ইউজার লগইন
ব্লগ
যখন দ্বিধায় ভুগতে হতো না
হতে পারে উচ্চাভিলাষ
কিংবা চূড়ান্ত বোকামী
কিন্তু যদি সত্যিই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে
আগুনে ঝাপ দাও
তাহলে কি তুমি ঝাপ দেবে?
যদি ভুল হয়ে যায়
যদি সত্যি শেষ পর্যন্ত
প্রফেসি সত্য না হয়,
দ্বিধা যদি দোলাচলে ঠেলে দেয়
তবে তুমি কি করবে?
একটা বনে কিংবা পাহাড়ে
আমরা জন্মালে এবং এখনকার মতো
উন্নত ব্যবস্থার ভেতর না থাকলে,
এ দ্বিধায় ভুগতে হতো না
তখন তুমি কি করতে?
আমরা সবাই একসাথে
একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে
প্রতিবাদ করতাম, তাই না?
কণ্ঠচেড়া চিৎকারে চারদিক
বিদীর্ণ করে দিতাম কিনা?
অসংখ্য কণ্ঠ একত্র করে
সুনীল সাগরের মতো গম্ভীর গর্জনে
নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতাম কিনা?
---
যদি মানুষ-ই-না থাকে তবে উন্নয়ন দিয়ে কি হবে?
নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার তাজপুর খনি থেকে বানিজ্যিক ভাবে চুনাপাথায় উত্তোলন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকা মারাত্বকভাবে পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে পতিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চুনাপাথর খনির উপর সমীক্ষায় দেখা গেছে যে খনি মুখ থেকে চারিদিকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা সবচেয়ে বেশী ঝুঁকির মধ্যে থাকে। সে হিসেবে তাজপুর চুনাপাথর খনির চারিদিকে ২ কিলোমিটার এলাকায় মধ্যে অবস্থিত বারফালা, জোলাপাড়া, তাজপুর, দৌলতপুর, নাজিরপুর, লক্ষীপুর, এনায়েতপুর, হাজিপুর, মহেশপুর, কটকবাড়ী এই ১০ টি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু বসতভিটা, পুকুর, বাগান ও ফসলী জমি থেকে উচ্ছেদই নয় এলাকায় স্বাস্থ্যগত-পরিবেশগত ও জীব-বৈচিত্রের মারাত্বক বিপর্যয় নেমে আসবে।
খেয়াতরী খেলাঘর
কিভাবে যেন ঠিক ঠিক চলে গেলাম। খুব সম্ভবত বান্ধবী সোনামনি, জান্নাত আর বেবির কাছ থেকেই খবর পেয়েছিলাম। রোদের তেজ তখন অনেকটাই মরে এসেছিল। পাঠানটুলী বালিকা বিদ্যালয়ে হতো রিহার্সেল। তখন কি প্রোগ্রাম ছিল সেটা আর মনে করতে পারছি না। প্রথম দিনের কয়েকটি গান -আমি শিখছি পড়া, এদেশ গড়া, ধিতাং ধিতাং বলে, সূর্য মোদের মাথার উপরে বাতাস সদায় দেয় দোলা, আনন্দ মেলা এই আনন্দ মেলা...আরো অনেক গান ছিল, কিছুতেই মনে করতে পারছি না।
বিষয়টা আমার কাছে খুব অদ্ভুত ভালো লেগেছিল। আশ্চর্য কোনো প্রশ্ন নেই, কোনো জিজ্ঞাসা নেই। ইচ্ছে হলেই সুরে বেসুরে চিৎকার করে গান করতে পারছি। আর আসল শিল্পীদের কন্ঠের যাদুতে আমার এবং আমার মতো অন্যদের সেই বেসুরো গান কেমন করে যেন ঠিকই তাল মিলিয়ে নিচ্ছিল।
যা কিছু হয় কিংবা হয় না
ঘুরেফিরেই এমির কথা আসছে মনে হয়, তাই না? যখনই আমি বাসায় থাকি, তখনই কোনো এক ব্যাকগ্রাউন্ডে ওর গান চলতে থাকে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতো, যখন ছোট ছিলাম। একই গানের লুপে আটকে থাকতাম দিনের পর দিন। এমি'র বেশিরভাগ গানের কথা এমন যে, প্রথমবার শুনলে মনে হয়, এটা কি শুনলাম? তারপর ব্যপারটা ভাল করে বোঝার জন্য শুনতে হয় আবার।
সেদিন ঘরে বসে বসে গবেষণাকাজ করছিলাম। ব্যাকগ্রাউন্ডে যথারীতি এমি চলছিল। এক সময় শুনি অদ্ভুত এক প্রেমিকা গানে গানে বলছে, যদি তার প্রেমিক কোনো অপবিত্র যুদ্ধে যেতো, তাহলে সে তার সাথে থাকতো। সেই প্রেমিক যার জন্য মৃত্যুকে বরণ করে নিতো, সেও তার জন্য মৃত্যুকে বরণ করে নিতো।
ভিজে যাই এই বরষায়
বৃষ্টি নিয়ে মানুষের কত সুখকর স্মৃতি থাকে। কত আনন্দের স্মৃতি থাকে। কিংবা পথ চলতে গিয়ে ঘটে যায় দারুণ কোনো ঘটনা। কিন্তু আসিফের ক্ষেত্রে তার কিছুই হয় না। তার ক্ষেত্রে যা হয়, তা হলো- সকালবেলা খটখটে রোদ দেখে ছাতা না নিয়ে সে বেরিয়েছে আর অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে দেখে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। মাত্র ক’দিন আগে দু’দিনের প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম শহর যখন ডুবে যাচ্ছিল, সেদিন অফিস থেকে ফেরার সময় সে নালার নোংরা পানিতে সাঁতার কেটেছে। এবং বহু কষ্টের অবসান ঘটিয়ে যখন সে বাসায় ফিরেছে তখন তার বউ তাকে ডেটল সাবান নয়, ডাইরেক্ট ডেটল দিয়ে গোসল করতে বাধ্য করেছে। সারারাত ডেটলের গন্ধে তার একটা ফোঁটাও ঘুম হয়নি। অথচ পাশেই তার বউ নীহা কি আরাম করে ঘুমাচ্ছিল।
এক্স - ওয়ান ফোর থ্রি!
আজ থেকে বহুদিন পর,
কোন অপরিচিত রাস্তায়।
যদি দেখা হয়ে যায়,
আবার?
আমাদের না,
তোমার; আর আমার?
চিনতে পারবে কি?
নাকি বেখেয়ালে
চলে যাবে,
রাস্তার অন্য পার?
হয়তো গাড়ির জানলা বন্ধই থাকবে,
ওপাশে তুমি;
সাথে হয়তো যথাযথ পরিবার।
আমি, নিশ্চয়ই হাটাপথে আনমনা;
অথবা এলোচুলে রিকশায়।
চোখে, চোখ পড়ে গেলে? তখন?
সানগ্লাসের নিচে চোখ দেখা যায় না।
কিংবা, সে চোখে প্রান থাকে না। জানি।
তবুও..
আমার হয়তো সাহসেই কুলোবে না
হাত তুলে ডাকার!
আর তুমি,
রেডিওতে ভলিউম হয়তো বাড়িয়ে নেবে
কয়েক দাগ।
স্মৃতি জিনিসটা আস্ত একটা রাসকেল,
বড় বেশি চেচামেচি করে মাঝে মাঝে।
আবার, কে জানে?
হয়তো তোমাদের মতন সভ্য হয়ে যাবো ততদিনে।
হাসিমুখেই অদলবদল হবে সম্ভাষন,
চোখে হাসি নাই বা থাকুক ; কি আসে যায়।
কথা হবে বেশ, আসলে কিছুক্ষন।
কে কোথায়, কি করা হয় আজকাল?
'ও' কোথায় আছে, এইসব আর কি!
যে সমাজে আমাদের কোনো ঠাঁই থাকবে না
অভ্যন্তরীণ ব্যাপার-স্যাপার সংক্রান্ত ধারণাটা আমি বস্তুত ঠিকঠাকমতো বুঝি না। আমার মনে হয় গণমানুষের অভ্যন্তরটা ঠিক ততোটা গভীর না, যতোটা আমরা শিশুকালে মনে করতাম। কামিনী রায় কি তবে একসময় ভুল ধারণা দিয়েছিলেন? "আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী' পরে"- কি শুধুই কথার কথা? আমি তো দেখি, মানুষ কেবলই স্বার্থ খোঁজে। বিভিন্ন মাত্রায়। সবচেয়ে কম স্বার্থপর যে মানুষ সেও নিজের স্বার্থ খোঁজে, তার প্রিয়জনদের ভেতর।
ঝড়ের গতিতে কাটছে সময়। দিনগুলো ফুরিয়ে যায় চিপসের প্যাকেটের মতো। একরাশ দ্বিধা-দন্দ্ব ছড়িয়ে। সপ্তাহগুলো আকার পাচ্ছে ধাবমান রেলগাড়ির। মাসগুলো যেন চলমান মহাকাশযান। ছুটছে প্রবল গতিতে কিন্তু তাকালে বোঝা যায় না। শীত চলে গিয়ে এখন বসন্ত এসেছে। গাছে গাছে ফুটে আছে বিষাদের ফুল। গাছেরা কি বলতে চায়? ওরা কি বসন্ত চায় নাকি এখনও প্রস্তুত নয়? কার অপেক্ষায় ওদের এই মুখ ফিরিয়ে থাকা?
খুঁজে নেবো
কেন একদিনও ভুলে থাকা যায় না? কেন অন্য কারও কথা ভাবলে শুধু সেই অন্য জনের কথাই ভাবতে থাকা যায় না? কেন মাঝামাঝি কোনো একটা জায়গায় গিয়ে হারিয়ে যাই প্রতিবার, সেই সব সন্ধ্যার, কোনো একটায়।
যখন ৪০ ডিগ্রীর একেকটা দিন শেষে আমরা দু'জন অফিস থেকে বের হয়ে একসাথে ক্যাম্পাসে ফিরতাম। গরমে সারাদিন যে পরিমাণ অশান্তি মনে জমা হতো, সেগুলো সব ধুয়ে যেতো তোমার স্পর্শে। তুমি বসে থাকতে আমার কাঁধে হাত দিয়ে। একবার কাওরান বাজারে বাংলাভিশন অফিসের সামনে কি নিয়ে যেন একটা ঝগড়া হয়ে যাবার পর থেকে তুমি সাইকেলে অনেকদিন দু'দিকে পা দিয়ে বসতে না।
চ্ছাহয়া
নির্লিপ্ত নিরুত্তাপ মৃত্যুর প্রতীক্ষা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো স্বাধীনতা নেই।কামাল ভাই সাক্ষাৎকারে বলেছেন বিরুপ পরিস্থিতিতে সেলফ সেন্সরশীল মননশীলতা, সৃজনশীলতা হত্যা করে। উদ্যত চাপাতি, উদ্বিগ্ন স্বজন, উদাসীন রাষ্ট্র এবং উগ্র নির্বোধ প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েক দিন আগে পড়া পারভেজ আলমের জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়েও নিজেকে নিবৃত করেছি। ব্যক্তিগত অভিমত, অনুভুতি ব্যক্তিগত ডায়েরিতে টুকে রাখা যায়, তবে প্রয়োজনীয় বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়াগুলো এক ধরণের বিজ্ঞাপন, অন্যকে পড়তে অনুরোধ করা কিংবা অন্যের মতামত জানতে চাওয়ার আগ্রহ- উন্মুক্ত আলোচনা ব্যতীত সম্ভব না। অনুভিত- উপলব্ধি প্রকাশের যথার্থ শব্দ না খুঁজে নিরপেক্ষ, বিতর্কহীন সাবধানী শব্দ খুঁজে খুঁজে কোনো পক্ষকে ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধ, ব্যাথিত না করে পাঠপ্রতিক্রিয়া লেখা অসম্ভব। সুতরাং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে, বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বই
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে.....
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
ধান দিব মেপে।
লেবুর পাতা, করমচা
যা বৃষ্টি ঝড়ে যা।
খেজুর পাতা, হলদি
মেঘ নাম জলদি।
বহুদিন পর এই ছড়া কাটলাম আজ। মন থেকে। আবহাওয়া খবর বলছে বৃষ্টি হবে। আকাশে মেঘ ভর্তি। তবু ঝড়ছে না কেন?
ঝড়লে তো আর ফুল দেখতে যেতে হত না। বাঙালীরা অনেকে মিলে সাকুরা ফুল দেখতে যাবে। গাছ ভর্তি সাদা অথবা গোলাপী ফুল। বাতাসে পাপড়িগুলো যখন ঝড়ে পরে সত্যিই সুন্দর লাগে।
কিন্ত????
আমি অসামাজিক নই আগেই বলে রাখি। তবে যাওয়ার পর সৌজন্য সাক্ষাত যেমন হবে:
কিছু ভাবি:- কি গো, আমরা তো ভাবলাম তুমি আসবেই না। যাক সময় তাহলে করতে পারলে। ভাল আছো তো?
কিছু ভাবি:- ঘটনা কি এত দেড়ি? একলা মানুষ এত দেড়ি করলে চলে? আমাদের বাচ্চা আছে সময় লাগে। তোমার এত দেড়ি কেন?
কালও কি তুমি আমায় ভালবাসবে?
একবার এক ময়ূরের রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে চোখ খুললে কিছু দেখা যায় না, চোখ বন্ধ করলে সব পরিস্কার। কান পাতলে শুনতে পাই হাহাকার, আর মনোযোগ অন্যত্র সরিয়ে নিলে পরিস্কার শোনা যায় ঝর্ণার কুল কুল ধ্বনি।
হঠাৎ কোত্থেকে যেন একটা কাঠবিড়ালী লাফিয়ে আমার কোলে এসে পড়েছিল। আদর করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই, সে রাজকুমারী এরিয়েলের কণ্ঠে কথা বলে উঠলো। আমি চমকে চোখ খুলে দেখি এক অর্ধনগ্না, বিশালবক্ষা, মধ্যবয়সী; আমায় ব্রার্টভার্স্টের সসেজ ভেবে খুব করে মায়োনিজ আর ক্যাচাপ মাখাচ্ছে। আরেকটু হলেই হজম হয়ে যেতাম আর কি!
ভাগ্যটা ভাল থাকায় আরও একবার সুখ পাহাড় আর দুখ পাহাড়ের সেই "লিজেন্ড" উপভোগের জন্য একটা এক্সট্রা লাইফ বোনাস পেয়েছি। তবে তারপর থেকে নীল রক্তই শুধু ক্ষরণ হয় হৃদয় থেকে। আর ভালবাসা ভরে থাকে কোনো এক হারিয়ে যাওয়া বেলুনের ঢাউস পেটে।
সেইসব দিনেরা
স্কুল জীবনে ২৫ শে মার্চ কি যে উত্তেজনাপূর্ণ দিন ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব, আর উচ্চ বিদ্যালয়ে গার্লস গাইড। মাঠে কত মানুষের সামনে প্রথমে প্যারেড , তারপর শারিরীক কসরত। পিরামিড তৈরী করা নিয়ে কত টেনশন। মাঠে ভেংগে পড়বে না তো। সেজন্য একমাস কত পরিশ্রম। সারাদিন ক্লাস করে মাঠে প্র্যাকটিস। ২-৩ ঘন্টা। ময়লা আর ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা। শুক্রবারেও রক্ষা মিলত না।
২৫ মার্চ সারাদিন স্কুলে প্রাকটিস। বিকালে বাসায় ফিরে স্কুল ড্রেস ধুয়ে , সাদা ওড়ণা, স্কার্ফ, আর সালোয়ারে নীল দেয়া, বেশি বা কম না হয়ে যায় তা নিয়ে সর্তক থাকা। সেগুলো ঠিকমত শুকানোর পর আয়রন করা। পিটিসু পরিষ্কার করা। চুলের সাদা ফিতা না থাকলে আম্মা বা আপার চারপাশে ঘুরে ঘুরে ঘ্যাণ ঘ্যাণ করা। ফিতার সাথে নতুন রবার ব্যান্ড আর ক্লিপ পেলে ঈদের খুশির মত লাগত। টেনশন আরও বাড়ত অবশ্য। এবছর আমাদের স্কুল ফার্স্ট হতে পারবে কি না এই নিয়ে।
এক যে ছিল ছোট্ট রাজকুমার..
আমি যখন ছোট ছিলাম, অনেক ছোটই বলা যায়। আমি বই পড়তে খুব ভালোবাসতাম, গল্পের বই।
এখনও ভালবাসি, কিন্তু তখনকার মত অতটা না। ওই মনটাই আসলে আর নেই, অথবা কেমন ছিল তা মনে নেই।
যা মনে রাখার কথা সেটাই বরং ভুলে বসে থাকি। এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে নিজেকে বড় বড় মনে হয়!
যাই হোক, আগের কথায় আসি। সেই ছোটবেলায় আমার নিজের তো আর বই কেনার উপায় ছিল না। কেউ উপহার দিলে পড়তাম, সেই সময়ে আমার নানার কাছ থেকেই পেয়েছিলাম সবচেয়ে বেশি বেশি।
মাঝে মাঝেই পেতাম নতুন একেকটা বই, নতুন কোন কাহিনী পড়তে কি যে ভালো লাগতো তা বলে বোঝানোর নয় আসলে। যে জানে, সে জানে। তখনই একবার একটা বই পেয়েছিলাম, আতোয়াঁ দ্যু সাঁ-জ্যুপেরীর লেখা 'ছোট্ট রাজপুত্র'।
অন্যরকম এক রাজপুত্রের গল্প ছিল তা, অনেক কিছু বুঝি নি তখন পড়ার সময় তাই অত বেশি ভালোও লাগে নি। তবে বইটার পাতায় পাতায় আঁকা ছবিগুলোর জন্যই হয়তো তাকে ভুলে যাই নি।
সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত কিন্তু স্বশিক্ষিত লোক মাত্রই সুশিক্ষিত নয় - এতদিনে মানে বোঝলাম।
আমার একটা ছোট ভাই আছে। তার সবচেয়ে অপছন্দ একটা কাজ হল, পড়াশোনা। কিন্তু পড়াশোনা তো করতেই হবে। তার এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার আগে একদিন আম্মা বাসায় আসে ভীষণ রেগে। কারনটা হল, ভাইয়ের ক্লাসের ফার্স্ট বয় নাকি পাঠ্যবইয়ের গন্ডি পেরিয়ে সৃজনশীল গাইড বই পড়ছে। যেখানে একই প্রশ্ন বিভিন্নভাবে এবং প্রশ্নের উত্তরও সৃজনশীল ভাবে লেখা রয়েছে। যেহেতু সৃজনশীল পদ্ধতিটা নতুন, তাই তাকেও সেই গাইড বই পড়তে হবে। আম্মা আমাদের কোনদিন গাইড বই পড়তে বলে নি। নিজের হাতে নোট তৈরি করে পড়তাম। আজ হঠাৎ গাইড বই কেন? এত্ত বড় একটা বই কিনেও এনেছেন। ভয়ে ভয়ে বললাম, গাইড বইয়ের চেয়ে পাঠ্যবই পড়াই তো ভাল। আপনিই তো বলতেন। আজকে কেন?
বৃষ্টি কাহিনী
কাল সারারাত বৃষ্টি পরেছে। প্রায় ভোর রাত পর্যন্তই টালির ছাদে বৃষ্টির শব্দ শুনেছি। অনেকটা বিখ্যাত টিনের চালের শব্দের মতই। দেশের কথা মনে পরছিল। বৃষ্টিতে না ভিজলে আম্মা খুবই বিরক্ত হতো। বলত, এটা কেমন মেয়ে? বেরসিক। তোর বোনদের দেখে শেখা উচিত। বাঙ্গালী হয়ে বৃষ্টিতে ভিজবি না?