ইউজার লগইন
ব্লগ
বৃষ্টিদিনের প্রেমিক
ট্রেন স্টেশনে বসে আছি, পাশে ইতালী থেকে আগত নাজমুল ভাই। বয়স ৩৮ এর ওপরে, স্টকহোমে এসেছেন তিনদিন। গত পরশু দেখা হয়েছিলো তার সাথে আমার ঠিক এখানেই। থাকার জায়গা পাচ্ছিলেন না, আমাকে দেখে কেতা ঠিক রাখতে ইংলিশ ইতালিয়ান মিশিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।
একটু আগে আমাকে বললো,"আপনাকে দেখে মনে করেছিলাম আপনার জন্ম সুইডেনে। আপনার বাংলা কথা বলার টোন, চুলের স্টাইল দেখে মনেই হয় না আপনি কেস (এসাইলাম) মারছেন। দেশে কি মডেলিং করতেন?"
আমি এর কোনো উত্তর দেইনি। আমি অপেক্ষা করছিলাম ট্রেনের জন্য। গতকাল রাতে একটা আইফোন উপহার পেয়েছি সোনিয়ার কাছ থেকে। তারপরই ওর সাথে আমার একটা কঠিন ঝগড়া হয়। আমি ওর রুম থেকে বেরিয়ে যাই, বলা যায় এক কথায় আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। যাই হোক, সেটা অন্য একদিন লিখব ক্ষন।
ট্রেন স্টেশনে বসে বসে আইফোনে সিম গুজেই দেখি সব কিছু সেট করা, নিজের নামে আপেল আইডি, বিভিন্ন ভাষার গান আর ওয়াল পেপারে সোনিয়ার ছবি। যদিও ছবিতে জামা কাপড় একটু কম.....আই ফোন ৪এস।
টাবিথাকে ফোন দিলাম:
: হ্যালো টাবিথা?
: কে?
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১৩)
জোয়ান বায়েজ

একাত্তর অনেককেই আলোড়িত করেছে। তৃতীয় বিশ্বের ছোট্ট একটি ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া শতাব্দীর অন্যতম নারকীয় তান্ডব অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছিল সেই সময়ে। সেই ভাবনাগুলোকে কেউ কেউ ফুটিয়ে তুলেছেন নিজস্ব ভঙ্গিমায়, তুলে ধরেছেন বিশ্ব দরবারে। তেমনই একজন মানুষ বিখ্যাত মার্কিন ফোক গায়িকা এবং সমাজকর্মী জোয়ান বায়েজ। জন্ম ৯ই জানুয়ারী ১৯৪১ নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে। তিনি সংগীত জীবন শুরু করেন বোস্টন এবং ক্যামব্রিজের কফিহাউজগুলোতে গান গেয়ে, ১৯৫৯ সালে নিউপোর্ট ফোক উৎসবে অংশগ্রহণ করে খ্যাতি লাভ করেন।
উনিশ শ একাত্তর, তখন তাঁর বয়স ত্রিশ ছুঁয়েছে মাত্র। গীটার হাতে মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র আর ভরিয়ে তুলছেন তাঁর ভক্তদের মন। এ রকম একটি সময়ে তিনি তিনি জানতে পারেন আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া গনহত্যার খবর। মানবতার জন্য কেঁদে উঠলো তাঁর মন, তিনি এক অসামান্য গান গান বাধলেন বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে।
আমি কি আমার উপর অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালন করব।
আজ ১ সেম্পেম্বর।গত ২০ আগষ্টের পর থেকে আমার সকল বন্ধুদের থেকে একেবারে বিছিন্ন। এটা যে কত পীড়াদায়ক তা আমি ও আমার সৃষ্টি কর্তা ছাড়া কাউকে বুঝাতে পারব না। বিভিন্ন ব্লগে যখন আমি আমার বন্ধুদের লেখায় উপস্থিতি দেখি আমার তখন নিজেকে অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকা রুগির মত মনে হয়। আমার যতদুর মনে পড়ে আল্ কোরআনের কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম (ভুল হলে আল্লাহ্ মাফ করো), আমি মানুষকে অত্যন্ত ত্বরা করে সৃষ্টি করেছি। আমার মনে হয় আমার মধ্যে এ বদগুনটা অনেক বেশি। আমার মস্তিস্ক অনেক বেশি অস্থির। একে তো অস্থির মস্তিকের তদুপরি আজ আমার নিজকে অনেক বেশী অর্থ লোভী একজন মানুষ মনে হয়। যে অর্থ লোভী মানুষকে আমি অন্য নজরে দেখতাম, আজ আমি নিজেই তা। তাই তো আমি আমার প্রিয় বন্ধুদের হারাতে বসেছি।
মাস চারেক আগে আমার এক কলিগ বলল, স্যার আজ ভাল একটা চাকরির বিজ্ঞাপন আছে। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন। উনি নিজেই বিডি জব্স এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনটি দেখাল। আমি নামীদামি কোম্পানির আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দেখে, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তির লোভ সংবরণ করতে না পেরে তখনই মেইলে জীবন বৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলাম।
গল্প: রাতের খুশি খুশি ভাবের নেপথ্যে একটা কারণ ছিলো
‘স্মোকিং ইজ স্ট্রিক্টলি রেস্ট্রিক্টেড ইন দি অফিস এরিয়া’ ঘাড়ের ওপরেই কথাটা লেখা ছিলো। এরিয়াল ফন্টে এবং অন্তত ৭২ পয়েন্ট সাইজে। বোল্ডও করা ছিলো কথাটা। তার নিচে দাঁড়িয়েই সিগারেট টানছিলাম। সাধারণত আমি অফিসের আওতাভুক্ত এলাকায় এভাবে ধূমপান করি না। যদিও অফিসের অনেককেই আমি ওই নোটিশটার নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে এবং খেতে খেতে ওই নোটিশটা নিয়েই হাসাহাসি করতে দেখেছি।
অফিস থেকে একটু দূরেই চা-সিগারেটের দোকান। সেখানে দুই টাকা, এক টাকা দামের বিস্কুটও পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামে গরুকে যেসব কলা খাওয়াতো, সেসব কলাও পাওয়া যায়। চা পানের জন্য হোক, সিগারেট টানার জন্য হোক বা ক্ষুধায় যখন মাথা ভনভন করে তখন কষ্ট কমানোর জন্যই হোক; আমি ওই দোকানটায় চলে যাই।
এক গুচ্ছ ড্রোন!
আজকের আকাশে এক গুচ্ছ রোদ ছিলো। সে রোদে ছোট ছোট শিশুরা লাল ক্যাপ পড়ে ঘুরতে চেয়েছিলো। হাতে পপসিকলস নিয়ে ষোড়শী লাল ফ্রক বাতাসে হেলিয়ে দুলিয়ে স্কুল থেকে ফিরবে। জানালার সাড়শী খুলে পাশের বাড়ির সোনালী চুলো উষ্কখুষ্ক ছেলেটার সাথে কথা বলার বাহানা খুজবে।
অথচ পুরোটা রাস্তা জ্যামে আটকে গেলো। ট্রেন গুলো অথর্বের মতো বসে বসে প্রমাদ গুনছে ট্রাফিক পায়নি বলে। বাসগুলো বেরোয়নি বেশী ডিপো থেকে। অফিস আদালত তবুও থুবড়ে পড়বে না, কেননা সরকার অচল হয়ে পড়বে ওবামার আগমনে।
হ্যা, আজকে স্টক হোমে ওবামা এসেছেন। তার মুখে চকচকে আমেরিকান হাসি। সুইডিশরা এই এক জায়গাতেই দুর্বল যেমনটা দুর্বল মিশরীয় সোনিয়া তার বয়ফ্রেন্ডের প্রতি।
: তুমি নাকি রুম ছেড়ে দিয়েছো?
: হ্যা। আমাকে ইমিগ্রেশন থেকে স্টুভসটা পাঠিয়ে দিয়েছে। ওখানে একটা ক্যাম্প আছে।
: ওসব ছাইপাশ খাও কিভাবে?
: ক্ষুধা পেটে সুইডেনের পুরো জঙ্গল আমার কাছে সব্জী বাগান মনে হয়।
: তুমি আমার রুমে উঠে পড়ো তাহলে!
: তোমার বয়ফ্রেন্ড আসলে কোথায় থাকবো?
: জানি না। তবে তুমি উঠে পড়ো। অনেক মজা হবে।
ঈদের ছবির নায়ক-নায়িকাদের সাথে গোল টেবিল বৈঠক
এবারের (২০১২) ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে ৮টি বাংলা সিনেমা। অনেক শীর্ষ তারকা এই ঈদে উপস্থিত ছিলেন না রূপালি পর্দায়―মৌসুমী, শাবনূর, রিয়াজ, পপি, পূর্ণিমা, আমিন খানদের নাম উল্লেখ করা যায়। ৮টি ছবির কলাকুশলীদের সাথে এক বিশেষ গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন শফিক হাসান
শফিক হাসান : মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে আমরা জেনে নিই এবারের ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো কী কী। ছবি মুক্তি পেয়েছে মোট ৮টি, এর মধ্যে শাকিব খানেরই ৪টি। শাকিব অভিনীত ছবিগুলোর নাম-এফআই মানিক পরিচালিত ‘মাই নেম ইজ সুলতান’, বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘ডন নাম্বার ওয়ান’, সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘সে আমার মন কেড়েছে’, সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘ঢাকার কিং’। অন্য ৪টি ছবি হচ্ছে―অনন্য মামুন পরিচালিত ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, আশরাফুর রহমান পরিচালিত ‘তুমি আসবে বলে’, বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘হঠাৎ সেদিন’, শাহজাহান চৌধুরী পরিচালিত সরকারি অনুদানের ছবি ‘আত্মদান’। ‘হঠাৎ সেদিন’ ও ‘আত্মদান’ ছবির বিশ্ব প্রদর্শনী হয়েছে চ্যানেল আইতে।
বিদেশী সাংবাদিকের প্রতি
আপনি বিদেশ থেকে এসেছেন ?
সাক্ষাতকার নেবেন জনৈক বিখ্যাত মানুষের ?
এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলবেন ?
ভুল হয়ে গেছে আপনার !
আমাদের যুদ্ধ যদি কারো জানা থাকে
তারা হলো-
এদেশের মাটি,
এদেশের নদী, খাল-বিল,
এদেশের সমগ্র নিসর্গ,
নদী মাঠ আর বন
এরাই দেখেছে সব নিজ চোখে
এরা আপনাকে দেবে সে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার খোঁজ
কিংবা পিতৃহীন ছেলেমেয়ে ঘেরা বিধবা রমনী
কান্না যার নিত্যসহচর
তাদের ঠিকানা
যাদের সন্তান কিংবা স্বামী
অথবা যাদের বাবা
রক্তাক্ত শরীরে আছে শুয়ে
আজো সেদিনের মতো সশস্ত্র উদ্যত হাতে
মাটি বুকে নিয়ে
অনন্ত সময় জোড়া
বিষন্ন নিদ্রায় বুঁদ
এখনো সময় আছে
তাদের কাছেই যান
স্বাধীনতা ওইখানে বাসা বেঁধে আছে।
ভ্রমণ: নোয়াকোট, ছাতক, সিলেট
বর্ষা... আবহমান বাংলার আরেক রূপ। বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দে, ঘন মেঘের ঘোর বরষায় বাঙালির মন উচাটন করে না এমন ঘটনা আসলেই বিরল। বৃষ্টির শব্দের মাঝে, বৃষ্টির ঘ্রাণের মাঝেই রয়েছে মাদকতা। বাঙালির জীবনে বর্ষার প্রভাব অনেক। আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে বর্ষা (জলিল ভাইয়ের বর্ষা না আবার
। আষাঢ়ে-শ্রাবণে ঘন ঘোর বরষায় বাঙালির মন উতলা হয়। মানুষের মন নেচে ওঠে। বিরহে কাতর হয়। কারণ বর্ষা এলেই আমাদের মনের মাঝে মেঘ গুড়গুড় করে ওঠে। আমাদের মনের সেই গুড়গুড় মেঘের কথাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন―
‘এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘন ঘোর বরিষায়।’
কখনো উদাস... কখনো আলেসেমি.. কখনোবা মুগ্ধতা... ভিন্ন ভিন্ন রূপে বর্ষার উপস্থিতি প্রতিয়মান বাঙলার ঘরে ঘরে... 'মানুষ কি জানে ক্যান মোচড়ায় মানুষের মন?' সৈয়দ শামসুল হকের এই প্রশ্নটার কি কোন উত্তর হয়?
ধূসর স্বপ্ন
বদলে যায় সবকিছুই
ঋতুবদলের খেলায়
প্রকৃতি বদলে যায়,
সবুজ ধুসর হয়
সময়ও বদলে যায়।
চাওয়া পাওয়ার দোলাচালে
সবচেয়ে বেশি বদলে যায়
মানুষ।
আলো আঁধারে অচেনা লাগে
চেনা মুখগুলো।
স্বার্থের কাছে ভালবাসা উবে যায়,
মানবতা বন্দী হয় লোহার শেকলে।
মন বদলে যায়,
ঝলমলে রোদ শেষে ঝড় ওঠে
বন্দী হয় বিবেক, স্খলিত স্বপ্ন।
প্রতিদিনের চালচিত্রে
যোগ হয় সংখ্যা, আর্তনাদের ধ্বনি!
অতীত খুঁড়ে পেছনে তাকাই
ওখানেও শূণ্য বুকের ক্ষত,
সময়ে শুকিয়ে যায়নি একটুও
বুকের ভিতর রক্ত আখরে লেখা
জমাট কান্নার ইতিহাস।
কেবল ব্যতিক্রম
রাস্তার তেমাথার ধারে
দাঁড়ানো ঐ পাগলটা।
জট পাকানো মাথা,
ধুলো মলিন কাপড়ে জড়ানো।
বোকার মত কেবলই হাসে
যেন কিছুতেই কিছু যায় আসেনা।
বদলে যাওয়া এই অস্থির সময়ের ভিড়ে
একমাত্র সুখী মানুষ!
ভিআইপি 'নেতা' বনাম যানজট
ঢাকার যাত্রীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন―যানজট আসলে কী, কোন কোন উপায়ে এটা পয়দা হয়। ব্যাপারটা অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে অনেকেরই। 
মাঝে-মধ্যে আমরা শরীরচর্চা+টাকা সেভ করার জন্য শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত হেঁটে যাই। বাসার উদ্দেশে কারওয়ান বাজার থেকে বাসে উঠি। গত রবিবারও যথারীতি যাচ্ছিলাম। শাহবাগের পরের ওভার ব্রিজটার মুখে পুলিশ মামা দাঁড়িয়ে, কাউকে উঠতে দিচ্ছেন না। অবাকই লাগলো, জায়গাটা হিজড়া এবং পতিতাদের দখলে থাকে এই সময়টায়, রাত ৮-৯টার পর থেকে। সেখানে আবার 'উপদ্রব' কেন...। বোঝার জন্য আশপাশে তাকালাম, অনেক পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার পাশে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাস্তা পুরো ফাঁকা। কোনো পথচারীকেই রাস্তার এই পাশ থেকে ওই পাশ, ওই পাশ থেকে এই পাশে আসতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ মামাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, কোনো এক ভিআইপি আসবেন, তাই এই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। 
যেদিকেই হাঁটি পুলিশ আর পুলিশ; কেউ কেউ কটমট করে তাকাতেও ভুলছেন না! একেই বলে বোধহয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা!
গল্প: যখন আরো কয়েকশ' বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে অকারণে
১.
কবি টং-এর ওপর বসেছিলাম অবন্তি আর আমি। সমুদ্রসৈকতের তিন থেকে চারশ' মিটারের ভেতরেই, তিনশ' ফুট উঁচুতে টং-খানি অবস্থিত। এই টং আসলে চায়ের দোকান নয়, বাঁশ দিয়ে বানানো মাচা- যার উপরে উঠতে পারলে অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখা যায়। তবে পড়ে গেলে কিংবা ঝড়ো বাতাসে উড়ে গেলে কি হবে সে সম্পর্কে চিন্তা না করাই ভাল। সেদিন সকাল থেকে সাগরে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। আর মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সাগরে যেতে নিষেধ করে উপকূলে থাকতে বলা হয়েছিল।
মৃদুমন্দ বাতাসে টংটা বিপজ্জনকভাবেই দুলছিলো, তবে সেদিকে আমাদের খুব বেশি ভ্রুক্ষেপ ছিল না। পরিবেশটা উপভোগ করতে ভাল লাগছিল অনেক বেশি। কবি টং-এর একপাশে নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড় আর অন্যপাশে বঙ্গোপসাগর। নিচে মেরিন ড্রাইভ। মেরিন ড্রাইভ আর আমাদের অবস্থানের ভেতর আর রয়েছে কেবল সারি সারি নারিকেল গাছের মাথা।
সাত রঙ যখন একত্রে মিশিলো অকারণে অকালে তার পরিলো ডাক...
উনিশ'শ একান্ন-বায়ান্ন সালের দিকে প্রায়ই এক দূর্ধর্ষ চেহারার তরুণ ও এক ছিপছিপে গড়নের কিশোরীকে দ্যাখা যেতো বড়ো সড়কের অদূরে কুঠিবাড়ি'র সিঁথানে শতাব্দী প্রাচীন কোন এক বট অথবা পাকুড় গাছের নিচে। তরুণের হাতে হয়তো দেবীনগর বা নুরুল্লাহপুর মেলা থেকে কেনা লাল রঙের কাঁচের চুড়ি থাকতো অথবা থাকতো না, তবে কিশোরীর হাতে সবসময়ই রঙিন সূতোয় বোনা আগেরবারের'চে ভিন্ন চেহারার হাত-পাখা থাকতো। বট অথবা পাকুড়, যেই গাছের নিচে বসে কিশোরীটি খুঁনসুটিতে মেতে উঠতো অথবা তরুণটি হেঁড়ে গলায় গান গাইতো সেই গাছের অদূরের বড়ো সড়ক ধরে হেটে আসা প্রৌঢ়টি হয়তো তাদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতো অথবা গাছের পাশ দিয়ে এগিয়ে চলা গরুর গলায় গিঁট দেয়া দড়ির অপর প্রান্তের বালকটি হয়তো মুখ টিপে হাসতো। কিশোরীটি আর তরুণটি প্রেমিক-প্রেমিকা নাকি ফুপাতো-মামাতো ভাই-বোন, এই নিয়ে হয়তো সন্ধ্যাবেলায় আলোচনাও হতো কুঠিবাড়ি'র আশেপাশের কোন এক কুপি জ্বলা বাড়িতে মহিলাদের আসরে। কেউ জানেনা কে কী ভেবেছিলো।
জীবন ও জন্ম
শ্রাবণ, একটা আধপাগল ছেলে। কখন কি করে তার কোনো ঠিক নাই। ইচ্ছে হলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গভীর রাতে চলেযায় রেস্টুরেন্টে খেতে। ইচ্ছে হলে ঝুম বৃষ্টিতে সুটেড বুটেড অবস্থায় ভিজতে নেমে যায়। ইচ্ছে হলে হাটে, শুধুই হাটে।
তার বন্ধুদের মতো, তারও একজন প্রেমিকা ছিলো, শ্রেয়া। তাদের প্রেম ছিলো সবার কাছে উদাহারন। সবাই হিংসা করতো তাদের ভালোবাসার সুখ দেখে।
একদিন শ্রাবণের কাঁধে মাথা রেখে শ্রেয়া বলেছিলো। বিশ্বাস করো শ্রাবণ, এই পৃথিবীতে আমার জন্ম শুধুই তোমার জন্য। হয়তো তোমার হবো বলেই আমার এ ধরনীতে আসা।
আজ শ্রেয়া, শ্রাবণের থেকে অনেক দূরে। শ্রাবণ যখন ঢাকায় প্রতিনিয়ত বাস্তবতার সাথে ঠোকর খাচ্ছে, তখন শ্রেয়া নাটোরে তার সুখের সংসারে আলো ছড়াচ্ছে। আজ সে আর শ্রাবণের প্রেমিকা নয়, অন্যকারো ঘরণী। সোজাকথায় পরস্ত্রী।
ইদানিং শ্রেয়া গল্পে গল্পে তার বান্ধবীদের বলে, জানিস আমার কেনো যেনো মনেহয় তোদের ভাইয়ার জন্যই আমার এই জন্ম!!!! ও আমাকে এত্তো ভালোবাসে। ওর ভালোবাসায় আজ আমি সম্পূর্ণ। আমার জীবনটা আজ সার্থক।
এসব শুনে শ্রাবণের খুব সাধ জাগে, ইশ যদি একটি বার জিজ্ঞাসা করতে পারতাম।
স্মৃতিকাতরতা - ০২
যেদিকেই তাকাইবেন , দেখিবেন গান বাজিতেছে , মুভি চলিতেছে। হউক সে মোবাইলে, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ । ইন্টারনেট হইতে ডাউনলোড করিয়া সকলে চালাইতেছে । আর ডাউনলোড না করিলে সিডি ক্রয় করিয়া গান শুনিবে না হইলে মুভি দেখিবে। এই যুগের ছেলেপুলে সিডি, ডিভিডি এসবের নাম জানিলেও ক্যাসেট/ফিতা ইত্যাদির নাম হয়তো নাও শুনিতে পারে, কিন্তু আমাদের বয়সী কেহ ক্যাসেট বা ফিতা শুনিবে না - তাহা অবিশ্বাস্য । সে অডিও ক্যাসেট হউক কিংবা ভিডিও ক্যাসেট।
আজিকে এই ক্যাসেটের কথা কহিতেই আসিয়াছি। তখন ছিল রেডিওর যুগ। সকলেই শুনিতেন রেডিও। তাহা লইয়া কিছু কথা আগেও কহিয়াছি। বিজ্ঞাপণ তরঙ্গ লইয়া একবার লিখিয়াছিলাম । সে সময় রেডিওর পাশাপাশি চলিতো ক্যাসেট বা টুইন ওয়ান। একখানা বাটন চাপিলে ক্যাসেট ঢুকাইবার চেম্বার খটাস করিয়া খুলিত, তারপর তাহার ভিতরে ক্যাসেট ভরয়া চাপ দিয়া লাগাইয়া প্লে বাটন চাপিতে হইতো।
অরক্ষিত বলয়
সেনাবাহিনীর কাজ যুদ্ধ করা। তারা যখন মারা যাবে তখন গুলিটা যাতে বুকে লাগে তার জন্যই তাদের যতো ব্যাকুলতা। মৃত্যুকে আমরা ভয় পাই, বেচে থাকতে চাই অনন্ত কাল।
অনন্তকাল বেচে কি করবো? সাগর পাড়ে মার্টিনি হাতে নিয়ে রঙ্গিন ছাতার নীচে শুয়ে শুয়ে সাগরের গর্জন শুনবো অথবা বিপুল অর্থ বৈভবে ডুবে মৌজ মাস্তি। সম্ভব নয়, মৃত্যু এমন এক সত্য যেটা আমরা সর্বদা ভুলে যাই। কালকে হয়তো নীল আকাশে সূর্য্য উঠতে নাও পারে, তবু মৃত্যু অবধারিত। মহাজাগতিক নিয়মের উর্ধ্বেই।
স্টকহোম সোদ্রার পার্কে বসে ছিলাম। এক সিরিয়ান যুবক দাড়িয়ে খুব পরিস্কার ইংলিশে বলে যাচ্ছে। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। আমার চোখের কোনে অশ্রু ঝরছে। আকাশে রোদ নেই, তবে অশ্রু ঢাকবার জন্য অনেকেই সান গ্লাস পড়েছে।