ইউজার লগইন
ব্লগ
হারিয়ে ফেলা
ব্যস্ত শহরে ঠাস বুনটের ভীড়ে , আজো কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখে ফিরে..............মোবাইলের রিং টোনে ঘুম ভেঙে যায় রিফাতের । ম্যানেজারের কল, বিরক্ত হয়ে কেটে দেয়। সময় দেখে দূপুর ২টা , মাথাটা ভারী লাগে হ্যাংওভারের ধকল এখনো আছে। কাল রাতে ওর প্রিয় হুইস্কি জ্যাক ডেনিয়েলের বোতল প্রায় শেষ করেছে । জ্যাক ডেনিয়েলের সংক্ষিপ্ত নাম ' জে ডি ' মনে পরতেইচোখ ভিজে উঠে। জে ডি ওর অনেক প্রিয় একজন মানুষের নাম.......ছিল। জেনিফার দিপ্তি সংক্ষেপে জে ডি।
বিছানায় শুয়ে শুয়েই সিগারেট ধরায় আর ভাবে , ভালোই চলছিল সব । একই শহরে থাকতো ওরা । পরিচয় ফেসবুকে , তারপর কথা বলা , ডিনার করা , ঘুরে বেড়ানো , সিনেমা দেখা .,,,,,,অবশেষে ভালো লাগা।
যন্ত্র
( সাধারণত পর্বভিত্তিক লেখা খুব একটা দেই না, যারা পড়বে তাদের বিরক্তির কথা ভেবে। এইবার দিলাম। বিরক্তির জন্য আগামভাবে ক্ষমাপ্রার্থী)
#
একটি ঘর, খুব বেশি বড় নয়। এখন সভাকক্ষের মতো করে সাজানো হয়েছে। পাঁচটি সারিতে,পাঁচটি করে চেয়ার। সামনে বড়সড় টেবিল। পেছনে ঝুলছে ক্যালেন্ডার। সেখানে তারিখ ঝুলছে গতমাসের। জানালা আছে কিন্তু এখন বন্ধ। বিশাল পর্দা নামানো। ঘরে চলছে এসি। তাদের কেউ এসির ঠান্ডা বাতাসে অনভ্যস্ততার দরুণ কাঁপছে। তাদের হাত-পা শুকিয়ে আসছে। তবু, তারা অপেক্ষা করছে।
দুজন বিশালদেহ নিরাপত্তা কর্মী ঘোরাফেরা করছে। তাদের মাথায় কালো টুপি। আপাতদৃষ্টিতে তাদের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হচ্ছে না।
বড় টেবিলের ওপাশটা খালি। কেউ এসে বসবেন সেখানে। সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছে।
সভ্যতার মৃত্যু
থেমে থেমে শোক হয়ে আসে অব্যর্থ নিশানে।
আশাতীত সভ্যতার অপ্রতুল বক্ষ মর্দনে, ওরা
তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে নিষিদ্ধ প্রণয়ের,
কেউ বা পুলকে বাহবা দেয় প্রকাশ্যে অসাড় মানবতায়।
ক্ষত বিক্ষত, জ্বলে উঠা মাটি সুযোগ্য মেঘ খুঁজে পেতেই মৃত হয়ে যায় নিমিষেই
ঘুরে ফিরে জীবন টেবিলে টেবিলে
কচিৎ, বেয়নেটে চিরে দুভাগ হয়
প্লেটে উঠে আসে হৃদপিন্ড, উঠে আসে সদ্য বিবাহিতার কঙ্কণের নিষ্পাপ সুখ।
গোগ্রাসে মিশে যাওয়া গাঙচিল
শুভ্র পালক ছেড়ে একাত্ম হয় কিশোরীর কেটে নেয়া যুগল স্তনের সাথে।
কখনো বা সত্যে প্লাবিত হয় ভাটা (অস্বাভাবিকে),বিক্ষুব্ধ হয় পদ্মা, নীল
খন্ডিত মিছিলে ধেয়ে চলে উজানে
হিসেবের উন্মত্ততায় শুরুতেই শেষ হয় মনন।
রন্ধ্রে জেগে উঠা শ্লোগান বারুদের ঝংকারে থেমে যায়
ঝরে মুষ্টিবদ্ধ হাত, ভাসে রক্তে
নীল, পদ্মায় ভেসে যায় কত শত কফিন
এবং
সভ্যতার মৃত্যু দেখি সভ্য মানুষেরই হাতে।
বন্ধুত্ব বা বন্ধুতা...
আ
আমার এক বন্ধু মুজিব। একদিন আফসুস করে বললো-
মেসবাহ বলতো, আমার চেহারায় কি লোচ্চা ভাব আছে ?
আমি বললাম, কেনোরে ? তোর এমন মনে হলো কেনো ?
ও বললো, তোর বউ আর মিলনের বউ আমারে কেনো ভাই ডাকে ?
বললাম, ভাই ডাকাতো ভালো... এর সাথে লোচ্চার সম্পর্ক কী ?
ভাই ডাকা মানে তোদের দুই বউ নিরাপদ বোধ করে...তারমানে তোরা যাই বলিস না কেনো- - আমার চেহারায় লোচ্চা একটা ভাব আছে- আক্ষেপ করে মুজিব বললো
আমি কিছু না বলে ওর কথার সত্যতা নিয়ে ভাবতে থাকি...।
বন্ধুপত্মীরা মুজিবকে ভাই ডেকে যে আস্থা বা ভরসা পায়, তেমনি ভরসা পায় আমার বন্ধুরা আমার প্রতি। তারা তাদের অনেক কিছু আমার সাথে শেয়ার করে। আমি তাদের সুখের কথা, দুখের কথা, ক্ষোভের কথা, অভিমান আর অনুযোগের কথা শুনি। প্রয়োজনে আমার পরামর্শ চায়। ওরা যদি জানতো, আমি এসব ক্ষেত্রে একটা গন্ড মূর্খ। পরামর্শ দেবার মত বুদ্ধি বা মেধা আমার অন্তত নেই।
গুরু হইতে পয়সা লাগেনা
"গুরু হইতে পয়সা লাগেনা", তাহলে? গুরুই দেখিয়েছেন গুরু হওয়ার রহস্য। তিনিই মনে হয় এই উপমহাদেশের একমাত্র কোটি মানুষের মন জয় করা শিল্পী যার কোন আভিধানিক জ্ঞান নেই সঙ্গিতের উপর। আর এটাই তার গুরু হওয়ার রহস্য।
১৯৮৭ সাল বা তার সমসাময়িক সময়ে যখন দেশে স্যাটেলাইট টেলেভিশন আবিস্কার হয়নি তখন পাশের বাসায় ক্যাসেট প্লেয়ারে গুরুর গান শুনেছি প্রথমবার। গানের ধরন-টরনই আলাদা। ঐ সময়ে কতবার যে আলাল-দুলাল, সালেকা-মালেকা, পাপড়ী কেন বোঝেনা এসব গান শুনেছি তার কোন হিসেব নেই।
এরপরে গুরুকে দেখার আগ্রহ জাগে। আবাসিক হলে যখন থাকতাম তখন এক নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে গুরুকে আনার চেষ্টা চলে। ঐ সময় ওনাকে ম্যানেজ করা আর রাজ্য জয় করা সমান কথা। তখন ১৯৯৪ সাল। গুরুর স্টেজ পোগ্রাম মানেই শহর ভেঙ্গে মানুষের ঢল। জায়গা পেতে অনুষ্ঠান শুরুর ২ ঘন্টা আগে থেকেই ভেন্যুর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
যে গেছে, সেকী আর ফিরে আসবে!!
আজম খানের দরাজ কণ্ঠস্বরের কথা লেখছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। আমি তার সাথে একমত হইতে পারি নাই। দরাজ শব্দটা শুনলে আমার যেই দ্যোতনা তৈরী হয় তার সাথে আজম খানের গায়কীর সামান্যতম মিলও আছে কীনা তা নিয়া আমার সন্দেহ আছে। আজম খান তার রেকর্ডকৃত গানেও বেসুরা হইছেন বহুবার। তার লগে যারা ড্রাম আর ব্যাস গীটার বাজাইতো তারা প্রায়শঃই অস্থির হইয়া উঠতো তাল জ্ঞানের খামতিতে। আজম খানের স্কেইল উঠানামায় কোনো সামঞ্জষ্য ছিলো না কোনো কালে। তিনি গান ধরতেন এক উদ্ভট স্কেইলে।
তবে তিনি কীসের সঙ্গীত শিল্পী যার গানে নিয়মের কোনো বালাই নাই। যা ইচ্ছা তা করার স্বাধীনতা কি শিল্পীর থাকে!? আমাগো এই ভারতীয় উপমহাদেশে তাল-লয়-সুর ছাড়া সঙ্গীতের ধারা বা ঘরানার কোনো স্থান আছে? এমনকি প্রাচ্য-দূরপ্রাচ্য বা পাশ্চাত্যেও কি আছে এমন কোনো সঙ্গীত শিল্পীর স্থান যে নিয়মের ধার ধারে না!?
বিষন্ন বিবমিষা
একটি অবসন্ন সন্ধ্যার আবাসান এই ঘরে
হেলায় ফেলায় পড়ে থাকে কবিতার খাতা, বইপত্র
পোড়া সিগারেট, ছাই, দিয়াশলাই কাঠি যত্রতত্র
কলের টিপ টিপ জলে, রূপোলী রেকাবে
জানালার কার্ণিশে বিষন্ন বিবমিষা ।
হঠাৎ ঘর ছেড়ে পালাতে ইচ্ছে করে
ভীষন পালাতে ইচ্ছে করে
খসে যাওয়া পালকের মত
বসন্তের মত
বড় পালাতে ইচ্ছে করে।
পথে নেমে দেখি
মসৃণ রাজপথে বিষাদের লালা,
সবুজ বনভূমির শেকড়ে শেকড়ে নীল নীল নৈরাশ্য
উদাত্ত নদীর বিবর্ণ ছেঁড়া পালে
কোথাও কোনো লাল-হলুদ ফুলে
বেগুনী-বিষন্ন রেনু।
ভোরের সোনালী রোদের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে হতাশা
মেঘের সাথে মেঘের বিষাদের শিৎকার
উঠোনে ছড়ানো ছিটানো নৈরাশ্যের জ্যোৎস্না
ঈগলের খয়েরী ডানায়
পূর্ণতায় কিম্বা অপূর্ণতায়
চেনা চেনা চোখের তারায়
স্বপ্নের মত বিষন্নতা।
চেনা শহর ছেড়ে পালাতে ইচ্ছে করে
ভীষন পালাতে ইচ্ছে করে
বিষাদে ছেয়েছে আকাশ, পুড়েছে মাটি
একজন চির হাস্যেজ্বল মানুষ , গুরু আযম খান চলে গেলেন...
তখন উত্তর কমলাপুরে থাকতাম আমরা। জসিমউদ্দিন রোড ধরে হেঁটে হেঁটে যেতে হতো মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনীতে। কলোনীতে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তাম। সে অনেক আগের কথা। ক্লাস ফোরের পর ছেড়েছি ঐ এলাকা , ও স্কুল। কিন্তু এখনও মনে পড়ে স্কুল যেতে আসতে প্রায়ই দেখতাম এক প্রিয মুখ। তিনি প্রিয় গুরু আযম খান। জসিমউদ্দিন রোডটার জসিমউদ্দিনের মেয়ের বাড়ীটার কোনাটা পেরোলেই চিটাগাং হোটলের আগেই ছিল গুরুর বাসা। হয়তো খুবই ছোট তখন আমি। কিন্তু গুরুর গানতো সেকালের একমাত্র টিভি চ্যানেল, বিটিভির বদৌলতে চেপে বসেছিল মাথায়। সেই সে গান...আলাল ও দুলাল ...সে কি ভোলা যায়।
মনের গাড়ি টমটম লিচু বাগানে
চালরে গাড়ি যাত্রাবাড়ি...। আক্ষরিক অর্থেই যাত্রবাড়ি পেরিয়ে গেলাম। ধুলোর মেঘ ফুঁড়ে সুড়-ৎ করে যেন এক সুবাতাসের দেশ। এদিকে কাঁচপুর, ওদিকে গাবতলী কিংবা গাজীপুর চৌরাস-া, পেরিয়ে বুকভরে শ্বাস টানলেই বুঝবেন, এ বাতাস অন্য রকম। ঢাকার সিসার বিষে ভারী নয়। হাল্কা। মোলায়েম। শানি- শানি-।
শানি- শানি-।ভাবটা তখন কাজ করতে শুরু করেছে বুকের ভেতর। গাড়ি ছুটছে কাঁচপুর ব্রিজ ছাড়িয়ে। ছুটির দিন শুভশুক্রবার। মানুষ-যানের গুঁতোগুঁতি কম। আরামে ছুটছি সোনারগাঁওয়ের পথে...।
ফলে পরিচয়...
কথায় বলে ‘ঠিক দুক্কুরবেলা ভূতে মারে ঢ্যালা’। কিছু ভূতের আছর তো থাকবেই মনুষ্যজীবনে। আর সেই ভূতের সর্দারটি নিশ্চয় ‘বেড়ানোর ভূত’। সেই ভূতের ঢ্যালা খেয়ে দুপুরবেলাতেই ছুট। তাও এক্কেবারে আণ্ডাবাচ্চাসহ। সঙ্গী এক বন্ধু পরিবার।
আজিরা দিনপঞ্জী... ২০
জ্বরের ঘোরে কেমন যেন অনেকদিনের পুরনো একটা স্যাঁতস্যাঁতে মনখারাপ মনখারাপ ভাব টের পাচ্ছি। বাসায় কি কি যেন নিয়ে হাল্লা-গুল্লা হচ্ছে, আমি ঠিকই ডিসকানেক্টেড। কিছু বলতে বা করতে ইচ্ছাও করছে না। মাঝেমাঝে চিঠি লিখতে ইচ্ছা করে খুব, কিন্তু কেন ইচ্ছে করে সেইটাই মনে করতে পারিনা। অনেকদিনের সিগারেটখোর কেউ সিগারেট ছেড়ে দেবার পরেও যেমন হঠাৎ করে খামোকাই নেশার চাপে পড়ে যায় সেইরকমের কিছু হয়তো। কিংবা হয়তো অন্য কিছু চাইছি, নিজেও জানিনা কোনটা বা কি। পরশু বিকেলে জ্বরটা জেঁকে বসার পরে ইচ্ছে করছিলো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে রিকশায় চেপে একটাকা দামের প্লাস্টিকে মোড়ানো লাঠি আইসক্রিম কিনে ইস্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে। রোববারের হরতালের খবরটা পাওয়ার পরে ভাবসিলাম আমার উইকএন্ড হোমে গিয়ে উঠবো, কিন্তু হারামজাদা জ্বরটা সব গুবলেট করে দিলো। আর আরামসে বসে বসে মুভি দেখার বদলে আমি দুইটারাত গোঙাতে গোঙাতে পার করলাম। জ্বরটা একটু
গল্প বলা ও তার শেষ--
কাল রাতে ছিল প্রচন্ড গরম । সেই সাথে পোকা আর মশা। সমস্ত বাড়ির লাইট অফ করে দিয়ে বারান্দায় শিতল পাটি বিছিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম বাচ্চাদের নিয়ে। আমাদের জায়গা হয়েছে মেঝেতে কারন শীতল পাটি জুড়ে ওরা দুইজন। পিচ্ছিগুলির জ্বালায় নিজেদের কোন কথা বলার উপায় নেই। ওদের কথাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং বিশেষ জিরুরী যা সেই মুহুর্তেই শুনতে হবে। তার জবাবও দিতে হবে।
আমার ছয় বছরের ছেলের প্রশ্ন --আচ্ছা মা ছেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া কি ঢাকায় থাকে?
--- হ্যাঁ ঢাকায় থাকে।
--- ও তাই জন্যে বুঝি সব ভাল ভাল জিনিস ঢাকায় পাওয়া যায়?
আসেন শোক শোক খেলি...

টাকার অভাবে লোকটাকে চিকিৎসা শেষ না করেই দেশে ফিরে আসতে হয় । নিজের মৃত্যুর দিকে নিজেকেই দ্রুত এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে ।
আর আমাদেরও যেন তর সইছিলো না, জীবিত গুরু আর প্রয়োজন নেই আমাদের । এবার মর গুরু, তোমাকে নিয়ে হেড লাইন হবে, চটকদার স্টোরি, টকশো তে স্মৃতিচারণ, একটু কান্নাকাটি – মিডিয়া আর মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের ব্যাওসা ভাল ।
জীবিত গুরুর বিক্রয়-যোগ্যতা আগেই ফুরিয়েছিল, শেষ জীবনে এসে কোন কোম্পানি তার এ্যালবাম বের করতে চায় নি, তাই নিজের পকেটের পয়সা খরচ করেই এ্যালবাম বের করতে হয়েছিল তাকে । এখন, মৃত গুরুকে বেচে যা পাওয়া তাই সই । তাই শুরু হোক, শোক শোক খেলা...
~
(আমি সম্মান জানিয়ে যাই সেই গুরু-মুক্তিযোদ্ধা কে যিনি কখনো বিক্রি হননি... )
গড়িয়ে যায় দিন
সকালে যোগ ব্যায়াম, হালকা মূচ্ছর্না
পাশপাশি সবুজ রঙ উষ্ণ জল।
দুপুরে হোক ভুরি বা লোকমা ভোজ
অতপর তোমার মরুদ্যান চাই।
বিকেলটা নয় মোটেও সাদামাটা
পায়চারি থেকে ফিরে খড়ম বিস্কুট।
রাটটা বেশ ঝকমকে ফিরে যাওয়া শাহী যুগে
ভোজন পর্বে কাল ক্ষেপন, ফর্দ বদল প্রতিদিন।
গড়িয়ে গড়িয়ে যায় দিন
অপেক্ষা আসবে সেই সুদিন...
গামলা, পেয়ালা, বাসন কিংবা কোন কাটাতে
যদি উঠে আসি আমি তোমার জীহবার কাছাকাছি!
পড়ন্ত বিকেল
ক্লান্ত মনে গ্রীলজানালার পাশে সুদুর নিলীমা ঘেষে-
কখনও বকপাখি আবার কখনও বা চিল,
দেখেছি উড়ে যেতে অসম উচ্চতার
প্রতিযোগীতায় মেতেছে অধীর।
সুপ্ত ইচ্ছার হাতছানি মৃদু শরীরের ঝাকুনি বেয়ে
নীচে নেমে যায় শান্ত প্রকৃতির সাথে হাত মেলাতে।
মৌনক্ষুধা বক্ষে বেধে রাখি,
কখন সে আসবে-
আলিঙ্গনে তৃপ্ত হৃদয় হবে রঙ্গিন।
যখন হবে শেষ ঐ সব রাত্রির যবনিকা টানা
তখন আমি আসব তোমার সাথে।
ঐ হাতে একঠায় রাখবে ধরে তুমি ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা,
তুমি রবে মোর পানে চেয়ে, আর-
আমি শশব্যস্ত ঝালমুড়ির পানে।
কখন যে নামবে সন্ধ্যা
আকাশের বুকে দেখবনা আর সেই-
কখনও বকপাখি আবার কখনও বা চিল
গ্রীলজানালা ধরে চেয়ে থাকি নির্বাক, কখনো
ছুড়ে মারি চিরকুটের ঢিল।
ছিন্ন পদ্য
১.
বিম্বিত প্রতিচ্ছবিতে লড়াই এর আহ্বান
যূথবদ্ধতা অমিলের কান্ডে বোকামীর স্নান;
তবে প্রিয়তমা তাই হোক - তোমার লীলায়িত অধরের স্মৃতি নিয়ে
আমিও না হয়, মৃত্তিকাতে পুনঃর্জন্মের ইতিহাস লিখব আরেকবার !
২.
আমাদের অমীমাংসিত হিংসার তীর নিক্ষেপ চলতেই থাকে,
তুলনার দাঁড়িপাল্লা এদিক ওদিক দোলে বারবার-
আমি দোষী, তুমি দোষী, রুচি-অরুচি, দাঁত ঘষাঘষি
অতীত বর্তমান সব বিষে পিষে ছারখার।
৩.
বদলাবে দিন বদলায়, শত্তুর বসে মুচকি হাসে ঘরের দাওয়ায়
মন্ত্রপূতঃ জলের ছিটা, অবনত প্রাথর্না,
ঐসব ঘনায়মান কালরাত্তির হতে
নিঃশর্ত মুক্তি চায়।
৪.
আমি তো দুঃখী ই ছিলাম
তুমি আর কি নতুন দুঃখ দেবে!
সবার শেষ লক্ষ্য একটাই
মাটির বিছানা,
কেমন করে ভাবো তুমি তা
আমার পায়ের নীচ হতে
কেড়ে নেবে!
৫.
ভীষণ আতশবাজি পুড়বে পুরো শহরে
হয়তো বা সারারাত
ফেনিল উল্লাসে অনেক বৈঠকখানা
হয়ে যাবে মৌতাত;