ইউজার লগইন
ব্লগ
ধর্মবিশ্বাস
অন্য কিছু লিখবো ভেবে শুরু করেছিলাম, মাঝপথে একজনের সাথে ধারাবাহিক আলোচনার পর মনটা বিক্ষিপ্ত হলো, ও নিজস্ব জীবনে ধর্মপালন করে নি, অন্তত আমি তাকে নামাজ পড়তে দেখি নি, তাকে রোজাও রাখতে দেখি নি। ধর্ম বিশ্বাসে ও নাস্তিক কি না কখনও জিজ্ঞাসাও করি নি, তবে হালের প্রাকটিসিং মুসলিম ও না। ওর নাম ও বেছে নেয় নি, আমাদের অধিকাংশেরই নিজের নাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকে না।
সকাল থেকে দেখছি কলোরেডো শ্যুটারের ছবি বিতরণ করছে মানুষজন, সেখানে লেখা যদি ও মুসলমান হতো তাহলে ওকে সন্ত্রাসী বলতো, যদি ও কালো হতো তাহলে দুবৃত্ব কিন্তু সাদা চামড়ার বলে ওকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হবে। অপরাপর স্বল্প পরিচিত মানুষেরা ছবিটা বিনিময় করছিলো, আমি তাদের সাথে আলোচনার আগ্রহ পাই নি, কিন্তু ওকে ছবিটা বিনিময় করতে দেখে অবাক হলাম।
ওর সাথে হঠাৎ আলোচনায় জড়িয়ে পড়াটা উচিত কি অনুচিত না বুঝেই ওকে বলেছিলাম তোকে আমার মানুষ হিসেবে দেখতেই বেশী ভালো লাগবে, তবে তুই যদি মুসলিম পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিস সেটাতেও আমার তেমন কোনো আপত্তি নেই।
বিটক্যাল। ইটক্যাল। পাটক্যাল।
বিটক্যাল টাইম যাইতেছে আমার। এদিক দেহি বল্গো বিটক্যাল টাইম্পাস কর্তেছে। লুগজনে লেখা ফালায়দিয়া দুমকৈরা উধ্যাও হয়্যা যাইতেছ। কেউ কমেন্টাইতে আগ্রোহি হয় না। আরে বাপ, ওইন্যের পুস্টে না গ্যালে আমার্পুস্টে লুগজনে আইবো কিল্লিগা? আমি লুক্ষারাপ। ধপাস কৈরা মুখের উর্ফে কথা কইয়া ফালাই। এদিক বুইড়া চাচাব্বা চাছিয়াম্মা টাইপের বল্গারেরাও চিহারা দেখান্না। উনেরা সব বড় ভচ হইয়া গেসেন। উনেগো দাবাত দিয়া বল্গে আনতে হৈবো। সব চাচাব্বা আর চাছিয়াম্মা বল্গারেরা এরাম, তা না। কিন্তু অনেকেই এরাম হইয়া গেসে।
যাউজ্ঞা, ঐন্যেরে কি কমু? আমি হালায় নিজেও তো এরাম ভচ ভাব ধৈরা ঘুইরা বেড়াইতেসি। নিজেরেই দিক্কার।
বিটক্যাল লাইফ নিয়া ল্যাখতে বইসা ইটক্যাল মাইরা বস্লাম মাইনষের দিকে
দেখি এইফেরা কেডা কেডা পাটক্যাল মারে।
ছিল মর্ম বেদনা গাঢ় অন্ধকারে
পয়েন্ট অব ভিউ বা ফিলোসফি অব লাইফ যেইটাই বলেন না কেন জিনিস টা বড়ই মারাত্মক... বান্দর ক্যান চাইর পা ছাইড়া দুই পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করল? কেউ কইতারেন এইটাই তার কপাল... হ, বস আপনেরটাও একটা পয়েন্ট অব ভি্উ। আবার কেউ কইতারেন চাইর পায়ে থাকলে বান্দরের বল্স গুলা ইনসিকিউর অবস্হায় থাকে তাই বিচি বাচাইতে বান্দর দুই পায়ে দাড়াইছে... আরে বস আপনেরটা তো আরো বস পয়েন্ট অব ভিউ। মাসুদ রানায় পড়ছিলাম (আমার পড়াশোনার দৌড় ঐ পর্যন্তই...
) রানা কইতাছিল মানুষ মারা গেলে কেউ কইতারে বেহেশতে যায়, আর কেউ কইতারে সাড়ে তিন হাত মাটির নীচে যায়; দুইটাই পয়েন্ট অব ভি্উ। রানা ব্লগাইলে ব্লগ কাত কইরা ফেলত সন্দেহ নাই...
তারে চেনা হলো কৃষ্ণপক্ষের পথিকরূপে
কিছু দিন আগে আবিষ্কার করলাম, পড়ার অভ্যাস শূণ্যের মাত্রায় নেমে আসছে। ব্যাগের ভিতর একটি বই রেখে দিলাম। অফিসে অবসর সময়ে আড্ডাবাজি ছেড়ে বইটা খুলে বসলাম। খুক খুক করে হাসার শব্দে আশেপাশের সহকর্মীরা বারে বারে তাকাচ্ছে। একজন এসে জানতে চাইলে কোনমতে হাসি থামিয়ে বললাম, বহুব্রীহি পড়ি। লেখক হুমায়ূন আহমেদ। একসময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিকের ছাপা অক্ষরের এই বইটি সেদিন আমাকে নতুন করে পাঠকে পাঠকে পরিণত করেছিল। না, এ আমার প্রথম পরিচয় নয় লেখকের সাথে। হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার পরিচয় সেই ছোটবেলায়। প্রথমে নাট্যকার হিসেবে আমার চেতনায় তার অনুপ্রবেশ। ”হঠাৎ একদিন” নাটকটি কারো মনে আছে কিনা জানিনা। কিন্তু সেই ছোট্ট অভির মতো ছোট্ট আমার মনে ঠিকই বাসনা জেগেছিল একদিন চিড়িয়াখানা থেকে একা একা বাসায় আসার। কঙ্কাল দেখে ভয়ে হাউমাউ করে উঠার দৃশ্যগুলো আজো মনে আছে। জানি না কি করে! কারণ তখন আমি নিতান্তই শিশুমানুষ। এরপর হুমায়ূন সাহেব আবার আমার ছোট্ট মাথার কোষগুলোতে স্থান করে নিলো বহুব্রীহির বোকা আনিস, মামা, কাদের-এর নানা সংলাপ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত ”তুই রাজাকার”-এর মতো আলোড়ন তোলা উক্তি দিয়ে। স্কুলে কাউকে পছন্দ না হলে বলতাম, তুই রাজাকার!
বিষাদের দিন রাত্রী
ব্লগ লিখতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু লেখা হয়ে উঠে না কারন সময় পাই না বলে। বেকার লোকেরা অনেক ব্যাস্ত। আর ব্যাস্ততা ভেঙ্গে যখন লিখতে বসি তখন মনে হয় এরচেয়ে গান শুনি ইউটিউবে। জোয়ান বায়াজ থেকে শুরু করে ইত্যাদির গান সব শুনি। মন মেজাজ ভালো না। দিন যায় বড়ই বিষাদময় সময় নিয়ে। ভালো বন্ধুর মারাত্মক এক্সিডেন্ট খুব মনোবেদনার কারন। তার ভিতরে পাচ মাসের পেটে থাকা বাচ্চার মৃত্যু দিন গুলাকে বিষাক্ত করে দিছে। হাসছি খেলছি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দিয়ে পার করছি। কিন্তু মনে তীব্র একটা ব্যাথা অনুভব করি। যার উপর দিয়ে এতো বিপদ গেলো তাকে সান্তনা দেয়ার সাহস পাইনা যে আসলে কী বলা যায়। তাও ফোন দেই নরমাল কথা বারতা বলে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করি। সেও চেষ্টা করতেছে এইটাই একমাত্র ভালো খবর।
কোথাও কেউ নেই
একদিন আমাদের কুমিল্লার 'যন্ত্রণা' বাসাতে গিয়ে হাজির তিনি। সাথে- বোন, বোনের মেয়ে, নিজের দুই কন্যা নোভা আর বিপাশা, দুইজন প্রকাশক বন্ধু...। ঘন্টা খানেক ছিলেন। তারপর আবার ঢাকায়। সেই প্রথম তাঁর সাথে সরাসরি দেখা। সেটা মনে হয় ৯২ বা ৯৩ সালের কথা। এরপর তাঁর সাথে দেখা হয় আরো কয়েকবার। ধীরে ধীরে মানুষটাকে ভালো লাগতে থাকে। সবসময় নিজেই আসরের মধ্যমনী। সারাক্ষণ কথা চালিয়ে যেতে পারেন। তাঁর 'সেন্স অব হিউমার' এত ভালো যে, কাউকে কখনো বিব্রত হতে হয়নি তাঁর কারনে। রসিকতা কাকে বলে, কত প্রকার- সেটা যারা তাঁর সাথে মেশেনি তারা জানেন না।
তিনি...
কয়েক প্রজন্ম বাংলাদেশীদের বই পড়ানো তে ফিরিয়েছেন তিনি; কয়েক প্রজন্ম বাংলাদেশীদের বই পড়ানো শিখিয়েছেন তিনি; টিভি নাটক দেখানো শিখিয়েছেন তিনি; মধ্যবিত্তকে সিনেমা হলে ফিরিয়েছেন তিনি; মনের আনন্দে বৃষ্টিতে ভেজা শিখিয়েছেন তিনি; জোছনায় উদ্ভাসিত হতে শিখিয়েছেন তিনি; রাজাকারকে “তুই রাজাকার” বলতে শিখিয়েছেন তিনি; শেষ জীবনে নিজেই আবার প্রায় রাজাকার উপাধি পেয়েছেন তিনি...
তার কাগুজে চরিত্রগুলি তার মতই অতি সাধারনের মধ্যে অসাধারন, জীবনের বাহুল্যগুলি তাদের স্পর্শ করেনি। বেঁচে থাকতে ব্যাপক গালাগাল খেয়েছেন, এখন কয়েকদিন তার স্তুতিবন্দনা চলবে সর্বত্র। তারপর আবার বৃষ্টি হবে, জোছনা উঠবে, কিন্তু...
গত চারটি দশক তিন হুমায়ুন (আজাদ - ফরিদী - আহমেদ) ঋদ্ধ করেছেন আমাদের নানাভাবে। শেষজনও চলে গেলেন সময়ের আগেই। তার শেষ ইচ্ছাটা অন্ততঃ বাস্তবতা দেখুক, দেশে একটা আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল হোক, তারই নামে...
~
কে বলে - কাল রাতে জোছনা ছিল না ?
রজনীর শুরু - ঘড়ির কাঁটা মাত্র ১১' র ঘর পার হযেছে - হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক যুবক তখন মগবাজার চৌরাস্তার কাছে - অদ্ভুতুড়ে তার জীবনদর্শন - জগতের অপার রহস্য তাকে নিয়ত আচ্ছন্ন করে রাখে - আধ্যাতিকতার প্রশ্নে দীর্ঘদিন থেকেই সে বিতর্কিত - আজকের রাতটা কেমন যেন - যুবকের প্রবল ইনটুইশন আজ কাজ করছে না - তার জানা নেই - কিছুক্ষণের মাঝেই পৃথিবীর গভীরতম রহস্য তাকে গ্রাস করবে - এগারোটা বিশ - হুট করেই যেন যুবকের চারপাশ বায়ুশুন্য হয়ে গেল - অত:পর তীব্র অসহনীয় শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসা - ভিতরে এক বোধ - এই তাহলে মৃত্যু - এত যন্ত্রণার মাঝেও আকাশের দিকে তাকাতে তার ভুল হয়নি - খুঁজছে সে চাঁদ - খুঁজছে জোছনা - নেই - আজ বুঝি অমাবস্যা - মৃত্যু তাহলে আঁধারের ঘাতক - ক্ষতি নেই - যার হৃদয় ভর্তি জোছনা - পঞ্জিকায় নয় - প্রতিটি রাতেই যে তার পূর্ণিমা.
ভালো থাকবেন
নিজের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন বিষয় নিয়ে মাঝেমাঝে ছোট টেনশন থাকে। যেমনটা ছিলো হুমায়ুন আহমেদের সুস্থ্য হয়ে ওঠা নিয়ে। শুনেছিলাম, ক্যান্সার বেশ ক্ষতিকর পর্যায়ে চলে গেছে, তাও ছোট্ট একটা আশা ছিলো সুস্থ্য হয়ে এসে আবারও আমাদের গল্প শোনাবেন তিনি। ক্যান্সারের সাথে তাঁর লড়াইয়ের গল্প। অতিসুক্ষ্ম রসবোধ আর ভীষন দরদ মিশিয়ে আবারও ছুঁয়ে যাবেন অসংখ্য পাঠককে। আশাটা পূর্ণ হয়নি। লোকটা চলে গেলেন, অনেক দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দিয়ে।
মনটা বিক্ষিপ্ত। অনেক কিছু মনে জমে আছে, লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। আবার ভালোও লাগছেনা।
সিনেমা-টিভির তারকা, মডেল, খেলোয়াড় - এদের সবাইকে ছাড়িয়ে একজন লেখক আর কোনোদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পেরেছেন কিনা আমি জানিনা। এটা হয়ত হুমায়ুনের বিশালত্বের একটা পরিচায়ক।
সেই ফুলের দল...
এই মুহুর্তে আমি যে ঘরটায় থাকি তাতে একটা জানলা। সেটা দিয়ে বেশ দূরে হাইওয়ে দেখা যায়। সেখান দিয়ে দিনরাত বিরামহীন হুস হুস করে চকচকে গাড়ি যায়, বিশাল বিশাল ট্রাক যায়, বাস যায়, পিকাপ যায়। আমি বড় একটা হোটেলের ছোট্ট জানালায় একা দাঁড়িয়ে গাড়ি দেখতে থাকি।
জানালায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম প্রিয় মানুষের মৃত্যু নিয়ে।
গত সপ্তাহে খবর পেলাম প্রিয় লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের লেখক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে । ডিমেনশিয়া আক্রান্ত এই লেখক আর লিখতে পারবেন না বলে ঘোষনা দিয়েছে তার ভাই। আমরা আর হাতে পাবোনা সহজ সরল ভাষায় লেখা এক জাদুবাস্তবের ল্যাটিন আমেরিকা।
কিচ্ছু বলার নেই.. :'(
অনেক গুলি চিন্তা -ভাবনা -স্মৃতি মাথায় ঘুরছে। অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করছে, পারছিনা কিছুতেই।
কিছু কিছু সময় আসে,
মনে হয় বুকের ভেতর সব কিছু ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। একটা টু শব্দ করতেও ইচ্ছে হয় না।
হঠাত্ হঠাত্ একেকটা ঢোক গিলতে বড় বেশি ভয় করে,
কিছুতেই কারও চোখে চোখ রাখা যায় না।
আজ আমার কোথাও যাওয়ার নেই,
কিচ্ছু বলার নেই..
বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ আর নেই..
শ্রদ্ধা, দোয়া এবং ভালোবাসা..
সৃষ্টিকর্তা তার আত্মা কে শান্তি দান করুন।
.. :'(
এবং দরজা...
দরজা খুলে দিলে উড়ে আসে ধুলোমাখা মেঘ, পাখিদের পালক;
কার্ণিশে বসে থাকা ঘুম, দুদ্দাড় ছুটে যায় আকাশের দিকে,
ভুলে যাওয়া কবিতারা ভীড় জমায় কিবোর্ড ঘিরে..
সাদা-কালো স্মৃতিগুলো জড়িয়ে থাকে দরজার চৌকাঠে,
বেরোতে কিংবা ঢুকতে, স্বর্ণলতা হয়ে ওঠে।
আদতে,
স্মৃতিরা ফেরেনা ঘরে
হারায়ও না অচেনা রাস্তার ভীড়ে।
চৌকাঠে, দরজায়,
যাপিত দিনের তলানি জমতে থাকে নিরন্তর..
মেঘের দরজা খুলে দেখি বৃষ্টির পদধ্বনি, ভেজা রোদের গান;
সারিবদ্ধ চোখে পলক পড়ে মিলিটারি শৃংখলায়
কাজের ফিরিস্তি লিখে আগামীর খাতায়।
ভয় ঘিরে থাকা আংগুল গুলো গিলে ফেলে নিজেদের অনুভূতি,
ভেসে যাই গতানুগতিক স্রোতে...
দরজার এদিকে পরিচিত দীর্ঘশ্বাস, ওদিকে অপরিচিত...
ব্যাক্তিগত দরজাগুলো যতটাই এঁটে রাখা যাক না কেন,
হাট হয়ে খুলে যায় বাতাসের মৃদু স্পর্শেই...
গল্পপাখিটা মনমরা, উড়ে চলে গেলে
শব্দরা ধীরে ধীরে ফিরে আসে চেনা বারান্দায়।
কেউ কেউ দরজা পার হয়ে ঢুকেও পড়ে অগোছালো বেডরুমে
যেখানে স্মৃতিবুড়োর কাঁপা হাতে ব্যাস্ততা, হারানো শব্দ খোঁজার...
দরজা বন্ধ করে দিলে আড়মোড়া ভাঙ্গে ঘুম
ধূসর গোধূলিঃ (২য় পর্ব) দীর্ঘশ্বাস

বিভা মাষ্টার বাড়ি থেকে ফিরে দেখে তখনো ঘুমাচ্ছে প্রভা। চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে ঘরের অনেক জায়গাই ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। প্রভার পায়ের কাছে কাঁথাটার অনেকখানিই ভিজা।
-ইস! বিছনাডা এক্কেবারে ভিইজা গ্যাছে, মাইয়াডা কিছুই দ্যাহে না। এই প্রভা, ওঠ।
চোখ মুছতে মুছতে উঠে বসে প্রভা।
-তুই দ্যাহস না খেতাগুলান ভিইজা গ্যাছে? পইড়া পইড়া খালি ঘুমাস ?
-আমি কি করুম? চালের সব জায়গা থেক্কাই তো পানি পড়ে। খেতাগুলান তো সরাইয়াই রাখছিলাম, বৃষ্টিতে ভিজা গ্যাছে।
বিভা ঘরের চালের দিকে তাকায় আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে- ঘরের চালে কত জায়গায় যে ছিদ্র গুণে শেষ করা যাবে না। আট বছর আগে, প্রভার বাপে মরণের আগের বছর ছন দিয়ে ছাওয়া পুরানো ঘর, বৃষ্টিতে ভিজে ছন পঁচে গেছে অনেক জায়গায়।
হুদাহুদাই(৬)
লীনা’পুকে দেখি না অনেকদিন ব্লগে! এমন না যে উনি লিখছেন না, দূর্দান্ত লিখে যাচ্ছেন, সেদিন তো এক প্রতিযোগীতায় পুরষ্কারও পেলেন লেখার জন্যে। কিন্তু ব্লগে উনার লেখা নাই। ফেসবুকে বইপড়ুয়া গ্রুপটাতে দারুন সব আলোচনা হয়। মানুষ কত্তো পড়ে, তায় আবার জীবনের খুটিঁনাটির সাথে তার মিলটাও খুজেঁ নেন, তুলে ধরেন মতামত। ভালোলাগার দারুন সব ব্যাপারস্যাপার। তেমনি একআলাপে লীনা’পু কাকে যেন বলছিলেন যে, ব্লগটা অনেক ডিমান্ডিং, নিয়মিত ব্লগ পড়তে হয় মূলধারার সাথে তাল পাবার নিমিত্তে, আবার যখন লেখা দেও, তাতে পাঠকের প্রতিক্রিয়া দেখো, তায় আবার উত্তর জানাও – একেরপর এক লেগেই থাকতে হয়, এতে করে অনেকটা সময় নিয়ে যায় ব্লগ, নতুন কিছু ভাবনারই অন্তরায় লাগে তা। হুবহু এই কথাই বলেনি উনি, তবে মূলকথা এই ধাচেঁরই। কামালভাইও বেশ আগে এমনি করেই বলে লেখা কমিয়ে দিয়েছিলেন! এইভাবে লেখা বন্ধ করা খুব খারাপ লেগেছে। আরো অনেকেই আছেন এমন, নাম নিয়ে বলছি না আর। হ্যা, হয়তো বুঝেশুনে উত্তর-প্রত্যুত্তর দিতে পারি না, কিন্তু ভালোলাগার মানুষগুলার সবার লেখা পড়ি, তাদের অনেক মিস করি
কবিতা: বিবেকের মাতৃবিয়োগের পর
বুর্জোয়া প্রান্তিকতায় আক্রান্ত
লুম্পেন আমি আজ
সুযোগ পেলেই মহাপরাক্রমে
গরীবের পেটে লাথি মারছি;
বিবেকের মা মারা যাবার পর থেকে
এ কাজে আমার পা, উঠতে দেরি করে না।
অথচ বিবেক নামের বন্ধুটি যতদিন মাতৃলগ্ন ছিলো
ততদিন এ কাজে আমায় বাধা দিতো,
অদ্ভুত সেই ছেলেটি আজকাল নিশ্চুপ হয়ে গেছে কেমন;
আমিও মাজুল হয়ে থাকি টুপভজঙ্গ অবস্থায়
আর অবিবেচক মনোভাব পুষে বেড়াই,
শালা দুনিয়াটাই আজ এরকম হয়ে গেছে।
তাই, আমি আলাদা থেকে মার খাই-
চাই না।
তারচে' বিবেকের মায়ের মৃত্যূতে মনে মনে খুশি আর
বাইরে মাছের মায়ের পুত্রশোক দেখাই,
বানোয়াট পৃথিবীটাকে এভাবেই মন্থন করা সম্ভব; এভাবেই
আমি পথ খুঁজে পাই,
পকেটে পয়সা খুঁজে পাই,
সংসারে ভোগের বস্তু খুঁজে পাই,
আর আয়নায় একটা জানোয়ার
খুঁজে পাই
জানোয়ারদের পালে যোগ করার জন্য।
তবে প্রসাধনচর্চিত এই জানোয়ারটি; বুনোদের চেয়ে
অপেক্ষাকৃত সুন্দর, অনন্য।
---