ইউজার লগইন
ব্লগ
বিকশিত আঁধার
: কেনো তুমি তার সাথে?
: তুমি ছিলে না আজ সপ্তাহ দুই।
: তাই বলে ওর সাথে বিছানায় যেতে হবে।
: দেখো, আমার শরীরের চাহিদা আছে, মনেরও আকাঙ্খা আছে।
: দু'টো সপ্তাহই মাত্র। জানো, আমি ফিরে আসছি।
: আমার ওকে ভাল লাগতো। খুবই কিউট।
: আমার চাইতেও বেশি?
: কারো সাথে আমি কারো তুলনা করি না। ওরে আদর দিতে চেয়েছিলাম, পেতেও। কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আমি তো আরেকটু প্রেমময় হয়ে উঠতে পারি! সে প্রেমে তোমাকেও তো ভেজাতে পারি।
: কি বলছো তুমি? আমাকে ভেজাবে তোমাদের প্রেমে?
: আহ্। ওভাবে দেখছো কেন? আমাদের প্রেমে নয়। আমার প্রেমময়তায়। জানো, ওকে ভালবাসা দিয়ে, ওর ভালবাসা আদায় করে নিয়ে, আমার প্রেমরসের বর্ধিষ্ণু তোমাকে ঢেলে দিতে চাই। তুমি আমার কাছের। তুমিও তাতে পূর্ণ হয়ে উঠো। তোমার শুষ্কতা আমার কাম্য নয়।
: আভিলা, এতবড় অসন্মান করলে তুমি আমাকে! এত দীন-হীন ভেবেছো আমায়! এত বড় অপমান!
ষ্টেশন মাস্টারের গল্প

ষ্টেশন মাস্টারের গল্প
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
এক
লাকসাম রেলওয়ে জংশান।বিশাল এলাকা । অনেক রেল লাইন । চারদিকে রেলের রাস্তা। আখাউড়া , ঢাকা থেকে সব ট্রেন এক রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে ষ্টেশনে । এরপর ভাগ হয়ে যায় সেখান থেকে তিনটি লাইনে। একটি লাইন চলে গেছে চট্রগ্রামের দিকে , অন্যটি নোয়াখালীর দিকে আর বাকি'টি চাঁদপুর অভিমুখে। সবসময় কোলাহল লেগেই আছে ষ্টেশনের মাঝে। নিয়মিত বিরতিতে একটার পর একটা ট্রেন আসছে আর ছুটে যায় তার গন্তব্য অভিমুখে।কত রকমের মানুষ ষ্টেশনে থাকে তার হিসেব নাই । অনেক হকার , ফকির, ছদ্দবেশী পুলিশের লোক এবং নানামুখী যাত্রী তো আছেই। সেই সাথে এই ষ্টেশনে অনেক দিন যাবত আছে নুরু পাগলা।
চিত্রার পারে লাল পিঁপড়ার হস্তী দর্শন !
''বাবার দেশের মাটি ,
দাবদাবায়া হাঁটি !''
এই আত্মপ্রসাদ নিয়ে এখনো বাবার দেশেই আছেন উকিল শশীকান্ত সেনগুপ্ত । কিন্তু ততোদিনে বাংলা হয়েছে দ্বি-খণ্ডিত । ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হল । কেউই জানলো না ,বুঝলো না কি থেকে কী হয়ে গেল ! দুই নেতা বৈঠক করে দেশটাকে ভাগাভাগি করে নিলেন । একটা হল পাকিস্তানের অংশ আরেকটা ভারতের । এই পূর্ব-পাকিস্তানের অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের চিত্রা পারের নড়াইলের বাসিন্দা শশীকান্ত সেনগুপ্ত । ১৯৪৭ এর দেশভাগের ফলে শশীকান্তের গ্রামের অধিকাংশ হিন্দুরা ভয়ে আতঙ্কে দেশ ছেড়ে পালাতে লাগলো । শশীকান্ত অনড় । তাঁর এককথা
... এই চিত্রা নদী ছেড়ে স্বর্গেও সুখ নাই !

যোগ্য ছেলে সোহেল তাজ
প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ
মন্ত্রিসভায় নেইকো আজ
যোগ্য বাপের যোগ্য ছেলে
বড় গলায় সবাই বলে।
গেলেন তিনি ছুটিতে
কলঙ্ক দিয়ে কার টুঁটিতে
সবার জানা সে কথা
বলতে মানা অযথা।
পদটি ছিল স্বরাষ্ট্র
রর্য্যাব র্পুলিশের কারবার
জনতার অভিযোগে
করেন তিনি দরবার।
যোগ্য বাপের উত্তরসূরি
নয়তো ধোঁকাবাজ
অযোগ্যদের তাড়নায়
পেলেন তিনি লাজ।
রর্য্যাব-পুলিশের ক্রসফায়ার
ভুল ধরেছেন সাম হোয়ার
সত্য কথা বলতে মানা
ছিল না তো তার জানা।
খাঁটি কথা সহজভাবে
বলেন সোহেল তাজ
বিস্ময়ে ভাবেন উকিল
হলো এ কী কাজ।
মান-অভিমান নয়তো জেদে
রয়েই গেলেন দূরে
মন্ত্রিসভার কমলো সংখ্যা
এলেন না তিনি ফিরে।
সন্তানের গাএ মা'র বদদোয়া লাগা সংক্রান্ত মীমাংসার গল্প
শের-ই-খুদা হযরত আলী একবার ছেলেদের মজলিসে নিজের পেশীবহুল শরীর দেখে নিজেই মুগ্ধ হচ্ছিলেন। পুত্র ইমাম হোসেন বসে ছিলেন সেখানে। বললেন, আমার মা'র মনের পবিত্র রূপের কাছে এ সৌন্দর্য তুচ্ছ। আলী দৌড়ে স্ত্রী'র কাছে গেলেন। দেখাও সেই সৌন্দর্য। যা তুমি এমনকি লুকিয়ে রেখেছো নিজের স্বামীর কাছেও!
এতো শারীরিক কোনো সৌন্দর্য নয়, যে খালি চোখে দেখা যাবে। তোমায় সে রূপ কিভাবে দেখাই প্রিয়? শুধালেন বিবি ফাতিমা নিজেই। সঙ্গে হযরত আলীর স্ত্রী এ অভিশাপও দিয়ে বসলেন- যে গোপনে তাকে দেখেছে, সে যেন ভাতৃঘাতি যুদ্ধে জীবন হারায়।
আলী বললেন, অভিশাপ কাকে দিলে? এ তো তোমার নিজের ছেলে। আল্লাহর মর্জিতেই সে তোমার মনের পবিত্রতা সম্পর্কে জানে। বাতেনি মসজিদে* গিয়ে তোমার সেই রূপ দেখে এসেছে।
দাদাভাই শুভ জন্মদিন
আজ আমাদের দাদাভাইয়ের জন্মদিন।এই লোকটা কেন জানি সবার খুব প্রিয়।আমারও খুব প্রিয়।দুইদিনের জ্বরের ঠেলায় মাথায় কিছু আসতেছে না।খালি মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতেছে।তাই আর কিছু লিখতে পারলাম না।
দাদাভাই খুব ভালো থাকুন।এখন যেমন আছেন আজীবন সেইরকমই থাকুন।এই কামনা রইলো।
শুভ জন্মদিন দাদাভাই

কী মসিবত ৫০ শব্দ হয় নাই বলে পোস্ট হচ্ছে না। দিলাম প্রিয় একটা গান লাগিয়ে।
আজকের আকাশে অনেক তারা,
দিন ছিল সূর্যে ভরা,
আজকের জছোনাটা আরো সুন্দর,
সন্ধাটা আগুন লাগা
আজকের পৃথিবী তোমার জন্য
ভোরে থাকা ভালো লাগা
মুখরিত হবে দিন গানে গানে
আগামীর সম্ভাবনা
তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছ ,
শুভেচ্ছা তোমায়
বেকারের দিনকাল ও টিভি সমাচার
মন মেজাজ খুব ভালো।এক বন্ধু আসছে চিটাগাং থেকে তাকে নিয়ে ঘুরে ফিরে বাইরে চলতেছে গত দুইদিন।সব কিছুতেই তার খুব আগ্রহ ঢাকা শহর নিয়ে।তাই এই রোদের মধ্যেও সারাদিন ধরেই বাইরে দিন যাচ্ছে।বাড়ি থেকে ফেরার সময় মন মেজাজ ভালও ছিলো না।ট্রেনে উঠতে না উঠতেই ঢাকায় ফেরার সময় সেটটা হারালাম তাতে মেজাজ একটু খারাপ ছিলো এখন সব ঠিকঠাক।মুবাইল ও নেট ছাড়া ভালোই দিন পার করতেছি।বাসায় নেট নাই তাই সাইবার ক্যাফেতে হেডফোন একটা কানে দিয়া ইউটিউবে গান শুনতে শুনতে পোষ্টটা লিখতেছি।
বিকালের নাস্তা: সিজলিং লাচ্ছা
সন্ধ্যা বেলা কী খাই ? কী খাই? দেখলাম আধ প্যাকেট লাচ্ছা সেমাই আছে। তাহলে এটাই রান্না করা যায়। আপনি ভাবছেন যে, এইটা যদি রেসিপি পোস্ট হয়, তাহলে নিশ্চয়ই আমি লাচ্ছা সেমাই রান্নার গৎবাঁধা ফর্মুলা দিতে যাচ্ছি । আরে না! মানে রেসিপিই দিচ্ছি। তবে ওই যে সব ঈদে কারো বাড়ি গেলেই এক বাটি ঘন দুধে থল থলে লাচছা সেমাই অথবা পানি পানি দুধে ভাসা ভাসা লাচ্ছা সেমাই রেসিপি না। এইটা বেশ সোজা রেসিপি। ম্যাগি নুডুলস এর মত কয়েক মিনিটে রান্না করতে পারবেন। আসেন, কথা কম, রান্নার বন্দোবস্ত বেশি!
উপকরণ:
ভূমিকা
রান্নাঘর
চুলা
আগুন
একটা ফ্রাইং প্যান, অথবা কড়াই
একটা ছোট পাতিল
পর্ব -১
লাচ্ছা সেমাই - হাফ প্যাকেট (মানে আমার কাছে এইটুকুই ছিল!)
তেল
পর্ব -২
পানি
তেজপাতা - ১টা
দারুচিনির দ্বীপ ...থুক্কু খালি দারুচিনি
এলাচ - ২টা
লং - ২/৩টা
চিনি
ট্রাভেলগ ১
কলেজ শেষে গেলাম সিলেটে,গেলাম বলতে এক্কেবারে পাঁচ-ছয় বছরের ধাক্কা।নতুন জায়গা,নতুন সব ঘ্রাণ।এখনো আমার কাছে সিলেটের কথা মনে পড়লে মনে হয় -কেমন যেন এক সজীবতা আর সবুজের সমারোহ।সিলেট যাবার পর ই ভালমত ঘুরার ইচ্ছা মনে বাসা বাঁধল,আর আজ মনে হয়,আমি ই মনে হয় আমার বন্ধুদের মাঝে সবচেয়ে ঘরকুনো, আমার বেশীরভাগ ঘুরাঘুরি ই বই পড়ে, কোন জায়গার উপর ভ্রমন এর ভাল কোন বই পড়লে নিজে নিজে ই মনের কুঠুরি তে সে জায়গা র ছবি তৈরি করি।
আমার যাদুমনি (১৯)
কিছু জীবনের কথা
কিছু জীবনের কথা
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
একটি মৃতদেহকে ছিঁড়ে খাচ্ছে শেয়াল শকুন
দেখতে কেমন দৃষ্টিকটু, বিশ্রী লাগে বলুন
নাগরিক সমাজে এটা বেমানান সবাই বলে
সকলে এসব ঘৃণা ভরে এড়িয়ে চলে।
রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে যে থাকে
জীবন নিয়ে কত কল্পনার ছবি আকে।
প্রতিদিন সভ্য মানুষ তাকে ছিঁড়ে খায়
বিনিময়ে খাবারের জন্য কিছু টাকা পায়।
রাস্তায় পড়ে অনাহারী শিশু জোরে কাঁদে
তাকিয়ে হেথায় মধুবালা জীবনের সপ্ন বাধে
মাতৃত্তের জন্য হৃদয় হাহাকার করে উঠে
অস্পৃশ্য মুখ লুকায় তাকিয়ে শ্যামল মাঠে।
দাশ'বাবু সরকারি আমলা অনেক পয়সা তার
বৌ রেখে বাড়ীতে করেন সমুদ্র বিহার।
স্ত্রী-তার সুখ খোঁজে পায়না বিলাস অট্রালিকায়
পরিশেষে পা বাড়ায় অন্ধকারের অজানা নর্দমায়।
(১৪.০৯.২০১১।অপরাহ্ন ০১.২৮ । রিয়াদ । সৌদি আরব)
আগরতলায় বেগড়বাই
মানে কি? আগরতলা একটা শহরের নাম। বেগড়বাই বোধহয় একটা মানসিক অবস্থা। আগরতলা আবার একটা ক্যাপিটাল সিটি। আমাদের ক্যাপিটাল সিটি ঢাকাতে বেড়াতে বা কোনো কাজে এলে গ্রামদেশের মানুষের মনে বেগড়বাই ভাব উৎপন্ন হয়। যেটা আমরা যারা এই শহরটায় থাকি, তাদের জন্য একটা লজ্জার ব্যপার। আমরা একজন অতিথির জন্য ভালো একটা ব্যবস্থা করতে অক্ষম। অথচ আমরাই যখন গ্রামদেশে যাই, তখন মনে হয় স্বর্গবাসে এসেছি। সে সময় খুব ভালো লাগে তো, তাই আসার সময় খুব করে বলে-টলে আসি আপনারাও আমাদের শহরে আসবেন। কিন্তু আমাদের সে মিষ্টি কথায় ভুলে কেউ দিকভ্রষ্ট হয়ে চলে আসলেই সেরেচে। তারপরে কি হয় আর বললাম না। তো ক্যাপিটাল সিটিতে গেলে মানুষের বেগড়বাই ঘটা যে সম্ভব, তার উদাহরণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হয় না। আমরা আর আমাদের শহরই বড় উদাহরণ। সুতরাং আগরতলাতেও বেগড়বাই ঘটতেই পারে। আমার কথাটায় ভুল নেই। কিন্তু প্রশ্ন হতে পারে, কেন এ কথাটা টাইপ করলাম?
প্রান্তিক এক লেখকের যাপিত কষ্ট-গাথা
বছর দুই আগে বগুড়ায় গিয়েছিলাম। সেখানে বেহুলার বাসর ঘর বলে কথিত ভিটা দেখতে গেলে এক যুবকের পিড়াপিড়িতে একটা চটি বই কিনি। নাম 'বেহুলার বাসর ঘরের ইতিহাস'। লেখক তবিবুর রহমান। তবিবুর রহমান পেশায় ছিলে পোস্ট মাস্টার। জন্ম ১৩৪৯ বঙ্গাব্দ মৃত্যু ১৪০২ বঙ্গাব্দ। তিনি মোট বিশটি বই লিখে গেছেন ধর্ম, ইতিহাস, উপন্যাস, কাব্য ইত্যাদি নিয়ে।
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই ............
অনেকক্ষন যাবৎ আমি ডাক্তারের চেম্বারে বসা। ডাক্তার আমাকে মুখে কিছু না বললেও তার চেহারায় চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বার বার রিপোর্ট দেখছেন আর জিজ্ঞেস করছেন, আপনার সাথে কি আর কেউ আসেননি?
মেঘবন্দী (৯) ... আমি জ্যোছনা এবং বৃষ্টিরা / লীনা দিলরুবা
আমি জ্যোছনা এবং বৃষ্টিরা
লীনা দিলরুবা
একদিন আকাশ থেকে কিছু বৃষ্টি ঝরে পড়েছিল, আমি দরজা খুলে বাইরে এসে দেখি-ওমা! সাদা সাদা জ্যোছনায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক, আচ্ছা জ্যোছনা রাতেও বৃষ্টি হয় তাহলে! আমি বৃষ্টি ঘাড়ে করে জ্যোছনায় ভাসতে ভাসতে ভাঙতে লাগলাম পথ ; চলতে গিয়ে জনারণ্যে কয়েকটি পরিচিত মুখ দেখা গেল। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে পরিচিত মুখগুলো আমার সাথে খুব অপরিচিতের মতো আচরণ করছিল- ওরা আমায় চিনতে পারছিলনা! শুধু না চেনার বিষয়টি নয় ওদের আচরণও ছিল অদ্ভুতুড়ে। কারো দিকে লক্ষ না করে ওরা অবিরাম কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল; মনে হচ্ছিলো একদল নাছোড়বান্দা প্রেমিক কাঁদা হাতড়ে সব ওলট-পালট করে দেবে। যেহেতু ওরা আমার সঙ্গে কথা বলছিলো না তাই আমার জানা হলো না ওরা আসলেই কি খুঁজছিলো- বৃষ্টির ক্ষীয়মান ফোঁটা, জ্যোছনাগান্ডীর, নাকি সোনার মোহর?



