ইউজার লগইন
ব্লগ
পালকী
![]()
আজ শুধু নারীর নাম
এছাড়া নাই তার দাম।
সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী নারী
বিয়েতে শশুড় বাড়ী
অন্য আরও কত কাজে
থাকত সে নানা সাজে।
কাঠের একটি ছোট ঘর
লাজুক নারী তার ভিতর
দরজা ছিল পর্দা টানা
দেখ যেতনা মুখ খানা
চার বেয়ারা ঘাড়ে চড়ে
দেশ বিদেশ ঘুরে ফিরে
হুমহুমনা চলে দুলকি
ঐতিয্যবাহী সে পালকী।
চলত সদম্ভে
হারাল কালের গর্ভে!
এখন যাদুঘরে
অনড় থাকে পরে
নিঃসঙ্গ ও একাকী
ঐতিয্যবাহী সে পালকী।
মশিউর রহমান
26.07.2012
ভাল লাগা ভাবনারা
১.
পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা পড়ছিলাম। ভদ্রলোক কিন্তু দারুণ রুমান্তিক! 'কথোপকথন - ৭' তো এত ভালো লেগে গেলো যে বলার নয়। কবিতারা মাঝে মাঝেই আক্রান্ত করে মস্তিষ্কটাকে। তখন ভালো লাগে অনেক।
তোমার চিঠি আজ বিকেলের চারটে নাগাদ
পেলাম।
দেরী হলেও জবাব দিলে সপ্তকোটি
সেলাম।
আমার জন্যে কান্নাকাটি? মনকে পাথর
বানাও।
চারুলতা আসছে আবার। দেখবে কিনা
জানাও।
কখন কোথায় দেখা হচ্ছে লেখোনি এক
ফোঁটাও।
পিঠে পরীর ডানা দিলে এবার হাওয়ায়
ছোটাও।
আসবে কি সেই রেস্টুরেন্টে সিতাংসু যার
মালিক?
রুপোলী ধান খুঁটবে বলে ছটফটাচ্ছে
শালিক।
২.
আরেকজন অসাধারণ কবি হেলাল হাফিজ। মনের গুমোট ভাব কাটানোর জন্য উনার 'অচল প্রেমের পদ্য'- সমূহের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত আমার কাছে। কেবল ৪ নম্বরটা তুলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম সবগুলো না দিলে আসলে পুরা আমেজটা আসতেসে না।
অচল প্রেমের পদ্য-১
যদি যেতে চাও, যাও
আমি পথ হবো চরণের তলে
না ছুঁয়ে তোমাকে ছোঁব
ফেরাবো না, পোড়াবোই হিমেল অনলে।
অচল প্রেমের পদ্য-২
ভাই - কেমুন আছেন ?
ইন্টারকম বেজে ওঠে - রিসেপশন থেকে জানানো হচ্ছে - পার্শ্বেল এসেছে - নিচে নেমে দেখি - বিশাল এক ঝুড়িভর্তি আম - সূদুর রাজশাহী থেকে এসেছে - প্রেরকের নাম 'হাসান' - লিফট বেয়ে উপরে উঠছি - সহ-আরোহীদের নানাবিধ প্রশ্ন - রাজশাহীর আম ? কত কেজি ? ফজলি ? প্রাইস কত ? - প্রথম তিনটির উত্তর দিতে পারলাম - চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই - কখনো জানা থাকে না - গত কযেক বছর ধরে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে - আম আসে -লিচু আসে - প্রেরক দাম জানায় না - আমরাও মুল্য পরিশোধের সুযোগ পাইনা - বড় বিব্রত লাগে - নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হয় - আবার কিছুটা প্রশান্তিও যেন পাই - ভালবাসা আসলেও যুক্তি মানে না.
হাসান'কে ফোন দিলাম - 'আবার আম পাঠিয়েছ - এবার অন্তত দামটা নাও' - ওপাশ থেকে অভিমানী প্রত্যুত্তর- 'কি বুলছেন ভাই - আপনাদের সাথে কি আমার টেকার সম্পর্ক - চাচা বাইচ্যে নাই বুলে কি আমাক পর কইরে দিলেন ? ' - এই প্রশ্নের উত্তর হয় না - রাজধানীর কংক্রিটের দালানে বসে এক মফস্স্বলী যুবকের সারল্যমাখা অভিমানের মূল্যায়ন আমার মত নাগরিক কীট কিভাবে করবে বলুন?
গল্প: এখন আমাদের সময়টা আসলে ভয়ংকর
মালিবাগ মোড় থেকে যেসব বাস সায়েন্স ল্যাবরেটরী পর্যন্ত যায়, সেসবের যেকোন একটা হলেই যীশুর চলে। বসার সিট না পেলেও কোনো সমস্যা নাই। বাসের সামনের দিকে দাঁড়াতে পারলে বরং মেয়েদের শরীরের হালকা ঘষা জুটে যায় প্রায়ই। সেটা বসে বসে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দের। সকালবেলা বাসা থেকে বের হবার সময় এই আশা নিয়েই একটা টিকেট কেটে বাসের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে যীশু। বেশিরভাগ দিন কপালে কিছু জোটে না, তবে মাঝে মাঝে আশার চেয়ে অনেক বেশি পূরণ হয়ে যায়। সে দিনগুলোকে যীশু বলে বাম্পার।
রোজায় ক্লান্ত দিন!
ঘুরে ফিরে পোষ্টের শিরোনামে 'দিন' শব্দটাকে হটানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু তা আর হলো না। না হলেই বা কি আমি লেখি ব্লগে দিনলিপির মতো কিছু একটা। তা নিয়ে অতো চিন্তা করার কিছু নেই। যা মনে আসে তা নির্বিঘ্নে লেখাই আমার আপাতত কাজ।
ধূসর গোধূলিঃ ক্লান্ত দিনের শেষে
সকাল থেকে ঘরের দরজায় চুপচাপ বসে আছে বিভা। প্রবল বৃষ্টিতে কয়েকদিন কাজে যেতে না পারায় গত তিনদিন অর্ধাহারে দিন কেটেছে ওদের। হারু মেম্বরের চালের আড়তেও কয়েকদিন ধরে কোন কাজ ছিলনা। নিজে না খেয়ে থাকলেও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে পারুলের ঘরের দিকে পা বাড়ায় ও। বন্ধ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কয়েকবার ডাকাডাকির পর দরজা খুলে বেরিয়ে আসে পারুল।
-তোমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিলাম পারুবু, কি করুম? না ঠেকলে আইতাম না
-আরে এত কতা কইতে অইবনা, কি হইছে খুইলা ক
-আইজ তিনদিন ধইরা ঘরে কিছুই নাই। নিজেরে নিয়া ভাবিনা কিন্তু কি করমু কও, মাইয়াডার মুখের দিগে তাকাইতে পারিনা। তোমার ঘরে খুদ থাকলে কয়ডা দেওনা!
-আরে পাগলী, এমন কইরা কইতে অয়? তোরা না খাইয়া রইছস তয় আমার কাছে আইলি না ক্যান?
-তোমারে আর কত জ্বালাইমু?
-বিভা, এইডারে জ্বালান কয়না। আমিও তো চাচীরে অনেক জ্বালাইছি। তোর মা তোরে আর আমারে আলাদা কইরা দ্যাহে নাই। ভরা পেটে না পারি আধপেটা খাওয়াইতেও তো পারি!
দুই অলিন্দ
জীয়ন্তে আর ফেরে না ঘরে প্রজাপতি
ফেরে না মাঠ, ধুলো জমিন বাটে
দৈনন্দিন ফাঁক ফোঁকর পরিণতি
বিবর্ণ সময় একলা একলা কাটে।
নিশানা খোঁজে ফসলের দানা ভূমি
চিহ্ন কাটা ধানের শীষের বুকে
মরচে পড়েছে শ্বাস গন্ধ চুমি
সীমানা রেখা চলছে ধুঁকে ধুঁকে।
জীয়ন্তে চাই আবার তোমার দেখা
স্পন্দন চাই বুক অলিন্দ জুড়ি
ভালোবাসা ফোটে অঘোর মগ্ন একা
হৃদয়ে বন্দি তোমার চোর কুঠুরি।
(জীয়ন্তে/০৯.০৬.১২)
<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<
আমাকে পৌঁছে দেবে আমার ঘরে
সে বড্ড দূর, আরো বহু দূর
একবারে ঘাট পেড়িয়ে জল ছুঁই ছুঁই মুখ
পাপের প্রজন্মে বাঁধা প্রান্তিক নৌকা
তার কেবল হাঁটা আর হাঁটা
রুক্ষ, কান্তিময়, ব্যাথাতুর।
আমাকে পৌঁছে দেবে কেউ
আমাকে, আমার বাড়ি..
অকারণ আশায় আর বিশ্বাসে
লেগেছে অকাল মড়ক
দেবে কেউ পৌঁছে আমায়
নিভু নিভু, তবু যেমন জ্বলে আগুনের ফানুস
এখানে অরন্যে ওৎ পেতে আছে বাঘ
আর নগরীতে মুখোশে ঢাকা মানুষ।
(আমাকে পৌঁছে দেবে কেউ/১১.০৬.১২)
প্রিয় নুহাশ পল্লী!
এক যে ছিল জাদুর রাজা, ঘুমিয়ে আছে আজ যে
চোখ ছলছল, জল টলমল, বিষণ্ণতা রাজ্যে!
সেই রাজাটির কথাই শুধু আজকে সবাই বলছে,
কণ্ঠ ভারী, লিখতে গিয়েও কলমটা না চলছে।
গুণের কথা বলতে গেলে শেষ হবে না গোণা
যেইখানে তার হাত পড়েছে ফল হয়েছে সোনা।
জাদুর রাজার নাম হুমায়ূন, সমস্ত তার লেখায়
হাস্যরসে বাঁচার মত বাঁচতে যেন শেখায়।
কলম ছিল জাদুর কাঠি, জীয়ন কাঠি যেন
গোমরা মুখে মরার মত বাঁচবে সবাই কেন?
তাই জাদুকর জাদুর ছোঁয়ায় জিইয়ে সবে তোলে
প্রাণটা খুলে হেসে সবাই দুঃখ-বিষাদ ভোলে।
দেখা যেত বই মেলাতে উপচে পড়া ভীড়ে
মধ্যমণি সেই জাদুকর, ধরছে সবাই ঘিরে-
শুনতে কিছু মুখ থেকে তার, তুলতে কিছু ছবি।
তিনি ছিলেন উপন্যাসিক, গল্পকার আর কবি,
নির্মাতা বা পরিচালক আবার নাট্যকারও
তার পরিচয় যতই বলি বাদ রয়ে যায় আরও।
চলচ্চিত্র, উপন্যাস আর গল্প শত শত
নাম বলে কি শেষ করা যায়, বলতে থাকি যত?
জাদুর ছোঁয়ায় মাতিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ছেড়ে চলে
বুক ফেটে যায়, কান্না চোখে ভক্তরা সব বলে-
ও জাদুকর! মোদের ফেলে আজকে কোথায় চললি?
উত্তরে তার বলছে যেন, "প্রিয় নুহাশ পল্লী!"
স্বপ্নজটিলতায় স্থবির ভাগাড়
স্বপ্নের রঙ কালো।
দক্ষিণের বালিয়াড়ি পার হয়ে ধনুক বাঁকা একটি খাল তোমাকে স্বাগত জানাবে। ইপিলইপিল গাছের ঝিরিঝিরি পাতায় বইবে দুপুরের হাওয়া। পাশ দিয়ে বয়ে যাবে সবুজ মাঠ, ধানেদের চারা, আর এখানে ওখানে আলের ভাঁজে ভাঁজে শামুকের সলাজ ঘোমটা।
রোদের কনসার্ট থেমে গেলে ফুরফুরে বাতাসে গলা ভিজিয়ে পান করো রাতের আঁধার। ততক্ষণে বাদামী হলুদ গরুগুলো জুড়ে দেবে অপার্থিব গান। গরুদের কোরাস শিখে নিও- হতাশার পৃথিবী নিয়ে জাগবে নতুন চর। আর বকুলীদের পুরনো টিনের চালে টুংটাং ঝরবে ইটের ভৌতিক নামতা।
তৃতীয় দিন স্বপ্নের সাথে দেখা হবে। শুনে নাও দ্বিতীয়দিনের নসিহত। ভোরের বাতাসে খুব ধীরে খুলে দিও জানালার রশি। শিশির ভারে নুয়ে থাকবে সবুজ ডগা। কবুতরের খোপ থেকে বকম বকম বাক শুনে হেঁটে যেও দীগন্তের ধারে। সেখানে মরচে ধরা স্মৃতির কোলে খেলা করছে একটি বেঢপ শৈশব। আনমনে তাতে এঁকো লাল-সবুজ আলপনা।
সাম্প্রতিক অনুভুতি
আমরা অধিকাংশ সময়ই অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করি, আমাদের মৃত্যু পারিবারিক অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মৃত্যুতে স্বজন শোকগ্রস্ত হওয়ার আগেই ক্ষুব্ধ হয় এবং ইহজাগতিক বিভিন্ন বিষয়ের মতভিন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভাবনায় যুযুধ্যমাণ হয়। মৃত্যু নিয়ে আমাদের অনেক আকাঙ্খা থাকলেও আমাদের মৃত্যু অসুন্দরই হয় অধিকাংশ সময়।
আমরা বিভিন্ন রকম মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে মরে যাই, গ্রামের সম্পন্ন কৃষক মৃত্যুর আগে তার আবাদি জমি আর বসতবাটির ঘরগুলোও সন্তানদের ডেকে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়- উত্তরের চাতালের জমি ছোটোর, বড় ঘরটা আর পুকুরটা মেজোর, শিমুল গাছ তলার সাথের জমিটা বড়কে দিবা আর আমার ঘরটা তোমাদের মায়ের থাকবে- এই মৌখিক নির্দেশনার কোনো আইনীভিত্তি নেই- কৃষক মরলো তার সৎকার বাদ দিয়ে ছেলে মেয়েছুটলো জমির দখল বুঝে নিতে- মৃত্যুশয্যায় শুয়েও আমাদের ভাববিলাসিতা কমে না।
জামায়াত-শিবির কেন আমাদের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি
বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বিভিন্ন সামরিক সরকার এবং রাজনৈতিক দলের কাঁধে ভর করে বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একথা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি এই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা কখনো মনে প্রাণে স্বীকার করেনি এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সময়কালীন তাদের অবস্থানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাতো দূরের কথা, বিন্দুমাত্র লজ্জ্বিত হতে তাদেরকে দেখা যায়নি। উলটো জনগনের সামনে নির্লজ্জ্বের মত বলতে দেখা গেছে, “দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।”
এছাড়া এই জামায়াতে ইসলামী আরেকটা মিথ্যা প্রপাগান্ডার আশ্রয় নেয় তা হলো, বঙ্গবন্ধু সকল যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে গেছেন।
বিদায়, হে খেয়ালী জাদুকর..

আজ দুপুরের কড়া রোদ্দুরে একটু বৃষ্টি ভিজে,
অনেক অনেক প্রিয় লেখার একজন লেখক কে চির বিদায় জানিয়ে এলাম।
বলছি, আমাদের হুমায়ূন স্যারের কথা।
৪ দিন হয়েছে মাত্র, স্যার নেই। মনে হচ্ছে বিষাদের দিনলিপিতে স্তদ্ধ সময়ের বোবা সঙ্গী হয়ে গেছে পুরা দেশটা। অনেকেই হয়তো, যে যার মত করে ব্যাস্ত। তবুও অদ্ভুত বিষণ্ণতা ঘেরা অস্থিরতায় ঢেকে আছে একেকটা মন।
কিছুই ভাল লাগছে না। কি কি যেন লেখব বলে ভেবেছিলাম, ভুলে গেছি।
সব দুঃখ হয়তো বলে বোঝানো যায় না, বোঝাতে নেই।
গতকাল সকাল থেকেই লোকে লোকারণ্য শহীদ মিনার চত্বর, স্যার কে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন।
আমি যাইনি। বলা ভাল যেতে পারিনি। অথবা, এভাবে তাকে দেখতে যেতে ইচ্ছে করে নি।
এই মানুষটার যে চেহারা তার বই পড়ে পড়ে গড়ে উঠেছে, নয় তাই জমা থাক স্মৃতির করিডোরে।
তার জানাজা পড়ে এসেছি অবশ্য, তার লাখো ভক্তের সাথে দাড়িয়ে একসাথে দোয়া পাঠানো ছাড়া কিছুই তো বাকি ছিল না আর। সেখানেও কিছু মানুষের বক্রোক্তি শুনে আসতে হল, আজব দুনিয়া!
নাগরিক গল্পঃ ১৪-বৃষ্টিকবিতা দিন
স্বর্গের সিঁড়িতে
একাকী বসে আছে পদ্মসুন্দরী-
নীল পলকে-অপলকে
হারায় চোখ-
ফিরে আসে ঘুমন্ত যৌবন-
অস্থির মধ্যাহ্নে!
আজকে কোথায় যাওয়া উচিত? অফিস না শহীদ মিনারে? হুমায়ূনের ফেরার কথা! আজকে কি মানিক মিয়ার জারুল কিংবা সোনাঝুরি অন্যান্য দিনের মতো হাসবে? আজকে কি গোলচক্করে ঠিক অন্য দিনের মতো মীরপুরের বেপরোয়া বাসগুলো গোত্তা দেবে ডানে আর বামে! কিংবা পুরানো বিমানবন্দর থেকে ঊড়বে হেলিকপ্টারগুলো প্রজাপতি ডানায় নীল আকাশে। আজকে কি আকাশ হাসবে প্রতিদিনের মতো? গত কয়েকদিন ঢাকার আকাশ হাসি-কান্নার মাঝেই আছে। হাল্কা বৃষ্টি মনে করিয়ে শ্রাবন মেঘের দিন। অরুপের কি খুব মন খারাপ আজকের দিনে? বকুলতলা দিয়ে হেঁটে বের হয়ে অরুপ ফিরে চললো শহরের উত্তরে। আজকে কবি আসার কথা দক্ষিনে। আজকে শহীদ তাজউদ্দিনের জন্মদিন। শীতালক্ষাপুত্র শহীদ তাজউদ্দিন! মোড়ে আসতেই উজ্জ্বল আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেলো-সোজা পুবে হাঁটা শুরু করলো অরুপ। কিছুটা হেটেই মনে হলো একদিন কাজ-কর্ম না করলে কি হয়? একদিন সারা ঢাকা শহরের ব্যস্ত মানুষ দেখলে কেমন হয়!
-অরুপ কি করো? কই তুমি?
-আমি রাস্তায়-হাঁটছি; ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষ দেখবো।
এবার নাহয় তাকে আমরা বিদায় বলি
সীমাহীন খ্যাতি - নিরেট শ্রদ্ধা - অপরিমেয় ভালবাসা আর গগনস্পর্শী জনপ্রিয়তা - সবকিছু পেছনে ফেলে মানুষটা এখন হিমঘরে - প্রাণহীন দেহ নিশ্চয় এখন অনেকটা আরষ্ট - স্বপ্নভুক চোখদুটো বন্ধ হয়ে গেছে - ঠোঁট দুটো ভাষাহীন - হৃদস্পন্দন থেমে গেছে অনেক আগে - প্রখর মস্তিস্ক এখন শুধুই শূন্যতার ধারক - পচননিরোধক কে আশ্রয় করে যে মানুষটি এভাবে শুয়ে আছেন - তাকে নাহয় এবার আমরা বিদায় বলি.
নিশ্চয় তিনি অসাধারণ ছিলেন - ছিলেন নিপুণ এক লেখক - সাহিত্যের এক অপরাজেয় সম্রাট - কিন্তু এখন তিনি মারা গেছেন - আর সব নশ্বর মানুষের মতই - এটাই সত্য - পৃথিবীকে যতটুকু দেবার ছিল - বোধ করি - তিনি দিয়েছেন তারচেয়ে বেশি - দু' হাত ভরে কুড়িয়েছেন ও অনেক - কিন্তু এখন তার কলম থেমে গেছে - হয়ত তিনি অজস্র সফল স্ক্রিপ্টের জনক - কিন্তু সর্বদ্রষ্টার স্ক্রিপ্টে তিনিও নগণ্য একটি চরিত্র মাত্র.- মেনে নিতে কষ্ট হয় - তবু নিয়তি এটাই.
হুমায়ূনীয় রাসায়নিক বিশ্লেষণ
নিজের ক্যান্সার রোগ নিয়েও তিনি অবলীলায় মজা করেছেন। যেকোন কিছুতেই একটা মজা আর হাস্যরস খুঁজে নেয়ার নিরন্তর চেষ্টা ছিল তার। নিজে ছিলেন রসায়নের শিক্ষক। আজ বিদায় বেলায় তাই ব্যক্তি হুমায়ূনের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করি।
ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদ = তিন আঙ্গুলের প্রথম ভাগের সমান এক চিমটে হিমু + এক মুঠো মিসির আলী + আধ সের শুভ্র।
~