ইউজার লগইন
ব্লগ
ভালোবাসি তোমায় তাই জানাই গানে
কালো বর্গের উপর সাদা রং-এর নির্মাণে নির্বাণ লাভ করেছে কী-বোর্ডের স্ট্রোকগুলো। কেন এই পৃথিবীজুড়ে শুধু মারামারি, হানাহানি আর খুনোখুনি? কিছুটা শান্তির সঙ্গে যদি বসত গড়তে পারতাম, তাহলে নিশ্চিন্ত মনে একটা দোয়েলের বা ফড়িং-এর জীবন কাটাতাম। আমার শ্বাসনালী দিয়ে সেই স্বপ্ন প্রবেশ করে না কখনো। কারণ বাতাসে পোড়া গন্ধ। মানুষের ফুসফুস পুড়ছে নিরন্তর। আর হৃৎপিণ্ডগুলো হাপরের মতো দম দিয়ে যাচ্ছে তাতে। আমি যখন আর সহ্য করতে পারতাম না, তখন একছুটে তোমার কাছে চলে যেতাম। পালিয়ে থাকতে চাইতাম, তোমার ছোট্ট ভেজা ভেজা মায়াবী আঙ্গুলগুলোর মাঝে। তোমার পলকা কাঁধে মাথা রেখে দূর দিগন্তে হারিয়ে যেতাম।
অথচ কি অসীম শক্তি যে ছিলো ওই কাঁধের, তা কেবল আমিই জানি। পৃথিবীর মতো এতবড় শত্রুর হাত থেকেও আমায় আড়াল করে ফেলতে তুমি। বাঁচিয়ে দিতে। মুঠোভরা বেঁচে থাকার রসদ দিয়ে দিতে আমার জন্য। এত শক্তি কোথায় পেয়েছিলে মেয়ে?
এ কোন আমি
আমি যেন নিতান্ত একটা কোনো কিছু ,
নিজেকে সামলে চলা যার বড় দায়।
ব্যস্ত আর ব্যস্ত সবাই
ঘুরেছে আবহমান স্বার্থের বৃত্তে ,
কেন জানি আমিও অন্ধকারে হাতড়াই রাতে নিভৃতে ।
হারাবার নেশা বুকে নিয়ে,
নিভু নিভু সপ্নদেখা রাত
কেটে যায় দাপড়িয়ে দাপড়িয়ে।
পারিনি হারিয়ে যেতে আজো ,
পারবনা হয়ত কখনো ।
তবু শুণ্যতায় ভেসে বেড়ায় দগ্ধ নীরব এক প্রশ্ন !
শ্যাওলা
দুইজন চুপচাপ বসে আছে। পার্কের এদিকটায় অন্য লোকজন একটু কম আসে। জোড়াদের ভারি পছন্দ। নিরিবিলি। শান্তি করে বসা যায়।এখানে জায়গা পাওয়াটা ভারি ভাগ্য। মাঝে মাঝে অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকতে হয়।
দুই জন চুপচাপ বসে। মাথার উপর ঝাপড়া গাছের ছায়া। ডালের উপর বসে একটা কাক ডাকছে অনেক্ষন ধরে। ছেলেটা উদাসীন। মেয়েটা সাবধান ।কাক যদি ইয়ে করে দেয়, তো ভারি বিপদ। কাছে পিঠে কোথাও পানিও নেই।
দুইজন চুপচাপ।একজন বলল-‘শুধু প্রেম করলে কেমন হয়? ডেট না, সেক্স না, বিয়ে না…কক্ষনো দেখা করতে হবে না…ফোন, এসএমএস, ই মেইল না…শুধু আমরা দুজন জানবো আমাদের ভেতর অনেক প্রেম…একজন আরেকজনের জন্য বেঁচে আছি…কেমন হয়?’
ছেলেটা কিছু বলে না। ছেলেটা কিছু ভাবেও না।বসে বসে বেঞ্চের শ্যাওলা নখ দিয়ে খোটে।আর মেয়েটার কথা শোনে শুধু। মেয়েটা বলে যায়-‘তাহলে আমাদের কেউ সন্দেহ করবে না…তোমার কথা আমি কোনদিন কাউকে বলবো না…তুমিও বোলনা…’
'প্রেম করা শিখিয়েছি-----'
‘প্রেম করা শিখিয়েছি-----‘
এ টি এম কাদের
প্রেম করা শিখিয়েছি তোকে যে আমি ।
চুপিসারে অভিসারে নিয়েছিও আমি,
তোর বুকে যে হৃদয় ধুক ধুক করে
কান পেতে শোন সেথাও রণিতেছি আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি------- হায় অন্যের হলি !!!
(তোর) অধরে প্রথম চুমু এঁকেছি ও আমি,
(তোকে) শির শির শিহরণে জাগিয়েছি আমি,
তোর খোঁপায় প্রথম ফুল দিল যে অলি ,
স্বপ্নের সে রাজপুত্তুর সেও যে আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি----- কি করে হলি !!!
(তোকে) মিলনের স্বর্গ সুখ দিয়েছি ও আমি,
বিরহের জ্বালা তাও দিয়েছি আমি,
তোর উচ্ছ্বল ছলছল ভরা যৌবনে
খোঁজে দেখ সেখানেও আমি শুধু আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি ------ আহা অন্যের হলি !!!
পিকনিক
পিকনিক বলতে কি বুঝায়?
পিকনিক কত প্রকার ও কি কি?
পিকনিক কারা করে?
পিকনিক কখন করে?
পিকনিক কোথায় করে?
পিকনিক কিভাবে করে?
পিকনিক কেন করে?
পিকনিক বছরের কোন সময়ে করা হয়?
পিকনিক করার সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানগুলি কোথায় অবস্থিত?
পিকনিক করতে কি কি পিক করা উচিত?
পিকনিক কোন কোন নিক করতে চায়?
~
(এমএস ওয়ার্ডের গনন মোতাবেক ৫২ টি ওয়ার্ড এবি ব্লগ এডিটরে পেস্ট করে “প্রকাশ করুন” টেপার পরে বলে ৫০ টা শব্দই হয় নাই । বাঙ্গালী গুনতে সব সময়ই ভূল করে।)
মার কন্ঠ
আমার কোন জ্বর করেনি। রোদে গা-ও পুড়েনি। তবে ঘুমানোর অসুবিধা ছিল। ঘুম আমার ভাল লাগে। ঘুমাতে ভালবাসতাম। ঘুম যেন আমার রসের নাগরী, যার সাথে চলতো জলাজলি, ঢলাঢলি। ও আমাকে জড়িয়ে নিতো। আবেশায়িত হতে হতো। আবেশ ছড়াতে আমিও ভালবাসতাম। মুচকি মুচকি হাসাহাসি করতাম ঘুম ঢুলু ঢুলু দু'চোখ।
আমার ঘুম কখনো আমাকে নিয়ে এসেছে সাগর পাড়ে। বিশাল জলরাশির মাঝে আঁধারে আমার দৃষ্টি চলে যেতো দূরে। মনে হতো এই বিপুল জলরাশি মাড়িয়ে আমি তখন ওপার আঁধারে পৌঁছে যাবো। আঁধার আমায় করেছে গো বরণ। আমি তো আছি ডুবে তারই মাঝে।
ভালোবাসার বন্ধু আমার..
বন্ধু তুমি মনের ভুলে-ও যেয়োনাকো ভুলে বন্ধুকে,
রেখে দিও তারে দৃষ্টি মাঝে না’ই যদি দেখো দুই চোখে..
বন্ধু তুমি বন্ধুকে রেখো মনের কোণেতে আনমনে,
স্মৃতির পাতায়; ভবিষ্যতে, বর্তমানে – সব ক্ষনে..
বন্ধুকে কভূ ভুল বুঝোনাকো ভুল অভিমানে ভুল করে,
রাগ ভেঙ্গে সদা; দুঃখ মুছে তার, হাসি-খুশি রেখো মন ভরে..
বন্ধু জ়েনো গো; আজো বন্ধুর, বন্ধু বিহনে মন পোড়ে,
চোখের পাতা’য় মেঘ করে আর বর্ষা বিনে-ও জল ঝরে..
বন্ধুর পথে বন্ধু’র গানে তাল দিয়ে যেও সুরে,
ভালো থেকো তুমি; ভালোবাসা নিও, রও কাছে কী বা দূরে।।
শুধু তুমি
শুধু তুমি
এ টি এম কাদের
প্রত্যূষে ঘুম থেকে উঠে
দাঁত মাঝতে মাঝতে অবাক হয়ে দেখি
বেসিনের স্বচ্ছ গতরে তুমি ফোটে আছো !
আমার হাত থেমে যায় ! অপলক দেখতে থাকি—
তোমার শ্বেত-মুক্তো দাঁত, রক্তিম গাল, লাল গোলাপ ঠোঁট ।
আমার মুখ নেমে আসে, আমি ঝুঁকতে থাকি—ঝুঁকতে থাকি ।
‘ খুট ’ করে শব্দ হয় ।
দোর খুলে কেউ বেরিয়ে যায় বাথ রুম থেকে ।
সম্বিৎ ফিরে পাই । তাড়াহুড়ো ডুকে পড়ি ।
দরজার খিল এঁটে শাওয়ার ছেড়ে দিই ।
জলের শীতল পরশ ! আহা কি কোমল !
মনে হয় তুমিই গলে গলে তরল হয়ে
আমার সমস্ত অবয়বে আদর করছো !
আবেশে চোখ বুজে স্থির হয়ে থাকি !
আমি দাঁড়িয়ে থাকি---দাঁড়িয়ে থাকি !
‘টক টক’ দরজায় টোকা পড়ে ।
সহকর্মী কারো তাড়া ।
তোয়ালে দিয়ে গা মুছতে মুছতে হঠাৎ থমকে যাই !
অবাক বিস্ময়ে দেখি—দেয়ালে লাইফ সাইজের আয়নায়
ক্রমে তুমি পষ্ট হচ্ছো !
তোমার কুন্তল, কপাল, ভ্রু, চোখ, কান, নাক, কপোল,
হাম হাম জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল
গত ০৫/১০/২০১১ ইং তারিখে টুটুল ভাই বান্দরবন-থানচি-রেমাক্রীর ভ্রমন কাহিনী পড়ে প্রশ্ন করেছিলেন "হাম হাম" দেকছেন? উত্তরে বলেছিলাম " অপেক্ষা করেন বস"। ০৬ অক্টাবর, ২০১১ ইং তারিখ পূজার বন্ধ, আর কোন কথা নাই বোচকা-বুচকী বাধা শুরু হয়ে গেল, এবার লক্ষ্য শ্রীমংগল এর রাজকান্দী রিজার্ভ ফরেস্ট এর "হাম হাম জলপ্রপাত"। প্রথমেই বাধা ট্রেন এ সবার টিকিট নাই, কি করা ২ ভাগে ভাগ হয়ে গেলাম একদল ট্রেন অপর দল বাস। ৭ তারিখ ভোরে সবাই একত্র হয়ে সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার নিয়ে নিলাম। চাদের (জিপ) গাড়ী নিয়ে আমাদের গাইড শুভ সময় মতো হাজির। যাহোক সকাল ৯ টার ভিতর আমরা চাম্পারায় চা বাগান পৌছে গেলাম। এরপর ছবিতে দেখুন
১) প্রাকৃতিক ফ্রেম, শুরু হয়ে গেল ফ্রেম বন্দী হয়ে ছবি তোলা, ছবিতে ফ্রেম বন্দী ইকবাল
কন্যার মুখস্ক্রিন
সম্মুখের সকল স্ক্রিনের সারি সরিয়ে তাকে দেখতে হবে
অথবা তার ভেতর থেকে স্ক্রিন
টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল আর চশমার
কাঁচের ভেতর দিয়ে চলমান প্রতিটা ঘন্টার ভেতরে
তাঁকেই খুঁজি বলে
... এসে দাড়ায় স্ক্রিন প্রতিরোধক হয়ে
উপরে নিচে বাইরে তাকিয়ে
অপসারণ করে দেয় আর সকল মুখ
তাকে গভীরভাবে দেখতে বলে
ল্যাপটপ সরিয়ে সম্মুখের টেবিলে বসে আমার কন্যা
পূর্ণ দৃষ্টিতে দেখি তার মুখ অথবা
অবিচ্ছেদ্য আরো এক নতুন স্ক্রিন
গ্রো আপ- দেন ওয়েক আপ...
একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। কথা বলতে পারা এবং সঠিক স্থানে সঠিক কথাটা বলতে পারা একটি শিল্প। এবং এর মাঝে পার্থক্য আগারতলা আর চৌকির তলার মতো। লিখতে পারা বিষয়টিও ক্ষানিকটা তেমনই। সঠিক পয়েন্টে সঠিক লেখাটি লেখা এবং "মন-গড়া" আত্ম বিবেচনা বর্ণনা করা বোধ হয় পাগলে কিনা লেখে প্রবাদের মতোই। (এজন্যই আমি কম লিখি..
..)
আজকে আমার পরিবেশনা বাংলাদেশের, বাংলা ভাষাভাষীদের "লেখক" হয়ে ওঠার মনোভাবকে কেন্দ্র করে। প্রথমেই অভ্যাস অনুযায়ী ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি..
পালাবে কোথায়
পালানোর ছবি। বন্দি জীবন থেকে ওরা পালায়। জেল থেকে কিংবা যুদ্দবন্দি জীবন থেকে পালানো। সব কটিই আমার খুবই পছন্দের ছবি। পালানো মুল থিম হলেও ছবিগুলোর মধ্যে নানা বৈচিত্র আছে।
রাসেল আশরাফকে উৎসর্গ করা হল পোস্টটি
১. এজ ফার এজ মাই ফিট উইল ক্যারি মি-জার্মানির ছবি- 
মাওলা আলীর অভিষেকে প্রাচ্য ভাবগীত ও লালনের কালাম
আমি অবাক। এইটা কবে হল কিছুই জানিনা। অথচ এর আশে পাশে কত আড্ডা দিয়েছি। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভিতর এই এম্ফি থিয়েটার বানানো হয়েছে জানতামইনা। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল চারটায়। বাঙালের সময়ে কাজ শুরু নিয়া আবার ধরা। পোনে পাঁচটায় আমি আর তৈমুর পৌছলাম তখন শুরুর কোনো লক্ষণ ই নাই। আমরা আসছি বিশ্ব লালন পরিষদের প্রাচ্য ভাবসংগীতের অনুষ্ঠান শুনতে। খবর পেয়েছি পোস্টার দেখে। যদিও এরা কারা, কী করে কিছু জানিনা। তবে স্টেজের ব্যাকগ্রাউনড দেখে ভিরমি খেলাম। মাওলা আলীর অভিষেক। মানে কী কে এই আলী? তারপরে লালনের নবি নিয়ে এক গানের কয় লাইন। লালনকেও মুসলমান বানাবে নাকি ওরা! মেজাজ খারাপ। তবে জায়গাটা ভাল। অগ্রাহায়নের বিকালের হালকা ঠান্ডায় বেশ একটা ভাল লাগা ছিল।
শিংগী আপু / তুতুন ভাবী
শিংগী আপুর অনেক শিং,
তুতুন ভাবীর মোটে নাই,
রঙ্গ সভায় যান না ভাবী
পাছে শিংগী মারেন ঘাই ।
আপুর জ্বিবে--- কেউটের বিষ
খিস্তি খেউর অহর্নিশ,
ভাবীর শুধু ফোঁসফাঁস ।
নিত্য নতুন ছূতো করে
আপু সবই দখল করে,
ভাবী একটু নড়ে চড়ে
চেপে রাখেন দীর্ঘশ্বাস ।
আপুর জিদ--- সাতশো বিশ,
ভাবীর ও কিছু কমনা ।
তাইনে তাইনে রেষারেষি,
শীল-নোড়ার ঘষাঘষি,
মরিচ "গণের" প্রাণ নাশি,
বলেন, ' আমরা কিন্তু যম না' ।
কেউ কিন্তু কমনা,
খুণ ছাড়া 'পান' না,
ষোল কুঠি ছাগলের
গোস্ত্- ছাল তো মাগনা ।
মেঘবন্দী (১৫) ... মেঘ বৃষ্টির পাঁচালী / লিজা
মেঘ বৃষ্টির পাঁচালী
লিজা
লোকটি দ্রুত হাটছে । শুকনো খরখরে শরীরে যত দ্রুত সম্ভব পাড়া ছাড়িয়ে একটু নির্জন জায়গার খোঁজে হেটে যাচ্ছে । আর হয়তো মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বৃষ্টি নামবে । লোকটি আন্দাজ করে নেয়, আজ ঝুম বৃষ্টিই হবে; একেবারে আকাশ পাতাল তছনছ করে বৃষ্টি নামবে আজকে । বাতাসের বুক চিরে দিয়ে অজস্র তীরের মত নেমে আসবে ওরা । মাতালের মত হেলেদুলে ঢলে পড়বে বিরসা মাটির বুকে । লোকটি ভাবতে ভাবতে হাটে, হাটে আর ভাবে । কোন এক জিনিসের প্রেমেই মজেছে সে, এ তারে দেখা দেয় কালেভদ্রে । অথচ লোকটি কত দিনরাত উদাস বসে অপেক্ষা করে, হেলায় ঠেলে সরায় ময়নার চান্দের জ্যোৎস্না ।