ইউজার লগইন
ব্লগ
আমার সন্তান আমার পৃথিবী
আমার যত সুখ সব কিছুই আমার দুই ছেলেকে ঘিরে। ওদের সামনে খুব বেশি আহ্লাদি করি না। বকা ঝকাও করি। কিন্তু চোখের আড়াল হলেই শুরু হয় ওদের মিস করা। ওরা খুব ভাল করে জানে আমাকে । আর তাই সেটার সুযোগও নেয় ।
আমি আমার অতীত খোজার চেষ্টা করি ছেলেদের মাঝে। কিন্তু ওদের সাথে আমার অতীতের কোন মিল নাই। আমার মত বদ কিসিমের হয় নাই আমার ছেলেগুলি। এত বেশি ভদ্র আর ভাল যে দেখলে মাঝে মাঝে নিজেরই মেজাজ খারাপ লাগে।
আমার আর ওদের বেড়ে উঠার পার্থক্য হল আমি ছিলাম অনেক মানুষের মধ্যে কিছুটা বেওয়ারিস ভাবে থাকা । ওরা বড় হয়েছে অনেক আদর,যত্নে,নিয়মের ভিতর। কোন মাথাব্যথা বিহীন , সামাজিক নিরাপত্তায়।তাই বলে ওদের “ফার্মের মুরগি” বলা যাবেনা।ভিন দেশের মাটিতে জন্ম নিলেও আমাদের দেশি কালচার, বাংলা ভাষা, আদব কায়দা, নামায রোযা, কোরান তেলাওয়াত সব কিছুই খুব ভাল ভাবে রপ্ত করেছে। দৈনন্দিন চর্চাও করে।
সুনামগঞ্জ হাওড়ে স্মৃতিময় দুই দিন
২৭ তারিখ রাত সাড়ে ১০ টার বিআরটিসিতে চেপে বসলাম আমরা ৩ জন। এক দিন আগে চলে গেছে আমাদের আরো ২ জন। তৃতীয় বারের মত আমরা যাচ্ছি সুনামগঞ্জ শিশু পল্লীতে। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে এতিম খানা। এর আগে দুবার গিয়ে সেখানকার ১০০ এতিম শিশুদের সাথে কিছু সময় কাটিয়েছিলাম। ওদের জন্য টুকটাক এটা-সেটা নিয়ে গিয়েছিলাম। শেশবারের মত ওদের দাবী ছিল- কিছু খেলনা। সেটা আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছোট মেয়েগুলো বায়না ধরেছে- আমরা কজন না গেলে ওরা সে খেলনায় চড়বে না। অগত্যা আমাদেরও যেতে হলো। আমরা মানে আমি, গিয়াস আহমেদ, রাশেদুল হুদা, অঞ্জন আর শিবানীদি। শিলং থেকে ট্যুর সংক্ষেপ করে আমাদের সাথে যোগ দিলো- সুবীর মহাজন আর চট্টগ্রাম থেকে সুবীরের বন্ধু ফারুক।
শৈশব
মানুষ বদলায় না, ঘোর নিঃসঙ্গ ব্যস্ত শহরের মানুষের ভেতরেও নিস্তব্ধ অবসর থাকে, তারাও উত্তেজনার খোরাক চায়, এই যে বয়স্ক মানুষটা হুট করে চিৎকার করে উঠলো, ফ্ল্যাটবাড়ীর গ্যারেজের দরজায়, অমনি আশেপাশের চায়ের দোকান-মুদির দোকান থেকে ছেলে বুড়ো সবাই হই হই হাজির হয়ে গেলো মজা দেখতে। এর ভেতরেও নিখাদ গ্রাম্যতা যে যে গ্রাম্যতায় পোষা গরু ছাগলের মতো গ্রামের পোষা পাগলকে দেখে ভয় ভয় উত্তেজনায় চলে আসে। এইসব মানুষদের ভেতরের ক্ষোভ কাউকে ক্ষুব্ধ করে না বরং এক ধরণের কৌতুকের জন্ম দেয়।
গ্রামের নিস্তরঙ্গ আলুনি জীবনে উত্তেজনা বয়ে নিয়ে আসতো এইসব বায়ুচড়া মানুষেরা, হঠাৎ চৈত মাসের দুপুরে লোকটা মাঠ থেকে ফিরে কিরম হয়ে গেল, বললো বৌ ভালো লাগে না- আমি তো বুঝি নি বু, আমার কি যে সর্বনাশ হয়ে গেলো, মানুষটা হাসুয়া নিয়ে দৌড় দেয়, লোকজন আতংকে চিৎকার করে, আবার একটু দূরে দাঁড়িয়ে টিপটিপ হাসে। পরস্পরের গা টিপে, কাঁধ ঝাকিয়ে মৃদু উল্লাসে ফেটে পরা মানুষেরা আসলে সার্কাস দেখে। সার্কাসের জন্তুদের বলের উপরে বসে পরা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো এই বায়ুচড়া মানুষটার হাসুয়া চালানোও এক ধরণের মাংনার উত্তেজনা তাদের জীবনে।
সারভাইভিং হলোকাস্ট বাডি
শিরোনামের কথাটা লিখেছিলাম এক পুরোনো বন্ধুকে, যে সম্প্রতি মেসেঞ্জারে জানতে চেয়েছিল, হেই ইউ, হোয়াট আর য়ু ডুয়িং নাউ?
অথচ এই আমি একসময় নিজের শার্টের ভেতর হাত লুকিয়ে রেখে মানুষকে বোঝাতে চাইতাম যে, আমার একটি হাত কাটা পড়েছে। সেটা খুব বেশিদিন আগের কথা না।
সে সময় একটা চাররঙা টিপ-কলম ছিল আমার। প্রায়ই যেটার চারটা বাটন একসঙ্গে টিপতাম। কোন শীষই বের হতো না। ওই সব দিনে বাড়ির মানুষদের ভয় দেখানোর জন্য দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকতাম। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কেউ আসতো না, একসময় নিজেই আড়াল থেকে বেরিয়ে পড়তাম। ভগ্ন মনে।
ঈদের সময় বা বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়াটা জীবনের একটা অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ ছিল। রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময় মনে করতাম, চাঁদটাও আমাদের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছে।
আর প্রায়ই ঘরের সুইচবোর্ডে অবস্থিত ফ্যান, লাইট ইত্যাদির সুইচকে মাঝামাঝি জায়গায় ব্যালেন্স করার চেষ্টা চালাতাম। এই কাজ করতে গিয়ে প্রচুর বাল্বের ফিলামেন্ট কেটেছে আমার হাতে। এছাড়া ফ্রীজের লাইট কখন বন্ধ হয় তা দেখার জন্য খুব আস্তে আস্তে সেটার দরজা বন্ধ করতাম।
চুপকথা রুপকথা.. [লিরিক অফ এন আনসাং রক ব্যালাড!]
[কিছু ভালোবাসা দামে কেনা ছিল স্বপ্ন আমার,
অথবা স্বপ্নের দামে ভালোবাসা।
শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতি আর
রাজহাসের শৈশবই কেবল জানে,
কতটা সত্যি ছিল রুপকথা।
সোনার জলে মোড়ানো রুপোলি আয়নায়;
হারানো মনের ছায়ায় চোখ পড়তেই,
মনে পড়ে যায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় চুপকথা -
মানুষ মাত্রই ভুল।।]
কিছু রাত্তিরে জমা থাক
কিছু অ-জানা দিনের ঘ্রান,
চেনা ঝকমকি মন ঠুকলেই
হারে অ-চেনা আগুনে প্রাণ।
এই মিথ্যে কথার বসতিতে
যত সত্যি কথারা কোলাহল,
রোদ ঝকমকে দিনে ভুলে পথ
শত মেঘলা মনের চলাচল।
সাঁঝ পেরুলেই পাতাবাঁশি সুর
নিয়ে যায় মন অজানায়,
গোধুলীর প্রিয় কণে দেখা আলো
একা চোখে রোদ রেখে যায়।
সুদুরের প্রিয় মেঘের চিঠিতে
নীল খামে অনাসৃষ্টি,
অবাক চোখেতে বলে গেছে
ফের আসবেই আজ বৃষ্টি।
আজ আগুন জ্বলুক ভেজা কার্ণিশে
রাত্তিরে চাই সূর্যের দিন,
সময়ে আসেনা অসময় ডাক
মর্মে মিলাক হৃদয়ের ঋণ।।
দেহরক্ষী!
'বহুল আলোচিত' সিনেমা দেহরক্ষী দেখলাম গতকাল। ফার্মগেটের আনন্দ হলে। আনিসুর রহমান মিলন, মারুফ এবং দেহসর্বস্ব নায়িকা ববি―কমবেশি সবার প্রতিই বিরক্তি জেগেছে। ডিমের নাম যেমন আন্ডা, তেমনি সব বাংলা সিনেমাই মূলত এক। আমাদের দেশে সিনেমা হয় না, হয় 'বাংলা সিনেমা'!
বিগ বাজেটের ছবিতেও বাড়তি কিছু পাওয়া যায় না।
নায়িকার ক্ষুরধার ফিগারই যদি ছবি হিট করতে ভূমিকা রাখতো, তাহলে সবাই তা-ই করতো। নায়িকারাও অভিনয় না শিখে ফিগার ঠিক করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতেন। কিন্তু ছোটখাটো এসব জিনিস ঢাকাই ছবির পরিচালকরা বোঝেন না।
'দেহরক্ষী' দেখার পর মনে হলো, একটা রামছাগল যতটুকু বুদ্ধি ধারণ করে, আমাদের দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা ততটুকু বুদ্ধিও রাখেন না।
এরা পারেন শুধু মুখস্থ সংলাপ বলতে আর পরিচালক-প্রযোজকের ন্যাওটা হয়ে থাকতে।
নিজের বুদ্ধি থেকে এরা গল্পের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না, ফাও সংলাপ ডেলিভারি দেয়ার আগেও কোনো আপত্তি তোলেন না। 'জি হুজুর' বলতে যারা অভস্ত, তাদের আপত্তি থাকার কথাও না।
এমন 'অনুগত' লোক লইয়া আমরা―সিনেমার দর্শকরা কী করিবো!?
আই উইশ আই ওয়াজ ইনভিজিবল!
১.
একজন বন্ধু লিখেছেন, আই উইশ আই ওয়াজ ইনভিজিবল!
পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সবার মনের আশা একই রকম থাকে কেন? আমার তো সেই কবে থেকে ইচ্ছে করে অদৃশ্য হয়ে যেতে। ইচ্ছেগুলো পূরণ হয় না। শুধু বিভিন্ন রকম ফর্ম পূরণ হয়, বছরজুড়ে।
দেউলিয়াত্ব ক্রমে খুবলে খাচ্ছে শরীর। মনটাকে তো খেয়েছে সে প্রক্রিয়াটির শুরুর দিনে। আর মগজ খেয়েছে অনেক আগে। বালুমানবকেই মনে পড়ে আজকাল শুধু।
২.
চলছে জীবন নিজের গতিতে। আশপাশে কত কিছু ঘটে যায়। একটা আড়াই বছরের বাচ্চা তিনতলা থেকে পড়ে যাবার সময় তাকে ধরে ফেলে কয়েকজন কারখানা শ্রমিক। ইন্দোনেশিয়ায় বন পুড়ানোর কারণে সিঙ্গাপুরের বাতাসে কার্বনের মাত্রা বেড়ে যায়। জীবন বাজি রেখে যে শ্রমিক বড় বড় ইমারত নির্মাণ করে, সে কোনোদিনও পায় না ওই ইমারতে বসবাসের আস্বাদ। অথচ তারপরও প্রতিটি মানুষের কাছে তার জীবনই মুখ্য। নিজের জীবনটাকে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে ভালোবাসে এমন মানুষের সংখ্যা কত পৃথিবীতে। হাতে গুণে কি শেষ করা যাবে?
৩.
টেলিফোনের আলাপন
- ক্রিং ক্রিং টেলিফোন! হ্যালো হ্যালো হ্যালো!!
- কে তুমি? কাকে চাও বলো বলো বলো?
- আমি ম্যাও, হুলো ক্যাট! ইদুঁর’কে চাই, জরুরী আলাপ আছে, তুমি কে হে ভাই?
- আমিই ইদুঁর, তবে কথা হলো এই, আমি গেছি মার্কেটে, বাড়িতে নেই!!
……
ছোট্টবেলায় শোনা এই ছড়াটা নেহাৎ মিথ্যে নয়, সব রকমের দরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি, যুগে যুগে এমনি গা বাচিঁয়ে চলার এক মোক্ষম উপায় হলো টেলিফোন। টেলিফোনের উত্তরোত্তর উন্নয়নের কল্যানের ফল যে মোবাইল ফোন তা তো এহেন ইদুঁর-বেড়াল লুকোচুরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! অফিসের বস, ঘরের বৌ, কিবা এড়িয়ে যেতে চাওয়া বন্ধু – এমনি আরো নানান বেগতিক পরিস্থিতির সবার কাছে থেকে বাচঁতে অবলীলায় এটা ওটা বলে পার পেয়ে যাচ্ছি! আবার করেও চলছি নানান মিথ্যের বেসাতি।
মরণ নেশা
শীতের দুপুরে লাঞ্চ সেরে বিল্ডিং এর বাইরে দাঁড়িয়ে হীমশীতল বাতাস থেকে বাঁচার জন্য জ্যাকেটের হুডটা মাথার উপর টেনে দিয়ে বিড়ি টানছিলাম আপন মনে। সামনের সাইড ওয়াক দিয়ে হাজার কিসিমের চেহারার মানুষ আসছে আর যাচ্ছে। খুব মনোযোগ দিয়ে না, এমনি ই তাকিয়ে আছি আপন মনে। হটাত মনে হোলো পরিচিত কেউ যেন হেঁটে যাচ্ছে একটা খাবারের ডেলিভারি নিয়ে। সিউর হবার আগেই বেশ সামনে চলে দৃষ্টি সীমার। কিছু না ভেবেই হটাত চিৎকার করে ডেকে উঠলাম " হিরা ভাই ই ই"।
আন্দাজ একেবারেই ভুল হয় নাই । হটাত থেমে গিয়ে পিছন ফিরে তাকালো । কাছে এগিয়ে আসলো। আমাকে ভাল করে দেখে ঠোটের কোনায় হাসি ফুটে উঠলো।
" আরে মিয়া , তুমি এখানে কি কর"? বলে উঠলো উনি।
কিছু রঙ্গিন বাস্তব .………
(পর্ব -১)
অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ে নাম না হয় নাই
বা দিলাম , না থাক একটা নাম না দিলে গল্পের
অপূর্নতা যেন থেকেই যায়।
নাম রবীন্দ্র কাকুর কবিতা টেনেই শেফালীমল্লিকাই
দিলাম। 
সুন্দরের কথা তো বলেই দিয়েছি আসলে তার
সুন্দরতা এতোই বেশি যে কথার মাঝে মাঝে তার
সুন্দরতা ঢুকেেই পরে।
ছোট বেলাই বড়দের মুখ থেকেই শুনা
যে প্রেমের চোখে নাকি পেত্নী রাও অপরূপ .
জানিনা এই গল্পে ও তার
কোনো ছায়া আছে কিনা কারন এই গল্পের নায়ক
আমি নিজেই। 
সে আমায় দিগন্ত বলে ডাকত.
আমি ভেবে নিয়েছিলাম
এটা কোনো সিকিউরিটি হতে পারে কিন্তু
সে তা ভুল প্রমাণিত করে একটা বর্ণনা দার
করিয়েছিলো . বর্ণনা টি --
আমার সাথে নাকি আকাশের এক অদ্ভুত মিল।
দুজনই অসীম তবে আমাদের মধ্যে নাকি একদিনেই
ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যায় .
( এখানে আকাশটা সংগে থাকায় আমাদের লিখা।) 
নাম টা আমার পছন্দ হওয়ায় কখনো বাধা ও
দেয়া হয়নি।
এবার সম্পর্কে আশা যাক--
আমদের সম্পর্ক বন্ধু দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়
টা শেষ ধাপ অবদি পোছে গিয়েছিল ,
নিজেদের অজান্তেই .
হটাৎ কোনো এক সময় এসে আবিষ্কার করলাম
আততায়ী বইটি হাতে পেয়ে……
১.
আমার পড়া প্রথম মাসুদ রানার বই স্বর্ণমৃগ। তখন ক্যাডেট কলেজে পড়ি। সেখানে গল্পের বই পড়া নিষিদ্ধ। মাসুদ রানা ছিল আরও নিষিদ্ধ। কারণ সেখানে যৌনতা থাকে। মাসুদ রানা বড়দের বড়. লেখা থাকতো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য।
ক্যাডেট কলেজ জীবনের সমস্যা হচ্ছে কলেজে থাকলে মনে হতো কবে বাসায় যাবো। আর বাসায় গেলে মনে হতো কবে কলেজে ফিরে যাবো। সে সরকম এক মনখারাপের দিনে হাতে পাই স্বর্ণমৃগ বইটি। মুভি অব দ্য উইকে সেন্সর করা কিছু ইংরেজি সিনেমা দেখতে পেতাম। সুতরাং জেমস বন্ডের সিনেমাগুলো দেখার সুযোগ ছিল না। ফলে জানতে পারিনি স্বর্ণমৃগের মূল গল্প কোথা থেকে নেওয়া।
মনে আছে মন ভাল হয়ে গিয়েছিল, আর পেয়েছিলাম এক নতুন গুপ্তধনের সংবাদ। সেই যে মা
সুদ রানা ডুবলাম, আগের মতো না হলেও এখনও আছি। আমার শৈশবের বড় সঙ্গী মাসুদ রানা।
২.
প্রেম থেকে অপ্রেমে
মুখবন্ধ
সাধারণ মানুষ,ছাপোষা জীবনযাপনকারী ন'টা-পাঁচটার বৃত্তেবন্দী লোভকামমোহমাৎসর্যে আকণ্ঠ ডুবে থাকা জীবনেও প্রেম আসে। প্রেম ছককাটা জীবনটাকে উল্টেপাল্টে দেয়, নতুন করে বাঁচতে শেখায়। কিন্তু রোম্যান্সের চটজলদি আকুলতা কমলে যেটা পড়ে থাকে, সেটাকে প্রেমের ছাইভস্ম বলাটাই কি বেশি সঙ্গত? মানবিক টানাপোড়েন দানবিক হয়ে উঠলে প্রেম তো অপ্রেমেও পর্যবসিত হতে পারে দ্রুত, তাই না? ক'দিন আগে লেখা একটা সহজিয়া রোম্যান্সের পরিণতি নিয়ে ভাবছিলাম। বেশ কিছুটা লিখে ফেলেছিলাম- শেষটা এখনো চেষ্টা করছি মেলানোর। যদিও জীবনের হিসেব মেলানো খুব কঠিন।
১
এবং ‘হেমলক সোসাইটি’ : আত্মহত্যা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে কিছু কথকতা
মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই এমন কিছু বিষয় জানার বা উপলদ্ধির সীমানায় এসে ধরা দেয় যে, নিমিষেই মনে মনে বেশ আউলে যেতে হয়। জানার চাইতে না জানার পরিধিটা অনেক ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও নিজের অনুভূতি গুলি কারও না কারও সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হয়, অনেকটা বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডার ফাঁকেই হঠাৎ বলে ফেলা কিছু ওজনদার বিষয়ের মতন। এমনই একটা অবস্থায় আজ এই লেখা।
লেখাটাকে মুভিরিভিউ বলা উচিত হবে কি না বুঝতে পারছি না। মুভির চাইতে মুভিটার উপজীব্য বিষয়টুকু নিয়েই যেখানে কিছু একটা বলতে বা লিখে বোঝাতে চাইছি! যা লিখব বলে ভাবছি এ নিয়ে অনেকের লেখাই হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে কিন্তু এবিতে মাসুম ভাই বা অন্য কারও বয়ানে এমন কিছু চোখে পড়েনি বলেই এই দুঃসাহস।
প্রায় বছরদেড়েকের পুরানো একটা ভারতীয় বাংলা মুভি দেখলাম আজ। 'অটোগ্রাফ' আর 'বাইশে শ্রাবণ' এর পর শ্রীজিত মুখার্জী'র তৃতীয় মুভি 'হেমলক সোসাইটি' , মুভিটা এখন পর্যন্ত না দেখে থাকলেও এর গানগুলির জন্যই হয়তো চেনা লাগবে অনেকের কাছেই।
টেলিভিশনের ঈদ কিংবা ঈদে টেলিভিশন!
এই পোষ্টটা সবার জন্য না। প্রধানত তাদের জন্যই যারা কাচা হাতের সমালোচনা সহ্য করার মানসিক ক্ষমতা রাখেন, যারা তাদের পছন্দের তারকাকে বকা সহ্য করতে পারবেন, যাদের দেখতে পারেন না তাঁদের যদি আমার পছন্দ থাকে তবে তাঁদের নিয়ে ভালো কথাবার্তা শুনেও মন ঠিক রাখতে পারবেন আর শেষমেষ যারা টিভি দেখাকে পছন্দ করেন কিংবা এখন না দেখলেও খোজ খবর জানতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই এই বিলম্বিত প্রয়াস। জর্নাল আকারে লিখলে তিন চার পর্ব করে লেখা যেত,সেরকমই ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু এখন প্ল্যান চেঞ্জ। এক পোষ্টেই সব কিছু তুলে দেয়ার চেষ্টাতে আছি। তাই যা দেখছি তার অনেক কিছু নিয়েই লেখা হবে না। লেখার এক বিন্ধু ইচ্ছা নাই তাও মনে হলো আজ যদি না লিখি তাহলে আর লেখাই হবে না। বাড়ীতে দুই ব্যাটারীর রিমোটে কত হাজার বার টিপলাম সমানে তার ফিরিস্থি জানানোই গেল না। আমাদের বাড়ীতে সব চ্যানেল আসে না। বাংলা চ্যানেল গুলার ভেতরে এশিয়ান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এস এ টিভি, এটিএন নিউজ এই সব আসে না। হিন্দী চ্যানেল তো রাশি রাশি আসে না, একটা হিন্দী গানের চ্যানেল পর্যন্ত নাই। তাও এই সীমিত সামর্থ্য দিয়েই দেখতে দেখতে হয়রান। তবে রাত সাড়ে দশটা এগারোটার পরে আর টিভি দেখি নি। কার
দা পারফেক্ট ক্রাইম
রাত দু'টো বাজে। আমি আর সামান্থা পা টিপে টিপে রান্নাঘরের দিকে এগোলাম। রান্নাঘরে এত রাতে কেউ থাকবে না। এই তো সুযোগ। যা করার করতে হবে এখনই। কিন্তু এ কি? রান্না ঘরে একটা নারীমূর্তি ফিসফাস করে কার সাথে যেন কথা বলছে ফোনে! সামান্থা গুঙিয়ে উঠে বলল,
"ওহ, নট এগেইন! এই মেয়ে কথা শুরু করলে দু'ঘন্টার আগে থামে না।"
আমি রেগে গিয়ে বললাম, "না থামুক আমাদের কি? শী ইজ আ আগলি উইচ! ওর বয়ফ্রেন্ডের টাকার গচ্চা যাচ্ছে। হু গিভস আ শিট?"
"তুমি আসলেই একটা বোকা। ও দুই ঘন্টা কথা বললে আমরা কিভাবে যাব ওখানে?"
"ওপস! ইট'জ আ প্রবলেম বেইব!"
"এক কাজ করতে হবে, এডামস! পারবে?"
"কি কাজ?"
"মেয়েটা লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলে প্রতিদিন, ওর মা জানে না। ওর মাকে জানিয়ে দিতে হবে। তাহলে কাল থেকে রান্নাঘরটা ফ্রি! সারারাত আমাদের।"
"কিন্তু আমরা কিভাবে বলব? আমাদের দেখলেই তো মারার জন্য তেরে আসে মুটকিটা! দা ফ্যাট বিচ!!"
"শোনো, আমার প্ল্যানটা বলি।"
সামান্থা বলল ওর প্ল্যানটা।
"বুঝলে এডামস?"
"হুম!"
"দ্যান রেডি, স্টেডি, গো!"