ইউজার লগইন
ব্লগ
ভালোবাসার অনুগল্প
মাঝে মাঝে শিশিরের ফোঁটার মত কিছু ঘটনা জমে থাকে আমাদের চারিপাশে । টুপটাপ যখন ঝরে তখন কেবল শব্দ পাওয়া যায়, সকালেই আবার উবে যাওয়ার মতই সে ঘটনাগুলো মিলিয়ে যায় । আর কখনো শোনা যায়না । সে রকমই একটা ঘটনা ঘটল এই শান্তিপুরে । মানুষের কান অব্দি পৌছানোর আগেই যদিও তা আবার গায়েব হয়ে গিয়েছে ।
নামটা প্রশান্তিময় হলেও এই ক্ষুদে শহরের মানুষদের শান্তশিষ্ট ঠিক বলা যাবেনা । আবার তারা যে খুব খারাপ তাও না । এরা অল্পতেই উত্তেজিত হয়, অল্পতেই অবাক হয় আর হঠাত রেগে গিয়ে তুমুল ঝগড়া বাধিয়ে দেয় ।
সকালের কাতরতায় পতনোন্মুখ একটি পাতা
দুজনে মিলে কেবল একটাই ক্রিয়েটিভ কাজ করা সম্ভব আর তা হলো সন্তান উৎপাদন।
আগের বাক্যটি পরে আমার প্রবচন রূপে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রকাশিত হবে। এইটা এখানে বিচ্ছিন্নভাবে এসে লেখাটা শুরু করলেও পরমরূপে পৃথিবীতে বিদ্যমান। আর এই বিদ্যমানতা হংসমান লোভ এবং নিরাসক্তিকে প্রকাশ করে না।
সকালের কাতরতায় পতনোন্মুখ একটি পাতা। হ্যাঁ, বলো। তোমার শরীরের দাগের জন্যে আমাকে কিংবা তোমার মাকে দায়ী করতে পারো না।
এদিনে বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়
বইমেলায় আমার নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও ২০০৪ সালে যাওয়া হয়নি । তখন আমি ছিলাম খুলনায় (একটি বহুজাতিক কোম্পানীর কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে পোষ্টিং )। বইমেলা ও আজাদ স্যারকে মিস করতাম । ইতিমধ্যে দৈনিক ইত্তেফাকের ঈদ সংখ্যায় তার 'পাক সার জমিন' উপন্যাসটি ছাপা হয় । প্রতিক্রিয়ায় মোল্লাদের আস্ফালন দেখা যায় ।

নিরাপত্তা নিয়ে আজাদ স্যারও শঙ্কিত হন । মুক্তমনা থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয় কিন্তু তৎকালিন সরকারের তরফ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ।
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১৩
বিশ্বকাপে নিজের দেশ প্রতিনিধিত্ব করলে কিছুটা বিড়ম্বনা হয়, তখন অন্য সকল অগুরুত্বপূর্ণ খেলার বিষয়ে পরিপূর্ণ মনোযোগ থাকে না, এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাই হচ্ছে, আমার খেলা দেখবার আগ্রহে কমতি পড়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপ যতটা আগ্রহ নিয়ে দেখেছি, ক্রিকেট বিশ্বকাপের অন্যদলগুলোর খেলা নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ নেই। বন্ধুদের সাথে খেলা বাদ দিলে এমনি কোনো দলের হয়ে কিংবা নিজের ডিপার্টমেন্টের হয়ে যতদিন ক্রিকেট খেলতাম তখন এইসব ম্যাচগুলো ছিলো গুরুত্বপূর্ণ, আমি নিজে বোলার হওয়ার কারণে বোলারদের প্রতি নির্মম হয়ে উঠা টিটুয়েন্টি আর ওয়ান ডে ভালো লাগে না, কিন্তু এখন এইসব দেখে শিখবার কিছু নেই, স্লোয়ার দেওয়া, রিভার্স সুইং কিংবা ব্যাটসম্যানকে বুঝবার প্রয়োজন এখন আমার নেই, আমি সে পর্যায়ে খেলছি না, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবার আশায় পানি ঢেলে আমি অনেক আগেই প্রথম বিভাগে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছি, এখন সেটা তেমন গুরুত্ব বহন করে না।
পরবর্তী সময়ের জন্য
মাঝে মাঝে মনে হয় সংবাদপত্রের ফরমায়েশী লেখার ধাচে লিখতে শুরু করার আগে যা লিখতাম তেমন কিছু আর কখনও লেখা হবে না, সে ক্ষমতা কিংবা যোগ্যতা নেই এখন আমার। প্রতিদিন মনে হয় যদি এখন হঠাৎ করে কেউ বলে একটা বই প্রকাশ করতে চাই, তাহলে আদৌ কি প্রকাশযোগ্য কিছু লেখা দিতে পারবো।
মুকুল একদিন বললো কবিতার কোথা, সেদিন মনে পড়লো গত এক বছরে আমি একটাও কবিতা লিখি নি, লেখা হয়ে উঠে নি এমন না, বরং বিভিন্ন কারণেই ভেতরে কবিতার পোকা জন্মাতে পারে নি। মুকুলের জন্য গত দুই বছরে লেখা অকবিতাগুলোর লিংক দিবো ভাবছিলাম, নিজেই খুজে পেলাম না, এত আবর্জনা লিখেছি গত দুই বছরে, কাজের লেখা খুজতে হলে হয়রান হতে হয়।
পুলিশের ‘ভালোবাসা’ এবং একজন গিয়াস আহমেদ
বলা হয়ে থাকে পুলিশ ‘জনগণের বন্ধু’। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথাটি আষাঢ়ে গল্পের মতো শুনায়। এদেশে পুলিশ যার বন্ধু তার আর শত্রুর প্রয়োজন হয় না। পুলিশ এমন এক কথিত ‘বন্ধু’, যে বন্ধুকে কেউ বাসায় নিমন্ত্রণ করে না। কখনো অযাচিত ভাবে পুলিশ যদি কারো বাসায় ঢুকে পড়ে ; অমঙ্গল আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। প্রবাদ আছে, বাঘে ছুঁলে এক ঘা, আর পুলিশ ছুঁলে আঠারো ঘা। বন্ধুর চেয়ে পুলিশকে মানুষ মূর্ত মান আতঙ্ক বলেই মনে করে। কোন অপরাধে কিংবা বিনা অপরাধেও এদেশে পুলিশ যে কোন সময় যে কাউকে ধরে নিয়ে যেতে পারে। আর একবার পুলিশের ‘হেফাজতে’ গেলে কেউ যে সুস্থ শরীরে ফিরে আসবে কিংবা আদৌ ফিরবে কিনা, এ নিশ্চয়তা অন্তত এদেশে নেই।
সুসন্তান একটিই যথেষ্ট(?)
বাংলা একাডেমীর বইমেলা, বিশ্বকাপ ক্রিকেট ছাড়াও নানান ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিডিয়া তো বটেই ব্লগের আসরও এখন সরগরম। এর মধ্যে আমার মাথায় ঘুরছে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এ দেশের মাটি বড়ই উর্বর। এ দেশের মাটি উর্বর, এ দেশের মানুষও উর্বর। কোন রকমে বীজ বপন হলেই শস্য অবধারিত। এর মধ্যে ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দু’টি সন্তানই যথেষ্ট’, ‘দু’টি থাকলে আর নয়’, অতঃপর ‘একটি সন্তানই যথেষ্ট’ অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠলো। বন্ধুদের মধ্যে অনেককেই আবার বলতে শুনি (আসলে লিখতে দেখি)‘সুসন্তান একটিই যথেষ্ট’
।
জয়ের আনন্দে বিষাদ
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে রাস্তায় নেমে উল্লাসরত এক যুবক ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১০ জন।
শনিবার প্রথম প্রহরে রাজধানীর বনানীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া শাহবাগে বাসের ধাক্কায় আহত হয়েছে তিন জন।
নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।
শুক্রবার শ্বাসরুদ্ধকর খেলায় আয়ারল্যান্ডকে ২৭ রানে হারায় বাংলাদেশ। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খেলা শেষ হওয়ার পরপরই বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতে রাজধানী। অনেকেই মিছিল নিয়ে নামে রাস্তায়, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
এরই এক পর্যায়ে বনানী ও শাহবাগের দুর্ঘটনা ঘটে।
বইমেলায় কেনা (আউট) বই
এবার বইমেলায় সেরা পাওয়া ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ভাইয়ের একটা বই। লাল লাল নীল নীল নামের এই বইটা তিনি উৎসর্গ করেছেন আমাদের "ন" পরিবারকে
এবারের মেলায় নতুন বই তেমন কেনা হয়নি এখনো। আমি পুরনো আর বিষয়ভিত্তিক কিছু বই খুজেঁ খুঁজে হয়রান হইছি। নতুন বইগুলো জমিয়ে রেখেছি শেষদিকে কিনবো বলে। জয়িতার অনুরোধে তালিকা শুরু করলাম-
ওজারতির দুই বছর- আতাউর রহমান খান
মেজর জলিল রচনাবলী
উপন্যাস সমগ্র- রশীদ করীম
রোদের অসুখ- আশরাফ মাহমুদ
অশ্রু ও রক্তপাতের গল্প- আহমাদ মোস্তফা কামাল
অবিশ্বাসের দর্শন- অভিজিৎ রায়, রায়হান আবীর
বঙ্গভবনে পাঁচবছর- মাহবুব তালুকদার
অবরুদ্ধ নয়মাস- আতাউর রহমান খান
যখন সময় এল- সৈয়দ আলী আহসান
মারবেল ফলের মওসুম- পিয়াস মজিদ
ট্রেন টু পাকিস্তান- খুশবন্ত সিং
সাদা কালোর অর্থনীতি- শওকত হোসেন মাসুম
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর- কর্নেল শাফায়াত জামিল
সিনেমা পারাদিসো

[আমরা বন্ধুর জন্য একটা অনুবাদ করছি। হাতের কাজগুলো শেষ করেই ওটা করে দেব- এমনই ভেবেছিলাম। কিন্তু তা আর হলনা। গতপরশু মেলায় টুটুল’দা-নাজ বৌদি, লিজা আপা, জয়িতাদের সঙ্গে দেখা হল। জেবু না থাকায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কথা প্রসঙ্গে এই লেখাটার কথা বলেছিলাম জয়িকে, ও শুনেই পুনঃপুনঃ কুপ্ররোচণা দিতে থাকে এটা এখানে দেবার জন্য। এক পর্যায়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। এটা আসলে মিছিমিছি একটা লেখা। খুবই বাজে। কেউ পড়ে যদি গালি দেন কিচ্ছু মনে করব না। আর মাসুমভাইকে ফুল রিকোয়েস্ট এটা না পড়ার জন্য।]
সেই রঙিলাজনের জন্য
১.
সেদিন ক্যাপ্টেন ববি আর মেজর অনন্তের ঝগড়া হয়ে গেছে। সামনা-সামনি ক্রসফায়ারে দু'জনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। অবশ্য যৎসামান্য ঘটনা থেকে এ গুলিকাণ্ডের উৎপত্তি। ছুটির দিন দুপুরে ক্যাপ্টেন বড় বড় গলদা চিংড়ির দোপেয়াজা রেধেঁছেন। ঝাল ঝাল করে। তাই খেতে খেতে মেজর বললেন, এরপরে ইয়েমেন।
সঙ্গে সঙ্গে প্রবল দ্বিমত আসলো ক্যাপ্টেনের দিক থেকে। মোটেও না, এরপরে সুদান। মেজর বললেন, আলী আব্দুল্লাহ সালেহ্ ৩২ বছর ধরে দেশটায় একনায়ক হয়ে আছেন। ক্যাপ্টেন প্রতিবাদ করলেন, তাতে কি? ওমর হাসান আল বশিরও ২১ বছর ধরে দেশটায় দুঃশাসন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এত টেনশন না দিলেও পারতো বাংলাদেশ দল
বিজয়ের উল্লাস চারপাশে, বাংলাদেশের বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মানুষেরা আজ ঢাকা শহর কাপিয়ে ফেলছে আনন্দ উল্লাসে, প্রায় প্রতিটি রাস্তার মোড়েই তারুণ্যের বাধ ভাঙা উল্লাস, মোটর সাইকেল, গাড়ী, খোলা পিক আপ ভ্যান, কিংবা খালি পায়ে মানুষ ছুটছে রাস্তায়, কোনো আওয়াজই এখন কর্কশ লাগছে না, সামান্য উপলক্ষ্য পেলে বাংলাদেশী তরুণদের এই লাগামছাড়া আনন্দ দেখে মনে হয় অতিসামান্যেই আমাদের তৃপ্তি আসে বলেই আমরা নিজেদের ক্ষমতাকে আরও বেশী পরিণত করতে ব্যর্থ হই।
বাপ ছেলের বই মেলা ভ্রমন।
মাস ব্যাপী কার্নিভাল পড়ে পড়ে প্রায় একটা সিদান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম, এবার বইমেলায় যাব না! মোটামুটি চোখের সামনে রাসেল ভাই একটা ছবি তুলেই দিচ্ছেন। রেডিওতে নাটক শুনার মত অবস্থা! তারোপরি টাকা পয়সার একটা চরম টানাটানিতে আছি। শেয়ার মার্কেটে টাকা হারানো সহ নানা অর্থ কষ্টে আছি। (দ্রব্য মুল্যের লাগাম না ধরলে আমার মত লোক ঢাকা থাকতে পারবে কিনা সন্দেহ! করল্লার কেজি ১০০ টাকা।) আজকাল ভাবছি নূতন কোন শহরে চলে যাব! বিদেশ নয়, দেশেই অন্য কোন বিভাগীয় শহরে! যেখানে কেহ আমাকে চিনবে না! আর কয়েক মাস দেখি। (ওয়াইফকে রাজী করাতে হবে!)
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১২
বই মেলা শেষে টিএসসি থেকে শাহবাগের দিকে হেঁটে আসবার সময় বুঝি আমরা ত্যাগে বিশ্বাসী, রাস্তার দুপাশেই মানুষ সারি বেধে প্রসাব করে রেখেছে, তার গন্ধে মৌ মৌ করছে চা্রপাশ, সাবধানী পা ফেলে এই অব্যহত স্রোত এড়িয়ে শাহবাগ পর্যন্ত হেঁটে আসবার কৌশলের কাছে যেকোনো কমান্ডো ট্রেনিং শিশুতোষ মনে হবে।
বইমেলার ব্যারিকেড থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পথটাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহায়তা আর সহযোগিতার আহ্বান সম্বলিত বাক্স এবং ব্যানারের সামনে আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উপলব্ধি ভিন্ন রকম, তারা বেশ স্পষ্টই বুঝে মলমুত্র ব্যতিত বাঙালী অন্য কিছু এত সহজে ত্যাগ করে না।
কবিতা: নমশূদ্রের প্রপঞ্চ
অনন্ত তুমি জানো
তোমাকে কতখানি ভালোবেসে পুড়ে গেছে এই অস্তিত্ব?
কতবার
খুলেছিলো দুই চোখ
এবং বন্ধ হয়ে গেছে।
কতবার
মুখোমুখি হয়ে যাবার
জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি
ঘন্টার পর ঘন্টা।
কতবার
আমার প্লেলিস্টে চন্দনার সেই গান
রিপিট করেছে।
সে প্রতিটি বার আমাকে কুঠারাঘাত করেছে।
আমি কি ওক গাছ, বলো?
সে নিউরণগুলোকে নিয়ে
নাইলনের জালের মতো
কেটে বসেছে মগজে বার বার,
আমি কি প্যাসকেলের সেই বল, বলো?
পিরামিড কিছু বলে
শোনো আকাশটা সসীম নয়,
একদিন ভেঙ্গে যাবে আয়নাটা।
আসলেই জীবন কি থেমে থাকে না?
তাহলে ভীষণ কষ্ট হবে।
বাঁচবো কিভাবে?