ইউজার লগইন
ব্লগ
বুকপকেটে জোনাকি নিয়ে একলা চলা একেকজনা..এবং 'বারফি'!
রুশদেশে অনেক কাল আগে প্রচলিত একটা মজার কথা আছে। চলচিত্র নিয়ে।
কথাটা অনেকটা এমন যে -
'চলচিত্র তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
ভাল চলচিত্র,
বাজে চলচিত্র আর
তারপর আসে ভারতীয় চলচিত্র'!
অনেকেই হয়তো এই কথা শুনে চোখ পাকিয়ে আসবে মারতে! তবে কথাটা মজা করে বলা হলেও কেন জানি হেসে উড়িয়ে দিতে পারি না।
মানছি, টাইমপাসের জন্য অনেকের জীবনেরই একটি উত্কৃষ্ট উপাদান হল এই ভারতীয় চলচিত্র। তবুও একটু ভেবে দেখলে অবাকই হতে হয়।
চলচিত্র বোদ্ধা তো নই,
তবুও ছেলেবেলা থেকেই মোটামুটি নিয়মিত ভাল ভাল মুভি দেখে আসার অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝি তা হল -
ভাল মুভিগুলাকে যথাযত মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে অস্কার আর কান-এ।
সত্যজিত্ রায় এর কথা আলাদা, উনি ভারতীয় যতটা তারচাইতেও বেশি বৈশ্বিক চলচিত্র নির্মাঅ ছিলেন। এজন্যই হয়তো তাকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট দিতে ভুল করেনি অস্কার কর্তৃপক্ষ।
হাটি হাটি পা পা করে ভারতীয় চলচিত্রের বয়স কিন্তু কম হয়নি।
ফেসবুকের রকমফের
‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং’ শব্দটা বতর্মানে বহুল প্রচলিত শব্দ, আর ‘ফেসবুক’ সেতো আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা সকলেরই মুখস্ত!বন্ধুত্বের মানেটাই পালটে গেছে ফেসবুকে এসে। আমার চেনাজানা, যার সাথে দেখাসাক্ষাত ঘটে প্রায়ই,আলাপচারিতায় মেতে উঠতে ভনিতা লাগে না, যার সান্নিধ্য উপভোগ্য লাগে সেই না আমার বন্ধু। কিন্তু ফেসবুকে কেবল এড করা হয়েছে বলে কতশতজন এসে জুড়ে যাচ্ছে আমার বন্ধু তালিকায়, তাদের সাথে আমার দু’দন্ড কথাও হচ্ছে না, তাদের কি হলো না হলো তার কোন পরোয়াই নেই আমার, কিন্তু আমার একাউন্টের বন্ধু তালিকায় তাদের নাম জ্বলজ্বল করে! ভেবেই পাই না একজন মানুষের হাজারে হাজারে বন্ধু হয় কি করে! এমনি করে চললে তো বন্ধু আর চিনপরিচিতের মাঝে পার্থক্যই বুঝাতে পারবো না নতুন প্রজন্মকে!
ছায়া ও টিকটিকির সঙ্গে সংলাপ
টেবিলের ওপর পড়ে থাকা বইটির দিকে তাকিয়ে থাকে আলো -‘ছায়াহীন কায়া’। দেখে আর ভাবে, ভাবতে থাকে। লাটিম ঘুরতে ঘুরতে যেমন ঝিম ধরে থাকে-এক পায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি মেরুদণ্ডটা ঠিক সোজা করে আপন মনে বসে আছে সে। ফাঁকে একবার নিজের ছায়ার দিকেও থাকায় । সে বোঝে না ছায়াহীন কায়া কীভাবে হয় ? আনমনে সে আবার ছায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। একটু আগে টিকটিকি তাকে ফোন করে। ভাগ্যিস বাবা তখন বাসার বাইরে। আজ টিউটরও নেই।
—কে বলছ? আলো ?
জ্বী, আলো।
আঙ্কেল কেমন আছ ?
হ্যাঁ, ভালো।
এখন স্কুলে আস না ? আর তো দেখা হল না।
না, এখন আমাদের ক্লাস অফ—জেএসসি পরীক্ষা ।
ক্লাস কখন শুরু হবে ? আবার কখন স্কুলে আসছ ?
সশস্ত্র বাহিনী দিবস!
পোষ্টটা লেখা উচিত ছিলো কাল। কাল লিখলে পারফেক্ট হতো। কিন্তু কাল ছিলো শরীরটা ভালো না আর সন্ধ্যায় হাটাহাটি করে চায়ের দোকানে প্যাচাল পেরে শরীরটা ক্লান্ত। তারপর কোনো এক অজানা কারনে হাতে ব্যাথা করছিলো। একদিন পরে লিখছি খারাপ একটাই দিনটার মুড মিস হলো। যা আমার ব্লগের জন্য খুব জরুরী। কি আর করা সান্তনা একটাই লেট বেটার দেন নেভার।
পুন্দানি খাইতে চাই
হগ্গলে কেবল পুন্দায়
আমারে বর্নমালায় পুন্দায় কেলেন্ডারে পুন্দায়
নাম নিয়া পুন্দায় আর কাম নিয়া পুন্দায়
হগ্গলে কেবলা পুন্দায়।
মাস্টরের পুন্দানি সইতে না পারি কোচিঙে যাই
যথারীতি পুন্দানি খাই
পুন্দানি খাইতে খাইতে পুন লাল হই যায়
তবু হালার পুন্দানির শেষ নাই।
পাশ করার পর মিষ্টি খাইতে গেলে সেখানেও পুন্দানি
স্কুল কলেজ ভার্সিটি কোনখানেই পুন্দানি না খাইলে হয় না
এত পুন্দানি খাই তাও পুন সামলাইতে পারি না ভাই।
নদীতে পুন্দানি খাই, লঞ্চে পুন্দানি খাই
পুন্দানি খাই এয়ারপোর্টে
শত্রু সম্পত্তির পুন্দানি খাই লাল কোর্টে
এরপরে ধরেন পুন্দানি খাই পেপারে টিভিতে
হল থেকে হলে পুন্দানি দেয় দল-বেদলে
বছর বছর পুন্দানি দেয় বাজেটে
লাল লাল পুন্দানি খাই পাঁচ বছর অন্তরে
সব হিসাব দিতে গেলে শেষ হবে না ভাইরে।
কে, কোন দিকে, কারে, কন সময়
মারি দেয় পুন তার নাই নাই জানাজানি,
দিনে রাইতে হাটে বাইতে সমানে চলে পুন্দানি।
পুন্দানির এখন আর এক নতুন ভার্শন আমদানি-
একদিকে চলে পুন্দানি
আরেকদিকে চলে মানবতার কবচানি।
এত পুন্দানিতেও যার পুন ভাঙেনি
তার জন্য শেষ ব্রহ্মাস্ত্র-মানবতার গুলি।
পতাকা- দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে তৈরি হবে
প্রথমত বলে দেওয়া ভালো 'পতাকা' শিরোণামে গতকাল যা লেখা হয়েছিলো সেটা কোনো বানানো গল্প না, অবরুদ্ধ ঢাকা শহরে এ ঘটনা ঘটেছিলো ১৯৭১ এর ১৪ই আগস্ট। সে দিন একটি পরিবারের তিন বোন এবং ঢাকা শহরে প্রবেশ করা প্রথম কয়েকজন গেরিলা এই অভাবনীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছিলো।
প্রতিটি ঘটনার কোনো না কোনো প্রেক্ষাপট থাকে, এই তিনবোনের নামের বাইরে বেশী কিছু আমার জানা নেই, তাদের পারিবারিক পরিবেশ, তাদের বাসার ঠিকানা আমি জানি না, কিন্তু এদের প্রত্যকেই একটা দীর্ঘ সময়ে এ শহরে বসবাস করেছেন, তাদের এই উজ্জ্বল স্মৃতি হয়তো তাদের সাথেই হারিয়ে যেতো যদি না গেরিলা যোদ্ধাদের একজন এসে জানাতেন।
আমার সিসিমপুর (৬)
১।
অনেকদিন সিসিমপুর লেখা হয় না। এই পোস্ট কত নাম্বার হবে দেখতে গিয়ে মনে হল বছর খানেক আগে লিখসিলাম। এরপর আর না লিখতে পারার অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে।
মেঘলা এসে ঘুরে গেলো। কোনদিক দিয়ে যে সময় গেল বুঝতেই পারলাম না। আর আরভিন, তাহিয়া এখন অনেকটা বড় হইসে। বড় বলতে বকা খাওয়ার সময় চলতেসে ওদের। বেশীর ভাগ সময় ঝাড়ির উপর রাখতে হয়। নাহলে তেলেসমতি কারবার শুরু করে দেয়। ঝাড়ি বলতে চিৎকার করে ধমক দেয়া না। বরং ওদের ঝাড়ি দিতে হয় মিজান ভাইয়ের সেই চোখের ভাঁজে ভাঁজে কবিতা পড়ার মত।
২।
আজ্ঞাবহ
এখানে নয়, ওইখানে দাড়াও
মাথা, ঘাড়, মুখ যেন না নড়ে এতটুকু
চোখের পলক ফেলাও চলবেনা যখন তখন
সারাদিন এইভাবেই কাটবে প্রত্যহ।
ঘোর প্লাবনেও যেন মন নেচেনা ওঠে
আঁততায়ীর জিহ্বার ছুরি যদি
কলজে কেটে নিতেও চায় – তবুও
সুবোধ বালকের মত নিস্পৃহ থাকবে।
এভাবে নয় বোকা, ওই ভাবে বাঁচো
অন্যরা যেমন বেঁচে থাকে
চোখ দিয়ে যেন জল না পড়ে
সেটা কাপুরুষোচিত
ওহ, কষ্ট পাওয়া চলবে না
বড্ড বেশী ন্যাকামি এসব
অদৃশ্য মিঠাই মন্ডা খেয়ে পেট ভরাও
যদি চিৎকার আসে, তবে টিপে ধরবে গলা।
আর যখনি মনে হবে কিছু নিজের মত করে
নিজের আগ্রহেই নিজে চেয়ে নিও বিচ্ছেদের চাবুক।
( ১৯.১১.১২ {C} mni)
পতাকা
ছাদে ওঠার সিঁড়িটার মাঝপথে দাঁড়িয়ে আয়েশা বিষন্ন দৃষ্টিতে দেখছে পতাকাটাকে, দুরের আকাশে কালো ধোঁয়া তখনও পাঁক খেতে খেতে দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। গাঢ় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তে আঁকা বাংলাদেশের আকাশে ঘরপোড়া কালো ধোঁয়া, কাল সারারাত গুলির শব্দ, মানুষের চিৎকার, কান্না বিলাপের শব্দে কারো ঘুম আসে নি ঠিকমতো, পুরোনো ঢাকার গলির ভেতরে উদভ্রান্ত মানুষের দৌড়ে পালানোর শব্দ আর দুরাগত বিলাপের ভেতরে না ঘুমানো চোখে আলোটা বালির মতো কিচকিচ করছে।
সাতটা থেকেই মাইকিং শুরু হয়েছে, ইংরেজী, উর্দু আর উর্দু উচ্চারণের বাংলায় ফরমান জারি হয়েছে, এখন থেকে কোনো বাসায় বাংলাদেশের পতাকা উড়তে দেখা গেলে সেটা সামরিক আইন বিধিভঙ্গ করবে। যার যার বাসার ছাদ থেকে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে, এমন কি কালো পতাকার জন্যেও একই নিয়ম। কোনো রাস্তায় ব্যারিকেড থাকতে পারবে না, যে মহল্লায় ব্যারিকেড দেখা যাবে ব্যারিকেডের আশেপাশের ১০০ গজ দুরত্বের সকল বাসার মানুষ সামরিক বিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবে।
চশমিশ আমি আর আমার আম্মু
আজকাল মাঝে মাঝেই দেখি
মানুষজন চোখে লেন্স লাগিয়ে ঘুরে,
আর নয়তো একটুতেই চশমা ফেলে চোখে ল্যাসিক করিয়ে ফেলে।
আর আমি অবাক হয়ে ভাবি -
আয় হায়!
কেউ চশমা এত অপছন্দ করে কেম্পে?!
আমার পিচ্চিবেলার সবচাইতে বিশাল স্বপ্ন ছিল,
বড় হয়ে চশমা পড়ব!
কিন্তু ভাগ্য খারাপ,
চোখ আর খারাপ হয়না!
ইন্টার পরীক্ষার সময় মাথাব্যথার জন্য ডাক্তার দেখাতে গেলাম।ব্যাটা বলে চোখ নাকি খুব ভাল, তবে রিফ্লেক্সের কি সমস্যা নাকি আছে তাই মাথাব্যাথা হয়! পয়েন্ট টু ফাইভ এর চশমা দিয়ে বলল ৬ মাস টানা পড়লেই নাকি ভাল হয়ে যাবে। আমাকে আর পায় কে, চশমা নিয়ে নিলাম। জমিয়ে জমিয়ে পড়ি, টানা পড়ে আর পড়তে না পারলে তো সমস্যা!
এভাবেই বছর পাচ কাটিয়ে দিলাম। কয়েক ফ্রেম আর গ্লাস বদলে এখন একটা ফটোসানের মোটা ফ্রেমের নেভি ব্লু গ্লাস চলছে। রোদে গেলেই আপনাতেই রোদ চশমা হয়ে যায়। কি চমত্কারই না লাগে তখন!আম্মুরও ঠিক এমন একটা চশমা ছিল আমার পিচ্চিবেলায়।
ছোট ছেলেরা আসলে কখনই বড় হয় না তবুও চশমা আছে বলেই বড় বড় ভাবটা অন্তত নেওয়া যায়!
আসলেই,
চশমিশ থাকার মজাই আলাদা!
ব্লগর ব্লগর
ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার আমার পিসিতে বসে ব্লগ পড়া, ব্লগ লেখার অপচেষ্টা করে দারুণ ভালোলাগার সময়গুলো কেড়ে নিচ্ছে। সকালবেলায় অফিস যাওয়ার লম্বা সময়টাতে ফোনে পত্রিকার হেডিং দেখি পাঁচ মিনিট, তারপর ব্লগ পড়া শুরু করি। কখনও ভুলভাল বানানে হলেও কোথাও কমেন্ট করি, পোস্ট শেয়ার করি। ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করতেই থাকি। আমার আর পিসিতে বসাই হয় না। পিসিতে বসি মুভি দেখতে। ইদানীং খেয়াল করছি শরীরটা খারাপ লাগে..গা গোলানো ভাব, মোবাইলে বেশী টাইপ করতে পারি না আমি....আঙ্গুলগুলো যেন বলতেই থাকে 'প্লিজ এবার আমাদের বিশ্রাম দাও'।ঘুম হচ্ছে না ঠিকমতো। শান্তর সাথে কয়েকদিন কথা হলো...সেও বলে-- আপু এত রাত জাগেন কেন?
বিষধর গোঙ্গানী
বিধ্বস্ত হতে চেয়েছিলে তুমি রক্তিম সান্ধ্য আঁধারে
কাব্যনন্দিত সম্ভাষণ।
কালের কন্ঠ চেপে এলে
পাখিরা সব জড়ো হয়ে তোমার দু'চোখে আবার
ঝাঁক বেঁধে উড়ে গেছে একত্রে
তুমি স্পর্শহীনই হয়ে রইলে
আবার কবে যে কোথায় রজনীগন্ধার ঘ্রাণ শুনে
বিষধর সাপ গোঙ্গানী দেবে হিসেব করে দাওনি এখনো।
রাত্রি জাগা বিকেল সহসা মিলিয়ে গেলে
বাচ্চাদের হৈ-হল্লা কানে এসে লাগে না …
জানি না বোকা।
জরায়ুর জখম
ব্যাক্তিগত অনুভব অধিকাংশ সময়ই আমাদের ভাবনা আর বিচার বিশ্লেষণকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, প্রাপ্য কিংবা উপযুক্ত পর্যালোচনা কিংবা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না বক্তব্যগুলো। সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন পিতার কর্মকান্ডে বিতর্কিত হওয়ার আগেই নিজগুণে বিতর্কিত হয়েছেন, তার পরিচালনায় নির্মিত মেহেরজান ছবির মাণের বিষয়ে অনেকের অনেক ধরণের বক্তব্য ছিলো, তিনি নিজের ছবি তৈরির বিষয়বস্তু নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাসে নিজের বুৎপত্তি প্রমাণের জন্য তার স্নাতকোত্তর গবেষণানিবন্ধও পেশ করেছিলেন বিজ্ঞজনের বিবেচনার জন্য।
ইলেকশন সুখের হয় রমনীর গুনে
ইলেকশন সুখের হয় রমনীর গুনে
এই কথা সত্যি হয়েছিল (ওবা) মায়ের জীবনে।
শেষ বেলায় স্যান্ডি মাথায় দিলো বাড়ি
নির্বাচনী ভাগ্য দিলো নাড়ি
যেটুকু সংশয় ছিল মনে
তাও উড়ে গেলো হায় গগনে
এই কথা সত্যি হয়েছিল (ওবা) মায়ের জীবনে।
পরাজয় দিয়ে তুমি জয় নিলে
হেসে হেসে টিভিতে ভাষন দিলে
মা আমার চেষ্টা করো
শান্তি যেনো থাকে এই ভুবনে
এই কথা সত্যি হয়েছিল (ওবা) মায়ের জীবনে
তানবীরা
০৭/১১/২০১২
হেমন্তের লোকায়ত মিথ
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে হেমন্ত এক অদ্ভুত ঋতু। শরৎ শেষে প্রকৃতি কিছুটা মলিন হতে থাকে। আগাম পড়তে শুরু করে শীতের হিম কুয়াশা। ছাই রঙ কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে ফেলে সকাল-সন্ধ্যার সুনীল আকাশ। ফসলহীন মাঠ যেন, পরিত্যক্ত জনপদ; এর উল্টো পিঠও আছে। কৃষকের ঘর জুড়ে আনন্দের বন্যা। মাঠশূন্য করা ফসল যে তার গোলা ভরিয়েছে। মিটেছে অভাব। তাই তো দিকে দিকে শুরু হয়ে যায় নবান্ন উৎসব। শুধুই কি নবান্ন! হেমন্তে আরও কত কত উৎসব উদযাপন হয়ে আসছে সেই সুদীর্ঘকাল থেকে।
‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা--যমের দূয়ারে পড়ল কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা--আমি দিলাম আমার ভাইকে ফোঁটা।--ভাইয়ের কপালে বোন এই ছন্দ বা মন্ত্র পাঠ করে চন্দন, ঘি, মধু দিয়ে ফোঁটা দেয়; ভাই যেন বিপদ মুক্ত থাকে। ভাইও বোনকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দিয়ে আশির্বাদ করে।’--কবে যে এই ভাই ফোঁটা উৎসব শুরু হয়েছে--তা কেউ বলতে পারে না। বলা হয়ে থাকে, এটা অনার্যদের আচার অনুষ্ঠান; কেউ বলে, অনার্য নারী-পুরুষ উভয়েই জঙ্গলে শিকারে যেত, চাষবাস করত আর আর্যদের মধ্যে সাধারনত পুরুষরা যুদ্ধ করত বা শিকারে যেত, তাই বোনরা ভাইদের বিপদ মুক্তির জন্য এই অনুষ্ঠান করত, তাই এটা অনার্যদের