ইউজার লগইন
ব্লগ
ভাবমুর্তি
ছোটবেলায় কারো বাসায় বেড়াতে যাওয়ার আগে আম্মার কাছ থেকে কিছু শিক্ষামূলক হুমকি শুনতাম সেগুলো হচ্ছে
১। বেশি দুষ্টামি করা যাবে না
২। সেই বাসার কোনকিছু ধরা যাবে না বিশেষ করে তাদের বাচ্চাদের খেলনা বা শো-পিস
৩। কিছু খেতে দিলে দেয়ার সাথে সাথে পিরিচের উপর হামলে পড়া যাবে না এবং সবটুকু শেষ করা যাবে না কিছুটা রেখে দিতে হবে।
ভদ্রবালকের মতো মাথা ঝুকিয়ে হুঁ বলে আম্মার হাত ধরে বেড়াতে যেতাম কিন্তু শৈশবের সেই দুরন্তপনাতে কোন উপদেশই ঠিকমতো মনে থাকতো না বিশেষ করে খাওয়ার সময়। দেখা যেতো পিরিচে্র সব বিস্কুট, মিষ্টি বা চানাচুর শেষ করে দিয়েছি আম্মা দুই তিনবার চোখ কটমট করে তাকিয়েছে কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। বাড়ির চাচী যখন চা আনতে রান্নাঘরে গেছে সেই সময় আম্মা আস্তে করে বললো ''বাপজন্মে কিছু খাও নাই? আজ বাসায় চলো খাওয়াবো নি'' দুরুদুরু বুকে বাসায় আসার পর দেখা যেতো আম্মা কোন কারনে সেই ঘটনা ভুলে গেছে আমার ও আর খাওয়া হয় নাই।
যে কারনে ব্যাচ গেটটুগেদারে যাওয়া হলো না!
বাসায় একা বসে আছি। মামা গেছে উত্তরা, খালার বাসায়। মন মেজাজ যথারীতি খারাপ। মন মেজাজ খারাপ না থাকলে আমার আবার ব্লগ লেখার মুড আসে না। গতকাল একটা বাজে এক্সাম হলো তাতে মন মেজাজ খারাপ। এরপর বাসায় আছি একা তাতে কেমন জানি একলা একা লাগতেছে।
অনিমেষ রহমানের রাজনৈতিক গল্পঃ ০৭- সন্ধি
দৌঁড়াচ্ছে মধু হাজী…………! কালভার্টের কাছে এসে পিছনে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই-হঠাত সচেতন হয়ে উঠলো; কেউ দেখে নাইতো! সামনে পাটোয়ারী বাড়ী-ওহাব পাটোয়ারী একসময় ইয়ারদোস্ত থাকলেও এখন সে হয়ে গেছে দুশমন। তার লোভ আছে পৌরসভা বিল্ডিংয়ের উপর। আগে ছিলো কমিশনার আর তলে তলে বাকশালী। এখন কিছুটা চুপ-চাপ থাকে। ব্যবসা-বানিজ্যে মন দিয়েছে। পাটোয়ারী বাড়ীর কালভার্টের কাছে আসতেই দেখা হলো পাটোয়ারী বাড়ির ছোটো ছেলে-মধু হাজী ঠিক তার নাম জানেনা। উদ্ভ্রান্ত মধু হাজীকে দেখে গোল চশমা পরা ছেলেটা ভয়ে ভয়ে তাকালো।হালকা-পাতলা সুন্দর একটা ছেলে।
-তোমার নাম কি বাবা?
-লেনিন। ছেলেটা ভয়ে ভয়ে বললো।
-ভালো নাম? তুমি ওহাব পাটোয়ারীর ছেলে না?
-জ্বী আমার ভালো নাম হাসান ওহাব ডাক নাম লেনিন।
হাতের কনুইয়ে তখনো কাদামাটি লেগে ছিলো। মাথায় পেঁচানো হাজী গামছা উত্তেজনায় হাতে দলা করে রেখেছে মধু হাজী খেয়াল করে নাই। লুঙ্গিতেও কাদামাটির দাগ। হাজী গামছা দিয়ে কাদামাটি দিয়ে মুছতে মুছতে জিজ্ঞাস করলোঃ
-তুমি কোথায় পড়ো?
-চিটাগাং চাচা।
-ভালো-তুমি কিংবা তোমাদের ভাইদেরকে তো দেশ গ্রামে তেমন দেখিনা।
স্বাধীনতা রক্ষার দ্বায়িত্ব কার?
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এটা ধ্রুব সত্য। তবে এই সত্যের অনেকগুলো তাৎপর্য রয়েছে। যেমন স্বাধীনতার মর্যাদা না দেয়া, বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং সবচেয়ে ভয়ংকর এবং চ্যালেঞ্জিং হলো ভেতরের ছদ্মবেশী শত্রু চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকা। আর এই ছদ্মবেশীদের চিহ্নিতকরনের জন্য মোটামুটি একটা উপযুক্ত স্থান হলো অন্তর্জাল তথা ইন্টারনেট।
হাল ছেড়ো না বন্ধু!
বাথরুম সিঙ্গার কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও, ব্যাপারটা অত খারাপ না। যাদের গলায় সুর আছে, গানের শখ আছে, অথচ শোনাবার মতো অডিয়েন্স নেই তাদের জন্য ওই জায়গার মতো ভালো অডিয়েন্স আর হয় না। তবে গলায় সুর না থাকলে বাথরুম অডিয়েন্সেও শ্রুতিমধুর কিছু বেরুবে না। আমার ধারণা ছিল যে কেউ চাইলেই সা রে গা মা পা ধা নি সা বলে সুর তুলতে পারে। সেই ভুলটা ভাঙ্গলো যেদিন সুবীরের কন্ঠে সারেগামা শুনলাম রিহার্সালে।
খুব বেশী আগের কথা না, বাইশ তেইশ বছর হবে মাত্র। রিদোয়ান ভাইয়ের নাটকের দলে আমরা ছিলাম তার চেলা চামুণ্ডা। সন্ধ্যায় রিহার্সাল রুমে ঢুকে প্রথমেই সবাইকে গলার কারসাজি দেখাতে হতো। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ ছিল সারেগামা। দশ বারো জন একসাথে 'সারেগামাপাধানিসা' করে স্কুলঘরের দেয়াল কাঁপিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা দেখতে খারাপ ছিল না। কেবল এক হরতালের সন্ধ্যায় পাশের রাস্তার কোন এক বেরসিক পিকেটার ককটেল ছুড়ে মেরেছিল রিহার্সাল ঘরের পেছনে। সেই থেকে রিদোয়ান ভাই হরতালের দিনে সারেগামা বন্ধ রাখতেন। সেবার নাটকের শো যখন এগিয়ে আসছিল, রিদোয়ান ভাই সবার গলা আলাদাভাবে পরখ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)
আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।
উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?
-সমস্যা এ দু'টোর কোনোটাই না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আমার আর যা কিছু সমস্যা আছে- সেইগুলা সব আজো খুঁজে পাই নি। এ দুইটা গন্ডগোলের জন্য নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। সেই যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে।
বললাম, এতো দেখি ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?
এমনতো কথা ছিল না
‘‘সবুরে মেওয়া ফলে‘‘ এ উক্তির সঠিক ও যথার্থ বাসত্মবতাকে আকড়িয়ে ধরে শিক্ষায় দীক্ষা লাভে সহনশীল ও ধৈর্য্যের ইস্পাত কঠিন পরীক্ষায় কাদের নামক এক যুবকের জীবন আজ দুর্বিসহ, বিপন্ন যন্ত্রণায় কাতর। সত্যিই কি ‘‘সুবচন নির্বাসনে‘‘ এ আত্ম-জিজ্ঞাসা কাদের ও কাদেরের জীবন কাহিনী ?
অবিশ্বাস্য হলে ও প্রকৃত সত্য যা এখানে , তা হুবহু উদ্ধৃত হচেছ। হয়ত প্রশ্ন জাগরিত হওয়া স্বাভাবিক , একটা প্রবাদ ও আছে,‘‘এক হাতে তালি বাজে না‘‘। কিন্তু এক্ষেত্রে চিরন্তনী যা প্রকাশে তাতে এক পেশে হলে ও যা সত্য তা চিরদিন , চিরকাল সত্য। প্রশ্ন থাকবে , কাদের কি ধুয়া তুলশী পাতা?হ্যাঁ, সত্য যা অকপটে স্বীকারোক্তিতে অবশ্যই মর্যাদা, সম্মান বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ প্রেক্ষাপটে কাদেরের জীবনালেখ্য সমালোচিত হোক যুগ থেকে যুগান্তরে, অনাদিকাল, অনন্ত সময় ব্যাপি। কেন এমন হল -এ আত্ম-জিজ্ঞাসা সমাজ, জাতি, গোত্র তথা স্রষ্টার বরাবরে?
শিকারের প্রতিজ্ঞা
অনুরাগে আঠালো হবার আগেই দীর্ঘ বাদলের রাত,
শেয়ালের হুমকিতে হঠাত্ ফ্যাকাশে হয়ে যায় ।
বুকের সিন্দুকে যারা সবুজ পিপাসা পুষেছিলাম
করতলে কৃষ্ণচূড়া চেপে রেখে তারা শুধু উদাস উদাস হই !
অথবা উত্কোচের জন্য : মাকে বলি, লাল মোরগটা কই ?
কান্নার মতো কম্পিত ইশারায় তিনি সুদূরের অরণ্য দেখান ।
আমরা যারা মণিবন্ধে নারীদের আদর জড়িয়েছিলাম-
তারা একদিন ঝাপসা অরণ্যে শেয়াল শিকারে যাব ।
একটি মরা গরুর তাজা কাহিনি -রম্য রচনা
একটা সময় ছিল, যখন গৃহস্থ বা কৃষকের গরু মারা গেলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এখন আর সেটা হয় না। তারা অনেক সচেতন হয়েছে। মরা গরু মাটি চাপা দেয়।
সেই সময় ভাসিয়ে দেওয়া মরা গরু ফুলে উঠত। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াত। গরু ভাসতে ভাসতে চলে যেত ভাটির দিকে। নদী ব্যবহার করা মানুষের অসুবিধা হলেও সুবিধা হতো ঋষিদের।
আমাদের পাশের গ্রামে ছিল ঋষিপল্লি। এখনো আছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে এখন অনেকের পেশা বদল হয়েছে।
নিম্নবিত্ত সেই ঋষিদের মধ্যে দেখেছি মরা গরু নিয়ে চরম উৎসাহ। কৃষকের গরু মরলেও লাভ হতো ঋষিদের। মরা গরু থেকে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে সেটা অন্যত্র বিক্রি করত।
মরা গরুর চামড়ার মালিক হওয়ার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেটা বলি।
হয়তো দেখা গেল ইছামতী নদী দিয়ে কোনো মরা গরু ভেসে যাচ্ছে। সেই খবর যেই তাদের কানে পৌঁছাত, অমনি বাড়ির পুরুষ ঋষিরা ছুটত নদীর দিকে। এমন ছুটে যাওয়া দেখেছি অনেকবার। আমাদের বাড়ির সামনের মেঠো পথ দিয়ে তাদের প্রাণপণ ছুটে যাওয়া।
অনিমেষ রহমানের কবিতাঃ পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবী বাউল
ইন্দোচীন,সিয়েরা মায়েস্ত্রা-ইতিহাস,
ভোরে সুর্যের পানে চেয়ে থাকা
রাইফেল-বুলেট-প্রেমপত্র বুক পকেটে-
ইতিহাসের পাতায় পাতায় ভরে উঠে
রক্তের নোনা দাগ-তেতো শোষন
জৈষ্ঠ্যের ঘামে তপ্তচোখে মধুমাস।
তামাবিলে পাথর খুজে অকুলপাথার
কাটাখালি-কান্নায়,ভরে গেছে আগাছায়
রিক্সায় বসে চুমু গ্রীবায়-প্রবল আবেশে
জড়িয়ে বুকে-ঝঞ্জায় বাঁচিয়ে রাখা স্বপ্ন।
পল্টনমোড় গাড়ি-ঘোড়ার চক্কর পথচারী
একতারার সুর, অন্ধবাউল মাধুকরী-
দুরে কাঁদে শোকে-দুঃখে লালন একা,
হবে না যৌথখামার-হবেনা জীবন দেখা।
পথ আজ মিশে গেছে কবি আর ল্যাটিনের পথে,
মুক্তির আওয়াজ উঠে দিগন্তে সময়-রথে।
বাউল-বিপ্লবী ভাসান দেয় সাগর মহাসাগরে,
রক্তে দ্বিগুন মিছিল-ভয় নেই হিংস্র হাঙ্গরে।
ভালো কাজে বাড়াবাড়ি ভালো নয় : ২
ধর্মচর্চায় চরমপন্থা যুগ যুগ ধরে কেবলই সঙ্কট, অনৈক্য ও বিপর্যয় তৈরি করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি-বুদ্ধি-বিবেকের দেয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে ব্যক্তিগত প্রবৃত্তির পছন্দের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিমতের অন্ধ অনুসরণ এবং গৌণ, সূক্ষ্ম ও খুঁটিনাটি বিষয়ে অনড় অবস্থান গ্রহণ, চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বাড়াবাড়ির ফলে মুসলিমদের মধ্যে দিনদিন দল বাড়ছে, কিন্তু বল বাড়ছে না। ভুলশুদ্ধির প্রশ্ন একবার স্থগিত রেখে যদি আমরা শিয়া, খারিজী, জাহমিয়া, কাদারিয়া, জাবারিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়গুলির বিশ্বাসের কেবল অবস্থান ও চারিত্র নিরীক্ষণ করি, তাহলে প্রকটভাবে চোখে পড়বে তাদের চরম অবস্থা ও প্রান্তিক অবস্থান। এদের দলিল-প্রমাণের বিশাল স্তূপ যতোই ঘাঁটাঘাটি করা হয়, ততোই ক্রমশ তর্কের তলে তলিয়ে যাওয়া যায় – কিন্তু মানুষের জন্যে শান্তির যে একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলাম এসেছে, ওসব তর্কের ভিড়ে সেই উদ্দেশ্যটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। আধুনিক সময়ে চিন্তার জগতে নতুন আলো এসে পড়েছে, শুদ্ধতাবিচারের বহু নতুন উপকরণ ও মানদণ্ড আমরা হাতে পেয়েছি, ফলে দু’-একটি বাদে পুরনো দিনের গুরুতর ভ্রান
৩ আষাঢ়, ১৪১৯ বঙ্গাব্দ.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
গত দুইদিন বৃষ্টি হল বেশ,
তিনে তিন কি হবে এবার শুরুতেই?
কে জানে,
দেখাই যাক না হয় আজকের দিনটা..।
সকাল থেকেই মন বলছে আজ হবে,
আকাশ;
সে বলি বলি করেও বলছিল না।
মুঠোফোনে চেনা অচেনা যত প্রিয় কণ্ঠ,
সবার বুঝি আজ একটাই কথা;
আজ সে আসবেই.. -
তবুও,
আসি আসি করেও সে আসে না..।
জানলার শিকে-
ছোট্ট বারান্দার গ্রীলগুলোয়;
বাহারী চায়ের কাপে ভেজা চুমুকে,
অপেক্ষা -
জমে জমে অন্ধকার..।
যেই না কে একজন বলল,
আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়..
ওমনি -
শহুরে প্লাস্টিক চালে;
নাগরিক খাঁচার গায়,
বুঝি -
ভেঙেই পড়ল আকাশ।
সে এসেছে,
আর কি বসে থাকা যায়?
একছুটে আকাশ ছুঁতে,
ছাদে যেতেই -
যতদুর চোখ যায়;
আঁধার কালো মেঘ,
হাত বাড়ালেই বৃষ্টি..।
জলস্পর্শে ছোট্ট শিশুর বাঁধভাঙা উল্লাস,
কল্পনারি সঙ্গী সাথে বৃষ্টি।
দৌড়ে বেড়ানো;
পায়ের পাতায়,
জমে থাকা জলে-
ফোঁটা ফোঁটা উচ্ছাস..
তরুণীর অবাধ্য উড়নার শৃঙ্খল,
ধুয়ে যায় বৃষ্টি।
বয়স বাড়ছে,
সময় বেশি নেই আর..
কালের সাক্ষী দেয়া;
চশমার কাঁচে জল,
চিরতরুণ বৃষ্টি..।
মনের দরজা খুলে,
বাইরে তাকালেই.. -
আকাশের আয়না হয়ে;
ত্বরা
ঐ নেমেছে, এই এলো ইস্, দেউই টাপুর টুপ;
শুকনা মরিচ ভিজিয়ে দিলো,ধান ভিজে চুপচুপ।
আছিস কে-রে, ধানের পাটি জলদি ঘরে উঠা;
আকাশ গাঙের মেঘের নৌকা করলো কে আজ ফুটা?
থালা-বাসন কার কি আছে জলদি নিয়ে আয়,
চালার ফাটল চুঁইয়ে নেমে ঘর যে ভেসে যায়!
মুরগী পালায় ঘরের কোণে, হাসের বাজিমাত,
এক থালাতে খেয়েও এখন দুইজনে দুইজাত!
ও জেলেভাই, জলদি চলো, যাওরে নদীর পাড়,
ইলিশ এসে বাড়িয়ে দিলো নদীর অহংকার।
কৈয়ের সাথে যুদ্ধে খোকার কাদায় লুটোপুটি,
কেমনে ঘরে ফিরবে, মা-তো ধরবে চুলের মুঠি।
মাছের ঝুড়ি সামনে চলে, খোকাটি তার পিছে,
মায়ের কাছে পেৌঁছে খোকার ভয় হয়ে যায় মিছে।
মাছের ঝুড়ি ভর্তি দেখে মায়ের শাসন হাফ,
কাদার পুতুল মাছ এনেছে, তাতেই গুনাহ্ মাফ।
মেঘলা আলাপের ঘোর কিংবা বিরহ বিলাস
- মেঘের ঘনত্ব দেখেছ ? বৃষ্টি হয়েই ঝরবে বুঝি আজ আষাঢ়!
- আমার এখানে আঁধারের উৎসব। জানালায় ঝুলছে বিষণ্ন পর্দার ঢেউ।
- বাইরে বাড়িয়ে দাও মুখ। দৃষ্টি খুঁজে নিক দিগন্তের কালো মেঘ। বৃষ্টি নামবেই। বাইরে না হোক অন্দরে।
- কাঁদিয়ে সুখের দেখা পেতে চাও কেন বিরহপুজারী ?
- সমাগত আষাঢ়ের কোলাহলে কার হৃদয় হাহাকার করে না বিরহপুরীতে ?
- একাকী এ পথচলা কি ফুরোবে না কখনো!
- আড্ডার মধ্যমনি হয়েও তুমি একা ! জীবন জটিল এক পথ, একাকীত্বই সম্বল। আসা যাওয়ার মত পথচলাও একা। দুজন বা সমবেত বলে আসলেই কিছু নেই।
- স্মৃতিগুলো মুছে যাক। একাকী আকাশে ভেসে উঠুক একখণ্ড খেয়ালী চাঁদের আলো!
- কখনো নষ্টালজিক হতে চাও যদি হয়ে যাও নিজস্ব নিয়মে। স্মৃতি হাতড়ে মানুষ তো কেবল নিজেকেই খোঁজে। এই যে মেঘলা আকাশের হাতছানি, এর কষ্টটুকুও নিজস্ব। রাগ কিংবা অভিমান সেও হাজির হয় নিজস্বতা নিয়ে। অন্যের সাথে মিল বা মিলানো অর্থহীন।
- অর্থহীন এই জীবন আর কত!
- একমুঠো আঁধার জড়িয়ে নাও চোখে কিংবা আলো। হেঁটে যাও বহুদুর কিংবা কাছে। শেষ আলোয় দেখবে সব অর্থহীন। ছেড়ে যেতে হয় সবই।
- তোমার আকাশ আজ কোন রঙে রাঙিয়েছো কবি !
ভাটিয়ালী
ভাটিয়ালী
তুষার আবদুল্লাহ
কচুরীপাতায় মন ভাসাইছি, চোখ রাখছি মেঘের উপর
আমার পালে বাতাস নাই, বৈঠায় নাই ওজন
মুর্শিদ আমারে তুমি কূলে লইবা কখন
?
মাছেতে গুনে ঢেউ, আমি টানি গুন
বাতাস আউলা হয় পানি হয় ঘোলা
মুর্শিদ আমারে কেন রাখলা তুমি আলা- ভোলা
?
নদীর সামিয়ানায় চাদ উঠে চাদ ডুবে
মুশিদ জানে গাঙে ডুবে কি, বলো ডুবে কি?
গাঙেতে ডুবে মুর্শিদ তোমার এই বান্দার ঢেলা!