ইউজার লগইন
ব্লগ
একটি উপচানো এসট্রে আর দুটি নির্ঘুম চোখ
গুমোট আবহাওয়া। কাল অফিস নেই। সবাই যার যার মতো উল্লাসে ব্যাস্ত। সুমিত বসে আছে সেই পুবের জানালাটি ধরে। ঘরের আলো নেভানো, তবে কম্পিউটার অন।
কম্পিউটারে অনবরত বেজে চলছে সেই গানটি, যে গানে সুমিতের প্রতিটি অলস দিনের সৃষ্টি হয়।
"সাচ এ লোনলি ডে,
এন্ড ইটস মাইন,
দ্যা লোনলিয়েস্ট ডে ইন মাই লাইফ।"
সুমিত আপন মনে একের পর এক সিগারেট ধরাচ্ছে আর মুগ্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে গানটি। গানটির আসলেই একটা অনন্য মাদকতা আছে, যা শ্রোতাকে ভাবনার জগতে নিয়ে যেতে পারে। এই গানের সাথে সুমিতের এমন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক প্রায় বছর খানিকের।
সুমিত হঠাৎ করে কম্পিউটারের সামনে এসে বসলো। বসেই চালিয়ে দিলো,
"আই হ্যাভ এ প্রবলেম,
দ্যাট আই কেননট এক্সপ্লেইন......"
আর এই সমস্যার সাথেই সুমিতের দৈনন্দিন পথচলা। রোবটিক জীবন জাপন চলতে থাকে কোনো এক অজানাকে উদ্দেশ্য করে।
হয়তো কোনো এক শুভ্র সকালে কোনো এক অপরিচিতা সামনে এসে দাঁড়াবে।
পিশাচের কান্না কিংবা মূষিকের
“চৌধুরী সাহেব,আমাকে চিনতে পেরেছেন?”
“না,কে তুমি?”
“জ্বী আমি রমেশ চন্দ্র পাল।‘রামকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভান্ডার’ এর কর্মচারী ছিলাম”
“ও”
“চৌধুরী সাহেব মনে হয় চিনতে পারেননি।একবার মেজর সাহেবকে নিয়ে দোকানে মিষ্টি খেতে এসেছিলেন।দোকানে সেদিন কেউ ছিল না।মেজর সাহেব আমাকে কারিগর ভেবে দশ টাকা বখশিশ দিয়েছিলেন”
“কিন্তু তোর কথাবার্তা এত সুন্দর হল কিভাবে?তুই না বিশ্রি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতি?তোর পোশাক-আশাকেও তো দেখি ভদ্র ভদ্র ভাব...”
“স্বর্গে আছি কিনা,এখানে সবাই ভদ্র।ব্রহ্মার পায়ের তলা থেকে জন্ম নিয়েছিলাম বতে,কিন্তু স্বর্গ দেবতা আমাদের মাথায় তুলে রেখেছেন।”
“ও”
“চৌধুরী সাহেব”
“হুম”
“আমার মেয়েটাকে ধরে নিয়ে গিয়ে অনেক অত্যাচার করেছেন,তাই না?জন্মের পর ওর মা মারা গিয়েছিল,মেয়েটাকে আমি কখনও কোন কষ্ট দেইনি।বেচারি স্নান করছিল তখন,ওকে কাপড়টা বদলানোর সুযোগ দিলেন না আপনারা...আচ্ছা,আপনারও তো একটা মেয়ে আছে।ওর সাথে যদি কেউ...”
“কি বলিস এসব?তোকে আমি...”
“ওসব পার্থিব কথা,আমি যে এখন জগতের ঊর্ধ্বে সেটা আপনি ভুলে যাচ্ছেন।আমাকে স্পর্শ করার ক্ষমতাও আপনার নেই।”
“...!!”
“চৌধুরী সাহেব”
“হুম”
ঐশী
একদল বৃদ্ধ শকুন বা গন্ডার আছে যারা বছরের পর বছর ধরে এই দেশে বেঁচে আছে । কোন একটা ঘটনায় সুযোগ পেলেই তারা দুইপায়ের ফাঁকে চুলকাতে চুলকাতে বলেন,'আমাদের সময় আমরা এমন ছিলাম না।আমাদের সময়ে আমরা এই সাহসই পাইতাম না। আমরা এত হ্যান ছিলাম, ত্যান ছিলাম ইত্যাদি।
ঐশীর এই সুইসাইড নোটটা পড়ার পর থেকে মনে হচ্ছে দোষটা কি শুধু ঐশীরই ছিল ?
প্রিয়
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১১)
জুলিয়ান ফ্রান্সিস, বৃটেন

পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকেন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের জৌলুসের প্রতি যাদের বিন্দুমাত্র টান থাকেনা, এরা সবসময়ই মানুষের কল্যাণে কিছু করার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকেন। এমন মানুষ যদিও বিরল তবুও মানবতার মহাক্রান্তিকালে এই ধরনের কিছু মানুষ ঠিকই জুটে যায়। তাঁদের দেখলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে! তেমনই একজন মানুষ জুলিয়ান ফ্রান্সিস। জন্মসূত্রে বৃটিশ নাগরিক। জন্ম ২৯শে এপ্রিল ১৯৪৫। দক্ষিন-পশ্চিম লন্ডনে শৈশব কাটানো জুলিয়ান ছেলেবেলা থেকেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৮ সালে গ্রামাঞ্চলে কাজ করার জন্য অক্সফামের একজন হয়ে চলে এলেন ভারতে। সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। মানুষের জন্য কাজ করার জন্য যার জন্ম সে কি আর চুপ থাকতে পারে! ঝাপিয়ে পড়লেন এদেশের শরনার্থীদের সেবার কাজে।
অবিশ্বাসের দোলাচল
কোর্টের চিঠিতে আজকের তারিখ ছিলো, বেলা ১১টায়। সোলনা ইমিগ্রেশন অফিসে পৌছাই ১০:৪৫ মিনিটে। রোদের প্রখর তাপে টপ টপ করে কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিলো। রিসেপশনিস্ট আমার চিঠিটা দেখা মাত্রই তলায় পাঠিয়ে দিলো ১০৮ নম্বর কক্ষে: ইন্টারভিউ রুম।
এখানকার বিল্ডিংগুলো বেশীরভাগ পুরোনো আমলের বাগান বাড়ির মতো। বাইরে থেকে দেখলে মনে কাঠের বাড়ি ঘর কিন্তু এই বাড়িঘর গুলো বানানো হয়েছিলো আজ হতে প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে। যাই হোক, ইন্টারভিউ রূমে ঢুকে দেখি একটি স্বর্নকেশী মেয়ে আর একজন বাংলাদেশী মহিলা। এই বাংলাদেশী মহিলাকে আমি চিনি। উনি আমার ইন্টারপ্রেটার। যদিও আমি বলেছিলাম আমি ইংলিশ ভালো পারি তবুও বলা হলো এই ইন্টারপ্রেটার যিনি ইন্টারভিউ নেবেন তার জন্য।
সম্ভাষন শেষে শুরু হলো প্রশ্ন পর্ব:
: মিঃ শফিক, আপনার কেসটা সম্পর্কে বলুন।
সবার ওপরে Boss সত্য
বস-ভীতি কমবেশি সব চাকুরেরই আছে। অবশ্য বস মানে যে কারও অধীনে চাকরি করতে হবে, চাকরি করলেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বস হয়ে যাবেন_ তা নয়। ক্ষেত্রবিশেষে বসের সংজ্ঞাও পাল্টে যেতে পারে। কর্মসূত্রে যার বস নেই, তার দজ্জাল বউ (বা প্রেমিকা) আছে, ঘরে মা-বাবা আছে। ধরণীর পথে পথে আরও কতজন কতভাবে যে বসের আসন অলঙ্কৃত করে আছেন, তার ইয়ত্তা নেই।
বস বিষয়ে সাধারণের ভুল ধারণা
- চিকনা-চাকনা মানুষকে অনেকেই পাত্তা দিতে চায় না। কিন্তু সেই 'চিকনা'টা যদি বস হয়, তার ঠেলায় পুরো অফিস থরকম্প হয়ে যেতে বাধ্য।
- দুর্বল চিত্তের কর্মচারীরা বসকে হিংস্র জন্তুর মতো ভয় পায়। প্রকৃতপক্ষে কোনো বসই অতটা ভয়ানক নন।
- বুদ্ধিমানরা বস নয়, ভয় করে বসের ক্ষমতাশালী চেয়ারকে। মামুলি একটা চেয়ারের কত ক্ষমতা! কাউকে লহমায় ওপরে তুলতে পারে আবার কাউকে নিচেও আছড়ে ফেলতে পারে!
- বস মানেই যেন অলৌকিক শক্তিধর। এ অলৌকিক শক্তির হাতেই রয়ে গেছে মরণকাঠি-জিয়নকাঠি।
- বসকে তার আত্মীয়স্বজন, কাছের মানুষ, দূরের মানুষ কেউই পছন্দ করে না।
বসের দৃষ্টিতে কর্মচারী
বৃন্দাবনে কৃষ্ণের সাথে রাসলীলা।
সর্বত্র মন বলো রাধে বিনোদিনী রাই/
বিন্দাবনে বংশীধারী ঠাকুর ও কানাই।
একলা রাধে জল ভরিতে যমুনাতে যায়/
পিছন থেকে কৃষ্ণ তখন আড়ে আড়ে চায়।
জল ভর জল ভর রাধেও গোয়ালের ঝি/
কলস আমার পূর্ন কর আমি করব কি? --------------
এই গান শুনে পাগল হয়ে গেলাম বৃন্দাবন/
খুজি রাধা এদিক ওদিক বড়ই অবুঝ মন।
সাথের সাথী বামুন দাদা ভক্তিতে বিলীন/
প্রবেশিলেন মন্দিরেতে হয়ে চরনাশীন।
আমি যবন ঘুরি পথে দেখি বৃন্দাবন/
আমার জন্য অপেক্ষায় নেই কোন রাধার মন। ---------অতএব একা ঘুরি। ঘুরতে ঘুরতে
দরজা খোলা পেয়ে ঢুকে গেলাম বাগানে। আহা কি শোভা চারিদিকে। ক্যামেরা চোখে লাগাই আর ক্লিক করি। এই ফুল , এই মানুষ ,এই নালা, এই ঝরনা ,এই খাল ,এই গাছ, এই পাখি, এই গরু (যার গলায় কোন দড়ি নাই), এই বানর, এই কাঠবিড়ালি আহা আহা কত মনরম দৃশ্য। যতই দেখি ততই মুগ্ধ আর ছবি তুলি ক্লিক ক্লিক। সব তোলা শেষ। পূজারীর পূজা শেষ হয় না। ক্যামেরা কাধে নয়ে ঘুরি আর ফুটানি মারি।
দিন দিন প্রতিদিন
ঘুম ভাংলো ফোনের আওয়াজে,"বাবা, তুই ঈদে ফোন করিসনি কেন?"
আওয়াজটা শুনেই বুঝতে পারলাম মার আওয়াজ। এরকম দরদমাখা আওয়াজে দুনিয়ার তাবৎ মা রাই তাদের সন্তানদের ডাকে। বাইরে ঠিকড়ে রোদের খেলা, শরতের মিস্টি ঠান্ডা হাওয়াটা যখন মুখে লাগে তখন মনে পড়ে ছোটবেলার কথা। ঠিক বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে ঠান্ডাটা নেমে আসতো আমাদের গাঁয়ে। বিকেল বেলা খেলা শেষে নদীর পাড়ে আড্ডা, রাতভর ওয়াজ অথবা একতারার সুরে কীর্তনের অনুষ্ঠান রাতভর।
শৈশবের সময়গুলো খুব দ্রূত চলে যায়।
: বাবা, তুই কি ঠিকমতো খাস?
: খাই মা।
: ঈদের দিন নামাজ পড়ছিস?
: ঘুম থেকে উঠতে দেরী করেছিলাম।
: তুই এখনও বদ। কতবার বললাম নামাজ পড়।
: মা, আমি চলে আসি?
: ভালো না লাগলে এসে পড়। আমার কিছু ভালো লাগে না। সারাদিন একা একা ঘরে বসে থাকি। তোর ছবি দেখি। তোর হাসিমাখা মুখ কতদিন দেখি না।
গুরু ভজি গুরু সেবি
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে
কতজন যে সফরে গেল
ভোমা মন মনরে আমার...।
অচিন পুরের অচিন ধামে।
আমি এক পড়ুয়া কামলা।
বন্ধুরা বড় বড় আমলা
আমলা কামলা মুন্সি মোল্লা
ছুটিতে গেলে ফেরেনা কামে।।
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে।।
বাবা দাদা চাচা জেঠা
গেল সবাই বাকি কেঠা।
ভোলামন মনরে আমার...।
ফুপা ফুপুর আদর ভূলতে
আঁখি জলে লেটাপেটা।
তবু আমার হুস হয়না
সময় হয় না সংসার কামে।
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে ।।
গুরু তোমায় সন্ধান করি
কত দেশ বিদেশে ঘুড়ি।
দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে
আসলাম আবার ঘরে ফিরি।
ভোলামন মনরে আমার...।
নিজের মাঝে খুজে দেখলে
পৌঁছবো নাকি গুরুর ধামে।।
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে ।।
বিষাদনগর ইস্টিশনে..[এলোমেলো কাব্যকথন!]
ঘুম ঘুম দিন,
আর অস্থিরতায়;
জমতে থাকে অন্ধকার।
তবুও,
কিছুই যায় আসে না তাতে।
নীলচে পর্দার গায়
কড়া নেড়ে যায়
বৃষ্টিবাতাস।
এটাসেটা কথকতায়
সুদিনের হাওয়া
ভালোবাসার বিশ্বাস।
সবার সবকিছু থেকে
আমার আমির কথা ভেবে
একটু একা হবার শখ।
ভাবতেই,
নিজের কাছেও বুঝি হয়ে যাওয়া; তাই।
যতটা হওয়ার নয়,
ঠিক ততটাই;
এভাবেই।
অন্ধকারের আলো জ্বেলে নিভিয়ে দিলেই ভোর,
তবুও আলোয় মিশে লীন;
হাজার পথের আঁধার।
কিছু রাত্তিরে -
খুব ভাংচুর করতে চাওয়া ইচ্ছেগুলো খুঁজে বেড়ায়
কিছু বৃত্ত; কিছু দেওয়াল,
অথবা খোদ নিজেকেই।
তাই -
পথ পেয়েও বুঝি হারায়,
আলোক ঝিলের জোনাকী।
উত্তর নিয়ে বসে থাকা ক্লান্ত সময়ে,
ঠিকঠাক প্রশ্নটাই জানা হয় না কেবল।
নিশ্বাসের চেনা অচেনা পথচলা,
ভালোলাগা মুহূর্তজুড়ে;
শ্যাওলা জমে ম্লান।
অবিশ্বাস -
ঠোট টিপে হেসে জানায়,
বুকপকেটের ঘড়িখানা
ক্লান্ত হয় না কখনো;
কোন কিছুতেই
কোন কারনেই।
থাক -
নাই বা হলো আমার
আঁক কষবার বাজনা,
আমার আমি থাকাই ভালো।
পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে,
কেবলই অঙ্ক গুনে পথ চলা।
হাটুকাপা নিয়েই চলে,
নিত্য সুখের অভিনয়।
আর একেকটা হাউজফুল দিনের শেষে,
what is love?
আজ সকালে ঘুম থেকে দশটায় উঠে ভাবতেই পারি নাই- যে আজ দিনটা এতো দুর্দান্ত কাটবে। আমার মনে হয় গত একমাসে যত হাসছি তার চেয়েও বেশী হাসছি আজ সারাদিন। উঠতে বসতে এক্সামে বাসে হেসেই চলছি শুধু। এত হাসির কোন মানে নাই তাও হাসতে হাসতে অবস্থা কাহিল। ভার্সিটিতে এক্সাম শেষে- চায়ের দোকানে আড্ডা শেষে, বাসায় ঢূকতেই মামাও জিগ্যেস করে ফেললো শান্ত আজ এত খুশী কেন? ভাগ্যিস এক্সামটা ঠিক মতোই দিলাম সেখানে হাসাহাসি টা মনে মনেই করেছি। শাহবাগ থেকে বাসে উঠে মেগাসিটিতে ব্যাপক ভীড়। আমি কিভাবে জানি সিট পেয়ে গেছি দরজার পাশে, নারী পুরুষ বুড়ো সবাই আমাকে পারা দিয়ে যাচ্ছে তাও আমার বিরক্ত লাগছে না। অন্য সময় হলে কিছু না করলেও বিরক্ত নিয়ে গরম চোখে তাকাই তাও করি নি আজ। এতো আনন্দ আহলাদের উপলক্ষ্য একটাই তা হলো হুট করেই ঝোকের মাথায় আমার আর পুলকের- একশন হিরো মেগাস্টার জলিলের বলাকায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা ওয়াট ইস লাভ নাম বস্তুটা দেখে আসা!
হাওয়ার ঘুম
আমরা মুখোমুখি অথচ মাঝবরবার ঢুকে পড়েছে যেন আলোকবর্ষ অথবা এক শতাব্দী দূরত্ব। হয়ত তাই আমরা কেউ কাউকে ছুঁতে পারিনি। মা অবশ্য স্বচ্ছ দিঘির মত; আমাদের নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা, ক্ষোভ বা অভিযোগ সবটাই আমার মুখস্ত। অথচ আমি গাঢ় থেকে গাঢ়তর শৈবালের ঝোঁপ তৈরি করে ফেলেছি। না আমি যেতে পেরেছি, না মা আসতে পেরেছে। তাই ইউ-টার্ন না করে কেবল আমাদের সমান্তরালে ছুটে চলা। 'গর্ভধারিনী' উপন্যাসে এক চরিত্র বলেছিল "যে বাচ্চা মাকে বেশী কষ্ট দিয়ে পৃথিবীতে আসে সে চিরদিন সুখী করে রাখে।" আমার জন্মকথা যে শুনেছে সেই-ই বলেছে 'মিঠি, মাকে কোনদিন কষ্ট দিও না!' ছোটবেলা থেকেই আমার উপর যোগ্য সন্তান হওয়ার একটা দায় চাপিয়ে দিয়েছিল সবাই বুঝে অথবা না বুঝেই। হয়ত সব সন্তানই এইটুকু দায় নিয়েই বড় হয়।
বেইরুতের গল্পকথা: সাধু জর্জের উপকূলে
১.
আসলে আমাদের জীবনে যা কিছু হয়, ভালোর জন্যই হয়- ঠিক কিনা? আমাদের ইনটুইশন, স্বজ্ঞা বা অন্তর্জ্ঞান যাই বলি না কেন, খুব ভাল করেই জানে আমরা কে কি করার জন্য জন্ম নিয়েছি এবং বেড়ে উঠেছি। তাই আমি জীবনে যখনই কোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হই, নিজের ইনটুইশনকে প্রশ্ন করি সেটার ব্যাপারে। যেমনটি সেবার চাকুরির ইস্তফাপত্র জমা দেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, ইস্তফা দেবো কিনা। উত্তর এসেছিল একবাক্যে, হ্যাঁ।
সেই ইস্তফাপত্রটা সেবার জমা না দেয়া হলে, সম্ভবত কখনোই আমার বেইরুতের অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব হতো না। আর সাতপাকে জড়িয়ে জীবনের কি চেহারাটা দাড়াঁতো, তা নাহয় নাই ভাবলাম। চলুন আজ সে অভিজ্ঞতাটার কথাটাই জেনে নেয়া যাক।
শৃঙ্খলিত কৈশর এবং ঐশীদের পরিনতি
একটি জোড়া খুন। এক ষোড়শী। তার জীবনযাপন। অনিশ্চয়তা এবং সমাজের সাজানো মূল্যবোধের মুখোশে নির্মম চপেটাঘাত।
ঐশী নামের মেয়েটিকে নিয়ে খবরগুলো পড়লে ঠিক এমনটাই মনে হয় কেন যেন। মনে হয়- ঐশী নামের মেয়েটা আমাদের ঘাড়ে ধরে দেখিয়ে দিচ্ছে আগামি প্রজন্মের জন্য কোন ধরনের সমাজ আমরা তৈরি করে যাচ্ছি। কি শিখাচ্ছি- কি বোঝাচ্ছি। যেখানো শিক্ষক আমরা সবাই- দোষ কিভাবে কেবল ঐশীর হয়!
স্বাভাবিক ভাবেই- বাংলাদেশের পিতামাতারা বলবেন- যার যার নিজের সন্তানের ভালো তারা জানেন। আসলেই জানেন কি না জানি না। কিন্তু এমন কোন কথা নেই যে প্রয়োজনে বাইরের- এমনকি প্রতিবেশীর কোন কথাও তারা কানে তুলবেন না। কেবল তারা অপরিচিত বলে। এই অপরিচিতদের হাত থেকে সন্তানদের বাঁচাতে বাঁচাতে কি করে নিজেরাই সন্তানের কাছে অপরিচিত হয়ে যাচ্ছেন- সেটা বাবা মায়েরা নিজেরাও জানেন না।
ঐশীদের নানা ভাবে বিশেষায়িত করার আগে দেখে নেয়া ভালো ওরা কি করে বড় হচ্ছে। বা ওদের জন্য আমরা কি তৈরি করে রাখছি..
বাড়ী থেকে ফিরে!
পিসিতে বসে পনেরো ষোলো দিন পরে আজ লেখার সুযোগ পাচ্ছি। আমি সবসময়েই চিরাচরিত ডিলেমার মধ্যে থাকি। যখন মোবাইলে লিখি অজস্র লিমিটেসনের মধ্যে, তখন মনে হয় একটা পিসি পেলে ফাটিয়ে লেখা যেত এখন। আর এখন পিসিতে বসে মনে হচ্ছে মোবাইলে লিখতেই কত আরাম, কত কিছু সহজে এসে যায় আর চাইলে চোখ বুজেও লেখা যায়। কিন্তু পিসিতে তার সুযোগ কই? তবে বাড়ী থেকে এসে পিসি নিয়ে বসতে ভালোই লাগে। মনে হয় অনেকদিন পর পিসিতে বসার সুযোগ পেয়েছি, অনেকটা নতুন বই পড়ার আনন্দের মতো। সেই ২০০৬ সালে যখন প্রথম ইন্টারনেট চালিয়েছিলাম , কিছুটা সেই সময়ের মুগ্ধতাও এসে যায় অকপটে!