ইউজার লগইন
ব্লগ
ভাবনায় সমাজ বাস্তবতা।
আমি ভেবে অবাক হই। কয়েক দশক বছর সংসার করার পরেও কি করে সংসার ভেঙ্গে যায়? দুজন মানুষ একসাথে এতদিন থাকার পরেও কি দুজনের দুজনকে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা? এই যদি বাস্তবতা হয় তবে লুকিয়ে যার সাথে প্রেম করছি , তাকে নানা ভাবে বোঝার চেষ্টা করছি এই বিশ্বাসের নিশ্চয়তা কোথায়?
ভাবনাটা এসছে দাঙ্গার কথা ভেবে। আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা কখনোই হয়তো সম্প্রীতির ভেতর ছিলনা। কিন্তু ১৯৪৬ সালে কলকাতায় এবং আমাদের দেশে যে দাঙ্গা দেখা দেয় তার কারণটা কি? হাজার বছর ধরে হিন্দু মুসলমান বাঙ্গালীরা এক সাথে বসবাস করে আসছে। এক মাঠে খেলে শিশু বড় হয়েছে। এক পাঠশালায় বিদ্যা শিখেছে। বন্ধু হয়েছে, বন্ধু করেছে। সেই সেই মানুষরা কি করে এমন দাঙ্গায় লিপ্ত হয়?
কোথায় গেলেন আমাদের মেধাবী নির্মাতারা - বিরল অভিনয় প্রতিভারা ?
প্রায় এক যুগ বা তারও আগে বিটিভিতে এক পর্বের একটি নাটক প্রচারিত হয়েছিল - স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তবে বলতে পারি - নাম ভূমিকায় ছিলেন মমতাজউদ্দিন আহমেদ নামের দুর্ধর্ষ একজন অভিনেতা - সাথে ছিলেন আরেকজন দিকপাল - আফজাল হোসেন - নাটকের নাম কিছুতেই মনে করতে পারি না - কাহিনীচিত্র কিন্তু দিব্যি মনে আছে - আফজাল একজন জননন্দিত শহুরে লেখক - বিপত্নীক - শিশুকন্যাকে নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটে তার - এর মাঝেই গ্রাম থেকে অনাহুত এক আগন্তক (মমতাজউদ্দিন) এসে হাজির হন তার দরজায় - তিনিও একজন লেখক - পার্থক্য এটাই যে তিনি অখ্যাত - শহুরে লেখকের কাছে এসেছেন একটি দাবি নিয়ে - তার স্বরচিত পান্ডুলিপিখানা প্রকাশ করে দিতে হবে - আফজাল তাকে নানাভাবে নিরস্ত করতে চান - বোঝাতে চেষ্টা করেন যে একটি বই প্রকাশ করা কত কঠিন - আর গ্রাম্য এক লেখকের অখাদ্য পান্ডুলিপির কোনো গ্রহণযোগ্যতা শহুরে প্রকাশক বা পাঠক কারো কাছেই নেই - কিন্তু অখ্যাত ওই লেখক নিতান্তই সরল - আফজালের যুক্তিগর্ভ ব্যাখ্যা বোঝার মত বুদ্ধির প্রখরতা তার নেই - আফজালের বাসাতেই তিনি ডেরা গাড়েন - আফজাল তনয়ার সাথে গড়ে উঠে তার মমতার সখ্য - সময় যেতে থাকে - তিনি আশায় আশায় দিন গোনেন -
জীবনযাপন
মাঝে মাঝে বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে না, কোনো কারণ ছাড়াই মনটা উদাস হয়ে থাকে, বিশেষ করে একটু রাতে যখন রাস্তায় একা, বিস্তর জ্যাম ঠেলে,বিভিন্ন মানুষের ধাক্কা খেয়ে বাসায় ফিরতে হয়, মনে হয় কি প্রয়োজন এই হুজ্জতি করে বাসা ফেরার, এরচেয়ে বরং কোনো অজানা বাসে চড়ে কোথাও চলে যাই,একটু নির্জন একটু কম ঝঞ্ঝাট যেখানে- কয়েকটা দিন কোলাহলবিহীন কাটিয়ে আসতে পারলে মন্দ হয় না।
বাসা যাওয়ার সিএনজি খুঁজছি, হাতে সিগারেট, বাসটা দেখেই সিগারেট ছুড়ে হুট করেই চলন্ত বাসের হাতল ধরে ঝুলে পরলাম, পাদানিতে একপা আর হাতলে এক হাত, বাকী শরীরটা শূণ্যে ভাসছে, বাসের ড্রাইভার কড়া চোখে তাকিয়ে আছে,কন্ডাকটরও দাঁড়িয়ে আছে, নিজেকে সামলে দুটো পা'ই পাদানিতে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ড্রাইভার বললো কই যাইবেন আপনে?
আমি বাসের পাশে লেখা গন্তব্যের নাম দেখে বললাম ধানমন্ডি-
এইটা ধানমন্ডি যাইবো না, যাইবো রায়েরবাগ, না জিগায়া এমন উঠলেন ক্যান?
বড় দেরিতে বুঝতে পারা কাগজের নৌকো
ঘরের চালে কত ফুটো ছিল আমাদের, বর্ষাকে আমরা অনুভব করেছি জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে। সাহিত্যের বর্ষা নয়, আমাদের ঐশ্বর্যময় করেছে জীবনযাপনের বর্ষা। বিকেল থেকেই টিপটিপ বৃষ্টি, তারপর কত রাত যে মুষলধারে নামা বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভেঙে গেছে আমাদের!
যত তাড়াতারি সম্ভব আজই রক্ত দিয়ে আসুন
মেয়েটির নাম ইস্মাত আরা। আজই তার রক্ত লাগবে A+ । রক্ত দেওয়ার ঠিকানা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক, ৭/৫ আউরঙ্গজেব রোড, মোহম্মদপুর ডাকা। মেয়েটি কিছুটা ভালো বোধ করায় রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গতকাল অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় কোমো দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে শ্বেত কণিকা আলাদা করার পদ্ধতি সহজলভ্য না বলে আপনাদের এই ঠিকানায় রক্ত দিতে অনুরোধ করছি। আজ রাতেই রক্তটা তার কাছে পৌছাতে হবে।
ভাবমুর্তি
ছোটবেলায় কারো বাসায় বেড়াতে যাওয়ার আগে আম্মার কাছ থেকে কিছু শিক্ষামূলক হুমকি শুনতাম সেগুলো হচ্ছে
১। বেশি দুষ্টামি করা যাবে না
২। সেই বাসার কোনকিছু ধরা যাবে না বিশেষ করে তাদের বাচ্চাদের খেলনা বা শো-পিস
৩। কিছু খেতে দিলে দেয়ার সাথে সাথে পিরিচের উপর হামলে পড়া যাবে না এবং সবটুকু শেষ করা যাবে না কিছুটা রেখে দিতে হবে।
ভদ্রবালকের মতো মাথা ঝুকিয়ে হুঁ বলে আম্মার হাত ধরে বেড়াতে যেতাম কিন্তু শৈশবের সেই দুরন্তপনাতে কোন উপদেশই ঠিকমতো মনে থাকতো না বিশেষ করে খাওয়ার সময়। দেখা যেতো পিরিচে্র সব বিস্কুট, মিষ্টি বা চানাচুর শেষ করে দিয়েছি আম্মা দুই তিনবার চোখ কটমট করে তাকিয়েছে কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। বাড়ির চাচী যখন চা আনতে রান্নাঘরে গেছে সেই সময় আম্মা আস্তে করে বললো ''বাপজন্মে কিছু খাও নাই? আজ বাসায় চলো খাওয়াবো নি'' দুরুদুরু বুকে বাসায় আসার পর দেখা যেতো আম্মা কোন কারনে সেই ঘটনা ভুলে গেছে আমার ও আর খাওয়া হয় নাই।
যে কারনে ব্যাচ গেটটুগেদারে যাওয়া হলো না!
বাসায় একা বসে আছি। মামা গেছে উত্তরা, খালার বাসায়। মন মেজাজ যথারীতি খারাপ। মন মেজাজ খারাপ না থাকলে আমার আবার ব্লগ লেখার মুড আসে না। গতকাল একটা বাজে এক্সাম হলো তাতে মন মেজাজ খারাপ। এরপর বাসায় আছি একা তাতে কেমন জানি একলা একা লাগতেছে।
অনিমেষ রহমানের রাজনৈতিক গল্পঃ ০৭- সন্ধি
দৌঁড়াচ্ছে মধু হাজী…………! কালভার্টের কাছে এসে পিছনে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই-হঠাত সচেতন হয়ে উঠলো; কেউ দেখে নাইতো! সামনে পাটোয়ারী বাড়ী-ওহাব পাটোয়ারী একসময় ইয়ারদোস্ত থাকলেও এখন সে হয়ে গেছে দুশমন। তার লোভ আছে পৌরসভা বিল্ডিংয়ের উপর। আগে ছিলো কমিশনার আর তলে তলে বাকশালী। এখন কিছুটা চুপ-চাপ থাকে। ব্যবসা-বানিজ্যে মন দিয়েছে। পাটোয়ারী বাড়ীর কালভার্টের কাছে আসতেই দেখা হলো পাটোয়ারী বাড়ির ছোটো ছেলে-মধু হাজী ঠিক তার নাম জানেনা। উদ্ভ্রান্ত মধু হাজীকে দেখে গোল চশমা পরা ছেলেটা ভয়ে ভয়ে তাকালো।হালকা-পাতলা সুন্দর একটা ছেলে।
-তোমার নাম কি বাবা?
-লেনিন। ছেলেটা ভয়ে ভয়ে বললো।
-ভালো নাম? তুমি ওহাব পাটোয়ারীর ছেলে না?
-জ্বী আমার ভালো নাম হাসান ওহাব ডাক নাম লেনিন।
হাতের কনুইয়ে তখনো কাদামাটি লেগে ছিলো। মাথায় পেঁচানো হাজী গামছা উত্তেজনায় হাতে দলা করে রেখেছে মধু হাজী খেয়াল করে নাই। লুঙ্গিতেও কাদামাটির দাগ। হাজী গামছা দিয়ে কাদামাটি দিয়ে মুছতে মুছতে জিজ্ঞাস করলোঃ
-তুমি কোথায় পড়ো?
-চিটাগাং চাচা।
-ভালো-তুমি কিংবা তোমাদের ভাইদেরকে তো দেশ গ্রামে তেমন দেখিনা।
স্বাধীনতা রক্ষার দ্বায়িত্ব কার?
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এটা ধ্রুব সত্য। তবে এই সত্যের অনেকগুলো তাৎপর্য রয়েছে। যেমন স্বাধীনতার মর্যাদা না দেয়া, বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং সবচেয়ে ভয়ংকর এবং চ্যালেঞ্জিং হলো ভেতরের ছদ্মবেশী শত্রু চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকা। আর এই ছদ্মবেশীদের চিহ্নিতকরনের জন্য মোটামুটি একটা উপযুক্ত স্থান হলো অন্তর্জাল তথা ইন্টারনেট।
হাল ছেড়ো না বন্ধু!
বাথরুম সিঙ্গার কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও, ব্যাপারটা অত খারাপ না। যাদের গলায় সুর আছে, গানের শখ আছে, অথচ শোনাবার মতো অডিয়েন্স নেই তাদের জন্য ওই জায়গার মতো ভালো অডিয়েন্স আর হয় না। তবে গলায় সুর না থাকলে বাথরুম অডিয়েন্সেও শ্রুতিমধুর কিছু বেরুবে না। আমার ধারণা ছিল যে কেউ চাইলেই সা রে গা মা পা ধা নি সা বলে সুর তুলতে পারে। সেই ভুলটা ভাঙ্গলো যেদিন সুবীরের কন্ঠে সারেগামা শুনলাম রিহার্সালে।
খুব বেশী আগের কথা না, বাইশ তেইশ বছর হবে মাত্র। রিদোয়ান ভাইয়ের নাটকের দলে আমরা ছিলাম তার চেলা চামুণ্ডা। সন্ধ্যায় রিহার্সাল রুমে ঢুকে প্রথমেই সবাইকে গলার কারসাজি দেখাতে হতো। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ ছিল সারেগামা। দশ বারো জন একসাথে 'সারেগামাপাধানিসা' করে স্কুলঘরের দেয়াল কাঁপিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা দেখতে খারাপ ছিল না। কেবল এক হরতালের সন্ধ্যায় পাশের রাস্তার কোন এক বেরসিক পিকেটার ককটেল ছুড়ে মেরেছিল রিহার্সাল ঘরের পেছনে। সেই থেকে রিদোয়ান ভাই হরতালের দিনে সারেগামা বন্ধ রাখতেন। সেবার নাটকের শো যখন এগিয়ে আসছিল, রিদোয়ান ভাই সবার গলা আলাদাভাবে পরখ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)
আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।
উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?
-সমস্যা এ দু'টোর কোনোটাই না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আমার আর যা কিছু সমস্যা আছে- সেইগুলা সব আজো খুঁজে পাই নি। এ দুইটা গন্ডগোলের জন্য নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। সেই যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে।
বললাম, এতো দেখি ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?
এমনতো কথা ছিল না
‘‘সবুরে মেওয়া ফলে‘‘ এ উক্তির সঠিক ও যথার্থ বাসত্মবতাকে আকড়িয়ে ধরে শিক্ষায় দীক্ষা লাভে সহনশীল ও ধৈর্য্যের ইস্পাত কঠিন পরীক্ষায় কাদের নামক এক যুবকের জীবন আজ দুর্বিসহ, বিপন্ন যন্ত্রণায় কাতর। সত্যিই কি ‘‘সুবচন নির্বাসনে‘‘ এ আত্ম-জিজ্ঞাসা কাদের ও কাদেরের জীবন কাহিনী ?
অবিশ্বাস্য হলে ও প্রকৃত সত্য যা এখানে , তা হুবহু উদ্ধৃত হচেছ। হয়ত প্রশ্ন জাগরিত হওয়া স্বাভাবিক , একটা প্রবাদ ও আছে,‘‘এক হাতে তালি বাজে না‘‘। কিন্তু এক্ষেত্রে চিরন্তনী যা প্রকাশে তাতে এক পেশে হলে ও যা সত্য তা চিরদিন , চিরকাল সত্য। প্রশ্ন থাকবে , কাদের কি ধুয়া তুলশী পাতা?হ্যাঁ, সত্য যা অকপটে স্বীকারোক্তিতে অবশ্যই মর্যাদা, সম্মান বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ প্রেক্ষাপটে কাদেরের জীবনালেখ্য সমালোচিত হোক যুগ থেকে যুগান্তরে, অনাদিকাল, অনন্ত সময় ব্যাপি। কেন এমন হল -এ আত্ম-জিজ্ঞাসা সমাজ, জাতি, গোত্র তথা স্রষ্টার বরাবরে?
শিকারের প্রতিজ্ঞা
অনুরাগে আঠালো হবার আগেই দীর্ঘ বাদলের রাত,
শেয়ালের হুমকিতে হঠাত্ ফ্যাকাশে হয়ে যায় ।
বুকের সিন্দুকে যারা সবুজ পিপাসা পুষেছিলাম
করতলে কৃষ্ণচূড়া চেপে রেখে তারা শুধু উদাস উদাস হই !
অথবা উত্কোচের জন্য : মাকে বলি, লাল মোরগটা কই ?
কান্নার মতো কম্পিত ইশারায় তিনি সুদূরের অরণ্য দেখান ।
আমরা যারা মণিবন্ধে নারীদের আদর জড়িয়েছিলাম-
তারা একদিন ঝাপসা অরণ্যে শেয়াল শিকারে যাব ।
একটি মরা গরুর তাজা কাহিনি -রম্য রচনা
একটা সময় ছিল, যখন গৃহস্থ বা কৃষকের গরু মারা গেলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এখন আর সেটা হয় না। তারা অনেক সচেতন হয়েছে। মরা গরু মাটি চাপা দেয়।
সেই সময় ভাসিয়ে দেওয়া মরা গরু ফুলে উঠত। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াত। গরু ভাসতে ভাসতে চলে যেত ভাটির দিকে। নদী ব্যবহার করা মানুষের অসুবিধা হলেও সুবিধা হতো ঋষিদের।
আমাদের পাশের গ্রামে ছিল ঋষিপল্লি। এখনো আছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে এখন অনেকের পেশা বদল হয়েছে।
নিম্নবিত্ত সেই ঋষিদের মধ্যে দেখেছি মরা গরু নিয়ে চরম উৎসাহ। কৃষকের গরু মরলেও লাভ হতো ঋষিদের। মরা গরু থেকে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে সেটা অন্যত্র বিক্রি করত।
মরা গরুর চামড়ার মালিক হওয়ার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেটা বলি।
হয়তো দেখা গেল ইছামতী নদী দিয়ে কোনো মরা গরু ভেসে যাচ্ছে। সেই খবর যেই তাদের কানে পৌঁছাত, অমনি বাড়ির পুরুষ ঋষিরা ছুটত নদীর দিকে। এমন ছুটে যাওয়া দেখেছি অনেকবার। আমাদের বাড়ির সামনের মেঠো পথ দিয়ে তাদের প্রাণপণ ছুটে যাওয়া।
অনিমেষ রহমানের কবিতাঃ পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবী বাউল
ইন্দোচীন,সিয়েরা মায়েস্ত্রা-ইতিহাস,
ভোরে সুর্যের পানে চেয়ে থাকা
রাইফেল-বুলেট-প্রেমপত্র বুক পকেটে-
ইতিহাসের পাতায় পাতায় ভরে উঠে
রক্তের নোনা দাগ-তেতো শোষন
জৈষ্ঠ্যের ঘামে তপ্তচোখে মধুমাস।
তামাবিলে পাথর খুজে অকুলপাথার
কাটাখালি-কান্নায়,ভরে গেছে আগাছায়
রিক্সায় বসে চুমু গ্রীবায়-প্রবল আবেশে
জড়িয়ে বুকে-ঝঞ্জায় বাঁচিয়ে রাখা স্বপ্ন।
পল্টনমোড় গাড়ি-ঘোড়ার চক্কর পথচারী
একতারার সুর, অন্ধবাউল মাধুকরী-
দুরে কাঁদে শোকে-দুঃখে লালন একা,
হবে না যৌথখামার-হবেনা জীবন দেখা।
পথ আজ মিশে গেছে কবি আর ল্যাটিনের পথে,
মুক্তির আওয়াজ উঠে দিগন্তে সময়-রথে।
বাউল-বিপ্লবী ভাসান দেয় সাগর মহাসাগরে,
রক্তে দ্বিগুন মিছিল-ভয় নেই হিংস্র হাঙ্গরে।