ইউজার লগইন
ব্লগ
ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয়
এর আগের দিন গিয়েছিলাম টাঙ্গাইল। সুন্দর জায়গা। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকার দিকে যাওয়ার রাস্তাটা বেশি সুন্দর। কক্সবাজার থেকে লামা যাবার সেই পাহাড়ী পথের মতোন। সেখানে একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে। ভেতরে আছে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল। অনেক পোশাকধারী সেনাসদস্য। কিন্তু ঢাকার জাহাঙ্গীর গেটের ভেতর থাকা সদস্যদের মতো খড়খড়ে নয় তারা। সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ায়, বাজার করে, বাজারের দোকানে বসে চা খায়, গুলতানি মারে; অনেক বেশি জনসম্পৃক্ত। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা থেকে শুরু করে সবই করে। শুধু নিয়মটা ভাঙ্গে না। আর আমাদের জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরের গুলো সারাদিন গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এমন একটা ভাব ধরে থাকে যে, ভেতরে না জানি কি রসগোল্লা-মন্ডা-মিঠাই পাকানো হচ্ছে!
সম্ভাষণ
তোমাকে সম্ভাষণ জানাবো ...তাই ভেবেছো হাত পাতবো শিশিরের কাছে
তোমার কাছে বিনীত হবো ...তাই ভেবেছো অনুসরন করবো কৃষ্ণচূড়াকে
তোমাকে নিয়ে উড়াল দেবো...তাই ভেবেছো পরিযায়ী পাখির কাছে শিখবো ডানা মেলা
তোমার কাছে পরাজিত হবো ...তাই ভেবেছো ঘুড়ির কাছে দীক্ষা নেবো
তোমার কাছে সমর্পিত হবো.... তাই ভেবেছো আবেগ শিখবো মেঘের কাছে
আমি তোমাতেই তোমার হবো.... আমি যে তোমার কাছেই শিখেছি ভালবাসতে!
মঞ্চে যাত্রা দেখলাম
কাল রাতে যাত্রা দেখতে গিয়েছিলাম। আমার জীবনে এই প্রথম সরাসরি যাত্রা মঞ্চের সামনে বসে যাত্রা দেখা। যাত্রার নাম “নীচু তলার মানুষ”। আমরা প্রথম সারির দর্শক। উঁচু মঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছি। প্রায় আধাঘণ্টা পার হয়ে গেল এই মূহুর্তে শুরু হচ্ছে আজকের যাত্রা ‘নিচু তলার মানুষ’ এই ঘোষনা শুনতে শুনতে। মঞ্চে মাইক টেষ্ট করছে। গঙ্গাজল ছিটাচ্ছে। গঙ্গাজল শব্দটা আমার ভাষায়, কারন এক ধুতি পরা লোক মঞ্চে বোতল থেকে পানি ছিটালেন তারপর মঞ্চকে ছুঁয়ে প্রনাম করলেন।
আমাদের কারখানার কিছু কর্মচারী, শ্রমিক মিলে একটি নাট্টদল তৈরি করেছিল পঁচিশ বছর আগে। সেই নাট্টদলের নাম ‘আদর্শ নাট্টদল’। তাদের পচিঁশ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানের প্রথম দিনে এই যাত্রা। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনি ঘোষনা করবেন আমার জানু। অর্থাৎ আমরা প্রধান অতিথির দলের লোক। প্রথমেই মাঠে প্রবেশ করতেই শুনলাম মাইকে একজন বলছেন--সুধীমন্ডলি একটু অপেক্ষা করুন আমাদের প্রধান অতিথির দেরীর কারনে অনুষ্ঠান শুরু করতে দেরী হচ্ছে, তবে তিনি চলে এসেছেন। প্রধান অতিথির নামের আগের পরের বিশেষন নাইবা বললাম :bigsmile ।
দূর যমুনার তীরে
মেঘের উঠোনে ছায়া দীর্ঘ হতে হতে অসীমে মিলায়।
ছায়ারা ফেরেনা। তবু মেলে রাখি করতল--যদি এক ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে কভু ঝরে পড়ে
আহা!
যদি বৃষ্টির জলের ভেতরে সেই একটি বিকেলের গন্ধ অবিকল
নীপবনে দোলনায় দোল খাওয়া
কাকভেজা
ভিজে অলকে জড়ানো কদম্বের রেনু ;
ফিরবেনা জানি
যদি ফেরে!
ফেরে যদি!
স্মৃতির বারান্দা থেকে দানা খুটে খুটে তুলি চড়ুইয়ের মতো ;
গোধূলির রূপগন্ধ পাখীদের থেকে বেশী আর কে জানে
ভোরের সবুজ ঘ্রাণ
পাখীদের মতো আর কে ছড়ায় পালকে এমন মায়া
ধারালো চঞ্চুতে বিষ !
মুঠোর ভেতরে রাখি ডানার আদর।
মুঠোর ভেতরে রাখি ঠোঁটের হিংস্রতা।
দূর যমুনার তীরে বুঝি বেজেছে বাঁশরী
-----'জলকে চল...............
টানাটানির এই সমাজ সংসারে!
পুরান কথা গুলাই নতুন করে বলতে হয়। ডিসের লাইন কেটে দিছে স্কাই ক্যাবল ট্রেডিং। শেখেরটেকের একমাত্র লাইন যাদের। তাই নেটে বসেই লাইভ খেলা দেখি। তাতে এমবি চলে যায় দেদারছে। কী আর করা মন তো মানে না। আশা ছিলো না জিতলেও ড্র হবে কিন্তু এসে পড়লো লজ্জাজনক পরাজয়। আমার স্কুল বন্ধু আবীর চিটাগাং থাকে। সে আমাকে ফোন করে বলেছিলো বেশী আবেগ্রাক্রান্ত হয়ে স্টেডিয়ামে যাস না কারন লাঞ্চের আগে যদি উইন্ডিজ আউট হয়ে যায় যদি বাংলাদেশ দুই আড়াই সেশন ব্যাট করতে হয় তবে হারবে বাংলাদেশ। আমি তার কথা শুনে বলছিলাম বাংলাদেশ নিয়ে তুই এতো নেগেটিভ কাল যদি জিতেও যায় তাও তুই বাংলাদেশের খারাপটাই খুজবি। আজ যখন ক্লাস শেষে আবীরকে ফোন দিলাম। সাধারণত কারো কথা ফলে গেলে খুব আনন্দ পায় আবীরের মনে আনন্দ নাই। বলতেছে তোদের কে নিয়ে কত ভালো ভালো কথা বলি একটাও ফলে না। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে যখন যা বলি তাই লেগে যায়। এতো এতো মানুষের এতো আশা নিমিষেই তলিয়ে গেলো ভাবতেই মন খারাপ। আমি তো অবাক ভুতের মুখে রাম রাম। যাই হোক কী আর করা ৬০ টেষ্টের অর্ধেক ম্যাচই যারা ইনিংস ব্যাবধানে হারে তাদের নিয়ে এতো আশা করাও ঠিক না। যাই হোক খেলা ভালো লাগে। খেলা নিয়ে কথা বল
আমরা স্বপ্নে বাঁচি
প্রতিবার স্বপ্ন দেখায় সাকিব, তামিম, নাসিররা সে আশায় বুক বাঁধি আমরা ১৬ কোটি মানুষ । শুধু হাতে গোনা ২-১টা বলদের জন্য ১৬ কোটির স্বপ্ন ভঙ্গ আর একরাশ হতাশা । সবাই মন থেকে খেলে বা খেলার চেষ্টা করে, শুধু ওই বলদগুলার খেলা দেখলে মনেহয় ওদের চেষ্টা করার ন্যুনতম ইচ্ছাও নাই ।
ওদের এই বলদিয় ভুলের জন্য আর কত স্বপ্ন ভঙ্গ আর কত হতাশা ?
সাবাশ বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়। হয়তো একদিন আসবে যখন বলদ মুক্ত বাংলাদেশ দল হবে, আর আমাদের ও সইতে হবেনা স্বপ্ন ভঙ্গের জ্বালা ।
সেদিন খুব বেশি দূরে নয়। আর যতই স্বপ্ন ভঙ্গ হোক আমরা স্বপ্ন দেখতে ভুলবো না । শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখেই যাবো । কারন আমরা যে স্বপ্নে বাঁচি ।
হারিয়ে পাওয়া
সেদিন সকাল থেকেই খুব ব্যাস্ত আমি । বেলা ১২টার দিকে বড় মেয়েটার স্কুল থেকে ফোন এল। আপনার মেয়ে পায়ে ব্যাথা পেয়েছে, সে সাইকেল চালাতে পারছে না। তাকে কি আমরা রিক্সায় তুলে দেব, নাকি আপনি কোন ব্যাবস্থা নিবেন? -- আমি আসছি, বলেই গাড়ি নিয়ে স্কুলে গেলাম। সেখান থেকে তাকে নিয়ে হাসপাতাল। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে রুগীর সবকাজ শেষে বাসায় ফিরলাম। আইস ব্যগ নিয়ে বসেছি পায়ে বরফের শ্যাক দিতে এমন সময় নীচ থেকে চিৎকার । দৌড়ে নিচে যেয়ে দেখি ছোটটার পায়ের চামরা ছিলে রক্তারক্তি কান্ড। তাকে বাগান থেকে নিয়ে এসে পা ধোয়ানো থেকে শুরু করে তার সম্পূর্ন শুশ্রাষা করে, তাকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম। এবার আমার ফোন বেজে উঠল। জানের জান জানু জানালো সে এই মুহুর্তে সীমান্ত ট্রেন ধরে রাজশাহী যাবে, আমি যেন তার ব্যাগ গুছুয়ে দেই, সে আসছে। বাচ্চাগুলি যে আহত হয়েছে সে কথা বলারও ফুসরুত পেলাম না। ব্যাগ গুছিয়ে দিলাম । তিনি আসলেন ব্যাগ নিলেন, চলে গেলেন।
পিছুটানের একটি দিন.. (১৬ নভেম্বর ২০১২)
দৃশ্য-১:
সবুজ ঢিলেঢালা পোলো টিশার্ট পড়া একজন "লোক"। সাথে দুই "ভদ্রমহিলা"। তাদের দেখে প্রথম দৃষ্টিতে মনে হবে নির্ঘাৎ ব্যাংক বা কর্পোরেটের সেলস-এ চাকরি করেন। কারণ তাদের চোখ-মুখ পাথরের মতো থমথমে..ব্যতিক্রম শুধু গান শুরু হবার পর। ১৬ নভেম্বর ২০১২-তে আর্মি স্টেডিয়ামের কনসার্টের মঞ্চে যখনই ব্যান্ড তারকারা গাইছেন- তখনই তারা মাথা ঝাকিয়ে ঝাকিয়ে গান গাচ্ছেন। এবং পুরোটা গাচ্ছেন। সবগুলো গান গাইছেন। মনে হলো তাদের এভাবে ব্যান্ডের গাইতে দেখলে তাদের কলিগদের নিশ্চয়ই হার্টে এ্যাটাক হতো!!
দৃশ্য-২:
বোকা মানব এবং মানবীদের গল্প
বাসা থেকে বের হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে ছেলেটা ভাবছিল কোন বাসটা ধরলে ভাল হবে। যাবে গুলশান দুই। একটা Interview আছে তাই মোটামুটি ফিটফাট হয়ে বের হইছে।মানি ব্যাগের অবস্তা তেমনি যেমন একজন সদ্য পাশকরা নব্য চাকরিরত ব্যচেলর এর মাসের শেষে হয়।তাই এই গরমে এই ভীড়ের বাসে উঠলে ভাঙ্গাচুরা চেহারারে যাও একটু মেরামত করসিল তা যে আবার আগের রুপে ফিরে যাবে জেনেও সে নিরুপায়।বাসের অপেক্ষায় সাঁই সাঁই করে ছুটে যাওয়া লাল নীল গাড়ীগুলো দেখছিল সে আর উদাসী থেকে উদাসীতর হচ্ছিল।হঠাৎ নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারাল সে। ধুর কি হবে Interview দিয়ে। আর কয়টা টাকা বেশী হয়ত ৫ টার জায়গায় ১০ টা সিগারেট কিনতে পারা,মাসে দুইবারের জায়গায় ৪ বার আলো আঁধারীতে বসে অমৃত গলাধঃকরন করে নিজের সমস্ত দুঃখ,যন্ত্রনা,অসহায়ত্ত ভোলার বৃথা চেষ্টা।ব্যাস এর বেশী কিছুনা।ধুর!বাদ!
(পাঠক/পাঠিকা,কি বলবেন একে?দায়িত্তজ্ঞানহীন একটা পাগলের উল্টাপাল্টা চিন্তা আর কার্যকলাপ)।
সিদ্ধান্তটা নিয়ে সে খুশী মনে এইবার সে তাকাল আকাশের দিকে।মাথার উপর অবারিত মুক্ত নীল আকাশ।আকাশটা আজ অদ্ভুত নীল।
আমার বন্ধুর প্রেম ।

আমার কলেজ লাইফের ছোট্ট একটি ঘটনা বলছি । প্রথম কলেজে উঠার পর খালি গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে চিন্তা করত আমার এক বন্ধু । আমার যদি একটি গার্ল ফ্রেন্ড থাকত ।
এভাবেই দিন যাচ্ছিল একদিন আমার বন্ধু আমাকে বললঃ দোস্ত আমার একটি মেয়ে পছন্দ হয়েছে আমি বললাম কোন সেকশনের ? সে বলল তাতো জানিনা মনে হয় নতুন ভর্তি হয়েছে ।
আয় আমার সাথে । বলেই সে আমাকে বাংলা ডিপার্টমেনট এর সামনে নিয়ে গেল । আমি সেখানে আনুমানিক ২৪ কি ২৫ বয়সী একটি সুন্দরী মেয়েকে দেখতে পেলাম । সে বলল এটিই সেই মেয়েটি । আমি দেখে বললাম বলিস কি এই মেয়ে আবার কবে ভর্তি হয়েছে ? আর বয়সেতো মনে হচ্ছে আমাদের থেকে বেশ বড় । আর বাংলা ডিপার্টমেনট এ কি করে ? মনে হয় কোন টিচারের মেয়ে হবে ।
আমার বন্ধু বলল হতে পারে , কিন্তু মেয়েটি কি সুন্দর নয় ?
আমি বললাম হ্যাঁ দেখতে তো বেশ সুন্দর । কিন্তু মেয়েটি কোন সেকশনে ?
সে বলল এটা তো জানিনা । তিনদিন ধরে কলেজে দেখছি । তুই বল এখন কি করা যায় ।
আমি বললাম দেখ আগে মেয়েটির সাথে কথা বল বন্ধুত্ত করার চেষ্টা কর । এরপর দেখা যাবে কি করা যায় ।
ফিরে দেখা ৭১ - পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (পর্ব - ১)

[প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই সিরিজটা প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে অন্য একটি ব্লগে দিয়েছিলাম, তবে এবার আরো বেশী তথ্য হাতে নিয়ে শুরু করলাম, তাই বেশ কিছু পর্বে খুব বেশি মিল থাকলেও পুরো সিরিজটা হুবুহু মিলবে না। নতুন অনেক তথ্য যোগ করার আশা রাখছি।]
পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭ - ১৯৭১)
পাকিস্তান মুলত এমন একটি দেশ ছিলো যার দুই খন্ডের মানুষে মানুষে শুধুমাত্র ধর্ম ছাড়া আর কোনই মিল ছিল না। হাজার মাইলের দুরত্ত ছারাও তাদের মধ্যে ছিল অনেক অমিল। সংস্কৃতি, ভাষা, আচার-আচরন এমনকি অর্থনৈতিক ব্যবধান।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের সাধীনতা আন্দোলনের সুত্রপাত মুলত ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। পাকিস্থানিরা সেদিন আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে কিতে ছেয়েছিল যা এই অঞ্চলের মানুষ মেনে নেয়নি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী পৃথিবীতে প্রথম কোন জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল।
[In 2001, UNESCO declared 21 February as International mother language day]
অতিপ্রাকৃতিক সমান্তরাল
সেদিন অচেনা বন্ধুর সঙ্গে ই-মেইল চালাচালি হচ্ছিলো। এটা একটা ভালো জিনিস পাওয়া গেছে চালাচালি করার জন্য। ফ্রিজবী'র মতো অনেকটা। যাই হোক, আমাকে ২টার সময় ঘুম থেকে উঠতে দেখে তিনি যথারীতি হতাশ হলেন এবং আমার লাইফস্টাইলকে ‘ল্যাভিশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। সেটা পড়ে আমি যারপরনাই খুশি হলাম। কেন জানি না।
চলতিপথে একদিন মেজর অনন্তের সঙ্গে দেখা। মতিঝিল কাঁচাবাজারে বাজার করছিলেন। বললাম, এই করেই তো জীবনটা পার করলেন। এখন কিছুক্ষণের জন্য একটা ব্রেক নেন। কক্সবাজারে লং বীচ নামে একটা সুন্দর হোটেল আছে। সেখান থেকে ঘুরে আসেন। আর ওখানে কিন্তু রেজিস্টার্ড বার আছে একটাই। হোটেল সীগালে সম্ভবত। গিয়ে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। মেজর অবশ্য আমার কথায় খুব প্রভাবিত হলেন বলে মনে হলো না। বরং রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ঘুরঘুর করতেই নাকি উনার বেশি ভালো লাগে। আর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে। আমরা নিজেদের চা-বিড়ি ধ্বংস করায় নিয়োজিত অবস্থার একটা ছবি তুললাম। সেই ছবিটা আমি কভারে লাগিয়েছি।
মিডিয়ার অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতা
আমি একবার কোনো প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিলে সে প্রতিষ্ঠানে আর চাকরী করি না। এটা আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি কোনও কিছু বা কাউকে বা কারো সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করার আগে ভাবা দরকার। হুট করে সম্পর্ক গড়া যায়, তবে খুব সহজে সম্পর্ক শেষ করা যায় না বা যাওয়া উচিৎ না। স্কয়ার ছাড়লাম। অ্যারোমেটিক ছাড়লাম। ছাড়লাম এসিআই। এরপর ছাড়লাম প্রথম আলো, ছাড়লাম ল্যাবএইড। বেকার জীবন কাটালাম কিছুদিন। তারপরও সাবেক কোম্পানি প্রধান বলা স্বত্তেও জয়েন করিনি। ওই যে বললাম, দ্বিতীয়বার কোনও কোম্পানিতে ফিরে যাওয়া আমার ইথিক্সে নেই।
আজকাল দেখি লোকজন আজ এই কোম্পানিতে তো কাল অন্য কোম্পানিতে। পরশু আবার আগের কোম্পানিতে। মনে হয়, এক কোম্পানির ভিজিটিং কার্ড ছাপা হওয়ার আগেই আরেক কোম্পানিতে বা অফিসে। অস্থির প্রজন্ম। পেশাদারিত্বের চেয়ে টাকা আর পদের গুরুত্ব এদের কাছে বেশি। ফলে অল্প বয়সে টাকা আর পদের ভারে এরা ন্যুজ হয়ে পড়ে। সব কিছুর একটা শেষ আছে। একটা সময় এই সব নন প্রফেশনালরা টাকা আর পদের সমন্বয় করতে পারেন না। ফলে দেখা দেয় হতাশা আর অস্থিরতা।
শুধু প্রতিটি নতুন দিনের অপেক্ষা...
শহরগুলোর প্রাণ আছে। চিটাগাং শহরের ইদানীং লাইব্রেরিটার কথা আজ মনে পড়ে গেলো অবন্তীর সঙ্গে কথা বলার সময়। আমিও ওর মতো লাইব্রেরীতে গিয়ে চাচা চৌধুরির একটা বই কেনার পাশাপাশি আরেকটা বই পড়ে চলে আসতাম। তখন মনে করতাম, দোকানদার বুঝতে পারছে না। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত জানি, দোকানদার খুব ভালোই বুঝতো। আমি হলেও ঠিকই বুঝে ফেলতাম। কিন্তু কাউকে এ কাজে বাধা দিতাম না। বই পড়তে বোধহয় পৃথিবীর কেউ বাধা দেয় না। প্রচলিত আউট বই টার্মটি মূলত মানুষের জীবনে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তারপর এ টার্মটিও একসময় অবান্তর হয়ে যায়।
গল্প : ইনটু দ্য ওয়াইল্ড
ইনটু দ্য ওয়াইল্ড। আমার খুব প্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে একটা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের জীবন মনে হয় আসলেই এ সিনেমাটির সঙ্গে মানানসই। কারো যদি কোনোকিছুতেই মন না বসে এবং সিরিয়াসলিই সেটা না বসে; যার কোনো রিমেডি নাই, তখন তাকে কি করতে বলা উচিত? পুরো পৃথিবী ছেড়ে একা একা বাস করার জন্য অরণ্যে গিয়ে ঠাঁই নেয়া সিনেমার সেই একরত্তি ছেলেটার জীবনের শেষ উপলব্ধিটি ছিলো, হ্যাপিনেস্ ইজ রিয়েল হোয়েন শেয়ার্ড। সুখটা তখনই আসল, যখন সেটা কারো সঙ্গে ভাগ করে নেয়া যায়। কিন্তু কোনো কোনো সুখ আছে, যেগুলো কারো সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার সুযোগ থাকে না। সেই সুখানুভূতিগুলো নিয়ে আমাদের কি করা উচিত? আমি মাঝে মাঝে বসে বিষয়টা নিয়ে ভাবি।