ইউজার লগইন
ব্লগ
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১২)
ম্যারিয়েটা
একাত্তর কাঁদিয়েছে অনেককে। খোকার জন্য মা, বাবার জন্য সন্তান, স্বামীর জন্য স্ত্রী কিংবা ভাইয়ের জন্য বোন! এ তো গেল সর্বস্ব হারানো অসহায় বাঙালীদের কথা কিন্তু একাত্তরের দুর্দিনে বাঙ্গালীরা ছাড়াও কেঁদেছে অনেক ভিনদেশী মানুষ! তারাই আমাদের দুর্দিনের বন্ধু, সুহৃদ।
ম্যারিয়েটা, পুরো নাম ম্যারিয়েটা প্রকোপে। অক্সফোর্ডে পড়ুয়া পঁচিশ বছরের স্মার্ট, সুন্দরী এক বৃটিশ তরুণী। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে কি ঘটছে তার বয়সী অনেক তরুণ-তরুনীদের মনেই সাধারণত তেমন কোন প্রভাব ফেলে না কিন্তু এই তরুণীর ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের দুঃখকষ্ট দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। কখনও বাংলাদেশ দেখেননি ম্যারিয়েটা। গনমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ছবি, এদেশের মানুষের উপর অত্যাচারের চিত্র চোখে পানি ঝরিয়েছে তার। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের দুঃখ দুর্দশা সেই সময় কাঁদিয়েছিল এই তরুণীকে।
"কালো বরফ" এর মোহাবিষ্টতা
অনেকদিন বাদে হওয়া বৃষ্টির কালে মাটি থেকে ওঠা সেই মাদকতাময় সোঁদাগন্ধ, কিবা না শুকানো মেহেদী লাগানো হাত থেকে আসা সুবাস, কিবা কারুর লম্বা আঙ্গুলের নখ নিয়ে খেলা করার উদ্গ্রবাসনা– ভালো লাগার এই ছোট্ট ছোট্ট বোধগুলো অব্যক্তই রয়ে যায়, হয়তো খুব মনলাগা কারুর সাথেই কেবল এই ছোট্ট ছোট অনুভূতিগুলো ভাগাভাগি করে ফেলি, নয়তো রয়েই যায় মনের গহীনে একদমই না বলা হয়ে। হুড়মুড় করে কতো কি মনে পড়ছে, আরো কত নানান তালগোলের ভাবনায় পড়ে গেছি বইটা পড়তে পড়তে।উপহারে পাওয়া বই, তাতে আবার শুভকামনায় কবিতার লাইন উদ্ধৃত করা –“নদীর মতন ভালোবাসা আছে জানি, তবু কেন ভালোবাসা মরে যায় হেমন্ত,বৈশাখে?”
বেশ আগে পড়েছিলাম,”ভালো বই তাই যা চিন্তার খোরাক জোগায়, পারিপার্শ্বিকতার সাথে নিজের সম্পৃক্ততাকে অনুভব করায়, কেবল পড়ার জন্যেই পড়া নয়,মূহুর্তগুলো ছুয়েঁ রয়ে যায়” – সত্যিকার অর্থে মাহমুদুল হক – এর লেখা ‘কালো বরফ’ তেমনি একটা বই। কালোত্তীর্নই বলতে চাই বইটাকে। নইলে সেই কবে ২১-৩০ আগস্ট, ১৯৭৭ সালে লেখা এই বই কি ভীষন রকমের আধুনিক!
দিল্লির কেচ্ছা
দিল্লি নিয়ে কিছু লেখার আগে আমার এক বন্ধুর গল্প বলি। অত্যন্ত দয়ালু মানুষ। উপকার করতে পারলে বর্তে যান। এই উপকার অবশ্য পরিবহন খাত সংক্রান্ত। ধরা যাক কাজ করতে গিয়ে অনেক রাত হয়ে গেছে। বাসায় যাওয়ার গাড়ি নেই। কিংবা দিনের বেলাতেই হঠাৎ কাজ পরে গেল, দ্রুত যেতে হবে-কোনো সমস্যা নেই। তিনি তো আছেনই। দ্রুত মোট সাইকেলের পেছনে বসিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি। তবে মোবাইল ফোন কোম্পানির মতো করে বলতে হয়, শর্ত প্রযোজ্য। শর্ত হচ্ছে, অবশ্যই এই সুযোগ কেবল মেয়েদের জন্য আর মোটর সাইকেলের পেছনে দুদিকে পা ছড়িয়ে বসতে হবে, ছেলেরা যেমন করে বসে।
মেয়েদের মোটর সাইকেলে বসিয়ে হঠাৎ হঠাৎ ব্রেক করা একটি পুরোনো অসুখ। কিন্তু বসার ভঙ্গী কেন পালটাতে হবে? অনেক গবেষণার পর আমাদেরই আরেক বন্ধু বের করলো আসল কারণ।
স্মৃতিকাতরতা - ০১
বয়েস বাড়িবার সাথে সাথে পুরনো স্মৃতি গুলো নড়াচড়া করিতে আরম্ভ করিয়াছে অধিক মাত্রায় । একাকী সময়ে শুধু স্মৃতি হাতড়ে ফিরি । হাতড়াতে হাতড়াতে ভাবিলাম, নাহ , এগুলো ব্লগে লিখিয়া যাই। পরে কেহ পড়িয়া জানিতে পারিবে, নতুন প্রজন্মের ছেলেপুলে বুঝিবে আমরা কিরূপ দিনাতিপাত করিয়াছি।
আজিকে লিখিবো টেলিফোন লইয়া। এ যুগের ছেলে মেয়ে , এমনকি ৩/৪ বছরের শিশু মোবাইল ফোন চিনিয়া যায়। আমার ৪ বছর বয়সী ভগ্নি পুত্র মোবাইল নিয়া গেইম বাহির করিয়া গেইম খেলে, বোনের রিং টোন বদলাইয়া নিজের মন মত করিয়া দেয়। আর গোঁফের রেখা আসিবার আগেই মোবাইল হাতে আসিয়া যায় ছোকড়াদের।
আকস্মিক বিস্ময়
বাতাসে শীতের একটা আভাস পাওয়া যায়, বোঝা যায় গ্রীস্মের সময় বিদায় নিচ্ছে। শরতকালের মৃদু টোকা মনের দুয়ারে সেসব স্মৃতিরা উকি দেয় যেখানে লেপ্টে আছে কাশ বনের ঢেউ অথবা ঝকঝকে আকাশের পূ্র্নিমা রোদ।
এখানে পূর্নিমা রাতে জ্যোসনার প্লাবন বোঝা যায় না, জনপদ উদাস হয়ে নদীর পাড়ে বসে ঢেউয়ের গান শোনে না। এখানে চলে সুরার জলে নেশাগ্রস্হ বন্যতা। হতে পারে তা আধুনিক যান্ত্রিকতার সুরে মোড়া ক্ষনিকের উচ্ছ্বাস অথবা অন্ধকার রূমে শুধু দৈহিক চাহিদার আদান প্রদান।
আজ পূর্নিমা কিনা জানা নেই, তবে সকাল থেকে মন চাইছিলো একটা খোলা মাঠে শুয়ে থাকি। মাথায় অনেক কিছু এলোমেলো ঘুরপাক খায়। রাস্তা দিয়ে যখন দেখি ছোট ছোট শিশুরা পপসিকলস হাতে নিয়ে ছুটো ছুটি করে তখন মন চায় এরকম একটাকে যদি কোলে নিয়ে সারা দিন হেসে খেলে বেড়াতাম অথবা ছুটির দিন পিকনিকে গিয়ে সোজা দোলনায় চড়িয়ে দিতাম! একটি জীবনের পূর্নতা হয়তো সংসারেই, এরকম চক্রের পূর্নতা দান করাতেই নিহিত।
বাসে ওঠে এসএল কার্ড মেশিনে চেক করার সময় হঠাৎ বাস ড্রাইভার বাংলায় বলে উঠলো,"আপনার পকেট থেকে বোধ হয় টাকা পড়ে গেছে!"
ফেসবুকাব্য কথকতা!
#
হুট বাতাসের,
তুলোট মেঘের দিন -
অমলিন..
#
আউলা হাওয়ার,
বাউলা মনের দিন -
অমলিন..
#
একটা সকাল,
রবির সুরে;
উতল হাওয়ার ডাক।
একটা সকাল,
পিচ্চিবেলার;
দুষ্টু চাওয়ার ঝাঁক।
একটা সকাল,
দুপুর ফাঁকি;
মিষ্টি হাসির তাক।
একটা সকাল,
হঠাত্ বিকেল;
কত্ত কথার বাঁক।
একটা সকাল,
সাঁঝের আলো।
অন্ধকারেও,
বাসবো ভালো।
একটা সকাল,
বিষাদ ঝেড়ে;
সুখ কুড়ানোর হাঁক।
একটা সকাল,
আবোল তাবোল।
নিমিষ চুপেও,
হোক কোলাহোল।
একটা সকাল,
রাত পেরিয়েও;
একটা সকাল থাক।।
#
ভরদুপুরের তপ্ত দহনকালেও
মনের আকাশে মেঘ করে যায়..
#
একটা সকাল,
দুপুর হয়ে -
শুয়ে বসে,
একটু হেসে..
মেঘের সাথে;
মেঘের খেলায়,
আকাশনীলায়-
একটু ভেসে..
হুট বাতাসে;
আলোক ছায়ায়,
আলসেমি তে..
বিকেল ছুঁতেই -
তৃপ্ত সুখে,
হর্ষ মেখে..
রিম ঝিম ঝিম
মনের গানে,
ঘুম ঘুম ঘুম
সময় উধাও..
প্রানের পরে,
হঠাত্ এসে ;
বৃষ্টি দিল চুম..
#
কাঁচের দেওয়াল টাইপ বিশ্বাস নিয়া আর যাই হোক, ভালোবাসা যায় না..
#
চায়ের কাপে বিষাদলোকের ছায়া,
হুট ডেকে যায় অচিনপুরের মায়া -
ধুমপান বিষপান
নাটক সিনেমায় অহরহ দেখি নায়ক খুব কায়দা করে সিগারেট ঠোটে লাগায়, আয়েস করে টানে। চিন্তামগ্ন হলে, বিরহ দেখা দিলে, জটিল কাজে নিমগ্ন হলেও সিগারেট টানতে দেখা যায়। বলা যায় বিনে পয়সায় নাটক সিনেমায় সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। আর সেই বিজ্ঞাপনে যখন কারো প্রিয় নায়ক সিগারেট টানে তখন অনেক উঠতি বয়সের কিশোর বালক ও সিগারেট টানার প্রতি আগ্রহ বোধ করে। এভাবেই মনে হয় অনেক মানুষের ধুমপানের হাতে খড়ি হয়।মনে আছে টাইম ম্যাগাজিনের পিছনের পাতায় মার্লবোরো সিগারেটের বিজ্ঞাপনে ঘোড়ার পাশে কাউবয় ড্রেস পরা মডেলের সিগারেট টানার ছবি। তখন মনে হত ,ইশ ওই কাউবয় এর মত সিগারেট না টানতে পারলে জীবনটাই বৃথা।
আগে শুনেছি সিগারেট না টানলে ছেলেদের নাকি ম্যানলি লাগে না। মেয়ে মেয়ে লাগে। এমন কথা শুনলে যে কেউ বোকার মত নিজের পুরুষত্ব জাহির করার জন্য হলেও সিগারেট ধরে ফেলবে হয়ত।হাস্যকর লাগে এখন এসব শুনলে। আজ আমি হয়ত সেই অবস্থানে নাই কোন কিশোরের মত আর তাই আমার কাছে এসব কথা হাস্যকর লাগে।কিন্তু উঠতি বয়সে ভাল মন্দ যুক্তি কে শোনে।
গল্পঃ মূল্য

আমার কখনও গ্রাম দেখা হয়নি সেভাবে। শহরে জন্ম, বেড়ে ওঠা। গ্রামের সাথে কোন সম্পর্কই তৈরি হয়নি! বন্ধুদের কাছ থেকে ওদের গ্রামের কথা শুনতাম। বাবাকে গ্রামের বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলেই বলতেন- আমাদের কোন গ্রামের বাড়ি নেই, নদীতে ভেঙ্গে গেছে। গ্রাম আমার কাছে ছিল কেবলই বইয়ে পড়া আর টেলিভিশনে দেখা ছবির মত! সেদিন শিবলী যখন জিজ্ঞেস করল ও দুদিনের জন্য গ্রামে যাচ্ছে আমি যাব কিনা, কোন চিন্তা না করেই রাজি হয়ে গেলাম। এই রাজি হওয়া যে ঝোঁকের মাথায় তা নয়, অনেকদিন থেকেই শিবলীর কাছে ওদের গ্রামের গল্প শুনে শুনে আমার মনে সত্যিকারের গ্রাম দেখার একটি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
নির্বাসিত লেখক এবং এক আশ্চর্য আবেগময় বন্ধুর জন্মদিনে!
জন্মদিনকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাবার লোক আমি না। অন্যের জন্মদিন সমন্ধে ভাবলেও নিজের জন্মদিন সমন্ধে মোটেও তা ভাবি নাই। ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন কখনো করা হয়ে উঠে নি। নিতান্তই পারিবারিক ভাবে ভালো মন্দ খেয়ে দেয়েই আমার জন্মদিন পালন করেছি বাল্যকালে। তবে মানুষ তো আমাদের মত ছিল না। বেশীর ভাগই জন্মদিন পালন করতো আর দাওয়াত পেতাম। দাওয়াত পেয়ে নিজের বাসায় না জানিয়েই দাওয়াত খেয়ে আসতাম। বিকেলে যে জামা পড়ছি, গোলকিপিং করে তার অবস্থা বারোটা তাও গিফট বিহীন সেই ভাবেই হাজির হয়ে যেতাম। জানতাম বাসায় জানালে যেতে দিবে না এরকম আবুলের ন্যায়। রাতে বাসায় ফিরে বলতাম আমাকে জোর করে নিয়ে গেছে। আমি কি করবো!
গদ্যকাব্য/মুক্তগদ্য/শরৎকাব্যঃ শরতের সরোদ
গদ্যকাব্য/মুক্তগদ্য/শরৎকাব্যঃ শরতের সরোদ
শাশ্বত স্বপন
‘এ সখি, হামারী দুঃখের নাহি ওর। এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর--শূন্য মন্দির মোর।।’--মধ্যযুগের মিথিলার কবি, বিদ্যাপতির কবিতায় রাধার সুদীর্ঘ প্রতিক্ষা ঃ বর্ষাকালের আষাঢ়-শ্রাবণ যায়, শরতের ভাদ্র আসে তবু কৃষ্ণের দেখা নেই, ছোঁয়া নেই; আছে শুধু, শারদীয় অনুভূতি। আমি বিদ্যাপতির কবিতার কৃষ্ণের রাধার মত দু’চোখের শ্রাবন ধারার ক্লান্তি শেষে ভাদ্রবেলায় হাহাকার হৃদয়ের শূন্য মন্দির নিয়ে অপেক্ষা করি আমার রাধার জন্য অথবা অনুভব করি, তার আগমন বার্তা। ধুপাগ্নি যাতনায় হৃদয় জ্বলে যায় তবুও এ শরৎ রূপসী আমার জীবনানন্দ হৃদয়ের আঙিনায় বসে আঁধারী কাশবনের জোনাকী আলোর মত শুধু স্বপ্ন দেখায়।
গদ্যকাব্য/শরৎ কাব্যঃ ভাদ্র বেলার গান
গদ্যকাব্য/শরৎ কাব্যঃ ভাদ্র বেলার গান
--শাশ্বত স্বপন
‘তুমি যাবে ভাই--যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়--গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়...।’--ভরা যৌবনের জলতরঙ্গে শরতের কোন এক পড়ন্ত ভাদ্র বেলায় কবি জসিম উদ্দীনের নিমন্ত্রণের ডাকে সারা দিয়ে আমার হাত ধরে উপমা বলেছিল, “শুনেছি, তোমার গ্রামকে বড় ভালবাস তুমি; ছবির মত ছায়া সুনিবিড় তোমার গ্রাম; দেশের গ্রাম দেখা হয়নি আমার কোনদিন; দেখিনি ধান-পাট-সর্ষে ক্ষেত; দেখিনি ডোবা-নালা-খাল-বিল-বাঁওড়-হাওড়-নদী-সাগর; দেখিনি প্রকৃতির পাহাড়-ঝরণা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী আর রহস্যময় পাহাড় ঘেরা অপার সৌন্দর্যের পাহাড়ি ভুমি। আমায় তুমি নিয়ে চল সখা, তোমার যেখানে খুশী--তোমার চোখে দেখব আমি শরতের শাশ্বত রূপ।”
অসমাপ্ত সমাপ্তি
"যতদিন ছোট থাকবে,মন ততদিন পবিত্র থাকবে।বড় হতে শুরু করলেই মন অপবিত্র হতে শুরু করবে।"
"কিন্তু আমিতো জাহান্নামে যেতে চাই,তাহলে এত পবিত্রতা দিয়ে কী হবে?"
"জাহান্নামে তো তুমি যাবেই,সেটা তোমার জন্য হোক বা আমার জন্যই হোক।মন পবিত্র রাখবে জান্নাতে যাওয়ার জন্য না,চারপাশের পরিবেশের সৌন্দর্য অনুভব করার জন্য।তা না হলে জাহান্নামে গিয়েও বিরক্ত লাগবে।"
খুনী !
কোন কোন রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে একটি ছায়া কেঁপে ওঠে। বারান্দার গ্রীলে কপাল ঠেকিয়ে কান্নাকে দেয় সযতন ছোঁয়া। কখনোবা উদাস চোখে চেয়ে থাকে আকাশের দিকে। কখনো জ্যোৎস্না থাকে কখনোবা অমাবশ্যার ভ্রুকুটি। কোন কোন রাত বাতাসহীন দমবন্ধ প্রহর। আবার কখনো সারা ঘরে বাতাসের কোলাহল।
যেবার হিমালয়ে গেলাম। বরফের রাজ্যে। সেখানেও ছায়াময়ী! আমার পাশাপাশি চলছে পা-হীন পদক্ষেপে।মৃদু বাতাসে উড়ছে চুল। জড়াচ্ছে বরফের কুচি। ক্লান্তিতে চোখ বুজে এলে স্বপ্নচূড়ায় ও-ই পৌঁছে দেয় আমাকে -বলেছিল এক অচেনা শেরপা।
আজ প্রখর রোদের নীচে লেকের পাড়ে তাকে দেখলাম। অন্যমনস্ক, নি:সঙ্গ এবং স্বাধীন। বাতাস নেই তাই চুলও সংযত-সদালাপি। আমরা পরস্পরকে আড়চোখে দেখলাম। পানিতে একটানা ঘাই মেরে যাচ্ছে কোন বিরহী মাছ। ডুব সাঁতারে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলছে কয়েকটি বালক। তারপর জেগে ওঠা ঘুর্ণিতে হঠাৎ উড়ে গেল মেয়েটি। যেভাবে প্রতি রাতেই হারিয়ে যায় তার ছায়ারূপ।
ডাক্তার বলেছিল চিকিৎসায় সেরে যাবে। আমিও জেনে গেছি যাবতীয় অসুখের একমাত্র পথ্য এই মানবী। আমি তার খুনী হব কোন সাহসে !
বুর্জোয়া জেনারেলের তথাকথিত সৈনিক জীবনে ফিরে দেখা!
বই নিয়ে আমার গত পোষ্ট ছিল কর্নেল হুদা ও তার সময়কে নিয়ে তার স্ত্রীর লেখা বই, সন্দেহ নাই বইটা অসাধারণ। তিন চার দিন আগে আমি পড়া শেষ করলাম মেজর জেনারেল মনজুর রশীদ খান (অব,) লিখিত 'আমার সৈনিক জীবনঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ'। বইটা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার হুদা কে নিয়ে লিখিত বইটার প্রায় বিপরীত মুখী আরেক সেনা কর্মকর্তার বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গীতে তার যাপিত সেনা জীবনের বিবরন। এইটাও প্রথমা থেকে বের হওয়া, বইটার দাম অনেক, ৫০০ টাকা। দারুন বাধাই ও ঝকঝকে মুদ্রন, প্রচ্ছদে দেখতে আকর্ষনীয় একটা বই। ভারতে রুপীর দাম নাকি শেয়ার বাজারের কারনে হু হু করে নামতেছে। কার মুখে জানি শুনলাম ১০০ টাকায় এখন ৮২ রুপি। সমান সমান হয়ে গেলে বড়ই সুখের দিন। কলকাতার বইয়ের দাম আরেকটু সুলভ মুল্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু বাংলাদেশী একেকটা বইয়ের যে অগ্নিমুল্য তা খুব বেশী প্যাশান না থাকলে কিনতে পারাটাও খুব কষ্ট। লোকজনের মুখে শুনি বিদেশে বইয়ের দাম কত সস্তা তা নিয়ে আলাপ। কিন্তু বাংলাদেশে আগামী দিনে ৪- ৫ ফর্মার তরুন তরুনীদের জন্য লেখা হালকা উপন্যাস চারশো পাচশো টাকাতে বেচতে দেখলেও খুব বেশী অবাক হবো না!
ঘুম ঘুম
ঘুম ভেঙ্গেছিলো বেলা ১১:৩০টায়। মাথায় বিনি কেটে দিলো ঘুম যে গভীর হয় সেটা জানা ছিলো না। বিনি কাটা বন্ধ হয়েছিলো বলেই ঘুমটা ভেঙ্গেছিলো এটা আমি নিশ্চিত। চোখ মেলে দেখি সোনিয়া পিংক রঙ্গের অন্তর্বাসে আমাকে দেখছে। আমি মুচকী হেসে চোখ বন্ধ করে বললাম,"আমাকে কি হোসনি মোবারকের মতো লাগছে?"
: একটু পর আমার বয়ফ্রেন্ড আসবে। সে এসে তোমাকে যে কি করবে সেটা ভেবে হাসছি।
ঘুম আমার দৌড়ে পালাল। তড়াক করে বিছানা ছেড়ে প্যান্ট খুজতে লাগলাম এমন সময় সোনিয়া বললো,"আন্ডারওয়্যারটা বাথটাবে, প্যান্ট টা সোফার ওপর। আর টি শার্ট জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো। আচ্ছা একটা কথা বলতো, তোমার হ্যাংওভার হলে এত চিৎকার করো কেন?"
: (আমি প্যান্ট খুজতে খুজতে) তোমার বয় ফ্রেন্ড কখন আসবে?
: ও নীচে দাড়িয়ে আছে। তুমি বের হলেই আমি চাবি জানালা দিয়ে ছুড়ে দেবো!
: তুমি আসলেই অদ্ভুত!
"ও আচ্ছা?" বলেই আবার শুরু হলো নখরামো। নিটল শরীরের ঘোর লাগা নখরামো। দুধে আলতা শরীরে যেন মাদকের ছোয়া। চোখ দুটো সামলে প্যান্টটা পড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে গেলাম। পকেট হাতড়ে মোবাইলটা বের করে দেখি দুটো মিসড কল অজানা নম্বর থেকে।