ইউজার লগইন
ব্লগ
সাজানো ঘর
সতের বছর ধরে তিল তিল করে সাজিয়েছে সে। যেখানে যে জিনিসটি মনে ধরেছে কেনার চেষ্টা করেছে। সেই পছন্দের জিনিসটি এনে তুলেছে নিজের ঘরটিতে। এ ঘরের প্রতিটি ইট, বালু, সিমেন্টে জড়িয়ে আছে সে। তার নকশী করা কাঁথা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার সব কিছু যেখানে সে রেখেছে সেখানেই আছে। শোকেজের কাঁচের তৈজসপত্র, আলমারিতে রাখা ভাঁজে ভাঁজে সাজানো শাড়ি, গহনা সব কিছু আছে। দেয়ালে টানানো ছবিতে কী সুন্দর হাসি। তিনপুত্র নিয়ে সাজানো ঘর। ঘরের সামনে ছোট্ট ফুলের বাগান। একটু দূরে পেয়ারা গাছ, জাম্বুরা গাছ, জলপাই গাছ সব আছে। শুধু সে মানুষটি নেই। সতের বছর আগে নতুন বউ হয়ে যে এসেছিল এ বাড়িতে। পুরনো ভাঙা ঘর দেখে সে কী বিস্ময়! বাবা কেমন করে পছন্দ করল এ বাড়ি!
ড্রাইভিং লাইসেন্স
সুখে থাকলে ভুতে কিলোয়, তো সেই ভুতের কিল খেয়ে মধ্যপ্রাচ্যর আরাম ছেড়ে যখন কানাডাতে বসত গাড়লাম, সেই তখনকার কথা। বাড়ি ভাড়া, ব্যাংকের একাউন্ট খোলা, বাচ্চাদের স্কুলের রেজিসট্রেশনের পরে আমার স্বামি আমাদেরকে নিয়ে গেলেন ড্রাইভিং লাইসেন্স অফিসে। ফ্রন্টডেস্কের হাস্যমুখি সুন্দরী জানালেন আমেরিকা এবং জাপানের ড্রাইভিং লাইসেন্সকে তারা রেকগনাইজ করে, বাকি সব্বার পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয়। পরীক্ষা আবার ধাপে ধাপে তিন পর্বে। শুনেই তিনি লাইনে দাড়ালেন প্রথম পর্বের জন্য। ডেস্কের বয়স্ক মহিলা পরামর্শ দিলেন নিয়ম কানন জানার জন্য, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বই কিনত।
ও নদীরে...
ও নদীরে...
মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই, এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোন প্রিয় স্বাদ...এমন অবস্থাতে বার বার ছুটে গিয়েছি নানা বয়সে, নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে একই জায়গায়। আমার একটা নদী ছিল, সে নদীকে আমি কাছের বন্ধু সবার সাথে বছরের পর বছর ভাগাভাগি করে নিয়েছি, বন্ধুরাও সে নদীকে ভালোই বেসেছে তার পাড়ে অজস্র কারখানা না হওয়া পর্যন্ত - আমার সে নদীর নাম মেঘনা। গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা হবার সুবাদে যাতায়াতের পথে মেঘনাকে ঝলক পলকে দেখেছি হয়তো কিন্তু মেঘনাতে দাপাদাপির শুরু ৯৫ সালের ৯ মার্চ থেকে। মীরপুর ১০নম্বরে ই.হক কোচিং সেন্টারের শাখায় কিছুদিন এইচএসসির শুরুতে পড়েছিলাম। সেখানে আমাদের টিচার ছিল সুজন ভাই। আমার জন্মদিনের পরের দিন আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন – আরেক টিচার ইলোরা এবং বন্ধু উজ্জ্বল। অনেকেই যাবে বললেও যাবার সময় আর কারো দেখা মিললো না। আমরা মাইক্রোতে না বাসে গিয়েছি মনে পড়ছে না।
চুল কাটা দরকার: আবার বেড়ে যায়, কী আর করা, আবার কাটতে হবে
বয়েস হয়েছে, প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে কম তো দেখলাম না। দেশ বিশ্ব কথা থেকে কোথায় চলে গেছে। ছোটবেলায় মফস্বল শহরে একটা বই কিনার জন্যে চিত্তরঞ্জন সাহার ৭৪নম্বর ফরাশগঞ্জের ঠিকানায় চিঠি দিয়ে বসে থাকতাম, দিন দশেক পরে পোষ্টফিস থেকে খবর আসতো, ভিপি ডাকযোগে বই এসেছে টাকা নিয়ে নিয়ে যেতে হবে বই আনতে। আর আজকে, হাহ। অনেক কিছু বদলেছে- কিন্তু কিছু কিছু জিনিস এখনো একই আছে, এবং মনে হচ্ছে আমার বাকি জবন একরকমই থাকবে। একটা হচ্ছে আমার কেশ, আরেকটা হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মুল্লাদের মাঝে মাঝে উত্তেজনা। এই দুইটাই মাঝে মাঝেই একটু বৃদ্ধি পায়, আমি একটু চিন্তিত হই। তারপর যথানিয়মে এদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয় এবং সাইজ হয়ে যায়। কিন্তু আবার বারে আবার আবার। একটু পার্থক্যও অবশ্য আছে। বয়েসের সাথে সাথে কেশের ঘনত্ব পুরুত্ব কমেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে বর্ণপরিবর্তনও হয়েছে। কিন্তু মুল্লাদের বিশেষ পরিবর্তন হয়নাই। সেটা অবশ্য হবেও না কারণ মুল্লাদের কাজই হচ্ছে পরিবর্তনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। সেই বিষয়টার বিস্তারিত এখানে না, এখানে আজকে কোন গুরুগম্ভীর কিছু বলতে বসি নাই। নিতান্তই হালকা ফুলকা কথাবার্তা,
ভিঝ্যুয়াল ডিকশনারী - ৩ ..... এন্ড হ্যাপি বার্থ ডে টু মাই ডিয়ার সৈয়দ মুজতবা আলী...
simulacrum - সিমুলাক্রাম দেইখা আক্রাম খানের কথা মাথায় আসলে কেরফা আছে... নাহ... আকরাম খান রে নিয়া কিছু না... একবার এক ম্যাচে দেখি বাংলাদেশের পক্ষে মাখন (MAKhan) নামের এক প্লেয়ার খেলতাছে... কিরে বাংলাদেশ টীমে মাখন টাইপ প্লেয়ার খেলে... খবরই পাইলাম না... পরে দেখি এইটা মোহাম্মদ আতাহার আলী খান... শার্ট ভাজ খায়া M A Khan মাখন হয়া গেছে... পরে আতাহার আলী ভাজ খুলাতে আনন্দ দেখলাম... কি কইতে কি কই... মানুষ যখন কি দেখতে কি দেখে তখনই সিমুলাক্রাম দেখা হয়... ধরেন আকাশে মেঘ ভাইসা যাইতাছে... মেঘের টুকরা দেইখা হঠা্ত মনে হইল আরে এইটাতো আমগো বিলাইয়ের মুখের লাহান লাগে... এইটাই হইল সিমুলাক্রাম... ইন প্লুরাল সিমুলাক্রা... আহেন ভিঝ্যুাল পার্টে আসি... তার আগে হেনতেন করি...
দোস্ত এন্টোনিও ঘাউডি তার স্টুডেন্ট দের কাজ দিছিল আশপাশ থেকে বিভিন্ন ফর্ম (!!) খুইজা আনতে.. ভাই আছে ভাবে... মাঝে মাঝে পুলাপানদের নিয়া মাঠের মধে্য ক্লাস করে , মাঝে মাঝে গাছের ছায়ায়... এইটা নাকি প্রতিবেশের সাথে মিইল্ল্যা পড়াশুনা... যাউগ্গা পুলাপানদের কাজ দিছিলো আশপাশ থিকা ফর্ম খুইজা আনার... পুলাপানরা লয়া আইলো নীচের তেলেসমাতি...
তুমি ঠিক
মরমার আগে দাদু বলেছিলেন। তোকে দিয়ে কিছু হলোনা। এতো এতো পড়াশুনা করলি।
প্রকৃতির রূপ..........
স্বপ্নপরীর ডানায় ভর দিয়ে ভাসি
প্রকৃতি আজ করেছে আমায় নিমন্ত্রণ
ফুলে ফুলে পাতায় পাতায় ভেসে বেড়াই....
প্রকৃতির সাথে হয় যে আলিঙ্গন ।
প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ আমি
চোখে নাই কোন ভয়
তাকাই যেদিক নয়ন ভরে
দূর হয়ে যায় যত সংশয় ।
প্রজাপতিরা উড়ে বেড়ায়
মন ছুঁয়ে যায় আমার এ অনুক্ষণ
দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে
সাজাই রঙিন জীবন
=====================
আজ প্রথম কিছু লিখার প্রচেষ্টা এই ব্লগে.........আশাকরি খারাপভাবে নিবেন না ।
ধন্যবাদ সবাইকে
মুরগা কাহানী
সেই কোন অতীতে এক মনিষী বলে গেছিলেন শুয়োরের খোয়াড়। তারপর কত দিন আর রাত-কত সকাল-কত দুপুর-কত নীরব-কত চান্নি রাইত-কাটাখালীতে কতো স্রোত-কতো কচুরীপানা-কতো ব্রীজ-কতো কালভার্ট-কতো বাত্তি-কতো খাম্বা-কতো জঙ্গল-কতো ষ্টেশান-কতো মাষ্টার-কতো সারেং-কতো নদী মরে গেলো-কতো নারী ভালোবাসাহীন প্রেমেবিক্রির খেলায় মাতলো-কতো পুরুষ তার কাপুরুষোচিত পৌরুষ দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করলো-কত শিশু পপকর্ণ-পপকর্ন বলে রাস্তায় রাস্তায় চিতকার দিলো-কতো হকার এক টাকা-দুই টাকা-তিন টাকা দামে পেপার বিক্রি করলো-কতো গাড়ীর নীচে তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরেরা মারা গেলো-কতো এয়ার আহমেদ দেশের মাটিতে শেশ শয্যা পাতবে বলে প্রান দিলো-কতো তাজুল-কতো দিপালী সাহা-কতো রউফুন বসুনিয়া-কতো মোজাম্মেল-কতো মাষ্টার’দা-কতো প্রীতিলতা-কতো ময়েজউদ্দিন-কতো তাজউদ্দিন-কতো মুক্তিযোদ্ধা লাথি-উষ্ঠা খেলো।তারপরে ব্রয়লার প্রজাতির মুরগা জন্ম নিলো ঘরে ঘরে; আনাচে কানাচে। ভরে গেলো মুরগায়। মাংশ খাওন যাইবো মাগার আন্ডা দিবোনা। আন্ডার হালি হইলো ৪০ টেকা। আন্ডা খাইবার চাইতাছো তো তাইলে লেয়ার নামে আরেকটা মুরগা আছে হেইডা লালন পালন করো।
আজকের রাত...
আজকের রাত...
ওগো চন্দ্রমুখী, চলে এসো আজ এ গভীর রাতে,
বিনিদ্র রজনী উষ্ণতায় যাক তোমারই সাথে।
ভুলে যেতে চাই হারানো সুরের সেই দুঃখ-বেলা,
বৃষ্টিভেজা স্বপ্ন, তুলির আঁচড়ে প্রেম-প্রেম খেলা,
কৃষ্ণকলি নামে কপট ললনা, চপল ছলনা,
প্রিয়াহারা রাতে অন্তঃক্ষরণের নীরব কলনা।
মিটি মিটি করে হলুদ, কমলা, লাল পিলসুজ!
পেটো মাদুরেতে শুয়ে আছি এক যুবক অবুঝ।
তুমি ছাড়া আজ ক্লিষ্ট তরুণের নাই কেউ ভবে।
ধূমায়িত ঘর। নীরবতা ভাঙে ঘুঙুরের রবে।
অপ্সরা-নাচন দোলায় দুলুক অবরুদ্ধ আর্য,
কাঁপুক! কাঁপুক! ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে জালসাজি বার্য!
বাঁকা ঠোঁটে হাসো, হরিনী চোখেতে করা ইশারায়
কামনার পাশে বাঁধো এলোকেশী প্রতন আমায়।
রঙিন ঠোঁটেতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাও আমার অধর,
ঘামে ঘামে ভেসে যায় যদি যাক কমানার জ্বর।
রঙিন জলেতে চুর হয়ে র'বো তব দেহ-খাপে,
নীথর হৃদয় জাগবে তোমার বক্ষবৃন্ত-তাপে।
দেবাশিস্ মুখার্জি
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
[১৮×১৮; অক্ষরবৃন্ত; ৬+৬+৬]
আমি কেউনা

ধলাই নদীর ক্ষরস্ত্রোতা ঢেউয়ে
ডুবে আর ভেসে উঠে-
মুছে গেছে সখী আমার
কলংককাজল-বেহায়া চোখ।
পাহাড়ে তোমার পা ছুয়ে-
আসা জল-কান্না
মিশে গিয়ে; গমকে
চমকে-পাড় থেকে দূরে।
কাছে চেয়ে-দূরে গেলাম-
ভাবনার রেললাইন-
পাশা-পাশি আজীবন,
দেখা হবেনা-আমি কেউনা।
শুধু কালকেউটে সময়,
দংশন-বিষে নীল-
চলে যাবার বেলায়
যায়না ভোলা-যায়না।
হাওর-নদী-সবুজ পাতা
হাত দিয়ে যেও বুকে,
মিশে গেছে প্রেমিক-বাউল বিকেলে
সন্ধা-কালোয় ঢেকে।
রাতের পাখি-ভোরে উড়ে যায়,
আমি কেউনা-শুধু উড়ে আসা ঝরা পাতা-
উদাসী বায়।
যদি মনে পড়ে-খুলে দিও দখিন জানালা
ছুঁয়ে যাবো-একাকী নীলপদ্মে আর তোমার
রাঙ্গা পায়।
ছবিঃ নেট থেকে
“ব”তে বাংলাদেশ, “ব”তে বুরুন্ডি..

বাসায় প্রাণী তিন খানা, এর মধ্যে অধম মোটামুটি ১৪-১৫ ঘণ্টা বাহিরে থাকি। সারা মাসে এসি ঘণ্টা খানেকও চলে না। বাকি যাহা কিছু যন্ত্রপাতি – অতি নগন্য, ব্যবহারের হার ও অতি সাধারণ। গত মাসের বৈদ্যুতিক বিল আসিয়াছে ৩,৯৭৩ টাকা মাত্র। ইহা ইতিপূর্বের যেকোন সময়ের সর্বোচ্চ বিলের চাইতে দ্বিগুনেরও বেশী। বিদ্যুত অফিসে কমপ্লেন দিয়াছিলাম, চেক করিয়া বলিলো সব নাকি ঠিক আছে।
এই ৩,৯৭৩ টাকার ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক বিল ব্যতীত, এপার্টমেন্টের কমন বৈদ্যুতিক বিল ও জেনারেটরের তৈলের খরচের আনুপাতিক হিসাবে আরো ২,০০০ টাকার উপর আমাকে বহন করিতে হইবে। তাহা হইলে, তিন সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের মোট বৈদ্যুতিক খরচ দাঁড়ায় ৬,০০০ টাকা, মাথাপিছু ২,০০০ টাকা। এই হিসাবে জেনারেটরের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা অবচয় ধরা হয় নাই। এমনকি, অতি সাম্প্রতিক বর্ধিত বৈদ্যুতিক বিলের প্রভাবও ইহাতে পড়ে নাই।
শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে এতো জটিলতা কেন?
গত সেপ্টেম্বরের ২ তারিখে বেসরকারি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ঢাকায় এসে এমপিওভুক্তির দাবিতে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেছেন। এর আগেও একবার তাঁরা ঢাকায় আন্দোলন করেছিলেন এবং সেসময় বিভিন্ন ধরনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের আন্দোলন সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। সম্ভবত তাঁদের আশা ছিল- সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নেবে। রাস্তাঘাট অবরোধ করে বা এ ধরনের কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আন্দোলন করাটা আইনের চোখে অপরাধ কিনা জানি না; তবে মানুষজন আজকাল এ ধরনের কর্মসূচি ভালো চোখে দেখে না। অন্যদিকে এদেশে যতোক্ষণ না মানুষজন রাস্তায় নামছে ততোক্ষণ তাদের কথা সরকার কানে তুলে না। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত আন্দোলন তাই স্বাভাবিকভাবেই দুই তারিখ থেকে নতুনভাবে শুরু হয়েছে। তার বেশ কিছু আগের আন্দোলনে শিক্ষকরা রাস্তা অবরোধ করেছিলেন শাহবাগে। সরকারের পুলিশ বাহিনী বীরত্ব দেখিয়েছিল শিক্ষকদের পিটিয়ে। অবশ্য এবার পুরোপুরি রাস্তা অবরোধ না করে শিক্ষকরা প্রেসক্লাবে রাস্তার পাশে শুয়ে-বসে আন্দোলন চালাচ্ছেন। সরকার তাঁদের দাবি কতোটুকু শুনছে বা শুনলেও আদৌ পাত্তা দিচ্ছে কিনা জান
গল্পের ফড়িঙ
কোথায় পাই বল এতটুকু মাঠ- পুষ্পল বাতাস যেখানে শর্তহীন
আর পেলব ফড়িঙেরা
মুখের ফাঁক দিয়ে গল্প ওড়ায়...
আমার মাতামহী জানে-
আজে আমি পকেটে গল্পের অভাব নিয়ে ঘুরি!
সহজ কান্নার জন্য আমার একটি নিরাপদ বালিশ দরকার।
তোমার কাছে আমি জমি চাইনি
কেননা সহস্র ধার্মিক লাঙ্গলের ফলা তোমাকে চষে চষে রক্তের বানিজ্য করে যাচ্ছে...
তোমার ক্ষতের 'পরে এই চাওয়া বড় অশোভন হবে।
এই ঘূর্ণিত দিনে আমি এক বেসামাল ঘুড়ি!
কোথায় খুঁজে পাই এতটুকু মাঠ- নিরাপদ বালিশ-গল্প ফড়িঙ?
ভূমিহীনের বালিশ বিলাস সাজে না,
হে আমার নারী,
অন্তত গল্পের ফড়িঙ হয়ে জানালায় আসো।
ঢাকা শহর ঢাকা নয়
আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে প্রথম পা রেখছিলাম ঢাকা শহরে।ঢাকায় যাওয়া উপলক্ষে সেবার অনেক প্রথমের মুখোমুখিই হয়েছিলাম।সময়টা ছিল ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারী মাস।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যনেজম্যান্ট (বিআইবিএম)এ বাবার দু’সপ্তাহের এক ট্রেনিংকে কেন্দ্র করেই আমাদের স্ব-পরিবারে ঢাকায় যাওয়া।আমি তখন সবে মাত্র আগ্রাবাদ স্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়েছি।যেহেতু বছরের শুরুর দিকে মাত্র তাই পড়ালেখার কোনো চাপ নেই।ঠিক এমন সময়ে ঢাকায় বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ-খুশি আর কারে কয় টাইপের অবস্থা।আমাদের বেশির ভাগ আত্মীয় স্বজনই ঢাকায় থাকে।আমরাই শুধু চট্টগ্রামে থাকি।আর তাই বাবার দু’সপ্তাহের ট্রেনিংএর সময়টাতে চট্টগ্রামে আমরা একা থাকব কিভাবে এসব ভাবনার কারণেই শেষ সিদ্ধান্ত হয় সবাই মিলে ঢাকায় ঘুরে আসার।
কলি কথা ৩ (কলি-কাতা টু ফুলকলি-পাখির কাকলির কাশ্মীরে)
(ধন্যবাদ মেসবাহ ভাইকে...ঝটিকে তার ভ্রমণ সমাধা করার জন্য। আসলে তিনি লেখার এমন দৌড় না দিলে আমারও লেখা হতো না..)
দিল্লী হইতে কাশ্মীর- সারপ্রাইজ হইলো চৌচিড়:
দিল্লী থেকে কাশ্মীরের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরুর আগে একটু ফ্ল্যাশব্যাক না বললেই নয়। ভ্রমণের শুরু থেকেই বর বেচারা আমাকে সিমলা- মানালির গল্প বলে আসছে। কিন্তু সে ঠিক করেছে কাশ্মীর ভ্রমণ। সারপ্রাইজ দিবে বলে কিছুই বলেনি। কিন্তু ফাঁপড়ের ফেসবুক কি আর প্রেম বোঝে! একদিন ইনবক্সে দেখলাম মেসেজ এসেছে, তোমরা নাকী কাশ্মীর যাও? আমরাও যাচ্ছি..
বলা বাহুল্য যে বন্ধু দম্পতির সাথে কলিকাতায় আহার সাড়লাম, তাদেরই একজন। কোন সন্দেহ নাই মেসেজ পেয়ে মনে একসাথে হাফডজন লাড্ডু ফুটলো..রিপ্লাই দিলাম, "সারপ্রাইজ খোলাশা করার জন্য ধন্যবাদ".. বন্ধুটি চম্পট..আমিও মুখে তালা দিলাম..
দুইদিন পর অফিসে গেলাম। এক সহকর্মী ভরা মজলিশে ঘোষণা দিলেন, এই তোরা নাকী কাশ্মীর যাস..! কোনমতে পালালাম.. বেচারা বর এতো কষ্ট করছে সারপ্রাইজ দেয়ার.তাকে অন্তত নিজে থেকে বলার সুযোগ দিতে চুপ রইলাম.. দিল্লীতে পৌঁছানোর পর সে না বলা পর্যন্ত কিছুই বললাম না।..
এবার ফিরে আসি ভ্রমণে..