ইউজার লগইন
ব্লগ
কথোপকথন
প্রচন্ড রকম রোমান্টিক কোনো মেয়ের সাথে যদি আত্মভোলা কোনো ছেলের প্রেম হয় তবে তাদের মধ্যকার কথোপকথন অনেকটা এমন হয়।
জানটা তুমি কি করছো?
-- বিড়ি ফুকি।
সারাদিন তোমার কোনো কাজ নাই? যখনই কল করি তখনই বিড়ি খাও।
-- কি করবো বলো কাজের সময় তো আর তুমি কল দাওনা!
ইয়ার্কি মারবা না! তোমার ইয়ার্কি দেখলে আমার গা জ্বলে!
-- ও আচ্ছা, আর কি কি দেখলে তোমার গা জ্বলে?
তোমার সবকিছু তে ই আমার গা জ্বলে!!
-- তাইলে তো তোমার এত্তো দিনে পুড়ে শীক হয়ে যাবার কথা।
সে তো তোমার সাথে সম্পর্কের পর থেকে প্রতিনিয়ত ই হচ্ছি।
-- তাই তো বলি তোমার গায়ের রং কেনো দিনে দিনে কালো হয়ে যাচ্ছে!!!
আবার ইয়ার্কি করে! মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।
-- মেজাজ খারাপ হওয়া ভালো , এতে মনের দুঃখ পুড়ে ছাই হয়ে উড়ে যায়।
তোমারে নিয়ে আর পারিনা। আচ্ছা তুমি কি কোনোদিনই সিরিয়াস হবা না?
-- কোন ব্যাপারে যেনো সিরিয়াস হওয়া লাগবে?
কেন আমাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে , রিলেশনের পরিনতির ব্যাপারে।
-- ও আচ্ছা , ওইটা নিয়ে তো আমি সিরিয়াস।
তাই! নাকি? কবে থেকে?
-- এই যে এখন থেকে।
বর্ষার গান
অনেক অনেক দিন পর আমার জগন্ময় দা'র কথা মনে পরলো এই বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে, দুরের আকাশে ধীরে ধীরে মেঘ জমছে, বাতাসে বুনো মোষের মতো ক্ষ্যাপা কালো মেঘ দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে আকাশের নীল সামিয়ানা। ওক সাভানায় যতদুর দেখা যায় বুনো ঘাসের উপরে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুড়ো ওক, নীলচে সবুজ উঁচু নীচু মাঠ থেকে দূরে ছোটো টিলা, আর সেই পাহাড়ের ওপাশ থেকে বুনো মোষের মতো ছুটে আসছে কালো মেঘ, বাতাসে কেঁপে ওঠা এই নীলচে সবুজ ঘাসের গালিচা দেখে মনে হলো সারি নদীর কথা। সারি নদীর পানি এতটা হলদে সবুজ কিন্তু বর্ষায় আকাশের রঙ এর সাথে বদলে যেতো নদীটার রঙ। হলদে সবুজ থেকে কালচে সবুজ একটা জলের চাদর কেঁপে উঠতো বাতাসে, আমাদের কোষা নৌকা কাঁপতো সেই ঢেউয়ের সাথে। এখানে এই নীলচে সবুজ ঘাসের গালিচা কাঁপচে সারি নদীর ঢেউয়ের মতো আর সেই ঢেউয়ের মাঝখানে একাকী দাঁড়িয়ে আমার জগন্ময় দা'র কথা মনে পরছে
"উস্কানিমূলক" বক্তব্য দিয়ে বার বার শিরোনামে নব্য রাজাকার মাহমুদুর রহমান
একজন মাহমুদুর রহমান আর তাকে নিয়েই আমার লেখা । একজন লেখক হিসেবে নয়, বরং সচেতন বাংলাদেশী হিসেবে, রাজাকারদের বিপক্ষ এবং মহান স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি হিসেবেই তাকে দিয়েই এই ব্লগে আমার যাত্রা শুরু হলো । আর আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় ও কিছু দলীয় সাংবাদিকরা যখন তথাকথিত বাক বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চাইছে, তখন তার মুখোশ উন্মোচনের ছোট প্রয়াশ না নিয়ে পারছি না ।
একজন বিচারকের কথিত স্কাইপ কথপোকথন প্রকাশ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং আধুনিক জঙ্গী ও রাজাকার মাহমুদুর রহমান তার 'উস্কানিমূলক ও বিতর্কিত' বক্তব্যের জন্য আলেচিত, সমালোচিত হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।
প্রকৌশলের ছাত্র মাহমুদুরের পেশাজীবনের উত্তরণ ঘটে দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ বেক্সিমকোর মাধ্যমে। পরে অর্থ আত্মসাতের জন্য তাকে সেখান থেকে বিতারিত করা হয়। সর্বশেষ ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন।
যাপিত জীবনের গল্প-৪
ছোট বেলাতেই সব কিছুতেই সহজে হার মেনে নেয়ার একটা প্রবণতা ছিলো। যে কোনো কারণেই হোক, যা কিছুই ঘটুক খুব সহজেই হার মেনে নিতাম। হয়তো কোনো ভেজালে যেতে চাইতাম না বলেই অথবা খুব ক্ষীণ শক্তির অধিকারী ছিলাম বলেই।
কিংবা কখনো কোন কারণে মনে হয়নি আমার জিততেই হবে। কোন কিছুতে জেতার চেষ্টাও করিনি কখনো।
খুব ভালো ছাত্র যে কখনোই ছিলাম না সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিংবা ভালো ছাত্র হবার চেষ্টা কখনো করিনি। কখনো ক্লাসে প্রথম হওয়া ও তাই কোনোদিন হয়ে উঠেনি। তবে বই পড়ার প্রতি আমার ছিলো প্রচন্ড ঝোঁক। সেটা নিজের পাঠ্য বইয়ের প্রতি নয়, বড় বোনদের বাংলা কিংবা ইংরেজী বইয়ের গল্পগুলোর প্রতি। ওই বইয়ের গল্প পড়েই বিকেলের সময়টুকু কাটিয়ে দিতাম ।
ভবিষ্যত বলা কঠিন , তবুও সব বাবা মা নিশ্চয় তার সন্তানকে নিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্বপ্নটাই দেখে ।
ফ্রীডম ফাইটার
মন মেজাজ আজকে খুব ভালো। আবহাওয়ার মতোই মিস্টি। তবে আজ অকারনেই মন ভালো। আমার দুটোই হয়। অকারনে মন ভালো হয়, অকারনেই মন খারাপ হয়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে কিছু কাজগুলোতে আমার মন মেজাজ খারাপ ভালো থাকা কোনো প্রভাব পড়ে না। তার মধ্যে প্রথম হলো চা খাওয়া। চা সবাই পান করে আমি খাই। দিন যতো বিষণ্ণই হোক আর যতো হইহুল্লোরের মধ্যেই থাকি না কেনো চা খাওয়া মিস নাই। চা খাওয়া মানে সবাই ভাবে ১-২ কাপ। এখানে কয় কাপ খাওয়া হলো তা ব্যাপার না। চা টা পারফেক্ট হলো কিনা তাই ব্যাপার, আমার চা পারফেক্ট হবার প্রধান শর্ত হলো চা অবশ্যই শেষ দিকের লিকারের চা হতে হবে। আমি ফাস্ট লিকারের চা খেতে পারি না কেমন জানি গরম পানি গরম পানি লাগে। তারপর দুধ চিনি অত্যন্ত কম। আমার জন্য একটা কাপ আছে সেই কাপ ভর্তি করে চা টা আসবে। আমি প্রথমে গন্ধ নিবো তারপর আস্তে আস্তে সময় নিয়ে তা খাবো। ওতো তাড়াহুরার কিছু নাই। রিল্যাক্স। আমি তাড়াহুড়ায় চা খাইনা। তবে ইদানিং নান্নু বিয়ের পর থেকে পারফেক্ট কম্বিনেশনের চা বানাতে পারে না। তাও চেষ্টা করে খেয়ে জানিয়ে দেই জোর করে খাইলাম। তিনি বলেন মামা এতো কষ্ট করে চা বানিয়ে দেই যখন বলেন হয় নাই তখন আমার চিত্তে কষ্ট লাগে। এই চি
বিড়ম্বনা
এখন এটা করে কিনা জানিনা কিন্তু আমাদের ছোটবেলায় হাইস্কুলের টিচাররা এস,এস,সি পরিক্ষার ফর্ম ফিল আপ করার সময় আমাদের অভিবাবকদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের জন্ম তারিখ আসল থেকে কমি্যে দিতো, কারন হিসেবে দেখানো হত সরকারী চাকুরির ক্ষেত্রে এটা হেল্প করবে,ভাল কথা। দুঃখের বিষয় হল ওই টিচাররা সবাই এতই বেকুব আর মাথামোটা ছিল যে কোন চিন্তা ভাবনা না করেই সবার জন্মতারিখ করে দিতো জানুয়ারীর পহেলা দিন , যেমন ০১-০১-০০। এখনএ
এখন যদি একই পরিবারের দু ভাইবোন বা চাচাতো, খালাতো ভাইবোন একসাথে পরিক্ষা দেয় সেক্ষেত্রে তাদের সবার জন্মদিন একদিনে হয়ে যাচ্ছ সবার জন্মদিন যদি এক হয় তাহলে চাকুরির ক্ষেত্র ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহা ঝামেলার সৃষ্টি হয়। বিসেশ করে বিদেশে এটা অনেক অস্বস্তিকর অবস্থার ভিতর ফেলে দেয়।
হকির দিনাজপুর ও বান্দরবন
আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ
একদিকে অবহেলিত দিনাজপুর
অন্যদিকে ততোধিক অবহেলিত বান্দরবন
হাতে হকিস্টিক পরনে খেলোয়ারি পোশাক,
এ ষ্টিক নয়তো রক্ত ঝড়ানোর ষ্টিক
এ ষ্টিক যে নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক
এ যে ক্রিকেট ব্যাট বলের পর
আশা জাগানিয়া আর একটি জয়গানের প্রতীক
এ ষ্টিক যে বাঘের হুংকার,
এ ষ্টিক যে বঙ্গোপসাগরের গর্জন,
এ ষ্টিক লক্ষ্য ভেদী আঘাতে
হকি বলটিকে লক্ষে পৌছানোর ষ্টিক
এ ষ্টিকের আঘাতে আঘাতেই
পৃথিবী হয়ত আবার দেখবে বঙ্গ সার্দুলদের
বিশ্ব কাপে
পাকিস্তান, ভারত, নিউজিল্যান্ড, হল্যান্ড সহ
রথী মহারথীদের বধ।
সেদিন খুব দুরে নয়----
সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম
সাথে দিনাজপুর ও বান্দরবনকে
জানাই শুভেচ্ছা।
২৮/০৫/১৩
ভণ্ড ভণ্ড ভণ্ড (পর্ব-২)
পর্ব-১
শুক্রবারের জুম্মার নামাজ বাদে অন্য ওয়াক্তগুলোতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহল্লার মসজিদগুলোতে খুবই অল্প সংখ্যক লোকের সমাগম ঘটে। সর্বোচ্চ দুই কাতার লোক হয়।
অর্থাৎ ওই অল্প সংখ্যক লোকই নিয়মিত নামাজ পড়েন। তাদের মধ্যে যদি জরিপ চালানো হয় তাহলে দেখা যাবে, তাদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ লোক বুইড়্যা এবং স্থানীয় বাড়ির মালিক। তাদের এক পা এরইমধ্যে কবরে গিয়ে বসে রয়েছ। এদের বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা, কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী ছিলেন। যৌবনকালে তারা ঘুষসুদ খেয়েছেন সমানে, অন্যান্য আকাম কুকামও বাদ যায় নি। দুনিয়াতে সন্তানদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করে শেষ বয়সে তারা এসেছেন পরোকালের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে। বাকী ১০ শতাংশের ৯ শতাংশ দেখা যাবে তারা ঘুষসুদ খাওয়ার সুযোগ পান নি। পেলে নিশ্চিতভাবেই খেতেন। ১ শতাংশ তূলনামূলক ভাল মানুষ পাওয়া যেতে পারে।তবে এলাকাভেদে এ হার কমবেশী হতে পারে। আমার কথা যারা বিশ্বাস করলেন না তারা ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে গিয়ে দেখতে পারেন।
অন্ধরাজহাঁস ও সকাল
অন্ধ রাজহাঁসটি বেজে উঠলে সকাল আর
নামে না, নামেই না
সকালের আশায় আমি সামনের আমগাছটির মত
অপেক্ষায়,
গ্রীল ঠুকরাতে থাকা দু'টি চড়ূইয়ের মত আমিও
মাথা কুটি,
তারে ঝুলানো একটি নীল কাপড় চরাচর আড়াল
করে দাঁড়ায়,
গোড়ালি কামড়ালে আমার কীযে জলাতঙ্ক মত হয়,
টুকরো টুকরো হাড়,
সেই হাড় সাঁতরাতে থাকে দিঘি,
কুকুরটা রেগে গেল ত রাজহাঁসের জন্যেই, এত
দীর্ঘশ্বাস কী ধার করা যায়? অপূর্ব ব্যথার এ-
সকালটি আর নামতেই পারলো না
আমার ও আগের মতো লাগে না, বালু
মিশে গেছে চোখে
মনের কথা-১
জীবন কখনো বন্ধুহীন,বোধকরি এই সময়টা একজনের জীবনে সব চেয়ে কষ্টের।
রোকসানা আফরিন , কবি, লিখেছিলেন ,
-অবশেষে জানলাম,
জীবন বন্ধুহীন ,
পথের সাথীকে পথেই ফেলে আসতে হয়!
আজ তাকে ভুলে থাকা যায়!-
বন্ধুহীন জীবনের অলি-গলিতে শুধুই হতাশা,ঋণগ্রস্থ জীবনের আর্তনাদ।
সত্যি বলতে কি ,জীবনে কারো কাছেই ঋণী থাকতে নেই।
প্রিয় বন্ধুর এক মুহুর্তের বিশ্বাস ভঙ্গের বেদনা, বাড়িয়ে দিতে পারে অনেক নতুন ঋণের বোঝা।
কারন, প্রিয় বন্ধু তখন হয়ে যায় অচেনা কেউ,যার নিঃস্বার্থ উপকার তখন ঋণ বলেই মনে হয়।
জীবনে খুব কম মানুষই এক জন আরেক জনের কাছে বিশ্বাসী হয়ে উঠেন।
একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয় যে আমাদের বিশ্বাস এর ধরন ও প্রকৃতি ব্যক্তি বিশেষে ভিন্নতর হয়।
তাই ব্যক্তি জীবনে একাধিক বিশ্বাসী মানুষ এর দরকার পড়ে।
তাছাড়া, এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না যাকে সব কিছুই বিশ্বাস করে বলে যাবে।
সর্বোপরি, বিশ্বাসী ব্যক্তির কাছেই আমাদের বেশি ঋণ থাকে।
কাজেই যেদিন কেও বিশ্বাস ভাঙ্গার কষ্ট সইতে শুরু করেন,
তার সাথে অতিরিক্ত যন্ত্রণা শুরু হয়
ঋনের বোঝা, নিরাপত্তাহীনতা,কিম্বা ভুল বন্ধু নির্বাচন এর জন্য অনুশোচনা।
যাপিত জীবনের গল্প-৩
সর্বশেষ যে স্বপ্নটা মরে যেতে দেখছি সেটা হলো ব্লগ লেখা । জীবনের পথে পথে কতো যে স্বপ্ন মরে গিয়েছে খোঁজ রাখিনি কোনো দিন। এখন তো মাঝে মাঝে মনে হয় আমার জীবনে কোনো স্বপ্নই ছিলো না। ছিলো কি কোনো স্বপ্ন?
জীবনের দিনলিপিতে শুধু সাতটি দিনেরই অস্তিত্ব খুঁজে পাই কেবল। তাতে কেনো যেনো কোনো আনন্দ খুজে পাইনা। সকাল হয়, রাত আসে। তারপর আবার সকাল। ক্যালেন্ডারের পাতার এই দিন গোনার বাইরে আর কোনো কিছুই আজকাল আর আমাকে তেমন স্পর্শ করে না ।
এইযে ৪২ বছর পর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় হয়ে গেলো। তার খুব কমই আমাকে স্পর্শ করেছে।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি সাভারের ভবন ধ্বসের ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনের হাহাকার ও আমার গভীরে ছুয়ে যেতে পারেনি।
৫ই মে মতিঝিলে কি হয়েছিলো সেই নিয়ে সাধারণ মহলের নানা জল্পনা কল্পণার কোনো কিছুই আমাকে তেমন স্পর্শ করেছে বলে কখনো মনে হয়নি।
মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছু কেমন যেনো আমার স্পর্শের বাইরে চলে গেছে।
আহ! কোথায় গেলো , আমার সেই গল্পের বই?
অনুতপ্ত
তখন মগবাজার মোড় থেকে সূর্যসেন হল পর্যন্ত রিক্সা ভাড়া ছিল ২টাকা। মাসের শেষে খরচের টাকা আনতে বাসায় গেলাম। ্বন্ধুদের মধুর ক্যান্টিনে অপেক্ষা করতে বলে আমি বাসায় রওনা দিলাম। ২ টাকাই ছিল, তাই নিশ্চিন্তে ভাড়া জিজ্ঞেস না করেই রিক্সায় চেপে বাসার সামনে এসে ২ টাকা বের করে দিলাম। রিক্সাওয়ালা আরো ৫০ পয়সা চাইলো। এমনিতে পকেটে আর কোন ফুটা পয়সাও ছিল না তার উপর ভাড়া বেশি চাওয়াতে মাথা বিগড়ে গেলো। ঠাস করে একটা চড় দিয়ে আমি বাসায় ঢুকে গেলাম। একটু পর বাইরে হৈ চৈ শুনে বারান্দা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি ২০/৩০ জন মানুষ, সবাই রিক্সাওয়ালা খুব চিৎকার করে আমাকে বের হতে বলতেসে।ঢাকা বিস্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দল বেঁধে ঘুরা টগবগে ভয় ডরহীন যুবকের মনে বিশাল ভীতি জন্মালো এই ভেবে যে বাসা থেকে কেমন করে বের হব, বের হলেই তো পিটিয়ে ভর্তা বানিয়ে দিবে।
আমাদের যন্ত্রযুগে
রোমান সম্রাজ্য কিংবা গ্রীক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ সময়েও " দাস" কখনই স্বাভাবিক মানুষের মর্যাদা পায় নি। মানুষের অধিকার সম্পর্কিত কোনও ভাবনায় 'দাস' আলাদা মানবিক অস্তিত্বসমেত দৃশ্যমান হয়ে উঠে নি। পরবর্তী দেড় হাজার বছরেও কোনো মহামানবই 'দাস' প্রথার বিরুদ্ধাচারণ করেন নি, দাসদের প্রতি আরও একটু মানবিক হয়ে ওঠার উপদেশ প্রদানের বাইরে 'দাস'দের স্বাধীনতা প্রশ্নে নিস্পৃহ থেকেছেন। তাদের এই সচেতন নির্লিপ্ততা তাদের ব্যক্তিগত অমানবিকতার চেয়েও বরং তাদের সময়ের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কে দাস শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতিস্বরুপ।
সভ্যতায় যন্ত্রযুগের আবির্ভাবের আগে 'দাস' উৎপাদক হিসেবে পেটচুক্তি শ্রমিক, এমন এক উপকারী জীব যাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করা যায় এবং যাদের প্রতি মানবতাবাদী মনোযোগ কোন না কোন ভাবে উৎপাদন সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করবে। যদিও সাধারণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন " স্বাধীন মানুষের" উৎপাদনের যাঁতাকলে কলুর বদলের মতো জুড়ে যাওয়া সমর্থনযোগ্য নয় কিন্তু এই মনোভাব অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সভ্যতার ইতিহাসে বিদ্যমান ছিলো।
চাঁদের আলোয় হারিয়ে যাওয়া দিন!
আমাকে কেউ পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন করলে বিশেষ করে তা যদি হয় বন্ধু আড্ডামেটদের কেউ তবে সিরিয়াসলি মেজাজ খারাপ হয়। নিতান্তই লোকজন শেয়ার দিতে বলে তাই ফেসবুকে শেয়ার দেয়া। নয়তো নিজের পোস্ট শেয়ার দিতে আমার সিরিয়াস বিরক্ত লাগে। যারা ব্লগার যারা আমার লেখা চিনে জানে তাদেরকেই শুধু লেখা পড়াতে ইচ্ছা জাগে। আর কাউকে নয়। রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ডদেরকে তো আরো নয়। কারন আমি যদি কোনো জাতীয় ইম্পর্টেন্ট কিছু লিখতাম তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের শেয়ার দিয়ে জানাতাম। তাদের পাশে চাইতাম। কিন্তু আমি লেখি সাদামাটা দিনলিপি যার বেশীর ভাগের বুক জুড়ে থাকে নিজের কথা, নিজের দিনযাপনের কথা আর বন্ধুদের কথা। তাদের সমন্ধে কি কি ভাবছি তা যদি ব্লগ পড়েই জেনে এসে আমাকে প্রশ্ন করে তখন খুবই ইরিটেটিং লাগে। আর প্ল্যান করি কিভাবে ফেসবুক থেকে তাকে বাদ দেয়া যায়। আমার ফেসবুকে রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ড এই জন্যই এড নাই। কারন বন্ধুরা বাস্তবেই ভালো আর ফেসবুকের বন্ধুরা ফেসবুকে। কিন্তু সবাই কে তো আর ডিলেট মারা যায় না তাই শেয়ার ঝটকায় লাইক না পেলেও পোস্ট পড়ে তাদের নানান কিছুর উত্তর দিতে হয়। কোনোটা বাড়িয়ে লেখেছি, কোনটা কমিয়ে লিখছি, কোনটা বাদ পড়েছে, কোনটা লিখেছি তা তাদের পছন