ইউজার লগইন
ব্লগ
জয় বাংলা
স্লোগানের স্বরলিপি লিখেছে মধ্য আকাশ
স্লোগানের পাঠসূত্র শিখিয়েছে রাতের নিরবতা
এ শহর ঘুমিয়ে গেলে নিয়ম করে
তবু জেগে থাকে স্লোগানের গোখরা
ওরা পাহারা দেয় নদী, সমূদ্র, মাঠ
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের বিপুল নকশিকাঁথা।
ওরা হাঁটে আনাচে কাঁনাচে, ওলিতে গলিতে
ঘাটে, মাঠে ঘাটে, খুপড়ি বস্তিতে
নোংরা আবর্জনায় এমনকি ঠাটবাটের প্রাসাদে
ওরা নিয়ম সেধে রাখে গলা
স্লোগানে সানাতে থাকে ক্ষুরধার
দৃপ্ত চাহনি, সতর্ক দেশপ্রেম
রক্ত, অস্থি, মজ্জা, কালো কালো বৈরি ব্যারিকেড
আর শকুনের জন্য ঘৃণার তীব্র তলোয়ার।
লাখো মানুষ যখন তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে নিস্পলক
ধ্বংশের গানের মতো, পদ্মার প্লাবনের মতো
শত্র“র সামনে স্লোগান হীমালয় হয়ে দাঁড়ায় মাথা উঁচু করে
মিলিত কণ্ঠের ঢল আসে-আসে-আসে-ওই আসে----
জয় বাংলা..
(২৭.০২.১৩ {c}MNI)
আতংকের ভেতরে!
কার জন্য কেমন দূঃসময় যাচ্ছে তা বলা কঠিন। তবে সময়টা যে খুব একটা ভালো নয় তা সবাই মানবে। অনেকে দুঃসময় বলছে- কিন্তু আমি তাদের সাথে একমত না। একটু খারাপ সময় যাচ্ছে তবে তাকে এতো দূঃসময় বলা ঠিক হবে না। কারন বাংলাদেশে নানা সময়ে নানান ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর্যায়ে গেছে তবে এবার তার মাত্রা ভিন্ন। এবার মুখোমুখি জামাত ভারসেস জনগন, পুলিশ, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। কাল যখন ফেসবুকে সিল্কসিটি পোড়ার ছবি দেখলাম মনে হচ্ছিলো ইরাক আফগানিস্থানের মতোই কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। আর প্রতিদিন হালি ডজনে তো মানুষ মরছেই। এদের কেউ পুলিশ বিজিবির সাথে সংঘর্ষে, কেউ বা জ্বালিয়ে দিচ্ছে হিন্দু ঘর বাড়ী আবার কোথাও মানুষ পুলিশ নিজেই আক্রমনের শিকার। আমার দুই বন্ধু আসছে চিটাগাং থেকে। নেভীর শর্টকোর্সের যে অফিসার নেয় তার এক্সাম দিতে। সেখানে একটা গল্প শুনলাম। চুল কাটতে গেছে সোহেল। সোহেল নাপিতরে জিগেষ করলো কি অবস্থা দাদা? তখন নাপিত মনের দুঃখে বলতেছে "আমাদের আর অবস্থা দাদা। বেচে আছি। সোনিয়া গান্ধীরাও আমাদের দেখতে পারেন না আপনারাও মালু বলে গালি দেন যামু কই কন?
সাঈদীর মামলার রায় ও বীরঙ্গনাদের প্রতি ইতিহাসের দায়
ব্লগারদের অনেকেই হয়তো ২০০৯ সালে ব্লগে প্রকাশিত 'একাত্তরে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ' শীর্ষক আমার লেখাটি পড়েছেন। সেই সময় থেকেই আমি একাত্তরের কিছুটা অনালোচিত এই অধ্যায়টি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছি। এ সম্পর্কিত কোন বই, জার্নাল, গবেষণাপত্র, নিবন্ধ যখনই কোথাও পেয়েছি তা সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি। সাঈদীর মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দিকে বেশ কয়েকটি কারণে আমার আলাদা মনোযোগ ছিল। সাঈদীর মামলা এমন একটি মামলা, যেখানে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল, ধর্ষণের জন্য অপহরণ করে আটক রাখার অভিযোগ ছিল, জোরপূর্বক গর্ভধারণে (forced pregnancy) বাধ্য করার অভিযোগ ছিল, এমনকি জেনোসাইডাল রেপ অর্থাৎ গণহত্যাসম্পর্কিত ধর্ষণের অভিযোগও ছিল। এই অভিযোগগুলোতে সাঈদীর কী দণ্ড হয় তাই দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারির ১২০ পৃষ্ঠার রায়ে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ প্রদান করেছে। দুইটি অভিযোগই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত। ৮ নম্বর অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। ১০ নম্বর অভিযোগে বিসাবালি হত্যার অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। দুটি অভিযোগেই রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যক্ষ স্
পলাশীর মীর জাফরদের গন্ধ পাচ্ছি !!!
দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসাবে আমাদের সবার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো দেশকে শত্রুমুক্ত করা। ’৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা রক্ত এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানি এবং হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও দেশ আজও শত্রুমুক্ত হয়নি। বাংলাদেশ কি ঐতিহাসিকভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মীর জাফরদের জন্ম দিয়ে যাবে ?
বয়েজ ডু ক্রাই টু..
বাসায় মুভি নাইট ছিল আজ।
শুক্রবার দিন, সারাদিনই সবাই ফ্রি। রিল্যাক্স মোডের একটা দিন।
কিছু মুভি জমেছে দেখার মত, মুভিখোর সবাইকে একসাথে পাচ্ছিলাম না - তাই।
সারাদিনেও বেশ কয়েকবার ভেবেছি, সবাইকে নিয়ে দেখতে বসব একটা কিছু।
হয় নাই, সবাই যে যার মত ইজি কাজে বিজি।
ছুটির দিন এলেই একেকজন আমরা সবাই আলিস বালিশ।
বিকেলের দিকে একটু ঘুরাঘুরি আর কয়েক কাপ চা। ব্যাস, দিন শেষ!
রাতের খাবার খেয়ে মামা আর ভাইয়াকে নিয়ে বসলাম মুভি দেখতে।
প্রথমে ছেড়েছিলাম, 'দ্যা বিস্ট অব দ্যা সাউদার্ন ওয়াইল্ড'।
প্রিন্ট মোটামুটি, দেখে ফেলা যায় আর কি। কিন্তু কিছুক্ষণ দেখে মনে হল
একেকজনের যে উচ্চারন - এই মুভি সাবটাইটেল ছাড়া দেখাটা বোকামি হবে!
রেখে দিলেম আরও 'কোন একদিন' এর জন্য।
যাই হোক, কিছুক্ষণ এটা ওটা ঘেঁটে শেষে থিতু হলাম 'অসম্ভব'-এ এসে!
মুভির অরিজিনাল টাইটেল 'ল ইম্পসিবল' , ইংরেজিতে 'দ্যা ইম্পসিবল', এটা ২০১২ সালে ইংরেজি ভাষায় তৈরি একটি স্প্যানিশ ডিজাস্টার ড্রামা।
পক্ষ নিলে রক্ষা নাই
গত কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে সিলেট আসার পথে বাসে একটা নাটক দেখলাম, প্রথমে নাটকের প্রতি আমার মনযোগ ছিলোনা কিন্তু যখন দেখলাম নাটকটি মুক্তিযুদ্ব ভিত্তিক তখন আগ্রহ নিয়ে নাটকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখলাম। নাটকের কাহিনী ছিলো এমন-
লজ্জিত পথিক
জনতার ভিরে হাজারো প্রশ্ন তরী বেয়ে বেরাচ্ছে
“ভুল ও নির্ভূল” হার জিতের মাঝা মাঝির দাড়িপাল্লায় ঝুলছে।।
এখন তরীর মাঝি পথে পথে গানের সুর ভুলে হারাচ্ছে গতি
মানুষ দিধাগ্রস্থ হয়ে হাহাকারের ভিড়ে হারাচ্ছে মানবতা।
শূণ্যতা বুকে নিয়ে মা চলছে দক্ষিণ রাস্তার দিকে,
কান্নার রোল ভিঝিয়ে দিচ্ছে রাস্তার পথঘাট।
আনন্দের সাথে কান্নার জোয়ারের জিৎ হয়েছে আজ,
লাখো প্রাণের নিবেদন চরমে গিয়ে লজ্জায় মাথা ঢাখা পড়ে
চলে এসেছে।
কিন্তু ভিরু আর কাপুরুষের মত নয়,
থমকে আছি বলে ভুলে যেও না আমায়।।
হঠাৎ কুকুরের ডাকে বেসুরে আওয়াজটা প্রাণের কাছে কলঙ্কের কথা মনে করিয়ে দেয়।
অভিশাপ এসেছে কি! আর্শীবাদ এসেছে বিধাতা জানে।।
শুধু বলতে চাই “মানুষ”, ডাকতে চাই “মানুষ”
তোমরা হারিয়ে যেও না।
রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে
১.
দেশে একটা সংকটকাল উপস্থিত হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, রংপুর, ঠাকুরগাও, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ৪ পুলিশসহ ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে 'দেইল্যা রাজাকার'-এর ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর এসব সংঘর্ষ শুরু হয়।
লক্ষণীয় যে, ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পর দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ৫ তারিখ সন্ধ্যার পরের অংশটুকু বাদ দিলে এ আন্দোলনের বয়স ২৪ দিন। আর ওই আগুন লাগানো সন্ধ্যাটিকে ধরে হিসাব করলে ২৫। এতগুলো দিন আমরা কাদের মোল্লাসহ সব রাজাকারের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু একজন মানুষকেও কুটোর আঁচ পেতে দিই নি। অথচ ওদের নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর মাত্র ১ দিনে সারাদেশে মরতে হয়েছে ৪২ জন মানুষকে। অনেকে আবার ওদেরই দলের সদস্য। এই জামায়াত-শিবিররকে যে আমরা রক্তচোষা জানোয়ার বলি, সেটা কি ভুল বলি?
শ্রেষ্ঠ সময়ের ক্রান্তিকাল
খুবই মন খারাপ। এরকম মন খারাপ খুব একটা হয় না সচারচর। এতো গুলো মানুষ মারা গেলো, মরছে ভাবতে অসহ্য লাগতেছে। ভোর বেলাতেই উঠে বসে আছি আর ভাবছি কি হবে দেশটার? ৩৭-৪০ জন মানুষ গতকাল মারা গেছে। এর ভেতরে পুলিশ আছে শিবিরের কর্মী আছে হয়তো আমজনতাও আছে। মৃত্যু আমার কাছে খুব কঠিন জিনিস মনে হয়। অথচ এই দেশে মানুষ কতই না সহজ ভাবে মারা যায়! কেউ জীবন দেয়, কেউ জীবন নেয়। সার্কেল চলছে। অথচ পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যূ খবর শুনলে আমরা কত বিচলিত হই, ভাবি এর চেয়ে অস্বাভাবিক কিছু আর হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে সকাল বিকাল নাস্তা করার মতই সহজ ব্যাপার যে আজ কয়জন মরছে আর কিভবে মরলো? এই যে আমরা বেচে আছি এতো আনন্দ ফুর্তিতে দিন যাপন করতেছি তার জন্য কত মানুষ মরে প্রতিদিন মুল্য দিতেছে তা কি আমরা ভাবি? এরকম সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে মনে হয় যেকোনো দিন আমি আপনে যতই সতর্ক থাকি আঘাত আসতে পারে। কারন বুলেট বোমা এইসব মানুষ দেখে হয় না!
রাজাকারের বিবির সব বাচ্চাই শিবির!
রাজাকারের বিবির
সব বাচ্চাই শিবির!
বড় রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে। তাই ছোট রাজাকারগুলো ক্ষেপেছে। দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ধর্ম ব্যবসায়ী দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায় শুনে পাগলা কুত্তার মতো ক্ষেপেছে ছাগুরা। এরা মানুষ খুন করছে, মন্দির ভাঙছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা করছে।
এই তাহলে তোদের ধর্ম? এই বিবেক-বুদ্ধি নিয়ে আন্দোলন (!) করিস?
থু কাপুরুষের দল! ছি মীর জাফরের গোষ্ঠী!
এই প্রশ্নটা প্রশ্ন হিসাবে কেমন?
১.
দেশে একটা সংকটকাল উপস্থিত হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, রংপুর, ঠাকুরগাও, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ৩ পুলিশসহ ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে 'দেইল্যা রাজাকার'কে ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর এসব সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জামায়াত-শিবির-রাজাকার গোষ্ঠীকে ঠেকাবার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা চালাচ্ছে এবং বিজিবি তাদের সহযোগিতায় কাজ করছে।
লক্ষণীয় যে, ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে কাদের মোল্রার যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পর দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ৫ তারিখ সন্ধ্যার পরের অংশটুকু বাদ দিলে এ আন্দোলনের বয়স ২৩ দিন। আর ওই আগুন লাগানো সন্ধ্যাটিকে ধরে হিসাব করলে ২৪। এতগুলো দিন আমরা কাদের মোল্লাসহ সব রাজাকারের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু একজন মানুষকেও কুটোর আঁচ পেতে দিই নি। আর আজ দুপুরে ওদের নেতার রায় ঘোষণার পর এখনো একবেলা পুরোপুরি পার হতে পারে নি। তার আগেই মারা যেতে হয়েছে ৪৩টি মানুষকে। এদের অনেকেই আবার ওদেরই দলের সদস্য।
সাদাসিধে কথা
আজ তেইশ দিন হল বাংলার দামাল ছেলেরা পথে নেমেছে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে আর তাতে সমর্থন জানিয়ে যোগ দিয়েছে লাখো জনতা। মন ভরে যায়। সচরাচর এই দেশের প্রেক্ষাপটে মন ভালো হবার মতো কিছু তো ঘটে না। তাই ব্যাক্তিগত অনেক সুখদুঃখ ভুলে এই শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে ডুবে আছি দিনরাত।
এরই মাঝে খেয়াল হল আজ আমার গুড়ি মেয়েটার বয়স ছয়মাস হয়ে গেলো।আমার দুই মেয়ে –রাইসা রাইমা, ওদের নিয়ে আমার এই নন্দনকানন। বড়টির আট বছর।
আবোল তাবোল - ১৫
# আমি; এবি, আমরা : বাউন্ডুলের জবানবন্দি #
আজকাল এবি তে আসলেই মন ভাল হয়ে যায়। আমি এবি'র খোঁজ পাওয়ার পর থেকেই দেখে আসছি, ভাল লেখা যত টা না চোখে পরে তার চাইতে ঢের বেশি লেখা অদেখাই রয়ে যায়। এর বড় একটা কারন হল ভাল লেখিয়েরা এখন আর লেখতেই চান না, প্রিয় লেখিয়েরা কেবলই হারিয়ে যাওয়াদের দলে নাম লেখিয়ে যান!
তাই বরাবরই আমার একটা আফসোস কাজ করত যে, এবি'র স্বর্ণযুগটা আমার দেখা হল না! ইদানিং সেই আফসোস টা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে।
প্রিয় লেখকেরা আবারও ফিরে আসছেন, লগ-ইন করছেন । চমৎকার সব লেখা পর্যন্ত দিচ্ছেন। আর এবি'র নিয়মিত প্রানের বন্ধুরা তো সাথে আছেন প্রতিদিনই।
সব মিলিয়ে প্রায় প্রত্যেকদিনই প্রথম পাতায় জায়গা করে নিচ্ছে অসাধারণ সব লেখা, প্রিয় ব্লগ কে এমন প্রাণচঞ্চল দেখতে কার না ভাল লাগে!
প্রায় মাসখানেক পার হয়ে গেছে, কিছু লিখতে বসা হয় না। বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছি, হাবিজাবি একটা কিছু লিখব। লেখা হয় না। আসলে, লেখার সাহস আর উৎসাহ কোনটাই আগের মত পাই না আজকাল।
২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০১৩
সকাল থেকে বসে ছিলাম দুরুদুরু বুকে। ৫ই ফেব্রুয়ারী কি আবার ফিরে আসছে আমাদের বাংলায়? আবার কি ফুঁসে উঠবে সবাই? নাকি হতাশা নিয়ে ফিরে যাবো ঘরে, পরাজিত কুকুরের মত মাথা নীচু করে...
সময় কাটে, বুকের ধুক ধুক শব্দ বাড়তেই থাকে। এমন অপেক্ষা করি নি কখনো। যদিও সকল লজিকাল পথ গিয়ে একটা পথেই মিলছিলো, তবুও চিরদিনের পেসিমিস্ট মন মাথা চাড়া দেয়। যদি কোনো কম্প্রোমাইজ করা হয়, যদি আমাদের আবেগ নিয়ে আবার খেলা হয়...
বাসায় টিকতে না পেরে ছুটে যাই অফিসে, একটা দু'টো ছোট কাজ সেরে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি ফেসবুকে। একটু পরে পরেই রিফ্রেশ দেই পেজ, অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘতর হ'তে থাকে। অস্থিরতা বেড়েই চলে...
অফিসও অসহ্য লাগতে থাকে। শাহবাগ হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে। অফিস থেকে শাহবাগে চলে যাই। শাহবাগ যেতে যেত মনে পড়ে ৫ তারিখের কথা। সে সময়ের হতাশা, তার পরে সেই হতাশা থেকে আশার সঞ্চার। তবুও মনের আশঙ্কা কমে না। যদি কোন খেলা চলে...
শাহবাগে গিয়ে একে একে দেখা হয় অনেকের সাথেই। সবাই শংকিত, সবার মনেই কি হয় কি হয় ভাব...
রায় হয়ে গেল। কী রায় ? কী আবার, ফাসি। জয় বাংলা !!!
অবেশেষে রাজাকার, খুনী, ধর্ষক, মানবতার শত্রু সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুপুর ১ টা ৪২ মিনিটে এই রায় ঘোষনা করা হলো। কী রায় ? কী আবার, ফাসি। জয় বাংলা !!এটি হলো এই আদালতের দেয়া ৩য় রায়। সর্বস্তরের জনতার বিজয় এটি। জয় হলো সত্যের। জয় মানবতার। জয় জনতার। প্রজন্ম চত্তরের একজন হিসাবে এ আনন্দের ভাগীদার আমিও। আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন।