ইউজার লগইন
ব্লগ
বিরক্তিকর মহাকাল
দিন ছোট হবার সময়টা বড্ড বিরক্তিকর। ছুটির দিনে এক লহমায় পাখির ডানায় উড়ে চলে যায়। নতুন দিনে চোখ খুলে শুধু ক্লান্ত অনুভূতি ঘিরে থাকে। পাশে শুয়ে থাকা অসম্ভব সুন্দর ন গ্ন পিঠে মাথাটা এলিয়ে দেই। সোদা ঘ্রানে মাদকতা ছুয়ে যায় নিউরনের প্রতিটা কোষে। সোনিয়ার অস্পষ্ট আরবী গোঙ্গানীতে লেগে থেকে এক আহ্লাদী সুর। চিৎ হয়ে শুয়ে আমার মাথাটা ওর পেটে ঠেলে দেয়। আমি চুমুতে নীচে নামতে থাকি, সময়কে অবজ্ঞা করে তলিয়ে যা্য। কাজে হয় দেরী, মনটা জানি না কোথায়।হোয়াটসআপে ছবির ছড়াছড়ি, আকর্ষিত ইশারার অনন্ত অবগাহন।
আমার আরবেটলীডার এখনো ঠিক হয়নি, আমার কাজের মূল্যায়ন কে করে সেটাও জানি না। জানি শুধু কাজের সময়ে এলকোহল খাওয়া যাবে না। চেকিং এ ধরা খেলে জরিমানা, ঝামেলা। একসময় দুটা-তিনটা বীয়ারে পুষিয়ে যেতো দিব্যি। এখন প্রতিটা নিঃশ্বাসে লেগে থাকে ওয়াইন বা হুইস্কির বুঁদ হবার নেশা।
চিঠি
(লেখাটি না কি ছোট তাই প্রকাশ করছে না। ৫০র অক্ষর না হলে না কি আমার এই ফালতু লেখা হোম পেইজে দিবে না। আর দিবে না বলেই এইসব লিখে যাওয়া। )
চিঠি এসে দরোজায় কড়া নাড়ে
মেঘগুলো নিচে নেমে আসে
যা যা ছিলো সবই আছে
ভুলে ভরা জীবনে।
চিঠি আসে, ভুলে;
স্মৃতি আসে-
মাঝ রাতে,
চাঁদের পাশে কার মুখ ভাসে?
সমুদ্র এসে পায়ে দোল খায়
অবহেলা সারাবেলা নিজের সনে
আমার একটা সমুদ্র আছে মনে মনে!
আমি গান গাই, হাহাকার, আর্তনাদ যতো
আমি বলি, আমি কেনো আমার মতো?
রশীদ করীমের প্রবন্ধ পাঠের আনন্দ!
রশীদ করীমের বড় পরিচয় উপন্যাসিক হিসেবেই। উপন্যাস লিখেই তিনি নাম যশ খ্যাতি সব পেয়েছেন। সত্তর আশির দশকে রশীদ করীমের জনপ্রিয়তা তো প্রশ্নতীত। নিজেও তিনি খুব বুর্জোয়া গোছের বিশাল এক চাকরী করতেন তাতে অর্থকড়ির জন্য তাকে কোনোদিন লিখতে হয় নি। মন যখন চেয়েছে তখনই লিখেছেন। কোন এক ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম -ছোটবেলায় মধ্যবিত্ত পরিবেশে মানুষ হলেও দারিদ্রকে তিনি ভালোভাবে দেখেন না। তার মত হলো দরিদ্র মানুষ সব কিছুতেই দরিদ্র থাকে। ভালো কবিতা পড়তে পারে না, ভালো গান শোনা হয় না, ভালো সিনেমা বা ক্রিকেট খেলা দেখার সুযোগ পায় না। দরিদ্র মানুষের জীবন কেটে যায় অন্ন বস্ত্র সংস্থানেই। স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপভোগ করার সুযোগ তাতে নেই। রশীদ করীমের জীবন সময় উপভোগের জীবন। জীবনের শেষ ১৫-১৬ টা বছর অসুস্থতা ছাড়া গোটা জীবনকে তিনি তুমুল ভাবে অনুভব করেছেন। তার এই অনুভবের সবটুকু গল্প পাওয়া যাবে তাঁর প্রবন্ধ সমগ্রতে!
আর সবকিছু ডুবে আছে আগ্রহহীনতায়
১.
পার্কে একটা কুকুর বাচ্চা দিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো রাস্তার ওপর শুয়ে থাকে। খুব মায়াজড়ানো দৃশ্য। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। একটা পরিবার বাচ্চাগুলোর দেখাশোনা করে। তাদের অবশ্য নিজেদের দেখাশোনা করারই সামর্থ্য নেই। ওই পরিবারেও কয়েকটা শিশু আছে। তারা রাস্তার পাশেই পেতে রাখা ছোট ছোট চাটাইয়ে শুয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কুকুরের বাচ্চাগুলোকে কোলে নিয়ে বসে থাকে। কুকুরগুলোর গায়েও কোনো কাপড় নেই, বাচ্চাগুলোর গায়েও কোনো কাপড় নেই। কুকুরগুলোর লোম আছে, বাচ্চাগুলোর তাও নেই। মানুষ এখান থেকে হয়তো কুকুরগুলোকে বড় করার জন্য নিয়ে যাবে কিন্তু পরিবারটাকে সচল রাখার কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে না। বরং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি রুটি-রুজি জোগাড়ে বের হয়ে নানা উপায়ে মানুষেরই প্রতারণার শিকার হবে। আমার কুকুরের পরিবারের প্রতি যেমন মায়া লাগে, মানুষের পরিবারটির প্রতিও ঠিক তেমনি মায়া লাগে। কুকুর আর মানুষকে এক পর্যায়ে দেখে নিজের প্রতিও খানিকটা মায়া হয়।
কেন আমরা রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বিরোধী??
চুক্তি!!
২০১০ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় এক সফরে ভারতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঞ্চালনের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ওই প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই ২০১২ সালে বাংলাদেশের অধীন সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালের দুটি ৬৬০ ইউনিট মিলে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি)-এর সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল ২০১৩ ঢাকায় ভারতের সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
!!ভয়!!
হুমায়ুন আহমেদের উঠোন পেরিয়ে দুই পা ও সুনীলের তিন সমুদ্র সাতাশ নদী!
এইটা ঠিক বই নিয়ে পোষ্ট না। দুই বাংলার দুই বিখ্যাত লেখকের ভ্রমন কাহিনী লেখা নিয়ে দুয়েক প্রস্থ আলাপ মাত্র। শুরু করি নিজের কথা দিয়েই। সবার মত বেড়াতে আমারও ভাল লাগে। কিন্তু বাউন্ডুলের মত বেড়াতে না, নিজের মতো বন্ধু বান্ধবদের সাথে ঘুরতে মজা পাই। কিন্তু যা হয় ছেলেবেলায় আর কি, বাবা মার ধারনা বাইরে ঘুরতে গিয়ে ছেলে নষ্ট হয়ে যাবে তাই আমার দূরে কোথাও ঘুরতে মানা। কাছে কুলে কোথাও গেলে যাও, না গেলে মুড়ি খাও। তাই ছোটবেলা থেকেই আমার বেড়ানো মানেই রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা একা একা। কারন এরকম ধুলা বালু মেখে হাটার লোক বন্ধু মহলে তখন কেউ ছিল না। মাঝে মাঝে খুলনা বা চিটাগাং থেকে জামালপু্রের বাড়ীতে যাওয়া এই ছিল এক মাত্র লম্বা সফরের বিবরন। আর চার পাঁচ বছর পর আব্বুর বদলী হতো চাকরীর নিয়মে তখন তল্পিতল্পা নিয়ে স্থান বদল করতে হতো। তবে একই পরিবেশ, চেনা জানা মানুষদের সাথেই আবার পাশাপাশি থাকা। আমার প্রথম বেড়ানো জন্য বের হওয়া ভার্সিটির এডমিশন টেস্ট উপলক্ষ্যে। শুধু রাজশাহী, সিলেট ও জগন্নাথে যাই নি। এছাড়া খুলনা, ঢাকা, জাহাংগীরনগরে এক্সামের উসিলায় লম্বা লম্বা সফর দিয়েছি!
জীবন থেকে নেয়া-১
আজকের দিনটি আমার জন্য খুবই আবেগঘণ দিন। মানুষ যে কত ছোট ছোট বিষয়ে খুশি হয়ে যায় এটা হচ্ছে তার প্রমাণ। আবার কত বড় বড় বিষয় আমলেই নেয় না- সেটারও ক্যালাসগিরি ভাবাই যায়।
একারণেই অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম ডিজিটাল ডায়েরি লেখা শুরু করবো। টুকটাক করে যে লিখি না তাও না। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু অদৃশ্য হাত পিছন থেকে টেনে ধরে। কোনটা মুখ খামচে ধরে, কোনটা আবার কলম কেড়ে নেয়। সত্যি ভাবি- এই যে অকপটে জীবনের অনেক সত্য বলি- তাতে আবার কেউ দূবর্লতা খুঁজে পায় নাতো! বা এমন কি ভেবে নিবে না তো যে আজাইরা কথা কয়! ভাবার পরেই মনে হয়- আমি কখনই নিজের অতীত-বতর্মান বা অনাগত ভবিষ্যতের ব্যাপারে লজ্জিত- কুণ্ঠিত বা চিন্তিত নই। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আলহামদুলিল্লাহ জানি যা করেছি- তা আমার পছন্দে, যা বলি- সেটা আমার মর্জিতে আর যা করবো তাও মনের খুশিতে।
অনেকেই আছে যারা অতীত বলতে চান না, আর সারা জীবনের আনপ্রফেশনাল আমি অতীত ভুলতে চাই না। কখনো ভুলতে চাই না মাটি কামড়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। অনুগ্রহে - অবহেলায় হাসিমুখে "ভালো আছি" বলার দিনগুলো। আমার পা না হয় মাটিতেই থাকুক- বাকীটা যে যার ইচ্ছে..
পর্দার আড়ালে
আমার বন্ধু লতিফুল কবির লিটন আর এক বন্ধু ইকবালুর রহমান রোকন যাদের আপনারা প্রতিদিন একাধিক পোষ্টে ফেবু দেখতে পাবেন।প্রথমজন কানাডা প্রবাসী আর দ্বিতীয়জন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।তারা দুইজন বর্তমান দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থক/নেতা।দলে তাদের অবস্থান বা নেতৃত্বের উচ্চতা মাপা আমার উদ্দেশ্য নয়।তবে আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকে এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। সবাইকে বাদ দিয়ে আমি এই দুইজনকে কেন আমার লেখার প্রথমেই নিয়ে এলাম।আশা করি লেখনির পরিসমাপ্তি তে তার উত্তর পাব।
একজন অনন্ত জলিল
সেদিন কি বার ছিল মনে নেই।যেটাই হোক,ভার্সিটি বন্ধ।ঘুম থেকে উঠলাম দুপুর ১২টার দিকে,তাও সুমিতের ফোন পেয়ে।এই ছেলেটা এতই এক্সাইটেড ছিল যে তার কথাগুলো ভুলতে পারিনি।প্রথমবার ফোন রিসিভ করিনি,দ্বিতীয়বারে রিসিভ করে বললাম,“হ্যালোওওও”।ওপাশ থেকে সুমিত বলল,“কিরে ঘুম থেকে উঠিসনি?”বুঝলাম, অনেক বেজে গেছে।“হুম,উঠবনা মানে!ওয়াশরুমে ছিলাম।”“আমি ভাবলাম উঠছিস কিনা!আমিতো চলে আসছি,তুই তাড়াতাড়ি আয়।"
হাতিরঝিল হওয়াতে কার কি সুবিধা হয়েছে জানিনা,আমার কিন্তু বেশ সুবিধা হয়েছে। অনেক রাস্তাই ছোট হয়ে গেছে।এই যেমন সেদিন ওরা ১২টার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে বসুন্ধরা সিটিতে গিয়ে বসে ছিল,আর আমি ঘুম থেকেই উঠলাম ১২টায়।
ওহ!বেশি বকবক করে যাচ্ছি,আসল কথায় আসি।সেদিন বসুন্ধরা সিটিতে জমায়েত হওয়ার উদ্দেশ্য মুভি দেখা(স্টার সিনেপ্লেক্সে বাংলা চলচ্চিত্র দেখলেও ভাব নিয়ে সেটাকে মুভি বলতে হয়,তাই আমিও একটু ভাব নিলাম)।মুভি/চলচ্চিত্র/ছবির নাম “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা-WHAT IS LOVE”,উদ্যোক্তা মৌমিতা।বোঝাই যাচ্ছে,অনন্ত জলিলের ছবি,এক্সাইটমেণ্ট একটু বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক।বলা বাহুল্য,অনন্ত’র কোন ছবি আমি এর আগে হলে গিয়ে দেখিনি।
জার্নি ফ্রম হেভেন
এই পোষ্টটা আমার একটা লাইভ ব্লগিং টাইপের পোষ্ট। অনেকদিন লেখি না। মন করে লেখার জন্য আকুপাকু! কিন্তু গোলাম হোসেনের উপায় ছিল না, তাই আমারও নাই লেখার পথ। বাসে সবাই ক্লান্ত ঘুমোচ্ছে তখন লিখছি আমি এই অন্ধকারে বসে বসে। জানি না লেখা শেষ করতে পারবো কিনা! কারন আগের চেয়ে বেশি হ্যাং ওরফে তব্ধা খায় সেট। ঢাকায় গিয়ে এর চিকিত্সা করা ছাড়া পথ নাই। আর এন্ড্রয়েডে কি লিখবো? এই মায়াবী টায়াবি দিয়ে? যদিও সব বন্ধুরই এখন বাসায় নেট আছে তাও সেখানে বসে লিখতে ভালো লাগে না। কারন দেখলেই বলবে আইছে ইমরান এইচ সরকার, ঢাকা থেকে চিটাগাংয়ে ব্লগিং করতে! তাই বন্ধুদের অনুনয় বিনয় সত্তেও তাদের পিসিতে বসি নাই। আমার জন্য মোবাইলই যথেষ্ট। বেহুদা অন্যের প্রাইভেসী নষ্ট করে লাভ নাই!
ইতিহাসের ধারায় দূর্গা পূজা
ইতিহাসের ধারায় দূর্গা পূজা
--শাশ্বত স্বপন
বাংলাদেশ, পাকিস্থান, ভারত তথা ভারতবর্ষ অথবা পৃথিবীতে দূর্গোৎসবের কালক্রমিক ইতিহাস নির্মাণ করা এখনো সম্ভব হয়নি। এ কাজের উপযোগী সুস্পষ্ট ও অনুপুঙ্খ ধারাবাহিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়াও যায়নি। কোনো ইতিহাসবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীতে দূর্গোৎসবের উদ্ভবের ইতিহাস ও আনুষঙ্গিক ঘটনাপঞ্জি নির্ভরযোগ্য দলিলপত্র ঘেঁটে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হননি। ফলে কখন, কীভাবে দূর্গোৎসবের শুরু হলো তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে নানা ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও সূত্র থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
বৃষ্টিসকাল কাব্যপ্রলাপ!
গলেদের চিরাচরিত ভয়ই ফিরে এলো সকাল সকাল,
আকাশ ভেঙে পড়েছে আজ।
ভেঁজা রাস্তায় চুমু খেয়ে যায় এলোমেলো নিয়ন,
ঘুম ভেঙে অবাক চাহনীতে হেটে যায় মেঘসন্তানেরা।
আর জমে থাকা জলে জমা পড়ে বিরক্তি,
সান্তনার প্রলেপ বুলিয়ে ছুঁয়ে যায় বেখেয়ালী পথচলা।
এক আধটা চারচাকার কাঁচের কোলে ক্লান্ত বুড়ো ওয়াইপার,
ঘুম চোখে শুনিয়ে যায় চিরচেনা নতুন কোন গল্প।
রিকশার নীল পর্দার আড়ালে উঁকি দিয়ে যায় হাওয়া,
চোখ তুলে চাইলেই এলোকেশ ভালোবাসা।
বন্ধ দিনে অনুচিত খোলা যত ইস্কুল কলেজ,
মন খারাপের আজকের তরে ছুটি।
আর যার যত জমে থাকা কাজ,
টুকে রাখা থাক সব বাকির খাতায়।
বৃষ্টিই আজ টিভিপর্দায় ব্রেকিং নিউজ,
আর সব কিছুই ফাঁকি।
হাজার হোক,
আজ নয় ভেবে নিলাম
বিশ্ব বৃষ্টিছোঁয়া দিবস।
এতসব কথকতাতেই বা কি আসে যায় আজ!
কোথা থেকে আসা বাতাসে দোলা দিয়ে যাচ্ছে মনোহর সুবাস,
আমি বরং এখন আসি -
এক কাপ গরমাগরম মালটোভা চা হয়ে যাক।
খবর শুনেছেন নিশ্চয়ই?
গলেদের চিরাচরিত ভয়ই ফিরে এসেছে সকাল সকাল,
আকাশ ভেঙে পড়েছে আজ।।
রাজনীতি’র একাল সেকাল
আমি কোন রাজনীতিবিদ নই। ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম শখের বশে। কোন আদর্শের জন্য নয়। আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে যা কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে তাতেই জেনেছি আমাদের দেশের রাজনীতি কি এবং কেন?
দেখা গেছে মফস্বল থেকে এসে ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র বিশাল ঢাকা শহরের বিশাল পরিসরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হয় বেচারা প্রথম কিছুদিন আসলেই গোবেচারার মত সাধারন জীবন যাপন করে। হল ক্যান্টিন কিংবা গেটের পাশের ছাপড়া হোটেলে বন্ রুটি, কলা ,চা দিয়ে নাস্তা সেরে স্টার সিগারেট ধরিয়ে খাতা বগলে চেপে ক্লাসে যাওয়া। ক্লাস শেষে হলে ফিরে ডাইনিং এ খেয়ে দুপুরে ঘুম, বিকেলে সেজে গুজে মেয়েদের হলের সামনে ঘুরা ঘুরি করা, এই হচ্ছে শুরু’র জীবন।
এই ধরনের মানুষগুলি তখন চোখে পড়ে যায় হলের পাতি ছাত্র নেতাদের। এরা এই বোকা সোকা সহজ সরল ছাত্রদের সিঙ্গেল রুম , হল ক্যাফেটেরিয়ায় ফ্রি খাবারের সুযোগ এইসব লোভ দেখিয়ে নিজের দলে ভিড়ায়। আর দলে না ভিড়েও কোন উপায় নাই। যোগ না দিলে মার খাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা, সিট হারানো সহ হল থেকে বিতাড়িত হতে হয়।
অসীম প্রতিক্ষা
দুই আংগুলের ফাঁকের ধুম্রশলাকাটি অবিরাম জ্বলছে। ধোঁয়াটে পরিবেশ। ছেলেটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভেজা রাস্তায়।
রাস্তাটি সচরাচর ধুলোমাখা থাকে। তবে আজ আকাশের মন খারাপ। তাই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই কয়েক ফোটা জলে ধুলোমাখা পথঘাট কর্দমাক্ত।
গন্তব্যের দিকে ছুটে চলা প্রতিটি দ্রুতগতির গাড়ি রাস্তার কাদাজলে মাখামাখি। সাদা গাড়ির গায়ে কাদার মেটে রং সাথে হ্যালোজেন আলো এক মুগ্ধকর পরিবেশ।
ঘরের বাইরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ আর ঘরের ভেতরে ধোঁয়াটে আবেশ। সব মিলিয়ে একটি অতিসাধারণ রাত একজন নিভৃতচারীর কাছে। তার কাছে সকল রাতই অতিসাধারণ। ছেলেটির ধারনা তার রাতের দরকার নাই, কিন্তু রাতের তাকে প্রয়োজন। রাত তার কাছে শুধুই কিছু সময়ের ব্যাপ্তি, কিন্তু অনেকের কাছেই হয়তো নতুন কিছুর শুরু।
অনুভূতি
অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ায় কেবলই
ভুলেভরা সময়ের হিসাব মিলাতে
নিঃশব্দ আর্তনাদগুলো অলক্ষ্যেই
নিজের ভিতরে গুমরে গুমরে কাঁদে।
অপ্রকাশিত অভিমানে ছুটে চলে
লক্ষ্যবিহীন পথে, রঙমেখে সং সেজে কেউ কেউ
ভাল থাকার সুনিপুণ অভিনয় করে যায় একাগ্রচিত্তে।
ঠুনকো কাগজি সম্পর্কের জের ধরে
এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাপিত জীবনটাকে
একসময় বড় অপাংক্তেয় মনে হয়।
অর্থহীন পৃথিবীতে বেঁচে থাকার
অদম্য ইচ্ছাটাও ফিকে হয়ে আসে ক্রমশ,
আর পাথর ভাঙার মত করে বুকের ভিতর
ক্রমাগত বাজে নিষ্পেষণের হাহাকার!
নিজের সাথেই চলে বোঝাপড়ার অদ্ভুত আয়োজন
অব্যক্ত অনুভূতি জানান দিয়ে যায়
আধখানা চাঁদ কখনও ঢেকে দিতে পারেনা
বেদনার চাঁদরে মোড়ানো জমাট অন্ধকার।