ইউজার লগইন
ব্লগ
ইতিহাসের ধারায় দূর্গা পূজা
ইতিহাসের ধারায় দূর্গা পূজা
--শাশ্বত স্বপন
বাংলাদেশ, পাকিস্থান, ভারত তথা ভারতবর্ষ অথবা পৃথিবীতে দূর্গোৎসবের কালক্রমিক ইতিহাস নির্মাণ করা এখনো সম্ভব হয়নি। এ কাজের উপযোগী সুস্পষ্ট ও অনুপুঙ্খ ধারাবাহিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়াও যায়নি। কোনো ইতিহাসবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীতে দূর্গোৎসবের উদ্ভবের ইতিহাস ও আনুষঙ্গিক ঘটনাপঞ্জি নির্ভরযোগ্য দলিলপত্র ঘেঁটে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হননি। ফলে কখন, কীভাবে দূর্গোৎসবের শুরু হলো তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে নানা ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও সূত্র থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
বৃষ্টিসকাল কাব্যপ্রলাপ!
গলেদের চিরাচরিত ভয়ই ফিরে এলো সকাল সকাল,
আকাশ ভেঙে পড়েছে আজ।
ভেঁজা রাস্তায় চুমু খেয়ে যায় এলোমেলো নিয়ন,
ঘুম ভেঙে অবাক চাহনীতে হেটে যায় মেঘসন্তানেরা।
আর জমে থাকা জলে জমা পড়ে বিরক্তি,
সান্তনার প্রলেপ বুলিয়ে ছুঁয়ে যায় বেখেয়ালী পথচলা।
এক আধটা চারচাকার কাঁচের কোলে ক্লান্ত বুড়ো ওয়াইপার,
ঘুম চোখে শুনিয়ে যায় চিরচেনা নতুন কোন গল্প।
রিকশার নীল পর্দার আড়ালে উঁকি দিয়ে যায় হাওয়া,
চোখ তুলে চাইলেই এলোকেশ ভালোবাসা।
বন্ধ দিনে অনুচিত খোলা যত ইস্কুল কলেজ,
মন খারাপের আজকের তরে ছুটি।
আর যার যত জমে থাকা কাজ,
টুকে রাখা থাক সব বাকির খাতায়।
বৃষ্টিই আজ টিভিপর্দায় ব্রেকিং নিউজ,
আর সব কিছুই ফাঁকি।
হাজার হোক,
আজ নয় ভেবে নিলাম
বিশ্ব বৃষ্টিছোঁয়া দিবস।
এতসব কথকতাতেই বা কি আসে যায় আজ!
কোথা থেকে আসা বাতাসে দোলা দিয়ে যাচ্ছে মনোহর সুবাস,
আমি বরং এখন আসি -
এক কাপ গরমাগরম মালটোভা চা হয়ে যাক।
খবর শুনেছেন নিশ্চয়ই?
গলেদের চিরাচরিত ভয়ই ফিরে এসেছে সকাল সকাল,
আকাশ ভেঙে পড়েছে আজ।।
রাজনীতি’র একাল সেকাল
আমি কোন রাজনীতিবিদ নই। ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম শখের বশে। কোন আদর্শের জন্য নয়। আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে যা কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে তাতেই জেনেছি আমাদের দেশের রাজনীতি কি এবং কেন?
দেখা গেছে মফস্বল থেকে এসে ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র বিশাল ঢাকা শহরের বিশাল পরিসরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হয় বেচারা প্রথম কিছুদিন আসলেই গোবেচারার মত সাধারন জীবন যাপন করে। হল ক্যান্টিন কিংবা গেটের পাশের ছাপড়া হোটেলে বন্ রুটি, কলা ,চা দিয়ে নাস্তা সেরে স্টার সিগারেট ধরিয়ে খাতা বগলে চেপে ক্লাসে যাওয়া। ক্লাস শেষে হলে ফিরে ডাইনিং এ খেয়ে দুপুরে ঘুম, বিকেলে সেজে গুজে মেয়েদের হলের সামনে ঘুরা ঘুরি করা, এই হচ্ছে শুরু’র জীবন।
এই ধরনের মানুষগুলি তখন চোখে পড়ে যায় হলের পাতি ছাত্র নেতাদের। এরা এই বোকা সোকা সহজ সরল ছাত্রদের সিঙ্গেল রুম , হল ক্যাফেটেরিয়ায় ফ্রি খাবারের সুযোগ এইসব লোভ দেখিয়ে নিজের দলে ভিড়ায়। আর দলে না ভিড়েও কোন উপায় নাই। যোগ না দিলে মার খাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা, সিট হারানো সহ হল থেকে বিতাড়িত হতে হয়।
অসীম প্রতিক্ষা
দুই আংগুলের ফাঁকের ধুম্রশলাকাটি অবিরাম জ্বলছে। ধোঁয়াটে পরিবেশ। ছেলেটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভেজা রাস্তায়।
রাস্তাটি সচরাচর ধুলোমাখা থাকে। তবে আজ আকাশের মন খারাপ। তাই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই কয়েক ফোটা জলে ধুলোমাখা পথঘাট কর্দমাক্ত।
গন্তব্যের দিকে ছুটে চলা প্রতিটি দ্রুতগতির গাড়ি রাস্তার কাদাজলে মাখামাখি। সাদা গাড়ির গায়ে কাদার মেটে রং সাথে হ্যালোজেন আলো এক মুগ্ধকর পরিবেশ।
ঘরের বাইরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ আর ঘরের ভেতরে ধোঁয়াটে আবেশ। সব মিলিয়ে একটি অতিসাধারণ রাত একজন নিভৃতচারীর কাছে। তার কাছে সকল রাতই অতিসাধারণ। ছেলেটির ধারনা তার রাতের দরকার নাই, কিন্তু রাতের তাকে প্রয়োজন। রাত তার কাছে শুধুই কিছু সময়ের ব্যাপ্তি, কিন্তু অনেকের কাছেই হয়তো নতুন কিছুর শুরু।
অনুভূতি
অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ায় কেবলই
ভুলেভরা সময়ের হিসাব মিলাতে
নিঃশব্দ আর্তনাদগুলো অলক্ষ্যেই
নিজের ভিতরে গুমরে গুমরে কাঁদে।
অপ্রকাশিত অভিমানে ছুটে চলে
লক্ষ্যবিহীন পথে, রঙমেখে সং সেজে কেউ কেউ
ভাল থাকার সুনিপুণ অভিনয় করে যায় একাগ্রচিত্তে।
ঠুনকো কাগজি সম্পর্কের জের ধরে
এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাপিত জীবনটাকে
একসময় বড় অপাংক্তেয় মনে হয়।
অর্থহীন পৃথিবীতে বেঁচে থাকার
অদম্য ইচ্ছাটাও ফিকে হয়ে আসে ক্রমশ,
আর পাথর ভাঙার মত করে বুকের ভিতর
ক্রমাগত বাজে নিষ্পেষণের হাহাকার!
নিজের সাথেই চলে বোঝাপড়ার অদ্ভুত আয়োজন
অব্যক্ত অনুভূতি জানান দিয়ে যায়
আধখানা চাঁদ কখনও ঢেকে দিতে পারেনা
বেদনার চাঁদরে মোড়ানো জমাট অন্ধকার।
ধারাবাহিক উপন্যাসঃ কাক-জ্যোৎস্নায় কাক-ভোর (পর্ব-২)
ধারাবাহিক উপন্যাসঃ কাক-জ্যোৎস্নায় কাক-ভোর (পর্ব-২)
--শাশ্বত স্বপন
ঈশ্বরের চেতনা
আসবাবপত্রহীন ঘর অনেকটা সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর মতই। যখন সে ঘুমিয়ে থাকে তখন যে কারো মনেই বয়ে যায় প্রশান্তির হাওয়া। এক অজানা সুখ মুখে ছোট্ট হাসি এনে দেয়, সারা শরীরে বয়ে চলে এক অদ্ভুত আদুরে অনুভূতি। এই ছোয়াচে আদরের সংক্রমন উপেক্ষা করা কঠিন, তেমনি কঠিন হয়ে যায় ৩ দিন পর নিজ রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়া, শার্সিতে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোটা দেখতে থাকা।
অদ্ভুত আলস্যে দিন গুলো কেটে যায়। ৮ টা ঘন্টা টানা পরিশ্রমের পর বসে থাকি, কথা বলি। খেতে থাকি যতক্ষন না উদর পূর্তি হয় অথবা চেতনা গুলো হারিয়ে যায় রঙ্গিন পানির নেশায়। কখনো সে নেশার আতুরতা সেটে যায় নগ্ন শরীরের অলিগলিতে। হরমোনের প্রবল স্রোতে ককেশীয় চামড়ার সোদা গন্ধে নিজের সচেতনাকে মেরে ফেলার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়তোবা সার্থকও হয়। চিন্তা করতে চাই না এহেন অনুশোচনার।স্বপ্নে তলিয়ে যাক আমার প্রতিটা সেকেন্ড।
ইক্ষু চোর
সূর্যি মামা তার বোন
ভূ-বোনের বাড়ী থেকে
আধ ঘণ্টা আগে বিদায়
নিয়েছেন।
৭-৮ বছরের দুটি কিশোর
এবং তাদের চেয়ে এক দু
বছরের বড় দুটি কিশোরী
এক সাথে সরকারি ইক্ষু খামারে
আক্রমণ চালালো।
কড় কড় মড় মড় শব্দ।
তড়িত কাজ সমাধা করতে হবে।
তাই পাল্লা দিয়ে
একেক জনের
কড় কড় মড় মড় শব্দ,
গুলো যেন উচ্চ নিনাদে
প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
কে রে কে ?
কে কুশার ভাঙ্গে।
শব্দ গুলো কানে এসেছে
কি আসে নাই।
সাক্ষাত যম সম ওয়াচ ম্যানের
হাত আমার গর্দানে।
পাশ ফিরে দেখি
অভিজ্ঞ সঙ্গীরা সবাই পগার পার।
বাড়ী কোথায়?
বাবার নাম কি?
কে শুনে কার কথা।
কান্নার বাহানায় চিৎকার,
প্রশ্ন যত বাড়ে চিৎকারের জোর ও
তত বাড়ে।
হাটুরেরা হাট থেকে ফিরছে,
তাদের মধ্যে ভারত থেকে আগত
রিফিউজি আমাদের জমির বর্গা চাষি।
চিৎকার শুনে কাছে এসেই আমাকে
চিনতে পারে। বাবার নাম বলার সাথে সাথে
ওয়াচ ম্যান চিনতে পেরে ছেড়ে দিল।
না শুধু ছেড়েই দিল না
বাড়িতে পৌঁছে দিতে চাইল।
বড় ভাই শুনলে মারের চোটে
পিঠের চামড়া কোথায় যাবে,
নিজেও চিন্তা করতে পারছিলাম না।
তাই ওয়াচ ম্যানকে বললাম।
না বাড়ী যাব না।
বেহায়া শৈশব
শৈশবের কাঁটাচামচ চাদরে আটকে আছে শীত
তাই আমি প্রাণপনে জড়িয়েছি বড় হওয়ার এই ওম কাঁথা
রোদ পোহাবো, মন পোহাবো, মুখ ঘষবো সোঁদা সোঁদা আবেগে
দোলনা দুলেছে সেই কতকাল আগে...
ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু মনে নেই, মনে নেই
মনে নেই, ফেলে আসা মাটি, উপড়ে ফেলা শিকড়
মায়ের ঘাম গন্ধ, বাবার আঙুল খেলা
এখন আমার কেবল মনে আছে
ফাঁকফোকড়, ভোঁ ঘুড্ডি মুখ থ্যাঁতলানো হাসি
ও শৈশব, যেদিন ছেড়ে গেছি তোমায়
সেদিনই লেগেছে তারুণ্যের তপ্ত রোদ
তবু আজ এই মরা গধূলীতে দাঁড়িয়ে
আমি কেবল ভুলতে চাইছি ছেলেবেলা
তবু যায় না....বেহায়া শৈশব..
আমার মুখে লেগে থাকা দুধেল গন্ধ যায় না।।
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১৪)
জ্যোতি বসু

কমরেড জ্যোতি বসু শুধু ভারতে নয় এই উপমহাদেশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতা ১৯১৪ সালের ৮ই জুলাই কলকাতার হ্যারিসন রোডের একটি শিক্ষিত উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্ম জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা নিশিকান্ত বসু ছিলেন একজন চিকিৎসক। ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স শেষে বিলাত থেকে ব্যরিস্টার হয়ে দেশে ফিরে ব্যরিস্টারী না করে যোগ দিলেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। মানুষের প্রতি তাঁর কর্তব্যবোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বর্নাঢ্য কর্মজীবন তাঁকে এক অনন্য স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
………………মা……………….
কোন আকাশে, কোন সমুদ্দুর
কোন তেপান্তরের পারে
কোথায় আছ কেমন আছ
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো-
জানতে ইচ্ছা করে।।
তোমায় যখন কবরে রাখি
কি করে বলি আমি
ঐশী রূপে সেজেছিল
কেউ তো দেখেনি
মাগো-
কেউ তো দেখেনি।
উত্তর শিয়ান পশ্চিম কাতে
যখন শোয়াই তোমাকে
এ কোন রূপে দেখলাম মাগো
সদাই মনে পড়ে,
কোন আকাশে, কোন সমুদ্দুর
কোন তেপান্তরের পারে
কোথায় আছ কেমন আছ
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো-
জানতে ইচ্ছা করে।।
যত হুকুম করেছেন খোদা
পালন করতে চেয়েছ তুমি
গভীর রাতে ঘুম ভাংলে দেখতাম
নামজ নয়ত কোরান পড়ছ তুমি
যার ধ্যানে, যার আহবানে
সকলকে গেলে ছাড়ি
কেমন আছ তাঁর কাছে
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো
জানতে ইচ্ছা করে
কোন আকাশে, কোন সমুদ্দুর
কোন তেপান্তরের পারে
কোথায় আছ কেমন আছ
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো-
জানতে ইচ্ছা করে।।
সেপ্টেম্বর,২৯,২০১৩
সিরাজগঞ্জ
যে কথাটা ওই পক্ষের জানা থাকা দরকার
জামাত-শিবিরের ভক্ত-অনুসারী-সমর্থকরা ছড়িয়ে আছে চারপাশে। বিশেষ করে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এদের সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করার বিষয়টা কঠিন হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এরা প্রথম থেকেই কাদের মোল্লা ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ না হয়, সে ব্যপারে সচেষ্ট ছিলো। কোনো কোনো পর্যায়ে সফল হয়েছে। সে সময় গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের কাজ করাটা কঠিন করে তুলতে এ গোষ্ঠী খুব চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে এরা হেফাজতের পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমে গরম গরম প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এসব ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ গণমাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে এক ধরনের মেরুকরণও হয়ে গেছে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: আন্তর্জাতিক দায় ও দায়িত্ব
সুন্দরবন যেমন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ তেমনি এটি একটি রামসার সাইট। তাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এই বনকে রক্ষা করা যেমন দেশের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব তেমনি এর প্রতি দায় রয়েছে বিশ্বের সকল সচেতন মানুষের। তবু এই বন উজাড় ও পরিবেশ দূষণের হুমকি উপেক্ষা করে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে সুন্দরবন এলাকায় প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অথচ ইআইএ () প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রস্তাবিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদিও সরকার নির্ধারিত সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটার পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ (ইসিএ) থেকে চার কিলোমিটার বাইরে বলে নিরাপদ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু জিআইএস সফটওয়্যার দিয়ে মেপে দেখা যায়, এই দূরত্ব সর্বনিম্ন ৯ কিলোমিটার হতে সর্বোচ্চ ১৩ কিলোমিটার।
আবছায়া বিকেলে
শেষ বিকেলের আলো-আঁধারের কাঁধে মাথা রাখবে বলে
ঝুঁকছে রাতের দিকে।
কেউ বাঁধছে খোঁপা, কেউ জুতোর ফিতে
ছুটির দিনের উৎসবে যোগ দেবে বলে;
মগ্ন নিদ্রায় কি বিনোদনের খোঁজে সবাই ব্যস্ত
শুধু আমার কোন কাজ নেই-
ঝলসে ওঠা আড্ডার সলতে নেই;
তোমাদের মন খারাপে আমি উপশম
তোমাদের যে কোন বিপদে আমি বন্ধু পরম,
আমারও মনের পর্দা ছিঁড়ে যায়,
আমারও কখনো কখনো অশ্রুজল্ ই সহায়,
আমাকে খই-রঙা সকাল কি সর্ষে বিকেল
উপহার দেবার কেউ নেই - আমার আশ্রয়
আজ আধফোটা বোলের একমাত্র আত্মজাই।
২৭.০৯.১৩ [৫:৫৫ বিকেল, শুক্রবার]
নীল উইপোকাদের বাস্তবতা কিংবা কল্পনায় গন্তব্য খোঁজার চেষ্টা
একটি সমবায়ী পিঁপড়া তার নিজের চেয়ে অনেকবড় আকারের কিছু একটা দাঁতে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ঘরের কালো অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে কথাটা ভাবছিলাম। হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই, আবার হলেও খুব বেশি সুবিধা নেই। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে বেঁচে থাকা একজন ছাপোষা কেরানী না হয়ে যদি ষাটের দশকের একজন বিটনিক হতাম, তাহলে কি ক্ষতি হতো?
কোনো এক প্রেম হাওয়ায় পেয়ে হাওয়ায় হারানোর পর চন্দ্রবিন্দুর অনিন্দ্য খুব সুন্দর একটি গান গেয়েছে। শিরোনাম হচ্ছে মন। শুনছি গানটা। আর কিছুই করা হচ্ছে না। মন আলেয়া পোড়ালো খালি হাত, মন জাগে না জাগে না সারারাত। রাত যত গভীর হচ্ছে, সুরটা তত মধুর হয়ে কানে প্রবেশ করছে। টেট্রা হাইড্রো ক্যানাবিনল মেশানো একটি সিগারেটের অভাবে ফুসফুস হাঁপিয়ে উঠছে। আধেক শোয়া অবস্থা ছেড়ে উঠে একটু কষ্ট স্বীকার করলেই নির্বাণলাভ সম্ভব। অথচ ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে এভাবে বুকের ভেতর একটা ক্লান্ত ফুসফুস নিয়ে শুয়ে থাকি অনন্তকাল। আর স্পিকারে বাজতে থাকুক, নাহয় পকেটে খুচরো পাথর রাখলাম।