ইউজার লগইন
ব্লগ
নির্দোষ গল্প
আজকাল বাসায় ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায়।
গত সপ্তাহের কথা। সেই রাতে আরও রাত হল। টেলিভিশনে একটা প্রোগ্রাম ছিল। শেষ করে আসতে আসতে রাত একটা। ঘুমাতে গেলাম আরও পরে। নিশ্বাসের দূরত্বে থাকা বউ বললো. আজকাল একটু বেশি সরাসরি কথা বলছি টকশোতে, এটা কি ঠিক? আমি এটা নিয়ে জ্ঞানগর্ভ একটা বক্তৃতা টাইপ দিলাম। বললাম, মানুষজন এরই মধ্যে এসএমএস করে থ্যাংকস দিছে। আর মিউ মিউ করে জীবন কাটানোর কোনো অর্থ হয় না।
বউ মনে হল একটু খুশী হল।
আমি তারপর বললাম, তোমার কত ভাগ্য। তাই না?
বউ কপালে ভাঁজ ফেলে বললো, কিরকম?
আমি বললাম, একটু আগে যাকে টিভিতে দেখলা, গরম গরম কথা বললো, মানুষজন প্রশংসা করলো, এখন তুমি তার সঙ্গেই শুয়ে আছো। তোমার ভাগ্য তো ঈর্ষা করার মতো।
তারপর?
বুড়োধাড়িরা আগ্রহে উঠে ব'সে
আবারো জিগ্যেস করে: 'তারপর?'
ব্যাপারটা তাদের মাথায় যাতে ঢোকে
তার জন্যে
ধোঁয়ায় ধোঁয়াকার হয়ে
বৃষ্টির নাম জল হয়ে যায়
সে যে এসেছিলো আকাশ তো বলেনি
হায় সেই রাতে দীপ মোর জ্বলেনি
ব্লাস্টিং নিউক্লিয়ার
আমাদের তেত্রিশ ঘন্টা এবং চুয়ান্ন সেকেন্ডের
বিস্তারিত ইতিহাস মোটামুটি এমন
সান্নিধ্যে যেতে ঐ ঘন্টা কতেক লেগেছিলো এবং চূর্ণ হতে সেকেন্ড
যখন কণ্ঠ থেকে সেতারের তার খুলে গেলো
আর টিভিতে হাজির বিপদ সংকেত
বাহান্ন হাজার মানুষ খালি করে দিলো সমুদ্র সৈকত
আর এ পাড়ার গলিতে উড়ানো দুটো ঢাউস বেলুন
বিদীর্ণ আওয়াজে ফেটে গেলো!
তখনও সড়কে অজস্র হেডলাইট - নিকষ রাতের পায়ে
লম্বা ছায়ার ভেতরে বিদেহী ভূতেরা জলজ্যান্ত হাসে
সাতটা শলাকায় আগুণ জ্বালিয়ে হাতের সিগারেট পুড়ে
তোমার গলাকায় টাটকা আচড়ে ছাই দেয়া ভর্তূকি
আমার কণ্ঠে নামে!
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে কয়েকটা প্রশ্নঃ

১। তামিম কি ইংল্যান্ডের ২২৫ রান তাড়া করে ব্যাট করতে নেমেছিলো নাকি ৩৩৫ রান ? ৫০ ওভারে ২২৫ রান তাড়া করতে গিয়ে ২৬ বলে ৩৮ রানের চেয়ে তার উইকেটে থাকাটাই বেশী প্রয়োজন ছিলো না ?
২। জুনায়েদ – ইমরুল – সাকিব কি একে অপরকে রান-আউট করতে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ ছিলো ? এত্তোগুলি ম্যাচ এক সাথে খেলার পরে জুনায়েদ – ইমরুল – সাকিবের রানের কলিং এর কোন সমঝোতা নেই কেন ?
৩। মুশফিকুর রহিম কি ইদানিং আশরাফুলের কাছ থেকে ব্যাটিং এর কোচিং নিচ্ছে ?
৪। রকিবুল কে আর কি সুযোগ দেয়া উচিত ? ৪ ম্যাচ মিলে ৭০, সর্বোচ্চ ৩৮ । তার জায়গায় পরের দুই ম্যাচে শাহরিয়ার নাফিসকে খেলানোই ভাল না ?
সে আমাকে সহ্য করেছে, আমি তাকে সহ্য করেছি-দীর্ঘ বারোটি বছর।
দিনটি ছিল ১৯৯৯’এর ১২ মার্চ । তার আর আমার জীবনের সবচে স্মরণীয় দিন (নাকি ধরা খাওয়ার দিন !)। আজ থেকে একযুগ আগে ঠিক এই দিনটিতে আমরা একে অন্যের হাত ধরেছিলাম, জীবনের পথে একসঙ্গে হাঁটবো বলে (মাঝে মাঝে ঝগড়া করবো বলে !), জীবন সঙ্গী (নাকি জীবন যন্ত্রণা !)হবো বলে । শপথ নিয়েছিলাম সারাজীবন পাশাপাশি থাকবো (মাঝে মাঝে ঘর পালাই, সেও রাগ করে বাপের বাড়ি যায়)। তারপর... দেখতে দেখতে বারটি বছর । এই দীর্ঘ সময় আমরা একই ছাদের নিচে বাস করেছি (না করে উপায় নাই), একে অন্যকে সহ্য করেছি, ভালোবেসেছি, ঝগড়া করেছি (পাড়া প্রতিবেশী সাক্ষী), সুখ-দু:খ শেয়ার করেছি, একে অন্যের নি:শ্বাসের ব্যবধানে থেকে রচনা করেছি কতো আনন্দ-বেদনার কাব্য; নির্মাণ করেছি কত স্মৃতি, যাপন করেছি একটি টক-ঝাল-মিষ্টি (এবং তিতা) দাম্পত্য জীবন।
আজকের খেলা
জকের খেলায় একটাই সুসংবাদ বাংলাদেশ জিতেছে। শ্বাসরুদ্ধকর, স্বরণীয় কিংবা অন্য যেকোনো বিশেষণে অভিহিত করা যাবে না এই ম্যাচকে, বরং ম্যাচ জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব শফিউলের। বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব যদি দিতে হয় তাহলে দিতে হবে একমাত্র শফিউলকে। আয়ারল্যান্ডের সাথে খেলায় তার একটি স্পেলেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছিলো, এবার ব্যাটিং এ উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দেওয়া তার ব্যাটিং এ বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছে। শফিউল বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ উইনার বিবেচিত হতে পারে।
...উচ্ছাস...
নিজের উপ্রে মিজাজ খারাপ হৈতেছে টিএসসিতে খেলা দেক্তে যাইনাই বইলা, অহন নিজের হাত-পা নিজেই কাম্রাই আর কান্দি...
হেরপরও আম্গো পুলাপানডি যে খেলা দিলো, ইস্পেশালি শফিউল। শেষ বেলায় আইসাও মাথা ঠান্ডা রাইখা খেইলা যাওয়ায় তারে প্রচুর ধৈন্যা...
কি আর করা, আয়ারল্যান্ডের লগে জিতার পর তুলা উচ্ছাসের দুইটা ছবিই শেয়ার করি...
রিপোষ্ট কবিতা শেষ পর্ব
পুনরায় কবিতা রিপোষ্টঃ গত বছরের আগের বছর মনে হইছিলো ডিসেম্বরের আগেই একটা বই বাহির করবার মতো কবিতা লিখে ফেলতে পারবো, যদিও কবিতার বই প্রকাশ করা নিয়া নিজের দ্বিধা আছে, এইসব গড়পরতা কবিতা প্রকাশিত হওয়া এবং না হওয়ায় বাংলা সাহিত্যের তেমন ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না, তেমন জটিল কিছু কবিতা না এইগুলা, বরং নিজের সাময়িক অনুভুতি তুলে রাখা, লিখে রাখা, অধিকাংশই লিখা হইছিলো ফেসবুকের স্ট্যাটাসে, সাইজে ছোটো ছোট কারণ ফেসবুক চাইরশ অক্ষরের বেশী লিখতে গেলেই বাগড়া বাধায়,
স্ট্যাটাস কাব্যের বাইরে যা কিছু থাইক্যা গেছে সেইগুলানও তেমন বড় কিছু না, ইদানিং বেশি কিছু কইতে ঝামেলা লাগে, ছোটো হয়ে আসছে পৃথিবী।
বিচ্ছিন্ন অনুভব
০১
তুমি একটা কাঁটার মতো ভেসে আছো আমার রক্তে
সেই অঙ্কুশ রক্তে ভেসে হৃৎপিন্ডে পৌঁছায়
তোমাকে মনে পড়ে
আমার চৈতন্য অবশ হয়ে যায়।
০২
স্রোত পায়ের নীচ থেকে বালি টেনে নিলে
কথোপকথন
আপা, আমার ভয় ভয় করছে !!
কেন, হয়েছে কী, কিসের ভয়, কেনই বা ভয় ?
আমার ভাগনেরা আজ পারবে তো?
আরে, বলিস কি, পারবে না মানে !
জানি তো! তবু লাগে ডর।
দেখিয়ে দেবে আজ কত চা’লে কত ভাত।
তা তো বটেই, বাঘের বাচ্চা বাঘ।
হ্যাঁ, রাখবি মনে, বাঘের বাচ্চা বাঘ!
আপা, দুলাভাইতো এলোনা এখনও !
এইতো, আসবে চলে একটু সবুর কর।
হালুম! আটকে গেলুম কাজে তাইতো একটু দেরী।
সালাম, দুলাভাই, সালাম, ফিরতে এততো দেরী?
আরে ছোট গিন্নি! কাজের ধান্দায় ঘুরি!
দুলাভাই, কী হবে আজ?পারবো তো?
অবশ্যই, বাঘের বেটারা দেখিয়ে দেবে আজ।
কিন্তু ভাগ্নেরা দেখতে যে আমারগুলোর মত!
আছে মনের জোর, আছে এদের নখ, আরও শক্ত দাঁত।
পারলে তো ভালোই, আছি সবাই মিলিয়ে সবার হাত।
ছাত্রলীগের মাস্তানি কি আপনারা সমর্থন করতেছেন?: বুয়েট ছাত্রদের প্রতি প্রশ্ন...
বুয়েটের একজন ছাত্র বাসের ধাক্কায় মারা গেলো কিছু কাল আগে। সারা বুয়েটের ছাত্ররা প্রতিবাদে মূখর হইয়া উঠলো। তারা বিভিন্ন রুটের গাড়ি ভাঙচূড় করলো। প্রতিবাদের প্রকাশে স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের রেখাগুলি দৃশ্যমান ছিলো। তাদের এই ক্ষোভে শ্রেণী বিদ্বেষ ছিলো কীনা জানি না, কিন্তু ঐ সময়টাতে বিষয়টা আমার কাছে তেমন মনে হয় নাই। আমি বুয়েটের ছাত্রদের এই বিচ্ছুরিত আগুনের পক্ষে ছিলাম।
একটা সামাজিক ক্যাম্পেইন শুরু করতে চাই, সেটা সকল বাংলা ব্লগ থেকেই! সাথে কেউ না থাকলে আমি একাই এগোবো
আমাদের দেশে অনেক সমস্যা! গুনে শেষ করতে পারবেন?
আমার সব লেখাতেই আমি আমার বন্ধু, ক্লাস মেটদের টেনে আনি! কেন জানি মনে হয় আমি জীবনে কিছু অত্যন্ত মেধাবী অথচ বেখেয়ালী মানুষদের সখ্যতা গড়ে তুলেছি। রাসেল তাদেরও একজন, ও আমাকে বলে,"দেশ আগাইছে ভূয়া কথা! ৭১ এর পর স্বাধীন দেশের যাত্রা শুরু হইলো জনসংখ্যা সমস্যা নামক প্রধান সমস্যা নিয়া! আজকা ৪০ বছর পর এইটা এখনও সমস্যার টপলিস্টে!"
ছোট বেলা বায়তুল মোকাদ্দমে যখন প্রথ বেন্ঞ্চের ছাত্র হিসাবে ভর্তি হলাম তখন দেখতাম পিছনের বেন্ঞ্চে একজন ছেলে নাম আকন্দ। প্রতিদিন মার খেতো পড়া না পারার কারনে! খুব দয়া হতো আবার হাসিও পেতো যখন ওর পিঠে লম্বা লম্বা বেতের বাড়ি পড়তো আর যন্ত্রনায় ছটফট করে লাফাতো! আমরা বলতাম ব্রেকড্যান্স!
আমার পথে তোমার ঝিকিমিকি
বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমকে নিয়ে একটু টেনশনে আছি। আজ-কাল জিতলেও মানুষ সমালোচনা করতে ছাড়ছে না। ওরাও তো সবাই রক্তে-মাংসে গড়া, ভুল অভ্যাসে ভরা মানুষ। টাকা যাই কামাই করুক, তা দিয়েই সব বিচার করে ফেলা বোধহয় একশ' ভাগ ঠিক হবে না। আমাদের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা দিয়ে দেশে খালি ওরা একাই লালিত-পালিত হচ্ছে না। আরো অনেকে হচ্ছে। এমন অনেক গোষ্ঠীকে আমাদের টাকা দিয়ে পালা হচ্ছে, যাদেরকে হয়তো আমাদের দরকারই নেই। যেমন, র্যাব (rab)। বাংলাদেশ দলের প্রতি যেকোন পরিস্থিতিতে আমার শতভাগ সমর্থন থাকবে।
শিক্ষক শিক্ষানীতি এবং অন্যান্য প্যাচাল ০১
বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটি দেশে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি নেই বলে নীতিনির্ধারণী মহলে আক্ষেপের কমতি নেই, সবারই বক্তব্য শেষ পর্যন্ত একটি বাক্যে গিয়েই সমাপ্ত হয়ে যায়, একটি শিক্ষানীতি থাকলে সেটার সাথে সকল শিক্ষালয়ের শিক্ষাপাঠক্রমের সমঞ্জস্য করা যেতো, কিন্তু গোড়ার কাজটি করা হয় নি। শিক্ষাবিদদের আন্তরিক এবং আন্তরিকতাবিহীন প্রচেষ্টায় অবশেষে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে এবং সেই শিক্ষানীতিতে সেক্যুলার বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নির্মাণের আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়েছে। আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে এই শিক্ষানীতি থাকবে এবং সেটার ভিত্তিতে আমরা আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোর পাঠ্যক্রম সরকারী নীতিমালার সাথে খাপ খাইয়ে নিবো।
এলোমেলো মুভি পোস্ট
রাসেল আমারে ওয়ালে চিকা মারছে। মুভি নিয়ে পোস্ট দাবি করছে। আগের মতো মুভি দেখা তেমন হয় না। মেয়ের স্কুল, অফিসের কাজ সব, ব্যস্ততা এবং বই পড়ার নেশা ও নেট-মুভির সময় কমিয়ে দিয়েছে। আর সব মুভি দেখেই তো আর চীৎকার দিয়ে জানানোর ইচ্ছা হয় না। তাই ভাবছিলাম কি পোস্ট লিখবো। আগের দেখা মুভিগুলোর কথাই ভাবছিলাম। পুরোনো দেখা মুভির কথা ভাবতেই মাথার মধ্যে জানান দিল কিছু মুভি দেখার স্মৃতি। ভাবলাম লেখা শুরু করি, যেসব ছবির নাম মনে আসবে সেগুলোই লিখে দেবো। ধরে নিলাম এই মুভিগুলো কোনো না কোনো কারণে মাথার মধ্যে গেঁথে আছে।
এটা আসলে এলোমেলো মুভি পোস্ট
১. মুলহল্যান্ড ড্রাইভ-ছবিটা দেখে প্রথমে বুঝাই যায় না শেষ পর্যন্ত কি হলো। কোনটা আসল আর কোনটা কল্পনা। দর্শকদের দারুণভাবে বিভ্রান্ত করতে পেরেছে এই ছবি।
ডাইরী ১১৯
এক.
সময় আমাকে জাগায় সকালে, কিন্তু আমি ঠিক ভুলে যাই প্রয়োজন কিংবা প্ল্যান। ঘুম ভাঙতেই বিছানার শরীর ছাড়তে পারি নাই অতএব; আমাকে আকড়ে রেখেছে অ্যামনেশিয়া আর মুহুর্তেরা। অপেক্ষায় থাকি কেউ এসে ডেকে নিয়ে যাবে, চুপিসাড়ে জানাবে আমার অভিনয়ের নিয়মাবলী। শিখে নেয়া বুলি সব আওড়ে যাবো চন্দ্রালেখ্য সুরে।
যেহেতু ভালোবেসেছি অ্যামনেশিয়া, তাই ডুবে ডুবে থাকি মিমিক্রি'র জলাশয়ে। ধরা পড়ে গেলে বোকাচোদা মুখ করে আলাভোলা হই...এমত পাগল মুখোশেরা সব পারে ভেবে, এই বেলা সকলের ক্ষমাটমা জুটে যায়।
দুই.
অ্যামনেশিয়া শুনেছি সব পারে। দুঃখবোধ অথবা নির্জলা রোমান্স সব সাদাখাতা হয়ে যেতে পারে। ভুলে যেতে পারি প্রিয় চলচ্চিত্রকার কিম্বা লেখকের নাম-পরিচয়, চিঙড়ি মাছের বুনো স্বাদ, তেতো জলে কতোটা অ্যালকোহল...এমন অনেক সর্বনাম।
তিন.