ইউজার লগইন
ব্লগ
জামায়াত-শিবির কেন আমাদের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি
বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বিভিন্ন সামরিক সরকার এবং রাজনৈতিক দলের কাঁধে ভর করে বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একথা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি এই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা কখনো মনে প্রাণে স্বীকার করেনি এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সময়কালীন তাদের অবস্থানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাতো দূরের কথা, বিন্দুমাত্র লজ্জ্বিত হতে তাদেরকে দেখা যায়নি। উলটো জনগনের সামনে নির্লজ্জ্বের মত বলতে দেখা গেছে, “দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।”
এছাড়া এই জামায়াতে ইসলামী আরেকটা মিথ্যা প্রপাগান্ডার আশ্রয় নেয় তা হলো, বঙ্গবন্ধু সকল যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে গেছেন।
বিদায়, হে খেয়ালী জাদুকর..

আজ দুপুরের কড়া রোদ্দুরে একটু বৃষ্টি ভিজে,
অনেক অনেক প্রিয় লেখার একজন লেখক কে চির বিদায় জানিয়ে এলাম।
বলছি, আমাদের হুমায়ূন স্যারের কথা।
৪ দিন হয়েছে মাত্র, স্যার নেই। মনে হচ্ছে বিষাদের দিনলিপিতে স্তদ্ধ সময়ের বোবা সঙ্গী হয়ে গেছে পুরা দেশটা। অনেকেই হয়তো, যে যার মত করে ব্যাস্ত। তবুও অদ্ভুত বিষণ্ণতা ঘেরা অস্থিরতায় ঢেকে আছে একেকটা মন।
কিছুই ভাল লাগছে না। কি কি যেন লেখব বলে ভেবেছিলাম, ভুলে গেছি।
সব দুঃখ হয়তো বলে বোঝানো যায় না, বোঝাতে নেই।
গতকাল সকাল থেকেই লোকে লোকারণ্য শহীদ মিনার চত্বর, স্যার কে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন।
আমি যাইনি। বলা ভাল যেতে পারিনি। অথবা, এভাবে তাকে দেখতে যেতে ইচ্ছে করে নি।
এই মানুষটার যে চেহারা তার বই পড়ে পড়ে গড়ে উঠেছে, নয় তাই জমা থাক স্মৃতির করিডোরে।
তার জানাজা পড়ে এসেছি অবশ্য, তার লাখো ভক্তের সাথে দাড়িয়ে একসাথে দোয়া পাঠানো ছাড়া কিছুই তো বাকি ছিল না আর। সেখানেও কিছু মানুষের বক্রোক্তি শুনে আসতে হল, আজব দুনিয়া!
নাগরিক গল্পঃ ১৪-বৃষ্টিকবিতা দিন
স্বর্গের সিঁড়িতে
একাকী বসে আছে পদ্মসুন্দরী-
নীল পলকে-অপলকে
হারায় চোখ-
ফিরে আসে ঘুমন্ত যৌবন-
অস্থির মধ্যাহ্নে!
আজকে কোথায় যাওয়া উচিত? অফিস না শহীদ মিনারে? হুমায়ূনের ফেরার কথা! আজকে কি মানিক মিয়ার জারুল কিংবা সোনাঝুরি অন্যান্য দিনের মতো হাসবে? আজকে কি গোলচক্করে ঠিক অন্য দিনের মতো মীরপুরের বেপরোয়া বাসগুলো গোত্তা দেবে ডানে আর বামে! কিংবা পুরানো বিমানবন্দর থেকে ঊড়বে হেলিকপ্টারগুলো প্রজাপতি ডানায় নীল আকাশে। আজকে কি আকাশ হাসবে প্রতিদিনের মতো? গত কয়েকদিন ঢাকার আকাশ হাসি-কান্নার মাঝেই আছে। হাল্কা বৃষ্টি মনে করিয়ে শ্রাবন মেঘের দিন। অরুপের কি খুব মন খারাপ আজকের দিনে? বকুলতলা দিয়ে হেঁটে বের হয়ে অরুপ ফিরে চললো শহরের উত্তরে। আজকে কবি আসার কথা দক্ষিনে। আজকে শহীদ তাজউদ্দিনের জন্মদিন। শীতালক্ষাপুত্র শহীদ তাজউদ্দিন! মোড়ে আসতেই উজ্জ্বল আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেলো-সোজা পুবে হাঁটা শুরু করলো অরুপ। কিছুটা হেটেই মনে হলো একদিন কাজ-কর্ম না করলে কি হয়? একদিন সারা ঢাকা শহরের ব্যস্ত মানুষ দেখলে কেমন হয়!
-অরুপ কি করো? কই তুমি?
-আমি রাস্তায়-হাঁটছি; ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষ দেখবো।
এবার নাহয় তাকে আমরা বিদায় বলি
সীমাহীন খ্যাতি - নিরেট শ্রদ্ধা - অপরিমেয় ভালবাসা আর গগনস্পর্শী জনপ্রিয়তা - সবকিছু পেছনে ফেলে মানুষটা এখন হিমঘরে - প্রাণহীন দেহ নিশ্চয় এখন অনেকটা আরষ্ট - স্বপ্নভুক চোখদুটো বন্ধ হয়ে গেছে - ঠোঁট দুটো ভাষাহীন - হৃদস্পন্দন থেমে গেছে অনেক আগে - প্রখর মস্তিস্ক এখন শুধুই শূন্যতার ধারক - পচননিরোধক কে আশ্রয় করে যে মানুষটি এভাবে শুয়ে আছেন - তাকে নাহয় এবার আমরা বিদায় বলি.
নিশ্চয় তিনি অসাধারণ ছিলেন - ছিলেন নিপুণ এক লেখক - সাহিত্যের এক অপরাজেয় সম্রাট - কিন্তু এখন তিনি মারা গেছেন - আর সব নশ্বর মানুষের মতই - এটাই সত্য - পৃথিবীকে যতটুকু দেবার ছিল - বোধ করি - তিনি দিয়েছেন তারচেয়ে বেশি - দু' হাত ভরে কুড়িয়েছেন ও অনেক - কিন্তু এখন তার কলম থেমে গেছে - হয়ত তিনি অজস্র সফল স্ক্রিপ্টের জনক - কিন্তু সর্বদ্রষ্টার স্ক্রিপ্টে তিনিও নগণ্য একটি চরিত্র মাত্র.- মেনে নিতে কষ্ট হয় - তবু নিয়তি এটাই.
হুমায়ূনীয় রাসায়নিক বিশ্লেষণ
নিজের ক্যান্সার রোগ নিয়েও তিনি অবলীলায় মজা করেছেন। যেকোন কিছুতেই একটা মজা আর হাস্যরস খুঁজে নেয়ার নিরন্তর চেষ্টা ছিল তার। নিজে ছিলেন রসায়নের শিক্ষক। আজ বিদায় বেলায় তাই ব্যক্তি হুমায়ূনের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করি।
ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদ = তিন আঙ্গুলের প্রথম ভাগের সমান এক চিমটে হিমু + এক মুঠো মিসির আলী + আধ সের শুভ্র।
~
ধর্মবিশ্বাস
অন্য কিছু লিখবো ভেবে শুরু করেছিলাম, মাঝপথে একজনের সাথে ধারাবাহিক আলোচনার পর মনটা বিক্ষিপ্ত হলো, ও নিজস্ব জীবনে ধর্মপালন করে নি, অন্তত আমি তাকে নামাজ পড়তে দেখি নি, তাকে রোজাও রাখতে দেখি নি। ধর্ম বিশ্বাসে ও নাস্তিক কি না কখনও জিজ্ঞাসাও করি নি, তবে হালের প্রাকটিসিং মুসলিম ও না। ওর নাম ও বেছে নেয় নি, আমাদের অধিকাংশেরই নিজের নাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকে না।
সকাল থেকে দেখছি কলোরেডো শ্যুটারের ছবি বিতরণ করছে মানুষজন, সেখানে লেখা যদি ও মুসলমান হতো তাহলে ওকে সন্ত্রাসী বলতো, যদি ও কালো হতো তাহলে দুবৃত্ব কিন্তু সাদা চামড়ার বলে ওকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হবে। অপরাপর স্বল্প পরিচিত মানুষেরা ছবিটা বিনিময় করছিলো, আমি তাদের সাথে আলোচনার আগ্রহ পাই নি, কিন্তু ওকে ছবিটা বিনিময় করতে দেখে অবাক হলাম।
ওর সাথে হঠাৎ আলোচনায় জড়িয়ে পড়াটা উচিত কি অনুচিত না বুঝেই ওকে বলেছিলাম তোকে আমার মানুষ হিসেবে দেখতেই বেশী ভালো লাগবে, তবে তুই যদি মুসলিম পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিস সেটাতেও আমার তেমন কোনো আপত্তি নেই।
বিটক্যাল। ইটক্যাল। পাটক্যাল।
বিটক্যাল টাইম যাইতেছে আমার। এদিক দেহি বল্গো বিটক্যাল টাইম্পাস কর্তেছে। লুগজনে লেখা ফালায়দিয়া দুমকৈরা উধ্যাও হয়্যা যাইতেছ। কেউ কমেন্টাইতে আগ্রোহি হয় না। আরে বাপ, ওইন্যের পুস্টে না গ্যালে আমার্পুস্টে লুগজনে আইবো কিল্লিগা? আমি লুক্ষারাপ। ধপাস কৈরা মুখের উর্ফে কথা কইয়া ফালাই। এদিক বুইড়া চাচাব্বা চাছিয়াম্মা টাইপের বল্গারেরাও চিহারা দেখান্না। উনেরা সব বড় ভচ হইয়া গেসেন। উনেগো দাবাত দিয়া বল্গে আনতে হৈবো। সব চাচাব্বা আর চাছিয়াম্মা বল্গারেরা এরাম, তা না। কিন্তু অনেকেই এরাম হইয়া গেসে।
যাউজ্ঞা, ঐন্যেরে কি কমু? আমি হালায় নিজেও তো এরাম ভচ ভাব ধৈরা ঘুইরা বেড়াইতেসি। নিজেরেই দিক্কার।
বিটক্যাল লাইফ নিয়া ল্যাখতে বইসা ইটক্যাল মাইরা বস্লাম মাইনষের দিকে
দেখি এইফেরা কেডা কেডা পাটক্যাল মারে।
ছিল মর্ম বেদনা গাঢ় অন্ধকারে
পয়েন্ট অব ভিউ বা ফিলোসফি অব লাইফ যেইটাই বলেন না কেন জিনিস টা বড়ই মারাত্মক... বান্দর ক্যান চাইর পা ছাইড়া দুই পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করল? কেউ কইতারেন এইটাই তার কপাল... হ, বস আপনেরটাও একটা পয়েন্ট অব ভি্উ। আবার কেউ কইতারেন চাইর পায়ে থাকলে বান্দরের বল্স গুলা ইনসিকিউর অবস্হায় থাকে তাই বিচি বাচাইতে বান্দর দুই পায়ে দাড়াইছে... আরে বস আপনেরটা তো আরো বস পয়েন্ট অব ভিউ। মাসুদ রানায় পড়ছিলাম (আমার পড়াশোনার দৌড় ঐ পর্যন্তই...
) রানা কইতাছিল মানুষ মারা গেলে কেউ কইতারে বেহেশতে যায়, আর কেউ কইতারে সাড়ে তিন হাত মাটির নীচে যায়; দুইটাই পয়েন্ট অব ভি্উ। রানা ব্লগাইলে ব্লগ কাত কইরা ফেলত সন্দেহ নাই...
তারে চেনা হলো কৃষ্ণপক্ষের পথিকরূপে
কিছু দিন আগে আবিষ্কার করলাম, পড়ার অভ্যাস শূণ্যের মাত্রায় নেমে আসছে। ব্যাগের ভিতর একটি বই রেখে দিলাম। অফিসে অবসর সময়ে আড্ডাবাজি ছেড়ে বইটা খুলে বসলাম। খুক খুক করে হাসার শব্দে আশেপাশের সহকর্মীরা বারে বারে তাকাচ্ছে। একজন এসে জানতে চাইলে কোনমতে হাসি থামিয়ে বললাম, বহুব্রীহি পড়ি। লেখক হুমায়ূন আহমেদ। একসময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিকের ছাপা অক্ষরের এই বইটি সেদিন আমাকে নতুন করে পাঠকে পাঠকে পরিণত করেছিল। না, এ আমার প্রথম পরিচয় নয় লেখকের সাথে। হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার পরিচয় সেই ছোটবেলায়। প্রথমে নাট্যকার হিসেবে আমার চেতনায় তার অনুপ্রবেশ। ”হঠাৎ একদিন” নাটকটি কারো মনে আছে কিনা জানিনা। কিন্তু সেই ছোট্ট অভির মতো ছোট্ট আমার মনে ঠিকই বাসনা জেগেছিল একদিন চিড়িয়াখানা থেকে একা একা বাসায় আসার। কঙ্কাল দেখে ভয়ে হাউমাউ করে উঠার দৃশ্যগুলো আজো মনে আছে। জানি না কি করে! কারণ তখন আমি নিতান্তই শিশুমানুষ। এরপর হুমায়ূন সাহেব আবার আমার ছোট্ট মাথার কোষগুলোতে স্থান করে নিলো বহুব্রীহির বোকা আনিস, মামা, কাদের-এর নানা সংলাপ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত ”তুই রাজাকার”-এর মতো আলোড়ন তোলা উক্তি দিয়ে। স্কুলে কাউকে পছন্দ না হলে বলতাম, তুই রাজাকার!
বিষাদের দিন রাত্রী
ব্লগ লিখতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু লেখা হয়ে উঠে না কারন সময় পাই না বলে। বেকার লোকেরা অনেক ব্যাস্ত। আর ব্যাস্ততা ভেঙ্গে যখন লিখতে বসি তখন মনে হয় এরচেয়ে গান শুনি ইউটিউবে। জোয়ান বায়াজ থেকে শুরু করে ইত্যাদির গান সব শুনি। মন মেজাজ ভালো না। দিন যায় বড়ই বিষাদময় সময় নিয়ে। ভালো বন্ধুর মারাত্মক এক্সিডেন্ট খুব মনোবেদনার কারন। তার ভিতরে পাচ মাসের পেটে থাকা বাচ্চার মৃত্যু দিন গুলাকে বিষাক্ত করে দিছে। হাসছি খেলছি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দিয়ে পার করছি। কিন্তু মনে তীব্র একটা ব্যাথা অনুভব করি। যার উপর দিয়ে এতো বিপদ গেলো তাকে সান্তনা দেয়ার সাহস পাইনা যে আসলে কী বলা যায়। তাও ফোন দেই নরমাল কথা বারতা বলে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করি। সেও চেষ্টা করতেছে এইটাই একমাত্র ভালো খবর।
কোথাও কেউ নেই
একদিন আমাদের কুমিল্লার 'যন্ত্রণা' বাসাতে গিয়ে হাজির তিনি। সাথে- বোন, বোনের মেয়ে, নিজের দুই কন্যা নোভা আর বিপাশা, দুইজন প্রকাশক বন্ধু...। ঘন্টা খানেক ছিলেন। তারপর আবার ঢাকায়। সেই প্রথম তাঁর সাথে সরাসরি দেখা। সেটা মনে হয় ৯২ বা ৯৩ সালের কথা। এরপর তাঁর সাথে দেখা হয় আরো কয়েকবার। ধীরে ধীরে মানুষটাকে ভালো লাগতে থাকে। সবসময় নিজেই আসরের মধ্যমনী। সারাক্ষণ কথা চালিয়ে যেতে পারেন। তাঁর 'সেন্স অব হিউমার' এত ভালো যে, কাউকে কখনো বিব্রত হতে হয়নি তাঁর কারনে। রসিকতা কাকে বলে, কত প্রকার- সেটা যারা তাঁর সাথে মেশেনি তারা জানেন না।
তিনি...
কয়েক প্রজন্ম বাংলাদেশীদের বই পড়ানো তে ফিরিয়েছেন তিনি; কয়েক প্রজন্ম বাংলাদেশীদের বই পড়ানো শিখিয়েছেন তিনি; টিভি নাটক দেখানো শিখিয়েছেন তিনি; মধ্যবিত্তকে সিনেমা হলে ফিরিয়েছেন তিনি; মনের আনন্দে বৃষ্টিতে ভেজা শিখিয়েছেন তিনি; জোছনায় উদ্ভাসিত হতে শিখিয়েছেন তিনি; রাজাকারকে “তুই রাজাকার” বলতে শিখিয়েছেন তিনি; শেষ জীবনে নিজেই আবার প্রায় রাজাকার উপাধি পেয়েছেন তিনি...
তার কাগুজে চরিত্রগুলি তার মতই অতি সাধারনের মধ্যে অসাধারন, জীবনের বাহুল্যগুলি তাদের স্পর্শ করেনি। বেঁচে থাকতে ব্যাপক গালাগাল খেয়েছেন, এখন কয়েকদিন তার স্তুতিবন্দনা চলবে সর্বত্র। তারপর আবার বৃষ্টি হবে, জোছনা উঠবে, কিন্তু...
গত চারটি দশক তিন হুমায়ুন (আজাদ - ফরিদী - আহমেদ) ঋদ্ধ করেছেন আমাদের নানাভাবে। শেষজনও চলে গেলেন সময়ের আগেই। তার শেষ ইচ্ছাটা অন্ততঃ বাস্তবতা দেখুক, দেশে একটা আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল হোক, তারই নামে...
~
কে বলে - কাল রাতে জোছনা ছিল না ?
রজনীর শুরু - ঘড়ির কাঁটা মাত্র ১১' র ঘর পার হযেছে - হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক যুবক তখন মগবাজার চৌরাস্তার কাছে - অদ্ভুতুড়ে তার জীবনদর্শন - জগতের অপার রহস্য তাকে নিয়ত আচ্ছন্ন করে রাখে - আধ্যাতিকতার প্রশ্নে দীর্ঘদিন থেকেই সে বিতর্কিত - আজকের রাতটা কেমন যেন - যুবকের প্রবল ইনটুইশন আজ কাজ করছে না - তার জানা নেই - কিছুক্ষণের মাঝেই পৃথিবীর গভীরতম রহস্য তাকে গ্রাস করবে - এগারোটা বিশ - হুট করেই যেন যুবকের চারপাশ বায়ুশুন্য হয়ে গেল - অত:পর তীব্র অসহনীয় শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসা - ভিতরে এক বোধ - এই তাহলে মৃত্যু - এত যন্ত্রণার মাঝেও আকাশের দিকে তাকাতে তার ভুল হয়নি - খুঁজছে সে চাঁদ - খুঁজছে জোছনা - নেই - আজ বুঝি অমাবস্যা - মৃত্যু তাহলে আঁধারের ঘাতক - ক্ষতি নেই - যার হৃদয় ভর্তি জোছনা - পঞ্জিকায় নয় - প্রতিটি রাতেই যে তার পূর্ণিমা.
ভালো থাকবেন
নিজের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন বিষয় নিয়ে মাঝেমাঝে ছোট টেনশন থাকে। যেমনটা ছিলো হুমায়ুন আহমেদের সুস্থ্য হয়ে ওঠা নিয়ে। শুনেছিলাম, ক্যান্সার বেশ ক্ষতিকর পর্যায়ে চলে গেছে, তাও ছোট্ট একটা আশা ছিলো সুস্থ্য হয়ে এসে আবারও আমাদের গল্প শোনাবেন তিনি। ক্যান্সারের সাথে তাঁর লড়াইয়ের গল্প। অতিসুক্ষ্ম রসবোধ আর ভীষন দরদ মিশিয়ে আবারও ছুঁয়ে যাবেন অসংখ্য পাঠককে। আশাটা পূর্ণ হয়নি। লোকটা চলে গেলেন, অনেক দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দিয়ে।
মনটা বিক্ষিপ্ত। অনেক কিছু মনে জমে আছে, লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। আবার ভালোও লাগছেনা।
সিনেমা-টিভির তারকা, মডেল, খেলোয়াড় - এদের সবাইকে ছাড়িয়ে একজন লেখক আর কোনোদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে পেরেছেন কিনা আমি জানিনা। এটা হয়ত হুমায়ুনের বিশালত্বের একটা পরিচায়ক।
সেই ফুলের দল...
এই মুহুর্তে আমি যে ঘরটায় থাকি তাতে একটা জানলা। সেটা দিয়ে বেশ দূরে হাইওয়ে দেখা যায়। সেখান দিয়ে দিনরাত বিরামহীন হুস হুস করে চকচকে গাড়ি যায়, বিশাল বিশাল ট্রাক যায়, বাস যায়, পিকাপ যায়। আমি বড় একটা হোটেলের ছোট্ট জানালায় একা দাঁড়িয়ে গাড়ি দেখতে থাকি।
জানালায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম প্রিয় মানুষের মৃত্যু নিয়ে।
গত সপ্তাহে খবর পেলাম প্রিয় লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের লেখক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে । ডিমেনশিয়া আক্রান্ত এই লেখক আর লিখতে পারবেন না বলে ঘোষনা দিয়েছে তার ভাই। আমরা আর হাতে পাবোনা সহজ সরল ভাষায় লেখা এক জাদুবাস্তবের ল্যাটিন আমেরিকা।