ইউজার লগইন
ব্লগ
আহাজারী
ষ্টেশন রোডের জরাজীর্ণ পথের ধারে
খুপড়ি ঘরে বাস করে
এই দেশের জন্য জীবন বাজী রাখা
লড়াকু, এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা।
তক্ত পোষের দুর্গন্ধ রাস্তা পর্যন্ত পৌছায়
নাক সিটকিয়ে পথিক জায়গাটুকু পার হয়।
কেউ অশ্রাব্য গালি দেয় আজন্মা বলে , কেউ হনহনিয়ে চলে
ক্ষুধার তাড়নায় অভুক্ত তখন পঙ্গু যোদ্ধা ।
গতকাল পর্যন্ত মেয়েটাই ছিল সব
কোন দুর্বিত্তের দল উঠিয়ে নিয়ে গেছে তারে
কপালে মৃদু মৃদু ঘাম,ঘুমোট দুর্গন্ধে চারপাশ
শুধায় পথিকের তরে "দেখেছো বাপ মোর জুলেখারে"
কেউ থমকে দাঁড়ায় বিস্ময় নিয়ে , কেউ দ্রুত
পথচলে আপদ ভেবে।
নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধা আহাজারি করে
ষ্টেশন রোডের জরাজীর্ণ পথের ধারে।
ছোটদের নতুন পৃথিবী
ধরে নাও আজ পালটে গেল
এই পৃথিবীর নিয়ম,
ছোটদের আর মারছে না কেউ
বকছে না কেউ তেমন।
শিখছে ওরা হাতের শিল্প
প্রযুক্তি আর কাজ,
করছে যে আয় নিজের মত
হচ্ছে না আর ভার।
পড়ছে এখন নিজের টাকায়
দিচ্ছে না কেউ চাপ,
গবেষণায় শিক্ষা জ্ঞানে
পেরোচ্ছে তার ধাপ।
খুলছে অনেক বাচ্চা চালিত
সাহায্য কমিটি,
বাচ্চা সবাই ভাবনা করে
বানাচ্ছে সমিতি।
শিখছে নিতে দায়িত্ব ভার
বাড়ছে বুদ্ধিবৃত্তি,
দক্ষতা আর কর্মজ্ঞানে
হচ্ছে নতুন সৃষ্টি।
ছোটদের এই মজার জগৎ
কল্পনার এক মূর্তি,
তবুও যদি বাস্তবে আজ
ঘটতো এসব সত্যি?!!
অল্প বিদ্যা ভয়ংকর - ১
লেখালেখির ক্ষেত্রে বেশ কিছুদিন, এধারকা মাল উধার করে কাটালাম। মানে এ ব্লগের লেখা সে ব্লগে এই রকম আর কি! তাতে যে বেশ নাম ছড়িয়েছে, তাও নয়। দুই চারজন দয়া করে পড়ে আমার মান বাঁচিয়েছেন আর পুরোনোরা বারবার বলেছেন, "দিদি ইধারকা মাল উধার করে আর কদ্দিন, এবার নতুন কিছু ছাড়ুন..."
তা নতুন মাল ভেতরে থাকলে না হয়, ছাড়া যায়, মানে লেখা যায়....। বাহিরের মত আমার ভেতরটাও ঝরঝরে। ফিলিপস বাতির মত সব ফকফকা। কিন্তু সে কথা বলা বারণ, আজাকের যা জামানা...তাতে ভাব ধরে থাকতে হয়। ভাব ধরে বিশেষ সুবিধা নাই, কেহই জিগায় নাই-'লেখেন না কেন?' কিন্তু তাতে কি? আমিই জানিয়ে দেই- "আমি আবার রাইটার্স ব্লকে ভুগছি"।
এটা একটা দামী অসুখের নাম। দামী লোকরে কে কবে পাত্তা দিছে বলেন?? পোড়ার দেশে সবই কপাল।জ্ঞানের কদর একেবারেই নাই।
রঙ আমার উড়তে থাকে ভাসতে থাকে
খয়েরী ডানায় সে এক চটপটে শালিক ছানা
চোখ-কান খোলা রেখে কথা তার না-বলা শোনা
চাইছিলো সে আসুক উড়ে উড়ে সময়ের আনাগোনা
আমার মনন মগজে দিলো খোঁচা
কীভাবে যে কী করি খুঁজতে কী পারি
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোথায় কাঁচা পাকা সোনা-দানা
সে তো ছোট্ট শালিক ছানা
আমার মন তো মানে না
সে বদ্ধ উঠোন জলে নাড়ালো পা দু'খানা
আমার নাচতে ইচ্ছে, না করে না
হেই শালিক ছানা
আমার উড়তেও যে মানা
বলে শালিক, উড়তে ডানা লাগে না
মন পবনে নাও ভাসালে ছুটছে দেখবে তোমার হাতে ঘুড়িখানা
তুমি নাটাইয়ের সূতো কেটে নিও না
তোমার উড়তে কোন বাধা না
দূরে বসে উঁচুই শালিক রঙের খেলা দেখে
কী রঙ মাখি আমি আমার ক্যানভাসে
ডিগবাজী তুলে শালিক শিমুল বাতাসে
তুলির রঙ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে সর্বত্রে
রঙ আমার উড়তে থাকে ভাসতে থাকে মিশে মেঘ আকাশে।
চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৬
এই যে এখন একটা বিচ্ছেদ হলেই তোমার চেহারাটা নিয়ে
কনফিউজ হয়ে যাই,
বিশ্বাস করো আর নাই করো
এমন একটা সময় তুমি আর কখনোই ফিরে পাবে না।
এটা একটা ওয়ান’ন ওনলি।
---
এই শীতে উষ্ণপদ্য
উতল হাওয়া উড়িয়ে নিল কই আমাকে
উতল হাওয়ার আঁচল দোলে
আমারও যে পরাণ জ্বলে
বলি-
তোর আঁচলের খানেক ছায়া দে আমায় দে।
উতল হাওয়া শীতল হাতে দেয় ছুড়ে দেয়
বলে-
খানেক কেন, পুরো আঁচল নে বাবা নে।
ভুলের মাশুল
চরম একটা কথা কইছ তুমি ,
তোমার কথায় স্বর্গ হলো পাতাল ।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লা যখন তুমি ,
বাতাস কেমন হলো টাল মাতাল ।
আমি বুঝিনি , বুঝছো কেবল তুমি ,
এতো বুঝেও করলা বিরাট ভুল ।
আমার কথা শুনলানাতো তুমি ,
ক্যামনে দিমু এ ভুলের মাশুল ??
টিলো এক্সপ্রেস
.................................................
জলছবি (প্রথম পর্ব)
প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে ডেস্কের সামনে বসে আছে শায়লা। একটু আগে কম্পিউটারে রিজাইন লেটার লেখা শেষ করেছে। এখন বানান ভুলগুলো দেখছে। প্রিন্ট দিয়েই এমডির রুমে জমা দিয়ে আসবে। শায়লা মনে মনে অবশ্য একবার ভাবলো কিছু বানান ভুল রেখে দিতে। তাতে এমডিকে কিছুটা বিরক্ত করা যাবে। সাধারণ শব্দের ভুল বানান দেখলে এমডি খুব বিরক্ত হয়। তবে রাগের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিত হচ্ছে কি না বুঝতে পারছে না শায়লা। সে কাজ করে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানীতে। রাজধানীর অদূরে পানির ওপর ওদের রিয়েল এস্টেট কোম্পানীটির বেশ কিছু প্রজেক্ট রয়েছে। কোম্পানীর এমডির পিএস হিসেবে কাজ করছে সে।এমডি বিবাহিত, আট নয় বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। এজন্যই কিছুটা ভরসা করে চাকরিতে ঢুকেছিল। চাকরির প্রথম দুয়েক মাস খুব ভালো চলে। অফিসের সবাই মোটামুটি তাকে সহযোগিতা করে। হয়তো কোম্পানীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পিএস বলেই কেউ কেউ বাড়তি সমীহও করে।সমস্যার শুরু হয় চাকরিতে জয়
ঐতিহাসিক কাইব্যাঘাত...
দেশে পুরাদমে শীত নাইমা পর্ছে। সইত্য মিথ্যা প্রবাহ জারি হইয়া গেছে
সেই সইত্য মিথ্যা প্রদাহ দেখি ব্লগেও তার বাড়ি দিতেছে। ব্লগের লুকজন সব ল্যাপ কাথা মুড়ি দিয়া কুনুমতে হাত দুইটা বের কইরা এক্টুস্খানি লিখে। তারপর লগফ কইরা ঘুমাইতে যায়। আমগো আছিলো দুইখান বিনুদুন। যাগো রক্ত গ্রম। তাগোরেও পাপিষ্ঠ মডু তাড়াইয়া দিলু। আর যেই বেটারে এদ্দিন ধইরা মিস কর্তেছি সেই বেটার এক্কান অবশ্য পাঠ যোগ্য কবিতা এইখানে কপি পেস্টাইতেছি। এক্কান নিয়ম কইরা দেওন দর্কার, যেই এবিতে রেজিস্টার কর্বো তারেই এই ঐতিহাসিক কাব্য খান পাঠ কইরা সের্পর ব্লগে নয়া লেখা দিতৈবো। পরিশেষে পামর ডেভু আর ফর্সা মডুর কালো মাউস ভেঙ্গে দেউয়ার আন্দুলুন করনের লাইগা সব্বেরে ডাক দিয়া ভাষণ শ্যাষ কর্তেছি। সুম্মা আমিন।
গুলনাহার সাহাবউদ্দিন নামা
১।
একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে,
কুটকে বসে আছি এক কোনার সোফায়।
ঘাসফুল..[এলোমেলো কাব্যকথন]
ঘুম পোষা চোখে;
আলসেমি ঘোর,
ঘুম ঘুম ভোর..
এলোমেলো চুলে;
আনমনে,
বিলি কেটে যায়-
ঝিরঝিরে রোদ্দুর..
নীলাকাশ;
মেঘ সারি সারি,
মন ভাবে-
ক্ষতি কি?
যদি,হয় তা বাড়ি..
কুয়াশায়;
সজীব ঘাসে-
নিষ্পাপ শিশির কণা..
শীত কবে আসবে..
পথ চেয়ে থাকা,
আর দিন গোনা..
আর কত দিন?
মিষ্টি ভোর আর-
ধোঁয়া উড়া ভাপার অপেক্ষা..
উফ্,আর ভাল্লাগে না..!
আকাশটা ভালবেসে;
দিন কেটে যায়,
আসে রাত্তির..
আকাশের তারা..
প্রত্যাশা;
যেন,
ভোরে হয়ে উঠে-
সেই..চিরচেনা..
ঘাসফুল..
প্রেমনির্বাণ
রাত্রীর পাপড়ি একটা একটা করে খুলুক
তোমার মত করে ঘাসফুলের স্পর্শ
ক্রমশ আলো হয়ে যাক রাতের অন্ধকার
একটা একটা করে নিঃসঙ্গতা পালিয়ে
চুম্বনগুলো জমুক একটা একটা করে
রাতজোনাকির ভয়ে আড়ষ্ট হোক তোমার ঠোঁট
হিমালয়ের বরফ জমিয়ে দিক
আর উত্তরের বাতাস ভাসিয়ে দিক তোমায়
আমি দিয়ে দিব তোমায় আমার উষ্ণতা
চুম্বনগুলো জমছে ক্রমশ
আমি আর তুমি ছাড়া কেউ না থাকার দিনে…
পরিচিতি
অবশেষে আমার নিবন্ধন সম্পন্ন হইল এবং আপনাদের মাঝে চলে আসতে পারলাম। ভেবেছিলাম কোনদিনই আমার নিবন্ধন সম্পন্ন হবে না কারন বছর ২ আগে একবার নিবন্ধন করে অনেকদিন অপেক্ষা করে ফিরতি মেইল পেলাম না। তখন থেকে নিয়মিত অতিথি হিসাবেই ব্লগ পরা র কমেন্ট করা ছারা র কিছু করার ছিলনা। যদিও লেখক হিসাবে আমি অতীব নিকৃষ্ট মানের কিন্তু কথা দিচ্ছি পাঠক হিসাবে আমার অবস্থান ভালই পাবেন।
তাই এইবার নিনন্ধন এর ৩দিন পার হওয়ার পর ভাবলাম এডমিন বেটাকে তো ফাপর দিতে হইব। ইয়াহু মেসেঞ্জার থেকে নক করে মেছেজ দিলাম অনুমোদন এর জন্য। আজ সকালে মেইল খুলে দেখি বহুল প্রত্যাশিত মেইল।
চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ি-৭
১.
অনেকদিন পর আজকে আবার সেই ধরনের স্বপ্ন দেখেছি।সকালের বাকীটুকু সময় এপাশ ওপাশ করে কাটিয়ে দিলাম। এই ধরনের স্বপ্ন আমি স্কুলজীবনে প্রায় দেখতাম। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে কিন্তু আমি যেতে দেরী করেছি বা পড়ে গেছি এক বিষয় কিন্তু পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখি আরেক পরীক্ষা চলছে। কী ভয়ংকর সেই সব স্বপ্ন!!!!!!!পরীক্ষার মধ্যে আরেকটা কমন স্বপ্ন ছিলো তা হচ্ছে ওএমআর এর গোল্লা পূরণ করতে পারছি না। পূরণ করেই যাচ্ছি করেই যাচ্ছি কিন্তু গোল্লা পূরণ হচ্ছে না। সকালে এইটা ভাবতে ভাবতে কলেজের এক ক্লাসমেটের কথা মনে হলো। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময় স্যাররা বয়ান দিতো বাবারা গোল্লা পূরণে বিষেশ সতর্ক হবা কোন ভাবেই যেন ভূল না হয়।হেন ত্যান ইত্যাদি... কিন্তু স্যারের বয়ান শেষে একজন দাঁড়িয়ে বলতো স্যার আমার গোল্লা পূরণ ভুল হয়েছে আমি এখনো এর কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনা একজন কীভাবে বারোটা পরীক্ষাতেই একই ভুল করতে পারে।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম।
চামড়াগুলো তেমনভাবে কুঁচকে যায় নি; নখ কিংবা চুলগুলো আরেকটু বেড়েছিল কিনা খেয়াল করি নি তখন
আমার ঘুমিয়ে পড়া দেহটিকে কেউ
উষ্ণতার পরশ দিতে চেয়েছিল কিনা-
জানতে জানতে আসল সময় পেরিয়ে গিয়েছিল;
শুধু আস্তে আস্তে টের পাচ্ছিলাম- গলিত ঠাণ্ডা লাভা জমতে শুরু করেছে ঠিক চামড়ার নিচে-
যেখানে জমা হয় রং ফর্সাকরী ময়েশ্চার ক্রিম।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম-
তখন যদিও হাতের নাগালে তিনটি কবিতা, একটি উপন্যাস এবং কয়েকটি প্রবন্ধের বই ছিল
ওগুলো ছুঁতেও ইচ্ছে করে নি,
মোটা কাপড়ের শাড়িটাকে শুধু গায়ের ওপরে তুলে দিয়েছিলাম।
কবিতার বইয়ের বদলে শাড়ি দিয়ে শীত নিবারণ বিপ্লবীদের শোভা পায় না-
ফলে দুপুরবেলাতেই মরে যেতে হয়েছিল।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে যেতে যেতে
সমাজ-রাজনীতি সব বাদ দিয়ে কেবল নিজের সুখটুকুর কথাই মনে হচ্ছিল।