চুল ভেংচে উঠে
কালো কেশের ফাঁকে।
২.সেদিনও ছিল কানের পাশে
তোমার গুঞ্জরণ
এখন কর্ণমাঝে বাজছে কেবল
এফএম আয়োজন।
৩.যে ভালোবাসে তার তো ধর্ম একটাই
কখনো ইউসুফ-জুলেখা
কখনো কৃষ্ণ-রাই
৪. না না একদম যত্ন নিচ্ছ না ত্বকের।
ত্বক দেখলে,
জানলে না তুমি না থাকলে সব থেমে যায়
সময় তখন শুধুই শোকের।
৫.এ শহরের জ্যামকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে
আমাদের আড্ডা চলেছে বহুবার
এখন সবই ভার্চুয়াল, মোবাইল নেটে
চলে দেন দরবার। স্মৃতি ঘিরে থাকে
কুলকুল হাসি, ঘৃণা ব্যথা অভিমান
ভালোবাসাবাসি,
সময় বলে এরা এখন ভিন্ন গ্রহে
আছে হয়ে প্রবাসী।
৬.সতেরো থেকে তোমাকে ছুয়েঁছি-ছেড়েছি
করেছি প্রতিজ্ঞা না দেখবার
অথচ দেখো কিছুতেই থামলো না
বারবার করা মুখাগ্নি তোমার।
৭. পাগলা -রঙ্গীন পানি, মদিরা সুরা
কত নাম তোমার
কাজের বেলায় একজনই তুমি
পঙ্গুকেও করে দাও পার
স্বপ্নে সর্বোচ্চ পাহাড়।
৮. ভালোবেসে কত ডাকলাম
ভুতোসোনা,
তুমি শুধু সরছো দূরে
দেখে দীপিপোনা।
যিনি শিল্পী গড়েন, তিনি 'মানুষ' গড়েন না...
চলে গেলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, বিশিষ্ট কাহিনীকার, গীতিকার, চিত্রালী সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী।
গতকাল এফডিসিতে তার স্মরণসভার আয়োজন করে বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থা)। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো শিল্পীকেই দেখা যায়নি।
অসুস্থ শরীর নিয়ে এই অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়েছি আমি। অতীত অভিজ্ঞতায় জানতাম, এমন কিছুই ঘটবে। অগ্রজের প্রতি সম্মান, গুণী মানুষকে সম্মান দেখাতে আমরা এখনো শিখিনি।
রাজ্জাককে 'নায়করাজ' উপাধি আহমদ জামান চৌধুরীই দিয়েছিলেন। তাঁকে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খানকেও।
সুচন্দা, দিলারা জামান, ওমর সানী, সিমলা এবং আরো দুই/একজন শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপস্থিতি ছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকদের।
এতোটা অকৃতজ্ঞ এবং প্রবঞ্চক কীভাবে হয় মানুষ? আবার সেই মানুষগুলি যদি হন শিল্পী নামধারী...?
আহমদ জামান চৌধুরী ছিলেন শিল্পী গড়ার কারিগর। তিনি শিল্পী গড়েছিলেন সত্য, কিন্তু মানুষ গড়ার দায়িত্ব তাঁর ছিলো না বোধহয়...।
বেওয়ারিশ ছবি

তার এক পাশ রাঙিয়ে দিল ভোরের সূর্য
চিরল চুল উড়ন্ত
ক্যানভাসে আঁকা ঠোঁট করে দিল বিমূর্ত।
এদিকে ফিরোনা ভিন দেশী
আমি রঙতুলিতে আঁকি
তিলোত্তমা।
টিমটিমে এক কুপি ছিল
চোখে চোখে ঘর্ষণে সেটা
দাবানল।
ডাকপিয়ন এসে খবর দিল
তাজমহলে আগুন।
বেওয়ারিশ চিত্রকরের লাশ যমুনায়
সম্পাদকের হতাশা- নাম ঠিকানা না জানায়।
বহুদিন পরে আবার দুটি চোখ
চিত্রকরের ছবি দেখে কোন মেট্রো রেলে
বিমর্ষ হয়ে চোখ ঢাকে
দর্শকের হতাশা- সে নাম ঠিকানা জানে না।
picture courtesy: Pavel Guzenko.-- Contemporary abstract painting.
ফ্যানটাস্টিক ফ্রাইডে!
ফ্রাইডে আমার কাছে কখনোই খুব বেশী ফিল নিয়ে ধরা দেয় না। চাকরী বাকরী করি না তাই আমার কাছে শুক্রবার সাধারন দিনই। উলটা শুক্রবারের সকালটা আমার খুব পেইন লাগে। পত্রিকা পড়তে ইচ্ছা করে না, বাসায় ঘুমাতে ভালো লাগে না, বই পড়তে ইচ্ছা করে না। বেকুবের মতো বের হয়ে সকাল সকাল জনমানবহীন রাস্তা ঘাটে হাটি আর চায়ের দোকানে বসে থাকা। তারপর নামায পড়তে হবে আবার এই একটা গেঞ্জাম। ওয়াক্তের নামায আমি ঠিকঠাক ভাবেই পড়ার চেষ্টা করি কিন্তু জুম্মার নামায পড়তে আমার খুব আলসেমি লাগে। ছোটবেলায় বড় ভাইদের দেখতাম নামায না পড়ে গোল হয়ে বসে দোকানে আড্ডা মারতে, তখন দেখে মনে হতো এরা মনে হয় ধর্ম কর্ম মানে না!
নর-নারী
সেই কবে আদীম বিধাতা খেয়ালের বসে লিঙ্গ ভাগ করলেন আমাদের। একটি দানের জন্য। অন্যটি কেবল সেই দান ধারণ করবে তার শরীরে। ক্রমে সেই ধারণকৃত দান জন্ম সাতারের যুদ্ধ শেষে পরিপুষ্ট হয়ে আবার সৃষ্টি হবে নতুন লিঙ্গে। কত সুদীর্ঘকাল এই একই প্রকৃয়া। একঘেয়ে, বিস্ময়হীন আর কান্তিকর। এই নীলাকাশের পৃথিবী, উঁচু ঘন বনস্পতি সৌন্দর্যের আবির বিলায় সে কতকাল! কার জন্য, সবই আমাদের? তাই জন্মই তথাস্তু, জন্মই পূণ্য, জন্মই চীর সত্যের আলোড়ন। তবে মৃত্যু কি মিথ্যা, সে কি কেবলই ক্ষয়? কেবলই জন্মে গড়ে উঠা প্রাণ প্রাচুর্যের কাল ক্ষয়ে ক্ষয়ে লিঙ্গ কি পূর্ণতার অনিবার্য অপচয়! এ সত্যটুকুও প্রাণী এড়ায় কিভাবে? ভুলোমন বসে থাকে আকর্ষর্ণে। জাগতিক আকর্ষণ, প্রেম আর ক্ষুধা। এ ক্ষুধা সর্বগ্রাসী। এক লিঙ্গ বলে যা কিছু ভালো, যা কিছু সুন্দর যা কিছু শক্তি সব আমার চাই। না পেলে ধ্বংশ করবো চারবংশ। গায়ের জোরেই জিতে নিতে চাই সকল দুর্বলতা। অন্য লিঙ্গ কি কেবলই ধারণ করে!
কাঠ ঠোকরার ঠোকর
মননের সবটুকু মনোযোগ এখন দেশের উপর নিবদ্ধ। এর ভেতর কেমন করে এরা এলো আমি জানি না-
১. আমায় থাকো তোমরা ঘিরে
সাথে হাজার কাজ
এমন ভীড়ে কেমন করে
দেখি তোমার সাজ!
২. হরিণ চোখে ক্ষিপ্র কাজল
বুকে তখন শতেক মাদল
লাগ ভেলকি লাগ
খুন হয়ে যাই তক্ষুণি
একটু তো তাকাক!
৩. আমি জটিল, তুমি সরল
দন্ডিত দূরাভাস
একজনমে মোহমায়
মিটে না ভালোবাসার আঁশ
৪. শেষ ফাগুনের চিবুকে শুয়ে আছে
কাঙিক্ষত বুষ্টির বিন্দু বৃষ্টি নামাবে বলে
তুমি পিচ্ছিল হ্রদে ঝাঁপ দিলে
প্রত্যহর দাবীমাখা তুমুল কোলাহলে
৫.শব্দেরা সীমান্তে আটক ভিসার গন্ডগোলে
এভাবে হয় না ইসাবেলা,
চুমু খেতে হয দু'চঞ্চু
সম্পূর্ণ খুলে!
৬. আমি এখন ভূতুড়ে পরিত্যক্ত শহর ইসাবেলা,
চারপাশে চামচিকাদের উড্ডয়ন
মেনে নেই অনায়াসে,
কে করবে ক্লান্তি হরণ!
৭. আমার দেহে এখনো বর্ণহীনতার দাগ
তিনটি বছর কেটে গেল
এবারো বললে,
বসন্ত ফিরে যাক!
একাকীত্বের অবসরে

-এক্সকিউজ মি!
-আমাকে বলছেন?
-এখানে তো আর কেউ নেই!
চারিদিকে তাকিয়ে উত্তরদাতা বলে- হ্যাঁ, বলুন কি করতে পারি আপনার জন্য ?
-এটা কি অনিরুদ্ধ সাহেবের বাসা?
লোকটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে অপরিচিত ভদ্রমহিলার দিকে, তারপর বলে- জি, এটাই অনিরুদ্ধ সাহেবের বাসা। আপনি কোত্থেকে এসেছেন?
-চিটাগাং থেকে, ওনাকে একটু ডেকে দিবেন?
-নিশ্চয়ই! বসুন, বাগানের পাশে রাখা চেয়ারটা দেখিয়ে বলল লোকটি, আপনার পরিচয়টা কি জানতে পারি?
-আমি শম্পা
-জি আপনি শম্পা, আমি আসলে অনি’র সাথে আপনার সম্পর্কটা জানতে চাচ্ছিলাম। ভদ্রলোক হেসে জবাব দেয়
-সম্পর্কটা কি জরুরী?
-না, মানে জানতে চাচ্ছিলাম অনিকে ঠিক কতদিন ধরে চেনেন? আপনাকে তো এর আগে কখনো দেখিনি!
-দেখেন, আসলে প্রয়োজনটা ওনার সাথে, কাইন্ডলি ওনাকে ডেকে দিলে ভাল হয়!
কোন পক্ষে যে যাই........
দ্রৌপদীর ছিল পাঁচ পক্ষ। কিন্তু কবি বলেছেন আমাদের সামনে দু্ই পক্ষ।
দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?
প্রকৃতির ভেতরে তাকাও, দ্যাখো আলো এবং অন্ধকার দুটি পক্ষ
নিসর্গের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো পানি এবং মাটি দুটি পক্ষ
পৃথিবীর ভেতরে তাকাও, দ্যাখো শোষিত এবং শোষক দুটি পক্ষ
মানুষের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো গরীব এবং বুর্জুয়া দুটি পক্ষ
এদেশের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো পঁচাশি এবং পনেরো দুটি পক্ষ
দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?
এটাকে ডিলেমা ঘরানার কবিতা বলা যাবে কিনা বুঝছি না।
বরং নীচের লাইনটিকে ডিলেমা ঘরানার কবিতা বলা যায়।
'এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে,- জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কিনা'
ডিলেমার ভাল বাংলা কি? ঠিক খুঁজে পেলাম না। আপনার সামনে দুটো বিকল্প। দুটোই খারাপ। কিন্তু আপনাকে বেছে নিতে হবে এক পক্ষকে। এটাই আসলে ডিলেমা।
যারা এখনও বুঝছেন না, তাদের আগামি জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি।
ডিলেমার সেই গল্পটা জানেন তো?
বুশের আমলের গল্প।
ইমোশনাল এটাচমেন্ট!
মন মেজাজ খুব ভালো না। বন্ধু সামিয়া কইলো আমার নাকি বাতাস লাগছে মন খারাপের। আসলেই হয়তো তাই নয়তো বেহুদা মন খারাপের কোনো কারন নাই। তবে ভোরের দিকে একটা ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে মেজাজ খারাপ হলো। স্বপ্ন দেখার পর থেকে ঘুম আসছিলো না। খালি ছটফট করতে ছিলাম। তবে এইটা একটা সত্যি কথা যে একটু মন খারাপ, অবসাদ গ্রস্থ বিলাসি দিনকালই আমার বেশি যায় যাপিত জীবনে। পুরানো ডায়রীর পাতায় যখনি লেখা গুলো পড়ি দেখি যখনি মন খারাপ থাকতো তখনি পাতার পর পাতার খালি লিখছি। কিন্তু মন ভালোর তেমন অনেক কিছুই ঘটছে কিন্তু কিছুই লেখি নাই। মানুষই বোধ হয় এমন যে সুখের কথা মনেই রাখে না কিন্তু সামান্য কিছু দু;খের ঘটনা গুলো বারবার স্মৃতিতে আসে। আমার এই প্রবনতা বেশী আরো, ভালো আছি তাও কেনো জানি খালি বিষন্ন লাগে বারবার। আবার খুব যে বেশি বিষন্ন হই তাও না। মোহিত কামাল আগে টিভিতে বলে বেড়াতো বিষন্নতা একটা রোগ। আমি সেই রোগের ভালোই রোগী। আমার এক ইউনির বান্ধবী ছিলো রুপা। কোনো এক অজানা কারনে সে আমারে খুব পছন্দ করতো। আমিও বন্ধু সুলভ আচরনই করতাম। আমার এই বন্ধু সুলভতা দেখে সে আমারে কইছিলো তুমি মিয়া দুঃখু মিয়া মারকা ছেলে যা আমার একদম পছন্দ না। এই ধরনের দুঃখ
জনসংখ্যা বাড়ছে, ভোটার বাড়ছে, মানুষ বাড়ছে কি?
আরো চাই, আরো...
মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি সন্তুষ্ট না হওয়া। সবাই যা আছে তারচেয়ে বেশি চায়। ‘অনেক হয়েছে, আমার আর লাগবে না’ এ-কথা বলার মানুষ জোনাকির আলো দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। জাতি হিসেবে আমাদের অনেক সুনাম-বদনাম থাকতে পারে; কিন্তু আমরাও তো মানুষ; মানুষের প্রবৃত্তি থাকবেই, সুতরাং সন্তুষ্ট হবো কেন! অন্যদের মতো আমরাও ‘বড়’ হতে চাই, পরিমাণটাকে ঊর্ধ্বে তুলতে চাই। তাইতো বাংলাদেশে জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলে, বেড়েই চলেছে। আদমশুমারি কিংবা সরকারি নথিপত্রে সংখ্যার যে হিসাব দেখানো হয়, তার ভেতরে অনেক গোঁজামিল। সঠিক হিসাবটা কেউই জানে না, এমনকি যারা তথ্য গোপন রাখতে চেষ্টা করে তারাও!
ছোট্ট এদেশে জনসংখ্যার যে ঘনত্ব, তা দেখে ভিনদেশি মানুষ টাসকি খায়। শুধু টাসকি কেন আরো অনেককিছুই খেতে পারে, তারা কি জানে আমাদের কারিশমা আর শক্তির কথা! যেভাবে আমরা দিন-দিন জনসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছি, নিশ্চয়ই তা একদিন না একদিন সর্বোচ্চ সংখ্যাটাকে অতিক্রম করবে। তখন গিনেস বুকে নাম উঠবে আমাদের। মনোবল অটুট থাকলে উপাধিটা পাওয়া ঠেকাবে কে!
...স্বপ্ন দেখে মন