ইউজার লগইন
ব্লগ
গল্প: কালবৈশাখী
পর্ব-১
পাচ্ছি না একটুও শান্তি। নীলামনিকে সেদিন স্বপ্নে দেখলাম। দেখলাম কি, সে আমাদের বাড়ির একটা ঘর ভাড়া নিয়েছে। স্বপ্নে তো কতকিছুই দেখা যায়। আমি দেখলাম, এক ঘুঘু ডাকা স্তব্ধ দুপুরে ও ঘুমিয়েছে কিংবা ঘুমোনোর ভান করছে এমন সময় আমি গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরেছি। ধরে বিছানা ওপরে দুইটা পাক দিয়ে দিয়েছি। তারপর হুটোপুটি শুরু করেছি দু'জনে মিলে। নাকের সঙ্গে নাক ঘষছি আর দুইজনই খুব হাসছি। ও আমাকে বজ্জাত, হাড়কেলো ইত্যাদি বলে বলে রাগ দেখানোর আর কিল দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি দুইহাতে ওর হাত দু'টিকে বালিশের দু'পাশে ঠেসে ধরে আটকে দিলাম। ওর ঠোঁট থেকে তখন আমার ঠোঁট ঠিক এক ইঞ্চি দূরে। একটা রিনরিনে হাসির শব্দ তখনও দূরে কোথাও ভাসছিলো। আমি সে সময় ওর বুকের ভেতরকার তুমুল তোলপাড় স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিলাম।
সোহাগ ভাল থাকুক
বন্ধুরা ভুল করে পোস্টটি মন্তব্যের ঘরে গেছে। তার জন্য আমি দুঃখিত।
তব মুখ সদা মনে...
গানটি সবাই পছন্দ করে না হয়তো, জানি রবি ঠাকুরের গানগুলি সবাই শুনতেও চায়না আর আজকাল। যাকেই বলি, দেখি পাশকাটানো ভাব। তাদেরকে বোঝাতে পারিনা, সব অবস্থার, সব ধরনের পরিস্থিতির ও মূহুর্তের গান আছে কবিগুরুর.................
একজনের কাছে সারা পেয়েছি, আমার মত আনন্দচিত্তে তাকেও শুনতে দেখেছি, পুলকিত হতে দেখেছি..............
আপনি আনন্দে আছেন! কষ্টে বেদনাবিধূর! চমকিত! পুলকিত! শুভেচ্ছা জানাবেন! আমন্ত্রণ-আগমন অথবা বিদায়....জানাবেন ভালোবাসা....মরবেন প্রেমে.............
তবে, কান দিয়ে নয়, মন দিয়ে হৃদয় পেতে শুনুন.........................
..........তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,
এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা ।।
যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো,
আকুল নয়নজলে ঢালো গো কিরণধারা ।।
তব মুখ সদা মনে জাগিতেছে সংগোপনে
টিস্যু
চায়ের কাপে ঠোটের সমবায়ী স্পর্শ গ্রহণীয়। এক কাপ চা তিন চুমুকে শেষ করে ফেলা- এর ভেন্যু অবশ্যই হতে হবে কলেজ ক্যান্টিন বা কোন মামা'র টঙ। এই আচরনে কোন অপবাদ বা অবরোধ নেই। কারো দিকে সমবায়ী দৃষ্টি রাখা। এটা কোন ভাবেই জায়েজ কাজ হতে পারেনা। কিন্তু ওরা তিনজন তো তাই করলো। ওরা বলতে যোশেফ, হিরন আর মামুন। তিনজন মিলে টিস্যু'র দিকে নজর রাখলো। আসলে মেয়েটার মূল নামটাই ভুলে গেছি। করিডোর দিয়ে মিছিল করে যাচ্ছি। দেখি কমন রুমের দরজায় একটা নতুন মুখ। একদম ধবধবে সাদা। মুখে লাবন্যের ঘাটতি আছে। মিছিল শেষে ক্লাসে ফিরে জানান দিলাম- একটা নতুন মুখ দেখলাম একেবারে টিস্যু!
ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ৬
ডিসক্লেইমার: সফরের একটা ছবিও আমার ক্যামেরায় নাই, কারণ ক্যামেরা হারাইয়া ফেলছিলাম দুই সপ্তাহের জন্য। কিছু অন্য ক্যামেরার ছবি, আর কিছু কপিরাইট যোগ করে গুগল মামু থেকে পাওয়া ছবি দিচ্ছি। এই পর্বে তাই ছবির সংখ্যা খুবই কম... বেশিরভাগটাই আমার ব্যাগব্যাগানি।
----------------------------------------------------------------------
পর্দা বদলে যায়
তুমি বলেছিলে মসজিদের পাশের গলি দিয়ে ঢুকতে হবে। তারপর নাক বরাবর হেটে যেতে হবে। গেলাম। থামতে হবে সেলুনের সামনে। থামলাম। তোমার কথা মতো এখন নারকেল গাছ ওয়ালা বাড়িটার তিনতলায় চোখ রাখতে হবে। বিশেষ করে যে জানালায় সাদাকালো পর্দা ঝুলছে। পর্দা সরিয়ে সেখানেই এসে তুমি দাড়াবে। কোচিং এ নোট পেপার বিনিময়ে যেটা আমার হাতে এসেছে, সেখানে এমন নির্দেশনাই দেয়া। নোট পেপারটা সংগে আছে। বারবার পড়ে নিলাম নির্দেশনা মানতে কোন ভুল হলো কিন? না শতভাগ মেনেই এখানে এসে দাড়িয়েছি। কিন্তু সাদা-কালো পর্দা কোথায়? রাস্তা থেকে যে দুটো জানালা চোখে পড়ে তিনতলায় সেখানে ঝুলছে নীল পর্দা। সাদা-কালো নেই। এমনকি এক তলা, দোতালাতেও পর্দার রং কোনটায় লাল, কোনটায় হলুদ। আমি ভুল করছি?
অপরাজিতা...
অনেক দিন লেখা হয়না! আর লিখতে গেলেই কেন জানি এইসব আব্জাব পয়দা হয়! বড় লেখক হয়ে গেসি মনে হয়!
অপরাজিতা
শ্যামলা সরল মেয়েটির মনে হালকা গোলাপির সাথে কোথায় যেন একটু নীল মেশানো
গাঢ় ঘন নীল
মনের রঙ্গে কোথায় যেন বেগুনীর আবছা ভাব,
সন্ধ্যা হবার ঠিক আগে আগে
সূর্যের শেষ রশ্মিগুলো মিলে যেরকম বেগুনীর ছায়া নিয়ে খেলা করে,
সেরকম।
আমি তাকে চিনি বেশীক্ষণ না।
বান্ধবীর বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে বলে হুট করেই বোন আমাকে এখানে নিয়ে এলো।
মেয়ে দেখতে।
অপরাজিতা কে দেখতে।
ফুটে উঠা ফুলের মতো কাউকে দেখবো ভাবিনি।
অপরাজিতাকে দেখলাম,
মনের সমস্ত রংগুলোকে চোখে সাজিয়ে বসে আছে সে
প্রদর্শনীর অপরাজিতা।
সেখানেই আমি দেখি বেগুনীর কোলাহল,
শূন্য চোখ নিয়ে বসে থাকা একটি মেয়ে
তার বাবা মায়ের ইচ্ছাকে মূল্য দেয়া একটি মেয়ে
দোকান সাজিয়ে বসে আমার সামনে
আমার বোন সেই দোকানের এটা সেটা দেখায়,
আমি থমকে যাই,
আবারও পেচ্ছাপেচ্ছি
১.
আবহাওয়া খারাপ। প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় পানি জমে আছে।
দুই ভিক্ষু হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে কোথাও। পথে দেখে খুব সুন্দরী একটি মেয়ে, রাস্তা পার হতে পারছে না। সামনে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। মেয়েটিকে দেখে ভিক্ষুদের একজন মেয়েটাকে কোলে করে নিয়ে রাস্তা পার করে দিল। মেয়েটাও কৃতজ্ঞতা জানালো।
তারপর আবার হেঁটে হেঁটে দুজনে আগের মতো পথ চলতে লাগলো।
অনেকক্ষণ, অনেকক্ষণ পরে দ্বিতীয় ভিক্ষুটি হঠাৎ বললো,-এটা কী করলা তুমি। মেয়েটা সুন্দরী দেখে এভাবে তাকে এতোটা রাস্তা কোলে বহন করে রাস্তা পার করে দিলা?
প্রথম ভিক্ষুটি তখন একটু হেসে বললো,-আমি তো মেয়েটাকে ওখানেই রেখে এসেছি। বহন তো করছো এখন তুমি।
এই গল্পটা আমার অনেককেই আজকাল শুনাতে ইচ্ছা হয়।
২.
কবিতা: সহস্র সারস পাখি আকাশের আঙিনায়
জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। এবারে গ্রীষ্মের শুরুতে প্রকৃতি অনেক প্রসন্ন ছিলো। প্রতিদিন ঝড় না হলেও, এক-আধবার বাতাস ছাড়তো ঠিকই। এখন সেটা একটু কমে এসেছে। দু'তিন দিন গরমে অসহ্যও লেগেছে। কিন্তু অসহ্য হতে পেরে খারাপ লাগে নি।
ঝড় শুরু হলেই আমি রাস্তায় নেমে যাই। প্রকৃতিদেবীর এই উপহারটির সঙ্গে আসলে কোনোকিছুর তুলনা চলে না। এখন আবার মনে আরেকটা ইচ্ছা তৈরী হয়েছে। একটা ভীষণ ঝড়ের মধ্যে রমনা পার্কে গিয়ে বসে থাকবো। সোহরাওয়ার্দী পার্কের প্রতি বর্গইঞ্চি চিনি। ঝড়ের সময় কি হয়, কে কই আশ্রয় নেয়, কোন দিকে তাকিয়ে বাতাসের কীর্তিকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়; সব জানি। অথচ ঠিক উল্টোদিকেই রমনা। তার কিচ্ছু চিনি না!
ছোটমা’র জন্যে একরাশ ভালোবাসা
দেশে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলাম তখন এক আড্ডায় বান্ধবীরা একটু অনুযোগ করলো আমার কাছে, এতো গল্প লিখি কিন্তু স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি লাইফের কোন গল্প মানে বান্ধবীদের নিয়ে গল্প কেনো লিখিনি এখনো। কি দুর্দান্ত দিন ছিলো আমাদের। সবসময় পড়াশোনায় ভালো কিন্তু দুষ্টমীতে ওস্তাদ হিসেবে আমাদের বান্ধবীগ্রুপের নাম ছিল সব ইন্সটিটিউটে। আমিও ভাবলাম তাইতো কেনো লেখা হয়নি সেগুলো এখনো?
অসমাপ্ত প্রেম কাহীনি(শেষ থেকে শুরু)
(৩)
আজও ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি,
তুমি ফিরে এসে,
আমার পাশে বসে,
অশ্রু সিক্ত চোখে বলছো আমায়,
তুমি কেমন আছো?
আমি নির্ভাগ নিরুত্তর হয়ে রই,
কাঁপা গলায় আমিও বলি,
সুখে আমায় রেখেছো কই?
যেমন চেয়েছিলে তেমনি আছি,
তুমি কেমন আছো?
কান্নার মতো মৃদু হেসে বলো তুমি,
তুমি যেমন আছো আমিও আছি তেমনি,
তোমার দিকে চেয়ে দেখি,
বদলে যাওয়া চুলে,
বদলে যাওয়া চেহাড়ায়,
বদলে যাওয়া গায়ের রঙে,
চোখের পাতায় জমানো কালো দাগে,
অশ্রু জলে সিক্ত চোখে,
খুজে পায় হাহাকার,
মনটা কেঁদে উঠে,
স্পর্শ করতে চাই আমি,
ঝাপছা হয়ে যাও তুমি,
মুহুর্তে মিলিয়ে যাও অন্ধকারে,
বুকটা বেদনায় যায় ছিড়ে,
ঘুম ভেঙে যায়,
কেঁদে ওঠে মন বেদনায়,
দুচোখ মেলে দেখি আছি তেমনি,
রেখে আমায় গেছো যেমনি,
একাকি .....
কে?
অন্য কারো নয়, নিজের ব্যাপারেই জানতে চাইছি! কে! কে আমি? অস্তিত্ব নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার কোন সীমা-পরিসীমা নেই। ভাষণে বিরোধী দলের নেতারা সরকারের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেন; তখন বলেন, দেশে নাকি সংকট আর সংকট। নয়াপল্টনের মুহুর্মুহু করতালি, স্লোগানে-স্লোগানমুখরতা আর বলিষ্ট কন্ঠের গগণবিদারী ভাষণের সীমা ছাড়িয়ে রৌদ্রতপ্ত ঐ আকাশের দিকে এক মূহুর্ত তাকিয়ে আপনমনে বলছিলাম, কেউ কি আছে আমার সংকট নিয়ে কথা বলার.....................
ক'টায় ঘুমাচ্ছি জানিনা, কখন উঠছি জানিনা সে সময়ও। হঠাৎ নিজেকে উদ্ধার করছি, রাজপথে, অফিসে, কাজে... দৌড়াচ্ছি...দ্রুত বেগে দৌড়াচ্ছি আমি.....সময় নেই মোটে....কারো সাথে কথা বলার, কারো সাথে দেখা করার, নিজের একদম দরকারি, নিত্যদিনের কাজগুলো করার, যেমন ধরো, নখ কাটার। আসলে সময় নেই, এত ব্যাস্ত যে সময় পাচ্ছিনা।
টিলো
দেয়ালের দিকে মুখ করে শ্যামার ত্রিশ গোনা শেষ। আর বিশ গোনার আগেই আমাদের লুকিয়ে পড়তে হবে। আমি লুকানোর জন্য দেয়াল টপকাতে গেলাম। কিন্তু পেছন থেকে তুমি আমার সার্ট টেনে ধরলে। তোমাকেও সঙ্গে নিতে হবে। হাত বাড়িয়ে দিলাম। উঠে এলে দেয়ালের উপর। তারপর হাত ধরাধরি করে এক সঙ্গে লাফিয়ে পড়লাম নিচের কচু বাগানে। তুমি একটু ভয় পাচ্ছিলে। সাপ জাতীয় কিছু এসে না কামড়ে দেয়। ভয় কাটাতে তোমার মনোযোগ নিয়ে গেলাম গঙ্গা ফড়িঙ এর দিকে। একটা ফড়িঙ তোমার হাতে ধরিয়েও দিলাম। সবুজ-হলুদের মিশেল একটা ফড়িং। তুমি কপট রাগ দেখিয়ে ফড়িঙটা ছেড়ে দিতে বললে। বললাম আমার যে একটা ফড়িঙ দরকার। তুমি বললে আছে তো। বললাম কই। উত্তর না দিয়ে হলুদ ফ্রক উড়িয়ে দেয়াল টপকালে। আমি এপার থেকে শুনতে পেলাম- টিলো।
বামপন্থীদের চক্রান্তে মুজিব ধর্মনিরপেক্ষ হইছিলো!!!???
কিছুদিন আগে আমার এক ফেইসবুক স্টেটাসে এক পরিচিত আওয়ামি সমর্থক কোনো এক যুক্তির প্রেক্ষিতে হঠাৎ একটা অভিযোগ নাজিল করলেন। তিনি দৃঢ়ভাবেই কইতে চাইলেন ৭২ থেইকা ৭৫'এ আওয়ামি লীগের ভেতরে থাকা বামপন্থী নেতারাই শেখ মুজিবের সর্বনাশ করছিলো। তার উত্থাপিত এই অভিযোগ আমি সেইসময়টায় পাত্তা না দিয়া উড়াইয়া দিলাম। মনে খানিকটা খচ খচ করতে থাকলো যদিও...বাংলাদেশের ইতিহাস যতোটুক জানি তাতে এই বাম প্রভাবের ক্ষেত্রে তাজউদ্দিন সাহেবরে দায়ী করতে চাইলো সেই পরিচিত এইটা বুঝতে পারতেছিলাম স্পষ্ট। এছাড়া বামপন্থার অভিযোগের জন্য আর কোনো উপলক্ষ্য পাইলাম না। তবুও এই দেশের মানুষের গড় উপলব্ধি আর চিন্তা কাঠামোর বিবেচনায় বিষয়টারে উপেক্ষা করনটাই শ্রেয় বইলা ভুইলা গেলাম সব ক্ষোভ।
ভালবাসার অন্য পাশে
জীবনটা প্রতিনিয়তই বদলে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে তো বেশ খানিকটা পথ চলে এসেছি। বদলে যাওয়া এ জীবনের অর্থ খুজে দেখেছি অনেকবার, কিছুই পাইনি আমি। ভালবাসার খুব নিকট দিয়ে চলে গেছি শুধু ছুঁয়ে দেখতে পারিনি। শুনেছি মানুষের মাঝেই নাকি মানুষের বাস, এক পলক চোঁখ বন্ধ করলেই তাকে খুজে পাওয়া যায়। কতবার চেষ্টা করেছি, কিছুই খুঁজে পাইনি। জীবনের মাঝখানে থেকেও জানতে না পারার অপূর্ণতা আমাকে কুরে কুরে খাই। ভালবাসতে না পারার ব্যর্থ চেষ্টাগুলো বার বার আমার চোঁখে ধরা দেয়। ভাষাহীন মুখ আর গুমরে কেঁদে যাওয়া মুহূর্তগুলো এসে ধরা দেয় প্রতিনিয়ত।