ইউজার লগইন
ব্লগ
ভুলের ভাণ্ডার
ভুল বানানটি সঠিক বটে
লিখবেন না কেউ ভূল
তুল লিখেন টুল লিখেন
লিখবেন না বানান মুল।
মূল কিন্তু মুল নয়
রাখবেন মনে সবে
মুল যদি লিখে কেউ
ভুল জানবেন তবে।
কুল যদি বরই হয়
কূল নদীর পাড়
ভুল বানানে অভ্যস্ত
লজ্জা দেবে স্যার।
তুলা লিখেন কুলা লিখেন
লিখবেন না কেউ মূলা
মুলা বানান সঠিক তবে
লিখবেন না ফরমূলা।
ফরমূলা নয়, ফরমুলা
জেনো নিশ্চয়
ইংরেজি উচ্চারণে
(ূ) ঊ-কার নাহি হয়।
কারণ বারণ মরণ লিখেন
ধরণ লিখবেন না
ধরণ যেন ধরন হয়
লিখতে ভুলবেন না।
গুণ লিখেন ঘুণ লিখেন
গুন লিখবেন না
গুণিতকের মর্মকথা
এতে পাবেন না।
কাঁটা-বোঁটা সবই লিখেন
ফাঁটা লিখবেন না
ফ-এর ওপর চাঁদ বসালে
ফাটা থাকবে না।
হাসি লিখেন কাশি লিখেন
হাস লিখবেন না
চাঁদ ছাড়া হাঁস-ফাঁস
কিছুই হবে না।
বাড়ি-গাড়ি সবই লিখেন
হাড়ি লিখবেন না
হাঁড়ির ওপর চাঁদের টিপ
দিতে ভুলবেন না।
আসন বাসন নয়নে
‘ন’ হবে নির্ভুল
প্রান ঘ্রান ত্রান লিখে
করবেন না তাই ভুল।
প্রাণ ঘ্রাণ ত্রাণ বানানে
লিখবেন মূর্ধন্য- (ণ)
এ নিয়মে লিখে যান
বর্ণ বর্ষণ আর কার্পণ্য।
অনুরোধে হবে করুন
অবস্থাতে করুণ
তোরণ বানিয়ে তারুণ্য
পোড়া রোগীর মিছিল
পোড়া রোগীর মিছিল
ডেস্ক রিপোর্ট
টাইম নিউজ
undefined
ঢাকা: পোড়া রোগীদের চিকিত্সাার একমাত্র জায়গা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট৷ শুধু রাজধানী নয়, দেশের আর কোথাও পোড়া রোগীদের চিকিত্সাের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল বা ইউনিট নেই৷
দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে৷ রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে৷ অগ্নিদগ্ধ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷ কিন্তু এই পোড়া রোগীদের চিকিত্সা দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষায়িত এই ইউনিটটি৷ সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের ডাকা অবরোধের মধ্যে রাজধানীর শাহবাগে বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা৷ এতে ১৯ জন দগ্ধ হন৷ এর মধ্যে মারা গেছেন দুই জন৷
তবুও আঁখিজলে হলুদ স্বপ্ন
শুনেছি কেউ কারো পিছু নিলে ভিকটিম বিষয়টি বুঝতে পারে এবং বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে।কেউ কোনদিন আমার পিছু নিয়েছিল কিনা মনে করতে পারছিনা,তবে এই মুহূর্তে যে কেউ আমার পিছু নিয়েছে সেটা বুঝতে পারছি।লোকটা বেশ লম্বা,পেছনে না ঘুরেও সেটা বোঝা যাচ্ছে।এখন পড়ন্ত দুপুর,সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়তে শুরু করেছে,আর আমি হাঁটছি পূর্ব দিকে।আমাকে ফলো করা লোকটা নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও একটু পর পর আমার পাশে তার ছায়া এসে পড়ছে।পরক্ষণেই সীমাহীন ব্যস্ততায় ছায়াটি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
সবার পড়া বনফুলের গল্প!
'শ্রেষ্ঠ' এই শব্দটার ব্যাবহার আমার ভালো লাগে না। ভালো কিংবা সেরা বলা যায় কিন্তু কোনো জিনিসকে এত সহজে শ্রেষ্ঠ বলতে ইচ্ছা করে না। কারন শ্রেষ্ঠ বলার সাথে সাথেই বাকী সব গুলোকে তুচ্ছ ঘোষনা করতে হয়। আর সাহিত্য, নাচ, গান, সিনেমা যাই হোক আর্টফর্মের কোনোকিছুই শ্রেষ্ট বলে রায় দেয়া যায় না। কারন সব কিছু সময় নির্ধারন করে, আজ যা শ্রেষ্ঠ কাল সেটা অতি সাধারণ ব্যাপার বলে হয়ে যেতে পারে। তবুও আমরা শ্রেষ্ঠ বলি, রায় দেই অমুক জিনিসটা সবার সেরা। ঠিক তেমন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রেরও চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা সিরিজের অসংখ্য বই আছে যা পাঠকদের সুবিধার জন্য ঘোষনা দেয়া যে অমুক লেখকের শ্রেষ্ঠ গল্প বা কবিতা সুলভ সংস্করণে। পাঠকদের জন্য সুবিধা যে তারা বিখ্যাত সব লেখকদের কিছু ভালো লেখা এক বইতেই পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু ছিল নাম মাইনুল। ওর কাছে আমি খুব থ্যাঙ্কফুল কারন ওর বড় বোনের এইসব বইয়ের ছিল আড়ত, আমি নিয়ে নিয়ে পড়তাম আর তাতে ক্লাস টেন এলিভেনেই আমার প্রচুর বাংলা ক্লাসিক জিনিস পড়া শেষ না হলেও কিছুটা পড়ে ফেলা হয়েছিল।
দুই হারামি মিলিয়া
আর কত জ্বালাবি তোরা দুই হারামি মিলিয়া ?
পালাবার ও পথ পাবিনে মানুষ গেলে ক্ষ্যাপিয়া ।
আর কত....।
মুখে তোদের গণের কথা,
অন্তরে সব শয়তানী,
হিজাব পরে, হ্বজ করে পাপ রাখতে চা'স ঢাকিয়া ।
তোরা দুই শয়তানী মিলিয়া ।
আর কত ...............
দুজনইতো ছোটলোক,
কথা দিয়ে রাখিসনা ।
ষন্ডা-পান্ডা-গুন্ডা দিয়ে
দল চালাতে ভাবিসনা ।
প্রতিটা দিন মরছে মানুষ, মারছিস দুজন মিলিয়া ।
বাপ-স্বামী কেন্ উপরে গেছে, পারলে দেখিস ভাবিয়া ।
তোরা দুই নষ্টেতে মিলিয়া ।
আর কত............।
পিঠ যখন দে'য়ালে ঠেকে,
পিছুবার আর জায়গা নাই
মানুষ তখন রুখে দাঁড়ায়
হাতের কাছে যা'ই পায় ।
মানুষ আর মরবে ক'বার তোরা দুই ডাইনীর লাগিয়া ?
তোরা দুই বেজন্মার লাগিয়া ?
আর কত ..........
প্রিয় জাফর ইকবাল স্যার স্মরণে....
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ’লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
অনেক আগে লিখিত এই কবিতাটা কতটা সত্যি হয়ে ফিরে আসলো আমাদের মাঝে। সময় বদলায়... দুনিয়া এগিয়ে যায়... আমরা থেমে থাকি সেই আগের জায়গায়... বরং পেছনে হাটা আমাদের অনেক পছন্দের। আমরা ধুয়ে ফেলি মেয়রেকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে... কিন্তু কথা বলতে শরমিন্দ হই শিক্ষামন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে... দলান্ধ এই সময় আমার হাসফাস লাগে... নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সব কিছু সত্যি নষ্টদের অধিকারে আজ...
মস্তিষ্কে বাসা বাঁধছে ঘূণপোকা
বুকে হাত দিয়ে বলো সূর্যের আলো রুখিতে কি পারে কেউ? আমাদের ধরে ঠেকানো যাবে না গণজোয়ারের ঢেউ। ডাকসুর দেয়ালে ঝুলে থাকা কালো হয়ে আসা চিকাটা মলয়দা'র লেখা। আর কয়দিন টিকবে কে জানে। যে রাতে মলয়দা' চিকাটা লিখেছিলেন সে রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম না কিন্তু পরদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে চিকাটা দেখে সারা দিন মনের ভেতর অজানা উচ্ছ্বাস অনুভব করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম তখন। আমরা নিয়ম করে রাতের বেলা ক্যাম্পাসের দেয়ালে চিকা মারতাম। ভালো চিকা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কথাটা যত ভালোভাবে লিখতে পারতাম, তত বেশি সুখ পেতাম। তখনও গ্রাফিতির চল ঘটে নি সেভাবে। এখন ক্যাম্পাসে অনেক সুন্দর সুন্দর গ্রাফিতি দেখা যায়। আইএমএল-এর দেয়ালে একটা চমৎকার গ্রাফিতি দেখেছি সেদিন। আমাদের ঘাঁটিটায় একটা বড় গ্রাফিতি আঁকবার শখ জেগেছে সেটা দেখে। আর আফসোস জেগেছে যখন আমার সময় ছিলো, তখন এ বিষয়ে কেন কোনো জ্ঞান ছিলো না ভেবে।
ফেইসবুকের সাম্প্রতিক স্টেটাসমালা
এক.
যাহা লাউ, তাহাই কদু; যাহা ১৫ ফেব্রুয়ারি, তাহাই ৫ জানুয়ারি...
দুই.
যেনতেন ভাবে ক্ষমতায় যাওয়াটাই বিপ্লব, এই তত্ত্ব মেনন সাহেব আর ইনু সাহেব আগে বুঝেছেন; নিজেদের পার্টি ভেঙে জাসদ কিংবা ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেয়াটাই এখন সকল বিপ্লবী বামদের জন্য যথাযথ সিদ্ধান্ত হবে...
তিন.
প্রত্যাশারে বলি এইবেলা দূরে থাকো,
দরোজায় দাড়িয়ে না থেকে রাস্তা মাপো...
চার.
যতোদিন তোমাদের হাতে দেশ;
পথ খুঁজে পাবে না বাংলাদেশ!
পাঁচ.
I called you silently at dawn,
There were waves
But failed to reach your realm...
ছয়.
Spending day and night with the people I really like; the friends whom I really adore...
Enjoying every moment of life, whether I'm awake or travelling through the dreams...
সাত.
যেই অবস্থা চলছে তাতে মনে হচ্ছে দেশ জলে ভাসিয়ে কেবল নৌকা চলবে দেশজুড়ে পিতার ছবি আঁকা পাল তুলে...কিন্তু ডাঙায় অভ্যস্ত ব্যাঘ্র সম্প্রদায় এমন অযাচার মেনে নিবে কতোকাল?
ধূসর গোধূলিঃ আলোর নীচের অন্ধকার...

প্রতিদিন সকালে, সুর্য্য ওঠার পর পরই মসজিদের সাথে লাগোয়া ছোট একটি ঘরে ছেলেমেয়েরা উচ্চস্বরে আরবি পড়ে। শ্যামলপুর গ্রামে এটাই একমাত্র মসজিদ। মসজিদের পাশে একটি আলাদা ঘর, বাঁশের খুঁটির উপরে গোলপাতার ছাউনি দেয়া ঘরটার চারপাশে কোন বেড়া নেই। সেই ঘরের মেঝেতে খেজুর পাতার পাটিতে বসে সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সী ছেলেমেয়েরা আরবি পড়ছে। অয়নও প্রতিদিন আসে এখানে। বয়সে বড় ছেলেমেয়েরা কোরাণ আর অপেক্ষাকৃত ছোটরা পড়ছে আমপারা। অগ্রহায়নের হাড় কাঁপানো শীতে কিংবা গ্রীষ্মের মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির হওয়া গরমে, কখনই বন্ধ হয়না মাদ্রাসা। সবাই এতটাই উচ্চস্বরে পড়ছে যে কারো উচ্চারণই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা। লম্বা একটা বেত নিয়ে মৌলভীসাব মাঝখানে বসে সবার পড়া দেখছেন, মাঝে মাঝে ওটার ব্যবহারও করছেন।
নিজেরে করিতে গৌরব দান...!
কবিকে দিও না দুঃখ, তাহলে সে তার দুঃখ ছড়িয়ে দেবে জলে স্থলে অন্তরীক্ষে...
কবিকে আমরা দুঃখ দিতে চাই না। তারপরও অজান্তেই কবি দুঃখ পান, কষ্ট পান—আমরা ব্যথিত হই, কিন্তু কিছুই করার থাকে না।
কে কবি আর কে কবি নয়—কোনো মানদণ্ড নেই।
কে ছোট কবি আর কে বড় কবি—তারও কোনো মানদণ্ড নেই।
তবুও কবিরা কষ্ট পান, হয়তো কষ্ট পেতে ভালোবাসেন। তাদের এই কষ্টবিলাসটা যখন আমাদের মতো গোবেচারা, নির্বিরোধী মানুষকেও আক্রান্ত করে—পীড়িত না হয়ে উপায় থাকে না!
মাসিক পত্রিকায় ছেপেছিলাম একজন 'শক্তিশালী' কবির কবিতা। তিনি ক্ষুব্ধ, তার কবিতা অনেক পেছনে ছাপা হয়েছে। যোগ্যতা বিবেচনায় তার কবিতাই আগে থাকার কথা ছিলো! বয়সেও তিনি অনেক বড়। হাঁটুর বয়সী কবির কবিতার নিচে কবিতা ছেপে তাকে অপমান করা হয়েছে। তিনি বিদায় নিলেন; এই পত্রিকায় আর লিখবেন না। আমরাও সসম্মানে তাঁকে বিদায় দিলাম। এমন মহান কবির মর্যাদা আসলেই আমরা করতে পারবো না। তিক্ততা বাড়িয়ে লাভ কী!
বন্ধু মাসুদ হাসানের ঘরে ফেরা
তোমার নষ্টালজিয়া
এখন
তোমাকে পীড়ন করছে
নিষ্পেষন করছে
বাকী ২৪ ঘণ্টা তোমার কাছে
২৪ বর্ষ যেন।
তোমায় বহন কারী হাওয়াই জাহাজ
বাংলার মাটি স্পর্শ করার আগে
প্রতিটি মুহুর্ত হবে বর্ষ সম।
এ মাটি সেই মাটি
যার কল্যাণে তুমি দেখেছ
এ ধরাকে,
যার স্তরে স্তরে
নদীর ডেউ এর পড়তে পড়তে
বায়ুর প্রাবল্য ও মৃদুময়তায়
তুমি বেড়ে উঠেছ
যার, ফুল ফল লতা পাতা
গুল্মরাজি তোমাকে শেফা দিয়েছে।
আর
এ সকল কিছুর কল্যাণে
আজ তোমার হাসান
নামের স্বার্থকতা বাস্তবতায় মূর্ত।
তাই তো তুমি বিশ্বের শ্রেষ্টতম
শহরে থেকেও তোমার
দরিদ্র মাতার ভাংগা ডেরার
ফাঁক গলিয়ে চাঁদের কিরন
দৃশ্যময় ঘরটিকেই
বলেছ,
Sweet Home.
এসো বন্ধু
ঘরে এসো।
টুটে যাক
সকল অকল্যাণ
সকল তিমির
সার্থক হউক
তোমার ঘরে ফেরা।
জীবন,
নভেম্বর, ২৫,২০১৩খ্রীঃ
সিরাজগঞ্জ, পাওয়ার প্লান্ট।
অজানা পরিচয়ে
“বেবুন পিঠা খাবি?”
“না”
“সিংগারা খাবি?”
“না।”
“আচার খাবি?”
“বলছি তো, খাবো না!!! আর আমাকে বেবুন বেবুন করছেন কেন? আমার নাম বেবুন না।”
“বাবা রাগ করছস? তোর বাপের উপর রাগ করছস?। কতদিন বাদ তোরে দেখতাছি।”
আমি লোকটার চোখে দিকে তাকালাম। তাতে পানি এসে গেছে। বুঝতে পারছি না কি করবো। আমি নিশাদের বাড়ির প্রাচীরে বসে আছি, নিশা জানলার কাছে এলেই গান ধরবো। এই উটকো ঝামেলার জন্য পারছি না। মাথা ঘুরিয়ে নিশার জানালার দিকে তাকালাম। মেয়েটা চলে এসেছে। আমি গলা ঝেড়ে গান শুরু করলাম, “মাই নেম ইস শিলাআআআ”...”বেবুন, জানিস তোরে আমি কত খুজছি। কোনঠেও পাই নাই।”
মেজাজ চড়ে গেল। নিশা দেখছে তাই আবার চেষ্টা করলাম, “শিলা কি জাবানীইইই...” “ তোর জইন্য আমার অনেক মন পুড়ায় বাপ।”
“তেরে পাস না আউউউউউ...” “পান খাবি বাপ? খয়ের দিয়া পানা বানাই দি?”
“বললাম তো পান খাবো না!!! কথা কানে যায় না???”
দড়াম করে নিশার জানালা লাগানোর শব্দ পাওয়া গেল। মাথায় আগুন ধরে গেছে। প্রাচীর থেকে লাফ দিয়ে নামলাম।
লোকটা রাস্তায় বসে কাঁদছে। সাদা টুপি মাথা থেকে পড়ে গেছে, ধুলো লাগছে সাদা পাঞ্জাবীতে । শুভ্র দাড়ি বেয়ে টুপ টুপ করে চোখের পানি পড়ছে।
বিশাল এক ক্ষুদ্রতা
সুইবাসে করে ওরেব্রো যাচ্ছিলাম। মাঝপথে থামলো ভসতেরস নামের একটা শহরে। খুব সুন্দর শহর। বাস স্টেশন থেকেই দেখা যায় কাঁচে ঘেরা সুউচ্চ দালান। স্টক হোমের বাইরে জমাটি শহর গুলোর মধ্যে এই শহর একটি। বয়সে যৌবনা এই শহরটিতে ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতী। সবাই হাটা হাটি করছে, ফোনে কথা বলে চলেছে কেউ অবিরাম। ব্যাস্ত সবার মাঝে এক লাল টুকটকে স্বর্নকেশী ছোট্ট মেয়ে তাকিয়ে দেখছে আমাকে। আমি তাকে সুইডিশে বললাম," কি দেখছো সিন্ডারেলা?"
ভ্রু কুচকে বললো,"আমি সিন্ডারেলা না, আমি প্রিন্সেস সারা!"
"ওকে সারা, তোমার মা কোথায়?" মেয়েটি আমার প্রশ্নের ধারে কাছে না গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,"মিস বলেছে রাস্তায় মুখ হা করে দাড়িয়ে থাকতে নেই। পেটে পীড়া হয়।" এই বলে মেয়েটি উল্টো ঘিরে ভোঁ দৌড়। আমার বুঝতে সময় লাগলেও পাশের এক বুড়ি হাসতে শুরু করলো জোরসে। তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম আমি কাঁচে ঘেরা ঐ তিলোত্তমা দেখে আনমনে তাকিয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষন। 
চলে যায় ভালো সময়গুলো!
গত তিন দিন জীবনে এক ব্যাতিক্রমী এক্সপিরিয়েন্সের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। না চাইতেই এত বড় সাফল্য আমার জীবনে আর আসে নি। সাফল্য পেতে উন্মুখ হয়েও ছিলাম না। তাও এসে গেল, হঠাৎ করেই। হুট করে আসা এই সাফল্যে কিছুটা লজ্জিত ও কুন্ঠিত অবস্থাতেই কাটছে দিন। তেমন হাতি ঘোড়া কিছু উদ্ধার করি নাই, সামান্য বিসিএসে রিটেন আর ভাইবা শেষে সাময়িক ভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রশাসনের তালিকায় স্থান পেয়েছি। যদিও নিয়োগ এখনও দিল্লি বহুদুর তাতেও আমি এই সাফল্যে নিজেই আনন্দে আটখানা। আর যাদের নিয়ে আমার জগত তারা আনন্দে ৮*৮*২= ১৩২ খানা!
