ইউজার লগইন
ব্লগ
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৭)
আমাদের যাবার কথা ছিলো পোভার্টি মিউজিয়ামে। মিরপুর যাবার জন্য সাবওয়ে বেস্ট হয়তো, স্কাইরিভার থেকে দশমিনিটের পথ। কিন্তু ইদানিং সাবওয়ের ভেতরে হকারদের উৎপাতে দাড়িয়ে থাকা দায়। বসার তো কোনো সুযোগই নেই। এত ঘিঞ্জি, স্যাতস্যাতে আর টেকনো-এডাল্টির দাপট যে সাবওয়েতে পারতপক্ষে আমরা চড়ি না। গাড়ীতে যেতে ঘন্টাখানেক লাগবে বটে, কিন্তু তারপরেও আমরা ফ্লাই-ওভার বেছে নিলাম। বিলাসিতার লোভ সামলাতে না পেরে একেবারে পেট্রোল-কারই ভাড়া করলাম। টাপুরের মা আর আমি খরচ এড়াতে ওয়াটার রিফুয়েলারই ব্যবহার করি নন-ইন্সুরেন্সড ঝুঁকি নিয়ে। তবে পেট্রোল-কারে চড়ার পরে টাপুরের মা বেশ ফুরফুরে হয়ে উঠলো, যাক – এটলিস্ট এই পথটুকুনে কিছু হয়ে গেলে ইন্সুরেন্সের বেনেফিটের সাথে আমার দেহটা ঠাঁই পাবে স্ট্রিট-এক্সিডেন্ট ভিকটিম মিউজিয়ামে। তোমাকে দেখবো ভুত হয়ে!
সম্পর্ক কিংবা অসম্পর্কের গল্প
১))
আমাদের প্রিয় বন্ধু সাগর একসময় ডায়েরী লিখত।
আমরা জানতে চাইতাম, তুই এত চুপচাপ কেন? বন্ধু আমাদের হেসে বলত,কই? পাতার সাথে তো কথা বলি। পাতা- যাকে আমরা দীর্ঘদিন ভেবে এসেছি রূপসী কোনো তরুণী, যার কথা ভেবে আমরা বন্ধুরা কত সময় পার করেছি উদাস থেকে উদাস হয়ে। এক অদেখা তরুণী যে আমাদের প্রিয় বন্ধুর সব কথা জানে, আমরা তার কাছের হয়েও কিছু জানি না সেই তরুণী দিন থেকে দিন আমাদের চোখের বালি হতে থাকল।
আমরা যখন আবিষ্কার করলাম, পাতা মানে কোনো নারী না, গাছের পাতা না বরং পাতা দিয়ে বানানো ডায়েরী,আমাদের মন কিঞ্চিত খারাপ হলো। সাগরকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার কিছু না পেয়ে আমাদের ভেতর বিরক্তি কাজ করতে শুরু করে আর ডায়েরীটি পড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে থাকে।
যাপিত জীবন: খেলা দেখা, সমর্থন, আবাহনী-মোহামেডান
একেবারেই ছেলেবেলায়, আমরা তখন মাত্র ঘরের বাইরে খেলাধুলা শুরু করেছি। মানিক,নজু ছিল আমাদের পান্ডা। মোট পাঁচ ভাই ছিল ওরা। মহল্লার খেলাধুলায় বাকি ছেলেদের উপর হম্বি-তম্বি করত। আমরা সব সময় চুপচাপ মেনে নিতাম। প্রতিবাদ করারও সাহস পেতামনা। যেমন ফুটবল খেলা চলছে, একজনকে বলল তুই বস, সাইড লাইন থেকে আরেকজন কে নামাত খেলতে তাদের ইচ্ছামত। আমরা বিনা প্রশ্নে মেনে নিতাম তাদের মাতুব্বরী। কারণ প্রতিবাদ করলে মাইর খাওয়ার ভয় ছিল। তাছাড়া বাইরের দুনিয়ার সাথে তাদের বিস্তর জানাশোনা ছিল। একদিন একটা ফুটবল নিয়ে এসেছে। বলল আন্টি দিছে। কোন আন্টি? নায়িকা শাবানা আন্টি। আমরা আম পোলাপাইন তাই বিশ্বাস করতাম।
আমি সেই অসম্ভবকেই চাই

হ্যাঁ, আমি সেই অসম্ভবকে চাইঃ আমাকেই ভালোবাসো চিরদিন
ভালবাসো যখন সকল কামনা ফুরিয়ে যায়
ভালবাসো সেই তপস্বীর একাগ্রতায়।
যখন পৃথিবী, তার সবকিছু, তোমার সকল পবিত্রতা
একসাথে নিষেধ করতে থাকে তোমায়ঃ বেশীই ভালবাসো, তারপরও।
যখন এক বেনামী রাগ অন্ধ করে দেয় তোমাকেঃ আমাকেই ভালবাসো।
যখন ঘর থেকে কাজের দিকে প্রতিটি পা ক্লান্ত করে তোমাকেঃ আমাকে ভালবাসো ।
আর যখন কাজের শেষে ঘরে ফেরোঃ আমাকে ভালবাস, আমাকেই।
আমাকে ভালবাসো যখন তুমি নিস্পৃহ।
যখন আগের নারীর চেয়ে বেশী আকর্ষনীয় প্রতিটি রমনীর রূপ,
অথবা বেশী দুঃখী, আমাকেই ভালবাস যেমনটি বেসেছ আগেঃ
না, চাটুকার বা বিচারকের মত নয়
বরং সেই স্নেহে যা রেখেছ একান্ত নিজের জন্য।
ভালবাসো নিজস্ব একাকীত্বের মত, মৃত্যুচিন্তার মত।
শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এখন যা ঘটছে
১.
রিপোটিং করার মধ্যে এক ধরণের নেশা আছে। এই নেশার কারণেই একবার রিপোর্টিং শুরু করলে এ থেকে বের হওয়া মুশকিল। যেমন ধরেন, ৭ এপ্রিল শেয়ারবাজারের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে বলে জেনে আসছি। জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টিং এর নেশা চেপে ধরলো। প্রতিবেদনটি বের করতে হবে। সরকার সহজে এই রিপোর্ট প্রকাশ করবে না জানা ছিল। সরকার প্রকাশ না করলেই যে পাওয়া যাবে না তাও না।
আগে থেকেই শুরু করলাম যোগাযোগ। একজন কথাও দিলেন যে রিপোর্টটি দেবেন। তবে প্রথম দিন কেবল সারাংশ, আর কয়েকদিন পর পুরোটা।
অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে পেয়ে গেলাম সারাংশ অংশটুক। তিনি কথা রাখলেন, আমার জন্য সারাংশটুকু পকেটে রেখেছিলাম, কোন এক ফাঁকে সবার চোখ এড়িয়ে দিয়ে দিলেন।
হ য ব র ল - ৫
১.
গত ৫দিন যাবৎ বিশাল দৌড়ের উপরে আছি। টার্ম পেপার, প্রেজেন্টেশন, টার্ম ফাইনাল, বৈশাখ, ঋহান, ঋহানের বাপ, সব নিয়া পুরা বেরাচেরা অবস্থা। তবুও মাঝে সাঝে ব্লগে এসে অফলাইনে দুই একটা লেখা পড়েছিলাম, কিন্তু কমেন্ট করা হয়নি। আজ যখন সব কমেন্ট করতে বসলাম, দেখি একটু পর পর বিদ্যুৎ মামা বেড়াইতে চইলা যান। এমন তো কথা ছিলো না।
২.
নতুন ডিকশনারী যেদিন লিখিত হবে, কেউ আমাকে ভুলে যেও না (চিক্বুর সহ)...
সারা জীবনের পড়া বাংলা মিডিয়ামে। পড়া মানে মুখস্থ করতে হবে। যা আপনাদের মেঘ একটুও পারে না। ফলাফল হাত পেতে মার খাওয়া। যাক্, সেসব নিয়ে হায় আফসোস নেই। ইংলিশ ফর টুডে পড়ে ই কেউ ইংরেজিতে কবিতা লিখে আর আমাদের মতো মাঝারীরা ভাবে - এভাবে কি ভাষা শেখা যায় (এভাবে কি তার সাথে প্রেম করা যায় - ফজলের সেই গান নোভা ব্যান্ড)। আরবীতে যখন ব্যাকরণ আর কবিতা লিখা শিখলাম ( শিখতে বাধ্য হলাম) তখন ভাবনার ষোলকলা পূর্ণ হলো। বাপস, আমি বাংলা জানি (আজো জানি না সত্যি জানি কি না), ইংরেজি জানি (ইংলিশ বই পড়তে দিলে আমার একমাস লাগে), আরবী জানি (পড়তে পারি কিন্তু আগের মতো কিছুতেই অর্থ বুঝি না) - আমরা ক্লাসের সবাই একদিন আলাপ করছিলাম আমরা আসলে বহু ভাষা বিশারদ এর খেতাব পাওয়া উচিত। এসব চিরতা গিলতে গিলতে এসএসসি র বৈতরণী পার হলাম। এবং খুব সুন্দরভাবে ঐ টিক মার্কের আমলেও ইংরেজিতে লেটার পেলাম না। সব দোষ আমার মুখস্থবিদ্যা না থাকার
(
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৬)
সড়কে ফুটপাথ নেই। তবে হাঁটার জন্য আলাদা লেন আছে। বিষয়টা বিরক্তিকর। একসময় ঢাকার রাস্তায় ফুটপাথ ছিলো। যদিও তাকে চাকাপথ বলা হতো - মটর বাইক, রিকশা দিব্যি সেঁধিয়ে যাওয়ায়। তারপরেও আলাদা একটা জায়গা তো ছিলো। এখন চার লেনের সড়কের একটা থাকে পথচারীদের জন্য। তবে ক'জন আর সত্যিকারের পায়ে হেটে চলে! রোলার-স্কেটিং আর স্টিং-কেডসের প্রাদুর্ভাবে জুতা পায়ে হাঁটার জো নেই। যে হারে মানুষ এখন যান্ত্রিক পায়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে - প্রখর রোদ্র সেবন একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ক্যানসার প্রিভেনসনের জন্য ডাক্তার আমাকে দুপুরে ঘন্টা দুই প্রখর রোদে হাঁটতে বলেছিলো। অযান্ত্রিক গ্রাস সু পায়ে। আমার সবুজ রঙা দেহে সূর্যের আলোকরশ্মি একধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করবে, যা গ্রাস সু’তে বন্দী হবে। এর ভেতরে কি এমন ধারক রয়েছে নাকি। ঘরে ফিরলে রিএনার্জিকলার হবে।
বেহাল মুজিবনগরে এক চক্কর
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালিত হয়ে গেল। কয়েকদিন আগে আমরা কয়েকজন লালনমেলায় যাওয়ার সুযোগে মুজিবনগর দেখে এলাম। তো, দেখতে গিয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমার লেন্সটা শেষ সময়ে বিগড়ে যাওয়ায় ৫০ মিলি/১.৮ দিয়েই ক্যামেরা চালাচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম বাউলদের প্রোফাইল তুলতে এই লেন্সই যথেষ্ঠ। কিন্তু অবস্থা দেখে সেই লেন্স দিয়েই কিছু ছবি তুলে আনলাম। আসল পরিকল্পনা ছিল এই ছবিগুলো দিয়ে রাজকূটে একটা ফটোফিচার করব ১৭ এপ্রিলের আগে আগে। কিন্তু পরিকল্পনার পরী উড়ে গেল আগেই, রাজকূট অকালে নিহত হয়ে গেল।
তো, ব্লগই ভরসা। আসুন, মুজিব নগর দেখে আসি।
১. জ্বি, এটাই সেই সৌধ। খুব নীরব নিঝুম দেখে ভাববেন না এখানে লোকজন নেই:
২. লোকজন আছে মানে আছে, সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে বসে গেছে গোটা একটা বাজার:
খুব সকালের স্বপ্নেরা
সকাল সকাল এক স্বপ্নের করাঘাতে
দরজা খুলে দেখি--
সীমান্ত পেরিয়ে কতিপয় অতিথি এসেছেন।
চোখে তাদের ভারী বিষন্নতা, চেহারা মলিন
পা ধুয়ে দিলাম, হাত ধোবার জল দিলাম, উঠানে আসন পেতে দিলাম
তন্দুরের পাশে বসে সেঁকে দিলাম কিছু মোটা রুটি।
পুটলিতে করে অতিথিরা গত বছরের ফসলের গূড় এনেছিলেন।
যখন চোখ খুললাম, ঘরে কেউ ছিল না,
তন্দুরে হাত দিয়ে দেখলাম সেটা এখন ও নিভে যায়নি,
আর আমার মুখে মিষ্টি গূড়ের চটচটে স্বাদ যেন এখন ও লেগে আছে।
স্বপ্ন ছিল হয়তো।
স্বপ্নই হবে।
সীমান্তের ওপারে শুনেছি কাল রাতে গুলি চলেছে।
সীমান্তের ওপারে শুনেছি কাল রাতে কতিপয় স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছে।
------------------------------------------------------------------------------
ক্যু ও পাল্টা ক্যু
তাও অনেকদিন হয়ে গেল, নুরুজ্জামান মানিক ভাই এসএমএস করেছিলেন কিছু বইয়ের নাম চেয়ে। বাংলাদেশে ক্যু নিয়ে বইয়ের তালিকা। নানা ধরণের ব্যস্ততার কারণে কাজটি আর করা হয়নি। আর সব বইয়ের নাম আমার জানা আছে তাও না।
বইয়ের একটা তালিকা করবো করবো করেও করা হচ্ছিল না। এরই মধ্যে পড়ে ফেললাম নতুন একটা বই, কর্ণেল হুদা ও আমার যুদ্ধ। নীলুফার হুদার লেখা। নীলুফার হুদা কর্ণেল খন্দকার নাজমুল হুদার বীর বিক্রমের স্ত্রী। বইটি পড়তে গিয়ে মনে হল এবার মানিক ভাইকে বইগুলোর নাম দিতেই হয়। বিশেষ করে বইয়ের শেষ অংশটা পড়ে বেশি করে মনে হল। এই অংশে কর্ণেল হুদা কিভাবে মারা গেলেন তার একটি বর্ণনা আছে।
আমরা জানি যে, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ, কর্ণেল হুদা ও কর্ণেল হায়দার একসঙ্গে মারা যান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, তথকাকথিত সিপাহী বিপ্লবের সময়।
কর্ণেল হামিদের ভাষ্যটা পড়া থাকলে পুরোটা বুঝতে সুবিধা হবে। কর্ণেল হামিদ লিখেছেন,
নির্যাতন বিরোধী ছবি গেরিলা বিষয়ে আলোচনা...

নামকরনের স্বার্থকতা:
১.
গেরিলা নামটা প্রথম চোখে পড়ে পত্রিকার সীলমারা মাস্টহেডে। ছবির নামকরনের স্বাথর্কতা তৈরী হয়। কিন্তু সেই দৃশ্য তিনটা ডায়ালগে শেষ হয়। সেই পত্রিকার পরিণতি কি হইলো সেইটা আর আমার জানা হইলো না।
২.
সৈয়দা বিলকিস বানু তার সাংবাদিক স্বামী হাসানের হদিসে এইদিক ঐদিকে যায়, তার সঙ্গী হয় কয়েকজন ছোকড়া। যারা বেশ আরবান। তাদের একজনের একটা গাড়ি আছে। একটা মোটরবাইকও দেখা যায় মাঝে সাঝে। এই ছেলেদের একজনের আবার রিফ্যুজি ডান্ডি কার্ড আছে। যেইটা আবার বিখ্যাত পাকিস্তানি কর্নেল তাজের সার্টিফাই করা। পরে আমরা দেখি তারা গেরিলা বাহিনীর সদস্য।
৩.
নদীর বুকে বৃষ্টি ঝরে পাহাড় তারে সয় না
আজকাল খারাপভাবে টিকে থাকাই মনে হয় জীবন। ভালো থাকা কি সম্ভব? আর কখনো? আমি মাঝে মাঝে বিষয়টা ভাবি। আমার ভেতরে বেঁচে থাকার একটা প্রবল তৃষ্ণা সবসময় কাজ করে। যে কারণে কথাটা ভাবতে হয়।
সেদিন দেখলাম এক বন্ধু ইমেইল ঠিকানা লিখেছে নোহয়্যার অ্যাট গার্ল। নোহয়্যার? কোথাও না। আমার মনে পড়ে গেল নোহয়্যার ইন আফ্রিকা'র কথা। সিনেমাটায় ওবুয়া চরিত্রটা ছাড়া আরেকটি চরিত্র মনে নাড়া দিয়ে গিয়েছিলো। ছোট্ট মেয়েটি- আদর করে যার বাবা ওকে 'ছোট্ট পরী' ডাকতো। সে যখন প্রথমবার জামার্নি থেকে সুদূর কেনিয়ায় বাবার খামারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তার মা মাত্র একবার তাকে সাহসী হতে বলে দিয়েছিলো। আমি পুরো সিনেমায় মেয়েটিকে সাহসীই পেয়েছি।
নাম দর্শনের মাজেজা: তিন
কারো কারো নাম বা সেই নামের অর্থ তেমন বিশেষ কিছু নয়।তার কাজই তার নামটাকে বিশেষত্ব দিয়েছে। আবার কিছু নাম আছে যে নামের সাথে তার কাজের সম্পর্ক রয়েছে, নামের অর্থও যা তার কাজও তাই। তার কাজ যেমন থাকছে তেমনি তার নামটাও থাকছে।এই যেমন ধরুন আমাদের বাংলার দার্শনিক লালন ফকিরের নামটি। এই নামটির মধ্যে সাঁইজীর যে ধর্ম সেই ধর্মের অর্থাৎ তাঁর দর্শনের সবটুকু পাওয়া যাবে। যেমন পাওয়া যায় দেবতা রুদ্র নামের তাৎপর্য। জন্মাবার পর এই দেবতা রোদন করে উঠেছিলেন, এই জন্যে তাঁর নাম রুদ্র। আপনারা শুনলে আশ্চর্যবোধ করবেন যে এই দেবতা জন্মাবার পর তাঁর নাম চেয়ে অর্থাৎ তাঁর একটি নাম দেয়া হোক এই জন্যে কেঁদেছিলেন। কেঁদেছিলেন বারবার কারণ কোন নামই তাঁর পছন্দ হচ্ছিলনা।
ধারাবাহিক
ফোনালাপ
অনেক রাত। প্রায় আড়াইটা তিনটা হবে। পরিশ্রান্ত নায়ক গভীর ঘুমের রাজ্যে। উনি শুধু এই গল্পেরই নায়ক নন, উনি টিভি বা চলচ্চিত্রেরও নামকরা একজন অভিনেতা। তার বেড সাইড টেবিলে রাখা ফোন গুলোর একটা বেশ সুরেলা ভাবে গেয়ে উঠলো। রাতের শীতল নীরবতায় সুরেলা শব্দটাকে কর্কশ শোনালো। ঘুম ঘুম চোখে নায়ক ফোনটা হাতে নিলেন। কলারের নামটা দেখে নিমেষেই চোখ থেকে ঘুম ঘুম ভাবটা দূর হয়ে গেলো। শরীর ঢেকে রাখা কম্বলটা সরিয়ে তিনি সন্তর্পনে নেমে আসলেন বিছানা থেকে। পায়ের কাছে পড়ে থাকা গাউনটাকে জড়িয়ে চলে আসলেন পাশের ঘরে। আবছা আলোতে ঢেকে থাকা সোফাটাকে এড়িয়ে গেলেন বেড়ালের মত।
রিসিভ বাটনে চাপ দিতেই অপর পাশ থেকে ভেসে আসলো নায়লার অস্থির কণ্ঠ-
- হ্যালো। হ্যালো। কি হলো, কথা বলছো না কেনো? হ্যালো?
= কি হয়েছে জান? এখন কয়টা বাজে খেয়াল করেছো?
- কিজানি কয়টা বাজে, তুমি কি করছিলে? ঘুমাচ্ছিলে?
= অন্য কি করবো? তুমি কি পাশে আছো?