ইউজার লগইন
ব্লগ
গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও শহীদ নূর হোসেন
যে অধিকারের জন্য ৩০ লাক্ষ মানুষ শহীদ হতে হল, তার এক দশক পরেই জন্ম নিল বাংলার মাটিতে এক বিশ্ব বেহায়া স্বৈরাচার, মানুষের নুন্যতম গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে যখন বঞ্চিত হল, তখন এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গন আন্দোলন গড়ে তুললো,.....১০ই নভেম্বর ১৯৮৭..সকাল থেকেই গুলিস্তান, জিরু পয়েন্ট, পল্টন এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এসে জড়ো হতে লাগলো,..তরুন, কিশোর, বৃদ্ধ সকল বয়সী প্রতিবাদী মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠলো পুরো এলাকা...সে এক অভাবনীয় দৃশ্য। সবাই স্বৈরাচারী এরশাদের হাত থেকে মুক্তি চায়, চায় গনতন্ত্র...যেখানে মানুষের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।
আমি কখনো স্বৈরশাসক এরশাদকে পছন্দ করতে পারি না...
আমি কখনো স্বৈরশাসক এরশাদকে পছন্দ করতে পারি না...
কারণ
তখন বুঝতে শিখেছিলাম দেশের মানুষের হাহাকার...
তখন নুর হোসেনের পরিবারের কান্না আমাকে স্পর্শ করেছিলো....
তখন দেখেছি একটা দেশকে কীভাবে বিপর্যস্ত করে ধ্বংসের শেষ সীমায় নেয়া যায়...
আমি আস্থা রেখেছিলাম দুই নেত্রীর উপর
কারণ
তারা স্বৈরাচার এরশাদ হটানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল
জেল জুলুম অত্যাচার সয়ে দেশের মঙ্গলে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিল
আর আমি এখন দেখছি
দুই নেত্রী এরশাদকে আসলে ত্যাগ করতে পারে নাই 
যখন যার প্রয়োজন হয় সেই ডেকে নেয়
.......................................... আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখিনি... আমি নব্বই দেখেছি... আমি এরশাদের পুনর্বাসন দেখে বুঝতে পারছি রাজাকারের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া...
আমি কাউকে দোষ দেই না... "যখন কেউ বলে ৪২ বছর আগের গণ্ডগোল নিয়ে এত লাফানির কি আছে" তখন মনে হয় দোষ অন্যের না দোষ আমার রক্তে...

হরতাল
ঠাডাভাঙ্গা নিউজ !!!
আকাশে আজ দিবাকর রাত্রে হরতালের চাঁদ
দেখা গিয়েছে,
হরতাল মোবারক
দেশ আবারো মেতে থাকবে হরতালের আনন্দে,
হরতাল উপলক্ষে বিশেষ আকর্ষণীয়
আয়োজন
:>→
রাস্তার
মোড়ে মোড়ে চলবে ডিজে পার্টি উইত
বিরানি মিক্স এন্ড ছিড়া কাঁথার নেতাদের
রকিং ও চিকি ছিকি ভাষন।
তাছাড়া রজনী কান্তের পিকেটার
ফ্যানরা লুঙ্গী ড্যান্সের পাশাপাশি ককটেল
ড্যান্সের করে পিকিটিং চালাবে, তাদের
উৎসাহ দিতে ড্যান্সে অনন্ত জলিল ও
বর্ষা থাকবে।
আর এই গণতন্ত্রিক উৎসবকে সামজিক
উৎসবে ছড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন
হরতাল আহবায়করা
আশাকরি, এই হরতালের আনন্দে চারদিন
ডুবে থাকবে সারা দেশ
সবাইকে আবারও হরতাল মোবারক
হিপ হিপ হুররে
এবং আমরা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি
অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনটা খুব দ্রুতই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেলো, পূঁজিবাদী ব্যবস্থার আভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় ভোক্তা-ব্যবসায়ী-রাষ্ট্র- আইন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মাণ অক্ষুন্ন রাখার ন্যুনতম নিশ্চয়তা নেই, অর্থের পরিমাপে মানুষের মূল্য নির্ধারিত হলে, প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর প্রাপ্যতা এবং মাণ অর্থে নির্ধারিত হলে শুধুমাত্র গুটিকয়েক মানুষ সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা কিনে ফেলতে পারে এবং গণমাধ্যম অশ্লীল ভাবে সেগুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে সবার ভেতরে তেমন জীবনযাপনের স্বপ্ন তৈরি করতে পারলেও সে পথে সবার সহজ গতায়ত নেই। অর্থনীতি এবং প্রোডাক্টিভিটির ইঁদুর দৌড়ে শুধুমাত্র কয়েকজন সফল হবে, বাকীরা সেই সাফল্যের আশায় পূঁজিবাদী অর্থনীতের যাতাকলে পিষ্ট হবে। তবে অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনটা এই সহজ প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতার বিরুদ্ধে ছিলো না বরং বিদ্যমান ব্যবস্থায় ন্যায্যতার অভাবে আন্দোলনটা শুরু হয়েছিলো।
স্বপ্নালু অশ্রু
সেদিন বিশাল পার্টি ছিলো গ্রান্ড হোটেলে। প্রচুর লোক, ব্লন্ড চুলের অপরুপ সুন্দরী, কমপ্লিট স্যুটের কর্পোরেট, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের ছড়াছড়ি। ওয়াইন সার্ভ করার দায়িত্ব আমার ওপর পড়েছে আর আমার সাথে সিন্থিয়া আর জোবিহা। জোবিহা ইসরাইলের। প্রথম যেদিন দেখা হলো বেশ ভড়কে গিয়েছিলাম। শেভ করা ছিলাম না, চোখ দুটো লাল। ভোর বেলা আধ ঘুমে ড্রেস রুমে জামা চেন্জ্ঞ করে যখন টেবিলের বিশাল বিশাল সাদা কাপড় লন্ড্রিতে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ পেছন থেকে আমাকে একটা মেয়ে ডাকলো।
পেছনে তাকিয়ে দেখি অপরুপ সুন্দর কালো চুলও মেয়ে। মেয়েটির চেহারার সবচেয়ে আকর্ষনীয় হলো চোখ আর তার মোটা ভ্রু। বিশাল বিশাল চোখে চোখা চোয়াল আর নাকের সাথে অদ্ভুত ভাবে মিলিয়ে গেছে। ডোরা কাটা সুন্দরী যাকে বলা যায়।
: (সুইডীশে) তুমি কি এখানে নতুন?
: এই তো কিছুদিন।
: যাই হোক, ওয়াইনের বোতল গুলো কার দায়িত্বে? একটাও সাজানো নেই। ফ্রেন্ঞ্চ ওয়াইনের সাথে লেবানীজ। হোয়াইটের সাথে রেড। কাল কি নতুন কেউ কাজ করেছে এখানে?
: তা তো বলতে পারবো না। তবে কোথায় এরকম হয়েছে বলতে পারো?
দুঃখী বেহালা

দূরে বহুদূরে একাকী পথিক
ঘুমহীন খা খা রোদ্দুরে
আনমনে হেঁটে যাওয়া
ধূলি ধুসরিত শহরের পথে।
ব্যস্ত সড়কে অবিরাম ছুটেচলা
যান্ত্রিক শব্দের ভিড়ে
রঙিন কাঁচের আড়ালে
হতাশ জীবনের জলচ্ছবি।
জানালার কার্ণিশে তৃষ্ণার্ত কাক
অপেক্ষায় বৃষ্টিমুখর ক্ষণের,
ধূসর আকাশ; মেঘহীন, স্তব্ধ
দূরে কাঁদে জারুল, সোনাঝুরি।
সড়কদ্বীপে একা ল্যাম্পপোষ্ট
রোদেপোড়া ক্লান্ত পথচারী
দীর্ঘ পথচলায়, অপেক্ষার প্রহরে
বিরহী দুঃখী বেহালা।
পাশাপাশি জীবনের অদেখা ভূবনে
নীরব রাতের স্বপ্নবিহীন চাওয়া পাওয়া
মাঝরাতে তুমুল বৃষ্টি, তপ্ত নিঃশ্বাস
নিঃসঙ্গতার আড়ালে সুখের চাষবাস।
অক্টোবরের সিনেমা দেখা দেখি!
সিনেমা দেখতে আমার খারাপ লাগে না এখন আর। আগে অবশ্য কখনোই এত ভালো লাগতো না, কারন টিভিতে কত অপশন রিমোটের ঘুরে ঘুরে কত কিছুতে চোখ বুলানোর সুবিধা। সেই তুলনায় সিনেমা দেখতে হলে পিসি খুলে বসে থাকো। টানা দেখে যাও। তাই দীর্ঘ দিন আমার সিনেমা দেখার জায়গা টেলিভিশনে। টেলিভিশনে সিনেমা দেখার কথা শুনলেই পাবলিক হাসে, বলে উঠে টিভি কি সিনেমা দেখার একটা জায়গা হলো?
ত্রুটিহীন দুঃসময়
ভাবনার কার্নিশে ডাহুকেরা ঝিমিয়ে আছে কিছুক্ষন। মেঘলা দুপুরে সান্ধ্যআইন মেনে চলা ন গরীর পথগুলো শান্তিতে ঘুমিয়ে। বৃষ্টির ফোটাগুলো আমার লোমশ হাতে দৌড়ঝাপ দিয়ে যায়। বাতাসের শীষে কিছুগান খুব পরিচিত লাগে। দুঃখ পাবার বিলাসী সময় কাটছে এখন। দীর্ঘস্হায়ী নয় জেনেও "যাক না সময় যাক না চলে" মুডে চোখ বুলাই সবুজ বনানীর পানে।
রক্তাক্ত কারাগার, ৩ নভেম্বর'৭৫
সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সংঘটিত হয়ে গেলো ২/৩ নভেম্বর রাতে রক্তাক্ত এক কুখ্যাত জেলহত্যাকান্ড। মুজিব খুনি মেজর ফারুকের বিশ্বস্ত রিসালাদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দলকে তারা(ফারুক,রশিদ,মোশতাক) পাঠান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। দলবল নিয়ে গভীর রাতে জেলে পৌছে আওয়ামীলীগ নেতাদের হত্যা করতে চাইলে জেলের আইজি, ডিআইজি এবং জেলার হতবম্ব হয়ে পড়েন। জেলে এই সময় ফোন আসে বঙ্গভবন থেকে। আরেক খুনি মেজর রশিদ এর আগেই আইজি প্রিজন নুরুজ্জামানকে জানিয়েছিলেন মোসলেমউদ্দিনের জেলে আসবার কথা।
ফোন করে মেজর রশিদ জিজ্ঞাসা করেনঃ- মোসলেমউদ্দিন কি পৌঁছেছে?
নুরুজ্জামান বলেন, জী পৌঁছেছেন কিন্তু আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
রশিদঃ আপনি প্রেসিডেন্টের(মোশতাক) সাথে কথা বলেন ।
মোশতাক ফোন ধরলে নুরুজ্জামান বলেন স্যার মোসলেমউদ্দিন সাহেব তো বন্দিদের গুলি করার কথা বলছেন।
মোশতাকঃ সে যা বলছে তাই হবে। ....এই বলে মোশতাক ফোন রেখে দেন।
তোমার রহমান নাম,যে গেঁথেছি অন্তরে।
তোমার কোন কোন দানকে
করিব অস্বীকার,
অধম, গোলাম, না চাহিতেই
যেথা দিয়েছ ঢেলে অপার।
তুমি অসীম দয়াবান
তাই শিখিয়েছ কোরআন।
সৃজিলে মানবেরে
শুকনা মাটি দিয়ে
জ্বীনকে বানালে কোন সে লীলায়
অগ্নি শিখা দিয়ে।
জবান দিলে তুমি সকল সংযোগের
বাহন করে।
জমিনকে বানালে আবার
সৃষ্ট জীবের আহার্য্যের আঁধারে।
ফলমূল, শস্যাদি, খেজুর
কত শত আহার্য,
রয়েছে সুগন্ধি ফুল,
ভাষাহীন তার সৌন্দর্য।
নদী ও মহোদধি
বয়ে চলে নিরবধি,
কেউ কারও সীমা
কভূ করে না লংগন,
নদীর পানি হয় যে মিঠা
সমুদ্রের পানিতে হায়! কত যে লবণ।
শুধু কি তাই!
নদী ও সাগরে
কত যে মনি মুক্তা রাজি ঝড়ে,
নৌকা ও জাহাজে চড়ে যাই
দেশ হতে দেশান্তরে।
সমুন্নত আকাশ বানিয়ে তুমি
শিখিয়েছ ভারসাম্য,
মানবেরে করেছ আদেশ
রাখিতে হিসেবে সাম্য।
নক্ষত্র বৃক্ষরাজি
সর্বদা অনুগত
চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র চলে
নিখুত হিসেব মত।
জ্বীন ও মানবেরে
দিয়েছ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে
পার যদি নাও অবকাশ,
ছেড়ে গিয়ে আমার জমিন ও আকাশ।
উভয়ের কি সাধ্য বল
নড়িতে এক তিল
তব অনুমতি নাহি যেথা
যার ভিসা মিলিবে যথা
সে যাবে হেথা
একেকদিন
একেকদিন খুচরো পয়সা, অজান্তে খরচ হয়ে যায়
একেকদিন খুব সুস্থ থেকেও মন অসুস্থতার গান গায়
এক এক দিন করে বছর চলে যায়
হাহাকারগুলো বিদ্রুপের ছায়াতলে
তোমার বিছানার সাইড টেবলে
অবহেলে পড়ে রয়
কেন যে এমন হয়!
তোমাকে কাছে পাবার তৃষ্ণা
জাগ্রত বিগ্রহ দেহ
সটান নগ্নতায়
একেকদিন একেকদিন বিরহ
সব কিছুর দখল পায়
তোমাকে ডাকা অনেক নাম
তোমাকে বলা না বলা অনেক কথা
নীরবতায় ছেয়ে যায়
একেকদিন নিজেকে লাগে
বড্ড অসহায়
কিশোরী, তরুণী ও নারীকে বলছি- সতর্কতা ২
যারা পর্ব ১ পড়েন নি, তারা সেটা পড়ে এসে তারপর এই পর্ব পড়লে আপনার সুবিধা হবে। বাইরের বিপদ জানার সাথে সাথে নিজের অভ্যন্তরের বিপদ জানাটা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজকে সামাজিক কারণে কিছু সমস্যা/ বিপদগুলো নিয়ে বলবো। আশা করছি তথ্যগুলো সাহায্যকর হবে।
বিয়ের পাত্রের খোজখবর- বিষয়টা বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে অনেক সময় পাত্র বা তার পরিবারের প্রদর্শিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে, পাত্র সম্পর্কে ঠিকঠাক খোজখবর না নিয়েই পিতা-মাতা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। ফলাফল স্বরূপ বিয়ের পর জানা যায়-
-পাত্র মাদকাসত্ত
-পাত্র একজন বিশিষ্ট বেকার এবং এখন যৌতুক চায় নিজে দাঁড়ানোর জন্য
-পাত্রের কোন বিশেষ শারীরিক রোগ আছে যা সন্তান ধারণে বাধা স্বরূপ
-পাত্র মানসিক রোগী
-পাত্রের প্রথম স্ত্রী আছে, যার সাথে এখনো তালাক হয়নি
-পাত্র মানবী-বাণিজ্যের সাথে যুক্ত (বিয়ে করে রংমহলে বিক্রি করে দেওয়া)
-পাত্র অন্যান্য মারাত্বক অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত
একজন ধর্ষিতা বনাম Two-finger Test
একজন ধর্ষিত নারী ধর্ষণের ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে যখন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে, ঠিক তখনই আদালতে তাকে ‘Two-finger Test’ নামক অপমানজনক পরীক্ষা দিতে হয় নগ্ন হয়ে কতোগুলো পুরুষ চিকিৎসকদের সামনে।
আমাদের দেশে একজন ধর্ষিত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা তা যাচাই করার জন্য আদালতে ‘Two-finger Test’ করানো হয়। এই টেস্ট করানোর জন্য কি দেশে নারী চিকিৎসক নেই, তাদের দ্বারা কি এই টেস্ট করানো যায়না? কেন পুরুষ চিকিৎসকদের সামনেই একজন নারীকে নগ্ন করতে হবে?
আশাবাদের চাষাবাদ!
সুশীল ভাষায় এই সময়টাকে বলে ক্রান্তিকাল। তবে শুধু ক্রান্তিকাল বললে এই সময়টার ঠিকঠাক নাম দেয়া হয় না। আমার মাথাতে খালি আসে দুটো শব্দই 'চরম দুঃসময় ' সেটা সব দিক থেকেই। রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজ, রাষ্ট্র সব খানেই ঘোরতর অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, অস্বস্তিতে দিন কাটছে সবার। যেখানেই যাই, যে কথাই বলি ঘুরে ফিরে আসে পলিটিক্যাল ক্রান্তিকালের এই কথাগুলাই। এখন তো নান্নুর চায়ের দোকান নাই তাই অনেক জায়গাতেই মাঝে সাজে বসা হয়। নানান লোকের কথা শুনি, সবাই খুব টেনশনে। আমাদের এক বন্ধু আছে নাম মুহিত। বাপের বিশাল বড় বাড়ী, জাবি থেকে মাস্টার্স করছে এখনো শেষ হয় নাই। ওর বাপ হুট করেই খুব হন্তদন্ত হয়ে ইউরোপের কোনো দেশে আরেকটা মাস্টার্সের জন্য পাঠাতে চায়, অথচ এত বছরের জীবনে তার বিদেশে যাবার কোন প্ল্যানই ছিল না। সেও দোড়ঝাপ শুরু করছে। এখন বলতে পারেন- এইসব ব্যাপার স্যাপার তো আগে থেকেই ছিল, কিন্তু আগের সাথে এখন ডিফারেন্সটা হলো আগে সামর্থ্যবান মানুষদের ভিতরে অনেকের ইচ্ছা থাকতো বিদেশে যেন একটা ঠিকানা থাকে। এখন সবাই তা বাধ্যতামুলক ভাবে করছে। এমন একটা ভাব যেন দেশে আশু সিভিলওয়্যার হচ্ছে। আরেক লোকের কথা বলি তার নাম ধাম পেশা কি জ
ভাঙচুরের ব্যবসা
হুমায়ুন আহমেদের নান্দাইলের ইউনুসের গল্পটা নিছক গল্প না বরং বঞ্চিত মানুষের আভ্যন্তরীণ ক্রোধের মাত্রাবোধহীনতার রূপায়ন। অবশ্য নান্দাইলের ইউনুসের উপখ্যান আমাদের জানতে হয় না, আমরা চলতি পথে বিচারের আড়ালে এমন অমানবিক নৃশংসতার উদাহরণ নিয়মিতই দেখতে পাই।
একটা সময়ে রাস্তায় ছিনতাইকারী কিংবা চাঁদাবাজ ধরা পরলে উত্তেজিত জনতা তাদের পিটিয়ে হত্যা করেছে, পকেটমার শিশু-কিশোরদের আঙ্গুল কেটেছে, আগুণে পুড়িয়ে মেরেছে, গণমাধ্যম নিয়মিতই এসব সংবাদ প্রকাশ করেছে কিন্তু এই অহেতুক বর্বরতার বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারে নি।
সমষ্টির ভেতরে অনেক ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ মানুষ থাকে, যারা জীবনে কোনো না কোনো সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে, যাদের বাজারের টাকা পকেটমার হয়েছে, যাদের ছোটো প্রতিষ্ঠান প্রাণের আতংকে চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। অসংখ্য মানুষ যারা মূলত আইনী সুরক্ষা চেয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা চেয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র আইনী সুরক্ষা কিংবা নিরাপত্তা প্রদাবে ব্যর্থ। এইসব ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ মানুষেরা ভীড়ের আড়ালে ভয়ংকর নৃশংসতায় অমানবিক ভাবে নিজের ক্রোধের উপশম খুঁজে পায়।