ইউজার লগইন
ব্লগ
একটি পরীক্ষা ও দুটো কথা
বন্ধুরা সবাই কেমন আছো ?
বহুদিন পর এসে হুট করে খবর জিজ্ঞেস করতে কেমন যেন লাগে ! তবু আমি দুঃখের সাথে স্বীকার করছি আমার এবিতে আসার অপারগতাকে । জানিনা এতোদিন কিভাবে এবিতে না এসে থাকতে পারলাম , তবে যাই হোক এটা পরিস্থিতির শিকার বা নিজের লেখার অপারগতা যাই বলি , তা কিছুমাত্র কম নয় । কিন্তু আজ হঠাত এসেই সবার কাছে দোয়া চাইলে কেমন লাগে !! তবু চাইছি সবার মন থেকে দোয়া ও শুভকামনা (ভোটের ক্যানভাস করছিনা তা নিশ্চিত থাক)। কিন্তু কিসের দোয়া ?
ঋকের প্রশ্নগুলো
১.
যে বয়েসে আমি একা একা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি ,মফ:স্বলে সে বয়েসে সম্ভবত সবাই বাসায়ই থাকতো, আমি গোঁ ধরেই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম ৪ পূর্ণ হওয়ার আগে, সে বয়েস থেকেই মহল্লার সব ছেলেদের সাথে হেলতে দুলতে স্কুলে চলে যেতাম, আমার বই প্রথম ভাগ, ইংরেজী প্রথম ভাগ আর গণিত ক্লাশের বাইরে তেমন কোনো ক্লাশ ছিলো না। সকাল ৮টায় ক্লাশ শুরু হওয়ার পর ১০টায় ছুটি, আবার হাঁটতে হাঁটতে দলবেধে বাসায় চলে আসা।
মফ:স্বলে সবকিছুই ছিলো ধীরগতির, মোটা আপা, শুকনা আপার ক্লাশের পর বাইরের তেঁতুলের চাটনি কিংবা চালতার আঁচার কাগজে নিয়ে চাটতে চাটতেই বাসার গেটে চলে আসতাম। রাস্তায় কয়েকটা রিকশা আর সাইকেল, স্কুলের পাশেই মসজিদ, মসজিদের সামনে লাইব্রেরী, সে জায়গাটুকু পার হলে পুলিশ সুপারের বাসভবন, সে বাসভবনের সামনে কয়েকটা কামারশালা আর ডাস্টবীন।
২- শিরোনামহীন
ভীতি
ডুবে যাবার ভয়ে মৃতপ্রায় বেড়ালের কথা কেউ ভাবেনি ঝড় ওঠার আগে।
যখন তীব্র টর্ণেডো তার সশব্দ আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিলো নৌকার পাল, কাতর আর্তনাদে মাতোয়ারা হলো অসুর প্রকৃতি। তখনো কেউ শোনেনি বিষাদগান। নৃত্য সুধার উন্মত্ততা যখন তুঙ্গে, তখনই কেবল মানুষ আর বেড়ালের কান্নার সুর একই অনুরণন তুলেছিলো।
বিষাদ
সেই উচ্ছল দু'টি চোখে ভর করেছে রাজ্যের বিষাদ। সমাপ্তির শুরুতেই জীবনের গানে বিষণ্ণতার ছোঁয়া। নিতান্ত কৈশোর ধুয়ে গেছে লাল শাড়িতে ভর করা ঝড়ে।
দূরাগত যুবকের অচেনা স্পর্শ ধারাপাত হয়ে শরীরে শরীরে ছড়িয়ে যাবার অপেক্ষায়।
মৃত্যু
বাস্তবতার অপেক্ষামরণের পর, বেঁচে ফিরবার স্বপ্নেরাও মরে যায় কামজ পীড়ণে। দিনভর জেগে থাকার শুরু হয় মৃত্যুর ভেতর দিয়ে। সুখের কিংবা দুঃখের।
পাগলের দিনলিপি (উনত্রিশ)
....................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
আমিতো ছিলাম ছায়ায় ছায়ায় আড়ালে আড়ালে
আলোকোজ্জ্বল তোমার পথে আড়চোখে ঠারেঠোরে
কখনো দেখেছি। শব্দের অভাবে নীরব নিথর
হয়ে চুপ বসে রয়েছি আঁধারে, ভেবেছি দেখোনি
কেউ; অদৃশ্য মানব আমি ভুল সমর্পনে আছি
দ্যা বয় ইন দ্যা স্ট্রাইপড পাজামাস (২০০৮)
হুদাহুদাই ...... মোটেই নাহ!
আমার বন্ধুভাগ্য খুবই চমৎকার! কারুর জন্যে কিচ্ছু করতে না পারা, কিবা অনেক গুনী মানুষগুলোর ভিড়ে একদমই অকাজের আমি’টার ভাগ্যে অনেক সময় নিজেই অবাক হই। গৌতমের লেখাটা পড়ছিলাম, পড়ে লাগলো এই আন্তর্জালিক ক্ষেত্রের বন্ধুগুলো কি আষ্টেপৃষ্টেই না জড়িয়ে আছে জীবনের চলার পথে! এই মানুষগুলো কেবল কথার পিঠে কথা ছুড়ে দিয়েই নয়, কাজেও ধারেকাছেই থাকেন। হয়তো আমার গন্ডিটা ছোট্ট বলেই বলতে পারছি এমনটা।
কোন এক বিকেলে..[এলোমেলো কাব্যকথন!]
কোন এক বিকেলবেলায়..
চারদেয়ালের জীবন থেকে নেয়া একটু ছুটি..।
ঝরো হাওয়ায়;
উথাল পাতাল ভালোলাগা,
সীমাহীন উচ্ছ্বাস..।
একলা ছাদে,
গোধূলি আভার ছায়ায়..
কল্পনার তেপান্তরে,
সবুজ-ভেলভেট হাতে আঁকা জলছবি..
পটে তার..
স্বাধীনতার সোনালী সুরুজ,
রক্ত ঝরে লাল..।
চেনা শহরের ব্যাস্ত রাজপথ..
অগোছালো তরুণের দৃপ্ত পদক্ষেপ,
টি-শার্টে প্রিয় দেশটার তরে প্রার্থনা..
রিকশায় বসা আদুরে তরুণীর,
আলতো হাতে..
সবুজ পাতায় লাল গোলাপে;
দিবস-ওয়ারী চেতনার উদযাপন,
আর ভুলে যাওয়া ভালবাসা..।
সময়ের তালে..
বড় বেশি বদলে যাওয়া শহরটার,
কোন এক কোণে..
উদাসী বাতাসে;
প্রাণ আকুল করা,
পুরানো দিনের বাংলা গানের সুর..
আজ বিকেলের হাওয়া..যেন,
হৃদয় টাও দোলা দিয়ে যায়..
এলোমেলো ,ভাবনায়..
হাওয়ায় হাওয়ায়..।।
"তারা এদেশের সবুজ ধানের শীষে"
১
- কলেজে আমাকে নিয়ে একচোট হাসাহাসি হয়ে গেল । গাঁয়ের ছেলে আমি, লুঙি পড়েই স্কুলে যেতাম । গাঁয়ে পেন্টের চল হয়নি তখনো--আমার ছিলও না । সবার উৎসাহে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েছি । ওখানে লুঙ্গি চলবেনা । সমস্যা হয়ে গেল ! তো অগতির গতি বড়বু’কে খবর দে’য়া হলো । দূলা ভাই জাহাজী । বাড়ী আসার সময় অনেক জামা-কাপড় নিয়ে আসতেন । ফিরে যাবার সময় ওগুলো আর নিয়ে যেতেন না, সিন্দুকে তোলা থাকতো । বুবু ওখান থেকে দু’জোড়া শার্ট-পেন্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “ নে -- লম্বায়তো মা’শাল্লা তাল গাছ হয়ে গেছিস, কোমরে ঢিলে হতে পারে –বেল্ট কষে নিস’ । ‘কই পামুনে বেল্ট’! আমি নাকি স্বরে বললাম । বুবু একটু ভাবলেন, তারপর বললেন, ‘ ঈদের পা’জামা তোলা আছেনা তোর ? ওটার নেড় [ফিতা] বের করে নে । তার পর পরে দেখা, কেমুন লাগে দেখি’ ! অগত্যা কি আর করা!
আংশিক রঙীন - আংশিক ডিজিটাল "মুঘলে আযম" (২)
পঞ্চম দৃশ্যঃ
শহাজাদা সেলিম অতি অল্প সময়েই আনারকলির সহিত ফোনালাপে মত্ত হইয়া পড়িল। আনারকলির সহিত আলাপের জন্য সেলিম তাহার ফোনের "বন্ধু" প্যাকেজ খানা পাল্টাইয়া "প্রিয়" প্যাকেজ রুপান্তর করিল। ইহাতে কোনরূপ ঝামেলা ছাড়াই ৬০ মিনিট মাত্র ৫ টাকায় কথা বলিতে পারে।
সেই রাতেই সেলিম আনারকলি কে তাহার facebook এর ফ্রেন্ডলিস্ট যোগ করিয়া লইলো।
অতঃপর আনারকলির নানান এলবাম খুলিয়া খুলিয়া শাহজাদা দেখিতে লাগিলো। স্বল্প বসনা pic গুলির দিকে সেলিম তাকাইয়া তাকাইয়া lol ফেলিতে, থুক্কু লিখিতে লাগিলো কমেন্টে।
পাগলের দিনলিপি (আটাশ)
স্বাধীনতা তুমি..
স্বাধীনতা তুমি..
তীব্র শোকে স্তব্ধ প্রহর,
রক্তস্নাত জীর্ণ শহর..
অন্ধরাতের আঁধার চীরে;
রক্ত শপথ,
সূর্যোদয়ের গান..।
নীল আকাশে শ্বেতকপোত,
আর;
লাল সবুজের স্বর্গ স্বপন-
লক্ষ হৃদয়;
মুক্ত ভোরের বিজয়োল্লাস,
উচ্ছ্বসিত প্রাণ..।
শুভ জন্মদিন, সুপ্রিয়তম জন্মভূমি-
ভাল থেকো, আমার বাংলাদেশ..।
দেয়াল
বেশ কয়েক বছর আগে যখন প্রায় নি:সঙ্গ, সঙ্গী বলতে অন্তর্জালিক বন্ধু আর এলেমেলো ঘর, সে সময়ে হুট করে নিলামে কিনলাম গীটার। গীটার আর টিউনার কিনে মাঝে মাঝে গীটার বাজাই- পুরোনো আড্ডায় শোনা গানগুলো গাইতে চেষ্টা করি, একটা বিষয়ই বুঝলাম, আমাকে দিয়ে অন্য অনেক কিছুই হতে পারে কিন্তু গীটার বাজিয়ে গান গাওয়া সম্ভব হবে না, অতীতের কয়েকটা ছোটোখাটো গান বাজানোর অভিজ্ঞতা দিয়ে গান গাওয়া হয় না, তবে বুকের ভেতর অনেক কথার বাক-বাকুম, সে সময়ে এক প্রিয় বন্ধুর বিবাহবিচ্ছেদের সংবাদ পেয়ে প্রথম গান লেখা আর সুর করা। সে গানের শেষের অংশটুকু এখন মনে আছে, মুখ মনে নেই, অবশ্য ৬ বছরের ব্যবধানে গানের সুরের কোনো কোনো অংশ বাদ দিলে অধিকাংশই বিস্মৃত।
শিরোনামহীন
.......................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
বনলতার অসুখ
অনেকদিন স্বপ্ন দেখি না। কাল রাতে অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে গেল। সেই স্বপ্নের অধিকাংশই মুছে গেছে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে।
*****
তবু স্বপ্নটাকে নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করছে। আবার অর্থহীন স্বপ্নটাকে গুরুত্ব দিতে বারণ করছে আরেকটা মন।
*****
স্বার্থপরতার অলিগলি পেরিয়ে শীত কুয়াশার বেড়াজাল এড়িয়ে শেষরাতের স্বপ্নে ভেসে এলো- কাঁপানো জ্বর নিয়ে এলোচুলে বিছানায় শুয়ে বনলতার শরীর।
এত ছোট্ট স্বপ্ন আমি আর কখনোই দেখিনি।
