ইউজার লগইন
ব্লগ
ফরম্যাট মামুন
স্লিপিং স্লিপিং ফরম্যাট ভাই
অফিসে এলে ভুলে যাই
নতুন বছরে ফরম্যাট নাই
কোথায় গেলে বল তা পাই।
তুমি ফরম্যাট জানে সবাই
তাইতো তোমার তুলনা নাই
ফরম্যাট ফরম্যাটে কাটে বেলা
কাজে তোমার নেই তো হেলা।
স্লিপিং স্লিপিং থাকো তুমি
কাজে তোমার ভিন্ন জমি
ক্যানভাসে তুমি আঁক ছবি
ফরম্যাট খেলা তোমারি হবি।
‘M’-ফর মামুন এটাই জানি
‘F’-ফর ফরম্যাট তাও মানি
তোমার ভাষা বোঝাই কঠিন
সব কিছুতেই সবুজ জমিন।
০২.০১.২০১৪
বিষণ্ণ হাহাকার

অসীম শূণ্যতায় নীরব অন্ধকারের দিকে তাকায়
ওখানে তো কোন আলো নেই!
কুয়াশা আঁধারে ঢেকে থাকে সতেজতা।
দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে ফিরে আসে
বিষণ্ণ হাহাকার।
পেজো তুলোর মত মেঘের আড়ালে
ভেসে বেড়ায় নীলাভ চাঁদ,
মাঝরাতে জ্যোৎস্না বৃষ্টিতে স্নাত হওয়া হয়না আর,
কবিতা লেখার চেষ্টাগুলো বিফলে যায়,
জট পাকানো শব্দমালা হারিয়ে যায়
নিঃসীম সময়ের গহ্বরে।
অশুদ্ধ সময় পরিহাস করে
অক্ষমতাকেই বার বার মনে করিয়ে দেয়,
নষ্ট সময়ে পিষ্ট হয়ে
গিনিপিগের মত বেঁচে থাকা
বাড়িয়ে দেয় আগুন হৃদয়ের উত্তাপ।
চাতকীর চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন
সূতোকাটা ঘুড়ির মতই হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়
অপ্রাকৃত সুন্দরের সন্ধানে হাত বাড়ায়,
মনে মনে ভাবে-
একদিন চলে যাব বহুদূরে, নিরুদ্দেশের পথে।
ছুটে চলা জীবনের এক ফাঁকে
ক্লান্ত পথিক এসে দাঁড়ায়
পথের শেষে; অবশেষে বুঝে নেয়-
এরা ভুল করেই সবকিছু চায়
ভুলে যায় এরা ভুল সময়ের মানুষ!
ইতিহাসে প্রহসনের বিচার (১) - সক্রেটিস ।
খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ সালের দিকে সক্রেটিসের জন্ম, তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক। এই মহান দার্শনিকের সম্পর্কে তথ্য লিখিতভাবে পাওয়া যায় কেবল মাত্র তাঁর শিষ্য প্লেটো এর রচনা থেকে। তৎকালীন শাসকদের কোপানলে পড়ে তাঁকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তাকে পশ্চিমা দর্শনের ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। সক্রেটিস ছিলেন এক মহান সাধারণ শিক্ষক, যিনি কেবল শিষ্য গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে বিশ্বাসী ছিলেননা। তার কোন নির্দিষ্ট শিক্ষায়তন ছিলনা। যেখানেই যাকে পেতেন তাকেই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন।
অনেকের ব্যক্তিগত ক্রোধ ছিল সক্রেটিসের উপর। অনেকের জ্ঞানের অহংকার সক্রেটিসের কাছে চুর্ন হয়েছিল। সক্রেটিস প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করতেন
আমার কোন জ্ঞান নেই।--কিছুই না' আমি এই মাত্র জানি
২০১৪
২০১৩ চলে যাচ্ছে জীবন থেকে। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব কষবো না। আমি তো আর একাউন্টেন্ট নই, যে লেজার মেলাবো! তবুও কিছু কথা না বললেই নয়।
শুরু করেছিলাম এক নতুন উদ্দীপনা নিয়ে। চেয়েছিলাম নিজেকে প্রমান করতে। হয়তো পেরেছি হয়তোবা পারিনি। সেসব নিয়ে ভাবা এখন অরণ্যে রোদন বই কিছু নয়। আমার তো আর টাইম ম্যাশিন নেই, যে ফিরে গিয়ে পূর্ণতা নিয়ে আসবো!!!!
একজনকে ধন্যবাদ জীবনের সবথেকে দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য। কিন্তু মানুষ স্বার্থপর প্রাণী তাই হয়তো সুখের অসুখে ভোগে!!!
অনেকগুলা আপনজন পেয়েছি। যারা হাজারো পাগলামী সহ্য করে পাশে বসে থাকে। কষ্ট পেতে দেয় না। হয়তো ভালোবাসে বলেই শত -সহস্র স্বেচ্ছাচারীতা সহ্য করে। এদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করার সামর্থ্য আমার নেই।
মিস করি খুবই কাছের একজন মানুষকে যে সর্বদা থাকতো ছায়া হয়ে আমার পাশে। বেদনার তুমুল আঘাত যে কক্ষনো আসতে দেয়নি কাছে। হয়তো সে আজ অনেক দূরে। তার সাথে আমার দিন রাতের সময়ের ব্যাবধান। তার জন্যই আসলে বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল কথাটাকে সত্য মনেহয়।
এই দিন আর রাত একটা ফাঁকা রাস্তার মত
বেশ কিছুদিন ধরে মনের ভিতরে ভাবনা জমে আছে। সেগুলোতে ধুলোও জমেছে বিস্তর। কাজে-অকাজে দিনটা কেটে যাবার পর রাত হলে হটাৎ করে ঠাণ্ডাটা যখন জেঁকে বসে তখন অলসতা আমাকে মেরে ফেলার উপক্রম করে। তার মধ্যে ইদানিং শৈত্যপ্রবাহ নামক শীতকালীন বাতাসটা রাতে-বিকেলে গায়ে লেগে হিম শিহরণ জাগাচ্ছে প্রায়ই।
সেই বাতাসে হেঁটে হেঁটে হলে ফিরি। পাশ দিয়ে রিক্সা চলে যায়, জামাকাপড়ে প্যাকেট হওয়া মানুষগুলো আমার গতিবিধি দেখে উদ্দেশ্যহীন মনে করে হয়ত। মাঝে মাঝে তাদের সাথে আমার দৃষ্টিবিনিময় হয়। তুষারের দেশে পথ পাড়ি দেবার সময় এক পথিক আরেক পথিকের সাথে হয়ত এভাবেই দৃষ্টিবিনিময় করে হয়ত।
জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য
গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে দেশ আজ চরম রাজনৈতিক সংকটে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি'র আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য জামায়াত-শিবিরের চোরাগুপ্তা হামলা, জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে কার্যতঃ দেশ অচল হয়ে পড়েছে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধানের জন্য সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দফায় দফায় সংলাপ হলেও কোন ইতিবাচক সমাধান বের হয়ে আসে নাই সরকারী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, ফলপ্রুশ সংলাপের জন্য বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ছাড়তে হবে অন্যদিকে বিএনপি'র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের শতর্ মানতে হবে মূলতঃ সরকারী দল ও বিরোধীদল উভয়ের দাবীই যৌক্তিক আমজনতার দাবীও তাই আমরা চাই নির্দলীয় ব্যক্তির অধীনে সাধারণ নির্বাচন হোক এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হোক সুতরাং জনগণের দাবীকে মূল্যায়ন করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন আমরা চাই আওয়ামীলীগ বিএনপি সবাই মিলে এই দুটি দাবী পূরণ করুন তবেই দেশে স্থায়ী শান্তি আসতে
অপরাজেয়
অপরাজেয়,
আকাশ পাতাল ভেবেও তোমার কোনো নাম ঠিক করতে পারি নি আজও।
সবচেয়ে সুন্দর, একটা মিঠে নাম দেব তোমাকে, কথা দিলাম।
কিন্তু যে নামেই তোমায় ডাকি না কেন,
আবলুশের দেরাজে আগলে রাখা আমার সব চিঠিতে
তোমার জন্য রইবে এই সম্বোধন- অপরাজেয়!
তুমি এসে আমার একরত্তি উঠোন জুড়ে ঘুরে বেড়াবে, শুনবে না কোনো বারণ,
শিশির ধোয়া ঘাসে পা ডুবিয়ে হেঁটে যাবে একাদশীর চাঁদ দেখতে,
তখনও একই নামে তোমায় ডেকে বলব- ‘আমায় সাথে নেবে না?’
আজকাল বড় ভয় হয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণের সাথে বারুদের আভাসটুকু পাবে বলে,
তুমি আসার আগেই হয়ত টুটে ফুটে যাবে অমল ধবল পালখানি।
তবু আঁকশি দিয়ে স্বপ্নগুলো হাতের মুঠোয় এনে রাখি, খসে পড়ার আগেই।
অপরাজেয়,
তোমার জন্য বিপ্লবের কুঁড়ি সামলে রেখেছি,
তুমি এলেই পাপড়ি মেলে আগুন রঙের সেই ফুল হেসে হবে কুটিকুটি।
যে যুদ্ধে পারি নি যেতে, যে যুদ্ধে গেছি হেরে, রয়ে গেছে যে যুদ্ধ অসমাপ্ত,
চোখ বুজে বলে দিতে পারি তুমি এলেই হবে শেষ তার,
কান পেতে শুনব জয়ঢাক, তোপধ্বনি বিজয়ের!
তাই এই রংচটা, ফিকে দিনগুলোতে প্রহর গুণে যাই, তোমার অঙ্কুর বয়ে চলি,
তুমি আসবে বলে বারুদের গন্ধ থাকি ভুলে।
সুন্দরবন ভ্রমন ২০১৩ (পর্ব ৩)
সুন্দরবনে ভ্রমন ঠিক যতটা এডভেঞ্চারের ততটাই প্রশান্তিময়। একদিকে শহরের ধূলায়ভরা, কালো ধোয়াঁতে ভারি বাতাসের মাঝ দিয়ে জীবনের নানান ব্যস্ততায় ছুটাছুটির পরিবর্তে কোলাহল বিহীন পাখির কুজনের মাঝ দিয়ে স্রোতের সাথে কলকলিয়ে চলা, সাথে রয়েছে সম্পূর্ন এক গা ছমছমে বন্য পরিবেশের মাঝে দিয়ে পরিভ্রমন যা কিনা সুবিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান হিংস্র বন্যপ্রানীতে পরিপূর্ন!
অযথা অ-চিঠি.. [হাবিজাবি!]
প্রিয়তমেসু,
কেমন আছো? ভালো নিশ্চয়ই?
আমার চিঠি পেয়েছিলে তো?
একদিন পাঠালাম ছোট্ট উড়োজাহাজ করে, তুমি যেমনটা বলেছিলে ঠিক তেমনই - আকাশের ঠিকানায়। আরেকদিন, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকাল পেরিয়ে ছিমছাম দুপুরের শেষে এসে - হঠাৎ বৃষ্টি হলো যে খুব? ওইদিন, কাগজের নৌকোয় আদর ভরে পাঠিয়েছিলাম। চিনতে পারো নি বুঝি? আমি ভেবেছিলাম চায়ের কাপের রিনিঝিনি টুংটাং শুনেই বুঝে নিবে - সে 'আমি'ই হবো। তাও পাছে আমায় চিনতে ভুল করো, হালকা আকাশি রঙএর রাংতা মোড়ানো পেজা তুলোর মত ভেজা মেঘ আর কিছু চেনা অচেনা প্রিয় সুরও পাঠালাম তোমায়। তবুও খুজে পেলে না তাতে আমায়?
নাকি, ছোট্ট চিঠি বলে রাগ করে উত্তরই দিলে না? কি করবো বলো, হয়তো হৃদযন্ত্রখানাই খুব ছোট আমার। আর তাতে যতটুকু ভালোবাসা ধরে, তাই লিখি তোমায়। এটুকুই সম্বল আমার।
তবে কি, জানো? আমার তোমাকে জানার প্রথম দিনগুলোর চিঠি ক'খানার উত্তর যে তুমি কখনই দাওনি, এই বিষাদ আমার কখনই হারাবে না। সেই সময়টুকুর স্মৃতির পাতায় পাতায় জড়ানো তীব্রতম ভালোবাসা সাক্ষি।
ধূসর গোধূলিঃ ২৪ - সমীকরণ...
আপন গৃহকোণে বন্দী থেকেও মুক্তি মেলে না প্রভার। যে কারণে ওর শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটলো, তাঁর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলো এখানেও। ক’দিন ধরে গিয়াস ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের দেখা গেল দীঘির পাড়ে ঘোরাঘুরি করতে। ওদের দৃষ্টি এই ছোট্ট কুটিরের দিকে। জীবিকার তাগিদে বিভাকে বের হতেই হয়। মা কাজে চলে গেলে একাকী ঘরে প্রবল ভয় ও উৎকণ্ঠা নিয়ে সময় কাটে প্রভার। ঘরের পাশের বাগানে শিয়ালের ডাক শুনে ছেলেবেলায় যেমন ভয় পেত, ঠিক তেমনি। মূল বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় এদিকটায় লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়না তেমন একটা, একমাত্র পারু’ই মাঝে মাঝে খোঁজ খবর নেয়।
-বিভা কি কামে গ্যাছে ? প্রভাকে জিজ্ঞেস করে পারু।
-হ খালা, হেই সক্কাল বেলা বাইর অইয়া গ্যাছে
-কি করবি, তোর মা কাম না করলে খাবি কি ?
-সবই বুঝি খালা, আমার একলা ঘরে ডর লাগে।
-ক্যান, ডর লাগে ক্যান ? ছোড বেলা থেইক্যাই তো তুই একলা থাহস!
-আইজ বিহানে মা কামে চইলা গ্যালে দেহি- ঐ ছ্যাড়াগুলান দিগির পাড়ে ঘোরাগুরি করতাছে।
জীবন থেকে নেয়া-২
আমার ছেলেবেলার টানা-হ্যাচড়াময় জীবনের সূচনা আগেই করেছি। অতএব এখন আবার বলার হয়তো প্রয়োজন পড়বে না। সূচনা না হয় না থাকুক। গল্পের বাকীটা তো আছেই।
আজকের গল্প আমার জীবনের সেই না খেয়ে থাকা অধ্যায়ের আরেকটি পর্ব নিয়ে।
আমি বড় হয়েছি আজিমপুর কলোনিতে। সরকারি জায়গায় আর কিছু না থাকুক- ব্যক্তিগত তোড়জোড় মানুষের সবসময় ছিল। সরকারি গাছ- নিজের গাছ বা সরকারি মাঠ নিজের বাগান বলে চালিয়ে দেওয়া বড়ই স্বাভাবিক বিষয় ছিল কলোনি বাসীর জন্য। এমনকি পুকুরগুলোতেও দিব্যি জাল ফেল মাছের চাষ চলতো। এখন চলে কি না জানি না। কারণ সেই মাঠ অনেকগুলোই ইমারতের নীচে চাপা পড়েছে আর পুকুরগুলো হারিয়ে গেছে আবাসনের ভীড়ে।
এখন যখন বিকেলে মাঝে মাঝে হাটঁতে যাই কলোনিতে সবকিছু অচেনা লাগে। কোন মানুষ চিনি না- নতুন ইমারতগুলোও অচেনা। চেনা শুধু সেই গাছ গুলো- আর ইমারত হবার অযোগ্য ছোট্ট মাঠগুলো।
তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে...
কাল লিখতে বসেছিলাম এই পোষ্ট, কিছুদুর লিখে মনে হলো বাদ দেই এরচেয়ে অনলাইনে ধুম থ্রি দেখা যায় কিনা খুঁজি, পেয়ে গেলাম এক আপুর মেয়ে ইউটিউবের বিকল্প ডেইলীমোশন নামে এক সাইটের কথা বলেছিল অনেক কাল আগে- সেখানেই। প্রিন্ট খারাপ না, কিন্তু খারাপ কাজ হলো যে লেখাটা আর লেখা হলো না। সিনেমাটা শেষ করলাম খারাপ না। হাজী আমির খানরে আমার ভালো লাগে, কিন্তু তার ধুম থ্রি খুব বেশী ভালো লাগে নাই। কারন হিসেবে বলছি জর্জ ক্লুনিকে দিয়ে যদি ফাস্ট সিক্স বা এমেরিকান পাই করানো হয় যেমন হবে তেমনই লাগলো। তাও আমির খান হাজী বলে কথা, সিনেমা ব্যাপক হিট, ব্যাবসা করে ডজন খানেকের উপরে রেকর্ড ব্রোক করছে, সব চাইতে বেশী অর্থ উপার্জনকারী মুভি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। একজন আমির খানের ফ্যান হিসেবে আমার সুখী হওয়া উচিত, কিন্তু আমার ওতো ভালো লাগছে না। সামনের বছর আমিরের আরেকটা ছবি আসবে রাজকুমার হিরানীর বানানো নাম 'পিকে'। সেইটা নিয়েই সামনে এ বিষয়ে আশায় বাঁধি বুক!
কিসের আকর্ষনে
দুবাই যাবার জন্য যখন টিকিট হাতে পেলাম, মনে হল যেন আকাশ থেকে পড়েছি। বাহরাইন যতবার আসা যাওয়া করেছি গালফ এয়ারই ব্যবহার করেছি। এমনকি প্রথমবার বোয়েসেল থেকে টিকিট কেটে দিয়েছিল যার ব্যয় কোম্পানি বহন করেছিল তাও গালফ এয়ার ছিল। এবারও ভেবেছিলেম তাই হবে এমনকি আমি বলেওছিলাম গালফ এয়ারের কথা। গালফ এয়ার সরাসরি ঢাকা হতে দুবাই যায়। তাই অন্যান্য জিনিসের সাথে হারমোনিয়ামটাও সাথে নিলাম। নিঃসঙ্গ প্রবাসে এটা যে কত বড় বন্ধু তার ব্যবহার যারা জানেন ও প্রবাসী তারাই শুধু অনুধাবন করতে পারেন। এবার যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে টিকিট পেলাম জি,এম,জি ইয়ার লাইন্সয়ের। ঢাকা টু কলকাতা কলকাতা টু দুবাই। আদম বেপারীর অফিসে বহু চিল্লাচিল্লি করেও যখন কোন লাভ হল না তখন বাধ্য হয়েই এয়ার পোর্টের দিকে রওনা হলাম। তখন বাড়ীর সবার কথা মনে পড়তে লাগল। স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সকলের নিষেধ অমান্য করেই এবারের প্রবাস যাত্রা। কি করব দীর্ঘ দিন প্রবাসে থেকে দেশের কর্ম পরিবেশে নিজেকে কিছুতেই মানাতে পারছিলেম না। যাদের প্রবাসে থাকার অভ্যাস আছে তারা হয়ত বিষয়টা বুজতে পারবেন।
উনারা
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
আমরা সবাই খাচায় থাকি বসে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
উন্নয়নের গাল দিয়ে যাই কষে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
চোখ বুজে নেই, উধাও দেখার জ্বালা,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ঠোট চেপে দেই মুখের মুখর তালা,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
কান ছেড়ে দেই, নিক না দু'খান চিলে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
নর্দমাতে জল খাবে সব মিলে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
মানবদুখে কপোল যাবে ভেসে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
হেচকি গিলে শেষ হবে সব হেসে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ঝুলবে মুখে বিজ্ঞাপনের হাসি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ইদুর হবে সিংঘমামার মাসি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
পুতুল শত নাচবে পথের ধারে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
রদ্দা এসে পড়বে ঘাড়ে ঘাড়ে,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ফুটবে মুখে কাকাতুয়ার বুলি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
পথের কাকড় পাল্টে হবে ধুলি,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
ফেলব জাল আর নিজেই দেব ধরা,
ঐ উনাদের ইচ্ছে হলেই হল
আমার তোমার এইটুকুনই করা!!
(অনিচ্ছাকৃত কিছু বানান ভুল রয়ে গেল, কোনভাবেই ঠিক করা যাচ্ছে, প্রথম সুযোগেই ঠিকঠাক করে দেবার প্রতিশ্রুতি রইল)
সুন্দরবন ভ্রমন ২০১৩ (পর্ব ২)
বাংলাদেশের দক্ষিনপ্রান্ত থেকে ভারত পর্যন্ত চলে যাওয়া বিস্তীর্ন সুন্দরবনের বেশিরভাগই ম্যানগ্রোভ বন দ্বারাই পরিপূর্ন। পঞ্চাশ প্রজাতির ম্যানগ্রোভের মাঝে সাতাশ প্রজাতির দেখা মেলে সুন্দরবনে। জীববৈচিত্রের অপার সম্ভার এই বনকে ইউনেস্কো ১৯৮৭ সালে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছে। অতুলনীয় সৌন্দর্য্যময় ল্যান্ডস্কেপ ছাড়াও এখানে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রানীর সমাগম। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নানান প্রজাতির হরিণ, কুমির, বানর, সাপ এবং প্রায় দু’আড়াই’শ প্রজাতির পাখি দেখার আশায় সুন্দরবন ভ্রমনে আসেন।