ইউজার লগইন
ব্লগ
কোন চোরের নাতি
একাত্তরে স্বাধীন মোরা
বাঙালি এক জাতি
কাজে নয় কথায় বড়
কোন চোরের নাতি।
লিখেছেন কবি এক
রামগরুরের ছানা
দুর্নীতি করবে তারা
বলতে এসব মানা।
খুন ধর্ষণ গুম হত্যা
চলতে নেই মানা
জনগণের নিরাপত্তা
নেই কারো জানা।
কুকুর থেকে সাবধান!
সতর্ক এক বাণী
পুলিশের দূরত্ব
বজায় রাখো মানী।
লোকে যারে বড় বলে
বড় সে তো নয়
নিজের বড় নিজে বলে
বড় সেই হয়।
সততা কোন ছাড়
আজব বাংলাদেশে
দুর্নীতির কালো হাত
তোমারই আশপাশে।
টাকা নিয়ে ধরা খায়
মন্ত্রী যেই দেশে
পদত্যাগে পার পায়
বিদায় হেসে হেসে।
চোরের মার বড় গলা
বলার উপায় নেই
টিপে টিপে বলে কথা
মন্ত্রী এখনো সেই।
দফতরবিহীন হোক
আপত্তি কিসে
লজ্জার মাথা খেয়ে
তিনি অফিসে।
যাপিত জীবনের দিনলিপি
ছোটবেলায় জুয়েলাইচ এর যাদু দেখতাম মনোযোগ দিয়ে। কত কিছুই না ভেনিশ করে দিত। মনে মনে ভাবতাম আমি যদি জুয়েলাইচ হতে পারতাম তাহলে হয়তো কাউকে কাউকে ভেনিশ করে দিতাম অথবা নিজেই ভেনিশ হয়ে দুনিয়ার তাবত মজার কাজগুলো করতে পারতাম। সেই ১৯৫৩ সাল পেরিয়ে এখন ২০১২। টেকনোলজীর জয়জয়কার। মাত্র কয়দিন আগে দেখলাম সবচাইতে লেইটেস্ট যাদু 'গুম'। আমাদের একজন বিশিষ্ট নাগরীকের ভেনিশ হয়ে যাওয়া। নিশ্চয় আমার মত হতে চাওয়া কোন যাদুকর নয়, সঠিক অধ্যাবসায়ে যাদু শিখে জ্বলজ্যান্ত একটা মানুষকে ঠিকই ভেনিশ করে দিয়ে নিজেও হাওয়া। মজা না?
আসলেই কয়েকদিন ব্যাপক মজায় আছি। ট্যাকেলটা খুললেই দেখি দুদলের মারামারি। একদলের নীল জার্সি, হাতে লঠি/বন্দুক আরেক দলের হাতে ক্যামেরা। উত্তরাধুনিক এই ম্যাচ গুলোও অনেক উপভোগ্য। যার রেশ থাকে কয়েকদিন। স্কোর কাউন্ট হয় বদলি এবং প্রত্যাহারের মাধ্যমে।
বালের দিনযাপন
মেজাজটা টু হান্ড্রেড পারসেন্ট খারাপ। রাত জেগে একটা পোষ্ট লিখলাম বিসিএস টিসিএস পরীক্ষা দেয়া সাথে এই দিন যাপন নিয়ে। লেখা প্রায় যখন শেষ তখনি তিন মিনিটের জন্য কারেন্টটা চলে গেলো। ইউপিএস নাই তাও পিসিতে রিস্টার্ট সেশনে থাকে সবসময় মনে মনে সুরা এখলাস পড়তেছি আল্লাহ লেখাটা যেনো থাকে। দেখি লেখা টেখা কিচ্ছু নাই। রাগে দুঃখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এতো কষ্ট করে লিখলাম আর সামান্য তিনমিনিট কারেন্টের জন্যে গায়েব হয়ে গেলো। এইটা কোন কথা হইলো। ফেসবুক ব্লগের লোকজন বলে আমি কেনো এতো বাল বাল করি। এখন তো বুঝলেন কেনো বলি বালের লাইফ। তাই মনের দুঃখে এখন মোবাইলে এই পোষ্টটা দিলাম। ঘুম আসতেছেনা এই দুঃখে। আগের মতো ৮ কাপ চা খাই না ৪ কাপেই দিন কাটাই রিকশাতেও ঘুরি না একাএকা বইপত্রও কিনি না তেমন। তবুও নানা ধরনের বাশেই আমার বসবাস। বাজেটের এই মৌসুমে সব কিছুরই দাম বেশী খালি আমার এই প্রতিনিয়ত আবেগ চাহিদাই ঢলা খেয়ে যাচ্ছে অবিরাম। কি আর করা!
চামেলী, শীলা বা জিলাপি বাঈ
দারুণ একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা - জনপ্রিয় সব আধুনিক গান পরিবেশিত হচ্ছে- অল্পবয়সী একটি ছেলে গাইল - 'চক্ষের নজর এমনি কইরা একদিন যাবে ফুরাইয়া' - তারপরেই আরেকজনের কন্ঠে শুনলাম 'এ এমন পরিচয়' - দর্শক শ্রোতারা বেশ উপভোগ করছেন - 'রাজনীতি' নিয়ে ক্ষুদ্র একটা প্রহসন নাটিকা ও মঞ্চস্থ হলো - তারপরেই বেতারের একজন শিল্পী এলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে - একে একে গাইলেন "আগুনের পরশমণি", ''যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন ",..." মনে রবে কি না রবে আমারে " - মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম -অনুষ্ঠান তখন শেষের দিকে - উপস্থাপক ঘোষণা করলেন - এখন পরিবেশিত হতে যাচ্ছে আজকের সেরা আকর্ষণ - 'দিল থাম কে বেঠিয়ে ' (অতিরঞ্জন নয় - উপস্থাপক ঠিক এই ভাষাতেই বললেন ) - স্টেজে আসছেন ..... কিছু বিশেষণ ......ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজছে - "চিকনী চামেলী " .....
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (৩)
আমি গুলশানে কয়েকটা বড় বড় পার্টি অ্যারেঞ্জ করতেই সবাই চিনে ফেললো। সেই সুবাদে হাতে এসে গেলো এই ফ্ল্যাটটার চাবি। টুকটাক বিদেশ ভ্রমণও শুরু হয়ে গেলো সেইসময় থেকে। আর ভ্রমণের সময় পেয়ে গেলাম আরেকটা টাকার খনির সন্ধান। বিদেশে প্রচুর কনজারভেটিভ বাঙালি পরিবার আছে। যারা থাকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে আর চিন্তা করে থার্ড ওয়ার্ল্ডের নাগরিকদের মতো করে। পরিবারের মেয়েকে দেশের ছেলে ছাড়া বিয়ে দিতে তাদের অনেক আপত্তি। হাহ্ আমার জন্য তো ব্যপারটা সোনায় সোহাগা হয়ে গেলো। বুঝতে পারছেন এখন আমার ব্যবসাটা?
আমি মাথা ঝাকালাম। বুঝতে পেরেছি। সে কথা বলেই গেলো।
ডিভোর্স হয়ে যাবার পর আমার আসলে কোনো পিছুটানই ছিলো না। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই অনেক দিন ধরে। নিজের মতো করে চলতাম। ব্যবসাও নিজের মতো করে চলছিলো। আমার যা দরকার তা সহজেই আয় করে ফেলতাম। ছেলেদের সঙ্গে প্রচুর মিশতাম। সবাই ছিলো ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচিত। কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করতাম না। ফ্রেন্ড সার্কেল মানেই বাইন্ডিংস্। বাইন্ডিংস্ মানেই ঝামেলা।
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (২)
মেয়েটির গলার স্বরে এক ধরনের আহ্বান আছে। সেই আহ্বানে আপনার শরীরের ভেতর থেকে আত্মাটা বের হয়ে চলে যাবে, আপনি নিথর শরীর নিয়ে পড়ে থাকবেন; কিন্তু টের পাবেন না। এহেন সিচুয়েশনে পেটে যদি মালপানি পড়ে তাহলে কি হবে, সেটা ভেবে আমি আতংকিত হয়ে পড়লাম। ছাপোষা চাকরীটা আমার মাসাকাবারি খরচ, সিগারেটের টাকা, বন্ধুদের সঙ্গে মৌজ-ফূর্তি আর অন্যান্য জরুরি পার্সনাল কাজগুলোর একমাত্র অবলম্বন। বস্ ব্যটা এসে যদি দেখে তার ডার্লিংয়ের সঙ্গে আমি শাদা ওয়াইন হাতে ঢলাঢলি করছি, তাহলে আমার সম্বল কেড়ে নেয়ার যে সামান্য অধিকারটুকু সে রাখে; সেটা খাটাতে নির্ঘাৎ বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়বে।
ওদিকে মীমের বকরবকর চলছেই।
নরকত যাই খা !
অউ হাছিনা, অউ খালেদা, তোরা অ-বইন যা,
কারে মারি ক’নে খাবি ? নরকত যাই খা ।
তোরার জ্বালায় দেশর মানুষ থাইত নপারের,
কইত নপারের, সইত পারের ধাইতঅ নপারের ।
হিতিরে দিলে (ভোট) তুই মারছ, তোরে দিলে হিতি,
দেশর মানুষ ক্যান গড়িবো, হইব কন গতি !
এই স্বাধীনর কি দাম অবইন ইক্কিনি ভাবি চা—
কারে মারি কনে খাবি ? দোজকত যাই খা ।
ছাব্বিশ বছর ধরি তোরা ক’বার ভোট নিলি ?
বিনিময়ে দেশের মাইনসেরে কি যন্ত্রণাটা দিলি ?
বাপ মারিলি, ভাই মারিলি, বইনর নিলি গা,
আর কি বাকি খাইবার আছে রৌ্রবত যাই খা !
২০টা ফেইসবুক স্টেটাস...
১.
নেমে এলো তবে ঝড়
উড়ে গেলো শহরের আঁধার আচল
উন্মুক্ত মাতাল শহরে ধুলো ওড়ে
উড়ে যায় ঘামে জবজব যুবকের
পোষা কাঁদাখোচা...বিনে পয়সার পাখি।
২.
জলে ভেসে তবে এসেছি নগরে
সম্বিত ফেরার পর ছবি দেখে চিনে নেয়া যাবে
এই ভেবে মুখ গুজে রেখেছি আঁধারে
কখন ধাতস্থ হবো নাগরিক চালাকিতে
কখন শিখে নেবো শহুরে বাবুয়ানা
সব বলে পথ নির্দেশনা দেবে বিদেশী ইন্সট্রাক্টর।
ওরা নাকি আমাদের চেয়ে পথ ঘাট ভালো চিনে
আর তাই সম্বিত বিষয়ে যেসব ধারণা ছিলো
ভুলে গেছি... মাটিতে বিছানো অন্ধকারে চোখ রেখে
ভাবি, পীচ ঢালা পথ আর পাথরে বিশ্বাস রাখতে জানলে
আমিও নগর বাউলের সাজে, নিয়নের তীর দেখে
পৌছে যেতে পারতাম লক্ষ্যের কাছাকাছি...
৩.
রুপালী জ্যোছনা বিভ্রান্তি ছড়ায়, অযত্নের অসমান পথ
আমাদের পাতি রসায়নে যেনো মসৃণতা হয়ে ধরা দেয়
হোচট খেয়েছি যতোবার, ততোবার বিলা খাই পথে,
কখনো বা চাঁদের উপর...শহুরে হুংকারে শাপশাপান্ত করেছি
তাহাদের, নিজেদের চোখ অথবা মনন নিরাপদ হেফাজতে রেখে।
৪.
অপেক্ষার সময়টাতে অনেক গাছপালা মেলে দেই,
কল্পনার সীমানা পেরিয়ে ঢুকে যাই অনধিকারে,
তাই বলে ভেবে বসো না যে সেসব আমার
বিশ্বাস কোথায় - কারো দিকেই কী পিঠ দেয়া যাবে না ?
বিশ্বাসের জায়গাটা বড় স্পর্শকাতর - ঐখানে ধাক্কা (আদতে ছোঁয়া ) লাগলে সব কিছুই যেন কেমন হয়ে যায় - নয় মাসের যাত্রা - মমতার একটা আশ্রয়স্থল ভ্রুণ কে জানিয়ে দেয় - তুমি নিরাপদ - ভ্রুণ তা বিশ্বাস করে - গল্পের শুরু ওখানেই - বিশ্বাসের একমাত্র সফল অক্ষুন্ন অবস্থান ও বোধকরি ওখানেই - তারপর থেকেই শুধু অতিশায়ন - প্রিয় স্কুল টিচারের ব্যক্তিত্ব আর আদর্শ আপনাকে তুলে দেবে বিশ্বাসের অতুল উচ্চতায় - তারপর যেদিন বাত্যয় দ...েখবেন - চোখে জল বাঁধ মানবে না - প্রিয়তম বন্ধুর প্রতিশ্রুতি - তোর জন্য জীবন দেব দোস্ত - তারপর একদিন - এ কী - বন্ধুর হাতে সুচাগ্র ছুরি তোমার রক্তপানে ব্যাকুল - কাকে যেন ভালোবাসলেন - ভাবলেন - জীবন অমৃত - তারপর দেখবেন- সবই বাণিজ্য - প্রতিশ্রুত সঙ্গিনী দক্ষতায় পেশাদার আততায়ীর চেয়ে কম নয়- রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় - তবু দলিলের কালো হরফ সেই রক্তের উপর জয়ী - মালিক - বিশ্বাস কোথায় - কারো দিকেই কী পিঠ দেয়া যাবে না ?
আমাদের হতাশ করবেন না
বেশ কিছুদিন যাবত একটা ব্যাপার খুব মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিছুতেই বের করতে পারছিনা আর তা হলো, এই যে গত নির্বাচনে নতুন প্রজন্ম এভাবে রায় দিয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় বসালো একটি যুগপোযোগী নির্বাচনী ইশতিহারের পুরষ্কার স্বরূপ, সেই আওয়ামীলীগ সরকার এই নতুন প্রজন্মকে শেষ পর্যন্ত হতাশ করবে না তো?
১
গত নির্বাচনে আমি দেশেই ছিলাম। নির্বাচনের পরপরই দেশ ছেড়েছি। ১/১১ এর পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়টুকুতে বেশ শান্তিতে ছিল সাধারণ জনগন। এখানে সাধারণ জনগন বলতে বুঝিয়েছি আমাদের মত মধ্যবিত্তশ্রেণীর কথা। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ বেশীরভাগ সময় শান্তিতেই থাকেন। কোন সরকারী অফিসে ঘুষ লাগতো না, থানায় যেয়ে কোন ব্যাপারে অভিযোগ করলে চমৎকার ব্যবহার পাওয়া যেত। তবে সেক্ষেত্রেও একটা ব্যাপার ছিল, যাদের কোন নিকট আত্মীয় অথবা পরিবারের কেউ সেনাবাহিনীতে ছিল তাদের জন্য ছিল সেটা স্বর্ণযুগ। যাই হোক আজ সেই কথা বলবো না।
তিনখানা দুষ্টু সিনেমা
তিনটা দুষ্ট টাইপ সিনেমা। এই পোস্ট উৎসর্গ রায়হান ভাইকে। দুষ্ট কিছু না লিখলে আবার রায়হান ভাই ব্লগে আসে না, পোস্ট দেয় না, মন্তব্যও করে না। আর এই সমস্ত দুষ্ট লুকজন না আসলে ব্লগিং করে মাইনষে?
তিনটি ছবিই যথেষ্ট নাম করা। এর মধ্যে দুটি ফ্রেঞ্চ, আর একটি বাংলা। এর মধ্যে অবশ্যই একটি ক্লাসিক মর্যাদা পাওয়ার মতো সিনেমা, পেয়েছেও।
১. বেলে ডি জুর: লু্ই বুনুয়েল বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম। স্পেনে জন্ম নেওয়া বুনুয়েল কাজ করেছেন, স্পেন, ফ্রান্স, আমেরিকা ও মেক্সিকোতে। বুনুয়েল নিয়ে লিখতে বসলে রীতিমত গবেষণা করতে হবে। বিশ্ব চলচ্চিত্রে তার প্রভাব এতোটাই।

অচেনা সময়
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
মাঝে মাঝে আমার বড্ড ভয় হয়
এই অস্থির মতি চঞ্ছল লোকটা যদি
হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়।
কিংবা হঠাৎ করেই লোকটা যদি
হয়ে যায় দূরের কেউ।
যদি দীর্ঘদিন পর আধ বয়েসী অন্ধকার রাতে
লোকটা যদি আবার
আমার সামনে এসে দাঁড়ায়,
কোনো নির্জন স্টেশনে
কিংবা রেল, বাস , ট্রামে।
তার গায়ের গন্ধ
কিংবা তার মায়াবী হাসিখানি
যদি আমায় মনে করিয়ে দেয়
এই মানুষটা আমার বড্ড চেনা।
যদি গভীর আবেশে
তাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে,
কিংবা ভুল করে
তার কপোলে,ওষ্ঠ ও অধরে
চুমু একে দিতে ভীষণ ইচ্ছে করে,
মৃদু বাতাসে উড়তে থাকা
তার রেশম চুলগুলো
সাজিয়ে দিতে গেলে
মানুষটা যদি চিৎকার করে বলে
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (১)
আমি মীম। পেশায় ব্যবসায়ী। কিসের ব্যবসা করি বলেন তো? এক অর্থে আদম ব্যবসা। আবার ঠিক আদম ব্যবসাও না। ঝিক ঝিক টাইপের ব্যপার-স্যপার। বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তো? রাখেন, একটু সবুর করেন। সব খুলে বলবো। যদি চান সব খুলে দেখাতেও পারি। দেখতে চান? চাইলে আগেই বলে ফেলেন। কারণ আমার কথা শেষ হবার পর আপনার সেটা চাওয়ার ইচ্ছে নাও থাকতে পারে।
মীম নামের যে ঝকঝকে সুন্দরী ২৮ বছরের তরুণীটির সামনে আমি বসে আছি, তার সমস্যা কি ধরতে পারছি না। পাকে-চক্রে এমন বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই আধপাগলের সামনে বসে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। কি যে দিনকাল পড়লো। এমনকি মালটাকে একটু রগড়ানিও দিতে পারবো না। কারণ এইটা আসলে বসের মাল। আমার ওপর কড়া নির্দেশ আছে। ফিঙ্গারনেইল দিয়েও টাচ করা যাবে না। অথচ আমার হাইজেনিক ফিঙ্গারনেইলের টাচ, বসের গ্যাদগেদে ময়লা ধরে থাকা নখের আঁচড়ের চেয়ে ভালোই হওয়ার কথা। আমি সেসব ভাবনাতেই বেশি করে মনোযোগ দিলাম। আবোল-তাবোল বকতে থাকুক মীম। যেদিক থেকে বেলাশেষে প্রাপ্তির খাতায় কোনো যোগচিহ্ন বসানোর উপায় নেই, আমি সাধারণত সেদিকে বেশি ভ্রুক্ষেপ করি না।
দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর
সময়, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলায়, আমাদের অনুভুতি অসার হয়ে যায়, বিশেষত আমরা যারা বড় হয়ে গেছি, যাদের নিয়মিত নিজের ধান্দায় ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন পথে অন্য অসংখ্য মানুষের সাথে বিভিন্ন ধরণের লেনদেন করতে হয়, তাদের অনুভুতি ভোঁতা হয়ে যায় সময়ের সাথে।
পথের কোনো দৃশ্যই আকৃষ্ট করে না, পথের কোনো মুখই খেয়াল থাকে না, সকালে ঘরের দরজা খুলে বের হওয়ার পর মাথায় একটাই চিন্তা থাকে, কখন জেলখানায় পৌঁছে নিজের ধান্দাবাজি শুরু হবে- গতরাতে বৃষ্ট হয়েছে, আজ রাস্তায় পানি জমে থাকবে- সাবধানে হাঁটতে হবে- গলিতে পানি জমলে বড় রাস্তায় যেতে বাড়তি রিকশা ভাড়া গুণতে হবে- সকল অনুভুতি একেবারে মানিব্যাগের ভেতরে ঢুকানো। হঠাৎ বাতাসে গন্ধ ভেসে আসলে আর হঠাৎ গাছের পাতা খসে পরলে বুঝি ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে গেছে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ- কোনো ঋতুই আসলে আলাদা কোনো তাৎপর্য বহন করে না, শুক্রবার সকালের ঘুমের বাইরে কোন বিনোদন নেই- এ জীবন নতুন কিছুকে জায়গা করে দেয় সহজেই, নিজের জায়গাটুকু সংকুচিত হলে একটু ভাঁজ খেয়ে নতুন করে আত্মসমাধিত হয়, এবং নিজের ভেতরেই ডুবে থাকে দিবানিশি।
প্রত্যাবর্তন ও বিবিধ কথা
এলেম শেষে অনেক দিনের পরে । বন্ধুরা সব বন্ধু আছে ,
আমরা ও তো আমরা আছি । আমরা বন্ধু তেমনই আছি ,
যেমন ছিলেম আগে ।
(এক বা দুজন অনলাইনে ,
ডজনখানেক ভুলকি মারে
তারপরে কে ল্যাজ গুটিয়ে
ভোঁ দৌড় দিয়ে ভাগে ।
হায়রে কপাল আমরা আছি
যেমন ছিলেম আগে । ।)