ইউজার লগইন
ব্লগ
৮০ এর ঢাকা ---- মধ্যবিত্তের চোখে (আপডেটেড)
যা হারিয়ে যায় জীবন থেকে তা চিরতরেই হারিয়ে যায়। এলেবেলে শৈশব, আড়ি দেয়া সেই সব বন্ধুরা, প্রেমময় সেইসব মুহূর্ত, প্রেমিকের ঘামে ভেজা উষ্ণ হাত, বলা না বলা কথার সেই ক্ষন, চিরচেনা শহর, ঝিম ধরা দুপুর, মন কেমন করা গোধূলি বেলা, মন উদাস করা বৃষ্টি, সূর্য তারা সব। পরে থাকে পাহাড়সম স্মৃতি আর এক বুক ব্যাথা। এক সময় জীবন হয়ে ওঠে স্মৃতির রেলগাড়ি।
জল দহনের গপ্পো
আবার আকাশের গায়ে গায়ে গোমড়া মুখো মেঘেদের দল। আবারো বৃষ্টি এলো। বাতাস ভেজা ভেজা, সোঁদা মাটির গন্ধ মেখে তুমিও গোড়ালি ডুবিয়ে দিলে জলের ঢেউয়ে। চুপ করে সে ছবিটি দেখতে দেখতে টের পেলাম সমুদ্র ফুঁসে উঠছে দূরে কোথাও। ঝাউপাতার আড়ালে তোমার আনত অভিমানী মুখে রাগের জ্যামিতিক ছায়া। ওই মুখে আমি ঠোঁট ছুঁইয়ে দিতেই তুমি বলে উঠলে- ‘না’।
আমার সিনেমা দেখা-১
মাসুম ভাইয়ের জন্য ইংরেজী সিনেমা দেখা শিখেছি এই বেশ কিছুদিন আগে, কিন্তু বাংলা হিন্দী সিনেমা আজ থেকে না জন্মের পর থেকে দেখা শিখেছি।আম্মার কাছে গল্প শুনি আমার ভ্যা ভ্যা র চোটে আব্বা কোন কোন সিনেমা দেখতে পারে নাই।আম্মা রাজরানীর মতো হলে বসে সিনেমা দেখছে আর আব্বা আমাকে নিয়ে চট্রগ্রামের নেভী সিনেমা হলের সামনে বসে কান্না থামচ্ছে।
ওই থেকে মনে হয় বাংলা সিনেমা দেখার প্রতি আমার ভয়াবহ রকমের আগ্রহ ছিলো আছে এবং থাকবে।খুব ছোটবেলাতে বড় মামার সাথে সিনেমা দেখতে যেতাম। মনে আছে বড়মামার সাথে চন্দ্রনাথ দেখে এসে আবার পরের শো তে আব্বা আম্মার সাথে দেখতে গিয়েছিলাম।বেদের মেয়ে জোসনা দেখেছিলাম কিন্তু কার সাথে দেখতে গিয়েছিলাম মনে করতে পারছিনা।
খুব আশায় থাকতাম কবে গ্রাম থেকে কোন আত্মীয় আসবে ডাক্তার দেখাতে অথবা জমিজমার মামলা নিয়ে।কারন তারা আসলে একটা সিনেমা দেখতে পেতামই।
জগতের আনন্দ যজ্ঞে.............
অক্টোবর ৮
কাজ থেকে ফিরেই দৌড়ে গেলাম ল্যাংগুয়েজ শেখার ক্লাসে, সেখান থেকে বাসায় ফিরে হন্তদন্ত হয়ে গেলাম বাজারে। একগাদা বাজার করে ফিরতে ফিরতে রাত আটটা। কি করি ভীষন টায়ার্ড লাগছে। অথচ উপায় নেই। রাঁধতেই হবে। এই সেশনে যারা নতুন এসেছেন, তাদের সহ কিছু পুরোনো বন্ধুদের কাল খেতে বলেছি। এটা এখানকার রুটিন ওয়ার্ক। সবাইকে করতে হয়। ৩০ জন মানুষের রান্না, কিছুটা এগিয়ে না রাখলেই নয়!
রাত দশটায় আমার আদরের এক তরুণ দম্পত্তি এসে হাজির। তরুণী গিন্নি এসেই কোমর বেঁধে লাগার চেষ্টায় ব্রত, "আপু আপনাকে হেল্প করতে চাই..।" কোনরকমে ওকে ক্ষান্ত করলাম। এদিকে আমার ক্লান্তি ওদের দেখে জানালা দিয়ে পালালো। চললো কাজ আর ভোর চারটা পর্যন্ত আড্ডা।
অক্টোবর ৯
তোমাদের জন্য পংক্তিমালা
কিছু কিছু মানুষ আছে অল্প সময়েই মায়ার বাঁধনে বেঁধে ফেলে বড়বেশি আর্দ্র কমনীয়তায়।
চোখ-কানবুঁজে আমি এরকম মানুষের কেনা হয়ে হযে যাই। হতে ভালোইবাসি। মানুষ মাত্রই
দৃশ্যত...
(১)
ফ্রস্টের কবিতার মতো, পথের দুটো শাখা ছিলো অজানার দিকে এলিয়ে। মনে মনে কেমন করে যেন জানাই ছিলো দীর্ঘশ্বাসের শব্দ একদিন গাঢ়তর হবেই, তাই চোখ বুজে হেঁটেছি মন যেদিকে চেয়েছে। অনেক পথের পরে এক নিঃশ্ছিদ্র পাথরের দেয়াল আজ পথের সমান্তরাল। নিজেকেই প্রশ্ন করি, পৃথিবীর শেষ প্রান্তেও কি দেয়ালের কোথাও ফাটল পাওয়া যাবেনা? কিংবা সমান্তরালে হয়তো সবাই চলে, কারো চোখে অদৃশ্য থাকে দেয়াল, আবার কেউ অনেক দেরীতে খুঁজে পায়... কেউ হয়তোবা দেয়াল খুঁজে পাবার আগে নিজেই হারিয়ে যায়। আমি কি তবে সৌভাগ্যবানদের কেউ... যে দেয়ালের সমান্তরালেও ফাটলের স্বপ্ন দেখে?
(২)
জয়তু ১০-১০-১০
আজ ঐতিহাসিক ১০-১০-১০। তিনটি কারনে এটি বিশেষ একটি দিন আমার কাছে। । এই তারিখটি আমাদের প্রজন্মের কারো জীবেনই আর আসবে না। SO GOOD BYE 10-10-10. আরো একশ বছর কেউ বাচবেন কি?
২য় কারন: আজ থেকে ৭ বছর আগে, সেদিন ছিল শুক্রবার, রাত ৮-৩০ মিনিটে,আমি এবং অদ্বিতী পরস্পরের গলায় মালা পড়িয়েছিলাম, সে মালাটির সুতো ছিল লাইলনের। ৭ বছরেও তাই অটুট আছে। আমাদের এই যুগল জীবনকে আরো রংগিন করেছে- রাইসা নামের এক রাজকন্যা । মধুময় এই দিন উপলক্ষ্যে আমরাই আমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি....। দিনটি কি ভূলে যাবার মতো, আপনারাই বলেন?
আর ৩য় এবং শেষ কারনটি অবশ্যই আমরা বন্ধু। আজ মেইল চেক করতে গিয়ে দেখি ইনবক্সে এসেছে- আমরা বন্ধু ব্লগে নিবন্ধিত হবার চিঠি, এবং লেখার আমন্ত্রন। সেই কবে যেন বন্ধু শাহাদাত উদরাজীর পিড়াপিড়িতে APPLY করেছিলাম মনে নেই। অনাগ্রহ ছিল প্রচুর। লিখতে জানিনা নিবন্ধিত হয়ে কি করবো! যাক অবশেষে আপনাদের সাথী হলাম।
ফৌজি বাণিজ্য: প্রথম পর্ব
অনেকেই হয়তো শুনেছেন। তারপরেও বিবিসির বিশেষ এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন এখানে দেওয়ার উদ্দেশ্য দুটি। একটি হচ্ছে, যারা বিবিসি শোনেন না তাদের বিষয়টি জানানো। আরেকটি হচ্ছে নিজের কাছে রেকর্ড রাখা।
রিপোর্টগুলো তৈরি করেছেন বিবিসির কামাল আহমেদ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিষয়টি স্পর্শকাতর হলেও সবার জানার প্রয়োজন থেকেই আমার এই পোস্ট। মোট তিনটি পর্বে ৯টি রিপোর্ট এখানে দেওয়ার ইচ্ছা। আজ থাকলো প্রথম তিনটি পর্ব।
ফৌজি বাণিজ্য:উত্তরাধিকার
ঢাকার বাইরে মফস্বলের কোন শহরে আপনি যদি আইসক্রিম খেতে চান তাহলে হতে পারে যে আইসক্রিমটি আপনি খাচ্ছেন তা সেনাবাহিনীসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তৈরী।
একদিন খুব হাপুস হুপুস গ্রামের বাড়ি।
একদিন হাপুস হুপুস গ্রামের বাড়ি চলে যাবো। হুট করেই, যেদিন মনে হবে ঠিক সেদিন। মানে যদি অফিস বন্ধ থাকে পরদিন বা সেদিন বা অফিস খোলা থাকলেও যাবো-ই। কোন পিছুটান থাকবে না, কেউ বলবে না যাস নে, দায় থাকবে না, মনে হবে না এই কাজ সেই কাজ। খালি মনে হবে একদিন হাপুস হুপুস গ্রামের বাড়ি চলে যাবো। মনে হওয়া মাত্রই একটা ব্যাগ, না না ব্যাগ নিয়ে কি হবে, ব্রাশ, হা হা নিমের ডাল আছে না। ফলে ব্যাগ ছাড়াই, এক পোশাকে, হাপুস হুপুস গ্রামের বাড়ি। যদি সেদিন বাস পাই, বাস না পেলেও অন্য কোনভাবে যাবো-ই, ট্রাকে চেপে কি ট্রেনের ছাদে, একদিন খুব হাপুস হুপুস করবো। একেবারে লাস্ট ট্রিপের বাসের শেষ টিকিটটা কেটে, পেছনের কোণার জানলায় দুচোখ বেঁধে নিয়ে, আহ- এবার তবে গ্রামে যাবো। সেদিন যদি বৃষ্টিও থাকে, সিএনজি ভাড়া যদি হয় তিনগুণ, বলা যায় না, হয়তো কোন গাড়ি-ই আমি পাবো না, হেঁটে হেঁটে সায়দাবাদ, যার&
কলকল্লোল কোলাহলে
ইদানীং তোমাকেই ভয় পাচ্ছি-----নির্জনতা।
অন্ধকার ঘন হয়ে এলে রাতের কফিন থেকে ড্রাকুলার মতো উঠে আসো;
প্রাচীন-সমাধিতে ডানা ঝাপটায় রক্তভুক বাদুড়ের পাল।
কি অনায়াসে তুলে আনো
যত্রতত্র হেলায় ফেলে রাখা বিস্মৃতির প্রখর হলুদ খামগুলো,
ছেঁড়াখোঁড়া-অগোছালো অংক না মিলা হিসেবের খাতা।
চাইনা।
ধুলোর আবরণে--বিস্মরণের ছাইয়ের নীচেই ওসব মানায়।
জনপদে মানায়না শবের মিছিল।
যেতে চাই কোলাহলে।ঊর্মিমালায়।
ডেকে যাচ্ছে নীল ঢেউ--মাঝ সমুদ্র ----------------
আমি খুঁজছি এক অলৌকিক-সাম্পান---ডুবুরির পোষাক;
এই উন্মত্ত-মাতাল প্রচন্ড-তরঙ্গের গভীর-গভীর-গভীরতম নিবিড়তায়
পৌঁছানোর সমস্ত আয়োজন--সাজ-সরঞ্জাম।
অতলের শিথানে হাত রেখে স্পর্শ করি কলকল্লোল জলের পৃথিবী।
আজ আমাদের নুরুজ্জামান মানিক ভাইয়ের জন্মদিন....। শুভেচ্ছা নিরন্তর...।
ফেসবুকে লগিন করেই ইভেন্ট চেক করি সবসময়, আজ চেক করতেই দেখলাম, আজ ওয়ান এন্ড ওনলি মানিক ভাইয়ের জন্মদিন।
ব্লগিং এর হাজারটা নেতিবাচক দিকের মধ্যেও কিছু পজেটিভ দিকও আছে, যে জন্য এখনও অফলাইনে হলেও ব্লগ পড়ি। তেমনি একটা পজেটিভ দিক হচ্ছে কিছু অসাধারন মানুষের সাথে পরিচয়। মানিক ভাই তেমনি একজন অসাধারন মানুষ।
দেশ-মুক্তিযুদ্ধ-রাজনীতি নিয়ে ইতিহাস নির্ভর নির্মোহ-নিরপেক্ষ লেখা যে কয়েকজনের কাছ থেকে পেয়েছি (খুব অল্পসংখ্যক) তাদের মধ্যে মানিক ভাই নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে আছে। এই লোকের চ্যাট করলেও না জানা অনেক ইতিহাস জানা যায়।
ভালো থাকুন মানিক ভাই, সুস্থ থাকুন, বেচে থাকুন হাজার বছর। আপনার শক্তিশালী নিরপেক্ষ লেখনী দিয়ে আমাদের না বলা ইতিহাস গুলোকে নিয়ে আসুন প্রাদ-প্রদীপের আলোয়, এই কামনা।
শুভ জন্মদিন ওয়ান্স এগেইন। 
কৃষ্ণকলি আমি তারে বলি
আজ সারাদিন চট্টলায় একরকম ঝুম বৃষ্টি হল বলা যায়।সাধারনত আমি বৃষ্টি অপছন্দ করি খুব অপছন্দ করি দুই চোখে দেখতে পারিনা।কারণ জানিনা। সাধারণত হটাত বৃষ্টি হলে আমি একটা “বোল্ট” দৌড় দেই কোন ছাদের নিচে।সেটা অবশ্য যতটা না বৃষ্টির প্রতি ঘৃণা থেকে তারচেয়ে বেশি জন্মগত এজমাজনিত সমস্যার ভয়ে।কিন্তু জীবনে আমি গোণা পাচ বার বৃষ্টিতে আস্তে আস্তে হেটে গিয়েছি খুব আস্তে আস্তে খুব আস্তে ভিজতে ভিজতে। কারণ কখনো কখনো আকাশের জলের আড়ালে নিজের চোখের পানি লুকিয়ে ফেলাটা জরুরি বেশ জরুরি।
বৃষ্টি ঝরে যায়............
''বৃষ্টি ঝরে যায় , দু চোখে গোপনে.।
সখি গো, নিলা না খবর যতনে
আশায় আশায় বসে থাকি তোমারো পথে
সখি গো, নিলা না খবর মনেতে।
তোমার ও চোখে কি , বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর
আমাকে মনে করে সারাটি বেলা
যত কথা ছিল মনে , বলেছি তোমাকে আমি
ভুলে কি গেছ সব হৃদয়ের কথা.।.।'
বৃত্তের বাইরে
ও কেন্দ্রবিশিষ্ট এ-বি-সি বৃত্তের ঠিক উপরেই মন পালাতে চাওয়া জানলাটা, হালকা বাতাসে তার কাঠের পাল্লাটা ক্যাঁচকোঁচ করে উঠে। সেই জানলা বেয়ে অয়নের চোখ গিয়ে পড়ে উল্টো পাশের কাজী ভিলার চারতলার হলদে আলো ঝরা জানলাটায়। সূয্যি ডোবার পর থেকেই গুনগুন করে পীথাগোরাস কিংবা ইউক্লিডের পিত্তি চটকাচ্ছিল অয়ন, তার মাঝেই দূরের সে হলদে আলোয় একটু আনমনা হয়ে ওঠে। ঘাড়ের ঠিক পেছনে হঠাৎ রদ্দি খাবার ভয় তো আছেই... তারপরেও সারা সন্ধ্যা জুড়ে একতালে গুনগুনের এইটুকু এলো হওয়া হয়তো মায়ের কর্ণগোচর হবেই না! চারতলার জানলার ওপাশে অল্প একটু ছায়ার নড়ন-চড়ন দেখা যায় কালেভাদ্রে, আর কিছু না। আজও সেরকমই একটা নিস্তরঙ্গ রাত যাবে হয়তো...আরেকটু ভাল করে দেখার আশায় তাই চশমাটাকে নাকের ডগায় আগুপিছু করে নিল, কিন্তু তাতে কি আর চশমা দূরবীনে বনে যায়? ঠিক যেই মুহূর্তে হতাশ হতে যাবে, তখুনি দপ করে নিভে গেল বাতিটা। মন ফিরে এল এ-বি-সি বৃত্তের ভেতরের বৃত্তস্থ কোণে।
টুকরো-টাকরা ৩
এক.
১৯৫৩ সালে এডমান্ড হিলারী আর তেনজিং নরগে শেরপা যখন হিমালয়ে উঠছিলেন তখন তারা প্রমাণ হিসাবে কি দেখাইছিলেন সেইটা আমি জানিনা। কিন্তু ঐ ঘটনার প্রায় ৫৭ বছর পর মুসা ইব্রাহীমের লেইগা প্রমাণের অনেক পরিসর তৈরী হইছে। শেরপারা একটা বুদ্ধমূর্তি লইয়া গেছে উপরে, তার চাইর পাশে লাখে লাখে প্রার্থনার পতাকা জড়ো কইরা রাখে পর্বতারোহীরা। মুসা ইব্রাহীম বুদ্ধমূর্তি পাশে লইয়া কোনো ছবি তুলেন নাই। উপরের ছবিটাতে সেইটাই দেখতে পাই আমরা।