ইউজার লগইন
ব্লগ
দেহরক্ষী!
'বহুল আলোচিত' সিনেমা দেহরক্ষী দেখলাম গতকাল। ফার্মগেটের আনন্দ হলে। আনিসুর রহমান মিলন, মারুফ এবং দেহসর্বস্ব নায়িকা ববি―কমবেশি সবার প্রতিই বিরক্তি জেগেছে। ডিমের নাম যেমন আন্ডা, তেমনি সব বাংলা সিনেমাই মূলত এক। আমাদের দেশে সিনেমা হয় না, হয় 'বাংলা সিনেমা'!
বিগ বাজেটের ছবিতেও বাড়তি কিছু পাওয়া যায় না।
নায়িকার ক্ষুরধার ফিগারই যদি ছবি হিট করতে ভূমিকা রাখতো, তাহলে সবাই তা-ই করতো। নায়িকারাও অভিনয় না শিখে ফিগার ঠিক করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতেন। কিন্তু ছোটখাটো এসব জিনিস ঢাকাই ছবির পরিচালকরা বোঝেন না।
'দেহরক্ষী' দেখার পর মনে হলো, একটা রামছাগল যতটুকু বুদ্ধি ধারণ করে, আমাদের দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা ততটুকু বুদ্ধিও রাখেন না।
এরা পারেন শুধু মুখস্থ সংলাপ বলতে আর পরিচালক-প্রযোজকের ন্যাওটা হয়ে থাকতে।
নিজের বুদ্ধি থেকে এরা গল্পের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না, ফাও সংলাপ ডেলিভারি দেয়ার আগেও কোনো আপত্তি তোলেন না। 'জি হুজুর' বলতে যারা অভস্ত, তাদের আপত্তি থাকার কথাও না।
এমন 'অনুগত' লোক লইয়া আমরা―সিনেমার দর্শকরা কী করিবো!?
আই উইশ আই ওয়াজ ইনভিজিবল!
১.
একজন বন্ধু লিখেছেন, আই উইশ আই ওয়াজ ইনভিজিবল!
পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সবার মনের আশা একই রকম থাকে কেন? আমার তো সেই কবে থেকে ইচ্ছে করে অদৃশ্য হয়ে যেতে। ইচ্ছেগুলো পূরণ হয় না। শুধু বিভিন্ন রকম ফর্ম পূরণ হয়, বছরজুড়ে।
দেউলিয়াত্ব ক্রমে খুবলে খাচ্ছে শরীর। মনটাকে তো খেয়েছে সে প্রক্রিয়াটির শুরুর দিনে। আর মগজ খেয়েছে অনেক আগে। বালুমানবকেই মনে পড়ে আজকাল শুধু।
২.
চলছে জীবন নিজের গতিতে। আশপাশে কত কিছু ঘটে যায়। একটা আড়াই বছরের বাচ্চা তিনতলা থেকে পড়ে যাবার সময় তাকে ধরে ফেলে কয়েকজন কারখানা শ্রমিক। ইন্দোনেশিয়ায় বন পুড়ানোর কারণে সিঙ্গাপুরের বাতাসে কার্বনের মাত্রা বেড়ে যায়। জীবন বাজি রেখে যে শ্রমিক বড় বড় ইমারত নির্মাণ করে, সে কোনোদিনও পায় না ওই ইমারতে বসবাসের আস্বাদ। অথচ তারপরও প্রতিটি মানুষের কাছে তার জীবনই মুখ্য। নিজের জীবনটাকে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে ভালোবাসে এমন মানুষের সংখ্যা কত পৃথিবীতে। হাতে গুণে কি শেষ করা যাবে?
৩.
টেলিফোনের আলাপন
- ক্রিং ক্রিং টেলিফোন! হ্যালো হ্যালো হ্যালো!!
- কে তুমি? কাকে চাও বলো বলো বলো?
- আমি ম্যাও, হুলো ক্যাট! ইদুঁর’কে চাই, জরুরী আলাপ আছে, তুমি কে হে ভাই?
- আমিই ইদুঁর, তবে কথা হলো এই, আমি গেছি মার্কেটে, বাড়িতে নেই!!
……
ছোট্টবেলায় শোনা এই ছড়াটা নেহাৎ মিথ্যে নয়, সব রকমের দরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি, যুগে যুগে এমনি গা বাচিঁয়ে চলার এক মোক্ষম উপায় হলো টেলিফোন। টেলিফোনের উত্তরোত্তর উন্নয়নের কল্যানের ফল যে মোবাইল ফোন তা তো এহেন ইদুঁর-বেড়াল লুকোচুরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! অফিসের বস, ঘরের বৌ, কিবা এড়িয়ে যেতে চাওয়া বন্ধু – এমনি আরো নানান বেগতিক পরিস্থিতির সবার কাছে থেকে বাচঁতে অবলীলায় এটা ওটা বলে পার পেয়ে যাচ্ছি! আবার করেও চলছি নানান মিথ্যের বেসাতি।
মরণ নেশা
শীতের দুপুরে লাঞ্চ সেরে বিল্ডিং এর বাইরে দাঁড়িয়ে হীমশীতল বাতাস থেকে বাঁচার জন্য জ্যাকেটের হুডটা মাথার উপর টেনে দিয়ে বিড়ি টানছিলাম আপন মনে। সামনের সাইড ওয়াক দিয়ে হাজার কিসিমের চেহারার মানুষ আসছে আর যাচ্ছে। খুব মনোযোগ দিয়ে না, এমনি ই তাকিয়ে আছি আপন মনে। হটাত মনে হোলো পরিচিত কেউ যেন হেঁটে যাচ্ছে একটা খাবারের ডেলিভারি নিয়ে। সিউর হবার আগেই বেশ সামনে চলে দৃষ্টি সীমার। কিছু না ভেবেই হটাত চিৎকার করে ডেকে উঠলাম " হিরা ভাই ই ই"।
আন্দাজ একেবারেই ভুল হয় নাই । হটাত থেমে গিয়ে পিছন ফিরে তাকালো । কাছে এগিয়ে আসলো। আমাকে ভাল করে দেখে ঠোটের কোনায় হাসি ফুটে উঠলো।
" আরে মিয়া , তুমি এখানে কি কর"? বলে উঠলো উনি।
কিছু রঙ্গিন বাস্তব .………
(পর্ব -১)
অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ে নাম না হয় নাই
বা দিলাম , না থাক একটা নাম না দিলে গল্পের
অপূর্নতা যেন থেকেই যায়।
নাম রবীন্দ্র কাকুর কবিতা টেনেই শেফালীমল্লিকাই
দিলাম। 
সুন্দরের কথা তো বলেই দিয়েছি আসলে তার
সুন্দরতা এতোই বেশি যে কথার মাঝে মাঝে তার
সুন্দরতা ঢুকেেই পরে।
ছোট বেলাই বড়দের মুখ থেকেই শুনা
যে প্রেমের চোখে নাকি পেত্নী রাও অপরূপ .
জানিনা এই গল্পে ও তার
কোনো ছায়া আছে কিনা কারন এই গল্পের নায়ক
আমি নিজেই। 
সে আমায় দিগন্ত বলে ডাকত.
আমি ভেবে নিয়েছিলাম
এটা কোনো সিকিউরিটি হতে পারে কিন্তু
সে তা ভুল প্রমাণিত করে একটা বর্ণনা দার
করিয়েছিলো . বর্ণনা টি --
আমার সাথে নাকি আকাশের এক অদ্ভুত মিল।
দুজনই অসীম তবে আমাদের মধ্যে নাকি একদিনেই
ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যায় .
( এখানে আকাশটা সংগে থাকায় আমাদের লিখা।) 
নাম টা আমার পছন্দ হওয়ায় কখনো বাধা ও
দেয়া হয়নি।
এবার সম্পর্কে আশা যাক--
আমদের সম্পর্ক বন্ধু দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়
টা শেষ ধাপ অবদি পোছে গিয়েছিল ,
নিজেদের অজান্তেই .
হটাৎ কোনো এক সময় এসে আবিষ্কার করলাম
আততায়ী বইটি হাতে পেয়ে……
১.
আমার পড়া প্রথম মাসুদ রানার বই স্বর্ণমৃগ। তখন ক্যাডেট কলেজে পড়ি। সেখানে গল্পের বই পড়া নিষিদ্ধ। মাসুদ রানা ছিল আরও নিষিদ্ধ। কারণ সেখানে যৌনতা থাকে। মাসুদ রানা বড়দের বড়. লেখা থাকতো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য।
ক্যাডেট কলেজ জীবনের সমস্যা হচ্ছে কলেজে থাকলে মনে হতো কবে বাসায় যাবো। আর বাসায় গেলে মনে হতো কবে কলেজে ফিরে যাবো। সে সরকম এক মনখারাপের দিনে হাতে পাই স্বর্ণমৃগ বইটি। মুভি অব দ্য উইকে সেন্সর করা কিছু ইংরেজি সিনেমা দেখতে পেতাম। সুতরাং জেমস বন্ডের সিনেমাগুলো দেখার সুযোগ ছিল না। ফলে জানতে পারিনি স্বর্ণমৃগের মূল গল্প কোথা থেকে নেওয়া।
মনে আছে মন ভাল হয়ে গিয়েছিল, আর পেয়েছিলাম এক নতুন গুপ্তধনের সংবাদ। সেই যে মা
সুদ রানা ডুবলাম, আগের মতো না হলেও এখনও আছি। আমার শৈশবের বড় সঙ্গী মাসুদ রানা।
২.
প্রেম থেকে অপ্রেমে
মুখবন্ধ
সাধারণ মানুষ,ছাপোষা জীবনযাপনকারী ন'টা-পাঁচটার বৃত্তেবন্দী লোভকামমোহমাৎসর্যে আকণ্ঠ ডুবে থাকা জীবনেও প্রেম আসে। প্রেম ছককাটা জীবনটাকে উল্টেপাল্টে দেয়, নতুন করে বাঁচতে শেখায়। কিন্তু রোম্যান্সের চটজলদি আকুলতা কমলে যেটা পড়ে থাকে, সেটাকে প্রেমের ছাইভস্ম বলাটাই কি বেশি সঙ্গত? মানবিক টানাপোড়েন দানবিক হয়ে উঠলে প্রেম তো অপ্রেমেও পর্যবসিত হতে পারে দ্রুত, তাই না? ক'দিন আগে লেখা একটা সহজিয়া রোম্যান্সের পরিণতি নিয়ে ভাবছিলাম। বেশ কিছুটা লিখে ফেলেছিলাম- শেষটা এখনো চেষ্টা করছি মেলানোর। যদিও জীবনের হিসেব মেলানো খুব কঠিন।
১
এবং ‘হেমলক সোসাইটি’ : আত্মহত্যা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে কিছু কথকতা
মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই এমন কিছু বিষয় জানার বা উপলদ্ধির সীমানায় এসে ধরা দেয় যে, নিমিষেই মনে মনে বেশ আউলে যেতে হয়। জানার চাইতে না জানার পরিধিটা অনেক ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও নিজের অনুভূতি গুলি কারও না কারও সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হয়, অনেকটা বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডার ফাঁকেই হঠাৎ বলে ফেলা কিছু ওজনদার বিষয়ের মতন। এমনই একটা অবস্থায় আজ এই লেখা।
লেখাটাকে মুভিরিভিউ বলা উচিত হবে কি না বুঝতে পারছি না। মুভির চাইতে মুভিটার উপজীব্য বিষয়টুকু নিয়েই যেখানে কিছু একটা বলতে বা লিখে বোঝাতে চাইছি! যা লিখব বলে ভাবছি এ নিয়ে অনেকের লেখাই হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে কিন্তু এবিতে মাসুম ভাই বা অন্য কারও বয়ানে এমন কিছু চোখে পড়েনি বলেই এই দুঃসাহস।
প্রায় বছরদেড়েকের পুরানো একটা ভারতীয় বাংলা মুভি দেখলাম আজ। 'অটোগ্রাফ' আর 'বাইশে শ্রাবণ' এর পর শ্রীজিত মুখার্জী'র তৃতীয় মুভি 'হেমলক সোসাইটি' , মুভিটা এখন পর্যন্ত না দেখে থাকলেও এর গানগুলির জন্যই হয়তো চেনা লাগবে অনেকের কাছেই।
টেলিভিশনের ঈদ কিংবা ঈদে টেলিভিশন!
এই পোষ্টটা সবার জন্য না। প্রধানত তাদের জন্যই যারা কাচা হাতের সমালোচনা সহ্য করার মানসিক ক্ষমতা রাখেন, যারা তাদের পছন্দের তারকাকে বকা সহ্য করতে পারবেন, যাদের দেখতে পারেন না তাঁদের যদি আমার পছন্দ থাকে তবে তাঁদের নিয়ে ভালো কথাবার্তা শুনেও মন ঠিক রাখতে পারবেন আর শেষমেষ যারা টিভি দেখাকে পছন্দ করেন কিংবা এখন না দেখলেও খোজ খবর জানতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই এই বিলম্বিত প্রয়াস। জর্নাল আকারে লিখলে তিন চার পর্ব করে লেখা যেত,সেরকমই ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু এখন প্ল্যান চেঞ্জ। এক পোষ্টেই সব কিছু তুলে দেয়ার চেষ্টাতে আছি। তাই যা দেখছি তার অনেক কিছু নিয়েই লেখা হবে না। লেখার এক বিন্ধু ইচ্ছা নাই তাও মনে হলো আজ যদি না লিখি তাহলে আর লেখাই হবে না। বাড়ীতে দুই ব্যাটারীর রিমোটে কত হাজার বার টিপলাম সমানে তার ফিরিস্থি জানানোই গেল না। আমাদের বাড়ীতে সব চ্যানেল আসে না। বাংলা চ্যানেল গুলার ভেতরে এশিয়ান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এস এ টিভি, এটিএন নিউজ এই সব আসে না। হিন্দী চ্যানেল তো রাশি রাশি আসে না, একটা হিন্দী গানের চ্যানেল পর্যন্ত নাই। তাও এই সীমিত সামর্থ্য দিয়েই দেখতে দেখতে হয়রান। তবে রাত সাড়ে দশটা এগারোটার পরে আর টিভি দেখি নি। কার
দা পারফেক্ট ক্রাইম
রাত দু'টো বাজে। আমি আর সামান্থা পা টিপে টিপে রান্নাঘরের দিকে এগোলাম। রান্নাঘরে এত রাতে কেউ থাকবে না। এই তো সুযোগ। যা করার করতে হবে এখনই। কিন্তু এ কি? রান্না ঘরে একটা নারীমূর্তি ফিসফাস করে কার সাথে যেন কথা বলছে ফোনে! সামান্থা গুঙিয়ে উঠে বলল,
"ওহ, নট এগেইন! এই মেয়ে কথা শুরু করলে দু'ঘন্টার আগে থামে না।"
আমি রেগে গিয়ে বললাম, "না থামুক আমাদের কি? শী ইজ আ আগলি উইচ! ওর বয়ফ্রেন্ডের টাকার গচ্চা যাচ্ছে। হু গিভস আ শিট?"
"তুমি আসলেই একটা বোকা। ও দুই ঘন্টা কথা বললে আমরা কিভাবে যাব ওখানে?"
"ওপস! ইট'জ আ প্রবলেম বেইব!"
"এক কাজ করতে হবে, এডামস! পারবে?"
"কি কাজ?"
"মেয়েটা লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলে প্রতিদিন, ওর মা জানে না। ওর মাকে জানিয়ে দিতে হবে। তাহলে কাল থেকে রান্নাঘরটা ফ্রি! সারারাত আমাদের।"
"কিন্তু আমরা কিভাবে বলব? আমাদের দেখলেই তো মারার জন্য তেরে আসে মুটকিটা! দা ফ্যাট বিচ!!"
"শোনো, আমার প্ল্যানটা বলি।"
সামান্থা বলল ওর প্ল্যানটা।
"বুঝলে এডামস?"
"হুম!"
"দ্যান রেডি, স্টেডি, গো!"
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১২)
ম্যারিয়েটা
একাত্তর কাঁদিয়েছে অনেককে। খোকার জন্য মা, বাবার জন্য সন্তান, স্বামীর জন্য স্ত্রী কিংবা ভাইয়ের জন্য বোন! এ তো গেল সর্বস্ব হারানো অসহায় বাঙালীদের কথা কিন্তু একাত্তরের দুর্দিনে বাঙ্গালীরা ছাড়াও কেঁদেছে অনেক ভিনদেশী মানুষ! তারাই আমাদের দুর্দিনের বন্ধু, সুহৃদ।
ম্যারিয়েটা, পুরো নাম ম্যারিয়েটা প্রকোপে। অক্সফোর্ডে পড়ুয়া পঁচিশ বছরের স্মার্ট, সুন্দরী এক বৃটিশ তরুণী। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে কি ঘটছে তার বয়সী অনেক তরুণ-তরুনীদের মনেই সাধারণত তেমন কোন প্রভাব ফেলে না কিন্তু এই তরুণীর ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের দুঃখকষ্ট দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। কখনও বাংলাদেশ দেখেননি ম্যারিয়েটা। গনমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ছবি, এদেশের মানুষের উপর অত্যাচারের চিত্র চোখে পানি ঝরিয়েছে তার। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের দুঃখ দুর্দশা সেই সময় কাঁদিয়েছিল এই তরুণীকে।
"কালো বরফ" এর মোহাবিষ্টতা
অনেকদিন বাদে হওয়া বৃষ্টির কালে মাটি থেকে ওঠা সেই মাদকতাময় সোঁদাগন্ধ, কিবা না শুকানো মেহেদী লাগানো হাত থেকে আসা সুবাস, কিবা কারুর লম্বা আঙ্গুলের নখ নিয়ে খেলা করার উদ্গ্রবাসনা– ভালো লাগার এই ছোট্ট ছোট্ট বোধগুলো অব্যক্তই রয়ে যায়, হয়তো খুব মনলাগা কারুর সাথেই কেবল এই ছোট্ট ছোট অনুভূতিগুলো ভাগাভাগি করে ফেলি, নয়তো রয়েই যায় মনের গহীনে একদমই না বলা হয়ে। হুড়মুড় করে কতো কি মনে পড়ছে, আরো কত নানান তালগোলের ভাবনায় পড়ে গেছি বইটা পড়তে পড়তে।উপহারে পাওয়া বই, তাতে আবার শুভকামনায় কবিতার লাইন উদ্ধৃত করা –“নদীর মতন ভালোবাসা আছে জানি, তবু কেন ভালোবাসা মরে যায় হেমন্ত,বৈশাখে?”
বেশ আগে পড়েছিলাম,”ভালো বই তাই যা চিন্তার খোরাক জোগায়, পারিপার্শ্বিকতার সাথে নিজের সম্পৃক্ততাকে অনুভব করায়, কেবল পড়ার জন্যেই পড়া নয়,মূহুর্তগুলো ছুয়েঁ রয়ে যায়” – সত্যিকার অর্থে মাহমুদুল হক – এর লেখা ‘কালো বরফ’ তেমনি একটা বই। কালোত্তীর্নই বলতে চাই বইটাকে। নইলে সেই কবে ২১-৩০ আগস্ট, ১৯৭৭ সালে লেখা এই বই কি ভীষন রকমের আধুনিক!
দিল্লির কেচ্ছা
দিল্লি নিয়ে কিছু লেখার আগে আমার এক বন্ধুর গল্প বলি। অত্যন্ত দয়ালু মানুষ। উপকার করতে পারলে বর্তে যান। এই উপকার অবশ্য পরিবহন খাত সংক্রান্ত। ধরা যাক কাজ করতে গিয়ে অনেক রাত হয়ে গেছে। বাসায় যাওয়ার গাড়ি নেই। কিংবা দিনের বেলাতেই হঠাৎ কাজ পরে গেল, দ্রুত যেতে হবে-কোনো সমস্যা নেই। তিনি তো আছেনই। দ্রুত মোট সাইকেলের পেছনে বসিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি। তবে মোবাইল ফোন কোম্পানির মতো করে বলতে হয়, শর্ত প্রযোজ্য। শর্ত হচ্ছে, অবশ্যই এই সুযোগ কেবল মেয়েদের জন্য আর মোটর সাইকেলের পেছনে দুদিকে পা ছড়িয়ে বসতে হবে, ছেলেরা যেমন করে বসে।
মেয়েদের মোটর সাইকেলে বসিয়ে হঠাৎ হঠাৎ ব্রেক করা একটি পুরোনো অসুখ। কিন্তু বসার ভঙ্গী কেন পালটাতে হবে? অনেক গবেষণার পর আমাদেরই আরেক বন্ধু বের করলো আসল কারণ।
স্মৃতিকাতরতা - ০১
বয়েস বাড়িবার সাথে সাথে পুরনো স্মৃতি গুলো নড়াচড়া করিতে আরম্ভ করিয়াছে অধিক মাত্রায় । একাকী সময়ে শুধু স্মৃতি হাতড়ে ফিরি । হাতড়াতে হাতড়াতে ভাবিলাম, নাহ , এগুলো ব্লগে লিখিয়া যাই। পরে কেহ পড়িয়া জানিতে পারিবে, নতুন প্রজন্মের ছেলেপুলে বুঝিবে আমরা কিরূপ দিনাতিপাত করিয়াছি।
আজিকে লিখিবো টেলিফোন লইয়া। এ যুগের ছেলে মেয়ে , এমনকি ৩/৪ বছরের শিশু মোবাইল ফোন চিনিয়া যায়। আমার ৪ বছর বয়সী ভগ্নি পুত্র মোবাইল নিয়া গেইম বাহির করিয়া গেইম খেলে, বোনের রিং টোন বদলাইয়া নিজের মন মত করিয়া দেয়। আর গোঁফের রেখা আসিবার আগেই মোবাইল হাতে আসিয়া যায় ছোকড়াদের।
আকস্মিক বিস্ময়
বাতাসে শীতের একটা আভাস পাওয়া যায়, বোঝা যায় গ্রীস্মের সময় বিদায় নিচ্ছে। শরতকালের মৃদু টোকা মনের দুয়ারে সেসব স্মৃতিরা উকি দেয় যেখানে লেপ্টে আছে কাশ বনের ঢেউ অথবা ঝকঝকে আকাশের পূ্র্নিমা রোদ।
এখানে পূর্নিমা রাতে জ্যোসনার প্লাবন বোঝা যায় না, জনপদ উদাস হয়ে নদীর পাড়ে বসে ঢেউয়ের গান শোনে না। এখানে চলে সুরার জলে নেশাগ্রস্হ বন্যতা। হতে পারে তা আধুনিক যান্ত্রিকতার সুরে মোড়া ক্ষনিকের উচ্ছ্বাস অথবা অন্ধকার রূমে শুধু দৈহিক চাহিদার আদান প্রদান।
আজ পূর্নিমা কিনা জানা নেই, তবে সকাল থেকে মন চাইছিলো একটা খোলা মাঠে শুয়ে থাকি। মাথায় অনেক কিছু এলোমেলো ঘুরপাক খায়। রাস্তা দিয়ে যখন দেখি ছোট ছোট শিশুরা পপসিকলস হাতে নিয়ে ছুটো ছুটি করে তখন মন চায় এরকম একটাকে যদি কোলে নিয়ে সারা দিন হেসে খেলে বেড়াতাম অথবা ছুটির দিন পিকনিকে গিয়ে সোজা দোলনায় চড়িয়ে দিতাম! একটি জীবনের পূর্নতা হয়তো সংসারেই, এরকম চক্রের পূর্নতা দান করাতেই নিহিত।
বাসে ওঠে এসএল কার্ড মেশিনে চেক করার সময় হঠাৎ বাস ড্রাইভার বাংলায় বলে উঠলো,"আপনার পকেট থেকে বোধ হয় টাকা পড়ে গেছে!"