ইউজার লগইন
ব্লগ
কবিতাঃ কোন এক নদীকে অথবা তোমাকে ভালোবাসার জন্য
ছোট্র এক নদীর কাছে
আমি ভালবাসা চেয়েছিলাম।
নদীকে বলেছিলাম,
জীবনের না পাওয়া সীমাহীন গল্প।
নদী, আমাকে একটু ভালবাসা দেবে?
এক টুকরো লাল ফিতের মত ভালবাসা
অতি-দূর নক্ষত্র থেকে ছিটকে আসা
আমি এক উত্তপ্ত মরুভূমি।
যার ঠিকানা--চিরজ্বলন্ত মহাশ্মশান
যার অন্তর আর বাহির বড় জ্বালাময়
যার অন্তরাত্মা ছিন্ন করেও
একটু সুখ, একটু শান্তি পাওয়া যাবে না।
শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে
আমি ক্লান্ত, নীড় হারা পাখির মত
ক্রমাগত ছুটছি, ক্রমাগত ছুটছি
কোন এক নিদ্রাহরণীর ছোঁয়া পেতে
একটু ভালবাসার জন্য।
মেঘের কাছে, পাহাড়ের কাছে
শিলার কাছে, অরন্যের কাছে, ঝরণার কাছে
এমনকি ভোরের শিশিরের কাছে
আমি ভালবাসা চেয়েছি।
কেউ কথা দিলেও
শেষ কথা, কেউ রাখেনি।
তবে হ্যাঁ, শিশির ভালবাসা দিয়েছিল
সকালের এক চিলতে কিরণ
সে ভালবাসা কেড়ে নিয়ে গেছে।
আজ থেকে সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে
আমার জন্ম; এতটা বছর
শুধু ভালোবাসার কাঙাল হয়েই
সৌরজগতের আনাচে-কানাচে ঘুরেছি
পাইনি কারো সামান্য বিশ্বাস।
সমুদ্রের ডাকে ছুটে গিয়েছি
স্রোতের আঘাত পাথরের মত সয়েছি।
আজো, মরুভূমি হয়েই আছি।
আমি জানি, আমি কারো স্পর্শ পাব
রম্য রচনা-- ক্ষনিকের প্রেম
ক্ষণিকের প্রেম
--শাশ্বত স্বপন
কবিতা: স্বপ্ন
আমি এক স্বপ্ন দেখেছিলাম
স্বপ্নটা ছিল একটি কাক নিয়ে
হ্যাঁ! কালো কাক;
ওটা লাল চোখে চেয়েছিল মোরপানে।
এক অনাকাঙ্খিত চিন্তা
আমাকে উন্মাদ করে দিচ্ছিলো
সমস্ত আত্নশক্তি দিয়ে
আমি চেষ্টা করছিলাম স্থির থাকতে
কিন্তু ঐ রক্তবর্ণা চোখে
কেমন যেন এক ভাষা ছিল
আমার অস্তিত্তকে ভয়ার্ত এক খাঁচায়
বন্দি করে দিচ্ছিলো
ঐ স্তির দৃষ্টি
ভাবনা এসেছিল মনে
এই রক্তবর্ণে কেন এত আকর্ষন?
ঐ চোখে কি আছে হারিয়ে কোন অনুভূতি?
যা ছিন্ন করতে চেয়েছিল কোন
তীব্র আকর্ষন-
ব্যাথিত হৃদয়কি আমার
ভেসেছিল রক্তস্রোতে?
আমার মনের চিন্তাগুলো কেমন যেন
খাপছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো
চিন্তাশক্তি হারিয়ে যাচ্ছিলো-
আর মনের কোণে ভেসে
আসছিল কোন স্মৃতি
“কোন পৃথিবী সৃষ্টির মূহুর্ত
সে ছিল আমার পৃথিবী
সৃষ্টি আমার মাধ্যমেই
আমি, তুমি আর তিনি এ তিন নিয়ে
যে সংসার।“
বেদনায় বুক চিড়ে যাচ্ছিলো
ঐ রক্তলাল!
আমার ভাবনায় উদয় হচ্ছিলো
মানব মনের এক অন্তর্নিহিত
বাক্য:
যদি হারিয়েই যেতে চায়
ঝরাপাতা কথকতা # ০ # আমার বন্ধু, আমার ভালোবাসা..
গতকাল সকালের কথা।
ইদানিং প্রায় কোন রাতেই ঘুমানো হয় না। টিভি দেখি, গান শুনি, গেম খেলি। আর একটু আধটু পড়াশোনার চেষ্টা করি। মাসখানেক পরেই খুব সম্ভবত ডিগ্রি ফাইনাল, পড়তে না বসেও আর উপায় নেই। দিনে পড়ার অভ্যাস করতে পারিনি কোন কালেই, তাই রাতই ভরসা। যাই হোক, ইদানিং নতুন অভ্যাস হয়ে গেছে - ঘড়ির কাঁটা ছয়টা পেরুলেই বেশ খিদে পায়। ফার্মগেটের নিউ স্টার থেকে গরম গরম পরাটা নিয়ে আসি, টিভিতে সকালের নানা গান শুনতে শুনতে নাস্তা করেই ঘুম।
আজও তাই করছিলাম। তারা মিউজিকের একটা অনুষ্ঠান দেখি সুযোগ পেলেই, আজ সকালের আমন্ত্রনে। একেকদিন একেকজন শিল্পী আসে, আর গানের মাঝে মাঝেই চমৎকার আড্ডা চালিয়ে যায় উপস্থাপিকা আর ফোন মারফত দর্শকেরা।
কিছুক্ষণ ঘুরে ফিরে এখানেই থিতু হয়েছিলাম আজ। একজন মিউজিশিয়ান আর একজন শিল্পী এসেছিলেন আজ, দুই বন্ধু। ওঁরা আবার সবসময় একসাথেই পারফর্ম করেন। একি রাগের ভেতর মিশে যায় এমন নানা গান একসাথে মিশিয়ে গাইছিলেন, সাথে প্রায় প্রতি গানে শুরুতে চমৎকার উচ্চাঙ্গসঙ্গীত আলাপ। আর চমৎকার কম্পোজিশনের মিউজিক তো ছিলই। ঘুম ঘুম চোখে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে জেগে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।
মাষ্ট বী ফেল্ট উইথ হার্ট
চলার পথে নিজের অজান্তেই জীবনে ছোট ছোট অনেক কিছু ভাল লেগে যায়। জিনিসগুলো হয়তো এতো সামান্য আর অপাক্তেয় যে অন্যে হয়তো ঠিক বুঝেই উঠবে না এরমধ্যে ভালো লাগার কি আছে? পুরনো ডায়রী হাতে পড়লে দেখি একটা গোলাপ ফুল শুকিয়ে আছে কোন একটা পাতায়। ডায়রীতে থাকতে থাকতে পাতায় দাগ লেগে গেছে । পৃথিবীর কারো কাছে এর কোন মূল্য নেই কিন্তু আমার অনেক ভালবাসা ওতে জমে আছে। আমার হাতে ফোঁটা প্রথম গোলাপ সে। ঠিক যেনো হুমায়ূন আজাদের কবিতার মতো,
আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো
ছোট ঘাসফুলের জন্যে একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে
আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো দোয়েলের শিসের জন্যে শিশুর গালের একটি টোলের জন্যে
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ৩
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ১
জোৎস্না জড়ানো শিহরণ - ২
অনুসূয়া চোখ দু'টোকে ছোট করে উদাসীন সুরেশের দিকে তাকিয়ে দেখে কিছুক্ষণ, “কিছু ভাবছো সুরেশবাবু?” চতুর্দিকের সোফার মাঝখানের কাঁচের ছোট টেবিলটায় তাকিয়ে থাকা সুরেশের কোন উত্তর না পেয়ে সে আবার বলে, “কিছু কি বলবে?” এবার সুরেশ কিছুটা নড়ে উঠে এবং ধীরে ধীরে বলে, “না, আমি ভাবছিলাম,” কথা শেষ না করতে দিয়ে অনুসূয়াই সুরেশের কথাটা শেষ করে, “তুমি স্ট্রেইট, এরকম অদ্ভূত কাজ-কর্ম করো না।” সুরেশ মাথা নীচু করে চুপ হয়ে যায়।
শরতের সরোদ
শরতের সরোদ
-শাশ্বত স্বপন
‘তুমি যাবে ভাই-যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়...।’
ভরা যৌবনের জলতরঙ্গে শরতের কোন এক পড়ন্ত ভাদ্র বেলায় কবি জসিম উদ্দিনের নিমন্ত্রণের ডাকে সারা দিয়ে আমার হাত ধরে উপমা বলেছিল, শুনেছি তোমার গ্রামকে বড় ভালবাস তুমি; ছবির মত ছায়া সুনিবিড় তোমার গ্রাম; এ দেশের গ্রাম দেখা হয়নি আমার কোনদিন; দেখিনি ধান-পাট-শষ্যে ক্ষেত; দেখিনি ডোবা-নালা-খাল-বিল-বাওর-হাওর-নদী-সাগর; দেখিনি প্রকৃতির পাহাড়-ঝরণা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী আর রহস্যময় পাহাড় ঘেরা অপার সৌন্দর্যের পাহাড়ি ভুমি। আমায় তুমি নিয়ে চল সখা, তোমার যেখানে খুশী-তোমার চোখে দেখব আমি শরতের শাশ্বত রুপ।
রম্য রচনা
রিপনের দুষ্টামী
--শাশ্বত স্বপন
রিপন ভীষণ দুষ্টু। ওর বয়স ৮ বৎসর। ওকে পাড়ার ছোট ছেলে-মেয়েরা ভীষণ ভয় পায়। অনেকে ওকে এড়িয়ে চলে। কথা নেই বার্তা নেই, চুলহীন মাথা দেখলেই টাক দেয়। আর বলে--
‘ওকল টাকি ভাউয়া ব্যাঙ
তর বাপের চারটা ঠেং
চুল কাটছ্- চুলে ধরছে বুঝি পাক
চুল পাকব না আর
এই দিলাম একটা টাক।’
কীর্তনখোলার বাঁকে !
স্মৃতির দুয়ার খুলি,
খুঁজে ফিরি আজো মনের গহীনে
আজি হতে কত বর্ষা আগের
ফেলে আসা দিনগুলি !
বুনো ফুল ঘেরা মেঠো পথ আর
ফসলের মাঠে মাঠে,
দিন কাটাতাম হেলায় খেলায়
কাকতাড়ুয়ার সাথে।
অলস প্রহর পেড়িয়ে যেত
বট-শিমুলের ছায়ায় !
জড়িয়ে রাখতো আমায় তখন
কি এক নিবিড় মায়ায় !
গাঁয়ের পুকুরে উদাস দুপুরে
কচুরীপানার ভিড়ে,
ঘুঘু-ডাহুকের ডাকাডাকি
আমায় রাখতো ঘিরে !
ডানপিটে সব সাথীরা মিলে
ধবল বকের ঝাঁকে !
হারিয়েছি মোর রাঙা শৈশব
কীর্তনখোলার বাঁকে !
দিনের শেষে দিঘীর পাড়ে
সুর্য ডোবার ক্ষণে !
হারিয়ে যেতাম ঝিঁঝিঁপোকার
সন্ধ্যা রাতের গানে !
সাঁঝ বেলাতে ডাকত পাখি
জুঁই-চামেলীর শাখে,
আঁধার হলে জমতো খেলা
জোনাক পোকার সাথে !
সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ততা আর
হাজার কাজের ভিড়ে,
যখন তখন মন চলে যায়
বাবুই পাখির নীড়ে !
কি আর হবে?
যদি মরেই যাই কি আর হবে?
মোর হৃদয় রবে তোমার সনে;
যা সপেছিনু আমি তোমার মনে;
যেইদিন পড়েছিল চোখ চোখে;
সে চোখে হৃদয় হৃদয়েরে দেখে,
গড়ে বন্ধন; যা চিরকাল রবে;
স্বপ্ন হয় সত্যি ভালবাসি যবে,
যদি মরেই যাই কি আর হবে?
যদি আর দেখা না হয় কি হবে?
তোমারই ছবি সদা ভাসে মনে;
সবখানে তুমি, স্বপ্নে প্রতি ক্ষনে
মহাস্বর্গ রচি; তুমি আমি সেথা,
মধুর সুর তোলে তোমার কথা;
সে সুরের সুধা আজীবন রবে।
যদি না থাকে স্বর্গ কি আর হবে?
যদি দেখা না হয় কি আর হবে?
যদি আর ভাল না বাসো কি হবে?
সেই প্রেম আজো মনে আলো জ্বালে,
যেই প্রেম তোমার চোখের কোলে;
মোর অপেক্ষায়; অশ্রুর কণায়
মিশে গিয়ে ভেজায় ভালবাসায়;
বলে, ‘এ প্রেম নাহি কভু হারাবে’;
তোমার সে অশ্রু কি অশ্রু ঝরাবে?
যদি ভাল না বাসো কি আর হবে?
যদি মরেই যাই কি আর হবে?
যদি আর দেখা না হয় কি হবে?
যদি আর ভাল না বাসো কি হবে?
যদি মরেই যাই কি আর হবে?
31-08-12, dhaka
সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার
সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
শ্যাম পুলক
দূর থেকে ঢেউয়ের গর্জন শুনা যায়
অদৃশ্য মায়াবী সুর তার,
সে সুরে, সে মায়ায় বাঁধে হৃদয় আমার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
যতদুর চোখ যায় জলরাশি
মেশেছে আকাশে যা ভালবাসি,
তীরে তীরে সৃজে প্রেম-ফেনা তার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
বিশাল সাদা ঢেউয়ে মন দোলে
যেন ভাসি শুভ্রসাদা মেঘের কোলে,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয় চঞ্চলতা প্রিয়ার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
যখন সকালে রোদ এসে ঢেউয়ে পরে
যেন স্বর্ণালী রুপ তার সমুদ্রেজলে,
সে সব যুগের সুবর্ণদেশ; অতীত আশার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
সহস্র নারী পুরুষ সমুদ্রে জলে
জলকেলী, প্রেম, খেলা ভেসে চলে,
রহস্য; সমুদ্র যৌবন ও তার বিশালতার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
গৌধলীয় রক্তিম আভা জীবনের রণতূর্য
সমুদ্রজলে আধডোবা রক্তরাঙা সূর্য,
সৃষ্ট সে সৌন্দর্য; যেন সবার স্বপ্ন-কল্পনার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
অথবা গভীর রাতের কোন চন্দ্রবাতি
শূভ্রজল, মধুর সুর সবার সাথী,
এই তীর নীরবে, আনমনে পা ফেলার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
যদি ছেড়েও যাই এ মন বারবার ফিরে তাকায়
ছুডুলোক কিংবা ভদ্রলোক বয়ান
‘রাজনীতি’ কাহাকে বলে? ইহা কি নীতির রাজা না রাজার নীতি। আমি আসলে অনেক আগে থেকেই কনফিউজ ছিলাম-এখোনো আছি। রাজনীতিসচেতনতা কি একটা দেশের মানুষের যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে? হাঁ মাপকাঠি হইতেই পারে। রাজনীতির সবচাইতে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো দেশ সম্পর্কে ভাবা। কি করলে কি হতে পারে? কি না করলে কি হতে পারতো? এই যে ভাবা-ভাবি তার নাম রাজনীতি দেওন যায়। অন্ততঃ আমার মতো খুব সাধারন মানুষের কাছে। আর সাধারন মানুষের এই রাজনৈতিক ভাবনায় প্রথমেই চলে আসে গনতান্ত্রিক রাজনীতির কথা। অর্থাৎ যারা রাজনীতি নিয়ে ভাবেন-তারা চান কিংবা না চান তাদের চিন্তা চেতনায় জেগে থাকে গনতন্ত্র। যাক গনতন্ত্র নিয়ে ভাবার আগে রাজনীতি নিয়ে বহুল প্রচলিত জোক্স শুনে নেই-
স্কুল টিচার বাড়ির কাজ হিসেবে রাজনীতির সংজ্ঞা শিখে আসতে বললেন। এক ছাত্র তাই সেটা জানতে তার বাবাকে প্রশ্ন করল।
ছেলে: আচ্ছা বাবা রাজনীতি কি?
বাবা: রাজনীতি হচ্ছে সরকারী দল বা সরকার, বিরোধী দল, শ্রমিকশ্রেনী এবং জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জল করা।
ছেলে: বাবা, সরকার, বিরোধী দল, শ্রমিকশ্রেনী- জনগণ এবং ভবিষ্যতটা একটা খোলাসা করে বুঝিয়ে দাও।
কবিতা : সাইকেডেলিক চৈতি
চৈতি তুমি বরং কিছুটা ভালোবাসা নাও
কিন্তু হারিয়ে যেওনা।
চৈতি তুমি থাকো, তুমি থাকো আমার প্রাণে
প্রিয় চৈতি থাকো
তুমি বাজো আমার কানে।
চৈতি তোমার সঙ্গে আমি আবার,
স্বপ্নখেলায় রং বসাবো
খর দুপুরে শব্দ করে
জং ধরা দরজা হাটাবো;
চৈতি আবার আমি
একাকী ঘরে
আধাঁরভরা কাল কাটাবো,
চৈতি তুমি থাকো।
চৈতি জেনে রেখো,
আমরা মোদের-
মোরা আমাদের
এইটুকু শুধু কথা।
চৈতি তোমায় হারিয়ে তাই
কণাপরিমাণ
পাই নি আমি ব্যাথা।
চৈতি ভালোবাসি।
চৈতি আমি জানি
তুমি আবার আমার,
বারবার তুমি
জন্মাবে শুধু
আমার
এবং শুধুই আমার
ভালোবাসা হবে বলে।
চৈতি তুমি থেকো
আমি আবার খুঁজে
বার করবো
সেই দাবানল,
একটি শুধু
পুরোনো সুযোগ পেলে।
প্রিয় চৈতিমণি আসো,
তোমার স্বামীর বাহু খুলে
এবং চৈতি তুমি ভাসো,
যদি ভেসে থাকো কোনোকালে।
---
আমি ও আমরা
আমরা প্রত্যেকেই সময়ে অসময়ে আত্মহত্যা করতে চাই কিন্তু আত্মহত্যার সাহস আমাদের থাকে না। বিদ্যমান লড়াই এবং ক্রমাগত সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাড়ায় ক্লান্ত আমরা এক এক সময়ে চাই এইসব কিছু ভুলে নিরুদ্বেগ সময় কাটাতে- অপরিসীম সময়ের ক্ষত নিয়ে আমরা সব ভুলে যেতে চাই, ঘড়ির কাঁটার মতো দিশা ঠিক রেখে সময়ের কাঁটায় বিক্ষত হতে হতে আমরা মূলত স্মৃতিবিস্মৃত হতে চাই, চাই পাগল হয়ে যেতে।
তবে আমাদের সবাই পাগল হতে পারে না, আমাদের সবাই আত্মহত্যার সাহস পায় না। আশ্চর্য হলো কেউ পাগল হয়ে গেলে আমরা সহানুভুতি কিংবা করুনা অনুভব করি- আমরা জানি আমাদের এই টিক টিক কাঁটা মেনে চলা জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেলেও সে আসলে অনেকটা নিজের কারাগারেই বন্দী। তার এই নিরুদ্বেগ আসলে এক ধরণের ছদ্মমুক্তির আনন্দ, তার জন্য সহানুভুতিটুকুই বরাদ্দ কারন যে নিজের ভেতরেই বন্দী হয়ে আছে। টিটকারি, জনগণের ধাওয়া আর থুতুর জীবনের প্রতি ভীতি থেকে আমরা নিজের মানসিক অবসাদের সাথে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাই কিন্তু কেউ আত্মহত্যা করলে আমরা মনে মনে আফসোস করি, ভাবি তার মতো সাহস যদি আমাদের হতো। আমরা মুখে সমবেদনা নিয়ে তাকিয়ে থাকলেও মনে মনে ইর্ষা করি তাকে।
মহিষের হাসি একটি মৃগেল স্বরছেঁড়া কাক
মহিষের হাসি
অন্ধচেতনা ভেঙে আরো গভীর কোনো গহ্বর ডেকেছিলো। তুমুল ঝড়ের আড়ে বটের ফল ঝরে পড়ছিলো লাল বেদানা ফলে। উদাসীন কাদাগন্ধ চিনে রাখে, চিনে রাখে বিপন্ন নিধান। ঘেঁটুফুল ইশ্কুল, বাড়িঘর ভাঁজ করা, সস্তা ছাতার পাড়ে সূর্যচিহ্ন আছে। চেনা চোখ, চোলাইমদের গন্ধ কারো কোলের গণিতে, মনে পড়ে। ত্রিকোণমিতি শিখে ইস্রাফিলকে ধার দিয়েছিলো মহিষের শিং। বালিরঙ হাওয়া ঘুরে হাওয়ার বাহন, চোখের পাপড়ি চিনিয়েছিলো কালিকাপুরাণ। তারপরও বিরান, সুমসাম। নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে একলা শরীর, আঙুলের ফাঁকে চারকোল, কার্টিজ কাগজে ঘষে ঘষে বানায় মহিষের মুখ। অদূরে মহিষ নিষ্পাপ হাসে। নিষ্পাপ তবু এ হাসির অর্থ যে জানে-- সেইই জানে একা।
একটি মৃগেল