ইউজার লগইন
ব্লগ
জেনেও করি, না জেনেও করি-পাপ
আমার থাকতে জনম পাপের
আঁধার ঘুচবে কি মনে
জেনেও করি, না জেনেও করি
পাপ...
করি ক্ষনে ক্ষনে।।
তোমার নিয়ামত ভোগ করি খোদা
সকাল দুপুর রাতে,
তোমার সৃষ্টি দেখে নয়ন জুড়াই
সন্ধা সুপ্রভাতে।
তবু শোকর করি না আমি-২
ভাবি না তো খোদা , এসবি তোমার দানে।
জেনেও করি,না জেনেও করি
পাপ...
করি ক্ষনে ক্ষনে।।
তোমার হুকুম তরফ করি সদা সর্বদা।
তবু তোমার করুণা দিয়া
বাঁচাও হে খোদা।
বিনে পয়সায়,বিনা মুল্যে দিলে,
বাতাস পানি নিদ্রা সর্বজনে।
জেনেও করি না জেনেও করি
পাপ...
করি ক্ষনে ক্ষনে।।
ধূসর গোধূলিঃ স্বপ্ন ডানায় চড়ে
পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল অয়নের। আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে পড়ল ও। ঘরের বাইরে এসে দেখে সূর্য ওঠেনি তখনো। খাবারঘর থেকে বাবা মার কথা ভেসে আসছে। ছোটদি’র ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো তখনো ঘুমিয়ে আছে বকুল। ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে নেমে এলো ও। সারারাত বৃষ্টি হওয়ায় উঠানটা কাদা জমে কেমন স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। কাদা এড়িয়ে ঘাসের উপর দিয়ে ঘরের পাশের ছোট ফলের বাগানে চলে আসলো অয়ন। ছোট্ট বাগানটায় বেশকিছু ভাল জাতের ফলের গাছ লাগিয়েছে সাত্তার মাষ্টার। মন্টু গাছগুলোর বেশ যত্ন নেয়, তাইতো বাগানটা সবসময়ই বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। বাগানটি শেষ হলেই বাড়ির পশ্চিমদিকের একেবারে শেষ প্রান্তে বেশ বয়সী একটি হিজল গাছ আর বড় একটি বাঁশের ঝাড়। সকাল আর সন্ধ্যায় এখানে প্রচুর পাখি এসে ভিড় করে। ওদের কিচিরমিচির শব্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে তখন। অয়নের ভীষণ ভাললাগে পাখিদের এই মিলন মেলা। প্রতিদিন সকালে এই পাখি ডাকার শব্দেই ওর ঘুম ভাঙ্গে। অয়ন বাগানের মাঝখানে আতা গাছটার নীচে এসে দাঁড়াল। গত পরশু নতুন ফোটা পাখির বাচ্চাগুলো খাবারের জন্য কেমন শব্দ করে ডাকছে। দুটো বাচ্চা ফুটেছে, কি সুন্দর!
একজন ফরহাদ মজহার এবং অনৈসলামিক রাজনীতি - দুই
স্বয়ং বুদ্ধিবৃত্তিক রাজাকার ফরহাদ মজহার
মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদের ভূমিকা
একাত্তর বা মুক্তি সংগ্রামে বাঙালিদের অংশ গ্রহণের পাশা-পাশি এদেশের আদিবাসীরাও অংশগ্রহণ করে। এদেশে পঁয়তাল্লিশটি আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। অত্যাচার-নির্যাতনের দিক থেকেও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা কোন অংশে কম ছিল না। কিন্তু রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে আদিবাসীদের অবদান সবসময় অবহেলিত। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে আদিবাসী নারী-পুরুষ প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিসংগ্রামে অংশ নেয়। কিন্তু পরিতাপের বিয়ষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আদিবাসীদের অবদান সে রূপভাবে স্থান পায় নি। এতো বছরেও সম্মান মেলে নি সেই সব লড়াকু সৈনিকদের।
ইউনূসের ওপর সুদখোর মহাজনদের অভিশাপ (পর্ব-১)
প্রতিবেশী দেশ ভারতের অমর্ত্য সেনও নোবেল পেয়েছিলেন। কিন্তু তার নোবেল পাওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি।
কিন্তু ড. ইউনূস নোবেল পাওয়ার পর দেশে আনন্দের জোয়ার বয়ে গেলেও বিভিন্ন সময়ে নানা কারনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন তিনি। ইদানিং আওয়ামী লীগ সরকারও ইউনূসের ওপর সদয় নয় ।
(আওয়ামী লীগ যে উদ্দেশ্যেই বিরোধীতা করুক না কেন সেটা আমার এ লেখার মূখ্য বিষয় নয়)।
আমাদের ফালতু রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারনে বিএনপি ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিলেও এ ব্যাপারে ব্যপক জনমত গড়ে উঠে নি। ইউনূসের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। কিছুদিন আগে নোরাডের তহবিল অপসারণের খবর প্রকাশের পর বিতর্কের ঝড় ওঠে। ড. ইউনূস আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে স্বীকার করেন, কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই তিনি ওই তহবিল অন্য স্থানে অপসারণ করেন। কর ফাঁকি দেওয়ার এ উদ্দেশ্যে তাঁর ধূর্ত ব্যবসায়ীক মানসিকতারই ইঙ্গিত বহন করে।
একজন পতিতা ও কিছু কথা
কয়েকদিন আগে মাদারীপুরের পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করা হয়েছে এলাকাকে পাপ কাজ থেকে উদ্ধার করতে এবং সমাজকে কলুষমুক্ত রাখতে! বেশ ক'বছর আগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার থেকেও এভাবেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল যৌনকর্মীদের এবং তারপরের ঘটনা আমরা সবাই জানি! এসব যৌনকর্মী ছড়িয়ে পড়েছিল রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে হোটেল এবং বস্তিতেও। একটা এলাকাকে পাপমুক্ত করতে গিয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল! আমি কোনোভাবেই এই পেশার পক্ষে নই; কিন্তু সমাজের সুধীজনদের একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি, একটা মেয়ে কতটুকু বিপদে পড়লে বা কোন অবস্থায় নিজেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত করে বা আদৌ তারা নিজেরা স্বেচ্ছায় এ পেশায় যুক্ত হয় কি-না? আমরা যতদিন পর্যন্ত এসব হতভাগা মেয়ের জীবিকা নির্বাহে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে পারব না, রাষ্ট্র এবং সমাজ না করবে, ততদিন পর্যন্ত কোনোভাবেই এ পেশাকে নির্মূল করা সম্ভব কি? যদি তা না হয় তাহলে ২-১টি পল্লী উচ্ছেদ করে এসব মেয়েকে ভাসমান করে পুরো সমাজটাই কি পতিতাপল্লী হয়ে উঠবে না?
যেসব সুধীজন এই অসাধারণ সমাজকল্যাণমূলক ভালো কাজটি করে বাহবা কুঁড়িয়েছেন তাদের কাছে আমার সবিনয়ে কিছু প্রশ্ন_
সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান দেখবার জন্য খানিক সময় ব্যয় করি, আসুন ।
স্টার জলসা, জি সিনেমার ডেইলি সোপ দেখার সময় থেকে খানিক সময় দেই, আসুন । লেহেঙ্গা, সানি লিওনের হাল ফ্যাশনে নিজেকে আবৃত্ত করতে করতে এক নজর চোখ বুলিয়ে নিন । কারণ, আজ আমাদের বিশেষ দিন । বিশেষ দুঃখের দিন । স্টার জলসা, জি সিনেমার কূটনামী সিরিয়াল, লেহেঙ্গা-সানি লিওনের আধুনিক ফ্যাশনের নির্মাতা দেশটি আজ নাঙ্গা হয়েছে । উৎকট নগ্ন শরীরটি দেখিয়েছে । ফেলানীর হত্যাকারীকে তারা বেকসুর খালাস দিয়েছে ।
এইবার পরিসংখ্যান, সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি
সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, হত্যা করছে । গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর সীমান্তে মিজানুর রহমানের চোখ উপড়ে হত্যা করে- যা পৃথিবীর জঘন্য ও ঘৃণ্য হত্যার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে, সীমান্তে মানুষ পরিবার নিয়ে নিরাপদ মনে করছে না। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি সীমান্তে বিনা উস্কানিতে এক বাংলাদেশীকে যে ভাবে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে, ভারতীয় টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হতবাক হয়েছে সারা বিশ্ব। সভ্য সমাজের মানবতা যেন ভূলুণ্ঠিত হয়।
ভাত, ভোট,স্বপ্ন আর গ'তন্ত্র
কল্পলোকের গল্প বলে নেতা দেখায় স্বপ্ন,
ঠা ঠা রোদে চর্ম পুড়ে গিলে নিরন্ন ।
নেতার গলায় মধুর হাঁড়ি,
কানে লাগে মিষ্টি ভারি,
গল্প গিলে অল্প হলেও ভরত যদি পেঠ,
কেইবা অমন খুন বহাতো পোড়া পেটের জন্য !
নেতা-নেতী ভাতের-ভোটের স্বপ্ন ফেরি করে,
(তবু) হা'ভাতেরা হাজার বছর পড়ে থাকে হা করে,
দুগ্ধ-মাখন,হালুয়া-রুটি,
নিজেরা খান লুঠিপুটি,
গলায় তৃপ্তির ঢেকুর তুলে দেন ঊপদেশ সংযমের,
এমন শালার নেড়ির বাচ্চার নেতৃত্ব আজ দেশ জুড়ে ।
চুপি চুপি 'কারচুপি' সব দলে চায় হোক ভোটে,
নিজেরা জিতলে শ'ভাগ সঠিক ! অন্যের বেলায় বটে,
গদি থাকলে হারাম যা যা,
গদি গেলে হালাল সব,
গোদের উপর বিষফোঁড়া 'হর ---' গণের মাথায় 'তাল' পড়ে,
পঁচা ডিমে তা দিয়েও 'গ'তন্ত্রের ছা' ফোটে !
এলোমেলো নদী
মেঘনাতে আমি দিনক্ষণ ঠিক করে যাইনি আর। হঠাৎ মনে হয়েছে দৌড় দিয়েছি। স্প্যানিশ গীটার প্রথম হাতে খড়ি আমার বন্ধু সোহাগের কাছে। সেই উপলক্ষে কোনদিন সকালে তো কোনদিন বিকালে আমরা এক এক জায়গায় বসতাম। এক সকালে সোহাগ এলো দোস্ত লিপুকে নিয়ে। আমরা আইয়ূব বাচ্চুর Ôসেই তুমি বাজাচ্ছি নিষ্ঠার সাথে। লিপু বলে উঠলো ওর না কি অসহ্য লাগছে। সোহাগের মনে তখন কোনভাবেই জাকিয়াকে পটাতে না পারার কষ্ট আর আমার মনে তো ব্যথার স্থায়ী বসতবাড়ী। তিনজনে ভর দুপুর বেলা গুলিস্তান গিয়ে হাজির। মেঘনার পারে গিয়ে দেখি পূজার মৌসুম শেষ করে শত শত বউ ঝি লঞ্চে করে এসে পাড়ে নামছে। আমাদের ঘণ্টার নৌকা পাওয়া দুষ্কর। হুন্ডাই সিমেন্টের কারখানা হব হব। নদীর এপাড়ে বাঁধা ওপাড়ে বাঁধা। টিকটিক করে চলা একটা মুদির দোকানে বসে চা আর নাবিস্কো বিস্কুট খেলাম। তারপর বসলাম গিয়ে ব্রীজের নীচে। চুপচাপ বসে থেকে, পানির দিকে তাকিয়ে একদম চুপ করে বাসে করে ঢাকা চলে এলাম। সেদিন কেন আমরা এত নীরব ছিলাম তিনজনের কেউ সোহাগের মৃত্যুর আগেও না পরেও না জানতে পারিনি।
বৃষ্টিদিনের প্রেমিক
ট্রেন স্টেশনে বসে আছি, পাশে ইতালী থেকে আগত নাজমুল ভাই। বয়স ৩৮ এর ওপরে, স্টকহোমে এসেছেন তিনদিন। গত পরশু দেখা হয়েছিলো তার সাথে আমার ঠিক এখানেই। থাকার জায়গা পাচ্ছিলেন না, আমাকে দেখে কেতা ঠিক রাখতে ইংলিশ ইতালিয়ান মিশিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।
একটু আগে আমাকে বললো,"আপনাকে দেখে মনে করেছিলাম আপনার জন্ম সুইডেনে। আপনার বাংলা কথা বলার টোন, চুলের স্টাইল দেখে মনেই হয় না আপনি কেস (এসাইলাম) মারছেন। দেশে কি মডেলিং করতেন?"
আমি এর কোনো উত্তর দেইনি। আমি অপেক্ষা করছিলাম ট্রেনের জন্য। গতকাল রাতে একটা আইফোন উপহার পেয়েছি সোনিয়ার কাছ থেকে। তারপরই ওর সাথে আমার একটা কঠিন ঝগড়া হয়। আমি ওর রুম থেকে বেরিয়ে যাই, বলা যায় এক কথায় আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। যাই হোক, সেটা অন্য একদিন লিখব ক্ষন।
ট্রেন স্টেশনে বসে বসে আইফোনে সিম গুজেই দেখি সব কিছু সেট করা, নিজের নামে আপেল আইডি, বিভিন্ন ভাষার গান আর ওয়াল পেপারে সোনিয়ার ছবি। যদিও ছবিতে জামা কাপড় একটু কম.....আই ফোন ৪এস।
টাবিথাকে ফোন দিলাম:
: হ্যালো টাবিথা?
: কে?
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১৩)
জোয়ান বায়েজ

একাত্তর অনেককেই আলোড়িত করেছে। তৃতীয় বিশ্বের ছোট্ট একটি ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া শতাব্দীর অন্যতম নারকীয় তান্ডব অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছিল সেই সময়ে। সেই ভাবনাগুলোকে কেউ কেউ ফুটিয়ে তুলেছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়, তুলে ধরেছেন বিশ্ব দরবারে। তেমনই একজন মানুষ বিখ্যাত মার্কিন ফোক গায়িকা এবং সমাজকর্মী জোয়ান বায়েজ। জন্ম ৯ই জানুয়ারী ১৯৪১ নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে। তিনি সংগীত জীবন শুরু করেন বোস্টন এবং ক্যামব্রিজের কফিহাউজগুলোতে গান গেয়ে, ১৯৫৯ সালে নিউপোর্ট ফোক উৎসবে অংশগ্রহণ করে খ্যাতি লাভ করেন।
উনিশ শ একাত্তর, তখন তাঁর বয়স ত্রিশ ছুঁয়েছে মাত্র। গীটার হাতে মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র আর ভরিয়ে তুলছেন তাঁর ভক্তদের মন। এ রকম একটি সময়ে তিনি তিনি জানতে পারেন আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া গনহত্যার খবর। মানবতার জন্য কেঁদে উঠলো তাঁর মন, তিনি এক অসামান্য গান গান বাধলেন বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে।
আমি কি আমার উপর অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালন করব।
আজ ১ সেম্পেম্বর।গত ২০ আগষ্টের পর থেকে আমার সকল বন্ধুদের থেকে একেবারে বিছিন্ন। এটা যে কত পীড়াদায়ক তা আমি ও আমার সৃষ্টি কর্তা ছাড়া কাউকে বুঝাতে পারব না। বিভিন্ন ব্লগে যখন আমি আমার বন্ধুদের লেখায় উপস্থিতি দেখি আমার তখন নিজেকে অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকা রুগির মত মনে হয়। আমার যতদুর মনে পড়ে আল্ কোরআনের কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম (ভুল হলে আল্লাহ্ মাফ করো), আমি মানুষকে অত্যন্ত ত্বরা করে সৃষ্টি করেছি। আমার মনে হয় আমার মধ্যে এ বদগুনটা অনেক বেশি। আমার মস্তিস্ক অনেক বেশি অস্থির। একে তো অস্থির মস্তিকের তদুপরি আজ আমার নিজকে অনেক বেশী অর্থ লোভী একজন মানুষ মনে হয়। যে অর্থ লোভী মানুষকে আমি অন্য নজরে দেখতাম, আজ আমি নিজেই তা। তাই তো আমি আমার প্রিয় বন্ধুদের হারাতে বসেছি।
মাস চারেক আগে আমার এক কলিগ বলল, স্যার আজ ভাল একটা চাকরির বিজ্ঞাপন আছে। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন। উনি নিজেই বিডি জব্স এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনটি দেখাল। আমি নামীদামি কোম্পানির আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দেখে, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তির লোভ সংবরণ করতে না পেরে তখনই মেইলে জীবন বৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলাম।
গল্প: রাতের খুশি খুশি ভাবের নেপথ্যে একটা কারণ ছিলো
‘স্মোকিং ইজ স্ট্রিক্টলি রেস্ট্রিক্টেড ইন দি অফিস এরিয়া’ ঘাড়ের ওপরেই কথাটা লেখা ছিলো। এরিয়াল ফন্টে এবং অন্তত ৭২ পয়েন্ট সাইজে। বোল্ডও করা ছিলো কথাটা। তার নিচে দাঁড়িয়েই সিগারেট টানছিলাম। সাধারণত আমি অফিসের আওতাভুক্ত এলাকায় এভাবে ধূমপান করি না। যদিও অফিসের অনেককেই আমি ওই নোটিশটার নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে এবং খেতে খেতে ওই নোটিশটা নিয়েই হাসাহাসি করতে দেখেছি।
অফিস থেকে একটু দূরেই চা-সিগারেটের দোকান। সেখানে দুই টাকা, এক টাকা দামের বিস্কুটও পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামে গরুকে যেসব কলা খাওয়াতো, সেসব কলাও পাওয়া যায়। চা পানের জন্য হোক, সিগারেট টানার জন্য হোক বা ক্ষুধায় যখন মাথা ভনভন করে তখন কষ্ট কমানোর জন্যই হোক; আমি ওই দোকানটায় চলে যাই।
এক গুচ্ছ ড্রোন!
আজকের আকাশে এক গুচ্ছ রোদ ছিলো। সে রোদে ছোট ছোট শিশুরা লাল ক্যাপ পড়ে ঘুরতে চেয়েছিলো। হাতে পপসিকলস নিয়ে ষোড়শী লাল ফ্রক বাতাসে হেলিয়ে দুলিয়ে স্কুল থেকে ফিরবে। জানালার সাড়শী খুলে পাশের বাড়ির সোনালী চুলো উষ্কখুষ্ক ছেলেটার সাথে কথা বলার বাহানা খুজবে।
অথচ পুরোটা রাস্তা জ্যামে আটকে গেলো। ট্রেন গুলো অথর্বের মতো বসে বসে প্রমাদ গুনছে ট্রাফিক পায়নি বলে। বাসগুলো বেরোয়নি বেশী ডিপো থেকে। অফিস আদালত তবুও থুবড়ে পড়বে না, কেননা সরকার অচল হয়ে পড়বে ওবামার আগমনে।
হ্যা, আজকে স্টক হোমে ওবামা এসেছেন। তার মুখে চকচকে আমেরিকান হাসি। সুইডিশরা এই এক জায়গাতেই দুর্বল যেমনটা দুর্বল মিশরীয় সোনিয়া তার বয়ফ্রেন্ডের প্রতি।
: তুমি নাকি রুম ছেড়ে দিয়েছো?
: হ্যা। আমাকে ইমিগ্রেশন থেকে স্টুভসটা পাঠিয়ে দিয়েছে। ওখানে একটা ক্যাম্প আছে।
: ওসব ছাইপাশ খাও কিভাবে?
: ক্ষুধা পেটে সুইডেনের পুরো জঙ্গল আমার কাছে সব্জী বাগান মনে হয়।
: তুমি আমার রুমে উঠে পড়ো তাহলে!
: তোমার বয়ফ্রেন্ড আসলে কোথায় থাকবো?
: জানি না। তবে তুমি উঠে পড়ো। অনেক মজা হবে।